পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১১ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বিজ্ঞান বিষয়ক) টপিক: মানবদেহ, রোগ ও প্রতিষেধক, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও পরিবেশ বিজ্ঞান।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ কত?
  1. ৩-৪ লিটার
  2. ৪-৬ লিটার
  3. ৮-৯ লিটার
  4. ১-২ লিটার
সঠিক উত্তর:
১-২ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-২ লিটার
ব্যাখ্যা

- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।

- লসিকা:
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে।
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক।
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে।
- যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি।
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মাটির উর্বরতা শক্তি বিনষ্টকরণে দায়ী অণুজীবটি কী?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

মাটির উর্বরতা শক্তি বিনষ্টকরণ:
-  নাইট্রেট জাতীয় উপাদান মাটিকে উর্বর করে থাকে।
- কিন্তু কতিপয় ব্যাকটেরিয়া মাটিস্থ নাইট্রেটকে ভেঙ্গে মুক্ত নাইট্রেটে পরিণত করে মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস করে ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়।

তাছাড়াও
- খাদ্য দ্রব্যের পঁচন ও বিষাক্তকরণ:
- ব্যাকটেরিয়া নানা রকম টাটকা ও সংরক্ষিত খাদ্য দ্রব্যের পঁচন ঘটিয়ে আমাদের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি সাধন করে।
- যেমন Clostridium botulinum নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে বটুলিন নামক বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে।
- এতে মানুষের দেহে বটুলিজম রোগ সৃষ্টি হয় যার ফলে মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে।

পানি দূষণ:
-  বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়া পানিকে দূষিত করে এবং দূষিত পানি নানা প্রকার রোগের সৃষ্টি করে।
- যেমন-কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়রিয়া প্রভৃতি দূষিত পানি পানের মাধ্যমে হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া যেমন কলিফর্ম, ফিকাল কলিফর্ম, Salmonella, Shigella, Bacillus, Pseudomonas, Vibrio, Escherichia coli প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া পানি দূষিতকরণের জন্য দায়ী।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
অগ্ন্যাশয় রসে কোন এনজাইম থাকে?
  1. ল্যাকটেজ
  2. অ্যামাইলেজ
  3. মলটেজ
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা

খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়।
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।
মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত: সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মানসিক চাপ, আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয় নিচের কোনটি?
  1. শব্দ দূষণ
  2. পানি দূষণ
  3. বায়ু দূষণ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
শব্দ দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ দূষণ
ব্যাখ্যা

শব্দ দূষণ:
-অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
- উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে।
- অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
- পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
- সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়।
- ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়া রোগ হয়?
  1. ভেরিওলা ভাইরাস
  2. ফ্ল্যাভি ভাইরাস
  3. অ্যাডিনো ভাইরাস
  4. র‍্যাবিস ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
অ্যাডিনো ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাডিনো ভাইরাস
ব্যাখ্যা

ভাইরাস:
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।

ভাইরাসের অপকারিতা:
- বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো-
- ফ্ল্যাভি ভাইরাস- ডেঙ্গু,
- র‍্যাবিস ভাইরাস- জলাতঙ্ক,
- ভেরিওলা ভাইরাস- গুটিবসন্ত,
- অ্যাডিনো ভাইরাস- নিউমোনিয়া,

উৎস: জীববিজ্ঞান (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে নিচের কোনটি ব্যবহার  করা হয়?
  1. 32P
  2. 36P
  3. 39P
  4. 60CO
সঠিক উত্তর:
60CO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
60CO
ব্যাখ্যা

রোগ নিরাময়ে:
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 131I সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়।
- এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায়।
- এ আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যানসার কোষকে ধ্বংস করে।
- এছাড়া ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্রেইন ক্যানসার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60CO ব্যবহার করা হয়।
60CO থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যানসারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় 32P এর ফসফেট ব্যবহার  করা হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

.
নিচের কোনটি ওজোন স্তরের ক্ষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. প্যারিস চুক্তি
  2. কিটো প্রটোকল
  3. কারটেজেনা প্রটোকল
  4. মন্ট্রিল প্রটোকল
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
ব্যাখ্যা

প্যারিস চুক্তি:
- জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC) এর মধ্যে প্যারিস চুক্তি ২০১৫ সালে সম্পাদিত একটি ভলান্টারি চুক্তি।
- এই চুক্তিতে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রশমনে, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজন এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের ১৯২ টি সদস্য রাষ্ট্র এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

কিটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ইউনাইটেড নেশনস্ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (United Nations Framework Convention) কিটো প্রটোকল নামে পরিচিত।

কারটেজেনা প্রটোকল:
বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি সম্পর্কিত জীববৈচিত্র্য কনভেনশন (Bio-diversity Convention) কারটেজেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol) নামে পরিচিত।

মন্ট্রিল প্রটোকল:
মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোন স্তরের ক্ষয় (Montreal Protocol: Ozone layer Depletion) নিয়ে আলোচনা ছিল মূখ্য আলোচ্য বিষয়।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
অগ্রপদের সবচেয়ে বড় ও লম্বা অস্থি কোনটি?
  1. হিউমেরাস
  2. রেডিয়াস আলনা
  3. কারপাল
  4. ফ্যালানজেস
সঠিক উত্তর:
হিউমেরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিউমেরাস
ব্যাখ্যা

- হিউমেরাস (Humerus):
- এটি অগ্রপদের সবচেয়ে বড় ও লম্বা অস্থি।
- হিউমেরাসের উপরের গোলাকার অংশকে মস্তক বলে।
- এখানে একটি বড় ও একটি ছোট টিউবারকল থাকে।
- হিউমেরাসের মধ্য অঞ্চলে ডেলটয়েড রিজ ও নিচের দিকে ট্রকলিয়া থাকে।

- রেডিয়াস ও আলনা (Radius & Ulna):
- হিউমেরাসের নিচের অস্থির নাম রেডিয়াস আলনা।
- আলনার উপরের প্রান্ত মোটা ও নিচের দিকে সরু। 
- আলনার উপরের অংশে একটা সাপের ফনার মত গঠন থাকে। এটিকে অলিক্রেনন প্রসেস বলে।

- কারপাল (Carpal) বা কার্পাস (Carpus): অস্থি মানুষের কব্জিতে দুই সারিতে আটখানা কারপাল অস্থি থাকে।
- এসকল অস্থি কব্জি নাড়াতে সাহায্য করে।

- মেটাকার্পাল (Metacarpal): করতল বা তালুতে পাঁচটি করে মেটাকারপাল অস্থি থাকে। মেটাকারপালের ৩টি অংশ থাকে।
 
- ফ্যালানজেস (Phalanges): আঙ্গুলের অস্থিগুলোকে ফ্যালানজেস বলে। বৃদ্ধাঙ্গুলে ২টি এবং অন্যান্য ৪টি আঙ্গুলে ৩টি করে মোট ১৪টি ফ্যালানজেস থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কলেরা ভ্যাকসিন কোন ধরণের টিকা?
  1. মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা
  2. নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা
  3. নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা
  4. দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু
সঠিক উত্তর:
মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা
ব্যাখ্যা

টিকার প্রকারভেদ:
মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন।
এগুলো হলো-
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine):
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি।
- উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine):
- এ ধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি।
- উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন।

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine):
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি।
- উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু (Surface chemical molecule):
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি।

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine):
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ভারত মহাসাগরের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় কী নামে পরিচিত?
  1. বাগুই
  2. টাইফুন
  3. উইলি উইলি
  4. সাইক্লোন
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোন
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত।
- ঘূর্ণিঝড় ভারত মহাসাগরের উপকূলে সাইক্লোন, চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন, ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশে প্রতিবছর মার্চ ও নভেম্বর মাসে উপকূলবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হয়।
- ২৯ শে এপ্রিল ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৫ কি.মি/ঘণ্টা এবং জলোচ্ছাসের উচ্চতা ছিল ৬.০-৭.৬ মিটার (আবহাওয়া অধিদপ্তর ২০০৯)।
- এছাড়াও ১৯ মে ১৯৯৭, ১৫ নভেম্বর ২০০৭ সালের সিডর এবং ২৫ মে ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলা নামে পরিচিত।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
পটুয়াখালীর জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. নিয়তভাবাপন্ন
  2. মৃদুভাবাপন্ন
  3. চরমভাবাপন্ন
  4. সমভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বা মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

অন্যদিকে,
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্রের দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
নিচের কোনটি অস্থির বৈশিষ্ট্য?
  1. কোষগুলো গোলাকৃতির
  2. নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
  3. বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে
  4. স্থিতিস্থাপক
সঠিক উত্তর:
নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
ব্যাখ্যা


অস্থির বৈশিষ্ট্য:
- এক ধরনের অনমনীয়, কঠিন এবং ভঙ্গুর কঙ্কাল যোজক কলা
-  স্থিতিস্থাপক নয়।
- ম্যাট্রিক্স কঠিন। এতে অস্টিওব্লাস্ট ও অষ্টিওক্লাস্ট নামক অস্থিকোষ থাকে।
-  কোষগুলো মাকড়সার জালের মতো।
- বাইরের আবরণকে পেরিঅস্টিয়াম বলে।
- এদের মজ্জাগহ্বর থাকে।
- নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে।

তরুণাস্থির বৈশিষ্ট্য:
- অর্ধকঠিন এক ধরনের নমনীয় যোজক কলা।
- স্থিতিস্থাপক।
- ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন বলে। এটা কঠিন নয়। ম্যাট্রিক্সে কনডিওসাইট নামক কোষ থাকে।
- কোষগুলো গোলাকৃতির।
- বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে।
- এদের কোন ফাঁকা স্থান বা মজ্জাগহ্বর থাকে না।
- কোষে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
কোন রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি?
  1. এইডস
  2. কলেরা
  3. জলাতঙ্ক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জলাতঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাতঙ্ক
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের উপকারিতা:
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে
সক্ষম হয়েছেন। যথা-
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়াকে কী বলে?
  1. পলিসাইথিমিয়া
  2. লিউকেমিয়া
  3. অ্যানিমিয়া
  4. লিউকোসাইটোসিস
সঠিক উত্তর:
অ্যানিমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানিমিয়া
ব্যাখ্যা

 রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা:
মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
- যেমন:
১. পলিসাইথিমিয়া: হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং রক্তকোষের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া।
২. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা: হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়া
৩. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কোষের সংখ্যা সেসবের চাইতেও অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।        
৪. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কোষের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যায়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে।
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১৫.
পরিবেশের বিভিন্ন দূষকের মধ্যে ওজনহীন প্রভাবক কোনটি?
  1. তেল
  2. ছাই
  3. ধূলিকণা
  4. গামারশ্মি
সঠিক উত্তর:
গামারশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামারশ্মি
ব্যাখ্যা

১। কঠিন আবর্জনা (Solid Wastes):
- যে সকল কঠিন পদার্থ পরিবেশের দূষণ ঘটায় সেগুলো কঠিন আবর্জনার অন্তর্ভুক্ত।
- যেমন- গৃহস্থালি ও জবাইখানার কঠিন বর্জ্য (সবজির অব্যবহৃত অংশ, মাছ, মুরগির ময়লা) পরিবেশকে দূষিত করে।
- এছাড়াও নির্মাণ কাজের পর অবশিষ্ট কঠিন পদার্থ বাতাসের সাথে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
- রান্নার পরে অব্যবহৃত ছাই (Ashes) বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে দূষণ ঘটায়।
- শিল্পজ আবর্জনাও নদী ও সাগরের পানিকে দূষিত করে এবং নির্গত ধোঁয়া বায়ুদূষণও ঘটায়।
- যেমন চিনি কারখানা, সার কারখানা, লৌহ ও ইস্পাত নির্মাণ কারখানা, ইটের ভাঁটা ও চামড়া শিল্পের কারখানা থেকে কঠিন বর্জ্য ও ধোঁয়া পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।

২। তরল আবর্জনা (Liquid Wastes):
- পরিবেশের তরল দূষকসমূহ হলো- তেল, অ্যাসিড, অ্যাসিড বৃষ্টি, তরল কীটনাশক ও অন্যান্য বিষাক্ত তরল পদার্থ।
- বর্তমানে বাংলাদেশের হাওড়, বাওড়, নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা, লঞ্চ, স্টিমারের চলন চালু হওয়ার কারণে তেল নিঃসারণের ফলে জলজ প্রতিবেশ দূষিত হচ্ছে।
- এছাড়া তেলবাহী জাহাজ এর দুর্ঘটনার ফলে সামুদ্রিক প্রতিবেশও দূষিত হয়।
- পানিতে অ্যাসিডের পরিমাণ অধিক হলে এটি জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে যায়।
-   কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত তরল কীটনাশক মাটির উর্বরতা হ্রাস করে এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নদী ও সাগরের পানিতে মিশে ও জলজ প্রতিবেশের ক্ষতি করে।
- কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত জীবানুনাশক, কীটনাশক যেমন- D.D.T. এলড্রিন, ক্লোরোডেন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরিবেশ এবং মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

৩। গ্যাসীয় অবর্জনা (Gaseous Wastes):
- উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের অস্তিত্বের জন্য বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
- প্রাণী শ্বাসপ্রশ্বাস তথা জীবনধারণের জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং উদ্ভিদ সূর্যালোকের সাহায্যে পানি ও ক্লোরোফিল ব্যবহার করে কার্বন ডাই অক্সাইডের সাহায্যে প্রস্তুত করে এবং অক্সিজেন (O2) ত্যাগ করে।
- কিন্তু বর্তমানে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং নগরায়নের কারণে বাতাসে কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), ওজোন (O3) প্রভৃতি গ্যাসের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পরিবেশকে দূষিত করছে।
- এই সব গ্যাসকে পরিবেশের গ্যাসীয় দূষক হিসেবে ধরা হয়।

৪। ওজনহীন প্রভাবক (Waste without weight):
- পরিবেশের ওজনহীন প্রভাবক হিসেবে ধরা হয় এক্সরে রশ্মি, আলফা রশ্মি ও গামা রশ্মিকে
- এই সকল রশ্মির কারণে ক্যান্সার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া শব্দকে ওজনহীন দূষক হিসেবে ধরা হয়।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
মানদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
  1. ১৪০/৮০ (mm Hg)
  2. ১২০/৬০ (mm Hg)
  3. ১২০/৮০ (mm Hg)
  4. ১৩০/৭০ (mm Hg)
সঠিক উত্তর:
১২০/৮০ (mm Hg)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০/৮০ (mm Hg)
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ:
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে।
- তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়।
- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা এবং রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়।
- তবে বয়স ও পরিস্থিতিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কম-বেশি হতে পারে।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১৭.
নিচের কোনটি বায়োম এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. তুন্দ্রা জীবভূমি
  2. মরু জীবভূমি
  3. বন জীবভূমি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বায়োম:- 
- বায়োম বা জীবভূমি হচ্ছে বিস্তৃত পরিসরের প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম বা প্রতিবেশ।
- অর্থাৎ প্রতিবেশের উদ্ভিদের ভিন্নতার জন্য প্রতিটি বৃহৎ বায়োম বা জীবভূমি পৃথক নামে পরিচিত।
- যেমন- বন জীবভূমি, তৃণ জীবভূমি, মরু জীবভূমি, তুন্দ্রা জীবভূমি, স্বাদুপানির বায়োম ও সামুদ্রিক লবণাক্ত পানির জীবভূমি।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু, সূর্যরশ্মির পতন, সমুদ্রের অবস্থান এবং বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহের ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক পৃথক বায়োম বা জীবভূমি তৈরি হয়েছে।

উৎস:  পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
চোখের কোন অংশে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়?
  1. লেন্স
  2. কর্নিয়া 
  3. রেটিনা
  4. ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
সঠিক উত্তর:
ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
ব্যাখ্যা

ফোবিয়া সেন্ট্রালিস (Fovea centralis):
- অন্ধবিন্দুর কাছাকাছি রেটিনার একটি অংশে প্রচুর কোণ কোষ দেখা যায়, রড কোষ থাকে না।
- এ অংশকে হলুদ বিন্দু (yellow spot) বা ফোবিয়া সেন্ট্রালিস বলে।
কাজ: এখানে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

- লেন্স:
- পিউপিলের পিছনে অবস্থিত ও সিলিয়ারী বডির সাথে সাসপেনসরি লিগামেন্টযুক্ত হয়ে ঝুলে থাকা একটি স্বচ্ছ স্থিতিস্থাপক ও দ্বিউত্তল চাকতির মতো অংশকে লেন্স বলে।
লেন্স (Lens) এর কাজ: লেন্সের মাধ্যমে বস্তু থেকে আগত আলোক রশ্মি রেটিনার নির্দিষ্ট অংশে প্রতিফলিত হয়।

কর্নিয়া (Cornea):
- স্ক্লেরা আবরণীর সম্মুখ ভাগের স্বচ্ছ অংশের নাম কর্নিয়া।
কাজ: কর্নিয়ার মাধ্যমে চোখের ভেতরে আলো প্রবেশ করে।

 রেটিনা (Retina):
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা।
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী।
- এতে আলোক সংবেদী কোষ (Photoreceptor) থাকে।
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত।
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ।
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী।
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী।
কাজ: রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরে ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. এন্টিজেন
  2. নিউট্রোফিল
  3. ম্যাক্রোফেজ
  4. লাইসোজাইম এনজাইম 
সঠিক উত্তর:
লাইসোজাইম এনজাইম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসোজাইম এনজাইম 
ব্যাখ্যা

মানবদেহের প্রতিরক্ষা:
- রোগ জীবাণু কিংবা পরজীবী আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মানবদেহে সাধারণভাবে তিন ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা লক্ষ করা যায়।

- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর: ত্বক, সিলিয়া ও মিউকাস, এসিড, লাইসোজাইম এনজাইম ও রক্ত জমাট।
- দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: শ্বেত রক্তকণিকা থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন ধরনের ফ্যাগোসাইটিক কোষ (ম্যাক্রোফেজ, নিউট্রোফিল ইত্যাদি), প্রদাহ সৃষ্টিকারী সাড়া ও দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রভৃতি দেহে দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক উৎপাদিত প্রোটিন দু'ভাবে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করে।
- যেমন- ভৌত পদ্ধতি ও ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া। ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু নিধন চারটি পর্যায়ক্রমিক ধাপে সম্পন্ন হয়।
- যথা- কেমোট্যাক্সিস, সংলগ্নীকরণ, গ্রাসকরণ ও হত্যা এবং পরিপাক।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
ডায়াবেটিস হলে রক্তে কিসের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক বেড়ে যায়?
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. স্নেহ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস, বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ:
- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- আমরা যখন কিছু খাই, এটি শর্করায় পরিণত হয়ে রক্তের মাঝে আসে।
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের এই শর্করাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- কারও ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মানুষের রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৩.৯-৫.৬ mmole\L কিংবা (৭০-১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি.)।
- ডায়াবেটিস হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক বেড়ে যায়
- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়।
- ডায়াবেটিস হৃদ্যন্ত্রের রক্তপ্রবাহ রোগের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন- হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে।
- ডায়াবেটিস রোগীদের করোনারি বা হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
- এটি হৃৎপিণ্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী মারা যেতে পারে।
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়।
- উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ।
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাদের করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান,নবম-দশম শ্রেণী।

২১.
বিশুদ্ধ বায়ুর ৯৯ শতাংশই কোন দুটি উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. নাইট্রোজেন ও আর্গণ
  2. আর্গণ ও অক্সিজেন
  3. ওজোন ও অক্সিজেন
  4. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদান (Elements of the Atmosphere):
- বায়ুমণ্ডল জলীয় বাষ্প, ধুলিকণা এবং বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বিশুদ্ধ বায়ুর ৯৯ শতাংশই নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত।
- বায়ুর বিভিন্ন গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর পরিমাণ ০.০০৩ শতাংশ হলেও এটি বায়ুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- এর মূল কারণ পৃথিবী থেকে বিকিরণকৃত তাপশক্তি শোষণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে।
- কিন্তু বর্তমানে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর মাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি বায়ুমণ্ডলের জন্য হুমকি কারণ এতে পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- বিশুদ্ধ বায়ুতে নাইট্রোজেন (N₂) ৭৮.০২ শতাংশ, অক্সিজেন (O2) ২০.৭১ শতাংশ, অবশিষ্ট ১ শতাংশ আর্গণ (Ar), কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂), ওজোন (O₃) এবং অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস (নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপ্টন, জেনন এবং নাইট্রাস অক্সাইড), জলীয় বাষ্প এবং ধূলিকণা রয়েছে।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।