পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 12” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ১১ পার্ট-১) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। পার্ট-২) পদার্থের অবস্থা, ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, চৌম্বকত্ব, তরঙ্গ এবং শব্দ, তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক যন্ত্রপাতি, তড়িৎ চৌম্বক, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি। ------------------ পার্ট–১ সোর্স: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
সুলতানা রাজিয়া ছিলেন কার কন্যা?
  1. কুতুবউদ্দিনে কন্যা
  2. ইলতুৎমিশের কন্যা
  3. বাহরামের কন্যা
  4. রুকনউদ্দিনে কন্যা
সঠিক উত্তর:
ইলতুৎমিশের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলতুৎমিশের কন্যা
ব্যাখ্যা
সুলতানা রাজিয়ার সিংহাসন:
- ১২২৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলার বিদ্রোহী শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজির বিদ্রোহ দমন করে,
- সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের জ্যেষ্ঠপুত্র যুবরাজ নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত হন।
- কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ মৃত্যুবরণ করেন।
- সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর সুযোগ্য কন্যা সুলতানা রাজিয়া।
- দূরদর্শী সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর সুযোগ্য কন্যা, বুদ্ধিমতী ও অনন্য প্রতিভার অধিকারী রাজিয়াকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
- ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর তাঁর মনোনয়ন অস্বীকার করে কতিপয় অভিজাত সুলতান পুত্র রুকনউদ্দিন ফিরোজকে সিংহাসনে আরোহণে সহায়তা প্রদান করেন।
- কিন্তু রুকনউদ্দিন ফিরোজ ছিলেন অদক্ষ।
- রুকনউদ্দিনের দুঃশাসনে সাম্রাজ্যের চতুর্দিকে চরম অরাজক পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
- এমতাবস্থায় রানীমাতা শাহ তুরকান শাসন ক্ষমতা হস্তগত করেন।
- রুকনউদ্দিন ফিরোজ এবং রানীমাতা শাহ তুরকানকে দিল্লির উপকণ্ঠে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত করে কারাগারে বন্দি করেন।
- এই ঘটনার পর আমির উমারাহগণ রাজিয়াকে দিল্লির সিংহাসনে আমন্ত্রণ জানান। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৬০ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭০ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• রাজমহল ‍যুদ্ধ:
- আকবর বাংলার বিপর্যয়ের সংবাদ পেয়ে খান-ই-জাহানকে সুবেদার নিযুক্ত করেন।
- তাঁকে বাংলার হৃত ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য পাঠানো হয়।
- খান-ই-জাহান ও টোডরমল তেলিয়াগর্হি অধিকার করেন।
- তারপর মোগল বাহিনী রাজমহলের দিকে এগিয়ে যান।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলে মোগল বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধে হয় দাউদ কররানির।
- এ যুদ্ধে দাউদ পরাজিত ও বন্দি হন।
- পূর্ববর্তীকালে সন্ধি ভঙ্গের অপরাধে দাউদ খান কে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।
- এভাবে কররানি শাসনের অবসান ঘটার পাশাপাশি বাংলার একাংশে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তবে তখনো পূর্ব বাংলায় ঈসা খাঁর নেতৃত্বে বার ভূইয়াদের শাসন চলছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন মোঘল সম্রাট পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন?
  1. শাহজাহান
  2. আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট বাবর
  4. সিরাজউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় বনিক:
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না।
- তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত।
- এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- তাঁরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত।
- এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে।
- পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত।
- অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে উচ্ছেদ করেন।

উল্লেখ্য,
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ,
- আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলার কোন নবাবের উপাধি ছিল 'করতলব খান'?
  1. সরফরাজ খানের
  2. মুর্শিদকুলি খানের
  3. আলীবর্দী খানের
  4. সুজাউদ্দিন খানের
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খানের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খানের
ব্যাখ্যা
মুর্শিদকুলি খান:
- মুর্শিদকুলি খান দক্ষিণ ভারতের একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।
-  হাজী শফী ইস্পাহানী ছিলেন দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান।
- তিনি অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন।
- প্রথমে তার নাম রাখা হয় মুহাম্মদ হাদী।
- রাজস্ব আদায়ের কাজে তাঁর অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত সম্রাট আওরঙ্গজেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- কর্মদক্ষতার গুণে আপ্লুত আওরঙ্গজেব তাঁকে হায়দারাবাদের দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে "করতলব খান" উপাধি প্রদান করেন।
- মুর্শিদকুলি খানের উপাধি "করতলব খান"।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র,  এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পলাশীর প্রান্তরে নবাবের পক্ষে প্রাণপণ দেশ প্রেমিকের মত যুদ্ধ করেন কে?
  1. রায়দুর্লভ
  2. মীরজাফর
  3. মোহন লাল
  4. ইয়ার লতিফ
সঠিক উত্তর:
মোহন লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহন লাল
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ:
- বিশ্বাসঘাতকতা, জালিয়াতি, স্বার্থপরতা ও দেশদ্রোহিতার নিকৃষ্ট এক উদাহরণ সৃষ্টির উপলক্ষ হয়ে এসেছিল পলাশী যুদ্ধ।
- বাংলার ইতিহাসে এখনও নেতিবাচক কোনো অধ্যায় বলতে এই পলাশী যুদ্ধকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- ক্লাইভ নবাবের বিরুদ্ধে সন্ধি ভঙ্গের মিথ্যা অজুহাতে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
- নবাব আগে থেকেই ইংরেজদের দুরভিসন্ধি এবং তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।
- এ কারণে তিনি ৫০টি কামানসহ ৫০ হাজার পদাতিক ও ১৮ হাজার অশ্বারোহী সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করেন।
- নবাব তার বাহিনী মুর্শিদাবাদের ২৩ মাইল দক্ষিণে ভাগীরথী নদীর তীরে মোতায়েনের আদেশ দেন।
- অন্যদিকে ক্লাইভ ৮টি কামানসহ ১০০০ জন ইউরোপীয় ও ২০০০ জন দেশীয় সৈন্যসহ পলাশীর আমবাগানে অবস্থান গ্রহণ করে।
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে বাংলার ইতিহাস নতুন করে লিখতে হয়েছিল।
- বিশেষত এই লড়াই যতটা না যুদ্ধ ছিল তার থেকে অনেকাংশেই নবাবের ভাগ্য পরীক্ষা হয় যুদ্ধক্ষেত্রে।
- মীর মদন ও মোহন লাল নবাবের পক্ষে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- কিন্তু সেনাপতি মীরজাফর ও রায়দুর্লভ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সেনাদল নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকেন।
- মীরমদন যুদ্ধ ক্ষেত্রে গোলার আঘাতে শহীদ হন।
- এদিকে মোহনলালের বীর বিক্রমে লড়াই ধীরে ধীরে ইংরেজদের বিপক্ষে চলে যায়।
- এ সময় মীরজাফরের কুপরামর্শে যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়া হয়।

অপরদিকে,
- রায়দুর্লভ , মীরজাফর নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকা করে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র,  এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে বাংলায় কত লোক মারা যায়?
  1. এক চতুর্থাংশ
  2. এক তৃতীয়াংশ
  3. এক পঞ্চমাংশ
  4. দুই তৃতীয়াংশ
সঠিক উত্তর:
এক তৃতীয়াংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা
- এক-তৃতীয়াংশ লোক মারা  যায়।

• 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- দিউয়ানি ও দ্বৈত শাসনের চূড়ান্ত পরিণাম ছিল বাংলায় 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের' ধ্বংসলীলা।
- একদিকে দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অন্যদিকে অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়।
- পরপর দু'বছর অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় এক প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়।
- টাকায় একমণ হতে চাউলের মূল্য বাড়তে বাড়তে টাকায় তিন সেরে এসে দাঁড়ালো।
- খোলাবাজারের খাদ্যশস্য বেশি লাভের আশায় কোম্পানির কর্মচারীরা মজুদ করা শুরু করে।
- খাদ্যের অভাবে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল।
- এই সময়েও খাজনা মওকুফ করা হয় নি।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী'- উক্তিটি কার?
  1. দুদু মিয়া
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. তিতুমীর
  4. হাজী শরীয়তউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
• দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- দুদু মিয়া ঘোষণা করেন, “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি”।

অপরদিকে,
- হাজী শরীয়তুল্লাহ একটি ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন।
- আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে ফরজ বলা হয়।
- শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের স্থানীয় লোকাচার পালনের বিরোধী ছিলেন।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে।
- অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে কার্যকর করতে হাজী শরিয়তউল্লাহ ফরায়েজি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
.
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম কী?
  1. ময়নামতি
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. সুবর্ণগ্রাম
  4. চন্দ্রদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- পাহাড়পুরের মত এখানেও বৌদ্ধ এবং হিন্দু সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে মহাস্থানগড়ই সর্বাধিক প্রাচীন।
- অবস্থান: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ নগরী পুন্ড্রনগরের অবস্থান।
- ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পুন্ড্রনগরই হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- এর পূর্বদিকে করতোয়া নদী প্রবাহিত।
- প্রাচীন এ সভ্যতাটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত।
- উৎপত্তি: খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে মহাস্থান ব্রাহ্মলিপিতে 'পুন্দনগল' এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, এ পুন্দনগলই হচ্ছে প্রাচীন পুঞ্জের রাজধানী পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি ও চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং- এর বর্ণনায় পুণ্ড্রনগরের উল্লেখ আছে।
- হিউয়েন সাং- এর বর্ণনা থেকেই আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে মহাস্থানকে পুণ্ড্রনগর বলে চিহ্নিত করেন।
- মহাস্থানগড়ের প্রাচীনতম নাম 'পুণ্ড্রনগর'।

অপরদিকে,
- চন্দ্রদ্বীপ বাংলাদেশের বরিশাল জেলার একটি ছোট অঞ্চল।
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সোনারগাঁও-এর প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, ‍উন্মু্ক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কত খ্রিস্টাব্দে মসনদে বসেন?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৭৫৪ সালে
  3. ১৭৫৬ সালে
  4. ১৭৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
• সিরাজউদ্দৌলা:
- আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র ছিল না।
- তার তিন কন্যা আমেনা, ময়মুনা ও ঘষেটি ।
- ময়মুনা ও আমেনার দুই পুত্র ছিল।
- কিন্তু ঘষেটি বেগমের কোনো পুত্র ছিল না।
- আলীবর্দী খান আমেনার পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।
- এ কারণে তাঁকেই তাঁর জীবিতকালে বাংলার নবাব পদে মনোনীত করে যান।
- সিরাজ ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর পিতার নাম মির্জা মুহম্মদ হাসিম মইনুদ্দীন খান।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হয়।
- তখন ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
বঙ্গভঙ্গের পর কাকে নতুন প্রদেশের গভর্ণর নিযুক্ত করা হয়?
  1. লর্ড কার্জন
  2. স্যার এন্ড্রু ফ্রেজার
  3. স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. উইলিয়াম হান্টার
সঠিক উত্তর:
স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভঙ্গ:
- বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি। 
- কলকাতা ছিল এর রাজধানী।
- এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়।
- সৃষ্টি হয় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও আসামকে নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে' এক নতুন প্রদেশ।
- এবং এর রাজধানী হয় ঢাকা।
- নতুন প্রদেশের আয়তন ছিল ১,০৬,৫০৪, বর্গমাইল। 
- লর্ড কার্জন ঢাকাকে প্রশাসনিক কেন্দ্র ঘোষণা করেন।
- এবং স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার গভর্নর নিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গভঙ্গের পরবর্তী সময়ে নতুন প্রদেশে হাইকোর্ট ভবন, আইন পরিষদ ভবন ইত্যাদি গড়ে উঠে।
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেকে দিল্লির দরবারে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
অন্ধকূপ হত্যা কাহিনী কার তৈরি?
  1. কর্ণওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. মীর জাফর
  4. জে.জেড হলওয়েল
সঠিক উত্তর:
জে.জেড হলওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জে.জেড হলওয়েল
ব্যাখ্যা
→ অন্ধকূপ হত্যা কাহিনী  তৈরি জে.জেড হলওয়েল।

• অন্ধকূপ হত্যা:
- অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের ২০ জুন কথিত ঘটনা।
- তখন বাংলার নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখল করে।
- মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েল।
- তার কথিত বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয় এটি।
- তখন প্রায় পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় নি।
- হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া গ্রন্থে- ১৮৫৮ সালে জেমস মিলের  আলোকপাত করেন।
- এর থেকে এটি ব্যাপকহারে আলোচিত হয়।
- বর্তমানে অন্ধকূপ হত্যা কাহিনীর বেশির ভাগই অসত্য এবং অতিরঞ্জিত বলে মনে করা হয়।
- এই অন্ধকূপ হত্যা কাহিনী  তৈরি জে.জেড হলওয়েল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার সময় শুয়ে পড়লে চাপ কম হয়, কারণ- 
  1. ওজন কমে যায়
  2. ঘর্ষণ বেড়ে যায়
  3. বালির ঘনত্ব বেড়ে যায়
  4. ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়
সঠিক উত্তর:
ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
চাপ (Pressure): 
- যখন একটা পাথরকে এক হাতে দিয়ে বা দুই হাতে দিয়ে অথবা সারা শরীর দিয়ে ঠেলা হয়, তখন প্রত্যেকবার সমান পরিমাণ বল প্রয়োগ করলেও চাপ কিন্তু ভিন্ন হয়। 
- প্রথম ক্ষেত্রে যদি প্রয়োগকৃত বল F এবং হাতের তালুর ক্ষেত্রফল A হয়, তাহলে চাপ P হচ্ছে, 
• P = F/A 
- কাজেই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দুই হাত ব্যবহার করায় বল প্রয়োগকারী ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ বেড়ে যাবে বলে চাপ অর্ধেক হয়ে যাবে, তৃতীয় ক্ষেত্রে সারা শরীর ব্যবহার করে বল প্রয়োগ করায় বল প্রয়োগকারী ক্ষেত্রফল আরো বেড়ে যাবে; তাই চাপ আরো কমে যাবে। 
- চাপের একক হচ্ছে N/m2 । 
- চাপের এককের আরেক নাম প্যাসকেল (Pa), 1 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ করলে 1 Pa (1 প্যাসকেল) চাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- চাপের মাত্রা হচ্ছে [P] = ML-1T-2  । 
- বল একটি ভেক্টর কিন্তু চাপ একটি স্কেলার রাশি। 
- চাপ স্কেলার হওয়ার কারণে এর কোনো দিক নেই। এটি খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ চাপ ধারণাটি কঠিন পদার্থ থেকে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে। তরল বা বায়বীয় পদার্থ যখন চাপ প্রয়োগ করে তখন আসলে সেটি দিকের উপর নির্ভর করে না। 
- একজন ব্যক্তি শুয়ে থাকা অবস্থায় চাপ অনেক কম দেয়। এজন্য মানুষ যখন চোরাবালিতে পড়ে, তখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য সবসময় শুয়ে পড়তে হয় যেন সে অনেক কম চাপ দেয় এবং চোরাবালিতে সহজে ডুবে না যায়। 
- আবার, বল প্রয়োগ করার অংশটুকুর ক্ষেত্রফল যদি কম হয়, তাহলে চাপ বেড়ে যায়। 
যেমন- একটি পেরেকের সুচালো মুখের ক্ষেত্রফল খুবই কম, তাই এটি যখন কাঠ বা দেয়ালে স্পর্শ করে পেছনের চওড়া মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়, তখন বলটি সুচালো মাথা দিয়ে কাঠ বা দেয়ালে চাপ দেয়। সুচালো মাথার ক্ষেত্রফল যেহেতু খুবই কম তাই চাপটি খুবই বেশি এবং অনায়াসে পেরেক কাঠ বা দেয়ালে ঢুকে যেতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
নিচের কোন পদার্থের ঘনত্ব বেশি?
  1. পানি
  2. পারদ
  3. কাচ
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ
ব্যাখ্যা
- অপশনে উল্লেখিত পদার্থগুলোর মধ্যে 'পারদ'-এর ঘনত্ব বেশি যা প্রায় 13.6 gm/cc

ঘনত্ব (Density): 
- তরল এবং বায়বীয় পদার্থের চাপ বোঝার আগে ঘনত্ব সম্পর্কে ধারণাটি অনেক স্পষ্ট থাকা দরকার। 
- ঘনত্ব হচ্ছে একক আয়তনে ভরের পরিমাণ। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তুর ভর যদি m এবং আয়তন V হয় তাহলে তার ঘনত্ব, 
• ρ = m/V 
- ঘনত্বের একক = kg/m3 অথবা gm/cc.
- ঘনত্বের মাত্রা [P] = ML-3  । 
- তাপমাত্রা বাড়লে কিংবা কমলে পদার্থের আয়তন বাড়বে কিংবা কমতে পারে। যেহেতু ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না তাই পদার্থের ঘনত্ব তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তন হতে পারে। 
- সেজন্য পদার্থের ঘনত্বের কথা বলতে হলে সাধারণত সেটি কোন তাপমাত্রায় মাপা হয়েছে সেটিও বলে দিতে হয়। 
- নিচে কয়েকটি পদার্থের ঘনত্ব দেওয়া হলো- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪.
শব্দ সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
  1. বস্তুর কম্পন
  2. বস্তুর প্রসারণ
  3. মাধ্যমের প্রসারণ
  4. মাধ্যমের সংকোচন
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পন
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে।
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে কানে প্রবেশ করে।
- কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
যেমন- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
যদি ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা সমান হয়, তাহলে কী হয়? 
  1. ভোল্টেজ কমে যায়
  2. ভোল্টেজ দশ গুণ বাড়ে
  3. ভোল্টেজ দশ গুণ কমে
  4. প্রাইমারি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি ভোল্টেজের সমান হয়
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি ভোল্টেজের সমান হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাইমারি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি ভোল্টেজের সমান হয়
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার: 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- তড়িচ্চালক শক্তি বা EMF পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়। 
- যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- ট্রান্সফরমারের দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। 
- ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। 
- বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 

স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। 
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 

স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬.
হিলিয়াম ভর্তি বেলুন বাতাসে উপরে উঠে যায়, কারণ- 
  1. হিলিয়াম বিস্ফোরণযোগ্য গ্যাস
  2. হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
  3. হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে বেশি
  4. হিলিয়াম গ্যাসের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্বের সমান
সঠিক উত্তর:
হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V.
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক হচ্ছে কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার বা কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kgm-3)। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা [ρ] = ML-3 পাওয়া যায় । 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
-  পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 

দৈনন্দিন জীবনে ঘনত্বের ব্যবহার: 
- দেহের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে বেশি বলে মাটিতে হাটতে, বসতে বা চলাফেরা করা যায়। পানিতে ভাসার ক্ষেত্রে দেহের অভ্যন্তরের বাতাস সহায়তা করে। বাতাসের ঘনত্ব পানির ঘনত্ব থেকে কম। নৌকা, ভেলা, পানিতে ভাসমান দ্রব্য নির্মাণে পানি থেকে কম ঘনত্ব সম্পন্ন বস্তু ব্যবহৃত হয় বা এমন কৌশল ব্যবহৃত হয় যাতে ভাসমান বস্তুকে পানি থেকে হালকা করে দেয়। 
- বেলুন ওড়ানোর জন্য এর মধ্যে হিলিয়াম গ্যাস পূর্ণ করা হয়। হিলিয়াম গ্যাসের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে কম তাই বেলুন বাতাসের মধ্যে উপরে উঠে যায়। 
- কার্বন মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস, এর মধ্যে শ্বাস নেয়া যায় না। কিন্তু এরা অক্সিজেন, নাইট্রোজেন থেকে ভারি বলে বায়ুমণ্ডলের একেবারে নিচে অবস্থান করে, ফলে বায়ুতে স্বচ্ছন্দে শ্বাস নেওয়া যায়। 
- পানি থেকে পানির বাষ্প বা গরম বাতাসের ঘনত্ব কম বলে খাবার রান্না করার সময় বা তপ্ত খাবার ঠান্ডা করার জন্য পাত্রের মুখ খোলা রাখা হয়। 
- জলীয় বাষ্প কম ঘনত্বের কারণে আকাশে উঠে, যা মেঘের সৃষ্টি করে। আবার, বায়ুমণ্ডলের বাতাস থেকে পানির ঘনত্ব বেশি বলে বৃষ্টির পানি পৃথিবী পৃষ্ঠে নেমে আসে। তাপের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের বাতাসের ঘনত্বের তারতম্য হয় বলেই পৃথিবীতে বায়ু প্রবাহ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যম দিয়ে আলো কোন প্রক্রিয়ায় চলে? 
  1. বিচ্ছুরণ
  2. অপবর্তন
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. ব্যতিচার
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে বিকিরণআলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৮.
জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য কোন যন্ত্র আবিষ্কার করেন? 
  1. টেলিস্কোপ
  2. ক্রেস্কোগ্রাফ
  3. ব্যারোমিটার
  4. স্পেকট্রোমিটার
সঠিক উত্তর:
ক্রেস্কোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রেস্কোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
জগদীশচন্দ্র বসুর অবদান: 
- আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু একদিকে ছিলেন একজন প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী; অন্যদিকে একজন সফল জীববিজ্ঞানী। 
- এই উপমহাদেশে তিনি ছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া একজন বিজ্ঞানী। জগদীশচন্দ্র বসুর পূর্বপুরুষেরা থাকতেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে।
- তার জন্ম হয় 1858 সালের 30 নভেম্বর, ময়মনসিংহে।
- তার বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ফরিদপুর জেলার একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তার লেখাপড়া শুরু হয় ফরিদপুরের গ্রামীণ বিদ্যালয়ে, পরে কলকাতায় হেয়ার স্কুল এবং সেন্ট জেভিয়ার স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন। 1880 সালে বিএ পাস করার পর তিনি ইংল্যান্ড যান এবং 1880-1884 সালের ভেতরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সসহ বিএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। 
- 1885 সালে মাতৃভূমিতে ফিরে এসে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। সেই যুগে তার কলেজে গবেষণার তেমন কোনো সুযোগ ছিল না, তার পরও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান। দিনের বেলায় তার নানারকম ব্যস্ততা ছিল। তাই গবেষণার কাজ করতেন রাতের বেলায়। 

- বৈদ্যুতিক তার ছাড়া কীভাবে দূরে রেডিও সংকেত পাঠানো যায় এ বিষয়ে তিনি অনেক গবেষণা করেন। 1895 সালে তিনি প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। 
- মাইক্রোওয়েভ গবেষণার ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান আছে, তিনিই প্রথম বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে (প্রায় 5 মিলিমিটার) নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। 
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেতকে শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কারিগরি, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান "ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE)" তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে। 

- পরবর্তী সময়ে জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। এর মাঝে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ আবিষ্কার, খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত এবং বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আগে ধারণা করা হতো উদ্দীপকের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি হচ্ছে রাসায়নিক, কিন্তু তিনি দেখিয়েছিলেন এটি আসলে বৈদ্যুতিক। 
- 1917 সালে উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু বাংলায় লেখা রচনাবলি 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হচ্ছে "Response in the living and nonliving". 
- 1937 সালের 23 নভেম্বর জ্ঞানতাপস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ পরিমাপ করা যায়? 
  1. স্ক্রু গজ
  2. স্ফেরোমিটার
  3. স্লাইড ক্যালিপার্স
  4. ভার্নিয়ার স্কেল
সঠিক উত্তর:
স্ফেরোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ফেরোমিটার
ব্যাখ্যা
স্ফেরোমিটার (Spherometer): 
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার। 
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- এটি তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়। 
- বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে, 
R = {(d2/6h) + (h/2)}
​যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা। 

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে। এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২০.
বাতাসের চাপ বাড়লে টরিসেলির ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা- 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অর্ধেক হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
ব্যাখ্যা
টরিসেলির পরীক্ষা: 
- বিজ্ঞানী টরিসেলি 1643 সালে পারদ ব্যবহার করে বাতাসের চাপের পরীক্ষাটি করেছিলেন। 
- তিনি অবশ্য মুখ দিয়ে পারদকে একটি নল বেয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করেননি, তিনি এক মুখ বন্ধ একটা নলের ভেতর পারদ ভরে, নলটি পারদ ভরা একটা পাত্রে উল্টো করে রেখেছিলেন। 

- পারদের উচ্চতা নামতে নামতে ঠিক 76 cm এসে থেমে গেল। 
- চুমুক দিয়ে খাওয়ার সময় মুখের ভেতরে যে শূন্যতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, কাচের নলের উপরে ঠিক সেই শূন্যতা তৈরি হয়। 
- বাতাস পারদের উপরে চাপ দেয় এবং সেই চাপ তরলের সব জায়গায় সঞ্চালিত হয়ে নলের নিচেও আসে। 
- নলের উপরে কোনো ফুটো নেই, তাই সেদিক দিয়ে বাতাস চাপ দিতে পারছে না। কাজেই সমতা আনার জন্য নলের নিচে এক মাত্র চাপ হচ্ছে 76 cm উচু পারদ স্তম্ভের ওজনের কারণে তৈরি হওয়া চাপ। 
- বাতাসের চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার এবং টরিসেলির এই পদ্ধতি দিয়ে তৈরি ব্যারোমিটারে এখনো বাতাসের চাপ মাপা হয়। বাতাসের চাপ বাড়লে পারদের উচ্চতা 76 cm থেকে বেশি হয়, চাপ কমলে উচ্চতা 76 cm থেকে কমে যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১.
তেজস্ক্রিয়তা কোনভাবে প্রভাবিত হয় না?
  1. তাপ
  2. চাপ
  3. চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলো পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মি বিকিরণ করে, এই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
যেমিন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় "বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: 
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: 
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়- 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
দূরত্বের এস.আই (S.I) একক কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? 
  1. নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দিয়ে
  2. নির্দিষ্ট পদার্থের প্রসারণ দিয়ে
  3. আলো বাতাসশূন্য স্থানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাত্রা করা দূরত্ব দিয়ে
  4. সিজিয়াম পরমাণুর কম্পনের উপর ভিত্তি করে
সঠিক উত্তর:
আলো বাতাসশূন্য স্থানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাত্রা করা দূরত্ব দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো বাতাসশূন্য স্থানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাত্রা করা দূরত্ব দিয়ে
ব্যাখ্যা
এস.আই (S.I) এর মৌলিক একক সমূহ: 
- মৌলিক রাশির একক সমূহ অন্য কোনো এককের উপর নির্ভর করে না, তাই মৌলিক একক ইচ্ছামত নির্বাচন করা যায়। 
- তবে নির্বাচিত এককগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং এই এককগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। 
- এটি হবে অপরিবর্তনীয় অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কোন কিছুর উপর নির্ভর করবে না। কালের বিবর্তনে বা অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এর কোন পরিবর্তন হবে না। 
- ১৯৬০ সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর সময় মৌলিক এককগুলোর যে আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করা হয়েছিল পরবর্তীকালে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের লক্ষ্যে এদের মধ্যে অনেক এককের আদর্শ বদল করা হয়েছে কিন্তু তাতে এককগুলোর মানের কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি। 
যেমন- ১৯০০ সালে ট্রপিক্যাল বৎসরের উপর ভিত্তি করে সময়ের একক সেকেন্ড এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিজিয়াম পরমাণুর পারমাণবিক পরিবৃত্তির উপর ভিত্তি করে সেকেন্ডের সংজ্ঞা প্রণয়ন করা হয়েছে। 

- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলোর জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ নিম্নে বর্ণনা করা হল- 
১। দৈর্ঘ্যের একক: মিটার 
- বায়ুশূন্য স্থানে আলো ১/২৯৯,৭৯২,৪৫৮ সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, সে দূরত্ব কে ১ মিটার (m) বলা হয়। 
২।  ভরের একক: কিলোগ্রাম 
- ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস এন্ড মেজারস্ এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি একটি সিলিন্ডারের ভরকে ১ কিলোগ্রাম (kg) বলে। 
- এই সিলিন্ডারটির উচ্চতা ও ব্যাস উভয়েই ৩.৯cm  । 
৩। সময়ের একক: সেকেন্ড 
- একটি সিজিয়াম পরমানুর (১৩৩Cs) ৯,১৯২,৬৩১,৭৭০ টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময়ের প্রয়োজন হয় তাকে ১ সেকেন্ড (s) বলে। 
৪। তাপমাত্রার একক: কেলভিন 
- ১ পানির ত্রৈধ বিন্দুর (triple point) তাপমাত্রার ১/২৭৩.১৬ ভাগকে ১ কেলভিন (K) বলে। 
৫। তড়িৎ প্রবাহের একক: অ্যাম্পিয়ার 
- শূন্য মাধ্যমে ১মিটার দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষনীয় প্রস্থচ্ছেদের দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎপ্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে ২×১০-৭ N নিউটন বল উৎপন্ন হয় তাকে ১ অ্যাম্পিয়ার (ampere) বলে। 
৬। দীপন তীব্রতার একক: ক্যান্ডেলা 
- ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে ৫৪০×১০১২ হার্জ কম্পাঙ্কের এক ১ বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরোডিয়ান ঘনকোণে ১/৮৬৩ ওয়াট। 
৭। পদার্থের পরিমাণের একক: মোল 
- যে পরিমাণ পদার্থে ০.০১২ কিলোগ্রাম কার্বন-১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট (যেমন পরমাণু, অণু, আয়ন, ইলেকট্রন ইত্যাদি বা এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ) থাকে তাকে ১ মোল বলে। 



উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।