পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়30 minutes
মোট প্রশ্ন৪৭
সিলেবাস
৪৬তম বি.সি.এস. প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন বিষয়ের নাম: বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ [৮০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন

.
গোপাল হালদার রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম -
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  2. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  3. বাংলা সাহিত্যের কথা
  4. বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
ব্যাখ্যা
• গোপাল হালদার রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (২ খণ্ড)।

অন্যদিকে,
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের কথা।
• ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।
• মাহবুবুল আলম রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম - বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
কোনটি বাগ্‌যন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ?
  1. আলজিভ
  2. জিভ
  3. দাঁত
  4. মূর্ধা
ব্যাখ্যা
বাগ্‌যন্ত্র:
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
- বাগ্‌যন্ত্রের অংশ সমূহ:
১. ফুসফুস, 
২. শ্বাসনালি,
৩. স্বরযন্ত্র,
৪. জিভ,
৫. আলজিভ,
৬. তালু,
৭. মূর্ধা,
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত),
৯. ওষ্ঠ,
১০. নাসিকা ইত্যাদি।

জিভ:
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান। 
- বাগ্‌যন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ
- জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
কোন শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে?
  1. অন্ন
  2. তৃষ্ণা
  3. মধ্যাহ্ন
  4. রত্ন
ব্যাখ্যা
তৃষ্ণা - শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে।
- 'ষ্ণ' যুক্তবানানে (ষ + ণ) রয়েছে। 

ণ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

অন্যদিকে,
- 'অন্ন' শব্দের 'ন্ন' যুক্তবর্ণে (ন্‌ + ন) রয়েছে।
- 'মধ্যাহ্ন' শব্দের 'হ্ন' যুক্তবর্ণে (হ্‌ + ন) রয়েছে।
- 'রত্ন' শব্দের 'ত্ন' যুক্তবর্ণে (ত্‌ + ন) রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
ব্যাখ্যা
• তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি -

তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• কম্পিত ব্যঞ্জন - র।
• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন - ল।
• উষ্ম ব্যঞ্জন - হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি -
  1. ট, ঙ
  2. ত, ল
  3. প, ন
  4. শ, ঠ
ব্যাখ্যা
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, , র, , ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, , হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, , চ, ছ, , ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
কোনটি ব্যাকরণের অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. উক্তি
  2. বাক্যের যোগ্যতা
  3. বিপরীত শব্দ
  4. শব্দগঠন প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. ধ্বনিতত্ত্ব,
২. রূপতত্ত্ব,
৩. বাক্যতত্ত্ব ও
৪. অর্থতত্ত্ব।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

অন্যদিকে,
• বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - উক্তি, বাক্যের যোগ্যতা।
• রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'গীতিকা' কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক্ষুদ্রার্থে
  2. বৃহদার্থে
  3. সমার্থে
  4. বিপরীতার্থে
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রার্থে স্ত্রীবাচক শব্দ - গীতিকা

স্ত্রীলিঙ্গান্তর করলে ক্ষুদ্রার্থ প্রকাশ পায়, এমন কয়েকটি শব্দ:
→ একাঙ্ক - একাঙ্কিকা,
→ নাটক - নাটিকা,
→ মালা - মালিকা,
→ গীত - গীতিকা,
→ পুস্তক - পুস্তিকা,
→ ঘট - ঘটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হয়েও বহুবচন বোঝাচ্ছে -
  1. কলমগুলোর দাম অনেক।
  2. ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।
  3. পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়।
  4. মাঝিরা নৌকা চালায়।
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলাে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়। 
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
- বাগানে ফুল ফুটেছে।
- পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
.
বাংলা ধাতু কোনটি?
  1. খাদ্‌
  2. পঠ্‌
  3. বুঝ্‌
  4. হস্‌
ব্যাখ্যা
• বাংলা ধাতু - বুঝ্‌

• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ্‌, জান্‌, নাচ্, বুঝ্‌ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন - কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, খাদ্‌, পঠ্‌, হস্‌ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
'অভি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. আধিপত্য
  2. ব্যাপ্তি
  3. সম্যক
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা
• 'অভি' উপসর্গটি সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অভি' উপসর্গের ব্যবহার:
- সম্যক অর্থে = অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত।
- উত্তম অর্থে = অভিজাত।
- গমন অর্থে = অভিযান, অভিসার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১১.
'সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. স্বরলোপ
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. স্বরাগম
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন -
বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন - অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বৰ্ণ ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ

- স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
'সাদৃশ্য' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. উপকণ্ঠ
  2. উপকূল
  3. উপনগরী
  4. উপশহর
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• সামীপ্য (উপ):
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- নগরীর সমীপে = উপনগরী
সাদৃশ্য (উপ):
- শহরের সদৃশ = উপশহর,
- গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ,
- বনের সদৃশ = উপবন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'খাসমহল' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা উপসর্গযোগে
  2. সংস্কৃত উপসর্গযোগে
  3. বিদেশি উপসর্গযোগে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'খাসমহল' শব্দটি বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
→ আম্‌ - আমদরবার।
→ খাস - খাসমহল
→ লা - লাপাত্তা।
→ গর্‌ - গরমিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. ড্যাশ
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় - ড্যাশ

যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• যতিচিহ্নকে দুভাগে ফেলা যায়। যথা:
১. প্রান্তিক অর্থাৎ বাক্য যেখানে শেষ হয়।
যেমন: দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন
২. বাক্যান্তর্গত অর্থাৎ যেখানে বাক্য শেষ হয় না।
যেমন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. চলন্ত
  2. ডুবুরি
  3. তিন
  4. নীলাকাশ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ - তিন

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন

অন্যদিকে,
বাকিগুলো সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
‘কোকিল’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. কলকণ্ঠ
  2. পরভৃত
  3. বাসন্তী
  4. মধুসখা
ব্যাখ্যা
• ‘কোকিল’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় - বাসন্তী

• বাসন্তী শব্দের অর্থ - বসন্ত সংক্রান্ত; কমলালেবুর বর্ণযুক্ত।

‘কোকিল’ শব্দের আরো কিছু সমার্থক শব্দ:
- কাকপুষ্ট, পরপুষ্ট, পিক, বসন্তদূত, অন্যপুষ্ট, মধুস্বর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭.
’রোজ' শব্দটি কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. উর্দু
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• ‘রোজ’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

কিছু ফারসি শব্দ:
- আসমান,
- কশিদা,
- কয়েদি,
- কাগজ,
- কাজি, 
- কারিগর,
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- রোজনামচা,
- লাল,
- লুঙ্গি, 
- সাদা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আরবি শব্দ: ইবাদত, ইনসান, এতিম, এলাকা, এলাহি, তুফান ইত্যাদি।
• হিন্দি শব্দ: কাচারি, দুলকি, দাঙ্গা, রোকড়, লড়াকু, লেনদেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. জিভ
  2. ডাগর
  3. পৃথিবী
  4. হাত
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ - পৃথিবী

বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. তৎসম,
২. তদ্ভব,
৩. দেশি ও
৪. বিদেশি।
- এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তদ্ভব শব্দ - জিভ, হাত।
• দেশি শব্দ - ডাগর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
ভুল বানান কোনটি?
  1. শুশ্রুষা
  2. সমীচীন
  3. স্বায়ত্ত
  4. সান্ত্বনা
ব্যাখ্যা
• ভুল বানান - শুশ্রুষা
- শুদ্ধ বানান - শুশ্রূষা।
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: পরিচর্যা, সেবা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০.
‘পুত্র’ শব্দের প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. অঙ্গজ
  2. অণ্ডজ
  3. আত্মজ
  4. সুত
ব্যাখ্যা
• ‘পুত্র’ শব্দের প্রতিশব্দ নয় - অণ্ডজ
- এটি 'পাখি' শব্দের প্রতিশব্দ।

‘পুত্র’ শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- নন্দন, তনয়, ছেলে, দুলাল, সূনু৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১.
'অর্থে অনর্থ ঘটায়।' - বাক্যে 'অর্থে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)

• কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির ব্যবহার

'এ' বিভক্তি:
- অর্থে অনর্থ ঘটায়।
-গাঁয় মানে না, আপনি মোড়ল।
- পাগলে কী না বলে,ছাগলে কী না খায়।

•'য়' বিভক্তি
- ঘোড়া গাড়ি টানে।

•'তে' বিভক্তি:
- গরুতে দুধ দেয়।
-বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কীসে?

• 'অর্থে অনর্থ ঘটায়।'
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কে অনর্থ ঘটায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অর্থে'। তাই, 'অর্থে' কর্তয় ৭মী বিভক্তি।

অন্যদিকে, 'অর্থে অনর্থ ঘটে।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসে অনর্থ ঘটে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অর্থে'।
তাই, 'অর্থে' করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতি + উক্তি = অত্যূক্তি
  2. বন + ওষধি = বনৌষধি
  3. যা + ইচ্ছে + তাই = যাচ্ছেতাই
  4. সদ + এব = সদৈব
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - বন + ওষধি = বনৌষধি
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- বাকি অপশনগুলোও স্বরসন্ধির উদাহরণ। 
- যাদের শুদ্ধরূপ -
→ অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
→ যা + ইচ্ছা + তাই = যাচ্ছেতাই।
→ সদা + এব = সদৈব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
কোনটি 'মৃগনয়না' শব্দের ব্যাসবাক্য?
  1. নয়ন মৃগের ন্যায়
  2. নয়ন মৃগীর ন্যায়
  3. মৃগের ন্যায় নয়ন যার
  4. মৃগীর ন্যায় নয়ন যার
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- মৃগের ন্যায় নয়ন যার = মৃগনয়না

এরকম - ক্ষুরধার, গজানন, মীনাক্ষী, স্বর্ণাভ, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪.
'আকাশে চাঁদ উঠেছে।' - বাক্যে 'আকাশে' কোন প্রকার আধারাধিকরণ?
  1. ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
  2. অভিব্যাপক আধারাধিকরণ
  3. বৈষয়িক আধারাধিকরণ
  4. কালারাধিকরণ
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

ঐকদেশিক আধারাধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন -
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন -
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫.
'প্রতিচ্ছবি' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. ব্যঞ্জন + স্বর
  3. স্বর + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
- অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি।
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
- ই + ছ = চ্ছ; প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি
এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, পরিচ্ছদ, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬.
’নীলপদ্ম’ কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'খাসমহল' কর্মধারয় সমাস। 

কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে - কর্ম + ধৃ + ণিচ + আ = কর্মধারয়।
- এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে।
- অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- খাস যে মহল = খাসমহল,
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭.
'ভাস্কর' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• 'ভাস্কর' বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮.
'অশ্রুতপূর্ব' কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. অলুক ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• 'অশ্রুতপূর্ব' সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
→ বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে ) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
- সত্যে আগ্রহ (নিষ্ঠা) = সত্যাগ্রহ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
যেমন -
- পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব,
- পূর্বে অশ্ৰুত = অশ্রুতপূর্ব,
- পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
'আটকপালে' এর বিপরীত বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. অষ্টকপাল
  2. কাঁজি ভক্ষণ নামে গোয়ালা
  3. পোয়া বারো
  4. হাড় হাভাতে
ব্যাখ্যা
• 'আটকপালে' এর বিপরীত বাগ্‌ধারা - পোয়া বারো
- 'পোয়া বারো' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সৌভাগ্য।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
• 'অকাল কুষ্মাণ্ড' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপদার্থ।
• 'অক্ষরে অক্ষরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সম্পূর্নভাবে।
• 'আঠারো মাসে বছর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দীর্ঘসূত্রিতা।
• 'আকাশের চাঁদ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দুর্লভ বস্তু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
'অবিহিত' ও 'অভিহিত' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. অন্যায় ও কথিত
  2. কথিত ও অন্যায়
  3. অবিনীত ও সংজ্ঞিত
  4. সংজ্ঞিত ও অবিনীত
ব্যাখ্যা
• 'অবিহিত' ও 'অভিহিত' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে - অন্যায় ও কথিত

শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• শব - লাশ।
• সব - সকল।
• শারি - স্ত্রী শালিক।
• সারি - পঙ্‌ক্তি।
• স্বাদ - আস্বাদ।
• সাদ - ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১.
কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয়?
  1. ইষ্টি
  2. শ্রেষ্ঠতম
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. সুস্বাগত
ব্যাখ্যা
ইষ্টি - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'ইষ্টি' শব্দের অর্থ - ইচ্ছা, বাসনা। 
 
অন্যদিকে,
• 'শ্রেষ্ঠতম', উৎকর্ষবাচক '-তম' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। 

• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

• 'সুস্বাগত', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: স্বাগত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২.
'যদি রোদ ওঠে, তবে বেড়াতে যাবো।' - বাক্যটি কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিরোধ যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. কারণ যোজক
ব্যাখ্যা
যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যদি রোদ ওঠে, তবে বেড়াতে যাবো
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩.
মেধা + বিন্‌ = মেধাবী; কোন প্রত্যয়?
  1. কৃৎ প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• মেধা + বিন্‌ = মেধাবী - তদ্ধিত প্রত্যয়
- এটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়, প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪.
বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. হঠাৎ হঠাৎ
  2. উড়ু উড়ু
  3. ভালো ভালো
  4. মনে মনে
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব - মনে মনে

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫.
'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।' - বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল না।
  2. আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া উঠিল।
  3. আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া ছাড়িল না।
  4. আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬.
সমষ্টি-বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আকাশ
  2. দীনতা
  3. মানুষ
  4. মিছিল
ব্যাখ্যা
• সমষ্টি-বিশেষ্য = মিছিল

বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন - জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বস্তু-বিশেষ্যে = আকাশ।
• গুণ-বিশেষ্যে = দীনতা।
• জাতি-বিশেষ্যে = মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ছাত্রী
  2. নারী
  3. প্রাণী
  4. স্থায়ী
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - স্থায়ী (√স্থা + ইন্‌)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ছাত্রী (ছাত্র + ঈ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - নারী (নর + ঈ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - প্রাণী (প্রাণ + ইন্‌)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৮.
'সোনার পাখি ছিল / সোনার খাঁচাটিতে
বনের পাখি ছিল / বনে।' - কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. স্বরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি সর্বদা বিশ্লিষ্ট ভঙ্গিতে উচ্চারিত হয়ে দুমাত্রার মর্যাদা পায় এবং অযুগ্মধ্বনি একমাত্রা বলে গণনা করা হয় তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দ ধ্বনি-প্রধান।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে ছয় মাত্রার পর্বই অধিক।
- চার, পাঁচ, সাত, আট মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়।
যেমন - 
'সোনার পাখি ছিল / সোনার খাঁচাটিতে (৭+৭)
বনের পাখি ছিল / বনে।' (৭+২)
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯.
'পূর্বাভাষ' শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. উপসংহার
  2. পূর্বদিক
  3. পূর্বাশা
  4. মুখবন্ধ
ব্যাখ্যা
পূর্বাভাষ:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: পূর্ব + আভাষ।
- অর্থ: ভূমিকা, মুখবন্ধ, সূচনা।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০.
‘Monsoon’ এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. চাঁদ
  2. অমাবস্যা
  3. পূর্ণিমা
  4. মৌসুমী বায়ু
ব্যাখ্যা
• ‘Monsoon’ এর বাংলা পরিভাষা - মৌসুমী বায়ু

অন্যদিকে, 
• ‘Moon’ এর বাংলা পরিভাষা - চাঁদ।
• ‘New moon’ এর বাংলা পরিভাষা - অমাবস্যা।
• ‘Full moon’ এর বাংলা পরিভাষা - পূর্ণিমা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৪১.
'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. নেতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Adjective clause):
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যথা -
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।
তদ্রুপ -
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২.
'অনেক লোক' - এখানে 'অনেক' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. ক্রমবাচক বিশেষণ
  3. পরিমাণবাচক বিশেষণ
  4. পূরণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

পরিমাণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- আধা কেজি চাল, অনেক লোক - এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৩.
'সন্তরণ' শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. শন্‌তরন্‌
  2. শন্‌তোরন্‌
  3. শন্‌তরোন্‌
  4. সন্‌তরন্‌
ব্যাখ্যা
• বানান: সন্তরণ।
- সঠিক উচ্চারণ: শন্‌তরন্‌
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: সম্‌ + √তৃ + অন।
- অর্থ: সাঁতার।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৪.
'গুরু কাছে লব গুরু দুখ।' - এখানে কী ধরনের অলংকারের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. যমক
  2. শ্লেষ
  3. ধ্বন্যুক্তি
  4. পুনরুক্তবদাভাস
ব্যাখ্যা
যমক:
- যমক শব্দের অর্থ 'যুগ্ম'।
- একই শব্দ বা প্রায় একই রকম উচ্চার্য শব্দ যদি নির্দিষ্টক্রমে দুই বা তার বেশিবার আলাদা, আলাদা অর্থে বসে, তবে সে অলঙ্কার হবে যমক।
যথা -
'গুরু কাছে লব গুরু দুখ।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
→ ১ম গুরু = পুরোহিত।
→ ২য় গুরু = কঠিন / বড়।

অন্যদিকে,
শ্লেষ:
চরণে একটিমাত্র শব্দ একাধিক অর্থ প্রকাশ করলে এবং পাঠকও যদি একাধিক অর্থেই তাকে গ্রহণ করে তবে তাকে শ্লেষ বলে।
যথা -
'মধুহীন করোনা মা তব মনঃ কোকনদে।'
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(এখানে 'মধুহীন' বলতে মিষ্টিহীন ও মধুসূদনহীন-এ দুই অর্থ প্রকাশিত)

ধ্বন্যুক্তি:
- ধ্বনির উচ্চারণে যদি বিষয়বস্তুকে দৃশ্যমান করা যায়, এমন অলঙ্কার।
- অর্থাৎ কবিতার চরণে ধ্বনিরূপ দিয়ে যদি অর্থের অবতারণা করা যায় তবে তাকে ধ্বন্যুক্তি বলে।
যেমন -
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
বাজছে বাদল গামুর-গুমুর।
টাপুর-টুপুর গামুর-গুমুর
গামুর-গুমুর টাপুর-টুপুর।
ঝাপুর-ঝুপুর ছাপুর-ছুপুর
ছাপুর-ছুপুর ছাপুর-ঝুপুর।'
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে শব্দ দিয়ে এমন ধ্বনিসৃজন হয়েছে, যেন দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে।)

পুনরুক্তবদাভাস:
- একই চরণে একার্থক একাধিক শব্দ যদি বিভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয় কিন্তু বিশ্লেষণে যদি সেই পুনরাবৃত্তির বিভিন্ন অর্থ প্রতীয়মান হয় তাহলে তাকে পুনরুক্তবদাভাস বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে এর দৃষ্টান্ত অল্প।
যেমন -
'নিশীথ রাতে একা বসে গান গাই।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে নিশীথ ও রাত একার্থ হলেও নিশীথ 'গভীর' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।) 'তনু দেহটি সাজাব তব আমার আভরণে।' -রবীন্দ্রনাথ (এখানে তনু ও দেহ একার্থ হলেও তনু 'ছিপছিপে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫.
'নভ' শব্দের অর্থ নয় কোনটি?
  1. অভিনব
  2. গগন
  3. শূন্য
  4. শ্রাবণ মাস
ব্যাখ্যা
• 'নভ' শব্দের অর্থ নয় - অভিনব

নভ:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √নভ্‌ + অ।
- অর্থ: শ্রাবণ মাস; আকাশ, গগন, শূন্য

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৬.
‘Utilitarianism’ শব্দের বাংলা পরিভাষা -
  1. অস্তিত্ববাদ
  2. উপযোগবাদ
  3. চরমপন্থা
  4. সাম্যবাদ
ব্যাখ্যা
• ‘Utilitarianism’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - উপযোগবাদ

অন্যদিকে, 
• ‘Existentialism’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - অস্তিত্ববাদ।
• ‘Extremism’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - চরমপন্থা।
• ’Communism' শব্দের বাংলা পরিভাষা - সাম্যবাদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৪৭.
কেহ বলে - তুমি ভবিষ্যতে যে ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
এখানে 'ভবী' শব্দের অর্থ কী?
  1. সূর্য
  2. গুণী
  3. দেবী
  4. কল্পনা
ব্যাখ্যা
ভবী (বিশেষ্য)
তৎসম বা সংস্কৃত)

অর্থ -
১ যে জিদ ধরেছে; নাছোড়বান্দা। (এত সহজে ভবী ভুলবার নয় মিষ্টি বের কর-নীলিমা ইব্রাহীম)।
হিন্দু দেবী ভবানী; দুর্গা। (আমি ভবানী ভাবিয়া করিতে প্রণাম হেরি বাগদিনী ভবী গো-কাজী নজরুল ইসলাম)।

"কেহ বলে - তুমি ভবিষ্যতে যে ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!" - লাইনটি কাজী নজরুল ইসলামের "আমার কৈফিয়ৎ" কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।