পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩৪ বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. ধ্বনিতত্ত্ব [ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি] ২. শব্দপ্রকরণ [লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ; সংখ্যাবাচক শব্দ; দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব; বচন; পদাশ্রিত নির্দেশক।] ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. জিনিষ
  2. অগ্নিষাৎ
  3. মাষ্টার
  4. বিষম
ব্যাখ্যা

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট. স্টেশন, ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
নিত্য নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গুরুপত্নী
  2. এয়ো
  3. পাগলি 
  4. জেলেনি
ব্যাখ্যা

• কিছু শব্দ রয়েছে যা নিত্য নরবাচক ও নিত্য নারীবাচক।
- কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক, এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।
- যেমন- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।

এছাড়াও,
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: পত্নীবাচক এবং অপত্নীবাচক।
 - স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
 যেমন – পিতা-মাতা, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, জেলে-জেলেনি, গুরু-গুরুপত্নী ইত্যাদি।

• স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন খোকা-খুকি, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, নেতা-নেত্রী, পাগল-পাগলি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

.
‘ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা।’—এখানে ‘বাছা বাছা’ শব্দদ্বিত্বটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. সতর্কতা 
  2. কালের বিস্তার
  3. ভাবের প্রগাঢ়তা
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা

• বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)
- খাঁচার ফাঁকে ফাঁকে, পরশে মুখে মুখে, নীরবে চোখে চোখে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

.
নিচের কোন শব্দে  স্বভাবতই 'ষ' হয়?
  1. কৃষক
  2. আষাঢ়
  3. ওষ্ঠ 
  4. বর্ষা
ব্যাখ্যা

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
 যথা-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যথা- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে ‘র'-এর পর 'ষ' হয়।
যথা- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কোনটি  ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ ?
  1. প্রথমা
  2. এক
  3. পহেলা
  4. প্রথম
ব্যাখ্যা

 • ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
 যেমন: ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২(বারো),

•পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। যেমন 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান 'প্রথম', 'প্রথমা', 'পহেলা'ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

.
”বাগ্‌দান” শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বাম্ + দান
  2. বাগ্ + দান
  3. বক্ + দান
  4. বাক্ + দান
ব্যাখ্যা

 • ব্যঞ্জন সন্ধি:
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
• (ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন) নিয়মে গঠিত ব্যঞ্জন সন্ধি।

- চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;
- বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক ;
- উৎ + লাস = উল্লাস;
- বাক্ + দান = বাগ্‌দান;
- তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে ;
- শম্ + কা = শঙ্কা ;
- সম্ + চয় = সঞ্চয় ;
- সম্ + তাপ = সন্তাপ ;
- সম্ + মান = সম্মান ;
- ষ + থ = ষষ্ঠ;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
‘কুহকী’ শব্দের স্ত্রী বাচক শব্দ কোনটি ?
  1. কুহকিনী
  2. কুহিকা
  3. কুহিকানী
  4. কুহকীনি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

- ”কুহকী” শব্দের অর্থ-  মায়াবী, জাদুকর, ঐন্দ্রজালিক,
- এর স্ত্রীবাচক শব্দ-  কুহকিনী ।

এছাড়াও
”কুহক” শব্দের অর্থ- মায়া, ভেলকি, ইন্দ্রজাল,।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
নিচের কোনটি বিসর্গসন্ধির উদাহরণ?
  1. সঞ্চয় 
  2. আশীর্বাদ
  3. তন্মধ্যে 
  4. সদুপায়
ব্যাখ্যা

• বিসর্গসন্ধির উদাহরণ = আশীর্বাদ (আশীঃ+বাদ )।

• গুরত্বপূর্ণ বিসর্গসন্ধির উদাহরণ:
- মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, 
- অধঃ+পতন = অধঃপতন, 
- বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
-  মনঃ+যোগ = মনোযোগ,
- তিরঃ+ধান = তিরোধান, 
- তপঃ+বন= তপোবন,
- নিঃ+আকার= নিরাকার, 
- পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, 
- আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ,

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ-
- সম্ + চয় = সঞ্চয় ।
- তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে ।
- সৎ + উপায়= সদুপায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়?
  1. হরিণ 
  2. কৃপণ 
  3. লক্ষণ
  4. লাবণ্য
ব্যাখ্যা

• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু বিপণি, গণিকা। আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

অন্যদিকে,
ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, যয় বহৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন-
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে পৃ, তার পরে ণ), 
- হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ,)
- অর্পণ (র্ + প + অ+), 
- লক্ষণ (ক্+ + অণ)।
এরূপ- রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০.
নিচের কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. একাকী
  2. সাত
  3. তেসরা
  4. সতেরো
ব্যাখ্যা

• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
 যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), 

 • পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
যেমন - ‘এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম', ‘প্রথমা’, ‘পহেলা' ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক: একাদশ ও এগারোতম, দ্বাদশ ও বারোতম, ত্রয়োদশ ও তেরোতম ইত্যাদি।
২. তারিখ পূরণবাচক: এগারোই, বারোই, তেরোই ইত্যাদি।
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সাত, সতেরো হলো ক্রমবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫,২০২২ সালের সংস্করণ)

১১.
নির্দেশক যুক্ত হয় কোন শব্দের সঙ্গে?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

• যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
 - যেমন -টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু। 

- বিশেষ্য,সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা,-টি নির্দেশক বসে। 
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে। 
- শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১২.
নিচের কোন শব্দটিতে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ষ'- হয়নি?
  1. ষড়ঋতু
  2. ভূষণ
  3. চিকীর্ষা 
  4. ঊষা
ব্যাখ্যা

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়।
যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
 যথা-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
শুধু মানুষের বেলায় কোন নির্দেশকের ব্যবহার হয়?
  1. টা
  2. জন 
  3. খানা
  4. টুকু
ব্যাখ্যা

• জন নির্দেশক:
- শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন-বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।

- সংখ্যার সঙ্গেও-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
 যেমন- অধিক সংখ্যার বেলায় 'জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে। যেমনপাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১৪.
‘তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।’—এখানে ‘হায় হায়’  শব্দদ্বিত্বতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. অনুভূতি
  2. আধিক্য 
  3. সামান্যতা
  4. ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা

• পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ (অব্যয়ের দ্বিরুক্তি):
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে : তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি কী করেছ?
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫.
”জনৈক” শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1.  জন + ঐক 
  2.  জন্য + ওক 
  3.  জনৈ + এক 
  4.  জন + এক 
ব্যাখ্যা

”জনৈক” শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ =  জন + এক ।

• কিছু গুরত্বপূর্ণ  স্বরসন্ধির উদাহরণ:
মরু + উদ্যান = মরূদ্যান;
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা;
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
মহা + ঋষি = মহর্ষি;
শীত + ঋত = শীতার্ত;
জন + এক = জনৈক;
বন + ওষধি বনৌষধি;
প্রতি + এক = প্রত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

১৬.
ণ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ত্রিনয়ণ
  2. লণ্ঠন
  3. অগ্রাণায়ক
  4. দুর্ণাম
ব্যাখ্যা

- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কান্ড ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

- ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, = গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ছমছম
  2. আম-টাম
  3. জ্বর জ্বর
  4. আড়াআড়ি
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মকদ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। 
যেমন- কুট কুট, কোঁত কোঁত, ছমছম

• অনুকার দ্বিত্ব:

- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় । 
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, আড়াআড়ি

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
 যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়,জোরে জোরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

১৮.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. কাঁচকলা
  2. পবিত্র
  3. যথার্থ 
  4. পতঞ্জলি 
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
- নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

- পবিত্র = পো + ইত্র ( স্বরসন্ধির উদাহরণ)।
- যথা + অর্থ = যথার্থ ( স্বরসন্ধির উদাহরণ)।
- কাঁচা + কলা = কাঁচকলা,( ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯.
নিচের কোন শব্দটিতে নিত্য মূর্ধন্য 'ণ' হয়নি?
  1. বর্ণনা
  2. পণ
  3. ভণিতা
  4. কল্যাণ
ব্যাখ্যা

'বর্ণনা' শব্দে ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী মূর্ধন্য-ণ বসেছে। এখানে, নিত্য মুর্ধন্য 'ণ' হয়নি।

• ণ-ত্ব বিধান সূত্র:
- ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্কণ, নিক্কণ,, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।