পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৮ টপিক: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি প্রাচীনকাল হতে সমসাময়িক কালের ইতিহাস – ২ এবং ৩ [Live Class – 11 & 12]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
‘দীন-ই-ইলাহি’ নামে একেশ্বরবাদমূলক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন কে? 
  1. বখতিয়ার খলজি
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
দীন-ই-ইলাহি:

• সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে 'দীন-ই-ইলাহি' নামে একেশ্বরবাদমূলক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। 
• সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে এই ধর্মমত গঠিত হয়। 
• এই ধর্মমতের কালেমা ছিল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আকবর খলিফাতুল্লাহ'। 

• দীন-ই-ইলাহি রীতিনীতি, বিধানগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. এই ধর্মের অনুসারীগণ পরস্পর দেখা হলে, 'আসসালামু আলাইকুম' এর পরিবর্তে 'আল্লাহু আকবার' এবং প্রত্যুত্তরে 'ওয়া আলাইকুম আস্সালাম' না বলে 'জাল্লাজালালুহু' বলা।
২. এই ধর্মীয় বিধান অনুসারে মৃত্যুর পরে নয়, মৃত্যুর পূর্বেই দাওয়াত বা আমন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।
৩. সভ্যগণ নিজ নিজ জন্মদিন পালন এবং ভোজের আয়োজন করবেন।
৪. সভ্যগণ ভিক্ষা প্রদান করবেন কিন্তু ভিক্ষা গ্রহণ করবেন না।
৫. এই ধর্মমত গ্রহণে কাউকে বাধ্য করা হবে না।

• ড. ভি. স্মিথের মতে, সংকীর্ণ অর্থে আকবরের দীন-ই-ইলাহি কোনো ধর্ম নয়। 
• এটি ছিল একটি জীবন দর্শন মাত্র। 
• দীন-ই-ইলাহির দীক্ষা গ্রহণকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল মাত্র বিশজন। এদের একমাত্র হিন্দু ছিলেন রাজা বীরবল এবং বাকী সকলেই মুসলমান। 
• দীন-ই-ইলাহির মাধ্যমে সকল ধর্মের সারাংশের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ সাধন করা ছিল আকবরের উদ্দেশ্য। এর পিছনে তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদেরকে একসঙ্গে নিয়ে আসা। 
• দীন-ই-ইলাহি সম্রাট আকবরের মৃত্যুর (১৬০৫ খ্রি.) সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
১৯০৫ সালে বাংলা ভাগ করেন কে?
  1. লর্ড রিডিং
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড চেমসফোর্ড
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ: 

ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
• এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
• ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি। 
• ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। 
• ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন।
• ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। 
• বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। 
• অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।
• ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে হিন্দু- মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। একে অপরকে শত্রু ভাবতে শুরু করে।
• বঙ্গভঙ্গের ফলাফল হিসেবে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হয়।

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ।
.
কোন রাজা স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন? 
  1. রামপাল
  2. শশাঙ্ক
  3. ধর্মপাল 
  4. লক্ষণ সেন 
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:

• শশাঙ্ক ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
• তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।
• এর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। 
• সপ্তম শতকের শুরুতে তিনি রাজ্য গড়ে তোলেন।
• উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন। 
• তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। 
• তাঁর আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
• তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যা 'মাৎস্যন্যায়' নামে পরিচিত।  
• ধর্মপাল: পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ  রাজা। 
• রামপাল: পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক।
• লক্ষণসেন: সেন বংশের সর্বশেষ রাজা। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
.
বল্লাল সেন কর্তৃক রচিত গ্রন্থ নিচের কোনটি? 
  1. আচারসাগর
  2. ব্রতসাগর
  3. দানসাগর
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন: 

বল্লাল সেন “ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর” নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন। (লক্ষ্মণ সেন বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর গ্রন্থ সমাপ্ত করেছিলেন।
• সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা বিজয় সেনের পুত্র ছিলেন বল্লাল সেন। 
• সিংহাসনে আরোহণ : আনুমানিক ১১৬০ সালে। 
• তিনি দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
• তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
• বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন। 
• কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পণ্ডিত 'হলায়ুধ' কোন শাসকের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন? 
  1. বিজয় সেন 
  2. লক্ষণ সেন
  3. বল্লাল সেন 
  4. হেমন্ত সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
'হলায়ুধ': 

• প্রসিদ্ধ পণ্ডিত 'হলায়ুধ' লক্ষণ সেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
• ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করলে লক্ষ্মণ সেন নদীপথে দক্ষিণপূর্ব বাংলায় চলে যান।
• লক্ষ্মণাবতীকে (গৌড়) কেন্দ্র করে বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন বখতিয়ার খিলজি। 
• লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন। 
• তিনি বল্লাল সেনের “অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর” গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছিলেন। 
• লক্ষ্মণসেন বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। 
• তিনি 'পরমবৈষ্ণব' উপাধি গ্রহণ করেন। 
• ভারত বিখ্যাত বৈষ্ণব কবি জয়দেবের অবস্থান ছিল লক্ষণ সেনের রাজসভায় ।
• কৌলীন্যপ্রথা বিস্তারে তিনি ছিলেন সচেষ্ট। 
• মুসলমান ঐতিহাসিক মিনহাজুদ্দীনকে লক্ষণ সেনের দানশীলতার জন্য তাকে হিন্দুস্থানের 'খলিফা স্থানীয়' বলে অভিহিত করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুসলিম যুগে কোন অঞ্চলটি 'লক্ষণাবতী' নামে পরিচিত ছিল?
  1. গৌড়
  2. হরিকেল 
  3. বঙ্গ
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড়: 

মুসলিম যুগে গৌড় অঞ্চলটি ‘লক্ষণাবতী’ নামে পরিচিত ছিল।
• বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
• এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পাচ্ছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড় দেশ বিবেচনা করা হতো।
• সেনবংশীয় রাজারা 'গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন। 
• ব্যাপক অর্থে 'গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত। 
• আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত। 
• হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে 'গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
• কর্ণসুবর্ণ দেশ ও গৌড়দেশ ছিল অভিন্ন। 
• গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ। 
• মুসলিম পণ্ডিত আল বিরুনীর বিবরণ অনুযায়ী পূর্বভারতের বিভিন্ন দেশের অর্থাৎ বর্তমান বাংলা, উড়িষ্যা, আসামের আদি মধ্যযুগীয় লিপির প্রকৃত রূপ হলো এই 'গৌড়ীয় লিপি'। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন কে?
  1. সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি 
  2. জালালউদ্দিন মাসুন জানি
  3. বখতিয়ার খলজি
  4. মুহম্মদ শিরাণ খলজি
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি:

• বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি। 
• তেরো শতকের শুরুতে তিনি বাংলার উত্তর ও উত্তর- পশ্চিমাংশে সেন শাসনের অবসান ঘটান। 
• এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ পর্যন্ত। 
• খলজি যখন নদীয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন তখন তাঁর সাথে ছিল মাত্র ১৭ কিংবা ১৮ জন অশ্বারোহী। 
• ১২০৪ সাল নদীয়া জয়ের তারিখ হিসেবে স্বীকৃত।  
• ইতিহাসে তিনি বখতিয়ার খলজি নামেই বেশি পরিচিত। 
• তিনি ছিলেন জাতিতে তুর্কি, বংশে খলজি এবং বৃত্তিতে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক।
• ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। 
 
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
.
হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান কে ছিলেন? 
  1. হোসেন মুজাফফর শাহ 
  2. সুলতান সিকান্দার লোদী 
  3. সুলতান নুসরত শাহ
  4. সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:

• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান। 
• তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন। 
• তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত। 
• তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
• তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন। 
• তাঁর সমাধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈশা খাঁ-এর রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. ফরিদাবাদ
  2. জাহাঙ্গীরনগর
  3. ইসলামাবাদ
  4. সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:

• বারো ভূঁইয়া বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার, যাঁরা আকবর ও জাহাঙ্গীর এর রাজত্বকালে মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। 
• বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া। 
• প্রথমদিকে ঈসা খাঁ বারাে ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন । 
• বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈশা খাঁ-এর রাজধানী ছিল সােনারগাঁও এ।  
• সম্রাট আকবরের সেনাপতিরা ঈসা খান ও অন্যান্য জমিদারের সাথে বহুবার যুদ্ধ করেছেন কিন্তু বারাে ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খাঁকে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। 
• ঈসা খাঁর মৃত্যুর পর বারাে ভূঁইয়াদের নেতা হন মুসাখান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 
১০.
সম্রাট আকবর কত বছর বয়সে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন?
  1. ১২
  2. ১৩
  3. ১৪
  4. ১৬
সঠিক উত্তর:
১৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:

• সম্রাট আকবর ১৩ বছর বয়সে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
• ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর তিনি জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর নাম ধারণ করে দিল্লির মোগল সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
• সম্রাট আকবর ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬০১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তাঁর রাজ্য জয় ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
• এ সময়ের মধ্যে তিনি উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণা নদী এবং পশ্চিমে হিন্দুকুশ থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
• ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আকবর আফগান শাসক আদিল শাহ সুরের সেনাপতি হিমুকে পরাস্ত করেন।
• ১৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে আকবর মেবারের রাজধানী চিতোর আক্রমণ করেন। 
• সম্রাট আকবর ১৫৮১ খ্রিস্টাব্দে কাবুল আক্রমণ করেন। 
• ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে আকবর দুর্ভেদ্য দুর্গ আসিরগড় অধিকার করেন এটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ রাজ্য জয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
সুলতান মাহমুদ কত বার ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন?
  1. ১৩ বার
  2. ১৬ বার
  3. ১৭ বার
  4. ১৯ বার 
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
ব্যাখ্যা
সুলতান মাহমুদ: 

• জন্ম: ৯৭১ সাল।
• মৃত্যু: ৩০ এপ্রিল ১০৩০ সাল। 
• জন্মস্থান: আফগানিস্তান।
• মাহমুদ ২৭ বছর বয়সে ৯৯৮ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
• সুলতান মাহমুদ ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন ১৭ বার।
• ১০০১ সালে, মাহমুদ ১৫ হাজার ঘোড়া সৈন্যের নেতৃত্বে ভারতে যাত্রা করেন। 
• সুলতান মাহমুদ ছিলেন গজনীর অধিপতি।
• সুলতাল মাহমুদ ভারত আক্রমণ করেন ১০০০ সালে।
• সুলতান মাহমুদের সভাকবি কে ছিলেন মহা কবি ফেরদৌসি।
• আল বিরুনী নামকরা দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ হিসাবে কর্মরত ছিলেন সুলতান মাহমুদের দরবারে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং Live Mcq লেকচার। 
১২.
পর্তুগিজদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেন কোন মুঘল সম্রাট?
  1. শাহজাহান
  2. আকবর
  3. আওরঙ্গজেব
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজদের আগমণ ও বিতাড়ন: 

মুঘল সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন। 
• পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে প্রথম আসেন।
• এরপর ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন। 
• আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। 
• কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন। 
• পর্তুগিজদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।
• পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ।
• পর্তুগিজরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত। 
• এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে। 
• পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত। 
• সম্রাট শাহজাহান এর নির্দেশে কাসিম খান পর্তুগিজদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন। 
• সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
'পলাশীর প্রথম ব্যারন' কার উপাধি ছিল?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. ওয়াটসন
  3. কার্টিয়ার
  4. রবার্ট ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
রবার্ট ক্লাইভ: 

• উপমহাদেশের ইংরেজ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন লর্ড ক্লাইভ।
• প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন; দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
• তাঁর উপাধি ছিল পলাশীর প্রথম ব্যারন।
• ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে। 
• ক্লাইভ মধ্যবর্তী রাজ্য হিসেবে কোম্পানি ও মারাঠাদের মধ্যে অযোধ্যা রাজ্যকে প্রতিষ্ঠা করেন। 
• লর্ড ক্লাইভ উপমহাদেশে ইংরেজ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার মর্যাদা পেলেও বাংলায় জালিয়াতি এবং উৎকোচ গ্রহণের অপরাধে স্বদেশবাসী তাঁর বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে বহু অভিযোগ উত্থাপন করেন। 
• ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে স্বগৃহে ক্লাইভ আত্মহত্যা করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 
১৪.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. তিতুমীর 
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. মজনু শাহ 
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তুল্লাহ
ব্যাখ্যা

ফরায়েজি আন্দোলন:

• ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তুল্লাহ।
• জন্ম: ১৭৮২ সালে।
• জন্মস্থান: বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে। 
• তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
• ‘ফরায়েজি’ শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যারা ফরজ পালন করেন তাঁরাই ফরায়েজি।
• বাংলায় যাঁরা হাজী তুল্লাহর অনুসারী ছিলেন, ইতিহাসে শুধু তাদেরকেই ফরায়েজি বলা হয়ে থাকে। 
• হাজী শরীয়তুল্লাহ ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ ‘বিধর্মীর দেশ' বলে ঘোষণা করেন।
• জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের ওপর অত্যাচার শুরু করলে প্রজাদের রক্ষার জন্য তিনি লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
• ১৮৩৯ সালে তাঁর ওপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। 
• ১৮৪০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 
• তাঁর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর যোগ্য পুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দিন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া। তিনি ১৮১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
• তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।