পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬৫ --------------- বাংলা পরীক্ষা - ১৪ (সাহিত্য) পরীক্ষার টপিক: ১. গুরুত্বপূর্ণ উক্তি/সংলাপ/চরিত্র (সকল যুগের) ২. ছদ্মনাম ৩. প্রবাদ-প্রবচন, ৪. ছন্দ/অলঙ্কার।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
"প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।" - উক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল কাব্য
  2. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  3. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য
ব্যাখ্যা
প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।। - উক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোন লেখকের সাহিত্যিক নাম 'আবুল হাসান'?
  1. আবুল হাসান মিয়া
  2. আবুল হোসাইন
  3. আবুল হুসেন
  4. আবুল হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম - আবুল হোসেন মিয়া
- 'আবুল হাসান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন,
তা সবে (অবোধ আমি) অবহেলা করি,
পরধন লোভে মত্ত' করিনু ভ্রমণ - কবিতার চরণদ্বয় কোন কবির কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন,
তা সবে (অবোধ আমি) অবহেলা করি,
পরধন লোভে মত্ত' করিনু ভ্রমণ

-
কবিতার চরণদ্বয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। - 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

তারভ রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
.
'অনন্ত ও সুবল' চরিত্রগুলো কোন উপন্যাসের?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. তিতাস একটি নদীর নাম
  3. সূর্যের দিন
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
তিতাস একটি নদীর নাম:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র: কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী প্রমুখ।
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'ন্যাড়া বারবার বেল-তলায় যায় না' - প্রবাদটির অর্থ কী?
  1. উভয় দিকে বিপদ
  2. যোগ্য ব্যাক্তিরা ত্রুটিমুক্ত নন
  3. দুর্ভাগ্য সর্বত্রগামী
  4. ভুক্তভোগী কখনো বারবার ঠকে না
ব্যাখ্যা
• 'ন্যাড়া বারবার বেল-তলায় যায় না' প্রবাদটির অর্থ - ভুক্তভোগী কখনো বারবার ঠকে না
 
অন্যদিকে,
- 'জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ' প্রবাদটির অর্থ - উভয় দিকে বিপদ।
- ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’ প্রবাদটির অর্থ - দুর্ভাগ্য সর্বত্রগামী।
- 'চাঁদেরও কলঙ্ক আছে' প্রবাদটির অর্থ - যোগ্য ব্যাক্তিরা ত্রুটিমুক্ত নন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"নমোনমো নম সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি !
গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর , জীবন জুড়ালে তুমি। - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
"নমোনমো নম সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি !
গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর , জীবন জুড়ালে তুমি। - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পঙ্‌ক্তিগুলো 'দুই বিঘা জমি' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।