পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২৪ বিষয়: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ৫ সাহিত্য অংশের টপিক: ১. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ সম্পূর্ণ। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived]

৪৯তম বিসিএস ⎯ জেনারেল পার্ট [Archived] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আহসান হাবীব
  3. ফররুখ আহমদ
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।

- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো:
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, 
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শামসুর রাহমান(১৯২৯-২০০৬)  কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 

• ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪)  কবি, শিশুসাহিত্যিক। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।

• জীবনানন্দ  দাশ(১৮৯৯-১৯৫৪)  কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. রাজলক্ষ্মী
  2. রমা
  3. কুসুম
  4. করুণাময়ী
সঠিক উত্তর:
রাজলক্ষ্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজলক্ষ্মী
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী।

অন্যদিকে, 
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

• 'পণ্ডিতমশাই' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস, যা গ্রাম বাংলার পটভূমিতে রচিত। উপন্যাসটি মূলত বৃন্দাবন ও কুসুম নামের দুটি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। 

• 'পথের দাবী' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলির মধ্যে রয়েছেন- বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক, ভারতী ও সুমিত্রা, করুণাময়ী, বিনোদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'পথের দাবী' উপন্যাস 

.
সুফিয়া কামালের মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অভিযাত্রিক
  2. সাঁঝের মায়া
  3. মোর যাদুদের সমাধি পরে
  4. উদাত্ত পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
মোর যাদুদের সমাধি পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোর যাদুদের সমাধি পরে
ব্যাখ্যা

• "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কবি সুফিয়া কামালের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে।

-------------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: কেয়ার কাঁটা। 
• দিনলিপি: একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

.
কাজী নজরুল ইসলামের 'চল্ চল্ চল্' কবিতার কত লাইন বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত?
  1. ২০ লাইন
  2. ২১ লাইন
  3. ১৪ লাইন
  4. ১৮ লাইন
সঠিক উত্তর:
২১ লাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ লাইন
ব্যাখ্যা

• জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'চল্ চল্ চল্' কবিতার ২১ লাইন বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। 

 - দাদরা তালের এই সংগীতটি ১৯৭২ সালের ১৩ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের তৎকালীন মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশের রণ-সংগীত হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

-------------------
• রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে 'চল্ চল্ চল্' কবিতার ২১ চরণ গৃহীত হয়েছে।
- রণসঙ্গীতটি 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ-
'চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এবং বাংলাপিডিয়া। 

.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. আহমদ ছফা 
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গাজী মিয়াঁর বস্তানীতে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

• এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

• এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

• এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

• সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

• গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গাজী মিয়ার বস্তানী' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'তৈল' প্রবন্ধটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ভারতী 
  2. তত্ত্ববোধিনী 
  3. বঙ্গদর্শন
  4. সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'তৈল' প্রবন্ধ:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত প্রবন্ধ 'তৈল'। 
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'তৈল' রচনাটি লিখেছিলেন ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায়। এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১২৮৫ বাংলায়।

প্রবন্ধের কিছু অংশ:
বাঙালীর বল নাই, বিক্রম নাই, বিদ্যাও নাই, বুদ্ধিও নাই। সুতরাং বাঙালীর একমাত্র ভরসা তৈল- বাঙালীর যে কেহ কিছু করিয়াছেন, সকলই তৈলের জোরে, বাঙালীদিগের তৈলের মূল্য অধিক নয়; এবং কি কৌশলে সেই তৈল বিধাতৃপুরুষদিগের সুখসেব্য হয়, তাহাও অতি অল্পলোক জানেন। যাঁহারা জানেন, তাঁহাদিগকে আমরা ধন্যবাদ দিই। তাঁহারাই আমাদের দেশের বড় লোক, তাঁহারাই আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল করিয়া আছেন।

--------------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারক।
- তিনি 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক কোনটি?
  1. গিনিপিগ
  2. সমতট
  3. অবরোধ
  4. ইবলিশ
সঠিক উত্তর:
অবরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবরোধ
ব্যাখ্যা

• 'অবরোধ' নাটক:
- মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক 'অবরোধ' (১৯৪৭)।
- অবরোধ নাটকটি কমিউনিজমের আদর্শে কারখানার মালিক-শ্রমিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রচিত, তবু কারখানার মালিকের পুঁজিবাদী স্বরূপ সম্পর্কে নাট্যকারের অনভিজ্ঞতার কারণে গণনাট্য সংঘ এ নাটকটিকে গ্রহণ করতে পারেনি।

অন্যদিকে, 
- মামুনুর রশীদ রচিত নাটক- গিনিপিগ, ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, এখানে নোঙর, সমতট, পাথর, ইবলিশ ইত্যাদি। 

--------------------
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা। ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'Jagannath University Journal of Arts'।

.
বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দোরাজ' নামে পরিচিত ছিলেন- 
  1. দ্বিজেন্দ্রনাথ রায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. সুকুমার রায় 
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'চলে মুসাফির' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. স্মৃতিকথা
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা

• ‘চলে মুসাফির’:
- ‘চলে মুসাফির’ জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 

- ‘চলে মুসাফির’ বইটি মূলত সরলমতি ছাত্রদের জন্য লেখা হয়েছিল, তাই পাঠ্যপুস্তক হিসেবে এর অনেক বিষয় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে এই ভ্রমণকাহিনী বিস্তারিতভাবে লিখিত হয়েছে, যাতে পাঠ্যপুস্তক পড়া পাঠকদের কাছেও এটি নতুন মনে হয়। এই সংস্করণে করাচি ও মুলতান ভ্রমণের বিবরণও যোগ করা হয়েছে। এই কাহিনীর মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষদের সঙ্গে পাঠক-পাঠিকাদের মনের বন্ধন গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের আর্থিক সহায়তায় লেখক আমেরিকা ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি যে সকল আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত মানুষের সান্নিধ্যে আসেন, তাঁদের কথা এই বইয়ে ভালোবাসার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করেছেন।

-------------------------
• জসীম উদ্‌দীন: 

- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।
- জসীম উদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ।
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুস বড়,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবাকাহিনী।
• আত্মজীবনী: জীবনকথা। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  ‘চলে মুসাফির’ ভ্রমণকাহিনিএবং বাংলাপিডিয়া।

১০.
কোনটি কবি জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. নজর মিয়াঁ 
  2. ভুগঙ্গর আলী
  3. জমীরউদ্দীন মোল্লা
  4. মৈনাক
সঠিক উত্তর:
জমীরউদ্দীন মোল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমীরউদ্দীন মোল্লা
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন 'জমীরউদ্দীন মোল্লা' ছদ্মনামে লিখতেন। 

 উল্লেখ্য, 
• "তুজম্বর আলি" জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম।

• ১৯৭১ সালে বাঙলার দুর্দিনের সময় বেঁচে ছিলেন মহান কবি জসীম উদ্‌দীন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' নামে একটি কবিতা সংকলন ছাপিয়েছিলেন। সংকলনের 'লেখকের কথা' অংশে জসীম উদ্‌দীন জানান- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই সংকলনের কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠান হয়েছিল।

অন্যদিকে, 
• বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
• মৈনাক, নেপথ্যে প্রভৃতি ছদ্মনামে কবি শামসুর রহমান কবিতা লিখতেন।

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. গোরা
  2. আনন্দমঠ
  3. পথের দাবী
  4. ঘরে-বাইরে
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা

• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।

- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।

- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত। মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব। সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কানো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২.
'পুতুল নিয়ে খেলা' বিখ্যাত উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  3. হাসান আজুজুল হক 
  4. আবু ইসহাক 
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• 'পুতুল নিয়ে খেলা':
'পুতুল নিয়ে খেলা' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসে পাঠক প্রেমিকার বিভিন্ন রূপ দেখতে পান। লেখক অবশ্য সেটা দেখান সিরিও-কমিক ভঙ্গিতে।

-----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)। তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'পুতুল নিয়ে খেলা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩.
'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. খোয়ারি
  2. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  3. দুধেভাতে উৎপাত
  4. দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
দুধেভাতে উৎপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধেভাতে উৎপাত
ব্যাখ্যা

• 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
মিলির হাতে স্টেনগান গল্পটির প্রেক্ষাপট বাহাত্তর বা তিয়াত্তর সালের ঢাকা শহর। মা, বাবা, দুই ভাই ও এক বোন নিয়ে মিলিদের পরিবার। বড় ছেলে রানা একজন মুক্তিযোদ্ধা। অস্ত্র জমা দেয়নি সে, নিজের কাছেই লুকিয়ে রেখেছে তার স্টেনগানটি।

না, দীর্ঘ নয় মাসের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দোদুল্যমান প্রতিটি মুহূর্তের বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে অস্ত্রটির প্রতি একান্ত ভালবাসা থেকে স্টেনগানটি রেখে দেয়নি রানা, বরং এই অস্ত্রটিকেই বর্তমানে টিকে থাকার অবলম্বন হিসেবে এখনো সযত্নে আগলে রেখেছে সে।

অবশ্য শুধু টিকে থাকার ব্যাপারে সাহায্য করাই যে স্টেনগানটির মূল লক্ষ্য, তা কিন্তু নয়। বরং মাঝেমধ্যে আনকোরা নতুন টিভি সেট বা অন্য কোনো গৃহসজ্জার উপকরণ হস্তগত করার কাজেও যে অস্ত্রটি এখনো সফল পার্শ্বচর হিসেবে রানার সাথে সাথে অবস্থান করে, গল্পটি পড়ে তা বুঝতে বেগ পেতে হয় না।

কিন্তু যত সমস্যা বাঁধাচ্ছে আব্বাস পাগলা। এই ‘থরোব্রেড বাস্টার্ড’টা নির্লজ্জের মতো রানার কাছে তার সাধের স্টেনগানটা চেয়ে বসে। আব্বাস পাগলার ভাষ্যমতে, চাঁদের মধ্যে নাকি দখলদার বাহিনী ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। সেই হানাদারদের গুষ্টির পিণ্ডি চটকানোর জন্য রানার স্টেনগানটাই যথেষ্ট আব্বাস পাগলার জন্য।

--------------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্প; 'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৪.
১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. মানুষ
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. চিঠি
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা

• 'মানুষ' নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
- মানুষ নাটকের চরিত্রগুলো: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

-------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী। ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- 'মুনীর অপটিমা' তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫.
কামিনী রায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মাল্য ও নির্মাল্য
  2. আলো ও ছায়া
  3. অশোকসঙ্গীত
  4. পৌরাণিকী
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা

• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
- তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
- তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
- 'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস-
  1. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  2. যাপিত জীবন
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. জলোচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
যাপিত জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে। সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

----------------------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন ।

• ‘যাপিত জীবন' (১৯৮১): এ উপন্যাসে ১৯৪৭-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যাবতীয় ঘটনা কেন্দ্রীয় চরিত্র জাফর এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ । চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি' (১৯৮৯): নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• ‘কাকতাড়ুয়া’ (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি ।

• 'যুদ্ধ' (১৯৯৮): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এ উপন্যাসে ১১ নম্বর সেক্টরের নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির প্রসঙ্গ এসেছে।

• ‘কাঠকয়লার ছবি' (২০০১): এটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস।

১৭.
'জীবন ক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রশিদ করিম
  2. রফিক আজাদ 
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

• 'জীবন ক্ষুধা' উপন্যাস:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'জীবন ক্ষুধা' (১৯৫৫) উপন্যাসটি পাকিস্তান আন্দোলন বিশেষত দেশ বিভাগের পটভূমিতে রচিত।
- হালিম হলো অন্যতম চরিত্র। যাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানের মধ্যবিত্তের আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও লালিত আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার দ্বন্দ্বের কথা বর্ণিত হয়েছে।

----------------------
• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮- আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ। 

উৎস: 'জীবন ক্ষুধা' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮.
'আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।' বিখ্যাত গানটি কার রচনা?
  1. প্রতুল মুখোপাধ্যায়
  2. লালন শাহ্
  3. হাছন রাজা
  4. গোবিন্দ হালদার
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
ব্যাখ্যা

• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না। তাই তিনি গেয়েছে 'সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।'
- "বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- লালন শাহ্ রচিত বিখ্যাত একটি গান।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯.
পঞ্চপাণ্ডব কবিদের মধ্যে কে টি.এস এলিয়টের কবিতার অনুবাদ করেছিলেন?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

• পঞ্চপাণ্ডব কবিদের মধ্যে বিষ্ণু দে টি. এস. এলিয়টের কবিতার অনুবাদ করেছিলেন। তিনি এলিয়টের বিখ্যাত কবিতা যেমন The Waste Land এবং অন্যান্য রচনার বাংলা অনুবাদ করেন এবং তাঁর নিজের কবিতায়ও এলিয়টের আধুনিকতাবাদী শৈলীর প্রভাব স্পষ্ট ছিল।

------------------
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে 'পরিচয়' পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে 'সাহিত্যপত্র'।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে,
-------------------
• অমিয় চক্রবর্তী: তিনি আধ্যাত্মিকতা ও রোমান্টিকতার দিকে ঝুঁকেছিলেন। টি.এস এলিয়টের কবিতার সঙ্গে তাঁর কবিতার সরাসরি যোগাযোগ ছিল না; তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অনুভূতি ও দার্শনিক চিন্তা প্রাধান্য পেত।

• সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় সরাসরি টি. এস. এলিয়টের প্রভাব তেমন স্পষ্ট নয়। 

 • বুদ্ধদেব বসু: তিনি আধুনিকতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের উপর জোর দিয়েছিলেন। পাশ্চাত্য আধুনিকতা ও নান্দনিকতার প্রভাব বেশি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' একটি- 
  1. শোকগাঁথা
  2. রম্যরচনা 
  3. শিক্ষামূলক গ্রন্থ
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
শোকগাঁথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোকগাঁথা
ব্যাখ্যা

• 'প্রভাবতী সম্ভাষণ':
- বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' একটি শোকগাঁথা।
- বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর অকাল মৃত্যুর শোকে বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।

----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যগ্রন্থের জন্য তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত শতক
  3. সারদামঙ্গল
  4. বন্ধু-বিয়োগ
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'সারদামঙ্গল' কাব্য:
- 'সারদামঙ্গল' কাব্য বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন।
- রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন 'ভোরের পাখি' বলে।

----------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা বিহারীলাল চক্রবর্তী ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২২.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  2. এক পথ দুই বাঁক
  3. বিশ শতকের মেয়ে
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি':
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।

- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু-লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি। বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

-----------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা -এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'ভারতের মহাকবি' উপাধিটি কে প্রদান করেন?
  1. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. চি লিজন
  4. ক্ষিতিমোহন সেন 
সঠিক উত্তর:
চি লিজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চি লিজন
ব্যাখ্যা

• 'ভারতের মহাকবি':
'ভারতের মহাকবি' উপাধিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চীনের কবি চি লিজন দিয়েছিলেন। এই উপাধিটি রবীন্দ্রনাথের বিশ্বব্যাপী সাহিত্যিক অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
------------------
• 'গুরুদেব':
মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বৌদ্ধিক নেতৃত্ব ও প্রতি সম্মানের প্রকাশ।

• 'বিশ্বকবি': 
"বিশ্বকবি" পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

• 'কবিগুরু':
ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন, যা তাঁর কাব্যিক প্রজ্ঞা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই দেওয়া হয়েছিল।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; 'আমর ছেলেবেলা' বুদ্ধদেব বসু।

২৪.
পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল ও জীবন-সংগ্রাম আবু ইসহাক রচিত কোন উপন্যাসের মুখ্য বিষয়বস্তু?
  1. পদ্মাপার
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা 
  3. পদ্মা নদীর মাঝি 
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল 'মধুর মাটি'।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- 'ফজল' এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
এরফান মাতব্বর,
আরশেদ মোল্লা,
জঙ্গুরুল্লা,
জরিনা,
রূপজান ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস- পদ্মা মেঘনা যমুনা।
• পদ্মানদীর মাঝি ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
• 'পদ্মাপার' জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৫.
'তোতা ইতিহাস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. চণ্ডীচরণ মুনশী
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুনশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীচরণ মুনশী ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম অধ্যাপক। 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যানগ্রন্থ যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন। ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে চণ্ডীচরণ মুনশী মূল ফার্সি থেকে বাঙালায ভাষায় গ্রন্থটি অনুবাদ করেন। পরবর্তী বৎসর অর্থাৎ ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

----------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় উইলিয়াম কেরিকে।
পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬.
'কৃত্তিবাস ওঝা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. সমরেশ বসু
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

• মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যসমালোচক।
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে 'কৃত্তিবাস ওঝা', 'সব্যসাচী', 'শ্রী সত্যসুন্দর দাস' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জুলাই ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে, 
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম- সুনন্দ।  
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।
• 'চিত্রগুপ্ত' ছদ্মনামে লিখতেন সতীনাথ ভাদুড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭.
কোনটি আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস?
  1. কমলাকান্তের দপ্তর
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন
  4. গো জীবন 
সঠিক উত্তর:
একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন
ব্যাখ্যা

• 'একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' উপন্যাস:
- 'একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' (১৯৮৮) আহমদ ছফা রচিত একটি উপন্যাস।
- আহমদ ছফা বাংলাদেশের মাজার সংস্কৃতির পরিপ্রেক্ষিতে আলী কেনান নামের মূল চরিত্রের সামগ্রিক উত্থান ও পতন এই উপন্যাসে উপস্থাপন করেছেন। পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান থেকে শুরু করে শেখ মুজিবের শাসনামল পর্যন্ত ঘটনা দিয়ে বিস্তৃত করেছেন উপন্যাসটি।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
ঘটনার ব্যাপ্তি ছিল ১৯৬৯-৭৫ সাল পর্যন্ত। আলী কেনানের মতো একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে ক্ষমতাবানের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, তা উপন্যাসের একটি অংশে দেখানো হয়েছে। আর মূল অংশে দেখতে পাই, গ্রামের এক দখলদার কীভাবে শহরে এসে জয় বাংলার দরবেশ হয়ে যায়।
ধুরন্ধর এই আলী কেনানকে একদিন ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল গভর্নর সাহেব, যে একদিন তাকে বুকেও টেনে নিয়েছিল। এই কারণে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে হয় তাকে। চতুর আলী কেনান আস্তে আস্তে ভান ধরে একজন বুজুর্গের। লালসালুর মতো খুলে বসে মাজার ব্যবসা। আলী কেনানের প্রভাব-প্রতিপত্তি এতটাই বেড়ে যায় যে, ব্রিটিশ টেলিভিশনের কোনো এক চ্যানেল তাকে নিয়ে তথ্যচিত্রও তৈরি করে। আলী কেনান আবারো ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে।

----------------
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত প্রবন্ধ- 'কমলাকান্তের দপ্তর'। 

• "উদাসীন পথিকের মনের কথা" মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস, যা মূলত তাঁর স্মৃতিনির্ভর বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত এবং এটিকে আত্মজীবনীমূলক রচনা হিসাবে গণ্য করা হয়। 

• 'গো-জীবন' লিখেছেন মীর মশাররফ হোসেন। এটি একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা, যেখানে লেখক কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে গো-হত্যা অনুচিত বলে যুক্তি তুলে ধরেছেন।  
 
উৎস:  'একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৮.
'মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়।' বিখ্যাত উক্তিটি কোন নাটকে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. কবর
  2. মানুষ
  3. সাজাহান
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর':
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- 'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। 

• 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়। সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন। 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

• মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'মানুষ'। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনি এর মূল উপজীব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।