ব্যাখ্যা
------------
সঠিক প্রশ্নটি হবে। 'বাংলা ভাষায়' শ্রীচৈতন্য দেবের জীবনীভিত্তিক প্রথম কাহিনিকাব্য কোনটি?
উত্তরঃ বৃন্দাবন দাসের 'শ্রীচৈতন্যভাগবত'।
৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন
বৈষ্ণব পদাবলীতে ৫ ধরনের রসের সন্ধান পাওয়া যায়
যথা- শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য, মধুর।
বিঃ দ্রঃ সাহিত্যে মোট রসের সংখ্যা ৯। যথাঃ শান্ত, হাস্য, শৃঙ্গার, অদ্ভুত, বীর, রৌদ্র, ভয়ানক, বিভৎস, করুণ।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
বিদ্যাপতি মিথিলার রাজা শিব সিংহের সভা কবি ছিলেন।
অন্যদিকে লক্ষণ সেনের সভা কবি ছিলেন কবি জয়দেব এবং মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ছিলেন রাজা রঘুনাথ রায়ের সভাসদ।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
মহাভারতের ১৮ টি খণ্ড। এবং ৮৫০০০ শ্লোক আছে।
মহাভারতের অনুবাদকেরা হলেন, কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শীকর নন্দী, কাশীরাম দাস।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
মুহম্মদ কবির মধুমালতী কাব্য অনুবাদ করেছেন হিন্দী কবি মনঝন এ-র 'মধুমালত' থেকে। কঙ্গিরা রাজ্যের রাজা সূর্যভান ও রানি কমলাসুন্দরীর পুত্র মনোহর, মহারসরাজ্যের সুন্দরী কন্যা মধুমালতীর প্রতি পরীদের ষড়যন্ত্রে প্রণয়াসক্ত হয়। ক্ষণিক মিলনের অবসানে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তারপর দীর্ঘ দুঃখময় সাধনার শেষে তাদের মিলন ঘটে।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
বিদ্যাসুন্দরের কাহিনিটি সুপ্রাচীন। এ-ই প্রণয়কাহিনির প্রথম রূপ দেন সংস্কৃত কবি বিলহন 'চৌরপঞ্চাশিকা কাব্যে'। তার কাহিনিটি এরকম-
গুর্জর দেশের রাজা বীরসিংহ তার মেয়ে শশীকলাকে শুশিক্ষিত করার জন্য কাশ্মীরের কবি বিলহনকে নিযুক্ত করেন। বিলহন ও শশীকলার প্রেম হয়ে যায়, প্রেমের কথা জানতে পেরে রাজা বীরসিংহ কবিকে শূলে ছড়িয়ে হত্যার আদেশ দেন। বধ্যভূমিতে নীত হয়ে কবি রাজকন্যার সঙ্গে অতিবাহিত মুহূর্ত গুলো কল্পনা করে ৫০ টি শ্লোক রচনা করেন। শ্লোক শুনে রাজা খুশি হোন এবং তাদের বিয়ে দেন।
সাবিরিদ খান রোমান্টিক কাব্যের আখ্যান বস্তু হিসেবে একে গ্রহণ করতে গিয়ে সংস্কৃত ভাষার কাব্যের অনুসরণ করেছেন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
তৈমুস বাদশাহের কন্যা জোলেখা মিশরের বাদশাহ আজিজ মিশরীড় সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও ক্রিতদাস ইউসুফের প্রতি গভীরভাবে প্রেমাসক্ত হোন। নানাভাবে আকৃষ্ট করেও তিনি ইউসুফকে বশীভূত করতে পারেন নি। বহু ঘটনার মধ্য দিয়ে ইউসুফ মিশরের অধিপতি হোন এবং ইউসুফের মনেরও পরিবর্তন ঘটে। ফলে তাদের মিলন হয়।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
দৌলত উজির বাহরাম খানের যুদ্ধকাব্যের নাম' জঙ্গনাম'।
হানিফা-কয়রাপরী' সাবিরিদ খানের জঙ্গনামা জাতীয় যুদ্ধকাব্য।
ফকির গরীবুল্লাহ কাব্যের নাম 'জঙ্গনামা'
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
মালাধর বসু শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য রচনা করেন রুকনুদ্দিন বারবক শাহের পৃষ্ঠপোষকতায়।
জমিদার নিজাম শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় দৌলত উজির বাহরাম খান সাহিত্য সৃষ্টি করেন।
শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ পৃষ্ঠপোষকতা করেন জৈনুদ্দিনের 'রসুল বিজয়' রচনায়।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
বাংলা সাহিত্যের পুনরুত্থানের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক আলাউদ্দিন হুসেন শাহ চট্টগ্রাম জয় করে পরাগল খানকে শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। পরাগল খান মহাভারতের কাহিনি শুনে মুগ্ধ হন এবং কবীন্দ্র পরমেশ্বরকে সংক্ষিপ্ত আকারে একদিনে শুনার উপযোগী করে রচনা করার জন্য পরামর্শ দেন। যদিও আলাউদ্দিন হুসেন শাহ সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করেননি তবে পরাগল খান অপশনে না থাকায় কাছাকাছি উত্তর হিসবে আলাউদ্দিন হুসেন শাহকে নেয়া যাবে।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
সয়ফুলমুলক ও বদিউজ্জামালের প্রেম কাহিনি নিয়ে দোনা গাজী চৌধুরী, আলাওল উভয়েই কাব্য রচনা করেছেন। সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল কাহিনি কাব্যের আদি উৎস আলিফ লায়লা বা আরব্য উপন্যাস।
পরীরাজকন্যা বদিউজ্জামানের ছবি দেখে মিশর রাজপুত্র সয়ফুলমুলক তার প্রেমে আসক্ত হোন। মন্ত্রীপুত্র সায়েদেএ সহায়তা বহু বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে বদিউজ্জামালের সাক্ষাৎ পায় এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
কবি আব্দুল হাকিমের রচনা ' ইউসুফ জোলেখা ও 'লালমতি সয়ফুলমুলুক' কাব্য।
ফারসি কবি জামীর 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্য অনুবাদ করেন আব্দুল হাকিম।
তার অন্যান্য কাব্য হলোঃ নূরনামা, নসিহত নামা।
এছাড়া শাহ মুহম্মদ সগীর এবং ফকির গরীবুল্লাহ ইউসুফ জোলেখা কাব্য রচনা করেছেন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
সৈয়দ হামজা মূল গ্রন্থ 'আলেফ লায়লা ওয়া লায়লা' থেকে হাতেম তাই অনুবাদ করেন।
মুহম্মদ মুকিম ও নওয়াজিস খানের অনূদিত গ্রন্থের নাম 'গুলে বকাওলী।
সৈয়দ সুলতানের সূফিচর্যা বিষয়ক গ্রন্থ ' জ্ঞান প্রদীপ'
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
জয়নবের চৌতিশা মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য। এ কাব্যের কবি শেখ ফয়জুল্লাহ মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি।
ফকির গরীবুল্লাহ 'জঙ্গনামা' এবং 'আমির হামজা' কাব্যের রচয়িতা।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
সঠিক উত্তর: ক) সৈয়দ সুলতান ও শেখ চাঁদ।
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।
--------------
রসুল বিজয়' কাব্যের রচয়িতা শেখ চাঁদ ও সৈয়দ সুলতান।
কবি জৈনুদ্দিনের 'রসুল বিজয়' নামক কাব্য রয়েছে।
শেখ ফয়জুল্লাহর কাব্যের নাম 'জয়নবের চৌতিশা'।
পুথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
জয়দেব বাঙালি কবি হলেও তিনি সংস্কৃত ভাষায় প্রথম পদাবলী রচনা করেন। এ-ই জন্য তাকে সংস্কৃত ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি বলা হয়।
ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি নব কবি শেখর বিদ্যাপতি।
শেখ ফয়জুল্লাহ, আলাওল, সৈয়দ সুলতান, নওয়াজিস খান প্রমুখ মুসলমান পদাবলিকারেরা পদাবলি রচনা করেছেন।
অন্যদিকে সংস্কৃত ভাষার ভাগবত বাংলায় প্রথম অনুবাদ করেন মালাধর বসু। তার অনূদিত গ্রন্থের নাম শ্রীকৃষ্ণবিজয়'।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
বাঙালি কবি জয়দেব বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি। তার রচিত গীতগোবিন্দম্' আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি।
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি চণ্ডীদাস।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
সৈয়দ সুলতান
তার বাসস্থান ছিলো চট্টগ্রামের পটিয়া।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্য:
জ্ঞান প্রদীপ
জ্ঞান চৌতিশা
জয়কুম রাজার লড়াই।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
শুকুর মাহমুদ নাথ সাহিত্যের কবি।
অন্যদিকে দোনাগাজী, দৌলতকাজী, সৈয়দ সুলতান প্রত্যেকেই রোমান্টিক ধারার কবি।
দোনাগাজী চৌধুরী রচনা করে ' সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল'
দৌলত কাজী রচনা করেন ' সতী ময়না লোরচন্দ্রানী'
সৈয়দ সুলতান রচনা করেন- ' জ্ঞান প্রদীপ'।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
ইউসুফ জোলেখা কাব্যের মূল কবি- ইরানি কবি জামী।
লাইলী মজনু কাব্যের মূল কবি - ইরানি কবি নিজামী
মধুমালতী কাব্যের মূল কবি -মনঝন।
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্যের মূল লেখক- মিয়া সাধন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল এ-র মূল গ্রন্থ ' আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা'।
সতীময়না লোর চন্দ্রানী' গ্রন্থের উৎস গ্রন্থ হলো 'মৈনাসত'।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
• মধুমালতী কাব্যের মূল কবি হিন্দি কবি হলেন মনঝন'।
• সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্যের মূল কবি হলেন মৈনাসত'।
• সিকান্দারনামা কাব্যের মূল লেখন হলেন নিজামী গঞ্জবী।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
• মজনুর প্রকৃত নাম কায়েস। সে আরবের ধনকুবের আমিরের সন্তান।
• ইউসুফ জুলেখা কাব্যের জুলেখার বিবাহ হয় বাদশাহ আজিজের সাথে।
• ইউসুফ জোলেখা কাব্যের ইউসুফ চরিত্রটি ছিলো ক্রিতদাস।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
শাহ মুহম্মদ সগীর পনেরো শতকের কবি।
তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে কাব্য রচনা করেন। কাব্যটি পনেরো শতকের ১ম দশকে রচিত হয়েছিলো বলে অনুমান করা হয়।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম কবি রামায়ণের অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা। তিনি রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
• সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী অনূদিত হয় হিন্দি গ্রন্থ মৈনাসত' হিতে।
• ফারসি হতে অনূদিত গ্রন্থ মধুমালতী'।
• আরবি হতে অনূদিত গ্রন্থ ' নবীবংশ।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
ড. এনামুল হক মন্তব্য করেছেন, 'কাব্যটি ফারসি হইতে অনূদিত হইয়াছিল, না হিন্দি হইতে অনূদিত হইয়াছিল, তাহাতে আর এক সমস্যা'।
তবে প্রচলিত উত্তর হিসেবে হিন্দিকে উত্তর হিসেবে নেয়া যেতে পারে।
অপরদিকে সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী গ্রন্থ অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষা থেকে।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
রামায়ণ পনেরো শতকে অনূদিত হয়।
কৃত্তিবাস ওঝা রামায়ণের প্রথম অনুবাদক।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
পুরাণ ৩৬ টি।
এ-র মধ্যে ১৮ টি মহাপুরাণ।
এবং ১৮ টি উপপুরাণ বা অর্বাচীন পুরাণ।
ভাগবত পুরাণ ১৮ পুরাণের মধ্যে অন্যতম।
ভাগবত ১২ টি স্কন্ধ বা পর্বে বিভক্ত।
১০ম থেকে ১২ তম স্কন্ধে শ্রীকৃষ্ণের লীলা স্থান পেয়েছে।
সংস্কৃত ভাষার ভাগবত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন মালাধর বসু।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
সঠিক প্রশ্নটি হবে- পদাবলির 'পূর্বরাগের' শ্রেষ্ঠ কবি ' কাকে বলা হয়?
উত্তর: চণ্ডীদাসকে।
প্রশ্নে ভাষাগত ত্রুটি থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।
--------------------
পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি চণ্ডীদাস।
তার রচিত পদ,
"সই কেমনে ধরিব হিয়া?
আমার বধুয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া"
"সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম
কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিলো গো
আকুল করিলো মোর প্রাণ"
ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলির আদি রচয়িতা বিদ্যাপতি।
সংস্কৃত ভাষায় পদাবলির আদি রচয়িতা জয়দেব।