পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes৪৬ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৪৮
সিলেবাস
পার্ট – ১: বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) ভাষা আন্দোলন, ii) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন, iii) ৫৬ - এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন, iv) পাকিস্তানে সামরিক শাসন ও শাসন বিরোধী আন্দোলন, v) ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, vi) ছয়দফা উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------ পার্ট – ২: সাধারণ বিজ্ঞান টপিকসমূহ: ভৌত বিজ্ঞান: (পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ক) ১. ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পদার্থের চৌম্বকত্ব, তড়িৎ চৌম্বক ও তাড়িত চৌম্বকীয় আবেশ, তরঙ্গ এবং শব্দ, শক্তি। ২. কাজ, শক্তি ও ক্ষমতা; তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক বিজ্ঞান ও আলোক যন্ত্রপাতি, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা। উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৮ প্রশ্ন

.
উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার বিরুদ্ধে কবে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ?
  1. ০২ ই মার্চ ১৯৪৮
  2. ৩১ ই মার্চ ১৯৪৮
  3. ০২ ই মার্চ ১৯৪৭
  4. ৩১ ই জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ

- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।
- ৪০সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।

- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
.
জাতীয় সংসদে বাংলাভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস হয়েছে কোন সালে?
  1. ক) ১৯৮৬
  2. খ) ১৯৮৭
  3. গ) ১৯৯৯
  4. ঘ) ২০০০
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদের বিধানকে পূর্ণরূপে কার্যকর করবার উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালে প্রণীত আইন।

SOURCE: বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ ( ১৯৮৭ সনের ২ নং আইন )
.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে দেশের বাইরে বিশ্বের প্রথম স্মৃতিসৌধটি নির্মিত হয় অস্ট্রেলিয়ার কোন নগরীতে?
  1. ক) মেলবোর্ন
  2. খ) পার্থ
  3. গ) সিডনি
  4. ঘ) ব্রিজবেন
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে দেশের বাইরে বিশ্বের প্রথম স্মৃতিসৌধটি নির্মিত হয়  -সিডনি, অস্ট্রেলিয়া (১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬)।

SOURCE:  দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা 
.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কি ছিল?
  1. ক) গোলাপ ফুল
  2. খ) নৌকা
  3. গ) হারিকেন
  4. ঘ) ঘড়ি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী জোট।
• ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
• নির্বাচনের জোটের প্রতীক ছিল নৌকা।
• ২১ দফা কর্মসূচীর (নির্বাচনী ইশতেহার) ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।যথা: 

১. আওয়ামী মুসলিম লীগ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি – শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি – মওলানা আতাহার আলী
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল – হাজী মোহাম্মদ দানেশ

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
.
৪ সদস্যবিশিষ্ট যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয় কখন?
  1. ক) ১৫ মে, ১৯৫৪
  2. খ) ৩০ মে, ১৯৫৪
  3. গ) ৩ এপ্রিল, ১৯৫৪
  4. ঘ) ২০ মে, ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
• ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে। • যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।যথা: 

১. আওয়ামী মুসলিম লীগ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি – শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি – মওলানা আতাহার আলী
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল – হাজী মোহাম্মদ দানেশ

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা: 
১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র---এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার--আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী---আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক--শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
• পরবর্তীতে ১৫ মে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। 

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন। ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।


SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় ‘কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান কে?
  1. ক) আবু হোসেন সরকার
  2. খ) আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
  3. গ) সৈয়দ আজিজুল হক
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
• ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে। • যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।যথা: 

১. আওয়ামী মুসলিম লীগ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি – শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি – মওলানা আতাহার আলী
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল – হাজী মোহাম্মদ দানেশ

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা: 
১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র---এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার--আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী---আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক--শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প

পরবর্তীতে ১৫ মে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। 

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন। ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
.
যুক্তফ্রন্ট এর ২১ দফার কত দফায় ‘পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন‘ এর কথা হয়েছে ?
  1. ক) ১ দফায়
  2. খ) ৯ দফায়
  3. গ) ১৯ দফায়
  4. ঘ) ১৫ দফায়
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ইশতেহারের ২১ দফার গুরুত্বপূর্ণ দফা: 
• ১ নং দফা:  রাষ্ট্রভাষা বাংলা
 বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।
• ৯ নং দফা: অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা ।
 দেশের সর্বত্র অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন এবং শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা।
• ১৫ নং দফা : বিচার বিভাগের স্বাধীনতা 
বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা।
• ১৬ নং দফা : বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা  
 বর্ধমান হাউসের পরিবর্তে কম বিলাসের বাড়িতে যুক্তফ্রন্টের প্রধান মন্ত্রীর অবস্থান করা এবং বর্ধমান হাউসকে প্রথমে ছাত্রাবাস ও পরে বাংলা ভাষার গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭ নং দফা: শহিদ মিনার নির্মাণ  
 রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ ঘটনাস্থলে শহিদ মিনার নির্মাণ করা এবং শহিদদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
 • ১৯ নং দফা : পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন
 লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মূদ্রা ব্যতীত সকল বিষয় পূর্ববঙ্গ সরকারের অধীনে আনয়ন, দেশরক্ষা ক্ষেত্রে স্থলবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পশ্চিম পাকিস্তানে এবং নৌবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন এবং পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্রনির্মাণ কারখানা স্থাপন ও আনসার বাহিনীকে সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করা।

SOURCE: পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কত তারিখ?
  1. ক) ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ
  2. খ) ১৯৫৪ সালের ৯-১৩মার্চ
  3. গ) ১৯৫৪ সালের ৬-১৫ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালের ৮-১১ মার্চ
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
• ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।যথা: 

১. আওয়ামী মুসলিম লীগ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি – শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি – মওলানা আতাহার আলী
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল – হাজী মোহাম্মদ দানেশ

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা: 
১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র---এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার--আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী---আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক--শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
• পরবর্তীতে ১৫ মে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। 

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন। ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
.
ঐতিহাসিক ছয় দফার সর্বশেষ দফা কি ছিল?
  1. ক) বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  2. খ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  3. গ) রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  4. ঘ) আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
• ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
৬ দফার দাবিসমূহ
প্রস্তাব - এক : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
প্রস্তাব - দুই : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
প্রস্তাব - তিন : মুদ্রা ও অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - চার : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - পাঁচ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
প্রস্তাব - ছয় : আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক । 
১০.
শরীফ শিক্ষা কমিশন কত তারিখ গঠন করা হয়?
  1. ক) ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫৮
  2. খ) ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬২
  3. গ) ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬০
  4. ঘ) ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫৭
ব্যাখ্যা
শরীফ কমিশন গঠনের পটভূমি:
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন দেশে শিক্ষা উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক সুপারিশ প্রণয়ন করেন। পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন দেশে শিক্ষা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সুপারিশ করেন। তদুপরি প্রাদেশিক পর্যায়ে শিক্ষা উন্নয়নের প্রচেষ্টা চলে। সমগ্র পাকিস্তানের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এ উপলব্ধির ফলশ্রুতিতে জাতীয় শিক্ষার সুসঘবদ্ধ ও সুষম উন্নয়নের নিশ্চয়তা বিধানার্থে ও ঔপনিবেশিক আমলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পূর্ণগঠনের যথাযোগ্য পন্থা সুপারিশ করার জন্য ১৯৫৮ সালে ৩০ শে ডিসেম্বর জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। এস.এম শরীফকে এ জাতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। তাঁর নামানুসারে এ কমিশন শরীফ কমিশন নামেও পরিচিত।

১৯৫৯ সালের ৫ই জানুয়ারী পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আয়ুব খান কমিশন উদ্ভোধন করেন। 
এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কমিশন অবিলম্বে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ শুরু করেন। শিক্ষার বিভিন্ন স্তর ও বিভিন্ন পদ্ধতির সকল দিক সম্পর্কেও একটি সর্বাত্মক প্রশ্নমালা ব্যাপকভাবে পাকিস্তানের সর্বত্র বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিশেষের নিকট প্রেরণ করা হয় এবং সংবাদপত্র মারফতও প্রচারিত হয়। 

বহু সংখ্যক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিনিধি উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং বিশিষ্ট প্রতিনিধি স্থানীয় ব্যক্তি তাঁদের মূল্যবান নির্দেশ দ্বারা কমিশনকে রিপোর্ট প্রণয়নে সাহায্য করেছেন। এ কমিশন ১৯৫৯ সালে রিপোর্ট পেশ করেন।

তবে শিক্ষা সম্পর্কে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন ১৯৬২ সালের সবার সামনে প্রকাশিত হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ভাষা আন্দোলনের বিয়োগান্তক স্মৃতি যখন এদেশবাসীর মনে তখনও উজ্জ্বল-ঠিক তখন 'উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করার প্রস্তাব, আরবি এবং পরে রোমান বর্ণমালায় বা হরফে লিপিবদ্ধ করার প্রস্তাব বাঙালি জনগণ মেনে নিতে পারেনি। ছাত্র-শিক্ষক- বুদ্ধিজীবী-তথা সমগ্র বাঙালি জনগণই শরীফ কমিশনের সুপারিশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

শরীফ কমিশন এর সদস্যবৃন্দ:
১০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিশনের সভাপতি ছিলেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও তৎকালীন পাকিস্তানের শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরীফ।
৪ জন বাঙালি শিক্ষাবিদ সদস্য হিসাবে যুক্ত ছিলেন; তারা হলেনঃ
১. ড. মোমতাজউদ্দিন আহমেদ (উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়),
২. আবদুল হক (সদস্য, ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড),
৩. অধ্যাপক আতোয়ার হোসেন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং
৪. ড. এম এ রশীদ (অধ্যক্ষ, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ)।

• শরীফ কমিশন এর সুপারিশ সমূহ:

» শিক্ষাখাতে ব্যয়কে শিল্পে মূলধন বিনিয়োগের দৃষ্টিতে দেখার সুপারিশ করে কমিশন শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করে অবৈতনিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সরকারী অর্থের পরিবর্তে জনগণের অর্থ বিনিয়োগের জোর দেয়া হয়।
» ৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে ডিগ্রী পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক ভাষা করা।
» এস.এস.সি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণদের জন্য পরবর্তী শিক্ষার দ্বার রুদ্ধকরণ।
» দু বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরে বৃদ্ধি করার এক অবৈজ্ঞানিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
» বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে পাঠ্যসূচির অবৈজ্ঞানিক সুলভ ও স্কুলসমূহের কারিকুলাম অযৌক্তিকভাবে রদবদলের এক ভৌতিক সুপারিশ করে।
»  বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখার প্রস্তাব ।
» শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করাতে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিধান রাখা হয়েছিল।

SOURCE: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক; শিক্ষার ইতিহাস - ২, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১.
নিচের কোনটি আইয়ুব বিরোধী জোট নয়?
  1. ক) NDF ( NATIONAL DEMOCRATIC FRONT)
  2. খ) COP (COMBINED OPPOSITION PARTY )
  3. গ) NSF (NATIONAL STUDENTS FEDERATION)
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• National Students Federation: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ষাটের দশকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন শুরু করলে গর্ভনর মোনায়েম খান তা দমনের জন্য় এটি গঠন করেন।

• সম্মিলিত বিরোধী দল (Combined Opposition Parties বা COP)

• গঠন:
১৯৬৪  সালের ২৬ জুলাই 'কপ' গঠিত হয় আইয়ুব-বিরোধী মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে। 'কপ'-এর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো হলো:
আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, নেজামে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলাম। সামরিক শাসক আইয়ুব খানকে ক্ষমতাচ্যূত করাই ছিল এই বিরোধীদদলীয় মোর্চ্চা গঠনের একমাত্র উদ্দেশ্য। 
• নেতা: 
করাচিতে অনুষ্ঠিত 'কপ'-এর কেন্দ্রীয় সভায় পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌'র ভগ্নি মিস ফাতিমা জিন্নাহকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে খাজা নাজিমুদ্দিন ও শেখ মুজিবুর রহমান সহ একদল রাজনৈতিক নেতা ফাতেমা জিন্নাহ'র সঙ্গে দেখা করেন এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিশেষ করে সামরিক শাসককে অপসারণের লক্ষ্যে পদে প্রতিদ্বান্দ্বিতা করার প্রস্তাব দেন।

• National Democratic Front:
• গঠন: ৪ সেপ্টেম্বর ,১৯৬২ 
• নেতা: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
• এটি আইয়ুব বিরোধী ও গণতন্ত্রের সপক্ষ শক্তিসমূহের দ্বারা গঠিত একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট।


SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক

১২.
ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা কে ?
  1. ক) আবুল মনসুর আহম্মেদ
  2. খ) রুহুল কুদ্দুস
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) ‍সিরাজুল আলম খান
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
• ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
• ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস। তিনি একজন পাকিস্তান সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। 

দফার দাবিসমূহ -
প্রস্তাব - এক : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
প্রস্তাব - দুই : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
প্রস্তাব - তিন : মুদ্রা ও অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - চার : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - পাঁচ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
প্রস্তাব - ছয় : আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
১৩.
অবৈতনিক শিক্ষার ধারনাকে অবান্তর বলা হয় কোন শিক্ষা কমিশনে ?
  1. ক) হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনে
  2. খ) শরীফ শিক্ষা কমিশনে
  3. গ) কবির শিক্ষা কমিশনে
  4. ঘ) মোখলেছুর রহমান শিক্ষা কমিশনে
ব্যাখ্যা
শরীফ কমিশন গঠনের পটভূমি:
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন দেশে শিক্ষা উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক সুপারিশ প্রণয়ন করেন। পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন দেশে শিক্ষা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সুপারিশ করেন। তদুপরি প্রাদেশিক পর্যায়ে শিক্ষা উন্নয়নের প্রচেষ্টা চলে। সমগ্র পাকিস্তানের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এ উপলব্ধির ফলশ্রুতিতে জাতীয় শিক্ষার সুসঘবদ্ধ ও সুষম উন্নয়নের নিশ্চয়তা বিধানার্থে ও ঔপনিবেশিক আমলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পূর্ণগঠনের যথাযোগ্য পন্থা সুপারিশ করার জন্য ১৯৫৮ সালে ৩০ শে ডিসেম্বর জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। এস.এম শরীফকে এ জাতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। তাঁর নামানুসারে এ কমিশন শরীফ কমিশন নামেও পরিচিত।

১৯৫৯ সালের ৫ই জানুয়ারী পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আয়ুব খান কমিশন উদ্ভোধন করেন। 
এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কমিশন অবিলম্বে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ শুরু করেন। শিক্ষার বিভিন্ন স্তর ও বিভিন্ন পদ্ধতির সকল দিক সম্পর্কেও একটি সর্বাত্মক প্রশ্নমালা ব্যাপকভাবে পাকিস্তানের সর্বত্র বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিশেষের নিকট প্রেরণ করা হয় এবং সংবাদপত্র মারফতও প্রচারিত হয়। 

বহু সংখ্যক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিনিধি উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং বিশিষ্ট প্রতিনিধি স্থানীয় ব্যক্তি তাঁদের মূল্যবান নির্দেশ দ্বারা কমিশনকে রিপোর্ট প্রণয়নে সাহায্য করেছেন। এ কমিশন ১৯৫৯ইং মাসের রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ সমাপ্ত করেন এবং এ রিপোর্ট ১৯৬০ সনে সরকারের নিকট পেশ করেন ।

তবে শিক্ষা সম্পর্কে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন ১৯৬২ সালের সবার সামনে প্রকাশিত হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ভাষা আন্দোলনের বিয়োগান্তক স্মৃতি যখন এদেশবাসীর মনে তখনও উজ্জ্বল-ঠিক তখন 'উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করার প্রস্তাব, আরবি এবং পরে রোমান বর্ণমালায় বা হরফে লিপিবদ্ধ করার প্রস্তাব বাঙালি জনগণ মেনে নিতে পারেনি। ছাত্র-শিক্ষক- বুদ্ধিজীবী-তথা সমগ্র বাঙালি জনগণই শরীফ কমিশনের সুপারিশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

শরীফ কমিশন এর সদস্যবৃন্দ:
১০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিশনের সভাপতি ছিলেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও তৎকালীন পাকিস্তানের শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরীফ।
৪ জন বাঙালি শিক্ষাবিদ সদস্য হিসাবে যুক্ত ছিলেন; তারা হলেনঃ
১. ড. মোমতাজউদ্দিন আহমেদ (উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়),
২. আবদুল হক (সদস্য, ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড),
৩. অধ্যাপক আতোয়ার হোসেন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং
৪. ড. এম এ রশীদ (অধ্যক্ষ, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ)।

• শরীফ কমিশন এর সুপারিশ সমূহ:
» শিক্ষাখাতে ব্যয়কে শিল্পে মূলধন বিনিয়োগের দৃষ্টিতে দেখার সুপারিশ করে কমিশন শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করে অবৈতনিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সরকারী অর্থের পরিবর্তে জনগণের অর্থ বিনিয়োগের জোর দেয়া হয়।
» অবৈতনিক শিক্ষার ধারনাকে অবান্তর বলা হয় ।
» ৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে ডিগ্রী পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক ভাষা করা।
» এস.এস.সি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণদের জন্য পরবর্তী শিক্ষার দ্বার রুদ্ধকরণ।
» দু বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরে বৃদ্ধি করার এক অবৈজ্ঞানিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
» বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে পাঠ্যসূচির অবৈজ্ঞানিক সুলভ ও স্কুলসমূহের কারিকুলাম অযৌক্তিকভাবে রদবদলের এক ভৌতিক সুপারিশ করে।
»  বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখার প্রস্তাব ।
» শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করাতে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিধান রাখা হয়েছিল।


SOURCE: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক; শিক্ষার ইতিহাস - ২, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১৪.
জাতিসংঘের কোন সংস্থা একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ক) আইএলও
  2. খ) ডব্লিউএইচও
  3. গ) ইউনেস্কো
  4. ঘ) ইউনিসেফ
ব্যাখ্যা
• UNESCO (United Nations Educational Scientific and Cutural Organization ) ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০০০ সাল থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হচ্ছে।

SOURCE: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট 
১৫.
৬ দফা আনুষ্ঠানিকভাবে কত তারিখে ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ২৩ মার্চ ১৯৬৬
  2. খ) ২১ মে ১৯৬৬
  3. গ) ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬
  4. ঘ) ২৩ অক্টোবর ১৯৬৬
ব্যাখ্যা

• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
• ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
• আর এটি ২৩ মার্চ ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
• ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা --রুহুল কুদ্দুস । তিনি একজন সি এস পি কর্মকর্তা। 
 ৬ দফার দাবিসমূহ---
প্রস্তাব - এক : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
প্রস্তাব - দুই : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
প্রস্তাব - তিন : মুদ্রা ও অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - চার : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - পাঁচ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
প্রস্তাব - ছয় : আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।

১৬.
১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. ক) শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়
  2. খ) কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়
  3. গ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  4. ঘ) কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
• কোয়ালিশন সরকার: 
কোয়ালিশন সরকার বা জোট সরকার হল একাধিক রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত সরকারের একটি বিশেষ রূপ। কোনও একক দল নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সাধারণত একাধিক দল মিলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে এ ধরনের সরকার গঠন করে। 
• ১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন।

SOURCE: পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
 
১৭.
‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’ এটি প্রমাণ করে কত সালের নির্বাচন?
  1. ক) ১৯৫৪ সালের নির্বাচন
  2. খ) ১৯৭৩ সালের নির্বাচন
  3. গ) ১৯৭০ সালের নির্বাচন
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে পূর্বপাকিস্তানের ২৩৭ আসনের মধ্যে যুক্ত ফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করেন।
• ৩ এপ্রিল ১৯৫৪ সালে যুক্ত ফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।

• এ নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায়, বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ।
• এর মাধ্যমে বাঙ্গালীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পথ উন্মোচিত হয় এবং এই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের পথে সাধারণ মানুষকে উদ্ভদ্ধ করে।
• ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটের ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রথম অবাধ নির্বাচন।
• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয় এ অঞ্চলের মানুষের মনে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
 • তাদের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবী জোরদার হয়।
• বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে তারা পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগকে আর চায় না।
• এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভের মধ্যে দিয়ে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ ধারার সৃষ্টি হয়।
• বাঙালিরা বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।

সুতরাং এ নির্বাচন প্রমাণ করে --‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’


SOURCE: পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
১৮.
২১শে ফেব্রুয়ারিকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় কত তারিখ?
  1. ক) ৫ ডিসেম্বর, ২০০৯
  2. খ) ৫ ডিসেম্বর, ২০০৮
  3. গ) ৫ ডিসেম্বর, ২০১৭
  4. ঘ) ৫ ডিসেম্বর, ২০১১
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
উদ্যোক্তা ছিল – কানাডা প্রবাসী আব্দুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম।
সংগঠন টির নাম ছিল-মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দ্য ওয়ার্ল্ড।
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম সম্মেলনে ১৮৮ দেশের সমর্থনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘের সকল সদস্য ভুক্ত দেশ দিনটি উদযাপন করে থাকে।
• ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

SOURCE:
ইউএন ওয়েব সাইট ।
১৯.
পূর্ব পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্রের সংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ৩০,০০০
  2. খ) ৮০,০০০
  3. গ) ৪০,০০০
  4. ঘ) ৬০,০০০
ব্যাখ্যা
• মৌলিক গণতন্ত্র:
১৯৫৯ সালের অক্টোবরের ঘোষণা অনুসারে পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এর মাধ্যমে দেশে একটি চার স্তর বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির কাঠামো সৃষ্টি করা হয়।
স্তরগুলো হচ্ছে
১. ইউনিয়ন কাউন্সিল,
২. থানা কাউন্সিল,
৩. জেলা কাউন্সিল
৪. বিভাগীয় কাউন্সিল।

» ছোট ছোট শহরে টাউন কমিটি এবং বড় বড় শহরে পৌরসভা গঠনের বিধান করা হয়।
»  এই কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর  ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং পৌরসভা বা টাউন কমিটি জনগণের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। এর ওপরের স্তরগুলো পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে গঠিত ছিল।
» মৌলিক গণতন্ত্রের সর্ব নিম্নস্তর যে ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে।
»  এদের সংখ্যা ছিল পূর্ব পাকিস্তানে ৪০ হাজার এবং পশ্চিম  পাকিস্তানে ৪০,০০০ করে মোট ৮০ হাজার। এদেরকে বেসিক ডেমোক্রাট বা সংক্ষেপে বি.ডি. মেম্বার বলা হতো।
»  এই ৮০ হাজার বি.ডি. মেম্বার দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচিত করতেন। ফলাফলকে বানচাল করা যায়। 

SOURCE: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় , সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২০.
ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস কবে ?
  1. ক) ৭ জুন
  2. খ) ৬ জুন
  3. গ) ৫ জুন
  4. ঘ) ৪ জুন
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া , শফিক, শামসুল হক, মুজিবুল হকসহ মোট ১১ জন বাঙালি নিহত হন।
• প্রতি বছর ৭ই জুন বাংলাদেশে '৬ দফা দিবস' পালন করা হয়। 
• ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ।


SOURCE: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় , সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২১.
১৯৫৯ সালের অক্টোবরের ঘোষণা অনুসারে পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্রের স্তর কয়টি ছিল?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
• মৌলিক গণতন্ত্র:
১৯৫৯ সালের অক্টোবরের ঘোষণা অনুসারে পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এর মাধ্যমে দেশে একটি চার স্তর বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির কাঠামো সৃষ্টি করা হয়।
স্তরগুলো হচ্ছে
১. ইউনিয়ন কাউন্সিল,
২. থানা কাউন্সিল,
৩. জেলা কাউন্সিল
৪. বিভাগীয় কাউন্সিল।

» ছোট ছোট শহরে টাউন কমিটি এবং বড় বড় শহরে পৌরসভা গঠনের বিধান করা হয়।
»  এই কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর  ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং পৌরসভা বা টাউন কমিটি জনগণের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। এর ওপরের স্তরগুলো পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে গঠিত ছিল।
» মৌলিক গণতন্ত্রের সর্ব নিম্নস্তর যে ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে।
»  এদের সংখ্যা ছিল পূর্ব পাকিস্তানে ৪০ হাজার এবং পশ্চিম  পাকিস্তানে ৪০,০০০ করে মোট ৮০ হাজার। এদেরকে বেসিক ডেমোক্রাট বা সংক্ষেপে বি.ডি. মেম্বার বলা হতো।
»  এই ৮০ হাজার বি.ডি. মেম্বার দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচিত করতেন। ফলাফলকে বানচাল করা যায়। 

SOURCE: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় , সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২২.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা কত সদস্য ছিল?
  1. ক) ১৩
  2. খ) ১৪
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৬
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
• ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।যথা: 

১. আওয়ামী মুসলিম লীগ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি – শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি – মওলানা আতাহার আলী
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল – হাজী মোহাম্মদ দানেশ

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা: 
১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র---এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার--আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী---আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক--শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
• পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে  ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। 

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন। ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
২৩.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মুসলিম লীগ কতটি আসন লাভ করে?
  1. ক) ২৩৭
  2. খ) ১৪৩
  3. গ) ২২৮
  4. ঘ) ৩০৯
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
• ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।যথা: 

১. আওয়ামী মুসলিম লীগ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি – শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি – মওলানা আতাহার আলী
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল – হাজী মোহাম্মদ দানেশ
• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৮টি আসন লাভ করে।
• এর মধ্যে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনও ছিল।
• ১৯৩৭ সাল থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতায় আসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৭টি আসন।
• যুক্তফ্রন্টের ২২৮টি আসনের মধ্যে
» আওয়ামী মুসলিম লীগ পায় ১৪৩টি আসন,
» কৃষক শ্রমিক পার্টি ৪৮,
» নেজামে ইসলাম ২২,
»গণতন্ত্রী দল ১৩, এবং
»খেলাফতে রববানী পার্টি পায় ২টি আসন।
» অমুসলিম আসনে কংগ্রেস পায় ২৫টি,
 » তফসিলী ফেডারেশন ২৭টি এবং সংখ্যালঘুদের যুক্তফ্রন্ট পায় ১৩টি আসন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
২৪.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে?
  1. ক) রফিক উদ্দিন
  2. খ) আবদুস সালাম
  3. গ) আবুল বরকত
  4. ঘ) অহিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ  রফিক উদ্দিন 
• পরিচয়: জগন্নাত কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র 
• জন্মস্থান : পারিল , সিঙ্গািইর ,মানিকগঞ্জ।  

আবুল বরকত 

পরিচয়: তার ডাক নাম আবাই এবং  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এর ছাত্র ।
 • জন্মস্থান : তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর অঞ্চলের বাবলা গ্রামে । 

আবদুস সালাম 
জন্মস্থান : ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে 
• পরিচয়: তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগের 'পিয়ন'  ছিলেন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া 
২৫.
আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা'-র ৩য় দফা নিচের কোনটি ?
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা
  2. খ) ধর্মনিরপেক্ষতা
  3. গ) স্বতন্ত্র মুদ্রা
  4. ঘ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা

• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
• ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
• আর এটি ২৩ মার্চ ১৯৬৬ অনানুষ্ঠানিক ঘোষিত হয়।
• ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা --রুহুল কুদ্দুস । তিনি একজন সি এস পি কর্মকর্তা। 
 ৬ দফার দাবিসমূহ---
প্রস্তাব - এক : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
প্রস্তাব - দুই : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
প্রস্তাব - তিন : মুদ্রা ও অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা (স্বতন্ত্র  মুদ্রা )।
প্রস্তাব - চার : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - পাঁচ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
প্রস্তাব - ছয় : আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
২৬.
ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল কত ‍দিন?
  1. ক) ৫৬
  2. খ) ১৫
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ৫৫
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা: 
১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র---এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার--আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী---আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক--শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
• পরবর্তীতে ১৫ মে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। 

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন। ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
২৭.
ঐতিহাসিক ৬-দফাকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. ক) বিল অব রাইটস
  2. খ) ম্যাগনাকার্টা
  3. গ) পিটিশন অব রাইটস
  4. ঘ) মুখ্য আইন
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
• ঐতিহাসিক ৬-দফাকে  তুলনা করা হয় ম্যাগনাকার্টা সাথে।
• ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
• আর এটি ২৩ মার্চ ১৯৬৬ অনানুষ্ঠানিক ঘোষিত হয়।
• ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা --রুহুল কুদ্দুস । তিনি একজন সি এস পি কর্মকর্তা। 
 ৬ দফার দাবিসমূহ---
প্রস্তাব - এক : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
প্রস্তাব - দুই : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
প্রস্তাব - তিন : মুদ্রা ও অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা (স্বতন্ত্র  মুদ্রা )।
প্রস্তাব - চার : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - পাঁচ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
প্রস্তাব - ছয় : আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
২৮.
কত সালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তৎকালীন পাকিস্তানের নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন ‘উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা‘?
  1. ক) ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ
  2. খ) ১৯৫২ সালের ২১ মার্চ
  3. গ) ১৯৪৭ সালের ২১ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৫০ সালের ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা
• পাকিস্তানের গর্ভনর জেনারেল মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় আসেন৷
• ২১ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোষণা দেন "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা।" এরপর 
২৪ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ঘোষণা দিলে ছাত্ররা তার উক্তির চরম প্রতিবাদ জানায়।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া
২৯.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মান রক্ষা করেন শহীদ জব্বার, রফিক, বরকত, সালাম; ঐ দিনটি ছিল ফাল্গুন মাসের-
  1. ক) ৬ তারিখ
  2. খ) ৮ তারিখ
  3. গ) ৯ তারিখ
  4. ঘ) ১০ তারিখ
ব্যাখ্যা
• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ৮ ফাল্গুন,১৩৫৮ তারিখ ছিল।
• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল.বৃহস্পতিবার।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া
৩০.
নিচের কোন রাশিটি শুধু মান দ্বারাই সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায়?
  1. ক) মন্দন
  2. খ) দ্রুতি
  3. গ) সরণ
  4. ঘ) বেগ
ব্যাখ্যা
- যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ন রুপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাকে ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন : সরণ, বেগ, ওজন, ত্বরণ, মন্দন ইত্যাদি।
শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তনে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 

- যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দিয়ে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
যেমন : দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর ইত্যাদি।
শুধু মানের পরিবর্তনে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩১.
সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত -
  1. ক) আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  2. খ) আলোর প্রতিসরণ
  3. গ) শব্দের প্রতিধ্বনি
  4. ঘ) শব্দের প্রতিসরণাঙ্ক
ব্যাখ্যা

প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 

- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকেই শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূলধ্বনি ও প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড হওয়া প্রয়োজন।
শব্দের প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়।
হাইড্রোফোন নামে এক রকমের যন্ত্রের সাহায্যে মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনির মধ্যে সময়ের ব্যবধান নিখুঁতভাবে পাওয়া যায়।


প্রতিধ্বনির ব্যবহারসমূহ- 
১. হিমশৈল জাহাজের অস্তিত্ব নির্ণয়ে
২. বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ নির্ণয়ে
৩. পাতলা পাতের পুরুত্ব নির্ণয়ে
৪. ক্ষতিকারক অণুজীব ধ্বংস করতে প্রতিধ্বনি ব্যবহার করা হয়
৫. সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করবার ক্ষেত্রে। 

সূত্র: National Ocean Service [লিঙ্ক]

৩২.
কোনো পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে যদি পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয় তাহলে সেটি -
  1. ক) প্যারা চৌম্বক পদার্থ
  2. খ) ডায়া চৌম্বক পদার্থ
  3. গ) ফেরো চৌম্বক পদার্থ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফেরো চৌম্বকত্ব:
এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

প্যারা চৌম্বকত্ব:

এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়া চৌম্বক:
এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 


সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের ক্ষেত্রে কোনটি অসত্য?
  1. ক) তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোন জড় মাধ্যমের প্রয়োজন নেই।
  2. খ) তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণ মুক্ত স্থানে আলোর দ্রুতিতে গমন করে।
  3. গ) দূরত্ব দ্বিগুণ হলে তীব্রতা অর্ধেক হয়ে যাবে গাণিতিক ভাবে।
  4. ঘ) বিভিন্ন তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের উৎস বিভিন্ন।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

লাইভ পরীক্ষার প্রশ্নে টাইপিং জনিত ভুলের কারনে 'অসত্য' এর পরিবর্তে 'সত্য' দেয়া ছিল। সে অনুসারে গ) অপশন ব্যতিত সবগুলোই সঠিক। তাই উত্তর তুলে দেয়া হয়েছে।
--------------------------

তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের ধর্ম
যদিও বিভিন্ন তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের উৎস বিভিন্ন এবং তাদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে বিরাট পার্থক্য বর্তমান কিন্তু কিছু কিছু ধৰ্ম বা মৌলিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এদের মধ্যে মিল আছে। 

এসব বৈশিষ্ট্য হল:
- তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোন জড় মাধ্যমের প্রয়োজন নেই।
- তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণ মুক্ত স্থানে (free Space) আলোর দ্রুতিতে (3×108ms-1) অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার দ্রুতিতে সরন রেখায় গমন করে। মুক্ত স্থান বলতে এখানে ভাকুয়াম বোঝানো হয়েছে।
- এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমনের সময় এদের তীব্রতা বিপরীত বর্গীয় নিয়ম ( Inverse Square law) মেনে চলে। অর্থাৎ দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতে এদের তীব্রতা হ্রাস পেতে থাকে। দূরত্ব দ্বিগুণ হলে তীব্রতা এক চতুর্থাংশ হয়ে যাবে গাণিতিক ভাবে।
 
উৎস : পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়-
  1. ক) জেনারেটর
  2. খ) বৈদ্যুতিক মোটর
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বক আবেশঃ একটি তারের কুণ্ডিলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুন্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫.
নিচের কোনটি মৌলিক বল নয়?
  1. ক) মহাকর্ষ বল
  2. খ) অভিকর্ষ বল
  3. গ) তড়িৎ চৌম্বকীয় বল
  4. ঘ) দুর্বল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের মৌলিক বলগুলো হলোঃ
১) মহাকর্ষ বল
২) তড়িৎ চৌম্বকীয় বল
৩) দুর্বল নিউক্লীয় বল
৪) সবল নিউক্লীয় বল

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান
৩৬.
ইলেকট্রনকে ত্বরান্বিত করে কোনো ধাতব পদার্থের উপর নিক্ষেপ করা হলে -
  1. ক) আলফা রশ্মি উৎপন্ন হয়
  2. খ) বিটা রশ্মি উৎপন্ন হয়
  3. গ) গামা রশ্মি উৎপন্ন হয়
  4. ঘ) এক্সরে উৎপন্ন হয়
ব্যাখ্যা
এক্সরে: 
কোন উপায়ে ইলেকট্রনকে ত্বরান্বিত করে সেই ত্বরান্বিত ইলেকট্রনগুলো কোনো ধাতব পদার্থের উপর নিক্ষেপ করা হলে ঐ পদার্থের ভিতরের ইলেকট্রন দ্বারা বিকর্ষিত হয়ে ত্বরান্বিত ইলেকট্রনগুলোর মন্দন হয় এবং গতি শক্তি হারায়।
এই হারানো গতি শক্তি E = hf আকারে রশ্মিতে পরিণত হয়। একে এক্সরে বলে।

এক্সরের একক হলো রন্টজেন। যে পরিমাণ বিকিরণের জন্য স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় এক মিলিলিটার বায়ুতে এক কুলম্ব আধান উৎপন্ন করতে পারে তাকে এক রন্টজেন বলে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৭.
তেজস্ক্রিয় মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা -
  1. ক) ৪০ এর বেশি
  2. খ) ৫৬ এর বেশি
  3. গ) ৭৪ এর বেশি
  4. ঘ) ৮২ এর বেশি
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা হলো যেসকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি, তাদের নিউক্লিয়াস দ্রুত গতির নিউটন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে উচ্চভেদন সম্পূর্ণ বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনা।

- তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সকল মৌল নিজে থেকে অন্য মৌলে রূপান্তরিত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- যে বস্তুখণ্ড থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাকে তেজস্ক্রিয় নমুনা বলে।
- ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন হেনরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে। পরবর্তীতে, রাদারফোর্ড, পিয়ারে এবং মেরি কুরিসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা –
(১) প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা (Natural radioactivity) ও
(২) কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা (Artificial radioactivity)

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
৩৮.
দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করার কারণ -
  1. ক) এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
  2. খ) এতে কমে গিয়েও প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ বজায় থাকে
  3. গ) অধিক বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়
  4. ঘ) প্রয়োজনমতো ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক তারের রোধ থাকে। যার ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সবটুকু না গিয়ে কিছু অংশ অপচয় হয়। ফলে দুরত্ব যত বেশি হয় রোধ তত বেশি হয়। এজন্য দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৩৯.
তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে -
  1. ক) ট্রান্সজিস্টর
  2. খ) ডায়নামো
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) তড়িৎ মোটর
ব্যাখ্যা
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪০.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে কোন তত্ত্বের মধ্য দিয়ে?
  1. ক) প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  2. খ) আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  3. গ) আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. ঘ) হাইজেনবার্গ এর অনিশ্চয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে দুটি তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানের জগৎকে কাপিয়ে দেয়। এগুলাে হলাে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক প্রদত্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং ১৯০৫ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন প্রদত্ত আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
দুটি ধারণাই প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিতে সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। কয়েক দশকের সাধনায় এই তত্ত্বগুলাে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান এবং ঘনীভূত পদার্থের পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন, বিকাশ ও তত্ত্বকে প্রেরণা জোগায়।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা তাই ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালাে বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে আরেকটি বিপ্লব আনেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব ও আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন
৪১.
একটি কাঁচ দণ্ডকে রেশমী কাপড় দিয়ে ঘষলে কোনটি পাওয়া যায়?
  1. ক) ধনাত্মক আধান
  2. খ) ঋণাত্মক আধান
  3. গ) রেজিনাস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অবস্থায় পদার্থের পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে।
- তবে প্রত্যেক পরমাণুই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ থাকে। ইলেকট্রনের প্রতি এই আসক্তি বিভিন্ন বস্তুতে বিভিন্ন রকম। তাই দুটি বস্তুকে যখন পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হয়, তখন যে বস্তুর ইলেকট্রন আসক্তি বেশি সে বস্তুটি অপর বস্তুটি থেকে মুক্ত ইলেকট্রন সংগ্রহ করে ঋণাত্মক আধানে আহিত হয়।   

- সাধারণ অবস্থায় কাচদণ্ডের পরমাণুসমূহে প্রোটন এবং ইলেকট্রণের সংখ্যা সমান থাকায় তা তড়িৎ নিরপেক্ষ থাকে।  
- কাচদণ্ডকে রেশমের কাপড় দিয়ে ঘর্ষণের ফলে কাচদণ্ডের পরমাণুসমূহ থেকে কিছু সংখ্যক ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন হয়ে রেশমের কাপড়ের সাথে যুক্ত হয়।  
- রেশমের কাপড়ে ইলেকট্রন যুক্ত হওয়ায় এটি ঋণাত্মক তড়িতাহিত হয়।  
- অন্যদিকে কাচদণ্ডে ইলেকট্রন কমে যাওয়ায়, এতে ইলেকট্রনের সংখ্যার চেয়ে প্রোটনের সংখ্যা বেশি হয়, ফলে এটা ধনাত্মক তড়িতাহিত হয়। 

উৎস- এস.এস. সি পদার্থ বিজ্ঞান- ২য় পত্র (বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
৪২.
নাইটিনল হলো -
  1. ক) এক ধরনের সংকর ধাতু
  2. খ) এক ধরনের এন্টিবায়োটিক
  3. গ) এক ধরনের আলোক যন্ত্র
  4. ঘ) একটি বিষাক্ত গ্যাস
ব্যাখ্যা
নাইটিনল হলো সংকর ধাতু যা নিকেল ও টাইটিনিয়ামের সমান আণবিক অনুপাতে তৈরী।
এটি নিকেল টাইটিনিয়াম নামেও পরিচিত।

নাইটিনল সংকর ধাতুটি দুটি খুবই অনন্য ও খুবই কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত ধর্ম প্রদর্শন করে।

১) আকৃতি ধরে রাখার অনন্য ক্ষমতা যাকে  Shape Memory বলে।
Shape memory হচ্ছে বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট যা নাইটিনলকে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পরিসরে তার আকৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে। নাইটিনল দিয়ে কোনো কিছু তৈরীর সময় নির্দিষ্ট আকৃতি দেওয়ার ক্ষত্রে তাপমাত্রা খুব বড় প্রভাবক। তৈরির সময়ের এই তাপমাত্রাকে রুপান্তরক তাপমাত্রা বলে।

২) বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা ( superelasticity বা pseudoelasticity)
নাইটিনলের বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা একটি ক্ষুদ্র তাপমাত্রার পরিসরে হয়ে থাকে যা এর রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি। এই কারণেই বাঁকা তার টি এই রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি তাপমাত্রার গরম পানিতে দেওয়ার ফলে সোজা হয়।

সূত্রঃ The Story of Nitinol: The Serendipitous Discovery of the Memory Metal and Its Applications;
৪৩.
বায়ুশূন্য মাধ্যমে একটি লোহার বল, একটি কাঠের টুকরো ও একটি চুম্বক দন্ড ছেড়ে দিলে -
  1. ক) লোহার বলটি আগে পড়বে
  2. খ) কাঠের টুকরো আগে পড়বে
  3. গ) চুম্বক দন্ড আগে পড়বে
  4. ঘ) সবগুলো একসাথে পড়বে।
ব্যাখ্যা
একটি বায়ুশূন্য স্থানে একটি লোহার বল, একটি কাঠের টুকরো ও একটি চুম্বক দন্ড ছেড়ে দিলে সবগুলো একসাথে পড়বে
 
পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রথম সূত্র : স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সব বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে।

প্রথম সূত্র : এ সূত্রানুসারে স্থির অবস্থান থেকে কোনো বস্তু ছেড়ে দিলে তা যদি বিনা বাধায় মাটিতে পড়ে, তাহলে মাটিতে পড়তে যে সময় লাগে তা বস্তুর ভর, আকৃতি বা আয়তনের ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন ভরের, আকারের ও আয়তনের বস্তুকে যদি একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এগুলো যদি বিনা বাধায় মুক্তভাবে পড়তে থাকে, তাহলে সবগুলোই একই সময়ে মাটিতে পৌঁছবে।

দ্বিতীয় সূত্র : স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ওই সময়ের সমানুপাতিক।

দ্বিতীয় সূত্র : দ্বিতীয় সূত্র থেকে পাওয়া যায় t সেকেন্ড শেষে বস্তুর বেগ v সমানুপাতিক t, অর্থাৎ কোনো বস্তুকে যদি স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়তে দেওয়া হয়, তবে প্রথম সেকেন্ড পরে যদি এটি v বেগ অর্জন করে, তবে দ্বিতীয় সেকেন্ড পরে এটি 2v বেগ অর্জন করবে। সুতরাং t1, t2, t3... সেকেন্ড পরে যদি বস্তুর বেগ যথাক্রমে v1, v2, v3... ইত্যাদি হয়, তবে এ সূত্রানুসারে, v1/t1=v2/t2=v3/t3...=ধ্রুবক

তৃতীয় সূত্র : স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে, তা ওই সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক।

তৃতীয় সূত্র : তৃতীয় সূত্র থেকে পাওয়া যায় : সেকেন্ডে বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব h সমানুপাতিক t2। অর্থাৎ কোনো বস্তুকে যদি স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়তে দেওয়া হয়, তবে এক সেকেন্ডে এটি h দূরত্ব অতিক্রম করে, দুই সেকেন্ডে এটি h×22 বা 4h দূরত্ব, তিন সেকেন্ডে এটি h×32 বা 9h দূরত্ব অতিক্রম করবে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
৪৪.
কাজ করার ক্ষমতাকে কী বলে?
  1. ক) ক্ষমতা 
  2. খ) শক্তি
  3. গ) দক্ষতা
  4. ঘ) বিভব শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তি হচ্ছে কাজ করার ক্ষমতা। 

- যখন কোনো বস্তুর ওপর কোনো বল প্রয়োগ করে ধনাত্মক কাজ করা হয় তখন সেই বলটি বস্তুটির মাঝে একটা শক্তি সৃষ্টি করে এবং যে বল প্রয়োগ করেছে তাকে ঠিক সেই পরিমাণ শক্তি দিতে হয়।
- কোনো বল যদি কোনো বস্তুর উপর নেগেটিভ কাজ করে তাহলে বস্তুর যেটুকু শক্তি ছিল সেখান থেকে কিছুটা শক্তি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

- ধনাত্মক কাজ: কোনো বস্তুতে শক্তি দেওয়া।
- ঋনাত্মক কাজ: কোনো বস্তু থেকে শক্তি সরিয়ে নেওয়া।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৫.
অণুবীক্ষণ যন্ত্র কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) রবার্ট হুক
  3. গ) লিউয়েন হুক
  4. ঘ) মাইকেল ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা
১৬৮৩ সালে ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন ।

- গ্যালিলিও টেলিস্কোপ ও থার্মোমিটার আবিষ্কার করেন।
- রবার্ট হুক প্রথম কোষপ্রাচীর আবিষ্কার করেন।
- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো ও তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র আবিস্কার করেন।

সূত্র: ব্রিটানিকা
৪৬.
গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়?
  1. উত্তল
  2. দ্বিউত্তল
  3. সিলিন্‌ড্রিক্যাল
  4. অবতল
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - উত্তল এবং অবতল - দুটিই।
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায়, প্রশ্নটি বাতিল করা হল।

ক) উত্তল — অবজেক্টিভ লেন্স হিসেবে।
(ঘ) অবতল — অকুলার (চোখের কাছে থাকা) লেন্স হিসেবে।

অর্থাৎ, গ্যালিলিও তার দূরবীক্ষণে একটি উত্তল লেন্স ব্যবহার করেছিলেন দূরের বস্তু থেকে আলো সংগ্রহের জন্য (objective lens), এবং একটি অবতল লেন্স ব্যবহার করেছিলেন সেই আলো চোখে আনার জন্য (eyepiece বা ocular lens)। এই ধরনের দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে গ্যালিলিয়ান টেলিস্কোপ বলা হয়।

উত্তল লেন্সের ব্যবহার:
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

অবতল লেন্সের ব্যবহার:
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়।
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।
 
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭.
জুটিন আবিষ্কার করেন-
  1. ক) ড. মাকসুদুল আলম
  2. খ) ড. আব্দুল খালেক
  3. গ) ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ
  4. ঘ) ড. মোবারক আহমেদ খান
ব্যাখ্যা
পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন ড. মোবারক আহমেদ খান। পাট (Jute) দিয়ে তৈরী বলে এ টিনের নাম জুটিন (Jutin)
তাঁর অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনালি ব্যাগ, হেলমেট ও টাইলস। তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে।

জুটন (পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র) এর আবিষ্কারক- ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ।
পাটের জিন বিন্যাস আবিষ্কার করেন- ড. মাকসুদুল আলম।
স্বর্ণা সার আবিষ্কার করেন- ড. আব্দুল খালেক।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
৪৮.
'স্প্রিং তরঙ্গ' কী ধরণের তরঙ্গ?
  1. ক) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  2. খ) আড় তড়ঙ্গ
  3. গ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—পানির তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ ইত্যাদি।

যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—স্প্রিং তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ ইত্যাদি।

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কিন্তু মাধ্যমের কণা স্থানান্তরিত হয় না।
২. তরঙ্গের বিস্তার,কম্পন, তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
৩. সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে।
৪. তরঙ্গ অগ্রগামী বা স্থির হতে পারে।
৫. তরঙ্গ প্রবাহের দিক আছে।
৬. তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ,ব্যতিচার,অপবর্তন ঘটে।
৭. তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারণ করে।
৮. যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
৯. তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। ইত্যাদি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।