পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগ, মধ্যযুগ এবং পত্রিকা ও সাময়িকী। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, লাল নীল দীপাবলি, যেকোনো একাডেমিক ব্যক্তির বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
প্রাচীন বাংলায় লিখা সাহিত্য কোনটি?
  1. ক) চর্যাচর্যবিনশ্চয়
  2. খ) ডাকার্ণব
  3. গ) কৃষ্ণপাদের দোহা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) চর্যাচর্যবিনশ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চর্যাচর্যবিনশ্চয়
ব্যাখ্যা
 চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুঁথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক চারটি পুঁথি একত্রে প্রকাশিত হয়।
- সেগুলো হচ্ছে - চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সহরপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব। 
- এগুলোর মধ্যে একমাত্র 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। 
- তিনি পুঁথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে কোন পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য?
  1. ক) দৈনিকা আজাদ
  2. খ) সমকাল
  3. গ) পূর্বমেঘ
  4. ঘ) স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
খ) সমকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমকাল
ব্যাখ্যা
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। 
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি।
- 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
.
কোন চর্যাকার বাংলাদেশের লোক ছিলেন?
  1. ক) ভুসুকুপা
  2. খ) ধর্মপা
  3. গ) ভাদেপা
  4. ঘ) কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
ক) ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচিয়তা ভুসুকুপা। 
- তিনি আটটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯ নং পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা তাঁর ছদ্মনাম, প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

'আজি ভুসুকু বাঙালি ভইলি।
নিএ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'
-- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

উল্লেখ্য,
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শবরপা বাঙ্গালি কবি ছিলেন ও তার জন্ম এই অঞ্চলে হয়েছিলো।
- প্রশ্নের অপশনে ভুসুকপা না থাকলে শবরপা সঠিক উত্তর হবে।

.
রাজা রামমোহন রায় কোন পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) সমাচার চন্দ্রিকা
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) মিরাত-উল- আখবার
  4. ঘ) ব্রাহ্মণসেবধি
সঠিক উত্তর:
ক) সমাচার চন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমাচার চন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা থেকে ১৮২১ সালে প্রকাশিত হয় সম্বাদ কৌমুদী।
- এর সম্পাদক ছিলেন - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রকাশক - তারাচাঁদ দত্ত।
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত অন্য দুটি পত্রিকা- 
- ব্রাহ্মণসেবধি (১৮২১), 
- পারসি ভাষায় মিরাত-উল- আখবার। 

অন্যদিকে,
রাজা রামমোহন রায়ের মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে ১৮২২ সালের ৫ ই মার্চ ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত হয় পত্রিকা সমাচার চন্দ্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
শ্রীচৈতন্যদেবের জন্ম কোথায়?
  1. ক) নদীয়ায়
  2. খ) নবদ্বীপে
  3. গ) সিলেটে
  4. ঘ) পুরীতে
সঠিক উত্তর:
খ) নবদ্বীপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবদ্বীপে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে একটি পঙক্তি না লিখেও শ্রীচৈতন্যদেবের নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে। 
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্যদেবের অবদান অপরিসীম। 

শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান। 
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। 
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
.
চর্যাপদের টিকাকার 'কাহ্নপা' রচিত প্রাপ্ত পদসংখ্যা কত?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৯
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৩
সঠিক উত্তর:
গ) ১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা (আনু. ১০ম শতক) বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন। কাহ্নপা- চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কবি।
- চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- তার রচিত পদের সংখ্যা ১৩ টি।
- তবে ১২ টি পদ পাওয়া গেছে।
- কাহ্নপা রচিত চর্যাপদের ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
চম্পুকাব্য কী?
  1. ক) সংস্কৃত ও প্রাকৃত মিশ্রিত কাব্য
  2. খ) বাংলা ও মৈথিলি মিশ্রিত কাব্য
  3. গ) চম্পুক রাজ্যে লিখিত কাব্য
  4. ঘ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
ব্যাখ্যা
গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- চম্পুকাব্যের একটি নিদর্শন হচ্ছে রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
.
চর্যাপদের আবিষ্কারকের উপাধি কী ছিল?
  1. ক) ভাষাচার্য
  2. খ) ভাষাবীদ
  3. গ) মহামহোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিদ্বদ্বল্লভ
সঠিক উত্তর:
গ) মহামহোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহামহোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক
-  তিনি ১৮৯৮ সালে ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট লাভ করেন।  
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাল্মীকির জয় 
- বৌদ্ধধর্ম 
- কাঞ্চনমালা (উপন্যাস)
- বেণের মেয়ে ( উপন্যাস) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'ধানশালিকের দেশ' কোন প্রকারের পত্রিকা?
  1. ক) সাপ্তাহিক
  2. খ) মাসিক
  3. গ) পাক্ষিক
  4. ঘ) ত্রৈমাসিক 
সঠিক উত্তর:
ঘ) ত্রৈমাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ত্রৈমাসিক 
ব্যাখ্যা
'ধানশালিকের দেশ' একটি কিশোর পত্রিকা। 
- এটি একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা। 
- এটি প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি থেকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
‘আঙুর' কী?
  1. ক) একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
  2. খ) একটি শিশু সংগঠন।
  3. গ) একটি দৈনিক শিশু পত্রিকা।
  4. ঘ) একটি সাপ্তাহিক সাহিত্য পত্রিকা।
সঠিক উত্তর:
ক) একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
ব্যাখ্যা
‘আঙুর' একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
- সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
- প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় নভেম্বর ১৯২০ সালে।

তাঁর অন্যান্য সম্পাদিত পত্রিকা -
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩)।
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
ডাক ও খনার বচন কোন আমলের সাহিত্য?
  1. ক) প্রাচীন যুগের
  2. খ) মধ্যযুগের
  3. গ) অন্ধকার যুগের
  4. ঘ) আধুনিক যুগের
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাচীন যুগের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাচীন যুগের
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ড. দীনেশ্চন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনাকাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেন। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ এর কতকগুলোকে বৌদ্ধযুগের রচনা বলে মনে করেন। 
- ড. নীহাররঞ্জন রায় এগুলোকে প্রাক তুর্কি আমলের রচনা বলে মনে করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১২.
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কোন পত্রিকা প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে?
  1. ক) দৈনিক আজাদ
  2. খ) সাপ্তাহিক সৈনিক
  3. গ) সমকাল
  4. ঘ) ইত্তেফাক
সঠিক উত্তর:
খ) সাপ্তাহিক সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত ঘটনার পর ২৩শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক 'সৈনিক' এর বিশেষ সংখ্যা। 
- এটি ছিল ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মরণে কোন পত্রিকা প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ। 
- সকালে পত্রিকা প্রকাশের মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায় এক হাজার কপি।
- পরে পূণর্মুদ্রন করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
মর্সিয়া সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ক) ইউসুফ জোলেখা
  2. খ) মক্তুল হোসেন
  3. গ) গুলে বকাওলী
  4. ঘ) গোরাক্ষবিজয়ের কাহিনি
সঠিক উত্তর:
খ) মক্তুল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মক্তুল হোসেন
ব্যাখ্যা
কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য। 
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়। 
- বাংলায় এ কাব্যধারা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

- মুহম্মদ খান রচিত 'মক্তুল হোসেন' (হোসেন নিধন) মর্সিয়া সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি ফরাসি 'মক্তুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 
- ইমাম হোসেন নিহত হলে কি অবস্থা হয়েছিল তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন এ কাব্যে।

- গোরাক্ষবিজয়ের কাহিনি - নাথসাহিত্য।
- ইউসুফ জোলেখা এবং গুলে বকাওলী - রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪.
রঙ্গপুর বার্তাবহ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৪৭ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
রঙ্গপুর বার্তাবহ  পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- রংপুরের কুনডি পরগণার জমিদার কালীচন্দ্র রায়ের আর্থিক আনুকূল্যে ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে (বাংলা ভাদ্র, ১২৫৪) পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত তেমন কোন উল্লেখযোগ্য বিরতি ছাড়াই এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন গুরুচরণ শর্মা রায়।
- প্রাথমিক পর্যায়ে পত্রিকাটি ছিল সরকারঘেঁষা এবং ভূস্বামীদের প্রশংসা করা ছিল এর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি বিদেশী শাসন এবং জনগণের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে।
- ১৮৫৭ সালে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
খনার বচনে কিসের প্রাধান্য পায়?
  1. ক) কৃষি
  2. খ) আবহাওয়ার
  3. গ) উভয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ডাক ও খনার বচনের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। 
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য  পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের মুহূর্তে বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল কতটি?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ১০
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের মুহূর্তে বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ১০।
- স্বাধীনতার পরপর কয়েকটি পত্রিকার পরিচালনার ভার সরকারকে বহন করতে হয়েছিল।
- পাকিস্তান প্রেস ট্রাস্টের পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তান (দৈনিক বাংলা) ও দ্য মর্নিং নিউজ এবং মালিকের অনুপস্থিতিতে দ্য পাকিস্তান অবজারভার (দ্য বাংলাদেশ অবজারভার), পূর্বদেশ এবং চিত্রালী সংবাদপত্র ব্যবস্থাপনা বোর্ডের মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হতো। 


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭.
মৈমনসিংহ গীতিকায় দেওয়ানা মদিনা পালাটির কবি কে?
  1. ক) দ্বিজ কানাই
  2. খ) নয়ানচাঁদ ঘোষ
  3. গ) মনসুর বয়াতি
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
গ) মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে -  মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে  গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা—মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

এদের মধ্যে, মনসুর বয়াতি প্রণীত পালা - দেওয়ানা মদিনা। 
- চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা - দস্যু কেনারাম 
- নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা - চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র 
- দ্বিজ কানাই প্রণীত পালা - মহুয়া 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
‘ননসেন্স ক্লাব’ এর মুখপত্র ছিল কোনটি?
  1. ক) হ-য-ব-র-ল
  2. খ) মন্ডা মিঠাই
  3. গ) সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা
  4. ঘ) শব্দকল্পদ্রুম
সঠিক উত্তর:
গ) সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা
ব্যাখ্যা
বাংলা শিশু সাহিত্যের এক অনন্য নাম সুকুমার রায়, (১৮৮৭-১৯২৩)। 
- পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতৃপ্রতিষ্ঠিত 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি এ পত্রিকার জন্য নিয়মিত গল্প, কবিতা ও নিজের আঁকা ছবি পাঠাতেন।
- সুকুমার রায় প্রেসিডেন্সিতে ছাত্র থাকাকালে ‘ননসেন্স ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার মুখপত্র ছিল 'সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা'
- বিলেত থেকে ফিরে তিনি গঠন করেন ‘মানডে ক্লাব’।
- এখানে আলোচনা ও পাঠের সঙ্গে থাকত ভূরিভোজের ব্যবস্থা।
- তাই ব্যঙ্গ করে কেউ কেউ একে বলত ‘মন্ডা ক্লাব’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯.
কবিওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত নয় কে?
  1. ক) অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি
  2. খ) রাধারমণ গোপ
  3. গ) রাম বসু
  4. ঘ) কেষ্টা মুচী
সঠিক উত্তর:
খ) রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
- মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি - রাধারমণ গোপ।

আঠারো শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্যে কবিগান রচয়িতাদের আবির্ভাব ঘটে।
কবিওয়ালাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), রাম বসু, রাসু-নৃসিংহ, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, হরু ঠাকুর, কেষ্টা মুচী, ভবানী-বেনে, নিতাই বৈরাগী, ভোলা ময়রা, রামানন্দ নন্দী ইত্যাদি। 
- গোঁজলা গুঁই কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
"পরিহর বিনা কড়িতে হাট পরিহর বিনা লড়িতে বাট" - কিসের নিদর্শন?
  1. ক) সরোজবজ্রের দোহাকোষ
  2. খ) কৃষ্ণচার্য পাদের দোহাকোষ
  3. গ) ডাকের বচন
  4. ঘ) খনার বচন
সঠিক উত্তর:
গ) ডাকের বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডাকের বচন
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ডাক ও খনার বচনের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। 
- ডাকের বচনের নমুনা - 
"পরিহর বিনা কড়িতে হাট
পরিহর বিনা লড়িতে বাট 
পরিহর নদীর তীরেতে গাছা 
পরিহর মায়ের বিহনে বাছা" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২১.
'সন্দেশ' পত্রিকা কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) সত্যজিৎ রায়
  4. ঘ) অন্নদাশংকর রায়
সঠিক উত্তর:
ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ব্যাখ্যা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।