পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
[৯ম - ১৩তম গ্রেড নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ১] বাংলা পরীক্ষা - ১ (সাহিত্য) পরীক্ষার টপিক: ১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ, অন্ধকার যুগ, যুগ-সন্ধিক্ষণ, ২. প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ, ৩. মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাসমূহ [পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য ইত্যাদি।] উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. রূপরাম চক্রবর্তী
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. কানাহরি দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী।
- লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
অন্নদামঙ্গল কাব্য কত খণ্ডে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ছিলেন- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা:
• শিবনারায়ণ,
• কালিকামঙ্গল এবং
• মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
.
চর্যাপদ কোথা হতে আবিষ্কৃত হয়?
  1. নেপালের রাজগ্রন্থশালা
  2. নেপালের বৌদ্ধবিহার
  3. তিব্বতের রাজগ্রন্থশালা
  4. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
পৃথিবীতে মোট জাত মহাকাব্য কতটি রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• পাশ্চাত্য মহাকাব্য দু ভাগে বিভক্ত-
যথা:
- জাত মহাকাব্য (Epic of Growth বা Authentic Epic) এবং
- সাহিত্যিক বা অনুকৃত মহাকাব্য (Literary Epic বা Imitative Epic) I

• জাত মহাকাব্য:
- কোন বিশেষ কবির রচনা নয়, তাতে বহু অজানা কবির অসংখ্য রচনা পরবর্তীকালে কেউ একত্রিত করে অখণ্ড কাব্যে রূপ দেন।
- পৃথিবীতে মোট জাত মহাকাব্য ৪টি।
- বাল্মীকির 'রামায়ণ',
- বেদব্যাসের 'মহাভারত',
- গ্রীক কবি হোমারের 'ইলিয়াড' ও 'ওডিসি' এই জাতীয় মহাকাব্য।

• সাহিত্যিক বা অনুকৃত মহাকাব্য:
-  এটি অলঙ্কারশাস্ত্রবিধি সম্মত রচনা।
- একজন বিশেষ কবির প্রতিভায় তা রচিত হয়।
- জাত মহাকাব্য পুরাণ ইতিহাস থেকে কাহিনি নিয়ে রচিত নতুন সৃষ্টির মর্যাদা পায়।
- ভার্জিলের 'ইনিড', মিলটনের 'প্যারাডাইস লস্ট', মধুসূদনের 'মেঘনাদবধ কাব্য' এই শ্রেণির মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
.
রামায়ণ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কাশীরাম দাস
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• রামায়ণ অনুবাদ:
- কবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। বাল্মীকি আগে রত্নাকার নামে দস্যুবৃত্তি করতেন।
- বল্মীকির 'রামায়ণ' প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি কৃত্তিবাস ওঝা।
- কৃত্তিদাস ওঝা রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম-পাঁচালি'।
- তাঁর বাংলায় অনুবাদ কৃত রামায়ণ টি এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন।

অন্যদিকে,
- কাশীরাম দাস মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- শ্রীকর নন্দী মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদিত মহাভারতের নাম 'বিজয়পাণ্ডবকথা' বা 'ভারত পাঁচালী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কে আলোচনা করেছেন?
  1. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে প্রথম আলোচনা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯২৭ সাল)।
- বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ তাঁদের ধর্মীয় রীতিনীতির নিগূঢ় রহস্য চর্যাপদের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।
- চর্যাপদের মাধ্যমে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা গোপন তত্ত্বদর্শন ও ধর্মচর্চাকে বাহ্যিক প্রতীকের সাহায্যে ব্যক্ত করেছেন।
- বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখা কালক্রমে যেসব উপশাখায় বিভক্ত হয়েছিল তারই বজ্রযানের সাধারণ প্রণালি ও তত্ত্ব চর্যাপদে বিধৃত।
- মহাসুখরূপ নির্বাণলাভ'ই হলো চর্যার প্রধান সাধনাতত্ত্ব বা ধর্মমত।

• চর্যাপদের প্রধান আলোচকগণ:

- চর্যাপদের আবিষ্কারক ও সম্পাদনা ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭ সাল)
- চর্যাপদের ভাষা নিয়ে প্রথম আলোচনা বিজয়চন্দ্র মজুমদার (১৯২০ সাল)
- চর্যাপদের ভাষা বাংলা এটা নিয়ে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও প্রমান উপস্থাপন ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৯২৬ সাল)
- চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ - কীর্তিচন্দ্র
- চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী (১৯৩৮ সাল)
- চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৪২ সাল)
- চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ- ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৪৬ সাল)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'ষড়গোস্বামী' বলতে কী বুঝায়?
  1. শ্রীচৈতন্যদেবের ছয়জন শিষ্য
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ছয়জন রচয়িতা
  3. রামায়ণের ছয়জন ঋষি
  4. মহাভারতের ছয়জন শ্রেষ্ঠ কবি
ব্যাখ্যা
• ষড়গোস্বামী:
- শ্রীচৈতন্যদেবের প্রত্যক্ষ শিষ্য এবং পরম ভক্তদের মধ্যে ছয়জনকে ষড়গোস্বামী বলা হয়।
- এঁরা হলেন: রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী, রঘুনাথ দাস গোস্বামী, গোপাল ভট্ট গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, রূপ গোস্বামী ও জীব গোস্বামী।
- শ্রীচৈতন্যের নির্দেশে তাঁরা বৃন্দাবনে বসবাস করে চৈতন্যপ্রেমের ফেনিলতাকে একটি পরিকাঠামোয় ও কিছু অনুশাসন সমন্বিত ধর্মমতে রূপ দেন।
- যেহেতু তাঁরা বৃন্দাবনে বাস করতেন, সেহেতু তাঁদের বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামীও বলা হয়।
- কবি কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্যচরিতামৃত' গ্রন্থে ছয় গোঁসাই বা 'ষড়গোস্বামী কথাটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় এভাবে 'শ্রীরূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ। / শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথঃ/এই ছয় গোসাঞির করি চরণ বন্দন।
- যাহা হৈতে বিঘ্ন নাশ অভীষ্ট পূরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'শুণ্যপুরাণ' গ্রন্থে মোট কতটি অধ্যায় রয়েছে?
  1. ১৩ টি
  2. ২১ টি
  3. ৪৯ টি
  4. ৫১ টি
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত মঙ্গল কাব্যের নাম কী?
  1. পদ্মপুরাণ
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসাবিজয়
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসাবিজয়':
- মধ্যযুগের 'মনসাবিজয়' কাব্যটি রচনা করেছেন- 'বিপ্রদাস পিপিলাই'।
- বিজয়গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই।
- তিনি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল(পদ্মপুরাণ) রচনার প্রায় এক বৎসর পরে তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি 'দ্বিজ বংশীদাস'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
চর্যাপদের কত নং পদে পঁউয়া খালের(পদ্মা খাল) নাম আছে?
  1. ৬নং
  2. ১৩নং
  3. ৪১নং
  4. ৪৯নং
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের বাঙালি কবি ভুসুকুপা রচিত পদে 'পউয়া খাল' এর কথা বলা আছে।
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- বাজ ণাব পাড়ী পঁউআ খালে বাহিউ।
- অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।
-'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদিকবি কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গলের আদি কবি- কানা হরিদত্ত।

• কানাহরি দত্ত:

- কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি ।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে: 'হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।' কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল: আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।/হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।- চর্যার এই পদ কে রচনা করছেন?
  1. ভুসুকপা
  2. কাহ্নপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
• "টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।/হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"- চর্যার এই পদ  রচনা করছেন ঢেণ্ডণপা।

• ঢেণ্ডণপা:

- ঢেণ্ডণপা ছিলেন নবম শতকের কবি।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি। তিনি চর্যার ৩৩নং পদের রচয়িতা।
- এই একটিমাত্র পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- পদটি হলো-
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"
• অর্থাৎ, লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
কাকে মৈথিল কোকিল বলা হয়?
  1. বিদ্যাপতি
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. জয়দেব
  4. ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
বাংলাভাষায় সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী কোনটি?
  1. চৈতন্য মঙ্গল
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. চৈতন্য- জীবনামৃত
  4. চৈতন্য-চরিতামৃত
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিতামৃত' (১৬১৫)।

• শ্রীচৈতন্যদেব:

- বাংলা সাহিত্যে একটি পক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে।
- তাঁর জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ, নবদ্বীপ; মৃত্যু ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ, পুরী।
- শ্রীচৈতন্যদেবের পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র; ডাকনাম নিমাই।
- বাংলা সাহিত্যে ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- তাঁর জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থের নাম লোচন দাসের 'চৈতন্য মঙ্গল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
'ধনপতি সদাগর' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১.  ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:

- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম/ আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ ছিল কোন শাসনামলে?
  1. পাল আমলে
  2. সেন আমলে
  3. তুর্কি আমলে
  4. পাঠান আমলে
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।
- ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলা অধিকার করেন।
- পরবর্তী দেড়শ বছর রাজনৈতিক আলোড়নের জন্য কোন সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব হয়নি বলে অনেকের ধারণা।
- এ সময় রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া।
- অবশ্য এগুলোর রচনাকাল নিয়ে মত-পার্থক্য আছে।) সেগুলো মূলত সংস্কৃত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগ বিভাগ হয়েছে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে।
- চর্যার কবিদের অস্তিত্ব দ্বাদশ শতাব্দীর (১২০০) পূর্ব পর্যন্ত ছিল বলে মনে করা হয়।
- তাই দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন যুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
কাহ্নপা রচিত কয়টি পদ পাওয়া গেছে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১২ টি
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায় নি।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- চর্যাপদে তাঁর কাফিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাঙ্গু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
মধ্যযুগের বিখ্যাত 'পদ্মাবতী' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত কাজী
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ খদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল রচিত অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থ:
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না, 
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।