ব্যাখ্যা
• 'ব্রজবুলি' ভাষা:
বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়। মূলত মৈথিলি ও বাংলা মিশ্রিত এই মধুর সাহিত্যিক ভাষায় রচিত পদাবলি থেকে জনসাধারণ ধারণা করেছে যে, বৃন্দাবনের রাধাকৃষ্ণ সম্ভবত এ ভাষাতেই কথা বলত। তাই ব্রজের বুলি অর্থে ব্রজবুলি এই কাল্পনিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
বিদ্যাপতি মৈথিল অপভ্রংশ মিশ্রিত একটি কৃত্রিম সুললিত ভাষায় রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ রচনা করেন। প্রকৃতপক্ষে মৈথিল কবি বিদ্যাপতির পদের ভাব ও ভাষার অনুসরণে বাংলা উড়িষ্যা ও আসামে পনের শতকের শেষ ভাগে ব্রজবুলি ভাষার সৃষ্টি হয়।
মৈথিলি ভাষার ক্রমরূপান্তর হিসেবে এ ভাষার বিকাশ। ব্রজলীলা সম্পর্কিত পদের ভাষা অর্থে এই ভাষা ব্রজবুলি নামে পরিচিত। ব্রজবুলি কখনও মুখের ভাষা ছিল না; সাহিত্যকর্ম ব্যতীত অন্যত্র এর ব্যবহারও নেই। এই কবিভাষা পদাবলিতে ব্যবহৃত হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। মৈথিলি ও বাংলার সংমিশ্রণে এতে ধ্বনিঝঙ্কারের সৃষ্টি হয়েছে।
সুকুমার সেনের মতে, 'অবহট্ঠ' থেকেই ব্রজবুলির উৎপত্তি হয়েছে। বাংলা মৈথিলি হিন্দি, রাজস্থানি গুজরাটি প্রভৃতি ভাষাগুলি অল্পবিস্তর পূর্ণ পরিণত রূপ ধরবার পরেও অবহট্ঠের আদর কমেনি দরবারি সাহিত্যে, বিশেষ করে রাধাকৃষ্ণ পদাবলিতে। এই পরবর্তী অবহট্ঠ যার ওপর মৈথিলি প্রভৃতি স্থানীয় ভাষার প্রভাব অবশ্যই পড়েছিল, পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দীতে ব্রজবুলি রূপ নিয়েছিল।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।