পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়24 minutes
মোট প্রশ্ন৬৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৮: বিষয়ের নাম: বাংলাদেশ বিষয়াবলি [পার্ট-২][৭০ নাম্বার] সিলেবাস: i) বাংলাদেশের সংবিধান, ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার ব্যবস্থা, iii) বাংলাদেশের জনসংখ্যা, আদমশুমারি, জাতি, গোষ্ঠী ও উপজাতি সংক্রান্ত বিষয়াদি। iv) বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহ, জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলাসহ চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া, সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইড বই। --------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ১০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৬৭ প্রশ্ন

.
কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মানাসলু শৃঙ্গ কে জয় করেছেন?
  1. তানভীর আহমেদ
  2. বাবর আলী
  3. এম এ মুহিত
  4. তৌফিক আহমেদ তমাল
ব্যাখ্যা

মানাসলু পর্বত জয়:
- মানাসলু পর্বত পশ্চিম-মধ্য নেপালের নেপালি হিমালয়ের অংশ মানসিরি হিমালে অবস্থিত।
- উচ্চতায় ৮ম হলেও বিশ্বের প্রাণঘাতী পর্বতগুলোর মধ্যে এর অবস্থান চতুর্থ।
- এটি পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম পর্বত যার উচ্চতা ৮,১৬৩ মিটার/ ২৬,৭৮১ ফুট। 

⇒ কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মানাসলু শৃঙ্গ জয় করেছেন বাবর আলী।  ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে এই পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন বাবর। শিখরে বাবরের সঙ্গে ছিল দীর্ঘদিনের পর্বতসাথী বীরে তামাং।
- বাবর আলীর পাশপাশি এদিন ‘মানাসলু’ জয় করেছেন বাংলাদেশের আরেক পর্বতারোহী তানভীর আহমেদ। বাবর আলী ও তানভীর আহমেদ দুজনই পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের সদস্য। তাদের এই যৌথ অভিযানের নাম  ‘মানাসলু অ্যাসেন্ট: ভার্টিক্যাল ডুয়ো’।
 - ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে ভোর ৪টায় তৌফিক আহমেদ তমাল মানাসলু পর্বত জয় করেন।
- ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মানাসলু শৃঙ্গে ওঠেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী এম এ মুহিত।

উৎস: প্রথম আলো।

.
শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী কোন বিভাগে বেকারের সংখ্যা সবচেয়ে কম?
  1. বরিশাল
  2. ময়মনসিংহ
  3. সিলেট
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪:
- শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ময়মনসিংহ বিভাগে বেকারের সংখ্যা সবচেয়ে কম।

⇒ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বেকার ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ৬ লাখ ৮৭ হাজার বেকার আছে।
- দেশের বিভাগওয়ারি হিসাবে ঢাকা বিভাগের পর চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ লাখ ৮৪ হাজার, রাজশাহীতে ৩ লাখ ৫৭ হাজার, খুলনায় ৩ লাখ ৩১ হাজার, সিলেটে ২ লাখ ১৬ হাজার, রংপুরে ২ লাখ ৬ হাজার, বরিশালে ১ লাখ ৩৯ হাজার এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৪ হাজার বেকার আছে।
- বিবিএসের জরিপ অনুসারে, দেশে যত বেকার আছে, তাঁদের মধ্যে সাড়ে ১৩ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী।

⇒ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুসারে,
- কৃষি খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ ৪৪.৬৭%।
- শিল্প খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ ১৭.৩৭%।
- সেবা খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ ৩৭.৯৬%।

উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
ii) প্রথম আলো।

.
বাংলাদেশে কত সালে প্রথম সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

গণভোট:
- আক্ষরিক অর্থে গণভোট বলতে জনগণের কাছে উপস্থাপিত করা (refer to the people)-কে বোঝায়।
- আইনসভার দ্বারা প্রণীত আইনকে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনসাধারণের কাছে উপস্থাপিত করাকে বলে গণভোট (Referendum)।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি ভোট দেওয়ার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের মতামত দেয়।
- এটি মূলত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনমত যাচাইয়ের জন্য গণভোটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।
- সংবিধানে গণভোট (Referendum) সংক্রান্ত কোনো অনুচ্ছেদ নেই।

⇒ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে। দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে। সবশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

⇒ ১৯৯১ সালে তৃতীয় গণভোটের আগে গণভোট আইন হয়েছিল। সংসদে পাস হওয়া সেই আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, ‘যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার অথবা ৮, ৪৮, ৫৬, ৫৮, ৮০, ৯২ক বা ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ব্যবস্থা করিয়া কোনো বিল উক্ত সংবিধানের ১৪২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে গৃহীত হইবার পর উহাতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিবেন কি করিবেন না, এই প্রশ্ন যাচাইয়ের জন্য সংবিধানের ১৪২(১ক) অনুচ্ছেদ মোতাবেক গণভোটের বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল।’

⇒ ২০ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের সেই বিধান বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই সংশোধনী বাতিলের মামলায় হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি গণভোটও পুনর্বহাল করে রায় দেয়।

উৎস: প্রথম আলো।

.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কোন ধরনের?
  1. রাজতন্ত্র
  2. সমাজতন্ত্র 
  3. এককেন্দ্রিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি:
- বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, এককেন্দ্রিক ও সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্র।
- এর সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে সরকার কাঠামো কেন্দ্রিয় ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কাঠামো ও কার্যগতভাবে কতগুলো বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।
- সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক ও সংসদীয় কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- অর্থাৎ এই সরকার কাঠামোয় একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারই রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সূতিকাগার হিসেবে আইন প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা পালন করবে।
- সরকারের তিনটি অঙ্গ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। প্রতিটি অঙ্গ 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য' নীতির মাধ্যমে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্যকরি। একটি বিভাগ কখনও অন্য বিভাগের কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- সংসদীয় সরকার কাঠামোর নিয়ম মেনে বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদকে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
- আইন অনুযায়ী শাসন বিভাগের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদ হল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
- এই সরকার ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং বাংলাদেশ সংবিধানের ধারা ৫৫-র ৩ অনুসারে মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবে।

উল্লেখ্য,
- এককেন্দ্রিক সরকার এক ধরনের একক, অখন্ড ও সুসংবদ্ধ সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় কেন্দ্রই থাকে সকল ক্ষমতার উৎস। এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থায় আঞ্চলিক বা স্থানীয় সরকারের অস্তিত্ব থাকতে পারে, এ সরকারগুলো কিছু কিছু ক্ষমতা উপভোগ করতেও পারে। তবে তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে এ সরকারগুলো তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে। কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছা করলে এ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, কমাতেও পারে।
- এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় স্থানীয় বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর সাংবিধানিক কোন ক্ষমতা নেই। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, বাংলাদেশ এ ধরনের সরকারের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার হলো এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে বন্টন করা হয়।এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা বন্টন এমন প্রক্রিয়ায় হয়, যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার ও আঞ্চলিক সরকার প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বার্ষিক রিপোর্ট কার কাছে জমা দিতে হয়?
  1. রাষ্ট্রপতির কাছে
  2. প্রধানমন্ত্রীর কাছে
  3. জাতীয় সংসদের কাছে
  4. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রধানত বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- সংস্থাটি সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও আপিলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।
- ব্রিটিশ শাসনের ঐতিহ্যবাহী অধিকাংশ দেশে ‘সিভিল’ বা ‘পাবলিক’ সার্ভিস কমিশন গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ প্রদান এবং চাকুরি সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে সকল সিদ্ধান্ত যাতে মেধা ও সমদর্শিতার নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয় তা নিশ্চিতকরণ।
- বাংলাদেশে এই সংস্থা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন নামে অভিহিত।
- বাংলাদেশের সংবিধানের পাঁচটি অনুচ্ছেদ সংবলিত একটি অধ্যায়ে (৯ম ভাগের ২য়) কমিশনের গঠনপ্রণালী ও কার্যাবলি নির্দেশিত হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪১ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন তার বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতিকে জমা দেয়।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ১৪১ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে -
- প্রত্যেক কমিশনকে প্রতি বছর মার্চ মাসের শুরুর দিনে বা তার আগেই, আগের বছরের (৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) সব কাজকর্মের একটা রিপোর্ট তৈরি করে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে হবে।
(২) এই রিপোর্টের সঙ্গে একটা ছোট নোট (মেমো) থাকবে, যেখানে লেখা থাকবে—
(ক) কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের পরামর্শ মানা হয়নি—সেইসব ক্ষেত্রগুলো কী ছিল এবং কেন মানা হলো না, তার কারণ;
(খ) কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল, কিন্তু করা হয়নি—সেইসব ক্ষেত্রগুলো কী ছিল এবং কেন আলোচনা করা হলো না, তার কারণ;
কমিশন যতটা জানে, ততটা সব লিখে রাখবে।
(৩) যে বছর এই রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, সেই বছর ৩১ মার্চের পর সংসদের যে প্রথম বৈঠক হবে, সেখানে রাষ্ট্রপতি এই রিপোর্ট আর সেই নোটটা সংসদে উপস্থাপন করবেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।

.
২০২৫ সালে কোন বাংলাদেশি স্থপতি আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার লাভ করেন?
  1. মাজহারুল ইসলাম
  2. মেরিনা তাবাশ্যুম
  3. কাজী গোলাম নাসির
  4. ফেরদৌসী রহমান
ব্যাখ্যা

আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার:
- ২০২৫ সালে আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার লাভ করে মেরিনা তাবাশ্যুম।
- মেরিনা তাবাশ্যুম ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’–এর প্রধান পরামর্শক।

⇒ বাংলাদেশের খ্যাতিমান স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম দ্বিতীয় দফায় স্থাপত্যের সম্মানজনক স্বীকৃতি আগা খান পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
- তাঁর নকশা করা ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্প আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার–২০২৫–এর জন্য মনোনীত হয়েছে।
- সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এ কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এই পুরস্কারের জন্য মেরিনা তাবাশ্যুমসহ সাত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।
- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন মেরিনা তাবাশ্যুম প্রথম বাংলাদেশি স্থপতি, যিনি দ্বিতীয়বার এ পুরস্কার জিতেছেন। 
- মেরিনা তাবাশ্যুম এর আগে ২০১৬ সালে ঢাকার দক্ষিণখানে বাইতুর-রউফ মসজিদের নকশার জন্য আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছিলেন। সুলতানি আমলের স্থাপত্যের আদলে নকশা করা এ মসজিদ ২০১২ সালে নির্মিত হয়।

উল্লেখ্য,
- প্রয়াত প্রিন্স করিম আগা খান চতুর্থ ১৯৭৭ সালে আগা খান পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এ পুরস্কারের মাধ্যমে এমন নির্মাণশৈলী চিহ্নিত করে উৎসাহ দেওয়া হয়, যাতে মুসলিম অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে।

উৎস: প্রথম আলো।

.
গণপরিষদ আদেশ কোন তারিখ থেকে কার্যকর ধরা হয়?
  1. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
  3. ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ
  4. ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- আইনের দৃষ্টিতে অযোগ্য বলে বিবেচিত এমন ব্যক্তিকে গণপরিষদের সদস্য হতে পারতেন না।
- গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন।
- বহিস্কৃত ও পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য পোষণকারী সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য পদ লাভে অযোগ্য ছিলেন।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি বঙ্গবন্ধুকে গণপরিষদের দলীয় নেতা নির্বাচন করে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান রচনা ও গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
- গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার যথাক্রমে শাহ আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ উল্লাহ।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন আবু সাদাত মো. সায়েম।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন:
- বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালে 'ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন' প্রণয়ন করে।

⇒ বাংলাদেশ সরকার ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে গৃহীত আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসিতে (ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল) স্বাক্ষর করে।
- চুক্তির বিধানসমূহ প্রতিপালনে সরকার পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে।
- এই আইনের ৪ ধারার ১ উপধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি কোনো পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে পারবেন না, অর্থাৎ উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎস: i) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৫। 
ii) প্রথম আলো।

.
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ কে ছিলেন?
  1. তোহা খান
  2. মণি সিংহ
  3. মহিউদ্দীন আহমেদ 
  4. সি আর দাস
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ:
- উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড মণি সিংহ।

⇒ কমরেড মণি সিংহ ছিলেন উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, অন্যতম স্থপতি।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সপিবি) প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ।
- মার্ক্সবাদী বিপ্লবী আদর্শই ছিল তাঁর জীবনাদর্শ।
- ‘মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ’, তথা সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল তাঁর আমৃত্যু সংগ্রামী প্রয়াস। 
- তিনি সব সময় ‘বিপ্লবী মানবতাবাদের’ কথা প্রচার করতেন।
- কমরেড মণি সিংহ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

উৎস: প্রথম আলো। 

১০.
১৯৯০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি লতিফুর রহমান
  2. বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ
  3. বিচারপতি হাবিবুর রহমান
  4. বিচারপতি রুহুল আমিন
ব্যাখ্যা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) একটি অস্থায়ী ও বিশেষধরণের সরকার পদ্ধতি।
- বিশেষ রাজনৈতিক সংকটজনক পরিস্থিতিতে এ ধরণের সরকার দায়িত্ব পালন করে।
- এই সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সম্পূর্ণ অস্থায়ী ও নির্দলীয় সরকার যার মূল দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা অর্পন করা।

• তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন:
- ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন ও পদত্যাগের সময় যে সাংবিধানিক সংকট সৃস্টি হয়-তা নিরসনে এইরূপ একটি অস্থায়ী সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
- তৎকালীন সরকার বিরোধী জোটের রূপরেখা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল।
- ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তখনকার মতো এই সরকারের পর্ব সমাপ্ত হয়ে যায়।
- কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন (১৯৯১-৯৫) বিরোধী দল কতকগুলি দাবীকে সামনে রেখে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে এবং একই সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরিচালনার দাবি জানায়।
- কিন্তু সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী অসাংবিধানিক বলে অগ্রাহ্য করে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষণা করে।
- কিন্তু সকল দল নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি তা প্রতিহত করারও ঘোষণা দেয়।
- কিন্তু সরকার বিরোধীদল ছাড়াই একতরফাভাবে সম্পন্ন করে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় এই নির্বাচন জনগণের নিকট গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেনি।
- ফলে উদ্ভুত গণ আন্দোলনের চাপে সরকার ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে "তত্ত্বাবধায়ক সরকার" গঠন আইন পাশ করে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে?
  1. ১৪২ নং
  2. ১৪৩ নং
  3. ১৪৬ নং
  4. ১৪৮ নং
ব্যাখ্যা

সংবিধানের অনুচ্ছেদ - ১৪৬: বাংলাদেশের নামে মামলা: 
- 'বাংলাদেশ'-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে। 

অন্যদিকে:
- অনুচ্ছেদ-১৪২: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ-১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ-১৪৮: পদের শপথ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১২.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে কতজন নারী উপদেষ্টা রয়েছে? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৬ জন
ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।
- প্রধান উপদেষ্টা: ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- মোট উপদেষ্টা: ২৩ জন।
- নারী উপদেষ্টা রয়েছে ৪ জন।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

১৩.
সিটিজেনস ফর ফেয়ার ইলেকশনস্ (সিএফই) নামের নাগরিক সংগঠনটি বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. বাংলাদেশ নির্বাচন ওয়াচ
  2. সুজন
  3. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  4. আশা
ব্যাখ্যা

সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক):
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি রয়েছে।
- সুজনের সভাপতি জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান এবং সম্পাদক ড: বদিউল আলম মজুমদার। 


⇒ প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উৎস: সুজন ওয়েবসাইট।

১৪.
Rules of Business কে প্রণয়ন করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. আইনমন্ত্রী
  4. বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

Rules of Business:
- যে আইনের মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করা হয় তাকেই সরকারী কার্যপ্রণালী বিধি বা Rules of Business বলা হয়ে থাকে।
- রুলস অফ বিজনেস, ১৯৯৬ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল যা সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রণীত।
- সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস’ বা কার্যবিধিমালার বিষয়বস্তু হচ্ছে মূলত নির্বাহী বিভাগের কর্মবণ্টন ও কর্মপদ্ধতি।
- বলা হয়ে থাকে রাষ্ট্রের সংবিধান যেমন সব নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য, তেমনি কার্যবিধিমালা নির্বাহী বিভাগের সবার জন্য প্রযোজ্য।
- এই বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যাবলী বন্টন করা এবং তাদের দায়িত্ব ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা। 
- সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি Rules of Business প্রণয়ন করেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম কার্যবিধিমালা প্রণীত হয়েছিল ১ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে। তখন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ছিল বিধায় সেটি সে আদলেই করা হয়েছিল।
- ১৯৯৬ সালে প্রবর্তিত হয় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার উপযোগী নতুন কার্যবিধিমালা।
- বিধিমালাটি ইংরেজিতে প্রণীত।
- কার্যবিধিমালাতে পাঁচটি অধ্যায়ে ৩৩টি বিধি এবং সাতটি তফসিল রয়েছে।

উৎস: i) বণিক বার্তা।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান। 

১৫.
বাংলাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) কত সালে প্রথম জারি করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২:
- বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- এটি ছিল ওই বছর রাষ্ট্রপতির ১৫৫ নম্বর আদেশ।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়।
- পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ আরপিও সংশোধনও করেছে।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো। 
- ২০২৩ সালে সর্বশেষ সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের গণঅধিকার কোনগুলো এবং এ অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন কী করবে সেটিই বলা হয়েছে আরপিওতে।
- “এর ১৪৫টি ধারার মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিষয় বর্ণনা করা আছে।
- এর মাধ্যমে বলা আছে যে কীভাবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। 

⇒ ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
ii) বিবিসি।

১৬.
বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে?
  1. ১৬টি
  2. ১৮টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা

সংবিধানে মৌলিক অধিকার:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং - ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- সেখানে মোট অনুচ্ছেদ আছে ২২টি। এর মধ্যে ১৮টি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে যে ১৮টি অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, সেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে মৌলিক অধিকার।
- সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য। এই অধিকারগুলো ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র প্রতিকার প্রদানে বাধ্য থাকে।
- সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অধিকারগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
- মৌলিক অধিকারগুলো হলো: আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য, সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা, বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ, আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ, গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ, বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ, দায়মুক্তি-বিধানের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার কত?
  1. ২৫%
  2. ৩০.৬৯%
  3. ৩৫.৩৪%
  4. ৩৯%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:  
- ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মূল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ১৫ হতে ২১ জুন ২০২২ সময়ে দেশব্যাপী পরিচালিত হয়। 
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি। 

⇒ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (৫ বছর ও তদূর্ধ্ব),
- মোট ব্যবহারকারী - ৩০.৬৯%।
- পুরুষ ব্যবহারকারী - ৩৮.০৪%।
- নারী ব্যবহারকারী - ২৩.৫২%।

⇒ ঢাকা বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি - ৪০.৪২%।
⇒ রংপুর বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম - ১৭.৬৯%।

⇒ শহর (ইন্টারনেট ব্যবহারকারী) - ৪১.৩০%।
- গ্রাম (ইন্টারনেট ব্যবহারকারী) - ২৫.৭৩%।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১৮.
বাংলাদেশের ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় কোন ধর্মবিশ্বাসের অনুসারী?
  1. হিন্দু ধর্ম
  2. বৌদ্ধ ধর্ম
  3. খ্রিস্ট ধর্ম
  4. জৈন ধর্ম
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- ত্রিপুরা একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য। ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।

⇒ ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা ককবরক নামে অভিহিত। ককবরক ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল। ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে ককবরক রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।

⇒ ত্রিপুরারা সনাতন বা হিন্দু ধর্মের অনুসারী। এরা শিব ও কালীপূজা করেন। পাশাপাশি এরা নিজস্ব কিছু দেব-দেবীর উপাসনাও করে। যেমন গ্রামের সব লোকের মঙ্গলের জন্য এরা ‘কের’ পূজা করে।

⇒ ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক। পিতাই পরিবারের প্রধান এবং তার অবর্তমানে জ্যেষ্ঠ পুত্র পরিবারের কর্তা হন। সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ছেলেরা বাবার সম্পত্তি ও মেয়েরা মায়ের সম্পত্তি লাভ করে থাকে।

⇒ ত্রিপুরা জাতির প্রথাগত উৎপাদন পদ্ধতির নাম জুম। জুম চাষের শুরু থেকেই শেষ অবধি সংগীত একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। লোক নৃত্যে ত্রিপুরাদের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যের মধ্যে সিমতুং, কাথারক, সাকচরাই, চুমলাই, কেরপূজা, গোমতী, নাইরাং, হাচুকমা, সিবরাই, জুয়াংফা, সাকাল, গড়িয়া, হজাগিরি, লেবাং, মামিতা, ত্রিপুরেশ্বরী, মাইখুলুম, হাবা, খুমকাম, অনজালা উল্লেখযোগ্য।

⇒ ত্রিপুরীদের রয়েছে বৈচিত্র্যমন্ডিত উৎসব ও পূজা পার্বণ। প্রধান উৎসব ও পূজা হলো: বৈষু, কের, গোমতী, সিবরাই, খাচী, হাকা। প্রধান উৎসবের নাম বৈষু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৯.
সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী কোন শাস্তি দেওয়া যেতে পারে?
  1. তিরস্কার
  2. নিম্নপদে অবনমিতকরণ
  3. কেবলমাত্র জরিমানা
  4. অতিরিক্ত ভাতা বন্ধ
ব্যাখ্যা

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৩ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’  জারি করেছে সরকার।

⇒ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। 
- অধ্যাদেশে অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতাভুক্ত করা হয়। সেগুলো হলো-
• সরকারি কর্মচারী যদি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হন, যা অনানুগত্যের শামিল বা যা অন্য যেকোনো সরকারি কর্মচারির মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে; অন্যান্য কর্মচারির সঙ্গে সমবেতভাবে বা এককভাবে ছুটি ছাড়া বা কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হন; অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তার কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকতে বা বিরত থাকতে বা তার কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেন বা প্ররোচিত করেন এবং যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তিনি অসদাচরণের দায়ে দণ্ডিত হবেন।

- এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে বলা হয়েছে, দোষী কর্মচারীকে নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ বা চাকরি থেকে অপসারণ বা চাকরি থেকে বরখাস্ত দণ্ড প্রদান করা যাবে।

উৎস: বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।

২০.
'প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে'-সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে এর উল্লেখ আছে?
  1. ১১ নং
  2. ১৭ নং
  3. ২১ নং 
  4. ২৭ নং
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ: গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
- প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে৷

⇒ গণতন্ত্র:
- সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- যেখানে মৌলিক মানবাধিকার, স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং মানবসত্তার মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
- রাষ্ট্রীয় সকল কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
- প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হবে।
- সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। 

অন্যদিকে -
- ১৭ নং অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।
- ২১ নং  অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশের নাগরিকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো সংবিধান ও আইন মেনে চলা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা।
- ২৭নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, এস এস সি প্রোগ্রাম।

২১.
'সব কটা জানালা খুলে দাও না' গানটির গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. নজরুল ইসলাম বাবু
  3. আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
  4. আবু হেনা মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা

নজরুল ইসলাম বাবু
- 'সব কটা জানালা খুলে দাও না: গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু।

⇒ তার রচিত অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
- 'একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার',
- ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’,
- ‘ও আমার আট কোটি ফুল দেইখো গো মালি’ প্রভৃতি।

⇒ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরে তুরার পাহাড়ে বসে যুদ্ধে প্রশিক্ষণের অবসরমুহূর্তে তিনি লিখতেন গান।
- ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আধুনিক ও চলচ্চিত্রের অসংখ্য জনপ্রিয় গান লিখেছেন।
- তার লেখা গান গেয়েছেন বশীর আহমেদ, সৈয়দ আবদুল হাদী, আশা ভোঁসলে, সুবীর নন্দী, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন, শাম্মী আখতার, দিলরুবা খান, বেবী নাজনীন, সুখেন্দু চক্রবর্তী, অ্যান্ড্রু কিশোর, কুমার বিশ^জিৎ, শুভ্রদেব, কুমার শানুসহ অনেকে।

⇒ নজরুল ইসলাম বাবু ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত পদ্মা মেঘনা যমুনার গীত রচনার জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ২০২২ সালে পান একুশে পদক।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) প্রথম আলো।

২২.
তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. হবিগঞ্জ
  2. খুলনা 
  3. রাজশাহী
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ:
- তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ায় অবস্থিত।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- এই স্মৃতিসৌধ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিসৌধ। 
- তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাংলোর পূর্ব দিকে নির্মাণ করা হয়েছে ২, ৩ ও ৪নং সেক্টরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মরণে তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ।
- ১৯৭৫ সালের জুন মাসে এ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের একাত্তর সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) বিবিসি বাংলা।

২৩.
রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮১ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন:
- প্রত্যক্ষ বা সরাসরি ভোটে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিনটি।
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বাকি দুজন হলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই তিনজন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

⇒ ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- তবে এর আগে সংসদ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল।
- সেই নির্বাচনে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
-  সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএজি ওসমানী গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। - জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন।

উৎস: i) BBC.
ii) যুগান্তর।

২৪.
সংবিধান সংস্কার কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সর্বোচ্চ মেয়াদ কত সুপারিশ করেছে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের বিধান পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে। 
- এছাড়াও, কমিশন সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। 
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
- বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে।
- পাশাপাশি, কমিশন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করছে, যেখানে একটি নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ (ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি) এবং একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট) থাকবে এবং এখানে উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর।
- রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন এবং আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কিংবা আইনসভা ভেঙে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত, সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) দিন মেয়াদের একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।

২৫.
বাংলাদেশ বেতারের প্রথম নাম কী ছিল?
  1. ঢাকা শব্দ তরঙ্গ কেন্দ্র
  2. ঢাকা বেতার কেন্দ্র
  3. ঢাকা ধ্বনি বিস্তার কেন্দ্র
  4. পূর্ব পাকিস্তান বেতার কেন্দ্র
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বেতার:
- বাংলাদেশে প্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু হয় ১৯৩৯ সালে ১৬ই ডিসেম্বর।
- বাংলাদেশ বেতারের সদর দপ্তর ঢাকার আগারগাঁও এ অবস্থিত।
- ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে একটি ভাড়া করা বাড়িতে দুটি স্টুডিও নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়।
- প্রথম নামকরণ করা হয় “ঢাকা ধ্বনি বিস্তার কেন্দ্র”।
- ঢাকা বেতারের সম্প্রচার যন্ত্র অর্থাৎ ট্রান্সমিটারটি বসানো হয়েছিল বর্তমান কল্যাণপুর।
- কালের পরিক্রমায় বেতার ভবন স্থানান্তরিত হয় শাহবাগে ১৯৬০ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৮৩ সালের ৩০ জুলাই ঢাকাস্থ শের-ই-বাংলা নগরে বর্তমান অত্যাধুনিক পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বেতার ভবনে ঢাকা প্রচার কেন্দ্র স্থানান্তরিত হলে শাহবাগের সাবেক প্রচার ভবনটি বাংলাদেশ বেতারের সদর দপ্তরে রূপান্তরিত হয়।

⇒ বাংলাদেশ বেতারের ১৪টি আঞ্চলিক কেন্দ্র ও ৬টি ইউনিট হতে ১৬টি মধ্যম তরঙ্গ ট্রান্সমিটার, ২টি ক্ষুদ্র তরঙ্গ ট্রান্সমিটার ও ৩৪টি এফএম ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে দৈনিক ৪৯৭ ঘণ্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে।
- এছাড়া বাংলাদেশ বেতারের ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ বেতার অ্যাপস্ এর মাধ্যমে ১৪টি কেন্দ্রের ৩০টি চ্যানেলের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে।

উৎস: বাংলাদেশ বেতার ওয়েবসাইট।

২৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হতে নিজ গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকবে?
  1. ৪০ নং
  2. ৪১ নং
  3. ৪২ নং
  4. ৪৩ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য় ভাগে 'মৌলিক অধিকার' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ 'গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ' অনুযায়ী যোগাযোগ থেকে শুরু করে চিঠিপত্র আদান-প্রদান এবং ব্যক্তিগত সবকিছুর গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

⇒ ৪৩ নং অনুছেদ:
- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের -
(ক) প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হতে নিজ গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকবে; এবং
(খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতারক্ষার অধিকার থাকবে।

অন্যদিকে,
- ৪০ নং অনুচ্ছেদ: পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- ৪১ নং অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তির অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

২৭.
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পেতে হলে কমপক্ষে কয়টি উপজেলা কমিটি থাকতে হবে?
  1. ২১টি
  2. ৩০টি
  3. ৫০টি
  4. ১০০টি
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু হয় ২০০৮ সালে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে। 

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ২১টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ১০০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

২৮.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সম্প্রচার নীতি প্রণীত হয়েছিল কত সালে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সম্প্রচার নীতি:
- বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সম্প্রচার নীতি প্রণীত হয়েছিল ২০১৪ সালে।

⇒ ৬ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, ২০১৪’ অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। 
- নীতিমালায় বলা হয়েছিল, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্বত রেখে সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচার করবে। সম্প্রচারে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধ নীতিমালায় সমুন্নত রাখতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন সামরিক, বেসামরিক বা সরকারি তথ্য প্রচার করা যাবে না।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় সম্প্রচার নীতি-২০১৪। 

২৯.
ফজলে হাসান আবেদ কত সালে ব্রিটেনের 'নাইট' উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন?
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা

ফজলে হাসান আবেদ
- ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস চেয়ার স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭শে এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর মারা যান।

⇒ স্যার ফজলে হাসান আবেদ শরণার্থীদের সহায়তায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় ‘ব্র্যাক’ গড়ে তোলেন।
- দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটানো ছিল প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।

⇒ ২০১০ সালে তিনি ব্রিটেনের সম্মানজনক নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। ফজলে হাসান আবেদই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে গ্রহণ করেন নাইট কমান্ডার অব দ্য মোস্ট ডিসটিঙ্গুইসড অর্ডার অব সেন্ট মাইকেল অ্যান্ড সেন্ট জর্জ। বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কটি দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য চার দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ায় তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
- সমাজসেবায় গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্যার ফজলে হাসান আবেদ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে (মরণোত্তর) ভূষিত হয়েছেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য পুরস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা উন্নয়নে বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কার ইদান প্রাইজ (২০১৯), নেদারল্যান্ডের রাজা কর্তৃক রয়াল নাইটহুড উপাধি (২০১৯), কমিউনিটি লিডারশিপের জন্য রামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড (১৯৮০) ইত্যাদি।
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ বহু সম্মানসূচক ডিগ্রি পেয়েছেন। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টর অব লজ’ (২০১৪), যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টর অব লেটার্স’ (২০০৯), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টর অব লজ’ (২০০৮) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টরেট অব হিউমেন লেটার্স’ (২০০৭) উল্লেখযোগ্য।

উৎস: ব্র্যাক ওয়েবসাইট।

৩০.
বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের বর্তমান অধিনায়ক - [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. জাহানারা আলম
  2. নিগার সুলতানা জ্যোতি
  3. শারমিন আক্তার 
  4. মারুফা আক্তার 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল:
- বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দ্বারা পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেট দল।
- এটি বাংলাদেশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করে।
- বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ করে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে।
- এশিয়া কাপের শিরোপা জয় লাভ করে ২০১৮ সালে।
- টেস্ট ক্রিকেটে মর্যাদা পায় ২০২১ সালে ।
- একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম নারী সেঞ্চুরিয়ান ফারজানা হক পিংকি।

উৎস: i) বিসিবি।
ii) ICC ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৩১.
'বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন' এটি সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ১০৬ নং
  2. ১১২ নং
  3. ১১৬ নং
  4. ১১৬ক নং
ব্যাখ্যা

বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন:
- সংবিধানের ১১৬ক নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। 
- অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার।
- ১১২ নং অনুচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা। 
- সংবিধানের ১১৬ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে, অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩২.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল:
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দল।
- ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠন করেন।
- এসময় দলটির আহ্বায়ক ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করেন।
- এবছরই বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ফন্ট্রের ব্যানারে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
- জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় রেখে ঢাকার রমনা ময়দানে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠনের ঘোষণা দেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে ক্ষমতাসীন হয়।

⇒ ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
- পরে তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া দলটির নেতৃত্বে আসেন।

এছাড়াও,
⇒ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিএনপি ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে।
- যদিও ১৯৮৮ সালের ৪র্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল।
- প্রথম ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বাস করে?
  1. বান্দরবান 
  2. রাঙামাটি 
  3. খাগড়াছড়ি 
  4. শেরপুর
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে। এ জেলায় এসব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪। 
- জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

⇒ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- এর মধ্যে পুরুষ ৪৯.৯৮% ও নারী ৫০.০২%।
- এর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪.৮২% রাজশাহী, ৮.২৮% সিলেট, ৫.৫২% রংপুর ও ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

⇒ পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এ অঞ্চলে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- তাদের মধ্যে চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, মারমা, রাখাইন, চাক, বম, খেয়াং, পাঙ্খোয়া জাতিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য। 

⇒ সংখ্যার দিক দিয়ে -
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মারমা।
- তৃতীয় অবস্থানে আছে ত্রিপুরা।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) প্রথম আলো।

৩৪.
নভেরা আহমেদ কত সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করে?
  1. ২০২২ সালে
  2. ২০২৩ সালে
  3. ২০২৪ সালে
  4. ২০২৫ সালে
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫:
- জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।
- পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।

⇒ স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্ত:
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর),
- সাহিত্য: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর),
- সংস্কৃতি: নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর),
- সমাজসেবা: স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর),
- মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতি: মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর),
- শিক্ষা ও গবেষণা: বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর,
- প্রতিবাদী তারুণ্য: আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৩৫.
বাংলাদেশের সংবিধানে কোন ধরণের মালিকানার উল্লেখ নেই?
  1. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
  2. যৌথ মালিকানা
  3. সমবায়ী মালিকানা
  4. ব্যক্তিগত মালিকানা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানে যৌথ মালিকানার উল্লেখ নেই।

মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এখানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে-
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা,
২. সমবায় মালিকানা এবং,
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা।

⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৩:
- মালিকানার নীতি- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩৬.
বাংলাদেশের প্রথম জিআই পণ্য হিসেবে জামদানি শাড়ি কত সালে স্বীকৃতি পায়?
  1. ২০১৪ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা

জিআই (GI):
- জিআই (GI) এর পূর্ণরুপ হলো (Geographical indication) ভৌগলিক নির্দেশক।
- জাতিসংঘের সংস্থা WIPO (World Intellectual Property Organization) হলো জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দানকারী প্রতিষ্ঠান।
- ভৌগোলিক নির্দেশক (Geographical indication) হচ্ছে একটি প্রতীক বা চিহ্ন, যা পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ এবং প্রচার করে।
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটাকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

• বাংলাদেশের প্রথম জিআই পণ্য জামদানি শাড়ি।
- জামদানি শাড়ি জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় ২০১৬ সালে।

উৎস: i) পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৩৭.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে কোনটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ধর্মনিরপেক্ষতা
  2. সমাজতন্ত্র
  3. জাতীয়তাবাদ
  4. বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

উল্লেখ্য,
⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে। সেগুলো যথাক্রমে:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে "সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র" প্রস্তাব,
২. ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা,
৩. প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস,
৪. অন্তবর্তী সরকার কাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব,
৫. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ,
৬. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ,
৭. মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

⇒ সংবিধানের মূলনীতি:
- ৫.১ কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
- ৫.২ বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে "বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

রাষ্ট্রের মূলনীতি
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীযতাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলি বাদ দেয়ার সুপারিশ করছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।

৩৮.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচনী জামানত কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ২৫ হাজার টাকা
  2. ৩০ হাজার টাকা
  3. ৪০ হাজার টাকা
  4. ৫০ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর গেজেট জারি করেছে সরকার।
- এতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করাসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।
- নভেম্বর ৪, ২০২৫ তারিখে আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে।
- এর আগে গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

⇒ সংশোধনের গেজেট প্রকাশের পর এবারের জাতীয় নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিধান।
- সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘না ভোট’ পুনরায় চালু হওয়া থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মতো নানা বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী মূল পরিবর্তনগুলো হল-আদালত ঘোষিত ফেরারি আসামি প্রার্থী হতে পারবেন না।
- আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান ও কোস্ট গার্ড) যুক্ত হয়েছে।
- একক প্রার্থীর আসনে ‘না ভোট’ ফিরছে। সমান ভোট পেলে লটারির বদলে হবে পুনঃভোট।
- জোটগত নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক।
- এছাড়াও নির্বাচনী জামানত ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হযেছে।
- আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান থাকবে।
- আইটি সাপোর্টে পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে।
- অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হয়েছে।
- হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে নির্বাচিত হওয়ার পরও ইসি ব্যবস্থা নিতে পারবে-এমন বিধান রাখা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।

৩৯.
সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে নিম্নের কাকে অভিশংসন করা যেতে পারে?
  1. রাষ্ট্রপতি 
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি-কে অভিশংসন করা যেতে পারে।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President):

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President) সম্পর্কে বলা আছে।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সম্পর্কে বলা আছে।
- ৫২ (১) এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যেতে পারবে; এর জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করতে হবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করবেন।
- ৫২ (২) এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করতে পারবেন।
- ৫২ (৩) অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকবার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকবে।
- ৫২ (৪) অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করে সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করলে প্রস্তাব গৃহীত হবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
- ৫২ (৫) এই সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী স্পীকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব-পালনকালে এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী এই পরিবর্তন-সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে যে, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় স্পীকারের উল্লেখ ডেপুটি স্পীকারের উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে এবং (৪) দফায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবার উল্লেখ স্পীকারের পদ শূন্য হইবার উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে; এবং (৪) দফায় বর্ণিত কোন প্রস্তাব গৃহীত হলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে বিরত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪০.
নিম্নের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়?
  1. ত্রিপুরা
  2. সাঁওতাল
  3. খাসিয়া
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা

মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা:
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ হচ্ছে সেসব পরিবার বা জনগোষ্ঠী, যাদের পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর ওপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে।
- মায়ের পরিবার থেকেই উত্তরাধিকার ও বংশ-পদবি নির্ধারিত হয়। 
- বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের খাসিয়া ও গারো নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে।

অন্যদিকে,
- ত্রিপুরাদের পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থায় পিতাই পরিবারের প্রধান।
- সাঁওতালদের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত। পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাখাইনদের পরিবারব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪১.
গ্রাম অঞ্চলে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. জেলা পরিষদ
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. ইউনিয়ন পরিষদ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- গ্রাম অঞ্চলে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এ স্তরগুলো হল-
• জেলা পরিষদ।
• উপজেলা পরিষদ।
• ইউনিয়ন পরিষদ।

ইউনিয়ন পরিষদ:
- গ্রাম অঞ্চলে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে নিচের স্তর ইউনিয়ন পরিষদ।
- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- ইউনিয়ন পরিষদ ১ জন চেয়ারম্যান ও ১২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে যাদের ৯ জন সাধারণ আসনের সদস্য ও ৩ জন সংরক্ষিত আসনের সদস্য হবেন।
- প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে ১ জন করে ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন সাধারণ সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২.
'প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হলো সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত'-এটি উল্লেখ আছে সংবিধানের যে অনুচ্ছেদে -
  1. ৪ (১) নং
  2. ৪ (২) নং
  3. ৪ (৩) নং
  4. ৪ (৪) নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা'র প্রথম দশ চরণ।
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হলো সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হলো উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পত্র, তার উভয় পার্শ্বে দুইটি করে তারকা।
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৩.
জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি কে?
  1. রাবাব ফাতিমা
  2. শারমিন আক্তার
  3. ইসমত জাহান
  4. নাহিদা সোবহান
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি:
- জাতিসংঘে বাংলাদেশি প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি ইসমত জাহান।

উল্লেখ্য,
- ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ইসমত জাহান নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
- নেদারল্যান্ডসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের পর ইসমত জাহান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি।
- ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইসমত জাহান বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে মিশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০১০ সালে তিনি নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
- ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর স্থায়ী পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।

অন্যদিকে,
- জাতিসংঘ শান্তি কমিশনের প্রথম নারী সভাপতি বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৪৪.
‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (NAP)’–এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কে ছিলেন?
  1. শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  2. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
  4. মাহমুদুল হক ওসমানী
ব্যাখ্যা

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি:
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।

⇒ ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়। 
- এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
- ফলে আওয়ামী লীগ আদর্শিক কারণে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ঐ বছর ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন।
- আওয়ামী লীগের বামপন্থী অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৪-২৫ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আবদুল মতিন, ওয়ালি খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫.
সরকারি কর্মচারীদের চাকুরি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কোন আইন প্রণীত হয়েছে?
  1. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৬
  2. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৮
  3. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৯
  4. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০
ব্যাখ্যা

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল:
- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল হলো প্রজাতন্ত্রের কোন বিষয় অথবা কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় উদ্ভূত বিষয় নিষ্পত্তি বা বিচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সালিস-সভা।
- একদিকে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রতিষ্ঠান ও আমলাদের এবং অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিকদের মধ্যকার সৃষ্ট বিরোধ প্রশাসনিকভাবে বিচার-নিষ্পত্তির অনুশীলনের ধারণা থেকেই প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের উদ্ভব।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিধান রাখা হয়েছে।
- অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট ১৯৮০/প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮০ (১৯৮১ সালের অ্যাক্ট-৭) বলে বাংলাদেশে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়।
- এ আইনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তির চাকুরির শর্ত সম্পর্কিত বিষয়ে বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা।
- এ আইনে বলা হয়েছে, সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দানের দিন থেকে এই ট্রাইব্যুনাল কার্যকর হবে।
- এ চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা দেয় যে, ১৯৮১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত আইন কার্যকর হবে।
- এ আইনে আরও বলা হয় যে, যখন সরকার এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে, তখন প্রত্যেকটি ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট আওতা নির্ধারণ করে দিতে হবে।
- এক সদস্যবিশিষ্ট এই ট্রাইব্যুনালের সদস্য সরকার কর্তৃক জেলা জজদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। ট্রাইব্যুনালের সদস্যের নিয়োগের শর্তাবলি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে।

⇒ প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত কোন ব্যক্তির চাকুরির শর্তাবলি পেনশনের অধিকার সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ ও তৎসম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুস্পষ্ট এখতিয়ার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত কোনো ব্যাক্তি সম্পর্কে তার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত যেকোন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তার আবেদনও ট্রাইব্যুনাল বিবেচনা করতে পারে। 
- এডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল আক্টে একটি প্রশাসনিক আপীল ট্রাইব্যুনালেরও বিধান রাখা হয়েছে। সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন চেয়ারম্যান ও অপর দুজন সদস্য নিয়ে আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে।
- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কোন আদেশ বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আপীল শুনানী এবং সিদ্ধান্ত প্রদানের বিষয় আপীল ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত। কোন ব্যক্তি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত যেকোন আদেশ বা সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে এ ধরনের আদেশ বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার দিন থেকে পরবর্তী দুইমাসের মধ্যে আপীল দাখিল করার সুযোগ পাবেন। আপীল ট্রাইব্যুনাল প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের যেকোন আদেশ বা সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, বাতিল, দ্বিমত পোষণ অথবা পরিবর্তন করতে পারেন। আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ওয়েবসাইট।

৪৬.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদের আসন কখন শূন্য হবে?
  1. একাদিক্রমে নব্বই কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে
  2. স্পীকারের নিকট পত্রযোগে পদত্যাগ করলে
  3. সংসদ ভেঙে গেলে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি -
- (ক) তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তা বর্ধিত করতে পারবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না নিয়ে তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভেঙে যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হয়ে যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
- ৬৭ (২) নং অনুচ্ছেদ- কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৭.
ঢাকার প্রাচীনতম মসজিদের নাম কী?
  1. বায়তুল মোকাররম
  2. চকবাজার শাহী মসজিদ
  3. বেগমবাজার মসজিদ
  4. বিনত বিবির মসজিদ
ব্যাখ্যা

বিনত বিবির মসজিদ:
- ‘বিনত বিবির মসজিদ’ ঢাকার প্রাচীনতম মসজিদ। 
- বিনত বিবির মসজিদ বাংলাদেশের ঢাকা শহরের পুরানো ঢাকা এলাকায় অবস্থিত একটি মধ্যযুগীয় মসজিদ।
- নারিন্দা পুলের উত্তর দিকে অবস্থিত এই মসজিদটির গায়ে উৎকীর্ণ শিলালিপি অনুসারে ৮৬১ হিজরি সালে, অর্থাৎ ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে মারহামাতের কন্যা মুসাম্মাত বখত বিনত বিবি এটি নির্মাণ করান। 
- ১৪৫৬ খ্রিস্টব্দে ইসলাম খাঁর আগমনের প্রায় দেড়শ বছর আগে বাংলার সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের আমলে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি নির্মিত হয়।
- বাংলা ১৩৩৭ সালে এ মসজিদটির দ্বিতীয় সংস্করণ করা হয় এবং দ্বিতীয় গম্বুজটি স্থাপন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ইতিহাসবিদেরা একমত যে এটিই রাজধানীর সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ এবং প্রাক্‌–মোগল যুগের অন্যতম প্রধান স্থাপত্য নিদর্শন। 
- লিপি প্রমাণে এটিই ঢাকার প্রাচীনতম মসজিদ। সেই অর্থে ঢাকার প্রথম মসজিদ বলা হয় একে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৮.
‘অলাতচক্র’ চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু কোন জাতীয় ইতিহাসকে তুলে ধরে?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. দেশ ভাগ 
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

অলাতচক্র:
- দেশের প্রথম থ্রিডি সিনেমা ‘অলাতচক্র’।
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফার উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে।
- এটি পরিচালনা করেছেন হাবিবুর রহমান।

⇒ ‘অলাতচক্র’ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ ছবিতে তায়েবা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও দানিয়েল চরিত্রে আহমেদ রুবেল।

উৎস: i) The Daily Star Bangla.
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৪৯.
১৯৭৬ সালে কোন চলচ্চিত্রটি 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার' লাভ করে?
  1. বসুন্ধরা
  2. মেঘের অনেক রং
  3. শঙ্খনীল কারাগার
  4. আমরা তোমাদের ভুলব না
ব্যাখ্যা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
- এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ও সর্বোচ্চ পুরস্কার।
- স্বাধীনতার চার বছর পর ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য পুরস্কার প্রদান শুরু হয়।
- প্রতি বছর সরকার নিযুক্ত জাতীয় প্যানেল বিজয়ীদের নির্বাচন করে।
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের প্রথম অনুষ্ঠানিকতা ১৯৭৬ সালের ৪ এপ্রিল সম্পন্ন হয়।

⇒ ১৯৭৬ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মেঘের অনেক রং’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পায়।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন হারুনর রশীদ।
- রত্না কথাচিত্রের ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন আনোয়ার আশরাফ ও শাজীদা শামীম।
- এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মাথিন, ওমর এলাহী, রওশন আরা, আদনান প্রমুখ।

এছাড়াও,
- ১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়।
- ১৯৯০ সালে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ পুরস্কার পায়।
- ১৯৯২ সালে ‘শঙ্খনীল কারাগার’ চলচ্চিত্রকে শ্রেষ্ঠ কাহিনির জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়।

উৎস: i) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ওয়েবসাইট। [link]
ii) প্রথম আলো।

৫০.
সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. দ্বাদশ 
  2. ত্রয়োদশ
  3. চতুর্দশ
  4. পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০শে জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয় ২০১১ সালের ৩ জুলাই।
- সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।

এছাড়াও,
- এই সংশোধনীর দ্বারা 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল' করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়।
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে ‘গণভোটের’ বিধান বাদ দিয়েছিল।
- এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়। আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান সংযোজন করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৫১.
‘অভ্র’ কী-বোর্ড উদ্ভাবনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একুশে পদক লাভ করেন -
  1. মেহদী হাসান খান
  2. তানবিন ইসলাম সিয়াম 
  3. রিফাত নবী
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা

‘অভ্র’ কী-বোর্ড:
- ‘অভ্র’ কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন মেহদী হাসান খান।

⇒ প্রোগ্রামার মেহদী হাসান খান ২০০৩ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ইউনিকোডভিত্তিক বাংলা লেখার প্রোগ্রাম অভ্র প্রকাশ করেন।
- ছোট আকারের এই প্রোগ্রাম দিয়ে সরাসরি ই–মেইলে ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বাংলা লেখার সূচনা হয়।
- শুরুতে ই-মেইলের মাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী হাতে পান অভ্র।
- অভ্রের সঙ্গে যোগ হলেন রিফাত উন নবী, তানবিন ইসলাম, শাবাব মুস্তাফা, ওমর ওসমান—আরও পরে সারিম খান। তাঁরা সবাই অভ্রের জন্য কাজ করতে লাগলেন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একুশে পদক লাভ করেন অভ্র'র মেহদী হাসান খান ও রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম ও শাবাব মুস্তাফা।

উৎস: i) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সপ্তম শ্রেণি।
ii) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫২.
‘Art of Triumph’ সংকলন কোন আন্দোলনের সময়ের প্রতিফলন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  4. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
ব্যাখ্যা

Art of Triumph:
- জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি চিত্র নিয়ে সংকলিত গ্রন্থের নাম Art of Triumph।

⇒ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশে গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' উপহার প্রদান করেন।
- এছাড়াও, মুহাম্মদ ইউনূস প্রখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী, প্রাইমেটোলজিস্ট ও নৃতত্ত্ববিদ জেন গুডঅলকে 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' আর্টবুক উপহার দিয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- জুলাইয়ে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে।
- ৮ আগস্ট, ২০২৪ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বিভিন্ন দেয়ালে নানা ধরনের গ্রাফিতি আঁকা হয়।
- তরুণ বিপ্লবীদের আঁকা এমন গ্রাফিতি সশরীরে গিয়ে দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলা ট্রিবিউন।

৫৩.
রাজধানীর বানান Dacca এর পরিবর্তে Dhaka করা হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম 
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৮ম
ব্যাখ্যা

অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

⇒ এ সংশোধনীর মৌলিক বিষয়গুলো হল:
- ইসলাম ধর্মকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা দান,
- হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি বেঞ্চ যথাক্রমে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও সিলেটে স্থাপন করা,
- বাংলাদেশের কোন নাগরিক রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ থেকে কোন উপাধি গ্রহণ করতে পারবে।
- রাজধানীর বানান Dacca এর পরিবর্তে Dhaka এবং বাংলা ভাষা ইংরেজি Bengali এর পরিবের্ত Bangla গৃহীত হয়।

⇒ কিন্তু এ সংশোধনী হাইকোর্ট বিভাগীয় বেঞ্চ সম্পর্কে দু'জন নাগরিক রীট পিটিশন করেন। তারা দুজন হলেন- আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও জালাল উদ্দিন। তাদের এ রীট পিটিশনের ফলে ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ রহিত করা হয়। পরবর্তীতে এটি বাতিল হয়ে যায়।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে কোন নৃ-গোষ্ঠী সংখ্যায় সবচেয়ে কম?
  1. ভিল 
  2. কোচ 
  3. মুন্ডা 
  4. গুর্খা
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দেশে ৫০টি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী রয়েছে।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে শতকরা হিসাবে যা ২৯.২৯ শতাংশ।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।

⇒ চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা। সংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা সমতলের সাঁওতালদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর। এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০১ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- আর হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৪ জন।
- লুসাই জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ৩৮০ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।

৫৫.
‘ফাগুন হাওয়ায়’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. সোহেল রানা
  2. তৌকির আহমেদ
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

ফাগুন হাওয়ায় চলচ্চিত্র:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছে চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’।
- চলচ্চিত্রের পরিচালক তৌকির আহমেদ।
- এর নামকরণে ফুটে উঠেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন চলাকালে বাংলা মাস ফাল্গুনের নামটি।
- এতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সিয়াম আহমেদ। অন্যান্য ভূমিকায় রয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু, আবুল হায়াত ও রওনক হাসানের মতো অভিনয়শিল্পীরা।

⇒ ফাগুন হাওয়ায় ছবিতে এক মফস্বল শহরে ভাষা আন্দোলনের সময়ে মানুষের ভাবনা, আন্দোলন আর চেতনাকে রূপক অর্থে তুলে ধরেছেন তৌকীর আহমেদ।
- চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে টিটো রহমানের বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘বউ কথা কও’ গল্প অবলম্বনে।

উৎস: i) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
ii) প্রথম আলো।

৫৬.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস কত সালে তেভাগা খামার প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- এছাড়াও র‍্যামন ম্যাগসেসে এওয়ার্ড ও বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ আরও অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।

উল্লেখ্য,
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭৪ সালে তেভাগা খামার প্রতিষ্ঠা করেন।
- প্রকল্পটিকে আরও কার্যকর করতে ইউনূস এবং তার সহযোগীরা 'গ্রাম সরকার' কর্মসূচি প্রস্তাব করেন। যেটি ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তন করেন। এই কর্মসূচির অধীনে ২০০৩ সালে ৪০,৩৯২টি গ্রাম সরকার গঠিত হয়।
- মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন গরিব বাংলাদেশীদের মধ্যে ঋণ দেবার জন্য।

উৎস: i) Yunus Centre ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৫৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে কয়টি পদে শপথগ্রহণের বিষয় উল্লেখ আছে?
  1. ৭টি 
  2. ৮টি 
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল: [১৪৮ অনুচ্ছেদ]
- শপথ ও ঘোষণা।
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
১। রাষ্ট্রপতি [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
২। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৩। ডেপুটি স্পীকার [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৫। সংসদ সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান স্পীকার]।
৬। প্রধান বিচারপতি বা বিচারক [শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি]।
৭। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।
৮। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি।
৯। সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য [শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি]।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫৮.
জোবেরা রহমান লিনু কোন খেলার জন্য বিখ্যাত?
  1. টেবিল টেনিস
  2. দাবা 
  3. সাঁতার
  4. অ্যাথলেটিক্স
ব্যাখ্যা

জোবেরা রহমান লিনু:
- জোবেরা রহমান লিনু বাংলাদেশের বিখ্যাত টেবিল টেনিস খেলোয়াড়।
- বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের রেকর্ড ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন তিনি।
- ১৯৭৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ১৬ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন তিনি।

উল্লেখ্য,
- মাত্র আট বছর বয়সে ১৯৭৩ সালে জোবেরা রহমান লিনু প্রথম টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
- ১৯৭৪ সালে প্রথম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন।
- ২০০২ সালের মে মাসে নাম লেখান ‘গিনেস বুক রেকর্ডসে’।
- ২০০৫ সালে বাংলাদেশে ইউনিসেফের ক্রীড়াদূতও হয়েছিলেন লিনু।

উৎস:দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

৫৯.
ইউনেস্কো কত সালে জামদানি শিল্পকে 'Intangible Cultural Heritage of Humanity' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০১৩ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা

ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:
- ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ আর সৃষ্টিশীলতাকে লালন করার প্রত্যয়ে ইউনেস্কো ঘোষিত সংস্কৃতি বিষয়ক বিভিন্ন কনভেনশনের আলোকে বিএনসিইউ’র সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।
- বর্তমানে দেশে ৫টি ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে।
- এগুলো হলো: বাউলগান (২০০৮), জামদানি বুননশিল্প (২০১৩), মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬) ও শীতলপাটি বুননশিল্পের (২০১৭) ও ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ (২০২৩)।

⇒ ঐতিহ্যবাহী জামদানী বুনন:
- জামদানি হস্তচালিত তাঁতে সুতায় বোনা এক বিশেষ নকশার কাপড় যা অতীতে মসলিন নামে প্রচলিত ছিল।
- এটি বাংলাদেশের বুননশিল্পের সর্বাপেক্ষা শৈল্পিক নিদর্শন যা অন্যতম সময় সাপেক্ষ ও শ্রমঘন কুটির শিল্প।
- ঢাকা ও এর আসে-পাশের অঞ্চলগুলোতে প্রথাগত তাঁতে দৃস্টিনন্দন নকশায় জামদানি তৈরি হয়।
- জামদানি বুনন শিল্পী ছাড়াও সুতা তৈরি ও রং করার কারিগর, তাঁত প্রস্তুতকারী ও সংশ্লিষ্ট কারিগর সকলে মিলে একটি বিশেষ সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে যা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয়েছে।
- বংলাদেশের সাংস্কৃতিতে জামদানির অপরিসীম ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনেস্কো ২০১৩ সালে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র অষ্টম অধিবেশনে ঐতিহ্যবাহী জামদানি বুনন্ শিল্পকে Intangible Cultural Heritage of Humanity হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

উৎস: বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন।

৬০.
'ক্যাবিনেট তোরণের স্তম্ভ' বলা হয় কাকে?
  1. রাষ্ট্রপতি 
  2. স্পিকার 
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. আইনমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

প্রধানমন্ত্রী:
- সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের মধ্যমনি হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি কেবল মন্ত্রীসভার প্রধান নন; তার উপরই নির্ভর করবে সংসদের মেয়াদ।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে কার্যত সংসদ ভেঙে যায়।
- প্রধানমন্ত্রীই অন্যান্য মন্ত্রী নির্বাচন করেন।
- মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা বিচার করে তিনি মন্ত্রীদের কার্যত পদত্যাগে বাধ্য করেন।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির তথা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়েছে।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী একাধারে সরকার প্রধান, জাতীয় সংসদের নেতা এবং শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
- তার নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হয়।
- তিনি দেশ পরিচালনায় মন্ত্রীপরিষদকে নেতৃত্ব দেন। 
- এছাড়াও মন্ত্রীসভার অধিবেশন আহ্বান, কার্যসূচী নির্ধারন, অধিবেশন সভা পরিচালনা, মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বন্টন, মন্ত্রীসভার কাজ তত্ত্বাবধান প্রভৃতি দায়িত্ব মূলত প্রধানমন্ত্রীর উপর ন্যস্ত।
- এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে 'ক্যাবিনেট তোরণের স্তম্ভ' (Keystone of the Cabinet arch) বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে নির্বাচন সম্পর্কে বলা আছে?
  1. ৫ম 
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম 
  4. ৮ম 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান: 
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সকল নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা তৈরি, ভোটগ্রহণ ত্তত্বাবধান, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং নির্বাচনী অভিযোগ-মোকদ্দমা মীমাংসার লক্ষ্যে নির্বাচনী ট্রাইবুনাল গঠন করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগে নির্বাচন সম্পর্কে বলা আছে

⇒ সংবিধানের ১২৬ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হবে’।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদে ১১৮ এর আওতায় নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯-এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৪ নং-এ  নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

৬২.
বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন কে?
  1. মুশফিকুর রহিম
  2. মুমিনুল হক
  3. লিটন দাস
  4. নাজমুল হোসেন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট ম্যা:
- বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। 

⇒ প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহিম।
- বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। 
- আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক।
- এতে বিশ্বের ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।  
- ভেন্যু: মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম।
- সময়: ২০ নভেম্বর, ২০২৫।

উল্লেখ্য,
- টেস্ট ইতিহাসের অষ্টম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে জয় পেয়েছেন তিনি। মুশফিকের আগে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন গর্ডন গ্রিনিজ, ইনজামাম উল হক, রিকি পন্টিং, গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, জো রুট ও ডেভিড ওয়ার্নার।

উৎস: প্রথম আলো।

৬৩.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) কবে গঠিত হয়?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ):
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) ২০১০ সালে গঠিত হয়।

⇒ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য বাংলাদেশে ২০১০ সালের মার্চে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
- সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠন করে একই ট্রাইব্যুনাল।
- ২০১০ সালে গঠনের পর নানা আলােচনা এবং ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'The International Crimes (Tribunals) Act, 1973' আইনের অধীনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক, গ্রেফতার, বিচার এবং সাজা দেওয়া হয়।
- ১৯৭৩ সালের এই আইনটি মূলত বাংলাদেশ কোলাবরেটর (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার ১৯৭২-কে প্রতিস্থাপিত করেছে।
- আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩, যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত একটি রাষ্ট্রীয় আইন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং তাদের সহযোগী রাজাকার বাহিনী জনগণের প্রতি যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, তাদের বিচারের উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এ আইনে সংশোধনী আনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ।
- স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরে ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত সংস্থা এবং আইনজীবী প্যানেল গঠন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

উৎস: i) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ)।
ii) BBC.

৬৪.
পররাষ্ট্রনীতির মূল উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. আন্তর্জাতিক পর্যটন বৃদ্ধি
  2. বৈদেশিক বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ
  3. রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণ
  4. অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন
ব্যাখ্যা

পররাষ্ট্রনীতি:
- পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ।
- পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে।
- অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।
- পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে।
- এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। 

⇒ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যসমূহ-
১. আত্মরক্ষা।
২. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
৩. অন্য রাষ্ট্রের তুলনায় নিজের জাতীয় শক্তিকে রক্ষা ও প্রয়োজনে বৃদ্ধি করা।
৪. নিজস্ব মতবাদে দৃঢ় থাকা।
৫. জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা।

উৎস: i) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অধ্যায়, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষ সমান অধিকার পেয়েছে?
  1. ২৭ নং
  2. ২৮ নং
  3. ২৯ নং
  4. ৩০ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষ সমান অধিকার পেয়েছে।

⇒ সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে,
- ২৮(১) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ন, নারী পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।
- ২৮(২) নং: রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।
- ২৮(৩) নং: কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না।
- ২৮(৪)  নং: নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৬৬.
বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা কোনটি?
  1. বিবিসি বাংলা
  2. ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি 
  3. বাসস 
  4. ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (ENA):
- বাংলাদেশে প্রথম ব্যক্তি মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (ENA)।
- ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগেই এটি পুরোদস্তুর সংবাদ সংস্থায় পরিণত হয়।
- এই সংস্থা ঘটনাবহুল বছর ১৯৭০-৭১ সালের সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জননন্দিত হয়।
- পরিণতিতে, পাকিস্তানের সামরিক জান্তার কোপানলে পড়ে সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যায়।
- এই সংস্থার কার্যক্রম একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়েই স্থগিত ছিল।
- স্বাধীনতার অব্যবহিত পর ১৯৭১ সালে এনা আবার কার্যক্রম শুরু করে।
- এনা সংবাদ প্রেরণের জন্য পুরোপুরি সরকারি টেলিকম্যুনিকেশন সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
- কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দুই দশকের পর এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
- বর্তমানে এনা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা সংবাদপত্র সরবারহ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৭.
বাংলাদেশের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. ড. কামাল হোসেন
  2. মনসুর আলী
  3. এম ইদ্রিস
  4. মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ:
- সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।

⇒ ৪০৩ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- গণপরিষদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মনোনীত না হওয়া পর্যন্ত গণপরিষদের প্রবীনতম সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর সভাপতিত্বে গণপরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়। 

⇒ ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ গণপরিষদের অধিবেশনে মনসুর আলী বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করার উদ্দেশ্যে একটি প্রস্তাব করেন। সেই প্রস্তাবে ছিল, 'গণপরিষদের ৩৪ জন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত খসড়া প্রণয়ন কমিটি- যার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. কামাল হোসেন'।
- ১৯৭২ সালের ১০ জুনের মধ্যে কমিটি বিল আকারে একটি খসড়া শাসনতন্ত্রসহ রিপোর্ট পেশ করার কথা থাকলেও কমিটির পক্ষে সভাপতি কামাল হোসেন ১২ অক্টোবর ১৯৭২ 'সংবিধান বিল' গণপরিষদে উত্থাপন করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।