পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ৩ টপিক: i) নৈতিকতার ধারণা, উল্লেখযোগ্য কয়েকজন দার্শনিক, নীতিশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ। ii) মূল্যবোধ এর ধারণা, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ। [Live Class – 5 & 6]"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · প্রশ্ন

.
বিখ্যাত পুস্তক 'A Treatise of Human Nature' এর লেখক কে?
  1. কার্ল মার্কস
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. ডেভিড হিউম
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
ডেভিড হিউম:
- তিনি জন্ম গ্রহন করেন  ১৭১১ সালে। 
- তিনি স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি মানব প্রকৃতির প্রবর্তক ছিলেন।
- মৃত্যুবরন করেন ১৭৭৬ সালে।

ডেভিড হিউমের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:-
- A Treatise of Human Nature;
- An Enquiry Concerning Human Understanding;
- Human Understanding;
- Enquiry Concerning the Principles of Morals;
-  Moral and Political;
- History of England।

অন্যদিকে, 
বার্ট্রান্ড রাসেলের গ্রন্থ:-
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals
- Human Society in Ethics and Politics

কার্ল মার্কসের গ্রন্থে:-
- The Communist Manifesto 
- Das Kapital
- The Poverty of Philosophy

ইমানুয়েল কান্টের গ্রন্থে:-
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় &  ব্রিটানিকা। লিঙ্ক
.
যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে কী বলে?
  1. প্রথা
  2. সংস্কৃতি
  3. নৈতিকতা
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ বিষায়ক কয়েকটি সংজ্ঞা:

- রীতিনীতি: সমাজবদ্ধ মানুষের ব্যবহার ও অনুশীলনের উপর যে অলিখিত সাধারণ ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে রীতিনীতি বলে। 
- প্রথা: যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে প্রথা বা Custom বলে। 
- সংস্কৃতি: একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি জাতিগোষ্ঠীর মুল্যবোধ, আদর্শ, রীতিনীতি, প্রথা, শিল্প, নৈপুন্য ইত্যাদিকে এক কথায় সংস্কৃতি বলা হয়।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- সমাজবিজ্ঞানী আর টি শেফার মতে, "ভালো বা মন্দ, ঠিক বা বেঠিক এবং কাঙ্খিত বা অনাকাঙ্খিত বিষয় সম্পর্কে সমাজের বিদ্যমান ধারণার নাম হলো মূল্যবোধ।"
- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"
- মেরিল এর মতে, ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''
- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
কোনো ব্যক্তির বিশ্বাস ও নীতি-নৈতিকতা থেকে কোন ধরনের মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধের ধরণ:
- সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
- যথা: ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার- আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অপরদিকে,
• সামাজিক মূল্যবোধ:
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ ।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

• পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ- সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।
- পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
আত্মসুখবাদের প্রতিষ্ঠাতা গ্রিক দার্শনিক এরিস্টিপাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. থ্যালেস
ব্যাখ্যা
আত্ম-সুখবাদ:
- সুখবাদ একটি প্রাচীন মতবাদ; প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটল সবাইকে এক অর্থে সুখবাদী বলা যায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে গ্রিকদের মধ্যে সুখবাদী বলতে যাদেরকে আমরা বুঝি তাঁরা হলেন সাইরেনিক সম্প্রদায়ের লোক; আর তাঁরা ছিলেন আত্ম-সুখবাদী।
- এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইরিনের অধিবাসী এরিস্টিপাস, যিনি ছিলেন সক্রেটিসের শিষ্য।
- বলা হয়ে থাকে যে, সক্রেটিসের নৈতিক ভাবনার একটি দিককে নিজের মত বিকশিত করে তিনি তার সুখবাদ প্রবর্তন করেছিলেন।
- অপর আরেকদিক বিকশিত করে দুঃখবাদের প্রবর্তন করেছিলেন সিনিক এন্টিসথেনিস।

উল্লেখ্য, 
-থ্যালেস ছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক।
-তিনিই প্রথম সূর্য গ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক] এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা [৯ম-১০ম শ্রেণি(উন্মুক্ত)]
.
‘Know Thyself' এটি কার বিখ্যাত উক্তি?
  1. সক্রেটিস
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. এরিস্টটল
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা
• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা। 
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।
- সক্রেটিস এই উক্তির মাধ্যমে মানুষের নিজের সীমা, জ্ঞান ও নিজস্বতা উপলব্ধির ওপর জোর দেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান?
  1. প্রথা ও ঐতিহ্য
  2. শিল্প ও সংগীত
  3. আইন ও বিধি
  4. আধ্যাত্মিক চেতনা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- উল্লিখিত প্রশ্নে 'প্রথা ও ঐতিহ্য' হল মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান।

মূল্যবোধের প্রধান ভিত্তি বা উপাদানগুলি নিম্নরূপ:
১. সামাজিক উপাদান:
- পারিবারিক শিক্ষা ও সংস্কার
- সামাজিক রীতিনীতি
- প্রথা ও ঐতিহ্য
- সামাজিক নিয়মকানুন
- সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ

২. ধর্মীয় উপাদান:
- ধর্মীয় শিক্ষা ও আদর্শ
- ধর্মীয় বিধি-নিষেধ
- নৈতিক মূল্যবোধ
- ধর্মীয় রীতিনীতি
- আধ্যাত্মিক চেতনা

৩. শিক্ষাগত উপাদান:
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
- চারিত্রিক শিক্ষা
- নৈতিক শিক্ষা
- জীবন দক্ষতা শিক্ষা
- সচেতনতামূলক শিক্ষা

৪. সাংস্কৃতিক উপাদান:
- ভাষা ও সাহিত্য
- শিল্প ও সংগীত
- লোকজ ঐতিহ্য
- জাতীয় সংস্কৃতি
- সাংস্কৃতিক উৎসব

৫. মানবিক উপাদান:
- করুণা ও সহানুভূতি
- ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা
- সহযোগিতা ও সহমর্মিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- মানবতাবোধ

৬. রাষ্ট্রীয় উপাদান:
- আইন ও বিধি
- নাগরিক অধিকার
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
- দেশপ্রেম
- সামাজিক দায়বদ্ধতা

৭. অর্থনৈতিক উপাদান:
- কর্মনৈতিকতা
- সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা
- সামাজিক দায়িত্ববোধ
- সততা ও বিশ্বস্ততা

৮. পরিবেশগত উপাদান:
- প্রকৃতি সংরক্ষণ
- পরিবেশ সচেতনতা
- জীববৈচিত্র্য রক্ষা
- প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- পরিবেশ বান্ধব জীবনযাপন

৯. বৈজ্ঞানিক উপাদান:
- যুক্তিবাদী চিন্তা
- বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
- গবেষণা ও উদ্ভাবন
- প্রযুক্তিগত জ্ঞান
- বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ

১০. নৈতিক উপাদান:
- সত্যবাদিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- সততা
- শৃঙ্খলাবোধ
- দায়িত্বশীলতা

এই সকল উপাদান পরস্পর সম্পর্কিত এবং একে অপরের পরিপূরক।
এগুলির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে সমৃদ্ধ মূল্যবোধ, যা সমাজ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।