পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

পরীক্ষাপ্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩০ বিষয়: বাংলা টপিক: বাক্য প্রকরণ, বাক্য রূপান্তর, উপসর্গ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫

প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ - ২০২৫ · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
সরল বাক্য কোনটি?
  1. যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
  2. ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।
  3. সে আমাকে একটা ছবি দেখাবে।
  4. যারা ছাত্র তাদের অধ্যয়নই তপস্যা।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য (simple sentence):
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- লিপা স্কুলে যায়।
- পাখিরা আকাশে ওড়ে।
- নিয়মমতো পড়লে পরীক্ষায় পাশ করা যায়। 

• লক্ষ কর: সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে বাক্যে এক বা একাধিক কর্মপদ (বিশেষ্য) থাকতে পারে। সমাপিকা ক্রিয়াটা অকর্মক ক্রিয়া হলে কোনো কর্মপদ থাকে না, ক্রিয়া-বিশেষণ থাকতে পারে।
যেমন:
- শিশুটা হাসছে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- শিশুটা ধীরে ধীরে হাঁটছে। (ক্রিয়াবিশেষণ + অকর্মক ক্রিয়া)
- সে ভাত খাচ্ছে। (কর্মপদ + সমাপিকা ক্রিয়া)
- সে আমাকে একটা ছবি দেখাবে। (কর্মপদ + কর্মপদ + দ্বিকর্মক ক্রিয়া)

একটা সরল বাক্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে।
যেমন:
- আমি তাকে দেখতে চাই।
[এখানে 'দেখতে' হলো অসমাপিকা ক্রিয়া। 'চাই' হলো সমাপিকা ক্রিয়া। যেহেতু সমাপিকা ক্রিয়া মাত্র একটা, সেহেতু বাক্যটা সরল।]

অন্যদিকে, 
- ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা। 
- যারা ছাত্র তাদের অধ্যয়নই তপস্যা।
- যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।

[অপশনে প্রদত্ত অন্য বাক্যগুলো জটিল বাক্য।] 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অপবাদ' শব্দের 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিকৃত
  2. বিপরীত
  3. স্থানান্তর
  4. নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

.
জটিল বাক্য কোনটি? 
  1. সে ধনী বটে, কিন্তু গরিবকে ভালোবাসে।
  2. সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।  
  3. যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
  4. সে কাল আসবে, তার পর আমি যাব। 
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যােজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলাে যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম
- যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে। 

যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততােধিক স্বাধীন বাক্য যখন যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যােজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (;), ড্যাশ ( ) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যােজকের কাজ করে।
যেমন -
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছলো, তারপর পড়তে বসল।: 
- সে কাল আসবে, তার পর আমি যাব। 
- সে ধনী বটে, কিন্তু গরিবকে ভালোবাসে। 
- সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১ , ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।

.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. মনমোহন 
  2. তত্ত্বজ্ঞান
  3. ভ্রাতূষ্পুত্র
  4. বিবাদমান
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
• শুদ্ধ বানান – তত্ত্বজ্ঞান।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পরমার্থবিষয়ে জ্ঞান,
- দিব্যজ্ঞান।

অন্যদিকে,
বিবাদমান – বিবদমান, 
ভ্রাতূষ্পুত্র – ভ্রাতুষ্পুত্র, 
মনমোহন – মনোমোহন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
কোনটি জটিল বাক্য নয়?
  1. যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
  2. যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
  3. তাদের যে দৃষ্টি তাতে সামান্য বিস্ময়ের ভাব।
  4. তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- তাদের যে দৃষ্টি তাতে সামান্য বিস্ময়ের ভাব।

অন্যদিকে,

যৌগিক বাক্য:
- তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

.
শুদ্ধ বানান -
  1. তত্ত্ববধান
  2. ধূলিসাৎ
  3. কিংবদন্তী
  4. অত্যান্ত
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান – ধূলিসাৎ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
-  ১) মাটিতে পরিণত, ধুলায় পর্যবসিত। ২)সম্পূর্ণ বিনষ্ট।

অন্যদিকে,
- অত্যান্ত – অত্যন্ত,
- কিম্বদন্তী – কিংবদন্তি, 
- তত্ত্ববধান– তত্ত্বাবধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
নিচের কোনটি অস্তিবাচক বাক্য?
  1. এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
  2. এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই। 
  3. কিন্তু বরফ গলিল না।
  4. তোমার এরূপ ব্যবহার উচিত হয়নি।
ব্যাখ্যা

• অস্তিবাচক বাক্য/ হ্যাঁ বাচক বাক্য:
যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
অন্যভাবে, যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।

যেমন:
- তুমি কালকে আসবে।
- এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
- আপনি আমায় অবিশ্বাস করেছেন।

অন্যদিকে,
• নেতিবাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন:
- এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
- কিন্তু বরফ গলিল না।
- তোমার এরূপ ব্যবহার উচিত হয়নি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অনু
  2. ভর
  3. অব
  4. দুর
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
বিবৃতিমূলক বাক্য কোনটি?
  1. বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।
  2. আমাকে একটি কলম দাও।
  3. আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
  4.  তার মঙ্গল হোক।
ব্যাখ্যা

• বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।

যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য। 
যেমন: 
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড। 
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১০.
কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. আর তো পথ নেই।
  2. দুর্জনকে দূরে রেখো।
  3. এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
  4. মরতে তো একদিন হবেই।
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য- দুর্জনকে দূরে রেখো।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

অন্যদিকে, 
• আর তো পথ নেই।
• এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
• মরতে তো একদিন হবেই।

প্রদত্ত বাক্যগুলো নির্দেশাত্মক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১.
শুদ্ধ বানান -
  1. মুমূর্ষ
  2. কৃষিজীবি
  3. সমীচিন
  4. কীর্তন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান – কীর্তন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- গুণবর্ণনা, যশ বা মহিমা প্রচার, রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক সংগীত।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ,
- সমীচীন, 
- মুমূর্ষু, 
- কৃষিজীবী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
আবেগসূচক বাক্য কোনটি?
  1. সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
  2. কী সাংঘাতিক লোক!
  3. এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
  4. যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।
ব্যাখ্যা

• আবেগসূচক বাক্য: কী সাংঘাতিক লোক!

• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
• বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক!
• হর্ষ: ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো!
• ঘৃণা: ছিঃ ছিঃ! অমন কথা মুখে আনলে কী করে? 
• শোক: হায় হায়! কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি।
• ক্রোধ: এত বড় স্পর্ধা! মুখের ওপর কথা বলে।
• ভয়: ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
• আবেগ: বাহ! সুন্দর লিখেছ তো। 

অন্যদিকে, 
নির্দেশাত্মক বাক্য:
• সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
• এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
• যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩.
'উপ' উপসর্গটি কোন শব্দে 'সদৃশ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপকূল
  2. উপদ্বীপ
  3. উপকণ্ঠ
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা

'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪.
‘দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।’- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. দোষ করেছ, তাই শাস্তি পাবে।
  2. যেহেতু দোষ করেছ শাস্তি পাবে।
  3. যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
  4. দোষ করায় শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
• বাক্যের জটিলরূপ: যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।


• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যৌগিক বাক্য থেকে জটিল বাক্য: 
- যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্য়ে রূপান্তর করার সময় যৌগিক বাক্যের যোজক বাদ দিয়ে, এর বদলে সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজক যুক্ত হয়।

• যৌগিক বাক্য: সে কাল আসবে এবং আমি যাব। 
• জটিল বাক্য: কাল যখন সে আসবে, তখন আমি যাব।   

• যৌগিক বাক্য: তপুর বয়স অল্প, কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান। 
• জটিল বাক্য: যদিও তপুর বয়স অল্প, তথাপি সে বেশ বুদ্ধিমান।
 
• যৌগিক বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
• জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।

১৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ আমাদের একান্ত কাম্য।
  2. ইহার আবশ্যক নেই।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  4. বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
ব্যাখ্যা

 • শুদ্ধ বাক্য: সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ আমাদের একান্ত কাম্য।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নেই।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান

১৬.
"তুমি আসবে এবং আমি যাব।" - বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. তুমি আসবে আর আমি যাবো।
  2. তুমি এলে আমি যাব।
  3. তুমি যখন আসবে তখন আমি যাবো।
  4. তুমি আসবে এরপর আমি যাবো।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
কোন উপসর্গগুচ্ছটি তৎসম?
  1. কু, নি, পাতি
  2. অপি, অভি, উপ
  3. বি, ভর, রাম
  4. অঘা, অজ, অনা
ব্যাখ্যা

• অপি, অভি, উপ - গুচ্ছটি তৎসম উপসর্গ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮.
'জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও সে বিনয়ী নয়' - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যদিও সে জ্ঞানী তাও সে বিনয়ী নয়।
  2. যেহেতু সে জ্ঞানী তাই সে বিনয়ী নয়।
  3. সে জ্ঞানী, বিনয়ী নয়। 
  4. সে জ্ঞানী, কিন্তু বিনয়ী নয়। 
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়। 
• সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছ। 

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক ব্যবহৃত হয়।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে। 

• সূর্য উদিত হয়, তবে অন্ধকার দূর হয়। 
• সত্য কথা বলনি, তাই বিপদে পড়েছ। 

• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য:  
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটিমাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। যেমন -

• সরল বাক্য: জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও সে বিনয়ী নয়। 
• যৌগিক বাক্য: সে জ্ঞানী, কিন্তু বিনয়ী নয়। 
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে টাকা দাও। 
• যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।   
• সরল বাক্য: তিনি ধনী হলেও সুখী ছিলেন না। 
• যৌগিক বাক্য: তিনি ধনী ছিলেন কিন্তু সুখী ছিলেন না।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ

১৯.
আরবি উপসর্গ কোনটি?
  1. বাজে
  2. কার
  3. দর
  4. ফি
ব্যাখ্যা

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০.
"যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।" কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. মৌলিক
ব্যাখ্যা

• "যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।" এটি একটি জটিল বাক্য।
বাক্য বিশ্লেষণ -
উপবাক্য (অধীন-বিশেষণ উপবাক্য): “যে সকল পশু মাংস ভোজন করে”- এখানে যে দ্বারা উপবাক্য শুরু হয়েছে। এটি মূল বাক্যের কর্তা “পশু”-কে বিশেষণ করছে।
মূল বাক্য: “তারা অত্যন্ত বলবান।”

• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। 
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
কোন শব্দটিতে 'অনু' উপসর্গটি 'পৌনঃপুন' অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনুদিন
  2. অনুবাদ
  3. অনুরুপ
  4. অনুকম্পা
ব্যাখ্যা

'অনু' উপসর্গের ব্যব্যহার:
- পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
 যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
যৌগিক বাক্যের ক্ষেত্রে কোন যোজক ব্যবহৃত হয়?
  1. যে-সে 
  2. যদিও 
  3. যেহেতু 
  4. অথচ
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

অন্যদিকে, 
যে-সে, যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২৩.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. মেয়েটি সুকেশেনী ও সুহাসিনী।
  2. ক্ষমা একটি মহান গুণ।
  3. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  4. তুমি নির্দোষী নও।
ব্যাখ্যা

 • শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশিনী ও সুহাসিনী।

অশুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষী নও।
শুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষ নও।

অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা। 

অশুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহানগুণ।
শুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহৎ গুণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪.
'আভাস' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ঈষৎ অর্থে
  2. পর্যন্ত অর্থে
  3. বিপরীত অর্থে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- পর্যন্ত অর্থে = আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র।
- ঈষৎ অর্থে = আরক্ত, আভাস।
- বিপরীত অর্থে = আদান, আগমন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৫.
'লাপাত্তা' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. আরবি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা

• 'লাখেরাজ' শব্দটি 'আরবি' উপসর্গযোগে গঠিত।

• 'লা' উপসর্গযোগে গঠিত আরো কিছু শব্দ:
- লাজওয়াব,
- লাখেরাজ,
- লাওয়ারিশ,
- লাপাত্তা।

আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬.
শুদ্ধ বানান -
  1. চর্ব্যচূষ্য
  2. গন্যমান্য
  3. কিনাঙ্ক
  4. উচ্ছাস
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে

• শুদ্ধ বানান - চর্ব্যচূষ্য।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- চিবিয়ে বা চুষে খেতে হয় এমন,
- বিবিধ সুস্বাদু খাদ্যবস্তু।

অন্যদিকে,
উচ্ছাস – উচ্ছ্বাস। 
কিনাঙ্ক – কিণাঙ্ক। 
গন্যমান্য – গণ্যমান্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৭.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  2. তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
  3. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  4. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।

অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  2. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
  3. তোমার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
ব্যাখ্যা

• 'তোমার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।'- বাক্যটি শুদ্ধ। 

তাছাড়া,
ভুল বাক্য:  এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

ভুল বাক্য: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়। 
শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়। 

ভুল বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়। 
শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 

২৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
  2. সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  3. বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

 • অপশনের সবগুলো বাক্য শুদ্ধ।

- শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
- শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
- শুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০.
অশুদ্ধ বানান -
  1. নথিপত্র
  2. মনোযোগ
  3. বীণাপানি
  4. যথোচিত
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - বীণাপানি।
- শুদ্ধ বানান - বীণাপাণি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- বীণা যার পাণিতে, সরস্বতীদেবী, বাগদেবী।

অন্যদিকে,
- নথিপত্র, আভ্যন্তর এবং যথোচিত - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কূপমন্ডূক
  2. কূপমণ্ডূক
  3. কুপমণ্ডূক
  4. কুপমন্ডূক
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - কূপমণ্ডূক।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- সীমাবদ্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩২.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ইহার আবশ্যক নাই।
  2. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  3. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  4. তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ বাক্য: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ বাক্য: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৩.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপয়া
  2. অধিকার
  3. অপমান
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অপয়া।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪.
শুদ্ধ বানান -
  1. কিংকর্তব্যবীমূঢ়
  2. কিংকর্তব্যবিমুঢ়
  3. কিংকর্তব্যবিমূঢ়
  4. কিংকর্তব্যবিমূড়
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- কর্তব্য নিরূপণে অক্ষম।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৩৫.
'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল 
  2. যৌগিক 
  3. সরল 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 • সরল বাক্য:
কে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা-
- অনেকের নিবাস থাকলেও আমার নিবাস নাই।
- ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
- অনেকেরই জীবনে দুঃখের পর সুখ আসে।

- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।