পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৫২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৯০: আইন বিষয়াবলী - ৩৫ (সাবজেক্ট ফাইনাল) Topic: Laws related to Criminal matters
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৫২ প্রশ্ন

.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী পুলিশ মামলার FIR রেকর্ড করে?
  1. ধারা ১৫২
  2. ধারা ১৫৪
  3. ধারা ১৫৬
  4. ধারা ১৫৮
ব্যাখ্যা
এফআইআর (FIR- First Information Report)
অপরাধমূলক কোনো কিছু ঘটার পর সে বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য থানায় যে সংবাদ দেওয়া বা জানানো হয়, তাকে এজাহার বা এফআইআর বলে। প্রকৃতপক্ষে, এজাহারের মাধ্যমে থানায় মামলা করা হয়। এজাহারের ক্ষেত্রে পিআরবি বা পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল ১৯৪৩ এর ২৪৩ প্রবিধান এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় এজাহারের বিষয়বস্তু গুলো অনুসরণ করা হয়। 

এজাহার মৌখিক এবং লিখিত উভয়ই হতে পারে। মৌখিকভাবে এজাহার দেওয়া হলেও সেটি লেখার পর এজাহারকারীর সই নিতে হবে। লেখার পর দায়িত্বরত কর্মকর্তা এজাহারকারীকে পড়ে শুনানোর পর নির্ধারিত ফরম অনুসারে রক্ষিত একটি বইতে লিপিবদ্ধ করবেন। এজাহারকে মূলত কোনো মৌলিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে এজাহারের যথেষ্ট মূল্য আছে। এজাহার হলো জিআর মামলার মূলভিত্তি।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৫৪: আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ:
যখন কেউ কোনো আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সংবাদ থানায় জানায়, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেই তথ্য গ্রহণ করতে বাধ্য। যদি সেই তথ্য মৌখিকভাবে জানানো হয়, তাহলে তিনি নিজে বা তার নির্দেশে কেউ তা লিখে নেবেন। এরপর সেই লিখিত বক্তব্য সংবাদদাতাকে পড়ে শুনাতে হবে যেন সে নিশ্চিত হতে পারে, তার কথাই ঠিকভাবে লেখা হয়েছে। এরপর সেই ব্যক্তি স্বাক্ষর করবে এবং পুলিশ কর্মকর্তা সরকার নির্ধারিত রেজিস্টারে ঐ বিবরণ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।

⇒ এভাবেই পুলিশের কাছে কোনো গুরুতর অপরাধের প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (FIR) গ্রহণ ও রেকর্ড করা হয়। এটি মামলা শুরুর একটি আনুষ্ঠানিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
.
‘ক’, ‘খ’ কে মিথ্যা সাক্ষ্যদানে প্ররোচিত করে। ‘খ’ উক্ত প্ররোচনার ফলে উক্ত অপরাধ সংঘটন করলে ক কোন অপরাধের শাস্তিতে দণ্ডিত হবে?
  1. মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের দণ্ডে
  2. মিথ্যা সাক্ষ্যদানের সমান দণ্ডে
  3. মিথ্যা সাক্ষ্যদানের অর্ধেক দণ্ডে
  4. মিথ্যা সাক্ষ্যদানের এক চতুর্থাংশ দণ্ডে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুসারে,
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধে প্ররোচনা (Abetment) দেয় এবং সেই প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হয়, তবে প্ররোচনাকারীকে অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি দেওয়া হবে। এই ধারাটি তখন প্রযোজ্য হয় যখন দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা বা স্পষ্ট শাস্তির বিধান নেই।

উদাহরণ:
যদি A, B কে কোনো অপরাধ করতে প্ররোচনা দেয় এবং B সেই অপরাধটি করে, তবে A কেও B এর মতো একই শাস্তি দেওয়া হবে, যদি দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা শাস্তির বিধান না থাকে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো- খ)  মিথ্যা সাক্ষ্যদানের সমান দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
.
'Res Gestae' বলতে কী বোঝানো হয়?
  1. মূল দলিল
  2. মৌখিক স্বীকারোক্তি
  3. অনুমানভিত্তিক সাক্ষ্য
  4. একই ঘটনার অংশ হিসেবে প্রাসঙ্গিক ঘটনা
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনে 'Res Gestae' একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যখন একাধিক ঘটনা অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত এবং একই ঘটনার ধারাবাহিক অংশ হয়, তখন তাদের বক্তব্য বা আচরণকে Res Gestae সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ Res Gestae এর মাধ্যমে এমন কথা বা আচরণকে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা হয় যা কোনো ঘটনার সময় বা ঘটনার পূর্বে বা পরবর্তীতে বলা বা করা হয়েছিল এবং যা সেই ঘটনার প্রকৃতি ও কারণ বুঝতে সাহায্য করে।

উদাহরণস্বরূপ:
⇒ একজন ব্যক্তি আঘাত পেয়ে "X আমাকে আঘাত করেছে" বলে কিছুক্ষণ পরেই মারা গেলে, এই বক্তব্যটি Res Gestae হিসাবে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হবে।
⇒ অপরাধের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়া অপরাধীর বক্তব্য বা আচরণ Res Gestae হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
⇒ দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন বক্তব্য Res Gestae হিসেবে গৃহীত হতে পারে।
.
Who may pass any sentence authorized by law according to Section 31(1) of The Code of Criminal Procedure, 1898?
  1. High Court Division
  2. Sessions Judge
  3. Joint Sessions Judge
  4. Both A & B
ব্যাখ্যা
Section 31- Sentences which High Court Division and Sessions Judges may pass:
(1) The High Court Division may pass any sentence authorized by law.
(2) A Sessions Judge or Additional Sessions Judge may pass any sentence authorized by law; but any sentence of death passed by any such Judge shall be subject to confirmation by the High Court Division.
(3) An Joint Sessions Judge may pass any sentence authorized by law, except a sentence of death or of transportation for a term exceeding ten years or of imprisonment for a term exceeding ten years.

• ধারা ৩১- হাইকোর্ট ও দায়রা জজ যেসব দণ্ড দিতে পারেন:
(১) হাইকোর্ট বিভাগ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।
(২) দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন; তবে এরূপ কোন মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা হইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে।
(৩) যুগ্ম দায়রা জজ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতিরেকে আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।
.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় অপরাধমূলক জ্ঞান [criminal knowledge] সম্পর্কে বিধান আছে?
  1. ৩৪ ধারা
  2. ৩৫ ধারা
  3. ৩৭ ধারা
  4. ৩৮ ধারা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ৩৫ – কোনো কাজ অপরাধ তখনই ধরা হবে, যদি তা অপরাধমূলক জ্ঞান বা অভিপ্রায়সহ করা হয়:
যখন কোনো কাজ শুধুমাত্র অপরাধমূলক জ্ঞান বা অভিপ্রায়সহ করায় তা অপরাধ হয়, এবং সেই কাজ একাধিক ব্যক্তি একত্রে করে, তখন যে প্রত্যেক ব্যক্তি ওই কাজের সাথে অপরাধমূলক জ্ঞান বা অভিপ্রায়সহ যুক্ত হয়, সে ওই কাজের জন্য একইভাবে দায়ী হবে, যেমনটি সে নিজেই একা ঐ জ্ঞান বা অভিপ্রায়সহ কাজটি করত।

সহজ ভাষায়:
যদি একটি কাজ অপরাধ শুধু এই কারণে হয় যে তা অপরাধ করার মানসিকতা বা জ্ঞানে করা হয়েছে, এবং অনেক লোক একসাথে সেই কাজ করে, তবে প্রত্যেকেই সমানভাবে দায়ী হবে — এমনকি যদি তারা নিজের হাতে কাজটি না-ও করে থাকে।

উদাহরণ:
তিনজন ব্যক্তি জানে যে তারা যে কাজটি করছে তা অবৈধ, এবং সবাই একসঙ্গে সেই কাজ সম্পন্ন করে। এ ক্ষেত্রে, তারা প্রত্যেকে সমানভাবে দায়ী হবে, যেন প্রত্যেকেই নিজে অপরাধটি করেছে।
.
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একজন রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দণ্ডিত হলে, তিনি তার দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করবেন?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. দায়রা জজ কোর্টে
  3. অতিরিক্ত দায়রা জজ কোর্টে
  4. মহানগর দায়রা জজ কোর্টে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: হাইকোর্ট বিভাগে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৮ ধারার বিধান -যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল:
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপিল দায়ের করতে পারবে।

নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-
(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় (রাষ্ট্রদ্রোহিতা) উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

The Code of Criminal Procedure, 1898 -Section 408- Appeal from sentence of Joint Sessions Judge and Magistrates of the first class:
Any person convicted on a trial held by a Joint Sessions Judge,Metropolitan Magistrate or any Judicial Magistrate of the first class, may appeal to the Sessions Judge:

Provided as Follws-
(a)When in any case a Joint Sessions Judge passes any sentence of imprisonment for a term exceeding five years, the appeal of all or any of the convicted persons shall lie to the High Court Division;

(b)When any person is convicted by a Metropolitan Magistrate or Judicial Magistrate specially empowered to try an offence under section 124A of the Penal Code, the appeal shall lie to the High Court Division.
.
Under Section 25 of The Evidence Act, 1872, which of the following is considered inadmissible?
  1. Dying declaration
  2. Admission in a civil suit
  3. Confession made in court
  4. Confession made to a police officer
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872, ধারা ২৫- Confession to police-officer not to be proved (পুলিশ অফিসারের কাছে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়):
"No confession made to a police-officer shall be proved as against a person accused of any offence."
“কোনো পুলিশ অফিসারের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা যাবে না।”

মূল বক্তব্য:
যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত হন, এবং তিনি কোনো স্বীকারোক্তি পুলিশ অফিসারকে দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

⇒ এটি একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশি বলপ্রয়োগ বা প্রলোভনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় থেকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বিধান।
.
'পরিবর্তিত চার্জ আসামিকে পড়ে শোনানোর বাধ্যবাধকতা'- ফৌজদারির কার্যবিধির কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ২২১ ধারা
  2. ২২৩ ধারা
  3. ২২৫ ধারা
  4. ২২৭ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন, সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, চার্জ হলো কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী।ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-

অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 227: Court may alter charge-
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.
.
'ক' একটি বিল অব এক্সচেঞ্জে নিজের নাম স্বাক্ষর করে। তার উদ্দেশ্য, বিলটিতে নিজের নাম স্বাক্ষর করে তা একই নামের অপর একজন ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি করবে। 'ক' _________ করেছে।
  1. প্রতারণা
  2. মানহানি
  3. জালিয়াতি
  4. মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: জালিয়াতি।

দণ্ডবিধির ধারা ৪৬৪: মিথ্যা দলিল তৈরি-
একজন ব্যক্তি মিথ্যা দলিল তৈরি করে বলে গণ্য হবে, যদি সে নিচের যেকোনো এক বা একাধিক উপায়ে কাজ করে:

প্রথমতঃ
যে ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে বা প্রতারণার মাধ্যমে কোনো দলিল বা দলিলের অংশ নিজে তৈরি করে, স্বাক্ষর করে, সীল দেয় বা কার্যকর করে বা এ ধরনের কোনো চিহ্ন তৈরি করে, যাতে এটি বিশ্বাসযোগ্য হয় যে উক্ত দলিলটি এমন একজন ব্যক্তি দ্বারা বা তার অনুমতিতে তৈরি, স্বাক্ষরিত, সীলযুক্ত বা কার্যকর হয়েছে—যার দ্বারা বা অনুমতিতে এটি বাস্তবে করা হয়নি, বা যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সে সময় এটি করা হয়নি—তাহলে এটি মিথ্যা দলিল তৈরি।

দ্বিতীয়তঃ
যে ব্যক্তি আইনানুগ কর্তৃত্ব ছাড়া, অসৎ বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে, নিজের বা অন্য কারো দ্বারা তৈরি করা একটি দলিলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশে বদল বা পরিবর্তন করে (যেমন কেটে দেওয়া বা যোগ করা), তা সে ব্যক্তি জীবিত হোক বা মৃত—তাও মিথ্যা দলিল তৈরি হিসেবে গণ্য হবে।

তৃতীয়তঃ
যে ব্যক্তি কারো মানসিক ভারসাম্যহীনতা, মাতলামি বা প্রতারণার কারণে তাকে বুঝতে না দিয়েই দলিলে স্বাক্ষর, সীল বা পরিবর্তন করায়—তবুও এটি মিথ্যা দলিল তৈরির অপরাধ।

ব্যাখ্যা ১:
একজন ব্যক্তি যদি নিজের নামেই স্বাক্ষর করেন, তবুও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেটি জালিয়াতি (Forgery) হিসেবে গণ্য হতে পারে।

উদাহরণ (ক):
A একটি বিল অব এক্সচেঞ্জে নিজের নামেই স্বাক্ষর করে, এই উদ্দেশ্যে যে, যেন লোকে মনে করে বিলটি অন্য একজন (যার নাম A-এর সঙ্গে মিলে যায়) তৈরি করেছে। এইভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নিজের নাম ব্যবহার করায়, A জালিয়াতি করেছে।
১০.
The Evidence Act,1872 এর ধারা ২৩ কোন ধরনের মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. কেবল ফৌজদারি মামলা
  2. কেবল দেওয়ানি মামলা
  3. ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম
  4. দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৩ ধারার বিধান: দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক:
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।
ব্যাখ্যা: কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না।

⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
- স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
- সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।

Section 23: Admissions in civil cases when relevant:
In civil cases no admission is relevant, if it is made either upon an express condition that evidence of it is not to be given, or under circumstances from which the Court can infer that the parties agreed together that evidence of it should not be given.
Explanation.– Nothing in this section shall be taken to exempt any Advocate from giving evidence of any matter of which he may be compelled to give evidence under section 126.
১১.
দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারা প্রযোজ্য হতে হলে অবরোধ বা আটক সর্বনিম্ন কতদিন হতে হবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ১০ দিন।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারার বিধান- দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে অবরোধ:
কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 344. Wrongful confinement for ten or more days:
Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
১২.
হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' দাবি করে যে; মানসিক অপ্রকৃতিস্থতার কারণে সে তার কৃতকার্যের বিষয় জ্ঞাত ছিল না। এই দাবি প্রমাণের দায়িত্ব কার?
  1. 'ক' এর
  2. আদালতের
  3. পুলিশের
  4. অভিযোগকারীর
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারার বিধান: আসামীর মোকদ্দমা যে ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে তা প্রমানের দায়িত্ব:
কোন অপরাধে কোন ব্যক্তি অভিযুক্ত হলে মোকদ্দমাটি যাতে দণ্ডবিধিতে বর্ণিত কোন বিশেষ ব্যতিক্রম বা এর অন্য কোন অংশে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে, এরূপ কোন পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযুক্ত ব্যক্তির অর্পিত থাকে এবং এ রূপ ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালত অনুরূপ পরিস্থিতি অনুপস্থিত বলে ধরে নিবেন।

উদাহরণ:
(ক) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' দাবি করে যে; মানসিক অপ্রকৃতিস্থতার কারণে সে তার কৃতকার্যের বিষয় জ্ঞাত ছিল না 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

(খ) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' নালিশ করে যে, আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সে গুরুতর ও আকস্মিক উস্কানির কারণে হারিয়ে ফেলেছিল। 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত। বিশেষভাবে যে ঘটনা কারও অবগতির মধ্যে রয়েছে।
১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির Chapter XX এর বিষয়বস্তু কী?
  1. সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি
  2. ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার পদ্ধতি
  3. দায়রা আদালতের বিচার পদ্ধতি
  4. হাইকোর্ট বিভাগের বিচার পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর Chapter XX: ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মামলার বিচার সংক্রান্ত (Trial of Cases by Magistrates):

ধারা এবং বিষয়বস্তু:
241- Procedure in cases- মামলার বিচারকালে অনুসরণীয় পদ্ধতি;
241A- When accused shall be discharged- অভিযুক্তকে কখন অব্যাহতি দেওয়া হবে;
242- Charge to be framed- অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত বিধান;
243- Conviction on admission of truth of accusation- অভিযুক্ত অপরাধ স্বীকার করলে দণ্ডাদেশ দেওয়া;
244- Procedure when no such admission is made- অভিযুক্ত যদি অপরাধ অস্বীকার করে, তখন করণীয়;
245- Acquittal- অভিযুক্তকে খালাস দেওয়ার বিধান;
247- Non-appearance of complainant- অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকলে করণীয়;
248- Withdrawal of complaint- অভিযোগ প্রত্যাহারের বিধান;
249- Power to stop proceedings when no complainant- অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকলে মামলার কার্যক্রম বন্ধ করার ক্ষমতা;
250- False, frivolous or vexatious accusations- মিথ্যা বা হয়রানিমূলক অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
১৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আদেশ অমান্য করার মধ্য দিয়ে কোনো ক্ষতি সংঘটিত হলে দণ্ডবিধি অনুসারে সর্বোচ্চ সাজা কত?
  1. ১ মাসের কারাদণ্ড
  2. ২ মাসের কারাদণ্ড
  3. ৩ মাসের কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ৬ মাসের কারাদণ্ড।

দণ্ডবিধি ১৮৮ ধারা: সরকারি কর্মচারীর বিধিসম্মত ঘোষিত আদেশ অমান্য করা-

যে কেউ, যদি জানে যে কোনো সরকারি কর্মচারী, যিনি আইনানুযায়ী কোনো আদেশ ঘোষণার ক্ষমতা রাখেন, তাকে (অর্থাৎ ওই ব্যক্তিকে) কোনো বিশেষ কাজ থেকে বিরত থাকতে বা তার দখলে বা তত্ত্বাবধানে থাকা কোনো সম্পত্তির বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং সে ব্যক্তি সেই আদেশ লঙ্ঘন করে—

তাহলে: যদি তার এই অবাধ্যতা কোনো বৈধভাবে নিযুক্ত ব্যক্তির জন্য বাধা, বিরক্তি, ক্ষতি বা তার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, তাহলে:
- সর্বোচ্চ এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বা
- ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা
- উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

আর যদি এই অবাধ্যতা মানবজীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য বিপদ সৃষ্টি করে বা এর সম্ভাবনা থাকে, অথবা দাঙ্গা বা সংঘর্ষের কারণ হয় বা তার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে:
- সর্বোচ্চ ছয় মাসের যে কোনো ধরণের (সাধারণ বা সশ্রম) কারাদণ্ড, বা
- ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা
- উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলার জন্য বিশেষ আদেশ জারি করা হয়। যদি কেউ জেনে-শুনে ১৪৪ ধারা অমান্য করেন, এবং তার ফলে দাঙ্গা, বিপদ, বা মানবজীবনের ক্ষতি ঘটে, তাহলে সেটা ১৮৮ ধারার গুরুতর অংশে পড়ে। তাই দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: ৬ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম বা সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।
১৫.
পুলিশ হেফাজতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ১৭২ ধারায়
  2. ১৭৪ ধারায়
  3. ১৭৬ ধারায়
  4. ১৭৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ ধারার বিধান: মৃত্যুর কারণ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইনকেয়ারী:
(১) কোন ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে মারা গেলে সুরতহাল তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাবান নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট অবশ্যই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত ছাড়াও বা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি করবেন এবং ধারা-১৭৪ এর উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ-(ক), (খ) ও (গ) এ বর্ণিত অন্যান্য ক্ষেত্রে উক্তরূপে ক্ষমতাবান যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক অনুষ্ঠিত তদন্ত ব্যতীতও অথবা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি সম্পন্ন করতে পারবেন এবং তিনি যদি এরূপ সম্পাদন করেন, সেক্ষেত্রে অপরাধ ইনকোয়ারীর বেলায়ও তাঁর যে পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে এক্ষেত্রেও তার একই পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ইনকোয়ারি পরিচালনাকালীন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি অনুসারে অতঃপর উল্লিখিত পন্থাসমূহের যে কোন একটি অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ নথিবদ্ধ করবেন।

(২) কবর হতে লাশ তুলার ক্ষমতা: যখনই কোন ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ কোন ব্যক্তির লাশ, যাকে ইতঃপূর্বে কবর দেয়া হয়েছে, পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন তার মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য, তখনই ওই ম্যাজিস্ট্রেট ওই লাশটি কবর হতে তোলাইয়া পরীক্ষা করাতে পারবেন।
১৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮ অনুসারে নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. অভিজ্ঞদের মতামত সর্বদা প্রাসঙ্গিক
  2. আইনজীবীর মতামত গ্রহণযোগ্য নয়
  3. আদালত মতামত সর্বদা প্রাসঙ্গিক নয়
  4. জানার সম্ভাব্যতা থাকা ব্যক্তির মতামত প্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যাঃ "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ঠ সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।

উদাহরণ
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।

Section 48- Opinion as to existence of right or custom, when relevant:

When the Court has to form an opinion as to the existence of any general custom or right, the opinions, as to the existence of such custom or right, of persons who would be likely to know of its existence if it existed, are relevant.

Explanation. The expression "general custom or right" includes customs or rights common to any considerable class of persons.
১৭.
কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অপরের ক্ষতি সাধনের জন্য মিথ্যা ফৌজদারি অভিযোগ করেন, তবে এটি দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীন দণ্ডনীয়?
  1. ধারা ২০১
  2. ধারা ২১০
  3. ধারা ২১১
  4. ধারা ২২১
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১১ ধারা বিধান- ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে অপরাধ বিষয়ক মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন:
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের জন্য উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করার বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সংগত বা আইনানুগ যুক্তি নাই বলে জানা সত্ত্বেও উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি মামলা রুজু করে বা অনুরূপ মামলা রুজু করায়, কিংবা উক্ত অন্য ব্যক্তির কোন অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

এবং যদি অনুরূপ ফৌজদারি মামলায়, মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
১৮.
According to Section 31 of The Evidence Act, 1872, an admission is:
  1. A complete defense
  2. Always conclusive proof
  3. Irrelevant to the case
  4. Not conclusive proof, but may act as estoppel
ব্যাখ্যা
 Section-31- Admissions not conclusive proof, but may stop: 
Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.

সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে: 
কোন বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
১৯.
দণ্ডবিধির ৯৮ ধারায় আত্মরক্ষার অধিকার কাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য?
  1. মাতাল ব্যক্তি
  2. মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি
  3. অপরিপক্ব বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি
  4. উপরের সবার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি ধারা ৯৮: উন্মাদ ব্যক্তি বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির কর্মের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার:
যখন কোনো কাজ, যা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অপরাধ হতো, কিন্তু তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না শুধুমাত্র এই কারণে যে- কাজটি করা ব্যক্তির বয়স কম, বুদ্ধি পরিপক্ব নয়, মানসিক ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে, অথবা তার কোনো বিভ্রান্তি রয়েছে—তখনও অন্য প্রতিটি ব্যক্তি সেই কাজের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার একই অধিকার ভোগ করে, যা সে পেত যদি ঐ কাজটি সত্যিই অপরাধ হতো।

উদাহরণ:
(ক) Z, উন্মাদ অবস্থায় A-কে হত্যা করার চেষ্টা করে; Z কোনো অপরাধে দোষী নয়। কিন্তু A আত্মরক্ষায় Z-এর বিরুদ্ধে সেই একই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, যেটা সে গ্রহণ করতে পারত যদি Z সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতো।

(খ) A রাতে এমন একটি ঘরে প্রবেশ করে যার মধ্যে প্রবেশ করার বৈধ অধিকার তার আছে। Z, ভুল করে A-কে গৃহভাঙনকারী ভেবে সৎ বিশ্বাসে আক্রমণ করে। এখানে Z তার এই ভুল ধারণার কারণে কোনো অপরাধ করে না। কিন্তু A আত্মরক্ষায় Z-এর বিরুদ্ধে ঠিক সেই একই অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, যেমনটা করত যদি Z সত্যিই অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে কাজ করত।
২০.
'ক' একটি সম্পদ ভর্তি বাক্স বহনকারী ষাঁড় দেখতে পায়; সে ষাঁড়টিকে একটি বিশেষ দিকে তাড়িয়ে দিতে থাকে যাতে সে অসাধুভাবে বাক্সটি হস্তগত করতে পারে। 'ক' নিচের কোন অপরাধটি করতে যাচ্ছে?
  1. চুরি
  2. দস্যুতা
  3. অসাধুভাবে আত্মসাৎ
  4. বলপূর্বক গ্রহণ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান- চুরি:
কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ:
(ক) A, Z-এর জমিতে থাকা একটি গাছ কেটে ফেলে, উদ্দেশ্য হলো গাছটি Z-এর সম্মতি ছাড়াই নিজের কবজায় নেওয়া। এখানে, যখনই A গাছটি কাটে এই উদ্দেশ্যে, সে চুরি করেছে।

(খ) A তার পকেটে কুকুরের খাবার রাখে এবং সেই খাবারের গন্ধে Z-এর কুকুর তাকে অনুসরণ করতে থাকে। যদি A-এর উদ্দেশ্য হয় Z-এর কুকুরটিকে Z-এর দখল থেকে সম্মতি ছাড়া সরিয়ে নেওয়া, তাহলে যেই মুহূর্তে কুকুরটি তাকে অনুসরণ শুরু করে, তখনই A চুরি করেছে।

(গ) A একটি ষাঁড়ের সামনে পড়ে, যে একটি গুপ্তধনের বাক্স বহন করছিল। A ষাঁড়টিকে একটি নির্দিষ্ট দিকে চালিয়ে দেয় যাতে সে গুপ্তধনটি অসৎ উদ্দেশ্যে নিতে পারে। ষাঁড়টি যখনই হাঁটা শুরু করে, তখনই A চুরি করেছে।

ব্যাখ্যা ৪:
যদি কেউ কোনো জীবন্ত বা অজীব বস্তুকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যাতে সে অন্যের দখল থেকে সম্পদ সরিয়ে নিতে পারে, তাহলে চুরি তখনই সম্পন্ন হয় যখন সেই সম্পদ নড়তে শুরু করে।
২১.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুসারে আদালত আক্রমণাত্মক প্রশ্ন করতে নিষিদ্ধ করবে?
  1. ১৫০ ধারা
  2. ১৫১ ধারা
  3. ১৫২ ধারা
  4. ১৫৩ ধারা
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৫২ ধারা অনুসারে,
আদালত এমন কোনো প্রশ্ন করতে নিষেধ করবে, যা তার দৃষ্টিতে কাউকে অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, অথবা যা প্রশ্ন হিসাবে যথাযথ হলেও, তার ভাষা বা উপস্থাপন অপ্রয়োজনীয়ভাবে আক্রমণাত্মক বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।

Section 152- Questions intended to insult or annoy:
The Court shall forbid any question which appears to it to be intended to insult or annoy, or which, though proper in itself, appears to the Court needlessly offensive in form.
২২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারায় কোন পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখতে পারেন?
  1. অপরাধ খুব গুরুতর হলে
  2. মামলার খরচাদি আদায়ের জন্য
  3. নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের জন্য
  4. মামলার অভিযোগকারী উপস্থিত না থাকলে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর : নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের জন্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার বিধান: পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখা (Postponement for issue of process)-
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ম্যাজিস্ট্রেট কোনও অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ (নালিশ) পান, তাহলে তিনি অভিযোগটি গ্রহণ করার আগেই সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। এজন্য তিনি প্রথমেই সমন বা পরোয়ানা ইস্যু করা স্থগিত রাখতে পারেন এবং নিজে তদন্ত করতে পারেন, অথবা অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ অফিসার বা তার মতে উপযুক্ত অন্য কাউকে সেই ঘটনার অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে, এই অনুসন্ধানের পূর্বে ২০০ ধারা অনুসারে অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা আবশ্যক, যদি না মামলাটি আদালতের নিজস্ব করা হয়।

⇒ যদি মামলাটি এমন কোনো অপরাধ সংক্রান্ত হয় যা শুধু দায়রা আদালতে বিচার্য, তাহলে অভিযুক্তকে ডাকার আগেই ম্যাজিস্ট্রেট অনুসন্ধান করতে পারেন এবং প্রাথমিক সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন। অভিযুক্তকে ডাকার পরে ফরিয়াদীকে তার সব সাক্ষী হাজির করতে বলা হয় এবং তাদের শপথ করিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

⇒ যদি অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ না হন, তাহলে তিনিও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মতো তদন্তের ক্ষমতা রাখেন—তবে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা ছাড়া।

⇒ পুলিশ যদি চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট সেই রিপোর্ট গ্রহণ করে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
২৩.
কয়টি ক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটানোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ৪টি; [ধারা: ১০৩, দণ্ডবিধি]।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০৩: যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়:
সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-
প্রথমত (First): দস্যুতা;
দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা অপথে গৃহে প্রবেশ করা:
তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।
২৪.
পাবলিক প্রসিকিউটর কোন সময়ে মামলা প্রত্যাহার করতে পারেন?
  1. রায় ঘোষণার পূর্বে
  2. চার্জ গঠনের আগে
  3. রায় ঘোষণার পরে
  4. বিচারিক কার্যধারা শুরুর আগে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪৯৪: মামলা প্রত্যাহারের ফল:
পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচ্ছে, তার যেকোন এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং উক্ত প্রত্যাহারের দরুন-
(ক) অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে তা করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দান করতে হবে; এবং
(খ) অভিযোগ প্রণয়নের পর তা করা হলে বা এই বিধির অধীন কোন অভিযোগ প্রণয়ন প্রয়োজন না হলে, উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে খালাস দিতে হবে।

Section 494: Effect of withdrawal from prosecution:
Any Public Prosecutor may, with the consent of the Court, before the judgment is pronounced, withdraw from the prosecution of any person either generally or in respect of any one or more of the offences for which he is tried; and upon such withdrawal-
(a) if it is made before a charge has been framed, the accused shall be discharged in respect of such offence or offences;
(b) if it is made after a charge has been framed, or when under Code no charge is required, he shall be acquitted in respect of such offence or offences.
২৫.
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ কাকে সহায়তা করেন?
  1. আদালতকে
  2. পুলিশকে
  3. বাদীকে
  4. বাদী ও বিবাদী উভয়কে
ব্যাখ্যা
 ⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত: -
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।

Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.- 
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
২৬.
বেসরকারি ব্যক্তি কর্তৃক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে, পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারামতে পুনরায় গ্রেফতার দেখাতে পারে?
  1. ৪১ ধারা
  2. ৪৬ ধারা
  3. ৫৪ ধারা
  4. ৫৫ ধারা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা- সাধারণ নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতার এবং গ্রেফতারের পরবর্তী কার্যপ্রণালী:
(১) যে কোন সাধারণ নাগরিক তার মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংগঠনকারীকে অথবা অপরাধী বলে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে পুলিশ অফিসারের নিকট দিবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানার হেফাজতে নিয়ে যাবেন অথবা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।

২) এরূপ ব্যক্তিকে ৫৪ ধারার বিধানের আওতাভুক্ত বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে কোন পুলিশ অফিসার পুনরায় গ্রেফতার করবেন।

(৩) সে আমলঅযোগ্য অপরাধ করেছে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে এবং পুলিশ অফিসারের দাবীকে সে নিজের নাম ও বাসস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকার করলে অথবা যদি এরূপ নাম ও বাসস্থান দেয় যা উক্ত অফিসারের মিথ্যা বলে বিশ্বাস করার কারণ ঘটে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার বিধানানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে কোন অপরাধ করেছে বলে বিশ্বাস করার মত যথেষ্ট কারণ না থাকলে তাকে সাথে সাথে ছেড়ে দিতে হবে।
২৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১০৭ অনুযায়ী, শান্তি রক্ষার জন্য জামিন আদায়ের আদেশ কোন ম্যাজিস্ট্রেট দিতে পারেন?
  1. পুলিশ
  2. শুধুমাত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. শুধুমাত্র জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১০৭: শান্তি রক্ষার জন্য জামানত আদায় (Security for keeping the peace in other cases):
১। যখন একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয় যে কোনো ব্যক্তি শান্তি ভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নিত করার সম্ভাবনা রাখে, অথবা কোনো অন্যায় কাজ করতে পারে যার ফলে শান্তি ভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, তখন ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে, তাহলে তিনি নিচের বিধি অনুযায়ী সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করতে পারেন যে, সে একটি জামিনপত্র (bond) দেবে, যেখানে জামিনদারসহ বা জামিনদারবিহীন হতে পারে, এবং যেটি শান্তি রক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় (সর্বোচ্চ এক বছর) পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

২। এই ধারা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবশ্যই নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে:
- অভিযোগ করা ব্যক্তি অথবা যেই স্থান থেকে শান্তি ভঙ্গ বা বিঘ্নের আশঙ্কা করা হচ্ছে, তারা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের মধ্যে হতে হবে।
- এছাড়া, কোনো ম্যাজিস্ট্রেট এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন না, যদি না উক্ত ব্যক্তি এবং স্থান উভয়ই তার এখতিয়ার এলাকার মধ্যে থাকে। এই ক্ষেত্রে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কেউ এ কাজ করতে পারবে না।
২৮.
A conviction based solely on the testimony of an accomplice is-
  1. illegal
  2. invalid
  3. valid
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৩ অনুযায়ী:
“An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.”

ধারা ১৩৩ বলছে: যদি একজন দুষ্কর্মের সহযোগী (accomplice) আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন এবং সেই সাক্ষ্য কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ ছাড়া (i.e., uncorroborated) হয়, তবুও শুধু এই কারণে আদালতের দেওয়া সাজা বেআইনী (illegal) বলা যাবে না।

আদালত যদি একমাত্র সহযোগীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে, সেটা আইনত valid বা বৈধ। যদিও বাস্তবে আদালত সাধারণত corroboration (অর্থাৎ, অন্য কোনো প্রমাণ বা সাক্ষ্যের মাধ্যমে সমর্থন) খোঁজে - কারণ accomplice-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। কিন্তু আইনগতভাবে আদালত একা সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই সাজা দিতে পারে।
২৯.
একজন দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোথায় আপিল করা হবে?
  1. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. চীফ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৭: দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল-
যেকোন ব্যক্তি যিনি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালিত বিচারে দোষী সাব্যস্ত হন, তিনি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-এর নিকট আপিল করতে পারবেন। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিজে সেই আপিল শুনে নিষ্পত্তি করতে পারেন অথবা তা যেকোন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে স্থানান্তর করে দিতে পারেন।

এছাড়াও, তিনি ইচ্ছা করলে পূর্বে স্থানান্তরিত আপিল পুনরায় নিজ দায়িত্বে নিতে (withdraw) পারেন।

৩০.
মৃত্যুকালীন ঘোষণা আদালতে প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজন-
  1. ভিডিও রেকর্ড
  2. পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট
  3. ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন
  4. যিনি শুনেছেন বা লিখেছেন তার সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
মৃত্যুকালীন ঘোষণা:
১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রদত্ত বিবৃতিকে সাধারণত মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলা হয়৷ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা মতে, কোন ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্বে যদি তার মৃত্যুর কারণ, অবস্থা এবং পরিস্থিতি বর্ণনা করে কোন বিবৃতি বা জবানবন্দি প্রদান করে থাকেন তবে তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলা হয়। মৃত্যুর সময় সাধারণত কোন মানুষ মিথ্যা কথা বলে না, সুতরাং এই ঘােষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায়: ১. লিখিত ভাবে ২. ইশারায় ৩. মৌখিকভাবে।
মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রযোজ্য: দেওয়ানি মোকদ্দমা ও ফৌজদারি মামলা উভয় ক্ষেত্রেই।

মৃত্যুকালীন ঘােষণা কিভাবে প্রমাণ করা যায়-
কোন মানুষ তার মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুর কারণ বা আংশকা প্রকাশ করে যদি প্রাসঙ্গিক ঘােষণা প্রদান করে তাহলে তা মৃত্যুকালীন ঘােষণা হিসেবে গণ্য হয়। মৃত্যুকালীন ঘােষণা পুলিশ অফিসারের নিকট দেয়া হােক বা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট দেয়া হােক বা সাধারণ মানুষের নিকট দেয়া হােক সকল ক্ষেত্রেই তা গ্রহণীয় হবে। এক্ষেত্রে যিনি মৃত্যুকালীন ঘােষণা লিখেছেন তাকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে হবে। সাক্ষ্য যদি মৌখিক হয় তাহলে যিনি তা শুনেছেন মর্মে আদালতে সাক্ষ্য দিতে হবে। এভাবে মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করা যায়।

মৃত্যুকালীন ঘােষণা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণীয় হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা;
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি;
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে;
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত;
ⅴ) পারিবারিক দলিল বা উইল;
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি;
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি;

⇒ মৃত্যুকালীন ঘােষণা দানকারী যদি দৈবাৎ বেঁচে যায় তাহলে ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনে অনুযায়ী তার ঘােষণা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণীয় হবে না। কারণ উক্ত ব্যক্তি বেঁচে থাকলে পরবর্তীতে তার ঘােষণা পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু মৃত্যুকালীন ঘােষণা দানকারী দৈবাৎ বেঁচে গেলে বাংলাদেশী আইন অনুযায়ী তার ঘােষণা একেবারে বাতিল হয় না। উক্ত বিবৃতি বা ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ১৫৭ ধারানুযায়ী সমর্থনমূলক সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
৩১.
দণ্ডবিধির ৩৬২ ধারানুসারে, 'Abduction' কত প্রকারে সংঘটিত হতে পারে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৬২- অপহরণ (Abduction):
যে কেউ, জোরপূর্বক কাউকে কোন স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে, অথবা কোন প্রকার প্রতারণামূলক উপায়ে কাউকে কোন স্থান থেকে যেতে প্ররোচিত করে, সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অপহরণ করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩৬২ ধারার অধীনে অপহরণ (Abduction) ২ প্রকারে সংঘটিত হতে পারে:
১. By Force (বলপ্রয়োগের মাধ্যমে):
যখন কাউকে জোরপূর্বক বা বলপ্রয়োগ করে কোন স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

উদাহরণ:
কাউকে মারধর করে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া।

২. By Deceitful Means (প্রতারণামূলক উপায়ে):
যখন কাউকে প্রতারণা করে বা ভুল বুঝিয়ে কোন স্থান ত্যাগ করতে উৎসাহিত/প্ররোচিত করা হয়।

উদাহরণ:
মিথ্যা প্রেম বা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে তার বাড়ি থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া।
৩২.
'আমলযোগ্য অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ অফিসারের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না' - এটি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ১৫৫(১) ধারায়
  2. ১৫৬(১) ধারায়
  3. ১৫৬(২) ধারায়
  4. ১৫৬(৩) ধারায়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ ধারা ১৫৬ – আমলযোগ্য অপরাধে তদন্ত (Investigation into cognizable cases):

ধারা ১৫৬(১):
যে কোনও পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়াই এমন কোনও আমলযোগ্য অপরাধের তদন্ত শুরু করতে পারেন, যা তার অধীনস্থ এলাকা বা সীমার মধ্যে পড়ে এবং যে মামলা সেই এলাকার কোনও আদালতের বিচারাধীন হতে পারে (অধ্যায় XV অনুযায়ী যেখানে বিচার হবে বা তদন্ত হবে)।

ধারা ১৫৬(২):
এমন কোনও মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার করা কোনও কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না এই অজুহাতে যে, তিনি এই ধারা অনুসারে তদন্ত করার ক্ষমতা রাখেন না।

ধারা ১৫৬(৩):
যে কোনও ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি ধারা ১৯০ অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত, তিনি উপর্যুক্তভাবে (উল্লেখিত আমলযোগ্য মামলায়) তদন্তের আদেশ দিতে পারেন।
৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারায় একজন অভিযুক্তকে আদালত কখন জিজ্ঞাসা করে যে, সে অপরাধটি করেছে কিনা?
  1. তদন্তের সময়
  2. চার্জ গঠনের সময়
  3. সাক্ষ্য শোনার সময়
  4. রায় দেয়ার ঠিক আগে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: চার্জ গঠনের সময়। 

⇒ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে। ২৪১ক ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিয়ে যদি এই মত পোষণ করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন তাহলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন। আর যদি অভিযুক্ত অপরাধ করেছে বলে মনে হয়, তবে যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে সেই অপরাধ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ২৪২ ধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারার বিধান- চার্জ গঠন:
যদি উপরোক্ত বিবেচনা ও শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে, অভিযুক্ত অপরাধ করেছে এমন ধারণা করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করবেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তিনি এই অপরাধটি করেছেন কিনা।

Section-242. Charge to be framed:
If, after such consideration and hearing as aforesaid, the Magistrate is of opinion that there is ground for presuming that the accused has committed an offence, the Magistrate shall frame a formal charge relating to the offence of which he is accused and he shall be asked whether he admits that he has committed the offence with which he is charged.
৩৪.
দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারার অধীনে কোনটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে?
  1. বেআইনি সমাবেশের সদস্য হওয়া
  2. মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে বেআইনি সমাবেশে যোগদান
  3. মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা করা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা- মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশে যোগদান করা:
কোন ব্যক্তি যদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটতে পারে তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন বেআইনি সমাবেশে যোগদান করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 144- Joining unlawful assembly armed with deadly weapon:
Whoever, being armed with any deadly weapon, or with anything which, used as a weapon of offence, is likely to cause death, is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক অনুসারে, অপর্যাপ্ত প্রমাণ সম্বলিত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দাখিল করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেন?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করবেন
  2. মামলাটি খারিজ করবেন
  3. অভিযুক্তকে দোষী ঘোষণা করতে পারেন
  4. অভিযুক্তকে সাময়িক অব্যাহতি দিতে পারেন
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭৩ক: অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন ইত্যাদি (Interim Investigation Report, etc):
(১) ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩-এর উপ-ধারা (১)-এ যা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ের অধীন কোনো মামলার তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে, সংশ্লিষ্ট তদন্তের তদারকিতে থাকা পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, অথবা সমপর্যায়ের অন্য কোনো কর্মকর্তা, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন (interim investigation report) দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারেন, যাতে মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে বর্ণনা থাকবে।

(২) যদি উক্ত অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় যে, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, তাহলে পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, অথবা সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারেন। এবং ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল (যার এখতিয়ার প্রযোজ্য), যদি সেই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হন, তাহলে তারা ওই অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারেন, তবে উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী শর্ত সাপেক্ষে এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়।

(৩) এই ধারা অনুযায়ী কোনো অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরে যদি যথেষ্ট ও প্রামাণিক প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ধারা ১৭৩ অনুযায়ী দাখিলকৃত পুলিশ প্রতিবেদনে (চার্জশিটে) তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য নন, অর্থাৎ তার নাম পুনরায় চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৪০ মূলত কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. আপিলের বিধান
  2. জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ
  3. রিভিশন শুনানির সময় পক্ষের বক্তব্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪৪০:
কোন আদালত যেক্ষেত্রে তার রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালতে কোন পক্ষেরই ব্যক্তিগতভাবে বা এডভোকেট কর্তৃক বক্তব্য দাখিলের অধিকার থাকবে নাঃ 
শর্ত থাকে যে, আদালত উপযুক্ত মনে করলে এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন পক্ষের বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে বা উকিলের কর্তৃক শ্রবণ করতে পারবেন; এবং এই ধারার কোন বিধান ধারা-৪৩৯ (২) কে প্রভাবিত করবে বলে গণ্য করা যাবে না।
 
Section 440: Optional with Court to hear parties-
No party has any right to be heard either personally or by pleader before any Court when exercising its powers of revision: 
Provided that the Court may, if it thinks fit, when exercising such powers, hear any party either personally or by pleader, and that nothing in this section shall be deemed to affect section 439, sub-section (2).
৩৭.
আদালতের কাছে প্রশ্ন হল, 'ক' একটি নির্ধারিত দিনে চট্টগ্রামে একটি অপরাধ করেছে কিনা। এক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারা অনুসারে নিচের কোনটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা?
  1. 'ক' উক্ত দিনে সৌদি আরব ছিল
  2. 'ক' উক্ত অপরাধের ব্যাপারে সচেতন ছিল
  3. 'ক' এর সাথে মামলার বাদীর বৈরী সম্পর্ক ছিল
  4. সবগুলো প্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা
⇒ "Plea of alibi" শব্দবন্ধটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "alibi" থেকে, যার অর্থ "অন্য কোথাও"।
সাধারণভাবে, Plea of alibi হল একটি প্রতিরক্ষামূলক বক্তব্য, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন যে অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, বরং অন্য কোনো স্থানে ছিলেন। অর্থাৎ, তিনি অপরাধ সংঘটনে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে পারতেন না, তাই তিনি দায়ী নন। সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় Plea of Alibi-কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১ অনুসারে, অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণ করা হলে, তা ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে পারে।

সাক্ষ্য আইন, ধারা ১১:
যে ঘটনা সাধারণত প্রাসঙ্গিক নয়, তা তখনই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে-
- যদি এটি কোনো মূল বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়।
- যদি এটি এককভাবে বা অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে কোনো মূল বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বকে অত্যন্ত সম্ভাব্য বা অসম্ভাব্য করে তোলে।

উদাহরণ:
(ক) প্রশ্ন উঠেছে, A নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রামে কোনো অপরাধ করেছে কিনা।
যদি প্রমাণিত হয় যে ওই দিনে A ঢাকায় ছিল, তাহলে এটি একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
এছাড়াও, যদি দেখা যায় যে অপরাধ সংঘটনের সময় A এমন একটি স্থানে ছিল, যেখান থেকে অপরাধস্থলে পৌঁছানো অত্যন্ত অসম্ভব, তবে সেটিও প্রাসঙ্গিক হবে।

(খ) প্রশ্ন উঠেছে, A কোনো অপরাধ করেছে কিনা।
পরিস্থিতি এমন যে, অপরাধটি হয় A, B, C অথবা D—এদের মধ্যে কেউ করেছে।
যে কোনো ঘটনা যা প্রমাণ করে যে অপরাধটি B, C বা D করেনি এবং অপরাধী শুধুমাত্র A হতে পারে, তা প্রাসঙ্গিক হবে।
৩৮.
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুকালে তার সম্পত্তি তার চাকর বা কর্মচারী কর্তৃক অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪০৪: মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তাঁর অধিকারে থাকা সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ-
যে ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের কাজে ব্যবহার করে, এই জেনে যে উক্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার অধিকারে ছিল এবং এখনো সেই সম্পত্তি কোনো আইনগতভাবে অধিকারে থাকা ব্যক্তির হেফাজতে যায়নি—তাহলে সে ব্যক্তি অনধিক তিন বছর মেয়াদের যেকোনো প্রকার কারাদণ্ডে (সশ্রম বা বিনাশ্রম) দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারে। যদি অপরাধী ঐ মৃত ব্যক্তির চাকর বা কর্মচারী হয়ে থাকে, তাহলে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে।

উদাহরণ:
Z মারা যায় এবং তার মৃত্যুর সময় তার হেফাজতে আসবাবপত্র ও অর্থ ছিল। তার চাকর A, সেই অর্থ এমন অবস্থায় অসৎভাবে আত্মসাৎ করে যখন তা এখনো কোনো বৈধ উত্তরাধিকারীর হেফাজতে যায়নি। এই অবস্থায়, A দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় অপরাধ করেছে।
৩৯.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা hostile witness সম্পর্কিত?
  1. ধারা ১৩৩
  2. ধারা ১৩৪
  3. ধারা ১৫৪
  4. ধারা ১৫৭
ব্যাখ্যা
Hostile witness:
Hostile witness বলতে এমন একজন সাক্ষীকে বোঝায়, যিনি যিনি তাকে আদালতে ডেকে আনা পক্ষের বিরুদ্ধে বা বিরুদ্ধভাবে সাক্ষ্য দেন — অর্থাৎ যিনি তার পূর্বে দেয়া বয়ান বা প্রত্যাশিত সাক্ষ্যের বিপরীত বক্তব্য দেন এবং আদালতের কাছে অবিশ্বস্ত বা পক্ষদ্বার বিরোধী আচরণকারী হিসেবে প্রতিভাত হন।

আইনগত ভিত্তি:
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী-
আদালত, তার বিবেচনায়, অনুমতি দিলে যে কোনো পক্ষ তার নিজ ডাকা সাক্ষীকে প্রতিকূল (hostile) হিসেবে ঘোষণা করে জেরা (cross-examine) করতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনে বৈরী সাক্ষীর কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। তবে সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার বিধান মতে স্বীয় সাক্ষীকে বিরুদ্ধ পক্ষের মত জেরা করার বিধান আছে। আদালতের প্রচলিত ভাষায় স্বীয় সাক্ষীকে জেরা করার পুর্বে শত্রু বা বৈরী সাক্ষী বলা হয়। বৈরী সাক্ষীকে জেরা করতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হয়। আদালত যদি মনে করেন যে, আহ্বানকারী পক্ষের প্রতি সাক্ষীর কথাবার্তা শত্রু পক্ষের মত হয়ে গেছে, তাহলে আদালত আহ্বানকারী পক্ষকে বিরুদ্ধ পক্ষের ন্যায় তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি দিতে পারেন। সাক্ষীকে জেরা করতে দেওয়ার অধিকার আদলতের বিবেচনার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
৪০.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. সর্বদা সশ্রম হবে
  2. সর্বদা বিনাশ্রম হবে
  3. সশ্রম বা বিনাশ্রম হতে পারে
  4. দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইচ্ছা অনুযায়ী বেছে নিতে পারে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty);
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life);
(iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple);
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property);
(v) অর্থদণ্ড (fine).

ব্যাখ্যা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
৪১.
অজ্ঞাত পরিচয়ের [anonymous communication] মাধ্যমে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭- অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন:
যে ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে, বা যে ব্যক্তি হুমকি প্রদানের জন্য যার নাম বা অবস্থান গোপন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছরের পর্যন্ত যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া, এই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত শাস্তিও তাকে প্রদান করা হবে।

Criminal intimidation by an anonymous communication:
Whoever commits the offence of criminal intimidation by an anonymous communication, or having taken precaution to conceal the name or abode of the person from whom the threat comes, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, in addition to the punishment provided for the offence by the last preceding section.
৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ অনুযায়ী, যদি অভিযোগকারী একজন সরকারি কর্মচারী হন এবং তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজন না হয়, তাহলে—
  1. মামলাটি বাতিল হবে
  2. মামলাটি স্থগিত করা হবে
  3. মামলাটি হাইকোর্টে যাবে
  4. মামলার কার্যক্রম চলমান থাকতে পারে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ – অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকলে:
যদি কোনো মামলায় সমন ইস্যু করা হয়ে থাকে অভিযোগের ভিত্তিতে, এবং যেদিন অভিযুক্ত ব্যক্তির হাজিরার দিন নির্ধারিত হয় অথবা যেকোনো পরবর্তী দিন যেদিন মামলার শুনানি মুলতবি করা হয়েছে, সেইদিন অভিযোগকারী উপস্থিত না থাকলে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস দিয়ে দেবেন, যদি না ম্যাজিস্ট্রেট কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে মনে করেন যে, মামলার শুনানি অন্য কোনো দিনে স্থগিত করা উচিত।

তবে শর্ত থাকে যে: যদি অভিযোগকারী একজন সরকারি কর্মচারী হন, এবং তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজন না হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতি অব্যাহতি দিতে পারেন, এবং মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-247. Non-appearance of complainant:
If the summons has been issued on complaint, and upon the day appointed for the appearance of the accused, or any day subsequent thereto which the hearing may be adjourned, the complainant does not appear, the Magistrate shall, notwithstanding anything herein before contained, acquit the accused, unless for some reason he thinks proper to adjoin the hearing of the case to some other day:
Provided that, where the complainant is a public servant and his personal attendance is not required, the Magistrate may dispense with his attendance, and proceed with the case.
৪৩.
একজন বোবা সাক্ষী আদালতে লিখে সাক্ষ্য দিচ্ছে, এ ক্ষেত্রে তার এই লিখিত বক্তব্য কী হিসেবে গণ্য হবে?
  1. লিখিত সাক্ষ্য
  2. মৌখিক সাক্ষ্য
  3. গোপন সাক্ষ্য
  4. অনুমানভিত্তিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা- বোবা সাক্ষী:
"একজন সাক্ষী যদি কথা বলতে অক্ষম হন, তাহলে তিনি লিখে বা ইশারা করে যেভাবে বোঝাতে পারেন, সেইভাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন; তবে সেই লিখিত বক্তব্য বা ইশারা অবশ্যই প্রকাশ্য আদালতে (open Court) লিখতে বা করতে হবে। এইভাবে যেই সাক্ষ্য প্রদান করা হবে, তা মৌখিক সাক্ষ্য (oral evidence) বলে গণ্য হবে।"

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১৯ অনুযায়ী, বোবা সাক্ষী যদি লিখিতভাবে বা ইশারার মাধ্যমে সাক্ষ্য দেন, তাহলে তা মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে, যদিও এটি লিখিত বা ইশারার মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section 119- Dumb witnesses:
A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.
৪৪.
The Penal Code, 1860 এর ৩০৪ ধারায় নিচের কোন অপরাধের সাজা বর্ণিত আছে?
  1. খুন
  2. আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া
  3. অপরাধমূলক নরহত্যা, যা খুন নয়
  4. অবহেলাজনিত মৃত্যু
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) অপরাধমূলক নরহত্যা, যা খুন নয়।

দণ্ডবিধি ধারা ৩০৪ — খুন না হওয়া অপরাধমূলক নরহত্যার জন্য দণ্ড:
(Section 304 – Punishment for culpable homicide not amounting to murder)
যে ব্যক্তি অপরাধমূলক নরহত্যা করে, যা খুন নয়, সে ব্যক্তিকে নিচের এক বা একাধিক শাস্তিতে দণ্ডিত করা যেতে পারে:

(১) যদি মৃত্যু ঘটানো হয় —
মৃত্যু ঘটানোর ইচ্ছা নিয়ে, অথবা
এমন শারীরিক আঘাত দেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে যা মৃত্যু ঘটাতে পারে —
তাহলে তাকে আজীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ড-এ দণ্ডিত করা যেতে পারে।

(২) আর যদি কাজটি করা হয় —
এমন জ্ঞানসহ, যে কাজটি মৃত্যু ঘটাতে পারে,
কিন্তু মৃত্যু ঘটানোর কোন ইচ্ছা ছিল না,
তাহলে তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
৪৫.
একটি বাড়িতে ৬ জন মিলে ডাকাতি করতে যায়। ডাকাতির সময় তাদের একজন গৃহস্বামীকে মারধর করে হত্যা করে। এই ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কী দণ্ড দেওয়া যেতে পারে?
  1. প্রত্যেকেরই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে
  2. কেবল হত্যাকারী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে
  3. বাকি সদস্যদের শুধু অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) প্রত্যেকেরই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান- খুনসহকারে ডাকাতি:
যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

⇒ ধারা ৩৯৬ বলছে:
যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি সম্মিলিতভাবে ডাকাতি করে এবং সেই সময়ে তাদের মধ্যেকার কেউ খুন করে, তবে সবাই সমানভাবে দায়ী হবে। সুতরাং, শুধু হত্যাকারী নয়, বাকিরাও ডাকাতি ও খুনের ঘটনার জন্য সমানভাবে দণ্ডনীয়, কারণ তারা সংঘবদ্ধভাবে অপরাধে অংশগ্রহণ করেছে।
৪৬.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৯৩ অনুযায়ী, কোন ধরনের দলিল সাক্ষ্যের মাধ্যমে ব্যাখ্যা বা সংশোধন করা যায় না?
  1. নকল দলিল
  2. আদালতে জমাকৃত দলিল
  3. সরকারি দলিল
  4. অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ দলিল
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ ধারা ৯৩ – অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ দলিল ব্যাখ্যা বা সংশোধনের জন্য সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়:
যখন কোনো দলিলে ব্যবহৃত ভাষা নিজে থেকেই অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ (অর্থাৎ, দলিলের ভাষা দেখে বুঝা যায় যে সেখানে অস্পষ্টতা বা ভুল রয়েছে), তখন তথ্যপ্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয় যা ঐ অস্পষ্টতার অর্থ বোঝাতে বা ত্রুটি সংশোধনে ব্যবহৃত হতে পারে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) A লিখিতভাবে B-কে একটি ঘোড়া ১,০০০ টাকা বা ১,৫০০ টাকায় বিক্রি করতে রাজি হয়।
→ এখানে মূল্য দুটি দেওয়া আছে – সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না কোন মূল্যটি ঠিক ছিল তা প্রমাণ করতে।

(খ) একটি দলিলে কিছু ফাঁকা জায়গা (blanks) আছে।
→ সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না এই ফাঁকাগুলো কীভাবে পূরণ করা ছিল তা দেখানোর জন্য।
৪৭.
'ক' ইচ্ছাকৃতভাবে 'খ' কে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনায় 'ক' এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
এই ঘটনাটি ধারা ৩২৪ (স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান, বিপজ্জনক অস্ত্র দ্বারা) এর অধীনে পড়ে।
এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ গুলি চালানোর, ছুরি মারার, আগুন, বিষ বা অনুরূপ বিপজ্জনক উপায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, তবে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে: ৩ বছরের জেল, বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড।

The Penal Code, 1860 এর ধারা ৩২৪ – বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায় দ্বারা স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান:
যে কেউ, ধারা ৩৩৪-এ উল্লিখিত ক্ষেত্রে ব্যতীত, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে- কোনো গুলি চালানোর, ছুরিকাঘাত করার বা কাটার উপযোগী যন্ত্র ব্যবহার করে, অথবা এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করে যা আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা তৈরি করে, অথবা আগুন বা উত্তপ্ত বস্তু, বিষ বা দাহ্য পদার্থ, বিস্ফোরক দ্রব্য, এমন কোনো পদার্থ যা শ্বাস নেওয়া, গেলা বা রক্তে প্রবেশ করানো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর, বা কোনো প্রাণী ব্যবহার করে, তবে তাকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
৪৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারায় তল্লাশির সময় সর্বনিম্ন কতজন স্থানীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকতে হবে?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ নেই
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ২ জন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা- সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশী কার্যক্রম চালাতে হবে:

(১) এই অধ্যায় মোতাবেক তল্লাশী করার পূর্বে যে অফিসার বা ব্যক্তি তা করতে গিয়েছেন, তিনি যে এলাকার মধ্যে, যে স্থান তল্লাশী করতে হবে তা অবস্থিত, সেই এলাকার দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ ও গণ্যমান্য অধিবাসীকে তল্লাশীর সাক্ষী হবার জন্য আহ্বান করবেন এবং এরূপ করার জন্য তাদেরকে বা তাদের যে কোন একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন।

(২) তাদের সমক্ষে তল্লাশী করতে হবে, এবং ঐরূপ অফিসার বা অন্য ব্যক্তি ঐরূপ তল্লাশী করার সময় যেসব জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং যেসব স্থানে ঐগুলি যথাক্রমে পাওয়া যায় তার একটি তালিকা তৈয়ারী করবেন এবং ঐরূপ সাক্ষীগণ তাতে সহি দিবেন; কিন্তু আদালত বিশেষভাবে সমন না দিলে এই ধারায় সম্পাদিত তল্লাশী দর্শনকারী ব্যক্তিকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 103- Search to be made in presence of witnesses:
(1) Before making a search under this Chapter, the officer or other person about to make it shall call upon two or more respectable inhabitants of the locality in which the place to be searched is situate to attend and witness the search and may issue an order in writing to them or any of them so to do.

(2) The search shall be made in their presence, and a list of all things seized in the course of such search and of the places in which they are respectively found shall be prepared by such officer or other person and signed by such witnesses; but no person witnessing a search under this section shall be required to attend the Court as a witness of the search unless specially summoned by it.
৪৯.
'পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়'- এটি সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় বলা আছে?
  1. ২৩ ধারা
  2. ২৪ ধারা
  3. ২৫ ধারা
  4. ২৬ ধারা
ব্যাখ্যা
The Evidence Act, 1872 এর ধারা ২৬ – পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়-
কোনো ব্যক্তি যদি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন স্বীকারোক্তি দেয়, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না তা ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি উপস্থিতিতে প্রদান করা হয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় “ম্যাজিস্ট্রেট” বলতে কোনো গ্রামের প্রধানকে বোঝানো হয় না, যদি না তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

Confession by accused while in custody of police not to be proved against him-
No confession made by any person whilst he is in the custody of a police-officer, unless it be made in the immediate presence of a Magistrate, shall be proved as against such person.
Explanation.– In this section "Magistrate" does not include the head of a village discharging magisterial functions unless such headman is a Magistrate exercising the powers of a Magistrate under the Code of Criminal Procedure, 1898.
৫০.
একই মহানগরে এক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত থেকে অন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা স্থানান্তর করতে পারেন-
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. মহানগর দায়রা জজ
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

• ধারা ৫২৮- দায়রা জজ সহকারী দায়রা জজের কাছে থেকে মোকদ্দমা তুলে নিতে পারবেন
(১) দায়রা জজ তার অধঃস্তন সহকারী দায়রা জজের কাছ থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাকে যে মামলা দিয়েছেন তা তলব করতে পারবেন।

(১ক) দায়রা জজ কোন অতিরিক্ত দায়রা জজকে যে মামলা বা আপীল দিয়েছিলেন উক্ত অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট যেকোন সময় উক্ত মামলার বিচার বা আপীলের শুনানী আরম্ভের পূর্বে তিনি তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন।

(১খ) যেক্ষেত্রে দায়রা জজ উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন মামলা তুলিয়ে নেন বা ফেরত নেন কিংবা উপ-ধারা (১এ) এর অধীন কোন মামলা বা আপীল ফেরত নেন, সেক্ষেত্রে তিনি নিজের আদালতে উক্ত মামলার বিচার করতে বা নিজে উক্ত আপীল শ্রবণ করতে পারবেন, কিংবা এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে উহা বিচার বা শুনানীর জন্য অন্য কোন আদালতে দিতে পারবেন।

(২) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাঁকে যে মামলা দিয়েছিলেন, তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন, এবং নিজে এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন, বা এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচারের যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর তা ইনকোয়ারী বা বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারবেন।

(৩) সরকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এ মর্মে ক্ষমতা দিতে পারবেন যে, তিনি যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শ্রেণীর মামলা বা কোন বিশেষ শ্রেণীর মামলা তার অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে নিতে পারবেন।

(৪) কোন ম্যাজিট্রেট ধারা-১৯২ এর উপধারা (২) এর অধীন কোন মামলা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়েছেন উক্ত মামলা তিনি ফিরিয়ে নিতে এবং নিজে উহার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন।

(৫) কোন ম্যাজিস্ট্রেট এই ধারার অধীন কোন আদেশ দেবার সময় তার এরূপ আদেশ প্রদানের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।
৫১.
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে, তবে সেটি The Penal Code, 1860 এর কত ধারার অধীনে 'প্রতারণা' হিসেবে বিবেচিত হবে?
  1. ধারা ৪১১
  2. ধারা ৪১৫
  3. ধারা ৪১৭
  4. ধারা ৪১৯
ব্যাখ্যা
The Penal Code, 1860 এর ধারা ৪১৫ - প্রতারণা (Cheating):
যে কেউ, কোনো ব্যক্তিকে প্রতারণা করে এবং সেই প্রতারণার মাধ্যমে সেই প্রতারিত ব্যক্তিকে কাউকে কোনো সম্পত্তি দিতে বা কাউকে সেই সম্পত্তি ধরে রাখতে সম্মতি জানাতে প্ররোচিত করে, অথবা এমন কিছু করতে বা না করতে প্ররোচিত করে, যা সে প্রতারিত না হলে করত না বা বাদ দিত না, এবং যার ফলে সেই ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি বা ক্ষতির সম্ভাবনা ঘটে, তাহলে ঐ ব্যক্তিকে “প্রতারক” বলা হয়।

ব্যাখ্যা: যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে, তবে সেটিও এই ধারার অধীনে প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) A মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বলে যে সে সরকারি চাকরিজীবী। এভাবে সে Z-কে প্রতারিত করে এবং Z তাকে পণ্য দেয়, যা A আসলে পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে না। → A প্রতারণা করেছে।

(খ) A একটি জিনিসে নকল চিহ্ন লাগিয়ে Z-কে এই বিশ্বাসে ঠকায় যে এটা কোনো বিখ্যাত কোম্পানির তৈরি, এবং Z সেটি কিনে ফেলে। → A প্রতারণা করেছে।

(গ) A একটি ভুয়া নমুনা দেখিয়ে Z-কে বিশ্বাস করায় যে পুরো মাল সে রকমই, এবং Z তাকে দাম দিয়ে পণ্য কিনে। → A প্রতারণা করেছে।

(ঘ) A এমন একটি বিল দিয়ে মূল্য পরিশোধ করতে চায়, যেটি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের উপর তৈরি যার সঙ্গে তার কোনো লেনদেন নেই। সে জানে যে বিলটি বাতিল হবে। Z-কে এভাবে ঠকিয়ে পণ্য নেয়। → A প্রতারণা করেছে।

(ঙ) A হীরা বলে নকল বস্তু জমা দিয়ে Z-এর কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। → A প্রতারণা করেছে।

(চ) A, Z-কে মিথ্যা আশ্বাস দেয় যে সে টাকা ফেরত দেবে, যদিও তার কোনো ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা নেই। Z তাকে টাকা দেয়। → A প্রতারণা করেছে।

(ছ) A, Z-কে ভুলভাবে বিশ্বাস করায় যে সে নির্দিষ্ট পরিমাণ নীল গাছ সরবরাহ করবে, যদিও তার কোনো ইচ্ছা নেই তা সরবরাহের। Z আগাম টাকা দেয়। → A প্রতারণা করেছে।
→ তবে, যদি A তখন সত্যিই সরবরাহ করতে চায় এবং পরে তা না করে, তাহলে সেটা শুধুই চুক্তি ভঙ্গ, প্রতারণা নয়।

(জ) A, Z-এর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করেও মিথ্যা বলার মাধ্যমে Z থেকে টাকা আদায় করে। → A প্রতারণা করেছে।

(ঝ) A তার একটি সম্পত্তি B-কে বিক্রি করে, এবং পরে Z-কে না জানিয়ে আবার সেটি বিক্রি বা বন্ধক দেয়। সে জানে তার আর ঐ সম্পত্তির মালিকানা নেই, তবুও Z-এর কাছ থেকে টাকা নেয়। → A প্রতারণা করেছে।
৫২.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৬৩ অনুযায়ী, দলিল প্রদর্শন ও পরিদর্শনের পরে দলিলকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়-
  1. যদি দলিলটি সরকারি হয়
  2. যদি উভয় পক্ষ সম্মত হয়
  3. যদি আদালত আদেশ দেয়
  4. যদি দলিল প্রদানকারী পক্ষ চায়
ব্যাখ্যা
Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৬৩- নোটিশে তলব করা ও প্রদত্ত দলিলকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার:
যখন কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে কোনো দলিল তলব করে, এবং সেই দলিল প্রদর্শন করা হয় ও তলবকারী পক্ষ তা পরিদর্শন করে, তখন যদি দলিল প্রদানকারী পক্ষ চায়, তাহলে তলবকারী পক্ষ বাধ্য থাকবে সেই দলিলকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে।

"When a party calls for a document which he has given the other party notice to produce, and such document is produced and inspected by the party calling for its production, he is bound to give it as evidence if the party producing it requires him to do so."