পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৫৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৯ পার্ট-১) বাংলাদেশ বিষয়াবলি: টপিকসমূহ ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: ২. বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা পার্ট-২) বাংলা ব্যাকরণ: টপিকসমূহ বাক্য প্রকরণ (প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ; বানান ও বাক্যশুদ্ধি; যতিচিহ্ন ও এর ব্যবহার; পরিভাষা; বাগ্‌ধারা; সমার্থক শব্দ/প্রতিশব্দ; বিপরীতার্থক শব্দ; শব্দজোড় ও প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ; এক কথায় প্রকাশ/বাক্য সংক্ষেপ বিবিধ।) ------------------ পার্ট–১ সোর্স: পৌরনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৮ প্রশ্ন

.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে। 
  2. ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
  3. তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই। 
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
সঠিক উত্তর:
তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে। 
ব্যাখ্যা

• উদ্দেশ/উদ্দেশ্য: 
উদ্দেশ শব্দে বোঝায় হদিস, খোঁজ, লক্ষ্য।
যেমন:
ক. কার উদ্দেশে একথা বলা, হলো কেউ বুঝতে পারল না।
খ. 'নদী ধায় সাগর উদ্দেশে'।
গ. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
শুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।

অশুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
শুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. বুদ্ধিজীবি
  2. প্রজ্জ্বল
  3. অন্তঃজগৎ
  4. গোধূলি
সঠিক উত্তর:
গোধূলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোধূলি
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'গোধূলি'
অর্থ:
১. গোরুর পাল ধূলি উড়িয়ে ঘরে ফেরার সময়, সূর্যাস্তের সময়, সায়ংকাল, সন্ধ্যাকাল।
২. (আল.) শেষজীবন।

অন্যদিকে,
- অন্তঃজগৎ → অন্তর্জগত,
- প্রজ্জ্বল →প্রোজ্জ্বল,
- বুদ্ধিজীবি → বুদ্ধিজীবী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'অমিতব্যয়ী' অর্থ বুঝাতে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. উনপাঁজুরে
  2. উড়নচণ্ডী
  3. কূপমণ্ডূক
  4. কেবলা হাকিম
সঠিক উত্তর:
উড়নচণ্ডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উড়নচণ্ডী
ব্যাখ্যা

• 'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারার অর্থ- অমিতব্যয়ী। 

অন্যদিকে, 
• 'উনপাঁজুরে' অর্থ- দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন।
• 'কূপমণ্ডুক' অর্থ- সীমাবদ্ধ জ্ঞান। 
• 'কেবলা হাকিম' অর্থ- 'অনভিজ্ঞ'।  

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
কোন যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ এক সেকেন্ড?
  1. ব্র্যাকেট
  2. লোপ চিহ্ন
  3. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক চিহ্ন
ব্যাখ্যা

• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

অন্যদিকে,
• থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ছেলেটি নির্দোষী।
  2. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. জেবিন সুকেশা ও সুহাসিনী।
  4. নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
সঠিক উত্তর:
জেবিন সুকেশা ও সুহাসিনী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেবিন সুকেশা ও সুহাসিনী।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: জেবিন সুকেশা ও সুহাসিনী।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষী নও।
- শুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষ নও।

- অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
- শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা। 

- অশুদ্ধ: নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
- শুদ্ধ : নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'Manual’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. সারগ্রন্থ
  2. চালান
  3. পাণ্ডুলিপি
  4. ইশতেহার
সঠিক উত্তর:
সারগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'Manual’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - সারগ্রন্থ।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষিক শব্দ:
- Manifesto শব্দের বাংলা পরিভাষা - ইশতেহার।
- Manuscript শব্দের বাংলা পরিভাষা - পাণ্ডুলিপি।
- ‘Edition’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - সংস্করণ।
- Gazette শব্দের বাংলা পরিভাষা - ঘোষণাপত্র।
- Invoice শব্দের বাংলা পরিভাষা - চালান, প্রেরিতক-সূচি।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।

.
'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. লিপ্সা
  2. ঈপ্সা
  3. জিগীষা
  4. বুভুক্ষা
সঠিক উত্তর:
ঈপ্সা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈপ্সা
ব্যাখ্যা

 • 'পাওয়ার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - ঈপ্সা।

অন্যদিকে,
- জয়লাভ করার ইচ্ছা - জিগীষা।
- আহারের স্পৃহা - বুভুক্ষা।
- প্রাপ্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা - লিপ্সা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'Apprentice' এর সঠিক বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. আসবাবপত্র
  2. শিক্ষানবিশ
  3. প্রয়াস
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শিক্ষানবিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষানবিশ
ব্যাখ্যা

• ‘Apprentice’ - শিক্ষানবিশ।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:

• 'Mass Education’ - গণশিক্ষা।
• ‘Phonetics’ - ধ্বনিবিজ্ঞান।
• ‘Plebiscite’ - গণভোট।
• ‘Pledge’ - বন্দক।
• ‘Orion’ - কালপুরুষ।
• ‘Hostage’ - জিম্মি।
• ‘Honorary’ - অবৈতনিক।
• ‘Distorted’ - বিকৃত।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

.
'কুঁজড়োপনা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. কৃপণতা
  2. আলসেমি
  3. ঝগড়াটে স্বভাব
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঝগড়াটে স্বভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝগড়াটে স্বভাব
ব্যাখ্যা

• কুঁজড়োপনা' বাগ্‌ধারার অর্থ - ঝগড়াটে স্বভাব।

উল্লেখ্য,
- কেউ কেটা - সামান্য।
- কিম্ভুতকিমাকার  - অদ্ভুত ও কুৎসিত।
- কায়েতের ঘরের ঢেঁকি - অপদার্থ লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. কার্পণ্যতা
  2. উৎকর্ষতা
  3. সাদৃশ্যতা
  4. গম্ভীরতা
সঠিক উত্তর:
গম্ভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গম্ভীরতা
ব্যাখ্যা

• 'গম্ভীরতা'- শব্দটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ নয়।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১১.
'সওগাত' শব্দের অর্থ কী?
  1. আগমন
  2. উপহার
  3. বিদায়
  4. সাক্ষাত
সঠিক উত্তর:
উপহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপহার
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'সওগাত' শব্দের অর্থ: উপহার, ভেট।
• 'সওগাত' শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে আগত।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি নয়?
  1.  কদাপিও
  2. অহর্নিশি
  3. অহোরাত্রি
  4. সুবুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধি
ব্যাখ্যা

• 'সুবুদ্ধি' সঠিক শব্দ।

• শুদ্ধ - অশুদ্ধ
- অর্ধরাত্র - অর্ধরাত্রি।
- অহর্নিশ - অহর্নিশি।
- অহোরাত্র - অহোরাত্রি।
- দিবারাত্র - দিবারাত্রি।
- কদাপি - কদাপিও।
- বিবিধ - বিবিধপ্রকার।
- যদ্যপি - যদিও/যদ্যপিও।
- শুধু/মাত্র - শুধুমাত্র।
- সমূল/মূলসহ - সমূলসহ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৩.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. কদাপি
  2. সমূল
  3. রক্তিম
  4. বিবিধপ্রকার
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
ব্যাখ্যা

• 'বিবিধপ্রকার', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ - বিবিধ।

অন্যদিকে,
- রক্তিম,
- সমূল,
- কদাপি।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪.
এক কথায় প্রকাশ করুন- 'আত্মাকে অধিকার করে'  
  1. আধ্যান
  2. অধ্যাত্ম
  3. আধ্যাত্মিক
  4. আধ্যাত্য
সঠিক উত্তর:
অধ্যাত্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাত্ম
ব্যাখ্যা

 • 'আত্মাকে অধিকার করে' এর এক কথায় প্রকাশ - অধ্যাত্ম।

অন্যদিকে,
• 'আধ্যান' অর্থ - স্মরণ, ধ্যান, চিন্তন। 
• আত্মা থেকে জাত - আধ্যাত্মিক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫.
'স্বত্ব' দ্বারা কী বোঝায়?
  1. বিদ্যমানতা
  2. ত্রিগুণের প্রথমটি
  3. প্রাণ
  4. মালিকানা
সঠিক উত্তর:
মালিকানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালিকানা
ব্যাখ্যা

স্বত্ব, সত্ত্ব, সত্তা:
স্বত্ব:  'স্ব' মানে নিজে। শব্দটি বিশেষণ, এর সঙ্গে ত্ব যোগ করে একে বিশেষ্য পদে রূপান্তরিত করা হয়েছেমানে দাঁড়াল নিজত্ব, অর্থাৎ নিজের অধিকার যেখানে আছে; এক কথায় এর অর্থ 'মালিকানা'। যেমন- মনুজান নিজের সমস্ত বিষয়সম্পত্তি স্বত্ব ত্যাগ করে তাঁর ভাই হাজি মুহম্মদ মহসীনকে দিয়ে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
সত্ত্ব: (< সৎ+ ত্ব)। ৎ আর ত সন্ধির ফলে ত্ত হয়েছে, সেইসঙ্গে ব-ফলা তার নিজের জায়গাতেই আছে।
এ কাজ করলে কেন।
ক. 'সৎ' শব্দের এক অর্থ হচ্ছে 'বিদ্যমান'। 'সত্ত্ব' শব্দের অর্থ এর ফলে- অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা। যে-মেয়ে মা হতে যাচ্ছে তাকে আমরা বলি, 'মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা', অর্থাৎ মেয়েটির 'অন্তঃ'তে (অভ্যন্তরে, ভেতরে) আরেকটি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। 'সত্ত্বেও' কথাটা এখান থেকেই এসেছে; যেমন- নিষেধ সত্ত্বেও (অর্থাৎ নিষেধ বিদ্যমান থাকতেও)
খ. 'সত্ত্ব' শব্দের দ্বিতীয় অর্থ- প্রকৃতির তিনটি গুণের (সত্ত্ব রজঃ তমঃ) মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ। মানুষের মনের যে-সব শ্রেষ্ঠ অনুভূতি আছে, যেমন দয়া প্রেম ন্যায়নিষ্ঠা মনুষ্যত্ববোধ বিবেক ইত্যাদি সব সম্মিলিত করলে যা দাঁড়ায় তা-ই সত্ত্বগুণ। যাঁর এইগুণ আছে তাঁকে বলি 'সাত্ত্বিক' লোক। 'সাত্ত্বিক' বিশেষণ পদে তা যোগ করে (সাত্ত্বিক+তা=) 'সাত্ত্বিকতা' বিশেষ্য পদ তৈরি করা যায়।
গ. 'সত্ত্ব' শব্দের তৃতীয় অর্থ- রস, ফলের রস। 'আমসত্ত্ব' তো আসলেই আমের রস, তবে জ্বাল দিয়ে-দিয়ে ঘন করে তারপরে শুকিয়ে নেওয়া। ['সত্ত্ব' শব্দের মতো আরেকটি শব্দ তৈরি হয়েছে। তৎ+ ত্ব = তত্ত্ব। অর্থাৎ তার স্বরূপ বা প্রকৃতি। তত্ত্ব, তাত্ত্বিক, তত্ত্বীয়-এগুলো পরস্পরসম্পৃক্ত শব্দ।

সত্তা: (সৎ + তা)। 'সৎ' শব্দের এক অর্থ যে 'বিদ্যমান' তা আগেই বলেছি; 'তা' হলো বিশেষ্যে রূপান্তরিত হওয়ার চিহ্ন। মানে দাঁড়াল বিদ্যমানতা, অস্তিত্ব। যেমন- সত্তা হারিয়ে ফেলা। এই 'সত্তা' আর আগের ডালতা অর্থের দিক থেকে একই, তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তফাত আছে। এই সত্তা থেকেই সততা শব্দের উৎপত্তি। সততা ব্যাকরণসিদ্ধ শব্দ নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬.
নিচের কোনটির অর্থ 'মৃত্যু'?
  1. অন্তঃ
  2. অন্ত্য
  3. অন্ত
  4. অন্তিম
সঠিক উত্তর:
অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ত
ব্যাখ্যা

• অন্ত শব্দের অর্থ: মৃত্যু। 


অন্যদিকে,
• 'অন্তঃ' শব্দের অর্থ: ভেতরে মধ্যে অন্তরে চিত্তে প্রভৃতি অর্থে অন্য শব্দের পূর্বে যুক্ত হয় এমন শব্দ (অন্তঃপুর)।
• 'অন্ত্য' শব্দের অর্থ: ১) চরম; অন্তিম।
• অন্তিম শব্দের অর্থ: ১) শেষ (অন্তিম যাত্রা)। ২) মৃত্যুকালীন (অন্তিম ইচ্ছা)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৭.
অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত নয় কোনটি?
  1. সুবুদ্ধিমান
  2. মহিমামণ্ডিত
  3. মৈত্রতা
  4. বিপদুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
বিপদুদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদুদ্ধার
ব্যাখ্যা

• 'বিপদুদ্ধার' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'বিপদুদ্ধার' শব্দের অর্থ - বিপদ থেকে রক্ষা, বিপন্মুক্তি। 

অন্যদিকে,
• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
- এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

• 'মৈত্রতা', প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: মিত্রতা/ মৈত্র।

• 'মহিমামণ্ডিত', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: মহিমমণ্ডিত 

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৮.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. জ্যোতিষ্মান
  2. ভূমণ্ডল
  3. আত্নস্থ
  4. ঋদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
আত্নস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্নস্থ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - 'আত্নস্থ'।
- শব্দের শুদ্ধ বানান - 'আত্মস্থ'।
শব্দটির অর্থ:
- আত্মগত; আত্মনিষ্ঠ, প্রকৃতিস্থ, আত্মসমাহিত, আত্মনিমগ্ন।

অন্যদিকে,
- ঋদ্ধিমান, ভূমণ্ডল এবং জ্যোতিষ্মান - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯.
'প্রবিষ্ট' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. বিরত
  2. বিরক্ত
  3. প্রস্থিত
  4. বর্জন
সঠিক উত্তর:
প্রস্থিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্থিত
ব্যাখ্যা

• 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীতার্থক শব্দ - প্রস্থিত।

উল্লেখ্য,
- 'প্রবিষ্ট' শব্দের অর্থ - প্রবেশ করেছে এমন।
- 'প্রস্থিত' শব্দের অর্থ - চলে গেছে এমন।

অন্যদিকে,
- 'গ্রহণ' শব্দের বিপরীত শব্দ - বর্জন।
- 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত।
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  2. সব মাছগুলোর দাম কত।
  3. আগত শনিবারে তারা যাবে।
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: আগত শনিবারে তারা যাবে।
শুদ্ধ: আগামী শনিবারে তারা যাবে।

অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
'আশ্লেষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিশ্লেষ
  2. শ্লেষ
  3. নিশ্লেষ
  4. অশ্লেষ
সঠিক উত্তর:
বিশ্লেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্লেষ
ব্যাখ্যা

• 'আশ্লেষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিশ্লেষ।
• 'আশ্লেষ' অর্থ: ১ আলিঙ্গন। ২ মিলন। ৩ শ্লেষ। ৪ সম্বন্ধ।
• 'বিশ্লেষ' অর্থ: ১ একটি থেকে অন্যটি বা এক থেকে অন্যকে ছিন্নকরণ। ২ বিভাগ। ৩ বিচ্যুতি।
- 'আশ্লেষ' শব্দের সমার্থক শব্দ - শ্লেষ, সম্বন্ধ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
- 'তিক্ত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - মধুর।
- 'অবিরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরল।
- 'কুটিল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সরল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২২.
এক কথায় প্রকাশ করুন- 'নিরীক্ষিত হচ্ছে এমন'
  1. বীক্ষ্যমাণ
  2. নিরীক্ষ্যমাণ
  3. নিরীক্ষমাণ
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

• 'নিরীক্ষিত হচ্ছে এমন' এর এক কথায় প্রকাশ - বীক্ষ্যমাণ/নিরীক্ষ্যমাণ/নিরীক্ষমাণ।

এর সাথে সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- যা বলা হয়নি = অনুক্ত। 
- যা বলা হয়েছে = উক্ত। 
- যা বলা উচিত নয় = অকথ্য। 
- যা বলা হবে = বক্তব্য। 
- যা প্রকাশ করা হয়নি = অব্যক্ত। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩.
'শিখরী' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বন
  2. গাছ
  3. পদ্ম
  4. ময়ূর
সঠিক উত্তর:
গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছ
ব্যাখ্যা

• শিখরী শব্দের অর্থ: শিখরবিশিষ্ট।
• শিখরী(বিশেষণ) অর্থ: ১ পর্বত। ২ গাছ।

অন্যদিকে,
• 'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, বিটপী, শাখী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।

• 'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।
 
• 'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪.
‘নারদের ঢেঁকি’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ-
  1. নির্বোধ লোক
  2. অপ্রয়োজনীয়
  3. অনভিজ্ঞ
  4. বিবাদের বিষয়
সঠিক উত্তর:
বিবাদের বিষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবাদের বিষয়
ব্যাখ্যা

• ‘নারদের ঢেঁকি’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - বিবাদের বিষয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
• 'ঢেঁকি অবতার' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নির্বোধ লোক।
• 'ঢাকের বাঁয়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপ্রয়োজনীয়।
• 'ঢেঁকির কুমির' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপদার্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৫.
'ভাস্কর' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1.  অগ্নি
  2. দিবাকর
  3. সূর্য
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

• 'ভাস্কর' শব্দের অর্থ:
১) পাথর ধাতু কাঠ প্রভৃতি খোদাই করে মূর্তি গড়া যার পেশা, sculptor।
২) দিবাকর, সূর্য।
৩) অগ্নি।



উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৬.
'Dialect' এর পরিভাষা কোনটি?
  1. স্মারকলিপি
  2. উপভাষা
  3. ধ্বনিবিজ্ঞান
  4. দোভাষা
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা

• Dialect' শব্দের বাংলা পরিভাষা - উপভাষা।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Constitution শব্দের বাংলা পারিভাষা- সংবিধান, 
- Armour শব্দের বাংলা পরিভাষা- বর্ম, 
- Manifesto শব্দের বাংলা পারিভাষা- ইশতেহার, 
- Manuscript শব্দের বাংলা পারিভাষা- পাণ্ডুলিপি, 
- Edition শব্দের বাংলা পারিভাষা- সংস্করণ, 
- Memorandum শব্দের বাংলা পরিভাষা– স্মারকলিপি, 
- Gazette শব্দের বাংলা পারিভাষা- ঘোষণাপত্ৰ, 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

২৭.
'চোখের পর্দা' এর বিপরীত বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. চোখের নেশা
  2. চশমখোর
  3. চক্ষু চরক গাছ
  4. চক্ষুশূল
সঠিক উত্তর:
চশমখোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চশমখোর
ব্যাখ্যা

•  'চোখের পর্দা' এর বিপরীত বাগ্‌ধারা 'চশমখোর'। 

- 'চোখের পর্দা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = লজ্জা 
- 'চশমখোর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = নির্লজ্জ 

অন্যদিকে, 
- 'চক্ষুশূল' = দেখলে বিরক্তিবোধ হয় এমন ব্যক্তি।
- 'চক্ষু চরক গাছ' = বিস্ময় 
- 'চোখে সরষে ফুল দেখা' = বিপদে দিশেহারা হওয়া 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
'Delegation' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. অভ্যর্থনা
  2. প্রতিনিধি দল
  3. পদবী
  4. কুশল বিনিময়
সঠিক উত্তর:
প্রতিনিধি দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিনিধি দল
ব্যাখ্যা

• 'Delegation' এর বাংলা পরিভাষা - প্রতিনিধি দল।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- 'Dejure' এর বাংলা পরিভাষা - আইনত।
- 'Defence' এর বাংলা পরিভাষা - প্রতিরক্ষা।
- 'Defamation' এর বাংলা পরিভাষা - মানহানি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯.
বাংলাদেশে কোন ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান?
  1. সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  2. রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  3. বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
  4. দ্বিদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

 • বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।

• রাজনৈতিক দলের বিভিন্নরূপ:
সাধারণত রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা  প্রকার।
যথা :
• একদলীয় ব্যবস্থা :
- যখন রাষ্ট্রে একটিমাত্র দল থাকে তখন তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলা হয়।
- একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় একটিমাত্র দল থাকে।
- এ ধরনের ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।
- অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে।
- কোন দলের উদ্ভব হলে তা উৎপাটন করা হয়।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ইতালীর ফ্যাসিষ্ট এবং জার্মানীর নাৎসী দল এই ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- একদলীয় ব্যবস্থায় দলীয় প্রধান সাধারণত সরকার প্রধান হন।

• দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা :
দেশে মাত্র দু'টি দল থাকলে তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে।
একটি দল সরকার গঠন করে এবং অন্যদল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা দেখা যায় না।
এমনকি বৃটেনে শ্রমিক দল ও রক্ষণশীল দল প্রধান দল হলেও সেখানে উদারনৈতিক দল ও সমাজতান্ত্রিক দলের উদ্ভব ঘটেছে।
তবে প্রকৃতিগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও বৃটেনে দ্বি-দল ব্যবস্থাই প্রচলিত আছে।

• বহু-দলীয় ব্যবস্থা :
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন দুটির বেশি দল, রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের লাড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তখন তাকে 'বহুদলীয় ব্যবস্থা' বলে।
- বহুদলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত সাধারণ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না।
- ফলে নির্বাচনে জয় লাভের জন্য অনেক সময় সমমনা দলগুলির সমন্বয়ে 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়।
- ফ্রান্স, ইতালি, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে এরূপ বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে-
  1. রাঙামাটি 
  2. ঝিনাইদহ
  3. মেহেরপুর
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি।
-  জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন ৩০০টি।
- মহিলাদের জন্যে সংরক্ষিত আসন - ৫০টি। (পরোক্ষভোটে নির্বাচিত)
- জাতীয় সংসদের ১নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।

উৎস: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।

৩১.
‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (NAP)’–এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কে ছিলেন?
  1. শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শেখ আব্দুল মতিন
সঠিক উত্তর:
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা

ন্যাপ:
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)  বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।

- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আবদুল মতিন, ওয়ালি খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২.
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. উপজেলা পরিষদ
  2. জেলা পরিষদ
  3. সিটি কর্পোরেশন
  4. ইউনিয়ন পরিষদ
সঠিক উত্তর:
ইউনিয়ন পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বরূপ :
⇒ বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়।
 যথা- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ।
-  উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে।

⇒ এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন,
⇒ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি)

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৩.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের অন্যতম একটি ভূমিকা হলো-
  1. রাষ্ট্রের পরিচালনা
  2. আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্প্রাদন
  3. রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়
  4. বিকল্প নীতি উত্থাপন
সঠিক উত্তর:
বিকল্প নীতি উত্থাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকল্প নীতি উত্থাপন
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের অন্যতম একটি ভূমিকা হলো- বিকল্প নীতি উত্থাপন।
• রাষ্ট্রের পরিচালনা, আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্প্রাদন, ইত্যাদি বিষয়গুলো রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন সরকারি দলের অন্তর্গত।


• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা:
- দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে দলই শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- নির্বাচনে পরাজিত দল বা দলগুলি আইন সভাতে বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়।
- একটি আদর্শ বিরোধী দল কেবল বিরোধীতার খাতিরেই বিরোধীতা করে না।
- বরং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মাফিক সরকারকে পরামর্শ দেয়ার দায়িত্ব পালন করে।

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

• বিকল্প নীতি উত্থাপনঃ
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

• সমস্যা চিহ্নিত করা:
- রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে।
- এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

• জনমত গঠন:
- রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কোন দুর্বলতা চিহৃিত করতে পারলে, সেগুলো ব্যবহার করে বিরোধী দল নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে।
- বিরোধী দল যদি তাদের যুক্তির স্বপক্ষে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- আর এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
সংসদ কর্তৃক গৃহীত কোন বিলে কে সম্মতি দান করলে বিলটি আইনে পরিণত হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. বিচারপতি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ: 
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে, স্থগিত রাখতে ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।
- তিনি সংসদে ভাষণ দিতে ও বাণী পাঠাতে পারেন।
- রাষ্ট্রপতি কিছু আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ করেন।
- সংসদ কর্তৃক গৃহীত কোনো বিলে তিনি সম্মতি দান করলে বা সম্মতি দান করেছেন বলে গণ্য হলে বিলটি আইনে পরিণত হয়।
- সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় অথবা সংসদ অধিবেশনরত অবস্থায় না থাকলে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করতে পারেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৩৫.
জুলাই ঘোষণাপত্রে, ছাত্র ও জনতার ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে কী ধরনের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
  1. বিদেশি স্বীকৃতি
  2. সাংবিধানিক স্বীকৃতি 
  3. প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি
  4. সামরিক স্বীকৃতি
সঠিক উত্তর:
সাংবিধানিক স্বীকৃতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংবিধানিক স্বীকৃতি 
ব্যাখ্যা

• জুলাই ঘোষণাপত্রে, ছাত্র ও জনতার ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে ’সাংবিধানিক স্বীকৃতি’ দেওয়া হয়েছে।

• জুলাই ঘোষণাপত্র:

-জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি দফার সারাংশ:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ও গণপ্রতিরোধের ইতিহাস।
২. জাতীয় মুক্তির মূলনীতি - সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।
৩. ১৯৭২ সালের সংবিধানের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
৪. বাকশাল ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ৭ নভেম্বর বিপ্লব।
৫. সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী ৯০’র গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব।
৬. ১/১১ ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হওয়া।
৭. বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের চিত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
৮. গণহত্যা, গুম-খুন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং প্রতিষ্ঠান ধ্বংস।
৯. বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও মাফিয়া রাষ্ট্রে রূপান্তরের অভিযোগ।
১০. দুর্নীতি, ব্যাংক লুট ও পরিবেশবিনাশের চিত্র তুলে ধরা।
১১. জনগণের ওপর দীর্ঘ দমনপীড়নের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম।
১২. বিদেশী আধিপত্যবিরোধী আন্দোলন দমন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন।
১৩. তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা।
১৪. বৈষম্যমূলক নিয়োগ নীতি ও তরুণদের প্রতি নিপীড়নের অভিযোগ।
১৫. নিপীড়নের ফলে জনরোষ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের উত্থান।
১৬. কোটা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের ওপর বর্বরতা।
১৭. নারী-শিশুসহ এক হাজারের বেশি মানুষ হত্যার অভিযোগ।
১৮. ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট।
১৯. গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা।
২০. ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আইনি ভিত্তি।
২১. ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ।
২২. সুশাসন, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক সংস্কারে জনগণের প্রতিশ্রুতি।
২৩. গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের ঘোষণা।
২৪. আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা ও শহীদদের জাতীয় বীর ঘোষণা।
২৫. একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ।
২৬. জলবায়ু ও পরিবেশসহ টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
২৭. ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
২৮. এই ঘোষণাপত্রকে গণঅভ্যুত্থান বিজয়ের চূড়ান্ত দলিল হিসেবে ঘোষণা।

উৎস: জুলাই ঘোষণাপত্র।

৩৬.
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের সর্বাধিনায়ক কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. সেনাপ্রধান
  3. প্রতিরক্ষামন্ত্রী
  4. রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি :

• অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা:
⇒ সংসদ ভেঙ্গে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে কোনো বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এ অধ্যাদেশ সংসদ প্রণীত আইনের মতো ক্ষমতাসম্পন্ন।

• প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও বিচারসংক্রান্ত কাজ:
⇒ রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না। সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিগণও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।

• ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা:
⇒  রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা রয়েছে যে কোনো দন্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করবার। কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যে কোনো দন্ড তিনি মার্জনা করতে পারেন।

• অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা ও কাজ: 
⇒ সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত কোনো বিল সংসদে উথাপন করতে হলে তাতে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ সাগে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা করতে পারেন।

• প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত ক্ষমতা: 
⇒ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কত্ব রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত। তিনি বহিআক্রমণ মোকাবিলার জন্য যে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

উৎস: বাংলাদেশে ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৭.
কত তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়েছিল?
  1. ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
২৫ নভেম্বর, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়।
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা হবে গণভোট। 
- গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে।
- গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের হবে।
- এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

উৎস: প্রথম আলো।

৩৮.
সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রী কাকে পরামর্শ দেন?
  1. স্পিকার
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. হুইপ
  4. রাষ্ট্রপতি 
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি 
ব্যাখ্যা

• প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ:
⇒ সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।

⇒  প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। মন্ত্রীদের কাজ তদারক করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদন নিয়ে কাজ করেন। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে তার পদ থেকে অপসারণের পরামর্শ দিতে পারেন।

⇒  প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা। তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যেমন- সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম তুলে ধরে সংসদে বক্তৃতা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন।

⇒ সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি বিল উত্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। যদি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ উক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবেই তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের (জাতীয়) বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন। এভাবে তিনি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন।

⇒ পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।


উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৩৯.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিলো কত সালে?
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ১৯৭৭ সালে।

গণভোট:

- বাংলাদেশে ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট।
- এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।

প্রথম গণভোট:

- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।

দ্বিতীয় গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে। -
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।

তৃতীয় গণভোট:
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে। -
- এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপন করেন কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. অর্থমন্ত্রী 
  3. স্পিকার
  4. রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
অর্থমন্ত্রী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থমন্ত্রী 
ব্যাখ্যা

• প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ:
⇒ সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।

⇒  প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। মন্ত্রীদের কাজ তদারক করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদন নিয়ে কাজ করেন। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে তার পদ থেকে অপসারণের পরামর্শ দিতে পারেন।

⇒  প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা। তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যেমন- সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম তুলে ধরে সংসদে বক্তৃতা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন।

⇒ সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি বিল উত্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। যদি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ উক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবেই তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের (জাতীয়) বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন। এভাবে তিনি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন।

⇒ পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।


উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৪১.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রথমবার সরকার গঠন করে কতসালে?
  1. ১৯৭৯ সাল
  2. ১৯৭৮ সাল
  3. ১৯৭৭ সাল
  4. ১৯৮০ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৭৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৯ সাল
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি:
- ১৯৭৫-এর নভেম্বরের উন্মাতাল রাজপথে অভিষেক ঘটে তাঁর। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও যোদ্ধা।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা - শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
-  ১৯৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
- প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে

উৎস : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

৪২.
বর্তমানে বাংলাদেশের উপজেলার সংখ্যা কত? (জানুয়ারি-২০২৬)
  1. ৪৯৩টি
  2. ৪৯২টি
  3. ৪৯৫টি
  4. ৪৯৪টি
সঠিক উত্তর:
৪৯৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৯৫টি
ব্যাখ্যা

• দেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
- বিভাগ = ৮টি।
- জেলা = ৬৪টি।
- সিটি কর্পোরেশন= ১২ টি।
- উপজেলা= ৪৯৫ টি।
- মেট্রো থানা= ১০৫ টি।
- পৌরসভা= ৩২৭ টি।
- ইউনিয়ন = ৪,৫৯৬ টি।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৩.
বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন কে জারি করেন?
  1. কর্ণেল তাহের
  2. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. জিয়াউর রহমান
  4. হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে প্রথম সামরিক শাসন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি হয় ১৯৭৫ সালে।
- বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করে খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনাবসান ঘটে।
- খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে একটি সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, দেশে সামরিক আইন জারি করা হয়।

⇒ ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেড় দশক কাল বাংলাদেশে সামরিক শাসন চলেছিল।
- এ সামরিক শাসন ছিল কখনো প্রত্যক্ষ কখনো পরোক্ষ।
- সামরিক শাসন কালে সংবিধান, আইনের শাসন, বিচার বিভাগ, ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অর্থনীতি সকল ক্ষেত্রেই সামরিক বাহিনীর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে বেসামরিক রাজনৈতিক কর্তৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হয় নি।
- ১৯৭৫ সালে প্রথম সামরিক সরকারের শুরু থেকেই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বসহ সরকার ও প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামরিকায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- জেনারেল এরশাদের আমলে এ প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪.
রাষ্ট্রপতি বিদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগে কার পরামর্শ নিয়ে থাকেন?
  1. ব্যাক্তিগত সচিব
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. সেনাপ্রধান
  4. স্বাধীন
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

• প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ:
⇒ সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।

⇒  প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। মন্ত্রীদের কাজ তদারক করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদন নিয়ে কাজ করেন। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে তার পদ থেকে অপসারণের পরামর্শ দিতে পারেন।

⇒  প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা। তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যেমন- সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম তুলে ধরে সংসদে বক্তৃতা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন।

⇒ সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি বিল উত্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। যদি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদ উক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবেই তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের (জাতীয়) বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন। এভাবে তিনি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন।

⇒ পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৫.
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে কত সালে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৪৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে "জাতীয় সংসদ" প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখিত?
  1. ৬৫(২)
  2. ৬৫(৩)
  3. ৬৫(৪)
  4. ৬৫(১)
সঠিক উত্তর:
৬৫(১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫(১)
ব্যাখ্যা

⇒ ৬৫(১) "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে:

 ⇒ তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।

  ⇒ ৬৫(২) একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিন শত সদস্য লইয়া এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার কার্যকরতাকালে উক্ত দফায় বর্ণিত সদস্যদিগকে লইয়া সংসদ গঠিত হইবে; সদস্যগণ সংসদ-সদস্য বলিয়া অভিহিত হইবেন।

 ⇒ ৬৫(৩) সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন, ২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া পঁচিশ বৎসরকাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইনানুযায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন:

 - তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার কোন কিছুই এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না।]

 ⇒ ৬৫(৩ক) সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত তিন শত সদস্য এবং (৩) দফায় বর্ণিত পঞ্চাশ মহিলা-সদস্য লইয়া সংসদ গঠিত হইবে।]

 ⇒ ৬৫(৪) রাজধানীতে সংসদের আসন থাকিবে।
  
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৪৭.
রাজনৈতিক দল কীভাবে জনমত গঠন করে?
  1. পেশী শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে
  2. টাকার মাধ্যমে
  3. প্রচারণার মাধ্যমে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
প্রচারণার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রচারণার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল জনমত গঠন করে বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে। যেমন- বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি।

• রাজনৈতিক দলের ভূমিকা:


⇒ নেতৃত্ব তৈরি: 
- রাজনৈতিক দলের যিনি প্রধান তিনিই হলেন দলের নেতা। দলের নেতৃত্ব যেমন জাতীয় পর্যায়ে থাকে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়েও থাকে। আবার আজকে যারা স্থানীয় পর্যায়ের নেতা, আগামীতে তাঁরা যে জাতীয় পর্যায়ের নেতা হতে পারবেন না, তা নয়। এই নেতা তৈরির কাজটি করে রাজনৈতিক দল ও জনগণ।

⇒ সরকার গঠন:
- রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ হচ্ছে সরকার গঠন করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় সেই দলই সরকার গঠন করে।

⇒ জনমত গঠন:
- রাজনৈতিক দলের একটি অন্যতম কাজ হচ্ছে তার আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। এই জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি গ্রহণ করে।

⇒ রাজনৈতিক শিক্ষাদান:
রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করা। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় কর্মসূচি ব্যাখ্যা করে এবং অন্যান্য দলের কাজের সমালোচনা করে। জনগণ বিভিন্ন দলের মতামত, আলোচনা-সমালোচনা ইত্যাদি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার অনেক বিষয় জানতে পারে।

⇒ গঠনমূলক বিরোধিতা:
- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে এবং দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আইনসভায় বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে। সরকারের কোনো কার্যক্রম ভুল হলে বিরোধী দলের প্রধান কাজ হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া।

উৎস:  পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৪৮.
বাংলাদেশের মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. জেলা প্রশাসন
  2. উপজেলা প্রশাসন
  3. ইউনিয়ন প্রশাসন
  4. বিভাগীয় প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
বিভাগীয় প্রশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভাগীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
 - বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো স্তরভিত্তিক।
- এর দুটি প্রধান স্তর আছে।

• প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।

-  মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা সচিবালয় গঠিত।
- প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর।
- অধিদপ্তরের/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক/পরিচালক। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৪৯.
বাংলাদেশের প্রথম জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন? 
  1. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  2. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  3. এমএজি ওসমানী
  4. জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

 সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- প্রত্যক্ষ বা সরাসরি ভোটে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিনটি।
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
- বাকি দুজন হলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- এই তিনজন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

⇒ ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- তবে এর আগে সংসদ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএজি ওসমানী গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুগান্তর।

৫০.
সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত-
  1. আইন বিভাগ
  2. বিচার বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. নির্বাহী বিভাগ
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

• বিচারবিভাগের গঠন
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত এবং বিশেষট্রাইব্যুনাল নিয়ে গঠিত।

• ন্যায়বিচার করা: 
⇒ বিচারবিভাগের প্রধান কাজ প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং আইন অমান্যকারীর বিচার করা। এক্ষেত্রে বিচারকগণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী ন্যায়নীতির ভিত্তিতে বিচারকার্য সম্পন্ন করেন। বিচার বিভাগ সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। দেওয়ানি, ফৌজদারি প্রভৃতি মামলায় সত্য ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিচারবিভাগ অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে।

• আইন তৈরি: 
⇒ সাধারণত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রয়োগের দায়িত্ব বিচারবিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকে। এছাড়া বিচারকগণ নতুন আইন সংযোজন করে থাকেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার করতে গিয়ে উপযুক্ত আইন খুঁজে পাওয়া না গেলে বিচারকগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিচারের রায় প্রদান করেন যা আইন হিসেবে বিবেচিত হয়।

• মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ:
⇒  জনগণের মৌলিক অধিকার সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে। এ অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব বহুলাংশে আদালতের ওপরই ন্যস্ত হয়।

• আইনের ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রয়োগ: 
⇒ বিচারবিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আইনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা এবং সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী আইন প্রয়োগ করা। আইন বলতে সাধারণত সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন, শাসনতান্ত্রিক আদেশ বা অর্ডার এবং বিভিন্ন প্রথাগত আইনকে বোঝানো হয়।

• সংবিধান রক্ষা করা: 
⇒ সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে বিচারবিভাগ কাজ করে। বিচারবিভাগ সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয়। 

উৎস: ,বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-৯ম-১০ম শ্রেণি।

৫১.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয় কোন সালে?
  1. ১৯৮৩ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা

• উপজেলা নির্বাচন: 
- ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে এরশাদ সরকার সারাদেশে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
- কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রচন্ড বিরোধীতার কারণে উপজেলা নির্বাচন তখনকার মত স্থগিত হয়ে যায়। 
- বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে। ওই বছর ৪৬০টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়।
- ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরও ৪৬০টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়।
- ১৯৯২ সালের ২৬ জানুয়ারি 'উপজেলা বাতিল' বিলটি সংসদে পাসের মাধ্যমে উপজেলা পদ্ধতি বাতিল হয়।
- পরে ১৯৯৮ সালের ৩ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ আইনের মাধ্যমে পুনরায় উপজেলা ব্যবস্থা চালু করে।

উল্লেখ্য,
- একজন চেয়ারম্যান, দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান, অধিভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, পৌরসভার মেয়র (যদি থাকে) ও তিনজন মহিলা সদস্য নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত।
- তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এর পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
- উপজেলা পরিষদের প্রধান কাজ হল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করা।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

৫২.
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির পরে কোন দুটি বিভাগ গঠন করা হয়েছে?
  1. কর প্রশাসন বিভাগ ও কর আইন বিভাগ
  2. রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ
  3. রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও কর আদায় বিভাগ
  4. কর নীতি বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগ
সঠিক উত্তর:
রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ
ব্যাখ্যা

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ:
- গত ১২ মে, ২০২৫ ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ’ জারির মাধ্যমে এনবিআর ভেঙে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
- অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, রাজস্ব নীতি বিভাগ কর আইন প্রয়োগ এবং কর আহরণ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে।
- রাজস্ব সংগ্রহের মূল কাজ করবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
- নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনবল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে ন্যস্ত হবে।
- এই জনবল থেকে প্রয়োজনীয় জনবল রাজস্ব নীতি বিভাগে পদায়ন করা যাবে।
- এছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত হয়ে তার জনবল রাজস্ব নীতি বিভাগে ন্যস্ত হবে।

উৎস: রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫।

৫৩.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে কার ক্ষমতাচ্যুত ঘটে?
  1. খন্দকার মোশতাক
  2. হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ
  3. বেগম খালেদা জিয়া
  4. শেখ হাসিনা
সঠিক উত্তর:
হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।

- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয় ।
ii) দ্যা বিজন্যাস স্ট্যান্ডার্ড  বাংলা।

৫৪.
১৯৭৬ সালে স্থানীয় শাসন অর্ডিন্যান্সে কত ধরনের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ১৯৭২ সালে জারিকৃত রাষ্ট্রপতির ৭নং আদেশে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যমান সকল স্থানীয় সরকার কমিটি ভেঙে দেয়। এসব অবলুপ্ত কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার কিছু কমিটি নিয়োগ করে। অধিকন্তু ইউনিয়ন কাউন্সিল ও জেলা কাউন্সিল যথাক্রমে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত (পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ) ও জেলা বোর্ডে (পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদ) রূপান্তরিত হয়। অবশ্য থানা কাউন্সিল ও বিভাগীয় কাউন্সিলের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো কমিটি নিয়োগ করা হয় নি।

⇒ ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হয় এবং স্থানীয় সংস্থা সম্পর্কিত বিধানাবলি অকেজো হয়ে পড়ে। অবশ্য নির্দিষ্ট কিছুসংখ্যক স্থানীয় সংস্থা গঠনের বিধান রাখা হয়, তবে এর অধিকাংশই নির্বাচনভিত্তিক নয়। শেখ মুজিবের হত্যা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের (আগস্ট ১৯৭৫) ফলে স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত উন্নয়ন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

১৯৭৬ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নতুন সরকার স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। এতে তিন ধরনের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়,
যথা,
- ইউনিয়ন পরিষদ, 
- থানা পরিষদ।
- জেলা পরিষদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৫.
কত তারিখে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' শিক্ষার্থীরা 'কমপ্লিট শাটডাউন' শুরু করে?
  1. ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
  2. ৩ জুলাই, ২০২৪ সালে
  3. ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে
  4. ১৯ জুলাই, ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ ১৮ জুলাই ২০২৪ সালে কমপ্লিট শাটডাউন (সর্বাত্মক অবরোধ) কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে টানা আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত ১ জুলাই থেকে। অহিংস এই আন্দোলন সহিংস হয় ১৫ জুলাই থেকে।

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

৫৬.
সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পীকার
  4. সমবায় মন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

• সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের শপথ বাক্য পাঠ করান- প্রধানমন্ত্রী
• ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে শপথ বাক্য পড়ান - জেলা প্রশাসক।

এছাড়াও,

স্পিকার যাদের শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

প্রধান বিচারপতি যাদের শপথ বাক্য করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ
- পিএসসির সদস্যবৃন্দ
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
- নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ।

রাষ্ট্রপতি যাদের শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ
- স্পিকার
- ডেপুটি স্পিকার
- প্রধান বিচারপতি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫৭.
বাংলাদেশে বর্তমানে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে?
  1. সংসদীয় সরকার
  2. একনায়কতান্ত্রিক সরকার
  3. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  4. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার
সঠিক উত্তর:
সংসদীয় সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদীয় সরকার
ব্যাখ্যা

সরকার ব্যবস্থা: 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারই বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এটি রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ছিল।
- কিন্তু পরবর্তীতে সংসদীয় সরকার প্রবর্তন করা হয়।
- বর্তমানে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
- এই রাষ্ট্রের শাসন বিভাগ, বিচার ও আইন  বিভাগ নামে তিনটি বিভাগ রয়েছে।
- সরকার যাবতীয় কার্যাবলির জন্য জাতীয় সংসদের নিকট দায়বদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- শাসন বিভাগের কেন্দ্রে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ (Cabinet)।
- প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান ও মন্ত্রিপরিষদের কেন্দ্রবিন্দু।
- তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
- বাংলাদেশে ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯১ রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু ছিল।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫৮.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে কত তারিখে?
  1. ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি
  2. ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি
  3. ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি
  4. ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট
⇒  ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দেশের ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন এবং একই সাথে জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এর উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
⇒ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর সোমবার পর্যন্ত। ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই হবে।
⇒  রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।
⇒ কমিশনের দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১২ জানুয়ারি সোমবার থেকে ১৮ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।
⇒  প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার। রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি বুধবার।
⇒  ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। 

উৎস: নির্বাচন কমিশন।