পরীক্ষা আর্কাইভ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

পরীক্ষা৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৩৩
সিলেবাস
পার্ট-১) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। পার্ট-২) পদার্থের অবস্থা, ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, চৌম্বকত্ব, তরঙ্গ এবং শব্দ, তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক যন্ত্রপাতি, তড়িৎ চৌম্বক, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি। পার্ট–১ সোর্স: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৩ প্রশ্ন

.
বাংলায় সর্বপ্রথম জুরী ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন -
  1. ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক 
• উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সময় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরন আইন ( ১৮২৯ )পাস হয় এতে তিনি রাজা রামমোহন রায় ও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করেন।
• উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলায় সর্বপ্রথম ‘জুরী ব্যবস্থার’ প্রবর্তন করেন।
• উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলার সর্বশেষ ( ১৮২৮-১৮৩৩) এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ( ১৮৩৩-১৮৩৫)।
• বেন্টিঙ্ক লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন ।

অন্যদিকে,   
• লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩) প্রবর্তন এবং ভারতের সিভিল সার্ভিসের জনক।
• ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম সুপ্রিম কোর্ট।
• লর্ড হার্ডিঞ্জ রবিবার সরকারি অফিসের সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করেন

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
লাহোর প্রস্তাব কখন গৃহীত হয়?
  1. ক) ১৯৩৭ সালের ২৩ মার্চ
  2. খ) ১৯৪৬ সালের ২৯ মার্চ
  3. গ) ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব
• ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন। জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। 
• লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
• এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না। তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
• এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
• কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। 
• এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যথাক্রমে -
  1. ক) মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক
  2. খ) ইলা মিত্র ও হাজী মোহাম্মদ মুহসিন
  3. গ) মাস্টার দ্য সূর্য সেন ও ভবানী পাঠক
  4. ঘ) মঙ্গল পান্ডে ও ইলা মিত্র
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০)
• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। -১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।ণ
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলা ভাগের জন্য সীমানা নির্ধারণ কমিশনের প্রধান ছিলেন -
  1. ক) সি.সি. বিশ্বাস
  2. খ) এস.এ. রহমান
  3. গ) আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
  4. ঘ) সিরিল রেডক্লিফ
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা নির্ধারণের জন্যে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন। এরা হলেন-
- সিরিল রেডক্লিফ (চেয়ারম্যান)
- বিচারপতি বিজন কুমার মুখার্জী
- বিচারপতি সি.সি. বিশ্বাস
- বিচারপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
- বিচারপতি এস.এ. রহমান।

• কমিশনের চেয়ারম্যান সিরিল র‌্যাডক্লিফের নামানুসারে এই কমিশন রেডক্লিফ কমিশন নামে অধিক পরিচিত।
১২ আগস্ট ১৯৪৭ রেডক্লিফ কমিশন ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর গুরুত্ব প্রদান করে তাদের প্রস্তুতকৃত রিপোর্ট প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড।
.
ইংরেজ শাসনের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে?
  1. ক) লর্ড ক্লাইভ
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) কর্নওয়ালিস
  4. ঘ) লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
ক্লাইভের শাসন ব্যবস্থা
• দীউয়ানী লাভের পর ক্লাইভ এদেশ শাসনের জন্য যে শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন তা দ্বৈত শাসন নামে পরিচিত।
• এ ব্যবস্থায় কোম্পানির হাতে ছিল ‘রাজস্ব-আদায়’ ও ‘দেশ রক্ষার ভার’ আর নবারের হাতে ছিল বিচার ও শাসনের ভার।
• এভাবে ধীরে ধীরে এদেশে ইংরেজ শাসন ব্যবস্থার পথ সুগম হতে থাকে।
ক্লাইভই ছিলেন ইংরেজ শাসনের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পুন্ড্র নগর গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল কোন শতকে?
  1. ক) ৪র্থ - ৭ম শতকে
  2. খ) ৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে
  3. গ) ৬ষ্ঠ - ৮ম শতকে
  4. ঘ) ৬ষ্ঠ - ৭ম শতকে
ব্যাখ্যা
পুন্ড্র জনপদ
• প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
• পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
• সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
• পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল। রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
• ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুন্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুন্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
• পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
.
কত তারিখ ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশের সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ১৯০৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯০৫ সালের ১৫ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৯০৫ সালের ৩০ আগস্ট
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ
• ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
• বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
• ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
• পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
• কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
• লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন কোন শাসক?
  1. ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
• আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময় বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।
• তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন
• আলাউদ্দিন হোসেন শাহের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধরবসু ‘ভগবদ গীতা’, কৃত্তিবাস ‘রামায়ন’ সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
• রামায়ন অনুবাদের জন্য হোসেন শাহ তাঁকে ‘গুনরাজ খাঁ’ উপাধি দেন।
• তাছাড়া কবি মালাধর বসু, মনসা মঙ্গল এর রচিয়তা বিজয় গুপ্ত, মনসা বিজয়ের লেখক বিপ্রদাস অনেকেই তাঁর সহযোগিতা পেয়েছিলেন।
• তাঁর অধীনস্থ চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর নামক জনৈক পন্ডিত বাংলা ভাষায় ‘মহাভারত’ অনুবাদ করেন।
• গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ, মানিকগঞ্জ জেলার নাচাইল মসজিদ, গোমতি ফটক ছাড়া অগণিত মসজিদ, মাদ্রসা, সমাধি ও দূর্গ নির্মাণ করে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
• তিনি ‘বাদশাহী সড়ক’ সহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য অনেক রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মহাস্থানগড়ে রয়েছে -
  1. ক) শাহ সুলতান বলখীর মাজার
  2. খ) পরীবিবির মাজার
  3. গ) শাহ্ মখদুমের মাজার
  4. ঘ) আমানত শাহের মাজার
ব্যাখ্যা
• মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ নগর পুন্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। 
• মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান বলখীর মাজার রয়েছে। 
• সম্রাট অশোকের সময়ের খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি পাওয়া গেছে। 
• স্থানটি বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিমি (৮ মাইল) উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে।

অন্যদিকে, 
• শায়েস্তা খানের কন্যা ছিলেন পরী বিবি। তাঁর আসল নাম ইরান দুখত। পরীবিবির মাজার লালবাগ কেল্লার অভ্যান্তরে দরবারগৃহ থেকে ২৭৫ ফুট পশ্চিমে অবস্থিত।
• হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর মাজার বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।
• শাহ্ মখদুমের মাজার রাজশাহীতে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১০.
প্রাচীন বাংলায় সবচেয়ে নীচু শ্রেণির লোক হিসেবে গণ্য করা হতো কাদের?
  1. ক) বৈশ্য
  2. খ) শূদ্র
  3. গ) ক্ষত্রিয়
  4. ঘ) ব্রাহ্মণ
ব্যাখ্যা
কোনো সমাজে বর্ণপ্রথা একেবারে শুরুতে থাকে না। বাংলা তথা ভারতীয় সমাজে আর্য সংস্কার ও সংস্কৃতির বিস্তার হিসেবেই বর্ণপ্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ - 
• ব্রাহ্মণ - অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম। তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
• ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
• বৈশ্য - ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
শূদ্র - সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় -
  1. ক) ১৯৪১
  2. খ) ১৯৪২ 
  3. গ) ১৯৩৯
  4. ঘ) ১৯৪৪
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড় আন্দোলন, ১৯৪২ 
• ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
• গান্ধী হরিজন পত্রিকায় ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারত ছাড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
• গান্ধীর মনোভাব লক্ষ্য করে কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি ১৯৪২ সালের ১৪ জুলাই গান্ধীর ভারত ছাড়  নীতি অনুমোদন করে। • কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি সিদ্ধন্ত গ্রহন করে যে অবিলম্বে ব্রিটিশ সরকারকে ভারত ছাড়তে হবে নতুবা দেশব্যাপী তারা আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করবে।
• ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২.
কোন শাসকের উপাধি ‘গৌড়েশ্বর’?
  1. ক) হেমন্ত সেন
  2. খ) ধর্মপাল
  3. গ) লক্ষণ সেন
  4. ঘ) গোপাল
ব্যাখ্যা
লক্ষণ সেন
• ৬০ বছর বয়সে লক্ষণ সেন বাংলার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
• তিনি কামরূপ, কলিঙ্গ ও কাশি জয় করেন। তিনি গৌড় জয় করেন।
• সমগ্র বাংলায় নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করার পর লক্ষণ সেন ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি গ্রহণ করেন।
• তাঁর নামানুসারে গৌড়ের রাজধানী লক্ষণাবতী নেওয়া হয়।
• গোপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র ধর্মপাল বাংলার নৃপতি হন। পাল সাম্রাজ্য এবং প্রতিপত্তি বিস্তারে ধর্মপালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি ‘বিক্রমশীলদেব’ উপাধি গ্রহণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ , বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
নিচের কোনটি লর্ড ডালহৌসীর অবদান?
  1. ক) স্বত্ববিলোপ নীতি
  2. খ) ইন্ডিয়ান পেনাল কোড
  3. গ) রবিবার সরকারি অফিসের সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা
  4. ঘ) কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮ -১৮৫৬)
• ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
• ইংল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত যত সাম্রাজ্যবাদী শাসক এ উপমহাদেশে প্রেরণ করেছেন তার মধ্যে লর্ড ডালহৌসী ছিলেন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী।

তার অবদান সমূহ
স্বত্ববিলোপ নীতি ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি। লর্ড ডালহৌসি এই সাম্রাজ্যবাদী নীতিটি প্রবর্তন করেন।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন।
• ১৮৫০ সালে গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেলওয়ে নামক কোম্পানি মুম্বাই থেকে থানা পর্যন্ত ৩৩ কিমি দীর্ঘ রেললাইন স্থাপন করতে থাকে। লাইনটি উদ্বোধন করা হয় ১৬ এপ্রিল ১৮৫৩ সালে। এটিই ছিল ব্রিটিশ ভারতে রেলওয়ের প্রথম যাত্রা। ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি কর্তৃক নির্মিত হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ৩৮ কিমি রেললাইনের উদ্বোধন হয় ১৮৫৪ সালে এবং এর মাধ্যমে চালু হয় বাংলার প্রথম রেললাইন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়। 
• কলকাতা হতে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ও পেনী পোস্টকার্ড ব্যবস্থা চালু করেন।
• তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।

অন্যদিকে,
• বেন্টিঙ্ক লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন ।
• ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম সুপ্রিম কোর্ট।
• লর্ড হার্ডিঞ্জ রবিবার সরকারি অফিসের সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান কোন রাজ বংশ?
  1. ক) মৌর্য
  2. খ) পাল
  3. গ) সেন
  4. ঘ) খিলজি
ব্যাখ্যা
• ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
• পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
• ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। 
• ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৫.
ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) দুদু মিয়া
  3. গ) মীর লতিফ
  4. ঘ) মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজী আন্দোলন ঊনিশ শতকে বাংলায় গড়ে ওঠা একটি সংস্কার আন্দোলন।
• প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
• ফরায়েজী শব্দটি ‘ফরজ’ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কাজেই ফরায়েজী বলতে তাদেরকেই বোঝায় যাদের লক্ষ্য হচ্ছে অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ কার্যকর করা।
• এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ
• তিনি অবশ্য শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, অবশ্য পালনীয়ই হোক বা ঐচ্ছিকই হোক, কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সকল ধর্মীয় কর্তব্যই এর অন্তর্ভুক্ত।
• শরীয়তউল্লাহ হজ্ব পালনের জন্য মক্কায় যান এবং সেখানে বিশ বছর অবস্থান করে হানাফি শাস্ত্রজ্ঞ শেখ তাহির সোম্বলের নিকট ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
• দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান যে, বাংলার মুসলমানদের একটি অংশ বহুবিধ স্থানীয় লোকাচার ও পর্ব-উৎসব পালনে উৎসাহী হয়ে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রতি চরম উদাসীন হয়ে উঠেছেন।
• সে কারণেই তিনি ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন এবং কালক্রমে এ আন্দোলন সমগ্র পূর্ববঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
• ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
• ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬.
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কাকে?
  1. ক) সম্রাট শাহজাহান
  2. খ) সম্রাট বাবর
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
• সম্রাট আকবরের মন্ত্রীসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন- টোডরমল।
সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা
• ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।

আকবরের মন্ত্রীসভা
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আবুল ফজল।
- অর্থমন্ত্রী ছিলেন টোডরমল।
- সেনাপ্রধান ছিলেন মান সিংহ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১৭.
নিচের কোনটি লর্ড ক্যানিং এর অবদান নয়?
  1. ক) ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি চালু
  2. খ) পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু
  3. গ) প্রথম বাজেট ঘোষণা
  4. ঘ) প্রথম কাগজের মুদ্রার প্রচলন
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং (১৮৫৮-১৮৬২)
• ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও  ভাইসরয় ছিলেন।
• ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
• চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে । 
• উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রার প্রচলন করেন ১৮৬১ সালে ।
• উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)
• ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে ‘আর্ল’ (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
• ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। 

অন্যদিকে,
• লর্ড মেয়োর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি চালু হয় ১৮৭২ সালে।
১৮.
বিটা রশ্মির বিকিরণ মূলত - 
  1. ক) প্রোটনের প্রবাহ
  2. খ) ইলেকট্রনের প্রবাহ
  3. গ) নিউট্রনের প্রবাহ
  4. ঘ) মেসনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা
বিটা রশ্মি বা বিটা কণা আসলে ইলেকট্রন।  বিটা রশ্মির বিকিরণ মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

SOURCE: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৯.
তড়িৎ প্রবাহের প্রচলিত দিক কোনটি?
  1. ক) ইলেকট্রন প্রবাহের দিক
  2. খ) ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিক
  3. গ) প্রোটন প্রবাহের দিক
  4. ঘ) প্রোটন প্রবাহের বিপরীত দিক 
ব্যাখ্যা
তড়িৎপ্রবাহের আধান বাহকের ধরন নিরপেক্ষ সংজ্ঞা দিতে ধনাত্মক আধানের প্রবাহের দিককে তড়িৎপ্রবাহের প্রচলিত দিক নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুতরাং,যেসব ধাতুতে আধান বাহক (ইলেকট্রন) ঋণাত্মক হয়, তাতে ইলেকট্রন চলাচলের দিকের বিপরীত দিকটি হয় তড়িৎপ্রবাহের প্রচলিত দিক।

SOURCE: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২০.
আপেক্ষিক রোধের সাথে পরিবাহকত্বের সম্পর্ক কিরূপ?
  1. ক) সমানুপাতিক
  2. খ) ব্যাস্তানুপাতিক
  3. গ) বর্গের সমানুপাতিক
  4. ঘ) বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক রোধ: স্থির তাপমাত্রায় একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল এবং একক দৈর্ঘ্যরে কোনো পরিবাহীর বিপরীত দুই পৃষ্ঠের রোধকে ঐ পরিবাহীর উপাদানের আপেক্ষিক রোধ বলে।

পরিবাহকত্ব: স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পদার্থের একক দৈর্ঘ্যরে এবং একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহিতাকে পরিবাহকত্ব বলে।

আপেক্ষিক রোধের বিপরীত রাশিকে পরিবাহকত্ব বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
পাহাড়ি রাস্তার বিপজ্জনক বাঁকে সমতল দর্পন কত ডিগ্রী কোণে স্থাপন করা হয়?
  1. ক) 30°
  2. খ) 45°
  3. গ) 60°
  4. ঘ) 90°
ব্যাখ্যা

পাহাড়ি রাস্তা গুলো মাঝে মাঝে ৯০° ডিগ্রি কোণে বা তার কাছাকাছি পরিমাণে বেকে যায়।  এতে করে বাঁকের উভয় পাশ থেকে আগত গাড়ি গুলো একটা আরেকটা কে দেখতে পায় না। ফলে পাহাড়ি রাস্তার বাঁক গুলোতে মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। 

এই সমস্যা দূর করতে ৯০ ডিগ্রি কোণের বাঁক গুলোতে ৪৫ ডিগ্রি কোণে সমতল দর্পন স্থাপন করা হয়। এর ফলে বাঁকের উভয় পাশের ড্রাইভার একে অপরকে দর্পনের সাহায্যে দেখতে পায়। তাই পাহাড়ি রাস্তায় দূর্ঘটনা এড়াতে বড় বড় সমতল দর্পন স্হাপন করা হয়।

 SOURCE: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২২.
আলোর কণাতত্ত্বের সাহায্যে কোন ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায় না?
  1. ক) বিচ্ছুরণ
  2. খ) ঋজুগতি
  3. গ) প্রতিফলন
  4. ঘ) প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
কণাতত্ত্ব: 
কোন উজ্জ্বল বস্তু থেকে অনবরত ঝাঁক ঝাঁক অতি ক্ষুদ্র কণা নির্গত হয়। এ কণাগুলো প্রচণ্ড বেগে সরলরেখা বরাবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং যখন আমাদের চোখে গিয়ে আঘাত করে তখন ঐ বস্তু সম্পর্কে আমাদের দর্শানুভূতি হয়। কণাগুলোর বিভিন্ন আকারের জন্য বিভিন্ন বর্ণের সৃষ্টি হয়।
আলোর প্রকৃতি সম্বন্ধে এ তত্ত্ব প্রবর্তন করেন স্যার আইজাক নিউটন ১৬৭২ সালে। 

এই তত্ত্বের সাহায্যে আলোর ঋজুগতি, প্রতিফলন, প্রতিসরণ ইত্যাদি আলোকীয় ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়।
কিন্তু ব্যাতিচার, সমবর্তন, বিচ্ছুরণ ইত্যাদি ঘটনার কোন ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় না।
২৩.
চৌম্বক ফ্লাক্স এর একক কী? 
  1. ক) ক্যান্ডেলা 
  2. খ) লাক্স
  3. গ) ওয়েবার
  4. ঘ) লুমেন
ব্যাখ্যা
চৌম্বক ফ্লাক্স বা চৌম্বক আবেশ:
কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত্ বলরেখার সংখ্যাকে চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্ব বা চৌম্বকক্ষেত্র ভেক্টর বলে।

চৌম্বক ফ্লাক্সের (SI) একক ওয়েবার (Weber) বা সংক্ষেপে (Wb).

জার্মান পদার্থবিদ উইলিয়াম এডুয়ার্ড ওয়েবারের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। 
২৪.
গ্রাডিমিটার কী?
  1. ক) সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র
  2. খ) পানির নিচে মাটি কাটার যন্ত্র
  3. গ) পানির তলায় শব্দ নিরুপণের যন্ত্র
  4. ঘ) পানির তলায় তেলের সঞ্চয় নির্ণায়ক যন্ত্র
ব্যাখ্যা
পানির তলায় তেলের সঞ্চয় নির্ণেয়ের জন্য়  যন্ত্র  = গ্রাডিমিটার।

অপরদিকে 
ফ্যাদোমিটার – সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র
ড্রেজার — পানির নিচে মাটি কাটার যন্ত্র
হাইড্রোফোন — পানির তলায় শব্দ নিরুপণের যন্ত্র
২৫.
বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) ওয়াট-সেকেন্ড
  2. খ) ওয়াট-ঘন্টা
  3. গ) কিলোওয়াট-সেকেন্ড 
  4. ঘ) কিলোওয়াট-ঘন্টা
ব্যাখ্যা
বোর্ড অফ ট্রেড ইউনিট কে সংক্ষেপে ইউনিট বলা হয়। এটি বিদ্যুৎ শক্তি পরিমাপের একক। পদার্থ বিজ্ঞান এ ব্যবহৃত একক 1 কিলোওয়াট/ঘন্টা কে বাণিজ্যিকভাবে হিসেবের সুবিধার্থে 1 ইউনিট বলা হয়। 
এটি বিদ্যুৎ এর বানিজ্যিক ব্যবহারের একক। এটি ইউনিট নামেই বেশ পরিচিত। 
 
SOURCE: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
২৬.
কোন অবস্থায় পদার্থের অণুগুলো সবচেয়ে দূরে দূরে অবস্থান করে?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) তরল
  3. গ) গ্যাসীয়
  4. ঘ) স্ফটিক অবস্থায়
ব্যাখ্যা
যখন কোন পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে, তখন তার অণুগুলো মুক্ত অবস্থায় থাকে, ফলে অণুগুলোর একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

অপরদিকে,
- কঠিন অবস্থায় পদার্থের অণুগুলো কাছাকাছি থাকে, কিন্তু একটি অনু অন্য অণুর সাপেক্ষে নড়তে পারে না।
- তরল অবস্থায় পদার্থের অণুগুলো কাঁপে নিজ অবস্থানে থেকে, কিন্তু স্থান পরিবর্তন করতে পারে না।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
২৭.
তড়িৎ উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয়কে বলে -
  1. ক) লোড শেডিং
  2. খ) সিস্টেম লস
  3. গ) পরিবহন ত্রুটি
  4. ঘ) অবৈধ সংযোগ 
ব্যাখ্যা
সিস্টেম লস
বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপন্ন বিদ্যুৎ শক্তি পরিবাহী তারের সাহায্যে প্রথমে সাব-স্টেশনে এবং সেখান থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য যে পরিবাহী তার ব্যবহার করা হয় এরও কিছু পরিমাণ রোধ আছে। ফলে কিছু পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি তাপে রূপান্তরিত হয়। এ কারণে গ্রাহক পর্যায়ে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ শক্তি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তি অপেক্ষা কম হয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ শক্তি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তি অপেক্ষা কম হয়।

অর্থাৎ বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সময় পরিবাহী তারে যে বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তাকে সিস্টেম লস বলে।

SOURCE:এস  এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২৮.
চোখের দীর্ঘদৃষ্টি ত্রুটি দূর করার জন্য কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) উত্তল
  2. খ) অবতল
  3. গ) টরিক লেন্স
  4. ঘ) বাই-ফোকাল লেন্স
ব্যাখ্যা
চোখের দীর্ঘদৃষ্টির ত্রুটি দূর করার জন্য একটি উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার করতে হবে।
ফলে কাছাকাছি বিন্দু থেকে আসা আলােকরশ্মি চশমার লেন্সে এবং চোখের লেন্সে পর পর দুইবার প্রতিসরিত হওয়ার কারণে ফোকাস দূরত্ব কমে যাবে এবং প্রয়ােজন মতাে অভিসারী হয়ে প্রতিবিম্বটি রেটিনা এর উপরে পড়বে।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান
২৯.
সিরামিক চুম্বক ব্যবহৃত হয় কোনটিতে?
  1. ক) জেনারেটরে
  2. খ) মোটরে
  3. গ) টেপরেকর্ডারে
  4. ঘ) বৈদ্যুতিক পাখায়
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বকঃ কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক
অস্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয় না নিচের কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায়
  2. খ) ক্যান্সার রােগ নিরাময়ে
  3. গ) ঘড়ির কাঁটা ও নম্বর অন্ধকারে জ্বলজ্বল করার কাজে
  4. ঘ) মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:-
ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সব মৌল হতে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।

- পরবর্তীকালে মাদাম কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়ের কুরি ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান যে রেডিয়াম, পােলােনিয়াম, থােরিয়াম, আক্টিনিয়াম প্রভৃতি ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস থেকেও বেকেরেল রশ্মির মত একই ধরনের রশ্মি নির্গত হয়, যা এখন তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত।

ব্যবহার:
১. ক্যান্সার রােগ নিরাময়ের কাজে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়।
২. উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. ঘড়ির কাঁটায় তেজস্ক্রিয় থােরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
৪. তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৫. নির্মাণ বা উৎপাদন শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়।

** মহাকাশে যোগাযোগ স্থাপনে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয় না।

উৎস-  পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
এক্সরে এর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।
  2. খ) সরল পথে গমন করে।
  3. গ) আলোর সমবেগে গমন করে।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
এক্সরের ধর্ম:
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩২.
অভিসারী লেন্স বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) উত্তল লেন্স
  2. খ) অবতল লেন্স
  3. গ) সমতল লেন্স
  4. ঘ) দ্বিঅবতল লেন্স
ব্যাখ্যা
দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দিয়ে সীমাবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে। লেন্স দু-প্রকার।
যথা- উত্তল বা অভিসারী লেন্স এবং অবতল বা অপসারী লেন্স।

লেন্সের ক্ষমতা বলতে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। লেন্সের ক্ষমতার প্রচলিত একক হলো ডায়াপ্টার। এসআই একক হলো রেডিয়ান/মিটার। লেন্সের ক্ষমতার মান ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক উভয় প্রকার হতে পারে। সিমেন্স, লাক্স এবং বেকরেল যথাক্রমে পরিবাহিতা, দীপন ক্ষমতা এবং তেজস্ক্রিয়তার একক।

(সূত্রঃ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩৩.
উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয় কোথায়?
  1. ক)  টর্চ লাইটের রিফ্লেক্টরে
  2. খ) রূপচর্চায়
  3. গ) সৌর চুল্লি নির্মাণে
  4. ঘ) শপিংমলে
ব্যাখ্যা
উত্তল দর্পণ
যে দর্পণের প্রতিফলক পৃষ্ঠ উত্তল তাকে উত্তল দর্পণ বলে। এই দর্পণের উত্তল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের কাজ করে। 
উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সর্বদা ছোট ও সোজা হয়।

উত্তল দর্পণের ব্যবহার:
- বিস্তৃত এলাকা দেখতে দোকান বা শপিংমলে নিরাপত্তার কাজে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়িতে ভিউ মিরর হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়ির পিছনে বিস্তৃত এলাকা ছোট জায়গায় দেখতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- রাস্তার বাতিতে প্রতিফলকরূপে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- প্রতিফলক টেলিস্কোপ তৈরিতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়