পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়22 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫৪ রিভিশন (পরীক্ষা ৫১-৫৩)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. রামনারায়ণ
  3. মুকুন্দদাস
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• মুকুন্দদাস:
-  ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়কালে মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রার মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী ভাবনাকে প্রচার করেন এবং চারণকবি মুকুন্দাস নামে খ্যাত হন।
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সেই  কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চক্ষ্মুশূল হয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেন।
- তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে - গান গেয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
 
• মুকুন্দদাসের কয়েকটি বিখ্যাত গান:
- ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ (বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর রচিত)
- 'ছেড়ে দেও কাঁচের চুড়ি বঙ্গনারী' (স্বদেশী আন্দোলন বিশেষ করে বিদেশী পন্য বর্জনের সময়)
- ‘ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।'
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা-কবিতা ব্লগ।

.
'বিষাদ সিন্ধু' কত পর্বে লেখা উপন্যাস?
  1. ২ পর্ব
  2. ৩ পর্ব
  3. ৫ পর্ব
  4. ৯ পর্ব
ব্যাখ্যা

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।


• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'হাতেম তায়ী' ফররুখ আহমেদ রচিত-
  1. কাহিনী কাব্য
  2. কাব্যনাট্য
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'হাতেম তায়ী' ফররুখ আহমেদ রচিত একটি কাহিনী কাব্য ।

• ​ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা,
- হরেফের ছড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো।' -বিখ্যাত সংলাপের স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো: 
- মুমিন,  
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।
 
তাঁর উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কোন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে 'মহাশ্মশান' কাব্য রচিত হয়েছে?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. পলাশীর যুদ্ধ
  3. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. কারবালার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

•'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. সধবার একাদশী
  3. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা

• সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- তিনি একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রহসনগুলি হচ্ছে:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ,
- সধবার একাদশী,
- জামাই বরিক।

অন্যদিকে:
- 'একেই কি বলে সভ্যতা' এবং 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন।
- 'বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. কায়কোবাদ
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

• “চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া রচিত - প্রবন্ধ।

• 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ: 

- 'চাষার দুক্ষু' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত প্রবন্ধ।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় 'চাষার দারিদ্র্য'।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে 'ধান ভানতে শিবের গীত' বাগ্‌ধারার উল্লেখ আছে।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'রোকেয়া রচনাবলী' থেকে চয়ন করা হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে লেখক তৎকালীন সভ্যতার নামে এক শ্রেণির মানুষের বিলাসিতা ও অন্যদিকে দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের বঞ্চনার কথা ব্যক্ত করেছেন।
- কৃষকদের এই মুমূর্ষু অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য তিনি শিক্ষা বিস্তারে পাঠশালা প্রতিষ্ঠার উপর এবং গ্রামীণ কুটির শিল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ থেকে,
- আমাদের বঙ্গভূমি সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা,-তবু চাষার উদরে অন্ন নাই কেন? ইহার উত্তর শ্রদ্ধাস্পদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়াছেন, “ধান্য তার বসুন্ধরা যার”। তাইতো অভাগা চাষা কে? সে কেবল “ক্ষেতে ক্ষেতে পুইড়া মরিবে”, হাল বহন করিবে, আর পাট উৎপাদন করিবে। 

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
- তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন ।
- নারীর অধিকার আদায়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম মহিলা সমিতি |

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- 
  1. বনলতা সেন
  2. মহাপৃথিবী
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রূপসী বাংলা।

• রূপসী বাংলা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের।
- বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

উল্লেখ্য, 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১) কাব্যগ্রন্থটিও জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. বিধ্বস্ত রোঁদের ঢেউ
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. কি চাহ শঙ্খচিল
  4. কালো ঘোড়া
ব্যাখ্যা

• 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল' মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। নাটকে আলোচিত হয়েছে বীরঙ্গনার গল্প।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজ উদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।

- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন। যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি। যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক। নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

অন্যদিকে,
- 'বিধ্বস্ত রোঁদের ঢেউ' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
- 'কালো ঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০.
'তিথিডোর' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস 'তিথিডোর'।

•'তিথিডোর' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮। 
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত। 
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
- কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা। 

বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'

• বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা- 
প্রগতি (১৯২৭-১৯)
কবিতা (১৩৪২-৪৭)  

•তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী
- বন্দীর বন্দনা
- কঙ্কাবতী
- যে আধাঁর আলোর অধিক
- মরচেপড়া পেরেকের গান
- একদিন চিরদিন
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি। 
 
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী 
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১১.
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি কে রচনা করেছেন ?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতার জন্মগ্রহন করেন।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী। 

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২.
একটি ত্রিভুজের তিনটি কোণের অনুপাত 3 : 3 : 4 হলে ত্রিভুজটি কোন ধরনের?
  1. সমকোণী ত্রিভুজ
  2. স্থুলকোনী ত্রিভুজ
  3. সমবাহু ত্রিভুজ
  4. সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ত্রিভুজের তিনটি কোণের অনুপাত 3 : 3 : 4 হলে ত্রিভুজটি কোন ধরনের?

সমাধান:
কোণগুলো = 3x, 3x, 4x
তাহলে, 
3x + 3x + 4x = 180°
⇒ 10x = 180°
⇒ x = 18°

3x = 54°
4x = 72°

তাহলে কোনগুলো = 54°, 54°, 72°
সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের ২টি কোণের সমান হয়।  

∴ ত্রিভুজটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ।  

১৩.
একটি বর্গের কর্ণের দৈর্ঘ্য কত হলে এর পরিধি ও ক্ষেত্রফল সমান হবে?
  1. 10√2
  2. 6√2
  3. 4√2
  4. 2√2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বর্গের কর্ণের দৈর্ঘ্য কত হলে এর পরিধি ও ক্ষেত্রফল সমান হবে?

সমাধান:

বর্গের কর্ণ ও বাহুর সম্পর্ক
বর্গের বাহু a হলে কর্ণের দৈর্ঘ্য d হয়:
d = a√2  
 a = d/√2

আমরা জানি,
ক্ষেত্রফল: A = a2
পরিধি: P = 4a

শর্তমতে,
4a = a2
a2 - 4a = 0
a(a - 4) = 0
a = 0 (not possible) / a = 4

কর্ণের দৈর্ঘ্যঃ
d = a√2  
d = 4√2

∴কর্ণের দৈর্ঘ্য = 4√2

১৪.
একটি আয়তক্ষেত্রের পরিসীমা ৯০ মিটার। এর প্রস্থ ২০ মিটার হলে, আয়তক্ষেত্রটির ক্ষেত্রফল কত?
  1. ৪০০ বর্গমিটার
  2. ৫০০ বর্গমিটার
  3. ৪৫০ বর্গমিটার
  4. ৪৮০ বর্গমিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি আয়তক্ষেত্রের পরিসীমা ৯০ মিটার। এর প্রস্থ ২০ মিটার হলে, আয়তক্ষেত্রটির ক্ষেত্রফল কত?

সমাধান: 
দেওয়া আছে,
পরিসীমা = ৯০মিটার
প্রস্থ = ২০মিটার

পরিসীমা:
পরিসীমা = ২(দৈর্ঘ্য + প্রস্থ)
৯০ = ২(দৈর্ঘ্য + ২০)
৯০ = ২ × দৈর্ঘ্য + ৪০
৯০ - ৪০ = ২ × দৈর্ঘ্য
৫০ = ২ × দৈর্ঘ্য
দৈর্ঘ্য = ২৫ মিটার 

ক্ষেত্রফল:
= দৈর্ঘ্য × প্রস্থ
= ২৫ × ২০
= ৫০০ বর্গমিটার 

∴আয়তক্ষেত্রটির ক্ষেত্রফল = ৫০০ বর্গমিটার

১৫.
একটি বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল পরিসীমা অপেক্ষা ১০ গুণ হলে বাহুর দৈর্ঘ্য কত মিটার?
  1. ১০
  2. ২০
  3. ৪০
  4. ৮০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল পরিসীমা অপেক্ষা ১০ গুণ হলে বাহুর দৈর্ঘ্য কত মিটার?

সমাধান:
বর্গের বাহু = ক মিটার 
ক্ষেত্রফল = ক বর্গমিটার 
পরিধি = 4ক মিটার 

প্রশ্নমতে:
= ১০ × ৪ক
= ৪০ক
ক(ক - ৪০) = ০ 
ক = ৪০ (ক = ০ সম্ভব নয়)

∴ বাহুর দৈর্ঘ্য = ৪০ মিটার 

১৬.
১২ একক প্রস্থবিশিষ্ট একটি আয়তক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল ১৯২ একক হলে দৈর্ঘ্য কতটুকু কমালে আয়তক্ষেত্রটি বর্গক্ষেত্রে পরিণত হবে?
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১২ একক প্রস্থবিশিষ্ট একটি আয়তক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল ১৯২ একক হলে দৈর্ঘ্য কতটুকু কমালে আয়তক্ষেত্রটি বর্গক্ষেত্রে পরিণত হবে?

সমাধান: 
প্রস্থ = ১২ একক
ক্ষেত্রফল = ১৯২ বর্গএকক
তাহলে দৈর্ঘ্য = ১৯২ / ১২ = ১৬ একক

বর্গক্ষেত্রে পরিণত করতে দৈর্ঘ্য = ১২ একক
কমাতে হবে = ১৬ - ১২ = ৪ একক

∴ দৈর্ঘ্য কমাতে হবে = ৪ একক

১৭.
16m2 একটি বর্গের কর্ণের সমান বাহু নিয়ে নতুন বর্গ আঁকলে তা শতকরা কতটুকু বড় বা ছোট হবে?
  1. 50%
  2. 75%
  3. 100%
  4. 150%
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 16m2 একটি বর্গের কর্ণের সমান বাহু নিয়ে নতুন বর্গ আঁকলে তা শতকরা কতটুকু বড় বা ছোট হবে?

সমাধান:
বর্গের ক্ষেত্রফল = 16 m2
⇒ a2 = 16m2
a = 4m

বর্গের কর্ণ = a√2 = 4√2m
নতুন বর্গের ক্ষেত্রফল = (4√2)2 = 42 × √22 = 16 × 2 = 32 m2

ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি = [(32 - 16)/16 ] × 100
= [16/16] × 100
= 100%

∴ শতকরা ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি = 100% 

১৮.
একটি চাকার পরিধি ৩.৫ মিটার হলে, ৭০০ মিটার পথ অতিক্রম করতে তাকে কত বার ঘুরতে হবে?
  1. ২০০
  2. ৩০০
  3. ২৫০
  4. ৩৫০ 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি চাকার পরিধি ৩.৫ মিটার হলে, ৭০০ মিটার পথ অতিক্রম করতে তাকে কত বার ঘুরতে হবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
চাকার পরিধি C = ৩.৫ মিটার
দূরত্ব D = ৭০০ মিটার

ঘূর্ণন সংখ্যা = D/C​ 
= ৭০০/৩.৫
= ২০০

∴ঘুরতে হবে = ২০০ বার

১৯.
একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের সমান দুটি কোণ ৭০° হলে, ত্রিভুজের তৃতীয় কোণের মান কত হবে?
  1. ৪০
  2. ৫৫
  3. ৭০
  4. ৪৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজের সমান দুটি কোণ ৭০° হলে, ত্রিভুজের তৃতীয় কোণের মান কত হবে?

সমাধান:
ত্রিভুজের তিনটি কোণের যোগফল সবসময় ১৮০°।
সমান দুটি কোণ ৭০° হলে,

তৃতীয় কোণ 'ক' হবে
৭০° + ৭০° + ক = ১৮০°
⇒ ক = ১৮০° - ১৪০°
ক = ৪০°

∴ত্রিভুজের তৃতীয় কোণের মান ৪০° 

২০.
একটি সমবাহু ত্রিভুজের পরিসিমা 18x হলে ক্ষেত্রফল কত?
  1. 9√3x
  2. 7√2x
  3. 9√3x2
  4. 36√3x2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সমবাহু ত্রিভুজের পরিসিমা 18x হলে ক্ষেত্রফল কত?

সমাধান: 
একটি সমবাহু ত্রিভুজের পরিধি P = 18x

সমবাহু ত্রিভুজের একপাশের দৈর্ঘ্য P/3 = 18x/3 = 6x

তাহলে, ক্ষেত্রফল A = √3/4 a2
= √3/4 × (6x)2
= √3/4 × 36x2
= 9√3x2

∴ ক্ষেত্রফল = 9√3x2

২১.
একটি আয়তক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য প্রস্থের 5 গুণ। ক্ষেত্রফল 500 বর্গমিটার হলে, দৈর্ঘ্য কত?
  1. 5m
  2. 10m
  3. 25m
  4. 50m
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি আয়তক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য প্রস্থের 5 গুণ। ক্ষেত্রফল 500 বর্গমিটার হলে, দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
ধরি,
প্রস্থ = w
দৈর্ঘ্য = 5w
ক্ষেত্রফল = 5w × w = 5w2

প্রশ্নমতে,
5w2 = 500
w2 = 100
w = 10m

তাহলে,
দৈর্ঘ্য = 10 × 5 = 50m

∴দৈর্ঘ্য= 50m

২২.
একটি বৃত্তের ব্যাস r হলে ক্ষেত্রফল কত?
  1. πr2
  2. (πr2)/2
  3. (πr2)/4
  4. 2πr2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বৃত্তের ব্যাস r হলে ক্ষেত্রফল কত?

সমাধান: 
দেওয়া আছে,
ব্যাস d = r
ব্যাসার্ধ্য r = r/2

ক্ষেত্রফল = π(r/2)2 = (πr2)/4

∴ক্ষেত্রফল = (πr2)/4

২৩.
১৬০০ বর্গফুট মাঠের চারপাশের ২ ফুট রাস্তায় ১.৫ বর্গফুটের কয়টি ট্যালি বসবে?
  1. ২০০
  2. ২২৪
  3. ২৫৬
  4. ২৮৮
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১৬০০ বর্গফুট মাঠের চারপাশের ২ ফুট রাস্তায় ১.৫ বর্গফুটের কয়টি ট্যালি বসবে?

দেওয়া আছে:
মাঠের ক্ষেত্রফল = ১৬০০ বর্গফুট
চারপাশের রাস্তার প্রস্থ = ২ ফুট
একটি টাইলের ক্ষেত্রফল = ১.৫ বর্গফুট

ধরি মাঠ বর্গক্ষেত্র:
বাহু = √১৬০০ = ৪০ ফুট
চারপাশে রাস্তা যোগ করলে নতুন বাহু = ৪০ + ২ + ২ = ৪৪ ফুট

নতুন ক্ষেত্রফল = ৪৪ × ৪৪ = ১৯৩৬ বর্গফুট
রাস্তার ক্ষেত্রফল = ১৯৩৬ - ১৬০০ = ৩৩৬ বর্গফুট
তাহলে,
ট্যালি বসবে = ৩৩৬ / ১.৫ = ২২৪ 

∴ট্যালি বসবে = ২২৪ টি 

নোটঃ প্রশ্নে শুধু মাঠের ক্ষেত্রফল বলা আছে তাই বাহুর সাথে ৪০ + ৪ যোগ করা হয়েছে, যদি রাস্তাসহ মাঠের ক্ষেত্রফল বলা হত তাহলে ৪০ - ৪ হত। 

২৪.
একটি চতুর্ভুজের ৪টি বাহু যথাক্রমে ৪, ৩, ২, ৫। এটি কোন ধরণের চতুর্ভুজ? 
  1. সমবাহু চতুর্ভুজ
  2. সামান্তরিক
  3. বিষমবাহু চতুর্ভুজ
  4. আয়তক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি চতুর্ভুজের ৪টি বাহু যথাক্রমে ৪, ৩, ২, ৫। এটি কোন ধরণের চতুর্ভুজ? 

সমাধান: 
• সমবাহু চতুর্ভুজ:
- সব বাহু সমান
- বিপরীত বাহু সমান্তর
- বিপরীত কোণ সমান

• সামান্তরিক:
- বিপরীত বাহু সমান্তর।
- বিপরীত কোণ সমান।
- বিপরীত বাহু সমান।

• বিষমবাহু চতুর্ভুজ:
- সব বাহু ভিন্ন।
- সাধারণত কোনো কোণ বা বাহু সমান্তর নেই।

• আয়তক্ষেত্র:
- বিপরীত বাহুগুলো সমান।
- প্রত্যেকটি কোণ সমকোণ।

∴  চতুর্ভুজটি হবে বিষমবাহু চতুর্ভুজ।

২৫.
একটি বস্তু সমতল তলে স্থাপন করা হলে কেন্দ্রন ভরের উচ্চতা যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে স্থিরতা কেমন হবে?
  1. বৃদ্ধি পাবে
  2. কমবে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. প্রাথমিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে
ব্যাখ্যা

- যদি কেন্দ্রন ভরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, তবে স্থিরতা কমবে। 

• কেন্দ্রন ভর (Center of Gravity): 
- কেন্দ্রন ভর হলো বস্তুর সেই কাল্পনিক বিন্দু যেখানে পুরো ভরের সমানুপাতিক কেন্দ্র ধরা যায়। অন্য কথায়, বস্তুটি যেন ওই বিন্দুর চারপাশে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
- বস্তু স্থিতিশীল থাকে যখন তাকে সামান্য দোলন বা ত্রুটি দিলে তা আবার মূল অবস্থায় ফিরে আসে।
- স্থিতিশীলতার জন্য দুটি মূল পরিমাপক গুরুত্বপূর্ণ:- কেন্দ্রন ভর (Center of Gravity) এবং ভিত্তি বা সমর্থন ক্ষেত্র (Base Area)
- যদি কেন্দ্রন ভর সমর্থন ক্ষেত্রের কাছে থাকে, বস্তু স্থিতিশীল থাকে।
- সামান্য দোলন হলে কেন্দ্রন ভর সহজে পুনঃব্যালেন্স হয়।
- কেন্দ্রন ভর যত উপরে থাকে, তত সহজে বস্তু ভারসাম্য হারায়।
- ছোট দোলনও বস্তুকে গড়িয়ে বা গুলিয়ে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৬.
একটি পদার্থের স্থির অবস্থায় কোন শক্তি থাকে না?
  1. গতিশীল শক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. বিভব শক্তি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• একটি পদার্থ স্থির অবস্থায় কোন গতিশক্তি থাকে না। 

গতিশক্তি: 
- একটি বস্তু গতিশীল হওয়া বা থাকার ফলে তার গতিশক্তি লক্ষ্য করা যায়। একটি স্থির বস্তুর বেগ শূন্য হলে তার গতিশক্তি শূন্য হবে। 
- একে কাইনেটিক এনার্জি বলা হয়ে থাকে।
- Ek = 1/2 mv2, v = 0 হলে Ek = 0 হয়। 

রাসায়নিক শক্তি: 
- রাসায়নিক শক্তি হলো বস্তুর অণুর অভ্যন্তরীণ বন্ধনের মধ্যে সঞ্চিত শক্তি।
- এই শক্তি বস্তু স্থির বা চলমান যাই হোক না কেন, অভ্যন্তরীণভাবে থাকে।
- যেমনঃ ব্যাটারি বা খাবারে রাসায়নিক শক্তি থাকে যদিও তা স্থির।

বিভব শক্তি: 
- কোনো বস্তু স্থির থাকলেও, যদি তার কোনো অবস্থান বা অবস্থাগত পরিবর্তন থাকে, তবে তার বিভব শক্তি থাকতে পারে।
- পটেনশিয়াল শক্তি বস্তুর অবস্থান বা অবস্থার কারণে থাকে।
- মাটি থেকে কোনো উচ্চতায় থাকলে মাধ্যাকর্ষণজনিত বিভব শক্তি থাকে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান।

২৭.
কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?
  1. বরফ গলানো 
  2. লোহা মরিচা ধরা
  3. পানি বাষ্পীভবন
  4. কাগজ ছিঁড়া
ব্যাখ্যা

- লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সাথে বিক্রিয়া করে Iron Oxide (Fe2O3) তৈরি করে। যা মরিচা হিসেবে পরিচিত। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াটি: 4Fe + 3O2 ​→ 2Fe2​O3
- এই প্রক্রিয়ায় লোহা (Fe) থেকে লোহা অক্সাইড (Fe2O3) তৈরি হয়।
- লোহা এর অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।​

পরিবর্তন দুই প্রকার:
- ভৌত পরিবর্তন (Physical Change), 
- রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change)। 

• ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনে পদার্থের কেবল আকার, অবস্থা বা রূপ পরিবর্তিত হয়।
- অণুর গঠন বা রাসায়নিক ধর্ম অপরিবর্তিত থাকে। 

• রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনে পদার্থের অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হয়।
- নতুন পদার্থ তৈরি হয়, যা নতুন ধর্ম প্রদর্শণ করে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন

২৮.
কোষের শক্তিঘর মাইটোকন্ড্রিয়ায় শক্তি (ATP) উৎপন্ন হয় কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. কোষ শ্বাসক্রিয়া
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. ডিএনএ প্রতিলিপি
ব্যাখ্যা

- মাইটোকন্ড্রিয়ায় সেলুলার রেসপিরেশন (কোষ শ্বাসক্রিয়া) নামক প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ (C6H12O6) ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তি থেকেই ATP (Adenosine Triphosphate) গঠিত হয়।
- ATP হলো একধরনের শক্তিবাহী যৌগ। যখন কোষ কোনো কাজ করে (যেমনঃ পেশি সঙ্কোচন, স্নায়ুতন্ত্রের কাজ, কোষ বিভাজন ইত্যাদি), তখন ATP ভেঙে শক্তি প্রদান করে।
প্রতিক্রিয়া (সহজভাবে):
Glucose + Oxygen → Carbon dioxide + Water + Energy (ATP) 

অন্যদিকে, 
- সালোকসংশ্লেষণ: এটি ঘটে ক্লোরোপ্লাস্টে, যেখানে সূর্যালোক থেকে খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি হয়।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ: এটি ঘটে রাইবোসোমে। এটি প্রোটিন গঠন প্রক্রিয়া।
- ডিএনএ প্রতিলিপি: এটি ঘটে নিউক্লিয়াসে। এর ফলে নতুন কোষে একই DNA তৈরী হয়। 

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান।

২৯.
একই গ্রুপের মৌলগুলোর মধ্যে কোনটি অপরিবর্তিত থাকে?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. ইলেকট্রন বিন্যাসের ধরন
  4. আয়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা

- একই গ্রুপের মৌলগুলোর বাহ্যিক ইলেকট্রন বিন্যাসের ধরন একরকম থাকে।
- এই কারণেই একই গ্রুপের মৌলগুলোর রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকম।
- পর্যায় সারণি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে একই ধরনের রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট মৌলগুলো একই কলামে (Group) অবস্থান করে।

•উদাহরণ: প্রথম গ্রুপের মৌল,
- লিথিয়াম (Li) → 2, 1
- সোডিয়াম (Na) → 2, 8, 1
- পটাসিয়াম (K) → 2, 8, 8, 1

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন। 

৩০.
দুটি সমান মানের বল যদি বিপরীত দিক থেকে বস্তুতে প্রয়োগ করা হয় এবং একই সরলরেখায় না থাকে, তখন বস্তুতে কি সৃষ্টি হয়?
  1. ঘূর্ণন
  2. সমানুপাতিক পরিবর্তন
  3. স্থিতিশীল ভারসাম্য
  4. পরিপূর্ণ বিকলন
ব্যাখ্যা

- দুটি সমান মানের বল যদি বিপরীত দিক থেকে বস্তুতে প্রয়োগ করা হয় এবং একই সরলরেখায় না থাকে, তখন তা ঘূর্ণন শুরু করে।
- তবে এই বলগুলো একটি মোমেন্ট বা টর্ক সৃষ্টি করে।
- টর্কের কারণে বস্তু ঘূর্ণন (Rotation) শুরু করে।
- এই অবস্থাকে টর্ক বা ঘূর্ণন বলের প্রভাবে সৃষ্টি ঘূর্ণন বলা হয়।

উদাহরণ:
- ঘুর্ণিঝড়
- দরজা খোলার ক্ষেত্রে হিঞ্জের চারপাশে দুইটি বিপরীত দিকের বল প্রয়োগ হলে দরজা ঘূর্ণন করে।
- জিমন্যাস্টিক রিংয়ে হাত দিয়ে টর্ক প্রয়োগ করলে ঘূর্ণন দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান।

৩১.
প্রোটিন গঠনের জন্য কোন মৌলিক উপাদান অপরিহার্য?
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- নাইট্রোজেন (N) হলো প্রোটিনে একটি বিশেষ মৌল, যা অ্যামিনো গ্রুপ (-NH2) গঠনে অপরিহার্য।

প্রোটিন:
-
প্রোটিন হলো জীবজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ।
- এটি অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে গঠিত।
- প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডে থাকে নাইট্রোজেন (N), যা অ্যামিনো (-NH2) গ্রুপে থাকে।
- অন্য উপাদান যেমন কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন প্রোটিনের অংশ হলেও, নাইট্রোজেন প্রোটিনের মূল ভৌত কাঠামো গঠনে অপরিহার্য।
-
নাইট্রোজেন ছাড়া প্রোটিন তৈরি সম্ভব নয়। 

অ্যামিনো অ্যাসিডের প্রধান উপাদানগুলো:
- নাইট্রোজেন (N), 
- কার্বন (C), 
- হাইড্রোজেন (H) ও 
- অক্সিজেন (O)। 

 তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান।

৩২.
নিচের কোনটি আয়নিক বন্ধনের বৈশিষ্ট্য?
  1. ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়
  2. ধাতু ও অধাতু মধ্যে ইলেকট্রন হস্তান্তর হয়
  3. শুধুই ধাতু দ্বারা গঠিত যৌগ হয়
  4. বন্ধন গঠন ব্যবহৃত হয় শুধু শক্তিশালী ধাতুতে
ব্যাখ্যা

- আয়নিক বন্ধন হলো ধাতু ও অধাতুর মধ্যে তৈরি একটি রাসায়নিক বন্ধন।
- এই ধরনের রাসায়নিক বন্ধনে একটি ধাতু ইলেকট্রন হারায় এবং একটি অধাতু ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এর ফলে ধাতু ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই বিপরীত আয়নের মধ্যে ইলেকট্রস্ট্যাটিক আকর্ষণ দ্বারা যৌগ স্থিতিশীল হয়।
 
এছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক বন্ধন ও তাদের বৈশিষ্ট:
- সমযোজী: ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়।
- ধাতব: ধাতুগুলোর মধ্যে তৈরি হয়।
- হাইড্রোজেন: হাইড্রোজেন পরমাণুর বন্ধন। 
 
তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, Britannica 

৩৩.
রক্তের কোন কণিকা মূলত অক্সিজেন পরিবহণের দায়িত্ব পালন করে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. অণুচক্রিকা
  4. রক্তরস
ব্যাখ্যা

- রক্তের মধ্যে অক্সিজেন পরিবহণকারী রক্তকণিকা হলো লোহিত রক্তকণিকা (RBC)।
- বৃত্তাকার ও উভয় পাশে গর্তের ন্যায়।
- এর প্রধান উপাদান হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin), যা অক্সিজেনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। 
- রক্তের কণিকা ৩ ধরণের। 
যথা- 
- লোহিত রক্তকণিকা, 
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
- অণুচক্রিকা। 

রক্ত কণিকার প্রধাণ কাজ:
- লোহিত রক্তকণিকা: অক্সিজেন পরিবহন করে হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে।
- শ্বেত রক্তকণিকা: যা আমাদের শরীরকে রোগ এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে রক্ষা করে।
- অণুচক্রিকা: রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা এবং রক্তপাত বন্ধ করা। 

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, Britannica 

৩৪.
সুপ্ত তাপের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক? 
  1. পদার্থের আকার পরিবর্তনের সময় তাপ উৎপন্ন হয়
  2. পদার্থের ভরের কারণে তাপ বৃদ্ধি পায়
  3. পদার্থের আণবিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত
  4. পদার্থের কঠোরতা বৃদ্ধির কারণে তাপ থাকে
ব্যাখ্যা

- সুপ্ত তাপ হলো সেই তাপ যা কোনো পদার্থকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় (যেমন গলন, বাষ্পীভবন) রূপান্তর করতে লাগে, কিন্তু পদার্থের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয় না।
- সুপ্ত তাপ সরাসরি আণবিক শক্তি এবং অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত, তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য নয়।
- এটি আণবিক স্তরে শক্তি সংরক্ষণ করে।

উদাহরণ: 
- বরফ গলে পানি হতে গেলে বা পানি বাষ্পে রূপান্তর হলে। 
- বরফের তাপমাত্রা ০°C এ স্থির থাকলেও, বরফ গলতে তাপ শোষিত হয়।
- এই তাপকে বলা হয় গলন সুপ্ত তাপ। 

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, Britannica 

৩৫.
নিচের কোনটি উদ্ভিদে দেখাযায় কিন্তু প্রাণীতে সাধারণত নেই?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াস
  4. সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা

- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো একটি বিশেষ ধরনের কোষ-অঙ্গাণু যা প্রধানত উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায়।

- উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, যা ফটোসিন্থেসিসের জন্য অপরিহার্য।
- ক্লোরোপ্লাস্টে থাকে ক্লোরোফিল, যা সূর্যালোক শোষণ করে।
- প্রাণী কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট নেই; প্রাণী সরাসরি খাদ্য গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কোষেই নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও সাইটোপ্লাজম থাকে।
- তাই ক্লোরোপ্লাস্ট হলো উদ্ভিদকোষের অনন্য অঙ্গাণু, যা প্রাণীতে সাধারণত পাওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, Britannica