পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
Exam - 63 Bangla : Topic: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। (লেখকদের জীবনী, গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তারিত, ছদ্মনাম, উপাধী ইত্যাদি)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হিন্দুমেলার উপহার’ কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. পূর্ণিমা
  2. ভারতী
  3. অমৃতবাজার
  4. থিয়েটার
সঠিক উত্তর:
অমৃতবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃতবাজার
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হিন্দুমেলার উপহার’ কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকা-তে প্রকাশিত হয়।
-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের ছিলেন।
- তিনি আট বছর বয়স থেকে কবিতা রচনা শুরু করেন।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর 'হিন্দুমেলার উপহার' কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকা-তে প্রকাশিত হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতা হলো—
• গীতাঞ্জলি (যার জন্য তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল পান),
• সোনার তরী,
• ঐকতান,
• প্রাণ,
• বৃক্ষ,
• আষাঢ়,
• ১৪০০ সাল,
• যেতে নাহি দিব,
• দুই পাখি,
• নিরুদ্দেশ যাত্রা,
• মানষী,
• হঠাৎ দেখা,
• দান,
• দুই বিঘা জমি।
----------------------
উল্লেখ্য,
• পূর্ণিমা- বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা।
• ভারতী- দিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা।
• থিয়েটার- রামেন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
কাজী নজরুল ইসলাম অভিনীত চলচ্চিত্রের নাম কী ছিল?
  1. ধ্রুব
  2. গোরা
  3. পাতালপুরী 
  4. চৌরঙ্গী 
সঠিক উত্তর:
ধ্রুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্রুব
ব্যাখ্যা

নজরুল অভিনীত চলচ্চিত্রের নাম ছিল- 'ধ্রুব'। 
-----------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অগ্রগামী ও প্রগতিশীল ভাবনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কৈশোরে থিয়েটার ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন। 
- পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবিতা ও সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় মানুষের প্রতি অন্যায়, সামাজিক শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূলভাব হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

- নজরুল বাংলা কাব্যে নতুন ধারার জন্ম দেন, ইসলামী সঙ্গীত (গজল), শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতির মাধ্যমে।
- তিনি প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন, যেগুলো নজরুল গীতি নামে পরিচিত।
- তিনি মধ্যবয়সে পিক্স ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে সাহিত্যচর্চা ও মানসিক ভারসাম্য হারান।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে ঢাকা আসেন নজরুল  এবং এখানেই তিনি ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।

• তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ — যুগবাণী (যা নিষিদ্ধ হয়েছিল) ও রাজবন্দীর জবানবন্দী।
------------------------
'ধ্রুব' চলচ্চিত্র:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩৪ সালে নির্মিত  ধ্রুব চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
- এটি ছিল তাঁর একমাত্র অভিনীত সিনেমা।
- তিনি এ ছায়াছবিতে নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
- নজরুল ‘ধ্রুব’ ছায়াছবির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও গান রচনা, সুরারোপ, সঙ্গীত পরিচালনা করেন।
- তাছাড়া তিনি এ ছায়াছবিতে চারটি গানে অংশ নেন।
- এ ছায়াছবির কাহিনি রচনা করেন নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- পাইওনিয়র ফিল্মের ব্যানারে ছবিটি ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি কলকাতার ক্রাউন টকি হাউজে মুক্তি পায়।
------------------------ 
উল্লেখ্য, 
- কাজী নজরুল ইসলাম- গোরা, পাতালপুরী, চৌরঙ্গী চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর; 
জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে ডি.লিট উপাধি প্রদান করে? 
  1. ১৯২৩ সালে 
  2. ১৯৩৪ সালে 
  3. ১৯৩৬ সালে 
  4. ১৯৪১ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬ সালে 
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর শিক্ষাজীবন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
- কর্মজীবনে বিভিন্ন চাকরি, সন্ন্যাসজীবন ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাহিত্যই ছিল তাঁর প্রধান পরিচয়।

- ‘বড়দিদি’ উপন্যাসের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা হয়।
- তাঁর লেখায় গ্রামীণ সমাজ, সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার এবং বিশেষভাবে নারীর প্রতি অবহেলা ও যন্ত্রণার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- সহজ ভাষা ও শক্তিশালী কাহিনির জন্য তাঁর সাহিত্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

- শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘মন্দির’—এর জন্য তিনি কুন্তলিন পুরস্কার লাভ করেন।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প—
- মহেশ,
- অভাগীর স্বর্গ,
- বিলাসী। 

- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘বড়দিদি’।
- অন্যান্য প্রসিদ্ধ উপন্যাস—
- শ্রীকান্ত,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- পথের দাবী,
- দেনা-পাওনা,
- শেষের পরিচয়। 

- তাঁর বহু উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শুধু সাহিত্যেই নয়, চিত্রকলাতেও পারদর্শী ছিলেন।
- বার্মায় অবস্থানকালে তাঁর আঁকা ‘মহাশ্বেতা’ নামের অয়েল পেইন্টিংটি একটি উল্লেখযোগ্য ও বিখ্যাত শিল্পকর্ম হিসেবে পরিচিত।

- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হলেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রভাব ও মর্যাদা আজও অম্লান।

.
“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।” উক্তিটি কোন উপন্যাসের সংলাপ?
  1. আনন্দমঠ
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কপালকুণ্ডলা 
  4. রাজসিংহ
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা 
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমের রোমান্টিক উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা, যার বিখ্যাত উক্তি —
- ‘তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।' 
 -“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।”
-----------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কানালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম কমলাকান্ত।
- তাঁর উপাধি — বাংলার স্কট, সাহিত্যসম্রাট, এবং আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকায় কবিতা রচনার মাধ্যমে সাহিত্যের চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৮৯৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস Rajmohan’s Wife (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।

- তাঁর উপন্যাসগুলি হলো —
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাধারাণী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- ইন্দিরা এবং
- বিষবৃক্ষ।
------------------------------ 
‘কপালকুণ্ডলা’ সম্পর্কিত কিছু আলোচনা-
- “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।” এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। 
- সংলাপটি কপালকুণ্ডলা উপন্যাস থেকে নেয়া। 

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬) একটি রোমান্টিক ট্র্যাজেডি। 
- উপন্যাসটি অরণ্যচারিণী কপালকুণ্ডলা ও তার স্বামী নবকুমারের সংসার ও সমাজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ঘিরে আবর্তিত।
- উপন্যাসে প্রকৃতির স্বাধীনতা বনাম সমাজের কঠোর নিয়ম, নিয়তি, রহস্যময়তা ও নারী চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে।
- প্রধান চরিত্র: কপালকুণ্ডলা (মৃন্ময়ী), নবকুমার, কাপালিক এবং মতিবিবি।
- গল্পে কপালকুণ্ডলার প্রকৃতি-নির্ভর জীবন ও সমাজের ছকবাঁধা জীবন, নিয়তির প্রভাব, রহস্যময়তার রোমান্টিকতা এবং নারী মনস্তত্ত্বের সংঘাত প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া

.
"কুড়ানি" রবিঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. কাবুলিওয়ালা 
  2. মাল্যদান
  3. পোস্টমাস্টার 
  4. ব্যবধান
সঠিক উত্তর:
মাল্যদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাল্যদান
ব্যাখ্যা

- কুড়ানি- 'মাল্যদান' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। 
------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাকে "গুরুদেব", "কবিগুরু" ও "বিশ্বকবি" বলা হয়।  
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি-এর ইংরেজি অনুবাদের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

• রবিঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প:
- নষ্টনীড়,
- একরাত্রি,
- সমাপ্তি,,
- পোস্টমাস্টার,
- ব্যবধান,
- হৈমন্তী,
- অতিথি,
- খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন,
- মাল্যদান,
- ফেল,
- কাবুলিওয়ালা
-------------------------- 
• 'মাল্যদান' গল্প নিয়ে কিছু কথা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মাল্যদান’ একটি করুণ ও রোমান্টিক ছোটগল্প। 
- গল্পটি কলকাতার প্লেগ মহামারীর প্রেক্ষাপটে রচিত।
- 'মাল্যদান' গল্পের চরিত্রগুলো হলো- কুড়ানি, যতিন।  

- গল্পের কেন্দ্রবিন্দু কুড়িয়ে পাওয়া বালিকা কুড়ানি-র নিঃস্বার্থ প্রেম এবং তার করুণ পরিণতি।
- কুড়ানি সরল ও নিষ্পাপ হলেও ধীরে ধীরে তার হৃদয়ে নারীর প্রেম জাগ্রত হয়।
- প্লেগ মহামারী ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে তার প্রেমের পূর্ণতা ঘটে না। 
- কুড়ানির ট্রাজিক মৃত্যু পাঠককে গভীর বেদনায় মুগ্ধ করে।
---------------
অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোটগল্প ‘কাবুলিওয়ালা’-র প্রধান চরিত্রগুলো—
- কাবুলিওয়ালা (রহমত), ছোট্ট মেয়ে মিনি, মিনির বাবা (কথক) এবং মিনির মা।

- রবি ঠাকুরের 'পোস্টমাস্টার' ছোট গল্পের চরিত্র-
- পোস্টমাস্টার ও রতন।

- 'ব্যবধান' গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অনাথ ও কুসুম।

উৎস:
'মাল্যদান' গল্প; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ বিপ্লবী বারীন্দ্র কুমার ঘোষকে উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. অগ্নিবীণা
  2. দোলন-চাঁপা 
  3. বিষের বাঁশী 
  4. সাম্যবাদী 
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

‘অগ্নিবীণা’ গ্রন্থটি নজরুল তার বিপ্লবী বন্ধু বিপ্লবী বারীন্দ্র কুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছিলেন।
------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো- 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- সন্ধ্যা, 
- জিঞ্জির, 
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।
-------------------------------------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্য নিয়ে কিছু কথা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা হলো বিদ্রোহী, যার জন্য মূলত তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।
- কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হলো প্রলয়োল্লাস।
- নজরুল তাঁর কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।

- অগ্নিবীণা তে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। এগুলো হলো:
• প্রলয়োল্লাস, 
• বিদ্রোহী,
• রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
• আগমণী,
• ধূমকেতু,
• কামাল পাশা,
• আনোয়ার,
• রণভেরী,
• শাত-ইল-আরব,
• খেয়াপারের তরণী,
• কোরবানী,
• মহররম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
বাংলাপিডিয়া। 

.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বসন্ত' গীতিনাট্যটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বসন্ত' গীতিনাট্যটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ।

- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য- বনফুল; 
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- কবিকাহিনি; 
- প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প- ভিখারিনী; 
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস- বৌ ঠাকুরানীর হাট। 

- ১৯১৩ সালে রবিঠাকুর তাঁর গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• ‘বিসর্জন’- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যনাটক, যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কার ও মানবতার সংঘাত ফুটে উঠেছে।
• ডাকঘর - মানবজীবনের মুক্তির প্রতীকী নাটক।
• রক্তকরবী - প্রতীকী কাব্যনাটক।
• বসন্ত রবিঠাকুরের রচিত গীতিনাট্য।
• চিত্রাঙ্গদা - এটি রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য।
• তাঁর অন্যান্য নৃত্যনাট্যগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘চণ্ডালিকা’, ‘শ্যামা’। 
-------------------------------- 
‘বসন্ত’ গীতিনাট্য নিয়ে কিছু কথা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বসন্ত’ একটি রূপকধর্মী গীতিনাট্য। 
- নাট্যটি নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

- নাটকের মূল ভাব হলো জরা, মৃত্যু ও শুষ্কতার পর নতুন প্রাণের জাগরণ। 
- নাটকে বসন্তকে রাজা, কবি, কোকিল, ভ্রমর, প্রজাপতি ও হাওয়া-এর মতো চরিত্রের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- এটি শুধু প্রকৃতির নবজাগরণ নয়, বরং সমাজ ও মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সৃষ্টিশীলতা ও আনন্দের প্রতীক।
- এই নাট্যের ভূমিকাপর্বে রবীন্দ্রনাথ নজরুল ইসলামকে শুধু কবি নয়, মহাকবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

 - নাটকটি লেখার সময় নজরুল ইসলাম জেলে ছিলেন। 
- রবীন্দ্রনাথ এর এই নাট্যটি ওই সময়ে কাজী নজরুলকে উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে নজরুলের প্রতি রবিঠাকুরের গভীর সমর্থন ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
- নাটকের গানগুলো যেমন ‘যদি তারে নাই চিনিগো’ আজও জনপ্রিয়।
- নজরুল বইটি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন এবং রচনা করেছিলেন "আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে" কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
শ্রীকান্ত উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- 
  1. শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, অনন্তাদি 
  2. অভয়া, রোহিণী, ক্ষুদ্রদেব 
  3. ঘনদাদা, সুনন্দা, কুমারী, রাজলক্ষ্মী
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

'শ্রীকান্ত’ উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত’ মূলত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে বিভক্ত।
- চারটি খণ্ডের প্রধান চরিত্র আলাদা হলেও সবগুলো একসাথে উপন্যাসের মূল চরিত্র। 
- এই খণ্ডসমূহের মাধ্যমে শরৎচন্দ্র শ্রীকান্তের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, নারীর স্বাধীনতা ও সামাজিক প্রথার প্রতিবাদ সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন।

• উপন্যাসের চারটি খণ্ডের প্রকাশক্রম হলো:
• ১ম খণ্ড:
- ১৯১৭ সালে মাসিক ‘ভারতবর্ষ’-এ ‘শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি’ হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- ১ম খণ্ডের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, অনন্তাদি, রাজলক্ষ্মী।
- ১ম খণ্ডে শ্রীকান্তের কিশোর ও যুবক বয়সের অভিযানের মাধ্যমে বাংলার সমাজ, প্রকৃতি ও মানুষের বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে। 
- ইন্দ্রনাথের বন্ধুত্ব, রাজলক্ষ্মীর সম্পর্ক ও অন্নদা দিদির নিঃস্বার্থ প্রেম এই খণ্ডের মূল বিষয়।

• ২য় খণ্ড:
- ১৯১৮ সালে ‘ভারতবর্ষ’-এ প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, অভয়া, রোহিণী, ক্ষুদ্রদেব, রাজলক্ষ্মী।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত’-২য় খণ্ডে- প্রধানত শ্রীকান্তের রেঙ্গুন প্রবাস, অভয়ার বিদ্রোহী প্রেমকাহিনী ও রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন প্রদর্শন করা হয়েছে।
- এতে সমাজ ও নৈতিকতার সীমার বাইরে গিয়ে নারীর ব্যক্তিত্ব, ভালোবাসা ও লড়াই ফুটে ওঠে।
- বৈষ্ণব আশ্রমে শ্রীকান্তের অভিজ্ঞতা ও কমললতার সঙ্গে সাক্ষাৎও এই খন্দকে সমৃদ্ধ করেছে।

• ৩য় খণ্ড: 
- ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ঘনদাদা, সুনন্দা, কুমারী, রাজলক্ষ্মী।
- এই খণ্ডে শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী ও অভয়া চরিত্রের মাধ্যমে সামাজিক ও মানসিক দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।
- অভয়া তার স্বামী রোহিণীর অত্যাচার প্রত্যাখ্যান করে স্বাধীন জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
- একই সঙ্গে রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে শ্রীকান্তের পুনর্মিলন ও তাদের জটিল সম্পর্ক সমাজের রক্ষণশীল প্রথা ও স্বাধীনচেতা নারীর মানসিকতার সংঘাত ফুটে উঠে এই খণ্ডে।

• ৪র্থ খণ্ড:
১৯৩৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায়।
- শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের চতুর্থ খণ্ডে শ্রীকান্তের লক্ষ্যহীন জীবন, কাশীবাস ও প্রেমের জটিলতা—বিশেষত পিয়ারী (রাজলক্ষ্মী) ও কমলের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন—প্রধান উপজীব্য।
- এখানে শ্রীকান্তের নিঃসঙ্গতা, প্রেম ও সামাজিক দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

উৎস:
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
‘সাম্য’ গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘সাম্য’ গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
----------------------- 
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪) ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং বাংলার নবজাগরণের একজন প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথমে ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা ছিলেন। 
- এবং পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টরের পদে নিযুক্ত হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচে বিএ পাস করা দুজন ছাত্রের একজন ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র।
- তিনি পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিম্নস্তরের নির্বাহী চাকরিতে যোগ দেন।
- এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
-----------------------------
• ‘সাম্য’ গ্রন্থটি নিয়ে কিছু তথ্য':
- ‘সাম্য’ গদ্যগ্রন্থ মূলত বঙ্কিমের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সাম্য’ শীর্ষক প্রবন্ধগুলোর সংকলন।
- গ্রন্থের মূল ভাব হলো সমাজে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের সমালোচনা এবং মানুষের মধ্যে সমান অধিকার ও সুযোগের প্রচার। - গ্রন্থে ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী চিন্তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- গ্রন্থটিতে বঙ্কিম কৃষক, শ্রমিক ও নারীদের অধিকারের পক্ষে যুক্তি প্রদান করেছেন।
- গ্রন্থে সাম্যনীতির সঙ্গে সঙ্গে ধনীবাদ ও জমিদারী প্রথার বিরোধ, শোষিত শ্রেণীর পক্ষে অবস্থান, এবং নারীদের সমঅধিকার ও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে।
- এটি বাংলা সাহিত্যে সাম্যবাদী চিন্তার একটি প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- তবে পরবর্তীতে বঙ্কিম নিজে এই মত থেকে সরে এসে ধর্মীয় ও ভারতীয় দর্শনের দিকে মনোনিবেশ করেন।
---------------------------
দ্রষ্টব্য:
- কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ একটি কাব্যগ্রন্থ;
- অন্যদিকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘সাম্য’ একটি প্রবন্ধ বা গদ্যগ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কবিকাহিনী’ কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. মিত্রাক্ষর ছন্দ
  2. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ  
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথের 'কবিকাহিনী' কাব্যটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
-------------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ প্রতিভা ও সর্বসাধারণের প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন।
- তিনি ছিলেন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, উপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীতরচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৭৮ সালে ইংরেজি সাহিত্যের পাঠের উদ্দেশ্যে তিনি প্রথম ইংল্যান্ড যান।
- তিনি ১৮৮৪ সালে ব্রাহ্মসমাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু কাব্যগ্রন্থের নাম:
- কবিকাহিনী, বনফুল, ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী, মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, কল্পনা, ক্ষণিকা, গীতাঞ্জলি, গীতিমাল্য, খেয়া, বলাকা, মহুয়া, পূরবী, পুনশ্চ, শেষ সপ্তক, স্ফুলিঙ্গ, ছড়ার ছবি, শেষ লেখা ইত্যাদি।
------------------------------- 
'কবিকাহিনী' কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো কবিকাহিনী। 
- ১৮৭৮ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৬ বছর।
- এটি গাথাকাব্যটি প্রায় ৫৩ পৃষ্ঠার ছিল।
- গ্রন্থের কবিতাগুলো মূলত ভারতী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হত।
- ধারনা করা হয় কবি নিজেই এই কাব্যটির নায়ক।
- কাব্যটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত; 
- তবে বিন্যাস প্রধানত পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের ছিল।
- গ্রন্থে প্রধানত কবির কিশোর বয়সের সময় এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ফুটে উঠেছে।
------------------------ 
নোট: যদিও অনেকেই বনফুল (১৮৮০) কাব্যগ্রন্থকে প্রথম মনে করেন, তথ্যমতে কবিকাহিনীই তাঁর প্রথম মুদ্রিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১১.
'দ্বার খোলো বাবা খাইনি তো সাত দিন'— উক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  2. আগমণী
  3. ধূমকেতু
  4. মানুষ  
সঠিক উত্তর:
মানুষ  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ  
ব্যাখ্যা

'দ্বার খোলো বাবা খাইনি তো সাত দিন'— এ উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত মানুষ কবিতার অংশ। 
----------------------
• মানুষ- 
     – কাজী নজরুল ইসলাম। 

“গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সল কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
‘পূজারী, দুয়ার খোল,
ক্ষুদার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’
স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুদায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি তো সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুদার মানিক জ্বলে!" 
--------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
-------------------------------- 
'মানুষ' কবিতা নিয়ে কিছু তথ্য-
- “দ্বার খোল বাবা, খাইনি সাত দিন”— উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’ কবিতার অংশ।
- 'মানুষ' কবিতাটি তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে ক্ষুধিত ভিখারি মন্দিরের পুজারীকে সম্বোধন করে উক্তিটি করেছে। 
- উক্তিটির মধ্য দিয়ে লেখক- মানুষের জীবন ও অধিকারকে ধর্ম বা স্থাপনার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার বিরুদ্ধ  তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্যের রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 
--------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে।
- তিনি এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত  ছিলেন কলকাতার আইনজীবী ও জমিদার, আর তার মাতা হলেন জাহ্নবী দেবী।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক কবিতার জনক ও মহাকবি হিসেবে খ্যাত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম ছিল টিমোথি পেনপোয়েম।
- তিনি মাদ্রাজে থাকাকালীন এই ছদ্মনাম ব্যবহার করে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie প্রকাশ করেন।
- তাঁকে “দত্তকুলধর্মী কবি” বলেও অভিহিত করা হয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন, প্রথম ট্র্যাজেডি ও প্রথম সফল নাটক—সবই তাঁরই সৃষ্টি।

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• তাঁর একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 
--------------------------- 
‘বীরাঙ্গনা’ নিয়ে কিছু কথা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রোমান কবি ওভিডিয়াসের Heroic Epistles অনুকরণে রচিত। 
- মাইকেল এই কাব্যটি কবি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে উৎসর্গ করেছেন।
- মূলত ১১টি পত্রের মাধ্যমে কাব্যটি সম্পন্ন হয়েছে।
- এখানে নারীদের চরিত্রকে সচেতন, স্বাধীনচেতা এবং প্রেমিকামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- কাব্যের উদ্দেশ্য ছিল নারীদের কণ্ঠস্বরকে সমাজে প্রকাশ করা এবং প্রথাগত নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আভাস দেওয়া।

• উল্লেখযোগ্য পত্রসমূহ:
- দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা;
- সোমের প্রতি তারা;
- দ্বারকানাথের প্রতি রুক্মিণী;
- লক্ষ্মণের প্রতি শূর্পণখা;
- দশরথের প্রতি কৈকেয়ী। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. ভিখারিনী 
  3. নষ্টনীড়
  4. হৈমন্তী 
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প - ক্ষুধিত পাষাণ। 
----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। 
- তাকে "গুরুদেব", "কবিগুরু" ও "বিশ্বকবি" বলা হয়।  
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।

• রবিঠাকুর রচিত ৪টি সমাজসেবামূলক ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চারটি অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্পের উদাহরণ-
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীথে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল। 

• রবিঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প:
- ভিখারিনী (১ম), 
- নষ্টনীড়,
- একরাত্রি,
- সমাপ্তি,,
- পোস্টমাস্টার,
- ব্যবধান,
- হৈমন্তী,
- অতিথি,
- খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন,
- মাল্যদান,
- ফেল,
- কাবুলিওয়ালা। 

• জীবনের শেষপর্বে রবিঠাকুর রচিত কিছু বুদ্ধিদীপ্ত ছোটগল্প হচ্ছে- 
- রবিবার, 
- শেষকথা, 
- ল্যাবরেটরি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কোনটি? 
  1. পোনুর চিঠি
  2. বাঁধনহারা
  3. প্রিয়তমাসু
  4. সন্ধ্যাদীপের শিখা
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা

'বাঁধনহারা’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রভিত্তিক উপন্যাস।
---------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- বার বছর বয়সে তিনি লেটোর দলে যোগ দেন। 
- তিনি বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা। 

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম তার পরিবারসহ স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট (ডি.লিট) প্রদান করে।
- পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক’ প্রদান করার মধ্য দিয়ে কবিকে সম্মান জানানো হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- মৃত্যুর পর জাতীয় কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।
--------------------------------- 
‘বাঁধনহারা’ নিয়ে কিছু কথা: 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস ‘বাঁধনহারা’।
- উপন্যাসের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- ‘বাঁধনহারা’ নজরুলের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস। 
- এটি মোসলেম ভারৎ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯২১ সালে।
- এবং পরে ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল পত্রভিত্তিক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- এতে মোট ১৮টি চিঠি অন্তর্ভুক্ত।
-লেখক গল্পের প্রগতি ও চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণকে চিঠির আকারে উপস্থাপন করেছেন।
- নজরুল করাচিতে বাঙালি পল্টনে সৈনিক থাকাকালীন সময়ে ‘বাঁধনহারা’ লেখা শুরু করেন।
---------------------- 
অন্যদিকে,
- বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য পত্রোপন্যাস:
• পোনুর চিঠি – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত অত্যন্ত জনপ্রিয় পত্রোপন্যাস।

• প্রিয়তমাসু – প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখিত পত্ররূপে লেখা চমৎকার আখ্যান।

• সন্ধ্যাদীপের শিখা – তরুণকুমার ভাদুড়ী লিখিত পত্র রীতির একটি উপন্যাস।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৫.
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকটি কোন উপন্যাসের নাট্যরূপ?
  1. মালঞ্চ
  2. যোগাযোগ 
  3. শেষের কবিতা 
  4. বউ-ঠাকুরাণীর হাট
সঠিক উত্তর:
বউ-ঠাকুরাণীর হাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বউ-ঠাকুরাণীর হাট
ব্যাখ্যা

• ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’ গল্পের কাহিনি অবলম্বনে রচনা করেন।
-----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর সম্ভ্রান্ত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতামহ ছিলেন- প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তাঁর পিতা ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুরবাড়ির সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় অনুকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠার ফলে শৈশবকালেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- পরবর্তীতে তিনি ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাঁর শিক্ষাদর্শনের বাস্তব রূপ।
- ১৯১৩ সালে ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত ‘গীতাঞ্জলি’ (১৯১১) কাব্যের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন;
- যা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে গৌরবান্বিত করেছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ—
বিসর্জন,
রাজা, 
ডাকঘর, 
অচলায়তন, 
চিরকুমার সভা, 
রক্তকরবী, 
তাসের দেশ, 
চিত্রাঙ্গদা, 
বৈকুণ্ঠের খাতা, 
শারদোৎসব, 
প্রায়শ্চিত্ত, 
বসন্ত, 
চণ্ডালিকা,
নটীর পূজা। 
------------------------------- 
‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটক নিয়ে কিছু কথা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস ‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’। 
- এই উপন্যাসের কাহিনি ও চরিত্র অবলম্বনে তিনি ১৯০৯ সালে ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকটি রচনা করেন।

- নাটকের প্রধান চরিত্র প্রতাপাদিত্য, উদয়াদিত্য ও বসন্ত রায়।
- এটি একটি ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নাটক। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্যকে কেন্দ্র করে উদয়াদিত্য ও বসন্ত রায়ের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকে অত্যাচারী শাসক প্রতাপাদিত্যের দম্ভ ও কঠোরতার বিপরীতে উদয়াদিত্য ও বসন্ত রায়ের মানবিকতা, ন্যায়বোধ ফুটে উঠেছে। 
- এছাড়া নাটকটিতে কবি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে পাপ ও প্রায়শ্চিত্তের মূল ভাবটি প্রকাশ করেছেন। 
--------------------
উৎস:
‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. কীর্তিবিলাস
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী’ বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি হিসেবে স্বীকৃত।
----------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের একজন প্রধান কবি ও নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
--------------------------- 
কৃষ্ণকুমারী’ নাটক সম্পর্কিত তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী'।
- এটি ১৮৬০ সালে রচিত এবং ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকের কাহিনি মূলত উইলিয়াম টডের রাজস্থান গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

- নাটকে প্রধান চরিত্রগুলো হল-
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, বিলাসবতী, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ, মানসিংহ ও ধনদাস। 

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকটি নায়িকা কৃষ্ণকুমারী-এর জীবনকাহিনী ঘিরে আবর্তিত।
- কাহিনীর কেন্দ্রে আছে কৃষ্ণকুমারীর জীবন ও বিবাহসংক্রান্ত জটিলতা, যেখানে ধনদাসের হীন আচরণ, জগৎসিংহের ব্যাকুলতা এবং মদনিকার মধ্যস্থতা নাটকের উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
- রাজপুত্র জগৎসিংহ কৃষ্ণকুমারীকে বিবাহের জন্য আকৃষ্ট হন, আর ধনদাস টাকার লোভে নানা চক্রান্ত চালায়।
- কৃষ্ণকুমারীর ব্যক্তিগত সম্মান, নায়কের আকাঙ্ক্ষা ও নায়িকার চরম সিদ্ধান্ত আর  রাজ্যশক্তি ও প্রেমের দ্বন্দ্বই নাটকের মূল ট্রাজেডি।
----------------------
অন্যদিকে, 
- কীর্তিবিলাস – প্রথম ট্রাজেডি হলেও সফল নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’ গল্পের প্রেক্ষাপট কী ছিল?
  1. জমিদারি শোষণ ও অভাব 
  2. মধ্যযুগীয় রাজা-সামন্তদের রাজনীতি ও যুদ্ধ
  3. সাধারণ গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন  
  4. ব্যবসায়ী সমাজের উত্থান-পতন
সঠিক উত্তর:
জমিদারি শোষণ ও অভাব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিদারি শোষণ ও অভাব 
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’ গল্পের প্রেক্ষাপট ছিল- জমিদারি শোষণ, অভাব, দুর্ভিক্ষ এবং হিন্দু-মুসলিম বৈষম্য। 
------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপাধি হলো অপরাজেয় কথাশিল্পী এবং সাহিত্য সম্রাট।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তাঁকে 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' বলা হয়।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক 'ডিলিট' উপাধি লাভ করেন, যা তাঁর একাডেমিক অর্জনকেও তুলে ধরে।
-  তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ছিল- পল্লী জীবন ও পল্লী সমাজ।
- তিনি তাঁর রচনায় ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন। 

• তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘মন্দির’।
• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- মহেশ,
- অভাগীর স্বর্গ,
- বিলাসী।
------------------------------- 
'মহেশ' গল্পের প্রেক্ষাপট:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’ গল্পের প্রেক্ষাপট গড়ে উঠে বিংশ শতাব্দীর গ্রামীণ বাংলাকে কেন্দ্র করে।
- গল্পের প্রধান চরিত্র: গফুর, আমিনা এবং মহেশ;
- পার্শ্বচরিত্র: জমিদার তারাকরত্ন ও পুলিশের কনস্টেবল।
- গল্পটি ১৯২২ সালে ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

- গল্পে দেখা যায় দরিদ্র কৃষক গফুর এবং তার কন্যা আমিনা কষ্টে দিনযাপন করছে।
- গফুরের গরু ‘মহেশ’ তার কাছে শুধু গরু নয়, পরিবারের মতো প্রিয়।
- কিন্তু সমাজ ও জমিদার তাদের দুঃখ বোঝে না।
- জমিদারি শোষণ, অভাব, দুর্ভিক্ষ এবং হিন্দু-মুসলিম বৈষম্য গল্পের মূল সমস্যা।
- খাবার ও চারণভূমির অভাবে মহেশ মারা যায়।
- অভাবের তাড়নায় মহেশের মৃত্যুতে গফুরের অসহায়ত্ব গল্পকে হৃদয়বিদারক করে তোলে। 

১৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘লোকরহস্য’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কাব্য
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

‘লোকরহস্য’ একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 
---------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
-  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং বাংলার নবজাগরণের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

- চাকরিজীবনে তিনি প্রথম প্রশাসনিক চাকরিতে যোগ দেন;
- এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরের পদে দায়িত্ব পালন করেন।
- সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন। 
- এর স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ উপাধি লাভ করেন। 

- ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্রকে সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে অভিহিত করা হয়না। 
- তাঁর মুল পরিচয় হচ্ছে- তিনি একজন প্রভাবশালী লেখক ও হিন্দু পুনরুত্থানবাদী চিন্তাবিদ। 
- তার পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্য ও চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ-
- ‘লোকরহস্য’,
- ‘কমলাকান্তের দপ্তর’,
- ‘বিবিধ সমালোচনা’,
- ‘সাম্য’,
- ‘কৃষ্ণচরিত্র’,
- ‘ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন’,
- ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’, 
- 'বিজ্ঞান রহস্য'। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১৯.
মেঘনাদবধ কাব্যে মোট কতটি সর্গ আছে?
  1. ৯টি 
  2. ১১টি 
  3. ৭টি 
  4. ৫টি 
সঠিক উত্তর:
৯টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি 
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্যে মোট ৯টি সর্গ আছে। 
----------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ২৫ জানুয়ারি, ১৮২৪ সালে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর জন্মস্থান ছিল-  যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদ তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার উকিল, এবং মা জাহ্নবী দেবী।
- তিনি ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হয়ে বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন। 
- কলেজ থাকাকালীনই তিনি কবিতা রচনা শুরু করেন।

- তাঁর কবিতা নানা পত্রিকায় প্রকাশিত হত, যেমন –
- জ্ঞানান্বেষণ,
- Bengal Spectator,
- Literary Gleamer,
- Calcutta Library Gazette,
- Literary Blossom,
- Comet ইত্যাদি।

- ১৮৪৩ সালে ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর তিনি ‘মাইকেল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পর ১৮৭৩ সালে কলকাতায় তিনি জীবনাবসান করেন।
-------------------------------- 
‘মেঘনাদবধ কাব্য’র খুঁটিনাটি:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।  
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।
- ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের মহাকাব্য। 

- ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মূলত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে রচিত।
- তবে কবি রাবণ ও মেঘনাদকে ট্রাজিক নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
- নয়টি সর্গে বিভক্ত এই কাব্যটিতে বীরত্ব, প্রেম, শোক ও বিচ্ছেদের সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে। 
- কাহিনীতে দেখা যায়, লঙ্কাপুরে মেঘনাদ ইন্দ্রকে পরাজিত করে;
- পরবর্তীতে নিরস্ত্র অবস্থায় লক্ষ্মণ তাকে হত্যা করে, এবং শেষমেষ মেঘনাদ-পত্নী প্রমীলা সহমরণে মৃত্যুবরণ করে।

- মধুসূদন প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে রাবণ ও মেঘনাদকে মহিমান্বিত করেছেন;
- এবং রাম-লক্ষ্মণকে প্রথাগত মহত্ত্ব থেকে বিচ্যুতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- এটি রামায়ণের আধুনিক ও পাশ্চাত্য প্রভাবমিশ্রিত এক নতুন রূপান্তর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

২০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুকধর্মী নাটক- 
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. বিসর্জন
  3. রক্তকরবী
  4. অচলায়তন 
সঠিক উত্তর:
বৈকুণ্ঠের খাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈকুণ্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা

‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ রবীন্দ্রনাথের কৌতুকধর্মী নাটক, যা মূলত ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে সামাজিক ও নৈতিক বিষয় তুলে ধরে।
----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 

- তিনি সম্মানিত ‘বিশ্বকবি’ খ্যাতি পান ব্রহ্মবন্ধব উপাধ্যায়ের কাছ থেকে;
- তাকে ‘কবিগুরু’ উপাধি দেন ক্ষিতিমোহন সেন, এবং
- মহাত্মা গান্ধী তাঁকে ‘গুরুদেব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• ‘বিসর্জন’- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যনাটক, যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কার ও মানবতার সংঘাত ফুটে উঠেছে।
• ডাকঘর - মানবজীবনের মুক্তির প্রতীকী নাটক।
• রক্তকরবী - প্রতীকী কাব্যনাটক।
• চিত্রাঙ্গদা - এটি রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য।
• অচলায়তন - সামাজিক সংস্কারবিরোধী নাটক।
------------------- 
• ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নিয়ে কিছু কথা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ একটি কৌতুকধর্মী বা প্রহসনধর্মী নাটক। 
- নাটকটি মানুষের স্বার্থপরতা, চাটুকারিতা ও ভণ্ডামির প্রতি ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টি প্রদর্শন করে।
- নাটকের কেন্দ্রবিন্দু বৈকুণ্ঠ, একজন সরলমনা শখের লেখক। 
- তিনি সঙ্গীত নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে চারপাশের তোষামোদকারী ও স্বার্থান্বেষী চরিত্রদের দ্বারা প্রতারিত হন।
- তার লেখা ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ থেকে উদ্ভূত হাস্যকর পরিস্থিতিই নাটকের মূল আকর্ষণ।
- নাটকটি সময়োপযোগী সামাজিক ব্যঙ্গধর্মী রচনা হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২১.
সুকুমার সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যকে কাব্যোপন্যাস বলে আখ্যা দিয়েছেন?
  1. কবিকাহিনি
  2. বনফুল
  3. মানসী
  4. কল্পনা 
সঠিক উত্তর:
বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনফুল
ব্যাখ্যা

সুকুমার সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বনফুল' কাব্যকে কাব্যোপন্যাস বলে আখ্যা দিয়েছেন। 
----------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- তাঁরা পনের ভাইবোন ছিলেন। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কবিকাহিনী (১ম কাব্যগ্রন্থ, ১৮৭৮); 
- বনফুল (২য় কাব্যগ্রন্থ, ১৮৮০); 
- গীতাঞ্জলি; 
- প্রভাতসঙ্গীত; 
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- বলাকা;
- পুনশ্চ। 
-------------------------
• বনফুল কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- রবিঠাকুর রচিত বনফুল কাব্য প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৮৭৬ সালে।
- কিন্তু বনফুল গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে।

- সুকুমার সেন ‘বনফুল’-কে সরাসরি কাব্য না বলে কাব্যোপন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- তিনি মন্তব্য করেছেন যে- বনফুলের মূল প্লটের আরম্ভে ‘অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী’র উদাসিনীর অনুসরণ রয়েছে।
- তাঁর মতে কাব্যে কমলা ভূমিকায় শকুন্তলার ছাপ রয়েছে।
- এছাড়া, ভাব, ভাষা ও অলঙ্কারে মাঝে মাঝে দিজেন্দ্রনাথ, বিহারিলাল ও মধুসূদনের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়।

- গ্রন্থটি ৮টি সর্গে বিভক্ত।
- মিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

- বনফুল কাব্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ: 
- বিজয়, কমলা, নীরদ, নীরজা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২২.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাটি কী ধরনের ছিল?
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. অর্ধসাপ্তাহিক
  4. মাসিক
সঠিক উত্তর:
অর্ধসাপ্তাহিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধসাপ্তাহিক
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাটি অর্ধসাপ্তাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
--------------------------
• পত্রিকা:
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রধানত তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- এগুলো হলো:
- ধূমকেতু (১৯২২),
- লাঙল (১৯২৫) এবং
- দৈনিক নবযুগ (১৯২০-এর দশকে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে)।
- পরে তিনি ‘লাঙল’-এর নাম পরিবর্তন করে গণবাণী (১৯২৬) পত্রিকাটিও সম্পাদনা করেন।
- এই পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে নজরুল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মতো বিষয় সাহসিকতার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন।
------------------------- 
উল্লেখ্য,
• 'ধূমকেতু': ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট প্রকাশিত ধূমকেতু ছিল অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। 
- এই পত্রিকায় নজরুলের বিখ্যাত কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হয়।
- এই কবিতা লেখার জন্য নজরুলকে কারাবরণ করতে হয়। 

• 'লাঙল': 
- এই পত্রিকাটি ১৯২৫ সালে শ্রমিক, প্রজা ও স্বরাজের মুখপত্র হিসেবে ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত, হয়। 
- নজরুল এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• 'দৈনিক নবযুগ':
- ১৯২০ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকা নজরুল ও মুজফফর আহমদ যৌথভাবে সম্পাদনা করতেন।

• গণবাণী (১৯২৬): ‘লাঙল’-এর পুনঃনামকরণ, নজরুল এতে সম্পাদনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৩.
দেনা-পাওনা রবীন্দ্রনাথ রচিত ছোটগল্প হলে শরৎচন্দ্র রচিত-
  1. বড়গল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

দেনা-পাওনা রবীন্দ্রনাথ রচিত ছোটগল্প হলে শরৎচন্দ্র রচিত- উপন্যাস। 
---------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপাধি হলো- অপরাজেয় কথাশিল্পী এবং সাহিত্য সম্রাট।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তাঁকে 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' বলা হয়।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক 'ডিলিট' উপাধি লাভ করেন, যা তাঁর একাডেমিক অর্জনকেও তুলে ধরে।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধ উপন্যাস:
- বড়দিদি (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস),
- শ্রীকান্ত,
- দেবদাস,
- পথের দাবী (যা রাজনৈতিক কারণে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল),
- দেনা-পাওনা,
- পল্লীসমাজ,
- পরিণীতা,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- শেষের পরিচয়।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. দুর্গেশনন্দিনী
  4. আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস- দুর্গেশনন্দিনী। 
-------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কানালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
- তিমি মূলত ঔপন্যাসিক ছিলেন। 
- তাকে বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত বলা হয়। 
- তাঁর ছদ্মনাম- কমলাকান্ত।
- তাঁর উপাধি — বাংলার স্কট, সাহিত্যসম্রাট, এবং আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক।
- তার মৃত্যু ঘটে ১৮৯৪ সালে।

- বঙ্কিমের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস Rajmohan’s Wife (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
- বঙ্কিমের বিষবৃক্ষ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সামাজিক উপন্যাস।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাসগুলি হলো:
- কৃষ্ণকান্তের উইল, 
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- রাধারাণী,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- ইন্দিরা।
-----------------
• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসটি ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- এটি ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার মুঘল ও পাঠান দ্বন্দ্বের পটভূমিতে রচিত রোমান্টিক আখ্যান।
- উপন্যাসের মূল কাহিনী জগৎসিংহ, তিলোত্তমা ও আয়েশার ত্রিভুজ প্রেমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক জীবনও আংশিকভাবে ফুটে উঠেছে।
---------------------------------------------------
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া

২৫.
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি’ নামে বৈষ্ণব ভাবসম্পন্ন কবিতা রচনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি’ নামে বৈষ্ণব ভাবসম্পন্ন কবিতা রচনা করেছেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
----------------------- 
• বৈষ্ণব ভাবসম্পন্ন কবিতা:
-বৈষ্ণব ও বৌদ্ধ ধর্মের গুরুভাব ও প্রেম–আদর্শ থেকেই বৈষ্ণব পদাবলির সৃষ্টি।
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
- বৈষ্ণব পদাবলির বিকাশ ঘটে শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রভাবে।  
-বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। 
- বৈষ্ণব পদাবলির মূল প্রেরণা এসেছিল আদি কবি বিদ্যাপতির মৈথিলি পদাবলি থেকে।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ মূলত মৈথিলি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে গঠিত এক কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা 'ব্রজবুলি'তে রচিত।
- এই পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি হচ্ছে— বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস। 
- এই কবিদের মহাজন কবি বলা হয় ।
- তাদের হাতে এই ধারার শৈল্পিক বিকাশ ঘটে।

- রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে গঠিত বৈষ্ণব পদাবলি শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাবে গভীরতর হয়।
- আধুনিক যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ ছদ্মনামে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব ভাবপ্রবণ কবিতা রচনা করে মধ্যযুগীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপ দেন।
----------------------
অন্যদিকে:
• বিদ্যাপতি মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় একটি পদ রচনা করেও পদকর্তাগণের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন “রাজকণ্ঠের মণিমালা” হিসেবে।

• চণ্ডীদাস - বৈষ্ণব পদাবলির প্রাচীন কবি।

• গোবিন্দদাস - বৈষ্ণব প্রেমপদ রচয়িতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।