পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ পরীক্ষা - ১১: টপিক সমূহ: প্রকৃতি ও প্রত্যয় [লাইভ ক্লাস: ২০, ২১ ও ২২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চিরু + উনি = চিরনি
  2. √মোড় + অক = মোড়ক
  3. √ডুব্ + ওরি = ডুবুরী
  4. √জানা + আন = জানানো
ব্যাখ্যা
• আ-কারান্ত প্রযোজক (ণিজন্ত) ধাতুর পরে 'আন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'আনো' হয়৷
যেমন:
- √জানা + আন = জানানো।
এরূপ- শোনানো, ভাসানো ইত্যাদি৷

অন্যদিকে,
‘অনি’ (বিকল্পে) উনি-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √বাঁধ + অনি = বাাঁধনি;
• √চির + অনি = চিরনি;

 ‘অন্ত’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √উড় + অন্ত = উড়ন্ত;
• √ডুব + অন্ত = ডুবন্ত।

 ‘অক’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √মুড় + অক = মোড়ক;
• √ঝল্ + অক = ঝলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘উ’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঢালু
  2. উড়ু
  3. ডাকু
  4. ঝাড়ু
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত ‘উ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো:
- ঢাল + উ = ঢালু;
- কল + উ = কলু।

অন্যদিকে,
‘উ’ কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- √ডাক্ + উ = ডাকু;
- √ঝাড় + উ =ঝাড়ু;
- √উড় + উ = উড়ু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঘর + ওয়া = ঘরোয়া
  2. পাগল + আমি = পাগলামি
  3. নীল + ইমন = নীলিমা
  4. দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘ঝলক’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ঝল্ + ওক
  2. √ঝল্ + উক
  3. √ঝল্ + অক
  4. √ঝল্ + আক
ব্যাখ্যা
‘অক’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
• √মুড় + অক = মোড়ক;
• √ঝল্ + অক = ঝলক।

---------------------
• কৃৎ-প্রত্যয়:

- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন;
- (১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি, আর;
- (২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন:
• চল্‌ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
• চল্‌ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
• ‘প্রকৃতি’ কথাটি বোঝানোর জন্য প্রকৃতির আগে √ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘তেজস্বী’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. তেজস + ঈ
  2. তেজঃ + বিন্‌
  3. তেজস + বী
  4. তেজঃ + ই
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি অশুদ্ধ?
  1. শব্দ বা ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়।
  2. প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
  3. প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে শ্রেণিপরিচয় বদলে দেয়।
  4. অনেক সময় শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে সঠিক নয় - শব্দ বা ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময় শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. গুণী
  2. দোষী
  3. মানী
  4. সুখী
ব্যাখ্যা
• ইন্’ কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়) :
যেমন:
- √শ্রম্ + ইন = শ্রমী;
- √দুষ্ + ইন = দোষী;
- মন্ত্র্ + ইন = মন্ত্রী;
- যুজ্ + ইন = যোগী।

অন্যদিকে,
• ‘ইন্’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানী।
- সুখ + ইন্ = সুখী।
- গুণ + ইন্ = গুণী।
- মান + ইন্ = মানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি
  2. লতা + আনো = লতানো
  3. পো + আত = পোয়াত
  4. পল্লব + ইত = পল্লবিত
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য,
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পল্লব + ইত = পল্লবিত;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

----------------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
• সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো।
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই।
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘সহিষ্ণু’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √সহি + ইষ্ণু
  2. √সহ্ + ঈষ্ণু
  3. √সহি + ষ্ণু
  4. √সহ্ + ইষ্ণু
ব্যাখ্যা
• কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:
ইষ্ণু-প্রত্যয়:
• √ চল্‌ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।
• √ সহ্‌ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।
• √ ক্ষয়্ + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু।

বর-প্রত্যয়:
• √ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
• √ ভাস্ + বর = ভাস্বর।

র-প্রত্যয়:
• √ নম্ + র = নম্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
'পূজক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পূজ্‌ + অক
  2. √পুজ্‌ + নক
  3. √পূজ্‌ + ওক
  4. √পুজ্‌ + ণক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'পূজক' এর শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় হচ্ছে:
- √পূজ্‌ + অক।
- এটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

-------------------------
• 'পূজক' (বিশেষণ পদ),
-এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পূজ্‌ + অক।
অর্থ:
- আরাধক,
- উপাসক,
- অর্চক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১.
নিচের কোনটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. আটিয়া
  2. তৃচ্
  3. ওয়ালা
  4. গর
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
তৃচ্-প্রত্যয় ( ‘চ’ লোপ পেয়ে ‘তৃ’ অবশিষ্ট থাকে): প্রথমা একবচনে ‘তৃ’ স্থলে ‘তা’ হয়।
যেমন:
- √দা + তৃচ্ = √দা + তা = দাতা;
- √ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা।

অন্যদিকে,
• ‘আটিয়া’ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
• ‘ওয়ালা’ ও ‘গর’ বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
‘পাকড়াও’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ পাক্ + ড়াও
  2. √ পাকড় + আও
  3. √ পাক্ + আও
  4. √ পাকড় + অও
ব্যাখ্যা
• সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: '√ পাকড় + আও'।
- 'পাকড়াও' শব্দটি 'কৃৎ' প্রত্যয়ের উদাহরণ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।