পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৪ বাংলা টপিক: বাক্যের শেণি বিভাগ, ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়াপদ, বাক্য রূপান্তর, বাক্য শুদ্ধি, যতিচিহ্ন, বাচ্য ও উক্তি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীতের উদাহরণ?
  1. প্রদীপ নিভে গেল। 
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল।
  3. আমি সমিতিতে ২৫ টাকা চাঁদা দিয়েছিলাম।
  4. স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।

অন্যদিকে,
প্রদীপ নিভে গেল।- সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।
'আমি সমিতিতে ২৫ টাকা চাঁদা দিয়েছিলাম।' এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল। - পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. বর্তমানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল।
  2. অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  4. আমি সন্তোষ হলাম।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: বর্তমানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"আমি বাড়ি গিয়ে খাব।" - বাক্যের "গিয়ে" কোন ক্রিয়াপদ?
  1. অসমাপিকা
  2. প্রযোজক
  3. সকর্মক
  4. সমাপিকা
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে .......
- সে বই নিয়ে ...
• এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।

যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
- সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
• সুতরাং, 'গিয়ে', 'নিয়ে' হচ্ছে অসমাপিকা ক্রিয়া। আর 'খাব', 'বসেছে' এগুলো সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
"তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি" এটি কোন প্রকারের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি স্বাধীন বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি

অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা তার অধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যদি একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তবে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন:
ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি কর্তা বা উদ্দেশ্য ও একটিই সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
খোকন বই পড়ছে।
আমি বহু কষ্টে সাঁতার শিখেছি।
জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়

অন্যদিকে,
ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে একটি ক্রিয়াপদ গঠিত হলে, তাকে বলে-
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সমকর্মক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে ৷
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১ ও ২০১৯) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. হাফিজ চিঠি লিখছে। 
  2. মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
  3. হাসিব স্কুলে যায়।
  4. সাইরেন বেজে উঠল।
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
সাপুড়ে সাপ খেলায়।
মা নুসরাতকে চাঁদ দেখাচ্ছেন

অন্যদিকে,
- সাইরেন বেজে উঠল। - যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- হাফিজ চিঠি লিখছে। - সমকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- হাসিব স্কুলে যায়। - সমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্তাবাচ্য
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

অন্যদিকে,
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
আমার যাওয়া হল না।
কোথা থেকে আসা হলো।
এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
.
অকর্মক ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. মেয়েটি গান গাচ্ছে।
  2. ছেলেটি কথা শোনে।
  3. রহিম বই পড়ে।
  4. আমি টিফিনে খেয়েছি।
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
স্বপন লিখছে।
কাঞ্চন পড়ছে।

মি টিফিনে খেয়েছি


অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
স্বপন চিঠি লিখছে।
কাঞ্চন বই পড়ছে।
রহিম বই পড়ে।
ছেলেটি কথা শোনে।
মেয়েটি গান গাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১০.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  2. আগত শনিবারে তারা যাবে।
  3. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
  4. এটা কাঁচা হাতের লেখা।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: আগত শনিবারে তারা যাবে।
শুদ্ধ: আগামী শনিবারে তারা যাবে।

অন্যদিকে,
- পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
- এটা কাঁচা হাতের লেখা।
- পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
'তোমার কথাগুলো অসত্য।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. তোমার কথাগুলো মিথ্যা, তাই অসত্য।
  2. তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
  3. তুমি যা বলেছ, তা অসত্য।
  4. তোমার কথা অসত্য কারণ তুমি মিথ্যা বলো।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন-

সরল বাক্য: তোমার কথাগুলো অসত্য।
জটিল বাক্য: তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
নিচের কোনটি কর্তাবাচ্যের উদাহরণ?
  1. চিঠিটা পড়া হয়েছে।
  2. তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
  3. তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
  4. এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

অন্যদিকে,
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
আমার যাওয়া হল না।
কোথা থেকে আসা হলো।
এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. হেসে ওঠা
  3. উদয় হওয়া
  4. রাজি হওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংযোগ ক্রিয়া - মন দেওয়া, উদয় হওয়া, রাজি হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ ও ২০১৯)।
১৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. সব মাছগুলোর দাম কত।
  2. আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।
  3. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  4. নিরোগী লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

অশুদ্ধ: নিরোগী লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।
শুদ্ধ: নীরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।

অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দেবেন।
  2. সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
  3. ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
  4. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দেবেন।
শুদ্ধ: তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দেবেন।

অন্যদিকে,
- আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
- ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
- সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায়নি, তাকে কী বলে?
  1. ঘটমান অতীত
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
ঘটমান বর্তমান:
- যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায় নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
আমার ছোট ভাই লিখছে।
ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে।
টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।

অন্যদিকে,
ঘটমান অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে। 
যেমন: তারা মাঠে খেলছিল। 

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৭.
কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ নয়?
  1. সব সময় সত্যি বলবে।
  2. তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
  3. বড় হও, বুঝতে পারবে।
  4. সুমাইয়া সময়মতো খেয়ো।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- বড় হও, বুঝতে পারবে।
- সব সময় সত্যি বলবে।
- সুমাইয়া সময়মতো খেয়ো।

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞা বর্তমান:
- যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।