পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ খাদ্য ও পুষ্টি [৬৬১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ খাদ্য ও পুষ্টি [৬৬১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১১৭
সিলেবাস
Full Model Test - 3
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ খাদ্য ও পুষ্টি [৬৬১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ খাদ্য ও পুষ্টি [৬৬১] · তারিখ অনির্ধারিত · ১১৭ প্রশ্ন

.
'Amend' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক্ষতিপূরণ দান করা
  2. সংশোধন করা
  3. সংবেদনশীল
  4. পরিবর্ধন করা
সঠিক উত্তর:
সংশোধন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশোধন করা
ব্যাখ্যা

• 'Amend' এর বাংলা পরিভাষা - সংশোধন করা।

অন্যদিকে,
• 'Amenable' অর্থ - সংবেদনশীল; চালিত বা নিয়ন্ত্রিত হতে আগ্রহী এমন; বাধ্য; অনুগত।
• 'Amends' অর্থ - ক্ষতিপূরণ দান করা।
• 'Augmenting' অর্থ - পরিবর্ধন করা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।

.
'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. উদক
  2. হিমানী
  3. প্রভঞ্জন
  4. পায়োদ
সঠিক উত্তর:
প্রভঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভঞ্জন
ব্যাখ্যা

• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন।

অন্যদিকে,
• 'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ: অম্বু, জল, নীর, সলিল, অপ, উদক, তোয়, জীবন ইত্যাদি।
• 'তুষার' শব্দের সমার্থক শব্দ: বরফ; হিমানী; নীহার।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ: জলধর; জীমূত; বারিদ; নীরদ; পায়োদ; ঘন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন-
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।

- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ-আগম-পারসী-নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পান্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- চল্লিশ বৎসর বয়সে ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি নিযুক্ত হন। তাঁর মাসিক বেতন হয় চল্লিশ টাকা। কবি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে প্রতিদিন কবিতা রচনা করে শোনাতেন। তাঁর কবিত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা তাঁকে 'গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন এবং প্রচুর ভূসম্পত্তি উপহার দেন।

- ভারতচন্দ্র মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। কবি গ্রন্থোৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, একদিকে দেবীর আদেশ, অন্যদিকে রাজার আদেশে কাব্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি। মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়। তিনি ছিলেন ব্রজবুলি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

• চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
যোগতন্ত্রশাস্ত্র মতে 'মীননাথ' চর্যাপদের কোন কবির অপর নাম?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা

• লুইপা:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবনকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

- যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা।

- লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিব্বতি অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ক তিনটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'। প্রথম দুটি বই দর্শনের এবং তৃতীয়টি দোঁহা ও গানের।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

.
"সবাই এসো আলোর মিছিলে হে নবীন তরুণ দল।" এখানে 'মিছিল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. ওলন্দাজ
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা



মিছিল (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- শোভাযাত্রা (মহরমের মিছিল)।
- মোকদ্দমা ও তৎসম্বন্ধীয় নথিপত্র।
- বিন্যাস, সিজিল।
- সমান, সমকক্ষ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস-
  1. নাসিকা
  2. মুখ
  3. ফুসফুস
  4. কণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্‌যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি। বস্তুত ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে চারটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো হলো-ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ।

- মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য 'কথা' বলে। মানুষের 'কথা' হলো অর্থযুক্ত কিছু ধ্বনি। ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত শব্দ বা আওয়াজকেই ধ্বনি বলা হয়। বস্তুত অর্থবোধক ধ্বনিসমূহই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি।

- ধ্বনি নির্গত হয় মুখ দিয়ে। ধ্বনি উৎপাদনে মুখ, নাসিকা, কণ্ঠ প্রভৃতি বাক্-প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হলেও ধ্বনি উৎপাদনের মূল উৎস হলো ফুসফুস। ফুসফুসের সাহায্যে আমরা শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আসে। ফুসফুস থেকে বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মুখের বিভিন্ন জায়গায় ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে মুখে নানা ধরনের ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

- অর্থাৎ ফুসফুস নির্গত বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশের পর বিভিন্ন বাক্-প্রত্যঙ্গের সংস্পর্শে আঘাত লাগার দরুন ধ্বনি গঠিত বা তৈরি হয়। ধ্বনি গঠনে বিভিন্ন বাক্- প্রত্যঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

.
'ঘরানা' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• আনা (য়ানা) -আনি (য়ানি) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়: ভাব, অভ্যাস বা আচরণ অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
ঘর + আনা = ঘরানা,
গরিব + আনা = গরিবানা,
বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
বিবি + আনা = বিবিয়ানা ইত্যাদি।

আবার,
বাবু + আনি = বাবুআনি > বাবুয়ানি।

• এরূপ কিছু বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
-ওয়ান, -খানা, -খোর, -গর, -গিরি, -চা > চি, -চী > চি, -তর (তরো), -দান, -দানি, -সার, -নবিশ, -বন্দি, -বাজ /-বাজি, -সহি, সই, -স্তান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন- ঞ্‌ + ক = ঙ্ক।
- শুদ্ধরূপ: ঙ্‌ + ক = ঙ্ক।

---------------
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- জ্‌ + ঞ = জ্ঞ;
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ;
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ;
- ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ;
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।' বাক্যে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে??
  1. বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
  2. বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
  3. সমাস ঘটিত অশুদ্ধি
  4. বাচ্যজনিত অশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করলে এ ধরনের ভুল হয়।
যেমন- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।
যেমন
অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ: হার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
শুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।

অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
জটিল বাক্য কোনটি?
  1. তুমি আস, তবে আমি যাব।
  2. তুমি ঘুমোবে, না পড়বে?
  3. এমন কোনো মা নেই, যিনি সন্তানকে স্নেহ করেন না।
  4. তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।
সঠিক উত্তর:
এমন কোনো মা নেই, যিনি সন্তানকে স্নেহ করেন না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমন কোনো মা নেই, যিনি সন্তানকে স্নেহ করেন না।
ব্যাখ্যা

• জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যিনি পরের উপকার করেন (আশ্রিত বাক্য), তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে (প্রধান খণ্ডবাক্য)।

জটিল বাক্যে- ক. বিশেষ্য স্থানীয়, খ. বিশেষণ স্থানীয়, গ. ক্রিয়াবিশেষণ ও বিশেষণীয় বিশেষণস্থানীয় আশ্রিত বাক্য বসে।

ক. বিশেষ্য স্থানীয় (খণ্ডবাক্য) আশ্রিতবাক্য:
যেমন-
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।
- তুমি যা বলেছিলে, সবই খেটে গেছে।
- সে যে উপস্থিত, তা সবাই দেখেছে।
[এখানে মোটা অক্ষরের বাক্যগুলো প্রধান বাক্যের 'বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত বাক্য'।]

খ. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত (খণ্ড বাক্য):
যেমন-
- এমন কোনো মা নেই, যিনি সন্তানকে স্নেহ করেন না।
[এখানে 'যিনি সন্তানকে স্নেহ করেন না' অংশ আশ্রিত খণ্ড বাক্যের 'মা' বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করেছে। অতএব 'এমন কোন মা' অংশটি বিশেষণস্থানীয় আশ্রিত খণ্ড বাক্য।]

গ. ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত (খণ্ড) বাক্য:
যেমন-
- যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- যদিও সে গরিব তবুও সে সৎ।
- যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ।

অন্যদিকে,
• যৌগিক বাক্য (compound sentence):
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য সংযোজক, সংকোচক, বিয়োজক, ব্যতিরেকাত্মক প্রভৃতি যোজক শব্দ দ্বারা যুক্ত হয়ে যখন একটিমাত্র বাক্য গঠন করে তখন তাকে 'যৌগিক বাক্য' বলে।
যেমন:
- তুমি আস, তবে আমি যাব। (সংযোজক)
- তুমি ঘুমোবে, না পড়বে? (বিয়োজক)
- তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না। (ব্যতিরেকাত্মক)

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১.
বিশেষণ পদ নয় কোনটি?
  1. নিখুঁত
  2. সুকঠিন
  3. দুঃসহ
  4. সততা
সঠিক উত্তর:
সততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয়- সততা।
- 'সততা' গুণবাচক বিশেষ্য পদ।

• আদ্য প্রত্যয় বা উপসর্গযুক্ত বিশেষণ: এ ধরনের বিশেষণ আদ্যপ্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হয়।
যেমন:
- নিখুঁত (নি + খুঁত) কাজ।
- সুকঠিন (সু + কঠিন) প্রতিজ্ঞা।
- দুঃসহ (দুঃ + সহ) দারিদ্র্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. প্রশস্ত
  2. অভ্যস্ত
  3. গৃহস্ত
  4. ব্যস্ত
সঠিক উত্তর:
গৃহস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহস্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: গৃহস্থ।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- সংসার ধর্ম পালন করে এমন,
- গৃহী।

অন্যদিকে,
• প্রশস্ত, অভ্যস্ত ও ব্যস্ত বানানগুলো শুদ্ধ।

• এরূপ কিছু শুদ্ধ শব্দ- ঠোঁটস্থ, মুখস্থ, দ্বারস্থ, অস্ত, কণ্ঠস্থ, গ্রস্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩.
১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো ঘোড়া
  2. কালো বরফ
  3. খেলাঘর
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
সঠিক উত্তর:
কালো বরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো বরফ
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• "কালো ঘোড়া" লেখক ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৮১ সালে পশ্চিম জার্মানির সিনডেল ফিঙেন শহরে বসে তিনি এই উপন্যাসটি রচনা করেন এবং এটি বাংলাদেশের একটি নিবিড় গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ‘কালোঘোড়া’ মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস। ১৯৭১ এর সেই জেগে ওঠার দিনে বাংলাদেশের একটি গ্রামে কেমন চেহারা নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন করে মুক্তিযুদ্ধ প্রভাবিত করেছিল গ্রামের প্রতিটি মানুষকে, কেমন করে মুক্তিযোদ্ধারা এসে আশ্রয় পায় এক বালকের কাছে, কেমন করে প্রাণ হারায় এব বোবা যুবতী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হোতা কেমন করে নিহত হয় মুক্তেোদ্ধাদের হাতে আর কেমন করেই বা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সেই বালক নিজের অজান্তে হয়ে ওঠে এক মহান মুক্তিযোদ্ধা, প্রাণের বিনিময়ে যে রক্ষা করতে চায় সহযোদ্ধাদের কে, এরকম অনেকগুলো বিষয়কে ‘কালোঘোড়া’ উপন্যাসে উপজীব্য করেছেন ইমদাদুল হক মিলন।

উৎস: 'কালো বরফ' ও "কালো ঘোড়া" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
'অপর্ণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ডাকঘর
  2. মুক্তধারা
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
ব্যাখ্যা

• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।

- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র রঘুপতি ও জয়সিংহের ভূমিকায় বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেন।

- উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনই বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে। নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রঘুপতি,
- জয়সিংহ,
- অপর্ণা,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য।

অন্যদিকে,
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অভিজিৎ, রণজিত, সুমন, অম্বা, বিভূতি।
• "প্রায়শ্চিত্ত" নাটকের চরিত্রগুলো: ধনঞ্জয়, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

-------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মিকী প্রতিভা,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫.
নিম্নের কত তারিখে অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  3. ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  4. ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি:
- ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর সদস্যদের মধ্যে প্রথম ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য ও কানাডা।
- এর পর দিন ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ জাতিসংঘের সদর দপ্তর এক অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ ফ্রান্স।
- এ নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যদেশের দেড় শ’র বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- এর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন ও মধ্য আমেরিকার দেশই বেশি।
- ১৯৮৮ সালের ১৬ নভেম্বর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে এ পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি।

সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৬.
যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন' কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৮৮৩ সালে
  2. ১৮৮৫ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৮৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮৩ সালে
ব্যাখ্যা

• ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধিবদ্ধভাবে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৮৮৩ সালে।
- The Pendleton Civil Service Reform Act-1883 এর মাধ্যমে।
- ১৯৭৮ সালে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশনে সংস্কার করে একে তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এগুলো হলো:
- অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট
- দ্য মেরিট সিস্টেম প্রোটেকশন বোর্ড
- দ্য ফেডারেল লেবার রিলেশন অথরিটি।

উৎস: অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট।

১৭.
‘জাপাদ-২০২৫’ নামক সামরিক মহড়া চালিয়েছে -
  1. রাশিয়া ও চীন
  2. জাপান ও ভারত
  3. চীন ও পাকিস্তান
  4. রাশিয়া ও বেলারুশ
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া ও বেলারুশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া ও বেলারুশ
ব্যাখ্যা

• জাপাদ-২০২৫:
- জাপাদ-২০২৫ হলো রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া।
- এই মহড়া ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শুরু হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শেষ হয়।
- এই মহড়ায় প্রায় ১ লাখ সেনা অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ভারী অস্ত্র, বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং প্যারাট্রুপারদের সমন্বয়ে ব্যাপক সামরিক কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৩টি দেশের প্রতিনিধিরা মহড়া দেখতে বেলারুশে উপস্থিত ছিলেন।
- মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি প্রদর্শন।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৮.
অক্সালোঅ্যাসিটেটের (oxaloacetate) ঘাটতি হলে গ্লুকোনিওজেনেসিস (gluconeogenesis) পাথওয়ে কোন অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহার করতে পারবে না? (If oxaloacetate is deficient, which amino acid cannot be used for gluconeogenesis?)
  1. Alanine (অ্যালানিন)
  2. Aspartate (অ্যাসপার্টেট)
  3. Glutamate (গ্লুটামেট)
  4. Serine (সেরিন)
সঠিক উত্তর:
Alanine (অ্যালানিন)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Alanine (অ্যালানিন)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) অ্যালানিন (Alanine)।

কেন এটি সঠিক: গ্লুকোনিওজেনেসিস হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শরীর নন-কার্বোহাইড্রেট উৎস থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় অনেক অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহার করা যেতে পারে, কারণ এগুলি ভেঙে টিসিএ চক্রের (TCA cycle) মধ্যবর্তী যৌগগুলোতে রূপান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে অক্সালোঅ্যাসিটেটের মাধ্যমে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।

অ্যালানিনের ভূমিকা: অ্যালানিন হলো একটি গ্লুকোজেনিক অ্যামিনো অ্যাসিড। এটি সরাসরি পাইরুভেটে (pyruvate) রূপান্তরিত হয়। এরপর এই পাইরুভেট অক্সালোঅ্যাসিটেটে রূপান্তরিত হয় এবং গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে।
সমস্যা: যদি কোনো কারণে অক্সালোঅ্যাসিটেটের ঘাটতি থাকে, তবে অ্যালানিন থেকে প্রাপ্ত পাইরুভেট আর গ্লুকোজে রূপান্তরিত হতে পারবে না। কারণ, গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ার জন্য অক্সালোঅ্যাসিটেট একটি অপরিহার্য মধ্যবর্তী যৌগ।
অন্যান্য অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো টিসিএ চক্রের অন্যান্য স্থানে প্রবেশ করে এবং চক্রাকারে অক্সালোঅ্যাসিটেট তৈরি করতে পারে, কিন্তু অ্যালানিনের পথটি সরাসরি অক্সালোঅ্যাসিটেটের উপর নির্ভরশীল।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) অ্যাসপার্টেট (Aspartate): অ্যাসপার্টেট একটি অ্যামিনোট্রান্সফারেজ বিক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি অক্সালোঅ্যাসিটেটে রূপান্তরিত হয়। তাই এর ঘাটতি হলে গ্লুকোনিওজেনেসিস বাধাগ্রস্ত হয় না।
C) গ্লুটামেট (Glutamate): গ্লুটামেট α-কিটোগ্লুটারেটে (α-ketoglutarate) রূপান্তরিত হয়, যা টিসিএ চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ। এই চক্রের মাধ্যমে অক্সালোঅ্যাসিটেট তৈরি হয়, তাই গ্লুটামেট পরোক্ষভাবে গ্লুকোনিওজেনেসিসকে সমর্থন করে।
D) সেরিন (Serine): সেরিনও পাইরুভেটে রূপান্তরিত হতে পারে, কিন্তু অ্যালানিনের মতো এটি অক্সালোঅ্যাসিটেটের ঘাটতির কারণে সরাসরি প্রভাবিত হয় না।

Ref: Lehninger, Ch. 16

১৯.
টিসিএ চক্রের (TCA cycle) কোন মধ্যবর্তী যৌগটি (intermediate) গ্লুকোনিওজেনেসিস এবং অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাক—এই দুটি পথেই কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে?
(Which TCA intermediate plays a central role in both gluconeogenesis and amino acid metabolism?)
  1. Citrate (সাইট্রেট)
  2. Oxaloacetate (অক্সালোঅ্যাসিটেট)
  3. Fumarate (ফিউমারেট)
  4. Succinate (সাক্সিনেট)
সঠিক উত্তর:
Oxaloacetate (অক্সালোঅ্যাসিটেট)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oxaloacetate (অক্সালোঅ্যাসিটেট)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) অক্সালোঅ্যাসিটেট (Oxaloacetate)।

কেন এটি সঠিক: অক্সালোঅ্যাসিটেট হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ যা বিপাকের একাধিক পথে একটি সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে। এটি টিসিএ চক্রের একটি মূল উপাদান।

গ্লুকোনিওজেনেসিসে ভূমিকা: গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায়, শরীর নন-কার্বোহাইড্রেট উৎস (যেমন: অ্যামিনো অ্যাসিড) থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায়, অক্সালোঅ্যাসিটেট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ। এটি ফসফোইনলপাইরুভেট (PEP)-এ রূপান্তরিত হয়ে গ্লুকোজ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে।
অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকে ভূমিকা: অনেক অ্যামিনো অ্যাসিড (যেমন: অ্যাসপার্টেট এবং অ্যালানিন) ভেঙে গিয়ে অক্সালোঅ্যাসিটেট বা তার পূর্বসূরি যৌগ তৈরি করে। এর ফলে, এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো টিসিএ চক্রে প্রবেশ করে শক্তি উৎপাদন করতে পারে অথবা গ্লুকোনিওজেনেসিসের মাধ্যমে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হতে পারে।
এই কারণে, অক্সালোঅ্যাসিটেট দুটি পথেই একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) সাইট্রেট (Citrate): সাইট্রেট ফ্যাটি অ্যাসিড সংশ্লেষণের সাথে সম্পর্কিত, কিন্তু এটি গ্লুকোনিওজেনেসিসের কেন্দ্রীয় যৌগ নয়।
C) ফিউমারেট (Fumarate): ফিউমারেট টিসিএ চক্রের একটি মধ্যবর্তী যৌগ এবং এটি ইউরিয়া চক্রের সাথে সংযুক্ত, কিন্তু এটি অক্সালোঅ্যাসিটেটের মতো কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে না।
D) সাক্সিনেট (Succinate): সাক্সিনেট টিসিএ চক্রের একটি যৌগ, কিন্তু এটি সরাসরি গ্লুকোনিওজেনেসিস বা অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

Ref: Harper’s, Ch. 16 & 20

২০.
গ্যালাকটোসেমিয়া (Galactosemia) রোগে কোন বিষাক্ত মেটাবোলাইট বা বিপাকীয় পদার্থ জমা হয়? (Which toxic metabolite accumulates in classical galactosemia?)
  1. Galactose-1-phosphate (গ্যালাক্টোজ-১-ফসফেট)
  2. Galactitol (গ্যালাক্টিটল)
  3. Fructose-1-phosphate (ফ্রুক্টোজ-১-ফসফেট)
  4. Glucose-6-phosphate (গ্লুকোজ-৬-ফসফেট)
সঠিক উত্তর:
Galactose-1-phosphate (গ্যালাক্টোজ-১-ফসফেট)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Galactose-1-phosphate (গ্যালাক্টোজ-১-ফসফেট)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) গ্যালাক্টোজ-১-ফসফেট (Galactose-1-phosphate)।

কেন এটি সঠিক: ক্লাসিক্যাল গ্যালাকটোসেমিয়া হলো একটি জেনেটিক বা বংশগত রোগ যা গ্যালাকটোজের বিপাকে ত্রুটির কারণে হয়। গ্যালাকটোজ হলো এক ধরনের শর্করা যা প্রধানত দুগ্ধজাত পণ্যে পাওয়া যায়।

এনজাইমের ঘাটতি: এই রোগে গ্যালাক্টোজ-১-ফসফেট ইউরিডিলট্রান্সফারেজ (Galactose-1-phosphate uridyltransferase) নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইমের অভাব থাকে। এই এনজাইমটি গ্যালাকটোজ-১-ফসফেটকে গ্লুকোজ-১-ফসফেটে রূপান্তরিত করে।
বিষাক্ত পদার্থ জমা হওয়া: যখন এই এনজাইমের ঘাটতি থাকে, তখন গ্যালাকটোজ-১-ফসফেট লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং লোহিত রক্তকণিকাসহ বিভিন্ন টিস্যুতে জমা হতে শুরু করে। এই জমা হওয়া পদার্থগুলো বিষাক্ত এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করে, যার ফলে:

যকৃতের বৃদ্ধি (hepatomegaly) এবং পরবর্তীতে যকৃতের ব্যর্থতা।
মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতা।
চোখে ছানি (cataract) পড়া।
এই কারণে, গ্যালাকটোসেমিয়া নির্ণয় হলে শিশুকে গ্যালাকটোজ-মুক্ত খাদ্য দিতে হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) গ্যালাক্টিটল (Galactitol): গ্যালাক্টিটল গ্যালাকটোজের একটি উপজাত পদার্থ। এটি চোখের লেন্সে জমা হতে পারে এবং ছানি সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু এটি রোগের প্রধান বিষাক্ত পদার্থ নয়। গ্যালাক্টোজ-১-ফসফেট জমা হওয়াই রোগের মূল কারণ।
C) ফ্রুক্টোজ-১-ফসফেট (Fructose-1-phosphate): এই পদার্থটি হেরিডিটারি ফ্রুকটোজ ইনটলারেন্স রোগে জমা হয়।
D) গ্লুকোজ-৬-ফসফেট (Glucose-6-phosphate): এই পদার্থটি ভন জিরকের রোগ (Von Gierke’s disease) নামক গ্লাইকোজেন স্টোরেজ রোগে জমা হয়।

Ref: Nelson Pediatrics, 21st Ed

২১.
বিজোড়-চেইনের ফ্যাটি অ্যাসিড (Odd-chain fatty acids)-এর অক্সিডেশনের শেষ পণ্য হিসেবে কোনটি তৈরি হয়, যা গ্লুকোনিওজেনেসিস-এ ব্যবহার করা যেতে পারে?
(What is the end product of odd-chain fatty acid oxidation that can enter gluconeogenesis?)
  1. Acetyl-CoA (অ্যাসিটাইল-কোএ)
  2. Succinyl-CoA (সাক্সিনাইল-কোএ)
  3. Propionyl-CoA (প্রোপিওনাইল-কোএ)
  4. Malonyl-CoA (ম্যালোনাইল-কোএ)
সঠিক উত্তর:
Succinyl-CoA (সাক্সিনাইল-কোএ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Succinyl-CoA (সাক্সিনাইল-কোএ)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) সাক্সিনাইল-কোএ (Succinyl-CoA)।

কেন এটি সঠিক: বেশিরভাগ ফ্যাটি অ্যাসিডের কার্বন চেইন জোড় সংখ্যার হয় (even-chain), যেমন: ১৬ বা ১৮ কার্বন। এদের β-অক্সিডেশন প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে অ্যাসিটাইল-কোএ (acetyl-CoA) উৎপন্ন হয়। তবে, কিছু ফ্যাটি অ্যাসিডের কার্বন চেইন বিজোড় সংখ্যার হয় (odd-chain)।

বিজোড়-চেইনের ফ্যাটি অ্যাসিডের অক্সিডেশন: এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো β-অক্সিডেশন চক্রের মধ্য দিয়ে যেতে থাকে যতক্ষণ না তাদের শেষে তিনটি কার্বনের একটি অংশ অবশিষ্ট থাকে। এই তিন কার্বনের যৌগটি হলো প্রোপিওনাইল-কোএ (propionyl-CoA)।
সাক্সিনাইল-কোএ-তে রূপান্তর: প্রোপিওনাইল-কোএ তখন একটি বিশেষ পথের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সাক্সিনাইল-কোএতে (succinyl-CoA) রূপান্তরিত হয়। এই রূপান্তরের জন্য ভিটামিন বি১২ এবং বায়োটিনের প্রয়োজন হয়।
গ্লুকোনিওজেনেসিসে প্রবেশ: সাক্সিনাইল-কোএ টিসিএ চক্রের একটি মধ্যবর্তী যৌগ। এটি টিসিএ চক্র থেকে বেরিয়ে গিয়ে অক্সালোঅ্যাসিটেটে রূপান্তরিত হতে পারে, যা গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যায়। এটি একমাত্র পথ যেখানে ফ্যাটি অ্যাসিড থেকে গ্লুকোজ তৈরি হতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) অ্যাসিটাইল-কোএ: অ্যাসিটাইল-কোএ টিসিএ চক্রে প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে পারে না।
C) প্রোপিওনাইল-কোএ: এটি বিজোড়-চেইনের ফ্যাটি অ্যাসিডের অক্সিডেশনের শেষ মধ্যবর্তী যৌগ, চূড়ান্ত উৎপাদিত যৌগ নয় যা গ্লুকোনিওজেনেসিস-এ প্রবেশ করে।
D) ম্যালোনাইল-কোএ: ম্যালোনাইল-কোএ হলো ফ্যাটি অ্যাসিড সংশ্লেষণের একটি মধ্যবর্তী যৌগ, ফ্যাটি অ্যাসিড ভাঙার প্রক্রিয়াতে এটি তৈরি হয় না।

Ref: Lippincott’s, Ch. 19

২২.
অরনিথিন ট্রান্সকার্বাময়লেজ (OTC) ঘাটতিতে প্রধান বিপাকীয় অস্বাভাবিকতা কী?
(What is the primary metabolic abnormality in OTC deficiency?)
  1. Hyperammonemia (হাইপারঅ্যামোনেমিয়া)
  2. Hyperuricemia (হাইপারইউরিকেমিয়া)
  3. Hypoglycemia (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
  4. Ketoacidosis (কেটোঅ্যাসিডোসিস)
সঠিক উত্তর:
Hyperammonemia (হাইপারঅ্যামোনেমিয়া)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hyperammonemia (হাইপারঅ্যামোনেমিয়া)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) হাইপারঅ্যামোনেমিয়া (Hyperammonemia)।

কেন এটি সঠিক: অরনিথিন ট্রান্সকার্বাময়লেজ (OTC) হলো একটি এনজাইম যা ইউরিয়া চক্রের (urea cycle) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউরিয়া চক্র হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে (ammonia) তুলনামূলকভাবে কম বিষাক্ত ইউরিয়াতে রূপান্তরিত করে শরীর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এনজাইমের কাজ: OTC এনজাইমটি কার্বাময়ল ফসফেট এবং অরনিথিনকে একত্রিত করে সাইট্রুলিন তৈরি করে। এটি ইউরিয়া চক্রের একটি প্রাথমিক এবং অপরিহার্য ধাপ।
রোগের কারণ: যখন OTC এনজাইমের ঘাটতি থাকে, তখন ইউরিয়া চক্রের এই ধাপটি কার্যকরভাবে চলতে পারে না। এর ফলে শরীর অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়াতে রূপান্তরিত করতে পারে না এবং অ্যামোনিয়া রক্তে জমা হতে শুরু করে। রক্তে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেড়ে গেলে এই অবস্থাকে হাইপারঅ্যামোনেমিয়া বলা হয়।
গুরুতর প্রভাব: অ্যামোনিয়া একটি অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ, বিশেষ করে মস্তিষ্কের জন্য। হাইপারঅ্যামোনেমিয়া মস্তিষ্কের ক্ষতি, খিঁচুনি, কোমা এবং এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
এই কারণে, OTC ঘাটতি ইউরিয়া চক্রের সবচেয়ে সাধারণ রোগ এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো হাইপারঅ্যামোনেমিয়া।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) হাইপারইউরিকেমিয়া (Hyperuricemia): এটি রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বোঝায়, যা গাউট রোগের কারণ হতে পারে। এটি ইউরিয়া চক্রের সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
C) হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia): এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়াকে বোঝায়, যা গ্লাইকোজেন স্টোরেজ রোগের মতো বিপাকীয় রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
D) কিটোঅ্যাসিডোসিস (Ketoacidosis): এটি একটি বিপাকীয় অবস্থা যেখানে শরীরে কিটোন বডি বেশি তৈরি হয়। এটি সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা দীর্ঘস্থায়ী অনাহারের কারণে হয়।

২৩.
ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খলে (ETC) কোন কমপ্লেক্স এটিপি (ATP) উৎপাদন না করেও ইলেকট্রন স্থানান্তরে অংশ নেয়?
(Which ETC complex participates in electron transfer but does not pump protons for ATP synthesis?)
  1. Complex I (কমপ্লেক্স I)
  2. Complex II (কমপ্লেক্স II)
  3. Complex III (কমপ্লেক্স III)
  4. Complex IV (কমপ্লেক্স IV)
সঠিক উত্তর:
Complex II (কমপ্লেক্স II)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Complex II (কমপ্লেক্স II)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) কমপ্লেক্স II (Complex II)।

কেন এটি সঠিক: ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খল (ETC) মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের ঝিল্লিতে অবস্থিত কয়েকটি প্রোটিন কমপ্লেক্স নিয়ে গঠিত। এই কমপ্লেক্সগুলো ইলেকট্রন স্থানান্তর করে এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রোটন (H+) পাম্প করে। এই প্রোটন গ্রেডিয়েন্ট পরবর্তীতে এটিপি সিন্থেজ এনজাইম দ্বারা এটিপি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

কমপ্লেক্স II (সাক্সিনেট ডিহাইড্রোজিনেস): এটি টিসিএ চক্র (TCA cycle) এবং ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খলের মধ্যে একটি সংযোগ হিসেবে কাজ করে। এই কমপ্লেক্সটি সাক্সিনেট থেকে এফএডিএইচ₂ (FADH₂) তে ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং কোএনজাইম কিউ (coenzyme Q) তে স্থানান্তরিত করে।
প্রোটন পাম্পিংয়ের অভাব: অন্যান্য প্রধান কমপ্লেক্সগুলোর (I, III, এবং IV) বিপরীতে, কমপ্লেক্স II ইলেকট্রন স্থানান্তরের সময় মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের ঝিল্লির মধ্য দিয়ে প্রোটন পাম্প করে না। এই কারণে, এফএডিএইচ₂ থেকে প্রাপ্ত ইলেকট্রনগুলো এটিপি উৎপাদনের জন্য কম শক্তি সরবরাহ করে।
সুতরাং, কমপ্লেক্স II হলো একমাত্র প্রধান কমপ্লেক্স যা ইলেকট্রন স্থানান্তরে অংশ নেয়, কিন্তু সরাসরি প্রোটন পাম্প করে না।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) কমপ্লেক্স I: এটি এনএডিএইচ (NADH) থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং প্রোটন পাম্প করে।
C) কমপ্লেক্স III: এটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং প্রোটন পাম্প করে।
D) কমপ্লেক্স IV: এটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং শেষ ধাপ হিসেবে অক্সিজেনকে পানিতে রূপান্তরিত করে, এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রোটন পাম্প করে।

Ref: Lehninger, Ch. 19

২৪.
পাইরুভেট ডিহাইড্রোজিনেস কমপ্লেক্স (PDC)-এর কার্যকলাপের জন্য কোন কো-ফ্যাক্টরটির প্রয়োজন হয় না?
(Which of the following is not required as a cofactor for pyruvate dehydrogenase complex?)
  1. Thiamine pyrophosphate (TPP)
  2. Lipoic acid
  3. Biotin
  4. FAD
সঠিক উত্তর:
Biotin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Biotin
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) বায়োটিন (Biotin)।

কেন এটি সঠিক: পাইরুভেট ডিহাইড্রোজিনেস কমপ্লেক্স (PDC) হলো একটি বিশাল মাল্টি-এনজাইম কমপ্লেক্স যা পাইরুভেটকে অ্যাসিটাইল-কোএ (acetyl-CoA)-তে রূপান্তরিত করে। এটি গ্লাইকোলাইসিস এবং ক্রেবস চক্রের (Krebs cycle) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করে। এই কমপ্লেক্সের সঠিক কার্যকারিতার জন্য পাঁচটি ভিন্ন কো-ফ্যাক্টর প্রয়োজন:

১. থায়ামিন পাইরোফসফেট (Thiamine pyrophosphate - TPP): ভিটামিন বি১ (Thiamine) থেকে প্রাপ্ত। ২. লিপোইক অ্যাসিড (Lipoic acid) ৩. কোএনজাইম এ (Coenzyme A - CoA): ভিটামিন বি৫ (Pantothenic acid) থেকে প্রাপ্ত। ৪. এফএডি (FAD): ভিটামিন বি২ (Riboflavin) থেকে প্রাপ্ত। ৫. এনএডি⁺ (NAD⁺): ভিটামিন বি৩ (Niacin) থেকে প্রাপ্ত।

যেহেতু এই কমপ্লেক্সটির কার্যকারিতার জন্য বায়োটিনের প্রয়োজন হয় না, তাই এটিই সঠিক উত্তর। বায়োটিন সাধারণত কার্বক্সিলেশন (carboxylation) বিক্রিয়ায় কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে, যেমন পাইরুভেট কার্বক্সিলেজ এনজাইমটি গ্লুকোনিওজেনেসিস-এ কাজ করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) থায়ামিন পাইরোফসফেট (TPP): এটি পাইরুভেট ডিহাইড্রোজিনেস কমপ্লেক্সের একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর।
B) লিপোইক অ্যাসিড: এটিও এই কমপ্লেক্সের একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর।
D) এফএডি (FAD): এটিও এই কমপ্লেক্সের একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর।

Ref: Lippincott’s, Ch. 17

২৫.
ফেনাইলকিটোনুরিয়া (PKU)-তে অনিয়ন্ত্রিত রোগীর মস্তিষ্কের ক্ষতির মূল কারণ কী?
(What is the main biochemical cause of brain damage in untreated PKU?)
  1. Excess tyrosine accumulation (অতিরিক্ত টাইরোসিন জমা)
  2. Deficiency of dopamine (ডোপামিনের অভাব)
  3. Competitive inhibition of transport of other large neutral amino acids into brain (অন্য amino acid brain-এ প্রবেশে বাধা)
  4. Excess serotonin production (অতিরিক্ত সেরোটোনিন উৎপাদন)
সঠিক উত্তর:
Competitive inhibition of transport of other large neutral amino acids into brain (অন্য amino acid brain-এ প্রবেশে বাধা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Competitive inhibition of transport of other large neutral amino acids into brain (অন্য amino acid brain-এ প্রবেশে বাধা)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) মস্তিষ্কে অন্যান্য বড় নিরপেক্ষ অ্যামিনো অ্যাসিডের (large neutral amino acids) পরিবহনে প্রতিযোগিতামূলক বাধা।

কেন এটি সঠিক: ফেনাইলকিটোনুরিয়া (PKU) হলো একটি বংশগত রোগ যেখানে ফেনাইলঅ্যালানিন হাইড্রক্সিলেজ নামক এনজাইমের অভাবে ফেনাইলঅ্যালানিনকে টাইরোসিনে রূপান্তরিত করা যায় না। এর ফলে ফেনাইলঅ্যালানিন রক্তে বিপজ্জনক মাত্রায় জমা হতে থাকে।

মস্তিষ্কে প্রবেশে বাধা: ফেনাইলঅ্যালানিন হলো একটি বড় নিরপেক্ষ অ্যামিনো অ্যাসিড (LNAA)। মস্তিষ্কে LNAA-এর পরিবহনের জন্য একটি বিশেষ ক্যারিয়ার প্রোটিন রয়েছে। যখন রক্তে অতিরিক্ত ফেনাইলঅ্যালানিন থাকে, তখন এটি মস্তিষ্কে প্রবেশের জন্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ LNAA-এর (যেমন: টাইরোসিন, ট্রিপটোফ্যান, লিউসিন, আইসোলিউসিন এবং ভ্যালিন) সাথে প্রতিযোগিতা করে।
ফলাফল: এই প্রতিযোগিতার কারণে অন্যান্য LNAA মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রবেশ করতে পারে না। এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন: ডোপামিন, সেরোটোনিন, নোরপাইনফ্রিন) এবং প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য। এদের অভাবে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ এবং কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যা গুরুতর মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) অতিরিক্ত টাইরোসিন জমা: এটি ভুল। PKU-তে টাইরোসিন তৈরি হয় না বলে এর মাত্রা কমে যায়, অতিরিক্ত জমা হয় না।
B) ডোপামিনের অভাব: ডোপামিনের অভাব মস্তিষ্কের ক্ষতির একটি ফলাফল, কারণ ডোপামিন তৈরিতে টাইরোসিনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু মূল কারণ হলো LNAA-এর পরিবহনে বাধা।
D) অতিরিক্ত সেরোটোনিন উৎপাদন: এটি ভুল। সেরোটোনিন তৈরিতে ট্রিপটোফ্যানের প্রয়োজন হয়, যা মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছাতে পারে না। তাই সেরোটোনিন উৎপাদন কমে যায়, অতিরিক্ত নয়।

Ref: Nelson Pediatrics, 21st Ed

২৬.
ইউরিয়া চক্রে কোন মধ্যবর্তী যৌগটি (intermediate) টিসিএ চক্রের (TCA cycle) সাথেও যুক্ত থাকে?
(Which intermediate links the urea cycle with the TCA cycle?)
  1. Arginine (আর্জিনিন)
  2. Fumarate (ফিউমারেট)
  3. Ornithine (অর্নিথিন)
  4. Citrulline (সিট্রুলিন)
সঠিক উত্তর:
Arginine (আর্জিনিন)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Arginine (আর্জিনিন)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ফিউমারেট (Fumarate)।

কেন এটি সঠিক: ইউরিয়া চক্র হলো এমন একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর থেকে অ্যামোনিয়া নামক বিষাক্ত পদার্থকে ইউরিয়াতে রূপান্তরিত করে বের করে দেওয়া হয়। যদিও এই চক্রটি মূলত অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকের জন্য কাজ করে, এটি শক্তি উৎপাদনকারী টিসিএ চক্রের সাথেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

ফিউমারেট (Fumarate): ইউরিয়া চক্রের একটি ধাপে, আর্জিনিনোসাক্সিনেট (argininosuccinate) ভেঙে ফিউমারেট এবং আর্জিনিন তৈরি হয়।
সংযোগ: এই ফিউমারেট তখন ইউরিয়া চক্র থেকে বেরিয়ে যায় এবং মাইটোকন্ড্রিয়াতে টিসিএ চক্রে প্রবেশ করে। টিসিএ চক্রে ফিউমারেট ভেঙে ম্যালেট এবং তারপর অক্সালোঅ্যাসিটেট তৈরি করে। এই অক্সালোঅ্যাসিটেট তখন গ্লুকোনিওজেনেসিসের (gluconeogenesis) জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা টিসিএ চক্রে আবার প্রবেশ করে শক্তি উৎপাদন করতে পারে।
এই কারণে, ফিউমারেট হলো এমন একটি যৌগ যা এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে সংযুক্ত করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) আর্জিনিন (Arginine): এটি ইউরিয়া চক্রের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, কিন্তু এটি সরাসরি টিসিএ চক্রের মধ্যবর্তী যৌগ নয়।
C) অর্নিথিন (Ornithine) ও D) সিট্রুলিন (Citrulline): এই দুটি যৌগ ইউরিয়া চক্রের প্রধান উপাদান এবং টিসিএ চক্রের সাথে তাদের কোনো সরাসরি সংযোগ নেই।

Ref: Harper’s, Ch. 21

২৭.
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অতিরিক্ত গ্রহণ করলে কী হতে পারে?
(What may occur due to excessive intake of Omega-3 fatty acids?)
  1. রক্তপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি (Increased risk of bleeding)
  2. LDL হ্রাস এবং HDL বৃদ্ধি (Decrease LDL, increase HDL)
  3. হাড় ক্ষয় (Osteoporosis)
  4. ভিটামিন A টক্সিসিটি (Vitamin A toxicity)
সঠিক উত্তর:
রক্তপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি (Increased risk of bleeding)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি (Increased risk of bleeding)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) রক্তপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি।

কেন এটি সঠিক: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষত ইপিএ (EPA) এবং ডিএইচএ (DHA), প্লেটলেট বা অণুচক্রিকার কার্যকারিতা কমাতে সাহায্য করে, যা রক্ত জমাট বাঁধাকে বাধা দেয়। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য উপকারী। তবে, যখন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড খুব বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা হয় (বিশেষ করে উচ্চ মাত্রার সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে), তখন এই প্রক্রিয়াটি অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয় হয়ে যায়।

প্লেটলেট এগ্রিগেশন (Platelet aggregation) বাধা: অতিরিক্ত ওমেগা-৩ প্লেটলেটগুলোকে একত্রিত হতে বাধা দেয়। এর ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যায় এবং ছোটখাটো আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই কারণে, যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন: ওয়ারফারিন) গ্রহণ করেন, তাদের ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) এলডিএল হ্রাস এবং এইচডিএল বৃদ্ধি: এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি উপকারী প্রভাব, ক্ষতিকর দিক নয়। অতিরিক্ত গ্রহণ করলেও এই প্রভাবটি অব্যাহত থাকে।
c) হাড় ক্ষয়: হাড় ক্ষয়ের সাথে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন কে গুরুত্বপূর্ণ।
d) ভিটামিন এ টক্সিসিটি: ভিটামিন এ টক্সিসিটি ভিটামিন এ-এর অতিরিক্ত গ্রহণের কারণে হয়, ওমেগা-৩ এর কারণে নয়।

Ref: Krause’s Food & Nutrition Care, 15th Ed.

২৮.
শরীরে অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড এবং ইকোসাপেন্টানোয়িক অ্যাসিড (EPA)-এর মধ্যে প্রতিযোগিতা মূলত কোন এনজাইমকে ঘিরে ঘটে? Competition between arachidonic acid and EPA occurs mainly at which enzyme?
  1. লাইপোপ্রোটিন লাইপেজ (Lipoprotein lipase)
  2. সাইক্লোঅক্সিজিনেস (Cyclooxygenase - COX)
  3. এইচএমজি-কোএ রিডাকটেজ (HMG-CoA reductase)
  4. অ্যাসিটাইল-কোএ কার্বক্সিলেজ (Acetyl-CoA carboxylase)
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোঅক্সিজিনেস (Cyclooxygenase - COX)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লোঅক্সিজিনেস (Cyclooxygenase - COX)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) সাইক্লোঅক্সিজিনেস (Cyclooxygenase - COX)।

কেন এটি সঠিক: অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড (AA) হলো একটি ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ইকোসাপেন্টানোয়িক অ্যাসিড (EPA) হলো একটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই দুটি ফ্যাটি অ্যাসিডই আমাদের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এরা উভয়ই প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন (prostaglandin), লিউকোট্রাইন (leukotriene) এবং থ্রম্বোক্সেন (thromboxane)-এর মতো ইকোস্যানয়েড (eicosanoid) নামক শক্তিশালী প্রদাহজনক বা প্রদাহবিরোধী অণু তৈরিতে পূর্বসূরি (precursor) হিসেবে কাজ করে।


সাইক্লোঅক্সিজিনেস (COX) এনজাইম: এই এনজাইমটিই এই দুটি ফ্যাটি অ্যাসিডকে তাদের নিজ নিজ ইকোস্যানয়েডে রূপান্তরিত করে। অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিড থেকে তৈরি ইকোস্যানয়েডগুলো (যেমন: প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন E2​) সাধারণত প্রদাহ, রক্ত জমাট বাঁধা এবং ব্যথা বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, EPA থেকে তৈরি ইকোস্যানয়েডগুলো (যেমন: প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন I3​) সাধারণত কম প্রদাহজনক হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধাকে বাধা দেয়।
যেহেতু উভয় ফ্যাটি অ্যাসিডই একই এনজাইমের জন্য প্রতিযোগিতা করে, তাই খাদ্যে ওমেগা-৩ (EPA) এর পরিমাণ বাড়ালে ওমেগা-৬ (AA) থেকে তৈরি প্রদাহজনক অণুগুলোর উৎপাদন কমে যায়, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য উপকারী।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) লাইপোপ্রোটিন লাইপেজ (Lipoprotein lipase): এই এনজাইমটি ট্রাইগ্লিসারাইড (triglyceride) বিপাকে ভূমিকা রাখে, কিন্তু ইকোস্যানয়েড তৈরিতে সরাসরি জড়িত নয়।
c) এইচএমজি-কোএ রিডাকটেজ (HMG-CoA reductase): এই এনজাইমটি কোলেস্টেরল সংশ্লেষণের রেট-লিমিটিং এনজাইম।
d) অ্যাসিটাইল-কোএ কার্বক্সিলেজ (Acetyl-CoA carboxylase): এই এনজাইমটি ফ্যাটি অ্যাসিড সংশ্লেষণের প্রথম এবং রেট-লিমিটিং এনজাইম।

Ref: Harper’s Biochemistry

২৯.
অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের (Essential fatty acid - EFA) অভাবে মেড অ্যাসিডের (Mead acid) মাত্রা বৃদ্ধি পায়। মেড অ্যাসিড কোন ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড? (In EFA deficiency, Mead acid increases. Mead acid is which fatty acid?)
  1. Omega-3 fatty acid (20:5n-3) ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (20:5n-3)
  2. Omega-6 fatty acid (20:4n-6) ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড (20:4n-6)
  3. ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড (20:3n-9) Omega-9 fatty acid (20:3n-9)
  4. স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (20:0) Saturated fatty acid (20:0)
সঠিক উত্তর:
ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড (20:3n-9) Omega-9 fatty acid (20:3n-9)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড (20:3n-9) Omega-9 fatty acid (20:3n-9)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড (20:3n-9)।

কেন এটি সঠিক: আমাদের শরীর সাধারণত ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে পারে না, তাই এদেরকে খাদ্য থেকে গ্রহণ করতে হয় এবং এদেরকে অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড বলা হয়। যখন খাদ্যে এই অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডগুলোর অভাব দেখা দেয়, তখন শরীর এই ঘাটতি পূরণের জন্য বিকল্প পথ অনুসরণ করে।

মেড অ্যাসিড (Mead acid): এই বিকল্প পথের একটি পণ্য হলো মেড অ্যাসিড। এটি ওলেয়িক অ্যাসিড (oleic acid) নামক একটি ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড থেকে সংশ্লেষিত হয়।
শারীরিক ইঙ্গিত: রক্তে মেড অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া হলো অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব-রাসায়নিক নির্দেশক।


সুতরাং, মেড অ্যাসিড ওমেগা-৯ সিরিজের অন্তর্গত একটি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ইএফএ (EFA) এর অভাবের কারণে অতিরিক্ত মাত্রায় সংশ্লেষিত হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
a) ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (20:5n-3): এটি একটি অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ইএফএ অভাবের কারণে কমে যায়, বাড়ে না।
b) ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড (20:4n-6): এটিও একটি অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ইএফএ অভাবের কারণে কমে যায়।
d) স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (20:0): এটি একটি স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। এর সাথে ইএফএ-এর অভাবের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

Ref: Nelson & Cox, Lehninger Principles of Biochemistry

৩০.
ওমেগা-৩ পিইউএফএ (PUFA) সাপ্লিমেন্টেশন ক্যান্সার প্রতিরোধে কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহায়তা করতে পারে?
(How may Omega-3 PUFA help in cancer prevention?)
  1. DNA replication বৃদ্ধি করে (Increase DNA replication)
  2. Anti-inflammatory eicosanoid উৎপাদন করে (Produce anti-inflammatory eicosanoids)
  3. ROS (Reactive oxygen species) বৃদ্ধি করে (Increase ROS generation)
  4. Protein synthesis কমায় (Decrease protein synthesis)
সঠিক উত্তর:
Anti-inflammatory eicosanoid উৎপাদন করে (Produce anti-inflammatory eicosanoids)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Anti-inflammatory eicosanoid উৎপাদন করে (Produce anti-inflammatory eicosanoids)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ইকোস্যানয়েড উৎপাদন করে।

কেন এটি সঠিক: দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (chronic inflammation) ক্যান্সারের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোষের ডিএনএ-এর ক্ষতি এবং টিউমারের বৃদ্ধির জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে প্রদাহ একটি প্রধান কারণ।

প্রদাহবিরোধী প্রভাব: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে ইপিএ (EPA) এবং ডিএইচএ (DHA), তাদের শক্তিশালী প্রদাহবিরোধী (anti-inflammatory) প্রভাবের জন্য পরিচিত।
ইকোস্যানয়েডের পরিবর্তন: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সাইক্লোঅক্সিজিনেস (COX) এবং লাইপোঅক্সিজিনেস (LOX) এনজাইমগুলোর জন্য ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের সাথে প্রতিযোগিতা করে। ওমেগা-৩ থেকে উৎপাদিত ইকোস্যানয়েডগুলো (যেমন: প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন I3​) সাধারণত কম প্রদাহজনক হয়। এর বিপরীতে, ওমেগা-৬ থেকে উৎপাদিত ইকোস্যানয়েডগুলো (যেমন: প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন E2​) বেশি প্রদাহজনক হয়।
সুতরাং, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করলে প্রদাহজনক ইকোস্যানয়েড উৎপাদন কমে যায় এবং টিউমার বৃদ্ধির জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয়, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ডিএনএ রেপ্লিকেশন বৃদ্ধি করে: এটি ভুল। ডিএনএ রেপ্লিকেশনে বৃদ্ধি ক্যান্সারের একটি বৈশিষ্ট্য, যা টিউমার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে।
c) আরওএস (ROS) বৃদ্ধি করে: এটি ভুল। আরওএস (Reactive oxygen species) কোষের ডিএনএ-এর ক্ষতি করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ওমেগা-৩ একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা আরওএস-এর ক্ষতিকর প্রভাব কমায়।
d) প্রোটিন সিন্থেসিস কমায়: এটি ভুল। প্রোটিন সিন্থেসিস কমানো ক্যান্সারের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট বা কার্যকর পদ্ধতি নয়।

Ref: Mahan & Escott-Stump, 15th Ed.

৩১.
রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ (Resistant starch) কোন শ্রেণীর খাদ্য উপাদান হিসেবে কাজ করে?
(Resistant starch functions as which dietary component?)
  1. দ্রুত হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট (Rapidly digestible carbohydrate)
  2. প্রিবায়োটিক ডায়েটারি ফাইবার (Prebiotic dietary fiber)
  3. প্রোটিন ভাঙনকারী এনজাইম (Protein-degrading enzyme)
  4. ফ্যাট শোষণকারী উপাদান (Fat-binding substance)
সঠিক উত্তর:
প্রিবায়োটিক ডায়েটারি ফাইবার (Prebiotic dietary fiber)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রিবায়োটিক ডায়েটারি ফাইবার (Prebiotic dietary fiber)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) প্রিবায়োটিক ডায়েটারি ফাইবার।

কেন এটি সঠিক: সাধারণত, আমরা যে শ্বেতসার বা স্টার্চ খাই, তা ক্ষুদ্রান্ত্রে (small intestine) হজম হয়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয় এবং শরীরে শোষিত হয়। কিন্তু কিছু শ্বেতসার বা স্টার্চ এই হজম প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে এবং অপরিবর্তিত অবস্থায় বৃহদন্ত্র বা কোলনে (colon) পৌঁছায়। এই ধরনের স্টার্চকে রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ বলা হয়।

প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ: রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ কোলনে পৌঁছালে, এটি সেখানে বসবাসকারী উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া (beneficial gut bacteria), যেমন বিফিডোব্যাকটেরিয়া (bifidobacteria) এবং ল্যাকটোব্যাসিলাস (Lactobacillus)-এর খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এই প্রক্রিয়াকে গাঁজন (fermentation) বলা হয়।
উপকারিতা: এই গাঁজন প্রক্রিয়ার ফলে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (short-chain fatty acids - SCFAs), যেমন বিউটাইরেট (butyrate) তৈরি হয়, যা কোলনের কোষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ প্রিবায়োটিকের মতো কাজ করে, যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) দ্রুত হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট: এটি ভুল। রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ নামটিই নির্দেশ করে যে এটি সহজে হজম হয় না, বরং হজম প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে।
c) প্রোটিন ভাঙনকারী এনজাইম: এটি ভুল। রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ একটি কার্বোহাইড্রেট, কোনো এনজাইম নয়।
d) ফ্যাট শোষণকারী উপাদান: এটি ভুল। রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ ফ্যাটের শোষণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

(Nutrition Reviews, 2019)

৩২.
ল্যাকটোজ (Lactose) এর রাসায়নিক প্রকৃতি কী? (The chemical nature of lactose is—)
  1. Monosaccharide মনোস্যাকারাইড
  2. Disaccharide ডাইস্যাকারাইড
  3. Polysaccharide পলিস্যাকারাইড
  4. Oligosaccharide অলিগোস্যাকারাইড
সঠিক উত্তর:
Disaccharide ডাইস্যাকারাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Disaccharide ডাইস্যাকারাইড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ডাইস্যাকারাইড (Disaccharide)।

কেন এটি সঠিক: ডাইস্যাকারাইড হলো এমন এক ধরনের শর্করা যা দুটি মনোস্যাকারাইড (monosaccharide) বা সরল শর্করা ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত। ল্যাকটোজকে "দুধের শর্করা" বলা হয়, কারণ এটি দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যে পাওয়া যায়।

গঠন: ল্যাকটোজ দুটি ভিন্ন মনোস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত:

গ্লুকোজ (Glucose)
গ্যালাকটোজ (Galactose)
এই দুটি ইউনিট একটি গ্লাইকোসিডিক বন্ধন (glycosidic bond) দ্বারা সংযুক্ত থাকে। যখন শরীর ল্যাকটোজ হজম করে, তখন ল্যাকটেজ (lactase) নামক এনজাইম এই বন্ধনটি ভেঙে গ্লুকোজ এবং গ্যালাকটোজকে আলাদা করে, যা শরীর শোষণ করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) মনোস্যাকারাইড: এটি ভুল। মনোস্যাকারাইড হলো শর্করার সবচেয়ে সরল রূপ (যেমন: গ্লুকোজ, গ্যালাকটোজ)। ল্যাকটোজ দুটি মনোস্যাকারাইড নিয়ে গঠিত।
c) পলিস্যাকারাইড: এটি ভুল। পলিস্যাকারাইড হলো অনেকগুলো (সাধারণত ১০০টির বেশি) মনোস্যাকারাইড ইউনিটের লম্বা চেইন (যেমন: স্টার্চ, গ্লাইকোজেন)।
d) অলিগোস্যাকারাইড: এটি ভুল। অলিগোস্যাকারাইড সাধারণত ৩ থেকে ১০টি মনোস্যাকারাইড ইউনিট নিয়ে গঠিত। ল্যাকটোজে মাত্র দুটি ইউনিট থাকে।

৩৩.
প্রাণীর শরীরে প্রধানত কোন কার্বোহাইড্রেট সঞ্চিত থাকে? (Which carbohydrate is the primary storage form in animals?)
  1. গ্লাইকোজেন (Glycogen)
  2. স্টার্চ (Starch)
  3. ইনুলিন (Inulin)
  4. সেলুলোজ (Cellulose)
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন (Glycogen)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন (Glycogen)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) গ্লাইকোজেন (Glycogen)।

কেন এটি সঠিক: গ্লাইকোজেন হলো একটি পলিস্যাকারাইড (polysaccharide), যা অসংখ্য গ্লুকোজ অণু দিয়ে গঠিত। প্রাণীর শরীরে এটি প্রধানত দুটি স্থানে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়:

যকৃত (Liver): যকৃতের গ্লাইকোজেন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। যখন রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, তখন যকৃত গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ সরবরাহ করে।
পেশী (Muscle): পেশীর গ্লাইকোজেন শুধুমাত্র পেশী কোষের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকে। এটি দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে যখন পেশী কাজ করে (যেমন: ব্যায়ামের সময়)।
সুতরাং, গ্লাইকোজেন হলো প্রাণীর শরীরে গ্লুকোজের সঞ্চিত রূপ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) স্টার্চ (Starch): স্টার্চ হলো উদ্ভিদের প্রধান শক্তি সঞ্চয়ের রূপ। এটি আলু, চাল এবং অন্যান্য শস্যে পাওয়া যায়।
c) ইনুলিন (Inulin): ইনুলিন হলো এক ধরনের ফাইবার, যা কিছু গাছের মূল এবং রাইজোমে পাওয়া যায় (যেমন: চিকোরি রুট)। এটি মানুষের শরীরে হজম হয় না।
d) সেলুলোজ (Cellulose): সেলুলোজ হলো একটি কাঠামোগত পলিস্যাকারাইড, যা উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান। এটি ফাইবার হিসেবে পরিচিত এবং মানুষের শরীরে হজম হয় না।

Ref - (Guyton & Hall Textbook of Medical Physiology)

৩৪.
অদ্রবণীয় ফাইবারের (Insoluble fiber) প্রধান ভূমিকা কী? (The major role of insoluble fiber is—)
  1. গ্যাস্ট্রিক খালি হওয়া ধীর করা (Slows gastric emptying)
  2. কোলোনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করা (Increases colonic motility)
  3. কোলেস্টেরল কমানো (Lowers cholesterol)
  4. গ্লুকোজ শোষণ ধীর করা (Slows glucose uptake)
সঠিক উত্তর:
কোলোনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করা (Increases colonic motility)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলোনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করা (Increases colonic motility)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) কোলোনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করা (Increases colonic motility)।

কেন এটি সঠিক: ডায়েটারি ফাইবারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: দ্রবণীয় (soluble) এবং অদ্রবণীয় (insoluble)। এদের প্রধান ভূমিকা আলাদা।

অদ্রবণীয় ফাইবার: এই ধরনের ফাইবার জল শোষণ করে না বা জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে না। এটি হজম হয় না এবং পরিপাক নালীর মধ্য দিয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় চলাচল করে। অদ্রবণীয় ফাইবারের প্রধান কাজ হলো:

মলকে ভলিউম দেওয়া (adding bulk to stool): এটি মলের আয়তন বাড়িয়ে দেয়।
কোলোনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি: এটি মলকে কোলন বা বৃহদন্ত্রের মধ্য দিয়ে দ্রুত চলাচল করতে সাহায্য করে।
এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য (constipation) প্রতিরোধ হয় এবং নিয়মিত মলত্যাগ নিশ্চিত হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) গ্যাস্ট্রিক খালি হওয়া ধীর করা: এটি দ্রবণীয় ফাইবারের প্রধান কাজ। দ্রবণীয় ফাইবার জল শোষণ করে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে।
c) কোলেস্টেরল কমানো: এটিও দ্রবণীয় ফাইবারের একটি প্রধান ভূমিকা। দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরলের সাথে আবদ্ধ হয়ে এটি শরীর থেকে বের করে দেয়।
d) গ্লুকোজ শোষণ ধীর করা: এটিও দ্রবণীয় ফাইবারের কাজ। এটি কার্বোহাইড্রেটের হজম এবং গ্লুকোজের শোষণকে ধীর করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

Ref- (Modern Nutrition in Health & Disease)

৩৫.
মস্তিষ্কের প্রধান শক্তির উৎস কোন monosaccharide? (Which monosaccharide is the main energy source for the brain?)
  1. ফ্রুক্টোজ (Fructose)
  2. গ্যালাক্টোজ (Galactose)
  3. গ্লুকোজ (Glucose)
  4. ম্যানোজ (Mannose)
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ (Glucose)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ (Glucose)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) গ্লুকোজ (Glucose)।

কেন এটি সঠিক: আমাদের মস্তিষ্ক শরীরের সবচেয়ে বেশি শক্তি ব্যবহারকারী অঙ্গ। এটি তার কার্যকারিতার জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তির সরবরাহ চায়।

গ্লুকোজের গুরুত্ব: গ্লুকোজ হলো মস্তিষ্কের প্রধান এবং প্রায় একমাত্র শক্তির উৎস। মস্তিষ্কের কোষগুলো (নিউরন এবং গ্লিয়াল কোষ) গ্লুকোজের উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া), মস্তিষ্কের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে বিভ্রান্তি, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
মস্তিষ্ক ফ্যাটি অ্যাসিড বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানকে সরাসরি শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না, কারণ ফ্যাট মস্তিষ্কের রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (blood-brain barrier) অতিক্রম করতে পারে না। শুধুমাত্র গুরুতর অনাহারের সময়, যখন শরীর কিটোন বডি (ketone bodies) তৈরি করে, তখন মস্তিষ্ক বিকল্প শক্তি হিসেবে কিটোন বডি ব্যবহার করতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ফ্রুক্টোজ (Fructose): ফ্রুক্টোজ প্রধানত যকৃতে (liver) বিপাক হয় এবং এটি সরাসরি মস্তিষ্কের শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
b) গ্যালাকটোজ (Galactose): গ্যালাকটোজও যকৃতে গিয়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়, তারপর মস্তিষ্কে শক্তি সরবরাহ করে।
d) ম্যানোজ (Mannose): ম্যানোজ একটি বিরল শর্করা এবং এটি মস্তিষ্কের শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে না।

Ref-(Guyton & Hall)

৩৬.
মানুষের অন্ত্রে হজম হয় না কিন্তু কোলনের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ফার্মেন্টেশন হয় এমন কার্বোহাইড্রেট কোনটি?
(Which carbohydrate is indigestible in the human gut but fermented by colonic bacteria?)
  1. সেলুলোজ (Cellulose)
  2. অ্যামাইলোপেকটিন (Amylopectin)
  3. সুক্রোজ (Sucrose)
  4. মল্টোজ (Maltose)
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ (Cellulose)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ (Cellulose)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) সেলুলোজ (Cellulose).

কেন এটি সঠিক: কার্বোহাইড্রেটকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: হজমযোগ্য এবং হজম-অযোগ্য।

সেলুলোজ: এটি একটি জটিল পলিস্যাকারাইড যা উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের একটি প্রধান উপাদান। মানুষের পরিপাকতন্ত্রে সেলুলোজকে ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম (সেলুলেজ) নেই। তাই এটি ক্ষুদ্রান্ত্রে (small intestine) হজম হয় না এবং অপরিবর্তিত অবস্থায় কোলনে (colon) পৌঁছায়।
ফার্মেন্টেশন: কোলনে পৌঁছানোর পর, সেখানকার উপকারী ব্যাকটেরিয়া সেলুলোজকে ভেঙে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (short-chain fatty acids - SCFAs) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে ফার্মেন্টেশন বলা হয়। এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো কোলনের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, সেলুলোজ হলো সেই কার্বোহাইড্রেট যা মানুষের অন্ত্রে হজম না হয়ে কোলনে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ফার্মেন্টেশন হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) অ্যামাইলোপেকটিন (Amylopectin): এটি স্টার্চের একটি প্রধান উপাদান এবং এটি মানুষের শরীরে অ্যামাইলেজ (amylase) এনজাইম দ্বারা সহজেই হজম হয়।
c) সুক্রোজ (Sucrose): সুক্রোজ হলো টেবিল সুগার এবং এটি সুক্রেজ (sucrase) এনজাইম দ্বারা গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজে ভেঙে যায়।
d) মল্টোজ (Maltose): মল্টোজ মল্টেজ (maltase) এনজাইম দ্বারা দুটি গ্লুকোজ ইউনিটে ভেঙে যায়।

Ref- (FAO/WHO Report on Carbohydrates)

৩৭.
কোন কার্বোহাইড্রেটে প্রক্রিয়াজাতকরণের উপর নির্ভর করে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় ফাইবার উভয় অংশ থাকতে পারে?
(Which type of carbohydrate has both soluble and insoluble fiber fractions depending on processing?)
  1. হেমি সেলুলোজ (Hemicellulose)
  2. লিগনিন (Lignin)
  3. অ্যামাইলোজ (Amylose)
  4. ফ্রুক্টুলিগস্যাকারাইড (Fructooligosaccharide)
সঠিক উত্তর:
হেমি সেলুলোজ (Hemicellulose)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমি সেলুলোজ (Hemicellulose)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) হেমি সেলুলোজ (Hemicellulose)।

কেন এটি সঠিক: হেমি সেলুলোজ হলো একটি জটিল পলিস্যাকারাইড, যা বিভিন্ন ধরনের মনোস্যাকারাইড (যেমন: জাইলোজ, আরবাইনোজ, গ্যালাকটোজ) দিয়ে গঠিত। এটি উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের একটি প্রধান উপাদান।

উভয় ধরনের ফাইবার: হেমি সেলুলোজের গঠন জটিল এবং ভিন্নধর্মী। এর কিছু অংশ পানিতে দ্রবণীয়, আবার কিছু অংশ অদ্রবণীয়। কোন হেমি সেলুলোজ কতটুকু দ্রবণীয় হবে, তা তার উৎস (যেমন: শস্য, সবজি), গঠন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতির উপর নির্ভর করে।
এই কারণে, হেমি সেলুলোজ হলো একমাত্র কার্বোহাইড্রেট যা একইসাথে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় ফাইবারের মিশ্রণ হতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) লিগনিন (Lignin): লিগনিন একটি অ-কার্বোহাইড্রেট ফাইবার। এটি সবসময় অদ্রবণীয় থাকে এবং এটি প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে দ্রবণীয় হয় না।
c) অ্যামাইলোজ (Amylose): অ্যামাইলোজ হলো স্টার্চের একটি অংশ এবং এটি মানুষের শরীরে হজমযোগ্য। এটি কোনো ফাইবার নয়।
d) ফ্রুক্টুলিগস্যাকারাইড (Fructooligosaccharide): এটি এক ধরনের অলিগোস্যাকারাইড। এটি সবসময় দ্রবণীয় থাকে এবং প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

Ref- (Modern Nutrition in Health & Disease, 11th Ed.)

৩৮.
মানুষের শরীরে আংশিকভাবে হজম হয় এবং গ্লুকোজ ও রেসিস্ট্যান্ট অংশ উভয়ই দেয় এমন পলিমার কোনটি?
(Which carbohydrate polymer is partially digestible in humans, producing both glucose and resistant fractions?)
  1. সেলুলোজ (Cellulose)
  2. অ্যামাইলোপেকটিন (Amylopectin)
  3. অ্যামাইলোজ (Amylose)
  4. ইনুলিন (Inulin)
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইলোজ (Amylose)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইলোজ (Amylose)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) অ্যামাইলোজ (Amylose)।

কেন এটি সঠিক: স্টার্চ প্রধানত দুটি পলিমার দিয়ে গঠিত: অ্যামাইলোজ এবং অ্যামাইলোপেকটিন। এদের হজম হওয়ার প্রক্রিয়া ভিন্ন।

অ্যামাইলোজ: এটি একটি সরল, রৈখিক পলিস্যাকারাইড, যা শুধুমাত্র α-1,4 গ্লাইকোসিডিক বন্ধন দিয়ে গঠিত। মানুষের হজম প্রক্রিয়ার সময়, অ্যামাইলেজ এনজাইম এই বন্ধনগুলো ভাঙতে কাজ করে। তবে, স্টার্চ যখন রান্না বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তখন এর কিছু অংশ ক্রিস্টাল বা দানা আকারের গঠন তৈরি করে। এই দানাগুলো এনজাইমের জন্য সহজে অ্যাক্সেসযোগ্য হয় না, তাই এই অংশগুলো হজম না হয়ে কোলনে চলে যায়। এই অংশটিকে রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ বলা হয়।
ডুয়াল প্রভাব: তাই, অ্যামাইলোজ আংশিকভাবে হজম হয় এবং গ্লুকোজ উৎপন্ন করে, আবার এর কিছু অংশ রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ হিসেবে কাজ করে এবং ফাইবার হিসেবে অন্ত্রে উপকারী ভূমিকা রাখে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) সেলুলোজ (Cellulose): এটি মানুষের পরিপাকতন্ত্রে সম্পূর্ণরূপে হজম হয় না। এটি একটি ফাইবার এবং এটি কোনো গ্লুকোজ সরবরাহ করে না।
b) অ্যামাইলোপেকটিন (Amylopectin): এটি একটি শাখাযুক্ত পলিস্যাকারাইড এবং এটি অ্যামাইলোজের চেয়েও সহজে হজমযোগ্য। এর রেসিস্ট্যান্ট অংশ সাধারণত খুব কম হয়।
d) ইনুলিন (Inulin): ইনুলিন হলো একটি দ্রবণীয় ফাইবার যা সম্পূর্ণরূপে হজম হয় না এবং কোনো গ্লুকোজ উৎপন্ন করে না। এটি একটি প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

Ref- (FAO/WHO Report on Carbohydrates)

৩৯.
কোন খাদ্যতালিকাগত ফাইবার গ্যাস্ট্রিক খালি হওয়া (gastric emptying) ধীর করে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে খাবার-পরবর্তী রক্তে গ্লুকোজ (postprandial blood glucose) কমায়?
(Which dietary fiber lowers postprandial blood glucose the most by delaying gastric emptying?)
  1. লিগনিন (Lignin)
  2. β-গ্লুকান (β-glucan)
  3. সেলুলোজ (Cellulose)
  4. রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ (Resistant starch)
সঠিক উত্তর:
β-গ্লুকান (β-glucan)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
β-গ্লুকান (β-glucan)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) β-গ্লুকান (β-glucan)।

কেন এটি সঠিক: β-গ্লুকান হলো এক ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার যা প্রধানত বার্লি (barley) এবং ওটসে (oats) পাওয়া যায়। এটি তার উচ্চ সান্দ্রতা বা চিটচিটে (viscous) প্রকৃতির জন্য পরিচিত।

কাজ করার প্রক্রিয়া: যখন β-গ্লুকান জল শোষণ করে, তখন এটি পরিপাকতন্ত্রে একটি ঘন, জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে। এই জেলটি পেটে খাবারের চলাচলকে ধীর করে দেয়, যার ফলে খাবার পেট থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে (small intestine) ধীরে ধীরে পৌঁছায়।
ফলাফল: এই ধীরগতির হজম প্রক্রিয়ার কারণে কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে ভেঙে যায় এবং রক্তে গ্লুকোজের শোষণও ধীরে হয়। এর ফলে খাবার-পরবর্তী রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।
সুতরাং, β-গ্লুকান তার জেলের মতো গঠন এবং গ্যাস্ট্রিক খালি হওয়াকে ধীর করার ক্ষমতার জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) লিগনিন (Lignin): লিগনিন একটি অদ্রবণীয় ফাইবার। এটি পরিপাকতন্ত্রে হজম বা শোষিত হয় না এবং এর কোনো জেলের মতো বৈশিষ্ট্য নেই। এটি কেবল মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।
c) সেলুলোজ (Cellulose): সেলুলোজও একটি অদ্রবণীয় ফাইবার। এটি মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, কিন্তু এটি গ্যাস্ট্রিক খালি হওয়াকে ধীর করে না বা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না।
d) রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ (Resistant starch): রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, কিন্তু এটি প্রধানত অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি দিয়ে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে কাজ করে। এটি β-গ্লুকানের মতো গ্যাস্ট্রিক খালি হওয়াকে ধীর করে না।

Ref- (Krause’s Food & the Nutrition Care Process)

৪০.
সেলুলোজ (Cellulose) এবং অ্যামাইলোজের (Amylose) মধ্যে কাঠামোগত পার্থক্য কী?
(Which structural feature differentiates cellulose from amylose?)
  1. সেলুলোজ = β-1,4 বন্ধন; অ্যামাইলোজ = α-1,4 বন্ধন [Cellulose = β-1,4 linkage; Amylose = α-1,4 linkage]
  2. Cellulose = α-1,4 linkage; Amylose = β-1,4 linkage [সেলুলোজ = α-1,4 বন্ধন; অ্যামাইলোজ = β-1,4 বন্ধন]
  3. উভয়টিতে β-1,4 বন্ধন রয়েছে কিন্তু সেলুলোজের শাখাযুক্ত[Both have β-1,4 linkage but cellulose has branching ]
  4. উভয়টিতে α-1,4 বন্ধন রয়েছে কিন্তু অ্যামাইলোজ শাখাযুক্ত[Both have α-1,4 linkage but amylose has branching]
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ = β-1,4 বন্ধন; অ্যামাইলোজ = α-1,4 বন্ধন [Cellulose = β-1,4 linkage; Amylose = α-1,4 linkage]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ = β-1,4 বন্ধন; অ্যামাইলোজ = α-1,4 বন্ধন [Cellulose = β-1,4 linkage; Amylose = α-1,4 linkage]
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) সেলুলোজ = β-1,4 বন্ধন; অ্যামাইলোজ = α-1,4 বন্ধন।

কেন এটি সঠিক: সেলুলোজ এবং অ্যামাইলোজ উভয়ই পলিস্যাকারাইড (polysaccharide), অর্থাৎ অনেকগুলো গ্লুকোজ অণু দিয়ে গঠিত। তবে, এই অণুগুলো কীভাবে যুক্ত আছে, তার উপর নির্ভর করে এদের গঠন এবং বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হয়।

অ্যামাইলোজ (Amylose): অ্যামাইলোজ একটি রৈখিক (linear) পলিমার যা গ্লুকোজ অণুগুলোকে α-1,4 গ্লাইকোসিডিক বন্ধন দিয়ে যুক্ত করে। এই α-বন্ধন মানুষের পরিপাকতন্ত্রে থাকা অ্যামাইলেজ এনজাইম দ্বারা সহজেই ভেঙে যায়। এ কারণেই অ্যামাইলোজ হজমযোগ্য এবং শক্তি সরবরাহ করে।
সেলুলোজ (Cellulose): সেলুলোজও একটি রৈখিক পলিমার, কিন্তু এখানে গ্লুকোজ অণুগুলো β-1,4 গ্লাইকোসিডিক বন্ধন দিয়ে যুক্ত থাকে। মানুষের শরীরে এই β-বন্ধন ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম নেই। এ কারণে সেলুলোজ হজম হয় না এবং এটি ডায়েটারি ফাইবার হিসেবে কাজ করে।
এই বন্ধনগুলোর পার্থক্যের কারণেই একটি হজমযোগ্য এবং অন্যটি হজম-অযোগ্য।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) সেলুলোজ = α-1,4 বন্ধন; অ্যামাইলোজ = β-1,4 বন্ধন: এটি সঠিক উত্তরটির বিপরীত।
c) উভয়টিতে β-1,4 বন্ধন রয়েছে কিন্তু সেলুলোজের শাখাযুক্ত: এটি ভুল। সেলুলোজের রৈখিক গঠন রয়েছে এবং এটি শাখাযুক্ত নয়।
d) উভয়টিতে α-1,4 বন্ধন রয়েছে কিন্তু অ্যামাইলোজ শাখাযুক্ত: এটি ভুল। অ্যামাইলোজ একটি রৈখিক পলিমার। শাখাযুক্ত পলিমার হলো অ্যামাইলোপেকটিন (Amylopectin)।

Ref- (Lehninger Principles of Biochemistry)

৪১.
কোন কার্বোহাইড্রেট প্রধানত পানি ধরে রাখার ক্ষমতার মাধ্যমে মলের পরিমাণ বাড়ায়, ব্যাকটেরিয়ার গাঁজনের (fermentation) মাধ্যমে নয়?
(Which carbohydrate contributes to fecal bulk primarily through water-holding capacity rather than bacterial fermentation?)
  1. সেলুলোজ (Cellulose)
  2. পেকটিন (Pectin)
  3. ইনুলিন (Inulin)
  4. রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ (Resistant starch)
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ (Cellulose)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ (Cellulose)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) সেলুলোজ (Cellulose)।

কেন এটি সঠিক: ফাইবারকে তার দ্রবণীয়তার উপর ভিত্তি করে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: অদ্রবণীয় এবং দ্রবণীয়। এদের মধ্যে সেলুলোজ একটি প্রধান অদ্রবণীয় ফাইবার।

পানি ধারণ ক্ষমতা: সেলুলোজ হজম হয় না এবং পরিপাক নালীর মধ্য দিয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় চলাচল করে। এটি পানি শোষণ করে এবং ধরে রাখে, যার ফলে মল নরম ও ভারী হয়। মলের এই অতিরিক্ত ভর কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে।
ফার্মেন্টেশনের অভাব: যেহেতু মানুষের শরীরে সেলুলোজকে ভাঙার কোনো এনজাইম নেই, তাই এটি কোলনের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা খুব কম পরিমাণে গাঁজিত (fermented) হয়। এটি মূলত মলকে ভলিউম দিয়ে তার কাজ করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) পেকটিন (Pectin): পেকটিন একটি দ্রবণীয় ফাইবার। এটি জল শোষণ করে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে এবং কোলনে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ব্যাপকভাবে গাঁজিত হয়।
c) ইনুলিন (Inulin): ইনুলিনও একটি দ্রবণীয় ফাইবার। এটি একটি শক্তিশালী প্রিবায়োটিক এবং কোলনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ব্যাপকভাবে গাঁজিত হয়।
d) রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ (Resistant starch): রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ ক্ষুদ্রান্ত্রে হজম হয় না এবং কোলনে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা গাঁজিত হয়। এটি মলের পরিমাণ বাড়ায়, কিন্তু তার মূল কার্যকারিতা গাঁজনের উপর নির্ভরশীল।

Ref- (FAO Technical Report on Dietary Fiber)

৪২.
পুষ্টি সবচেয়ে ভালোভাবে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়? (Nutrition is BEST defined as—)
  1. Food intake only (কেবল খাদ্য গ্রহণ)
  2. Process by which food is taken, digested, absorbed & utilized by the body (খাদ্য গ্রহণ, হজম, শোষণ ও শরীরে ব্যবহারের প্রক্রিয়া)
  3. Only calorie intake (কেবল ক্যালরি গ্রহণ)
  4. Protein consumption (শুধুই প্রোটিন গ্রহণ)
সঠিক উত্তর:
Process by which food is taken, digested, absorbed & utilized by the body (খাদ্য গ্রহণ, হজম, শোষণ ও শরীরে ব্যবহারের প্রক্রিয়া)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Process by which food is taken, digested, absorbed & utilized by the body (খাদ্য গ্রহণ, হজম, শোষণ ও শরীরে ব্যবহারের প্রক্রিয়া)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) খাদ্য গ্রহণ, হজম, শোষণ ও শরীরে ব্যবহারের প্রক্রিয়া।

কেন এটি সঠিক: পুষ্টি (Nutrition) একটি ব্যাপক বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র। এটি শুধুমাত্র খাবার খাওয়াকে বোঝায় না, বরং খাবার খাওয়ার পর শরীরের ভেতর যে জটিল প্রক্রিয়াগুলো ঘটে, সেগুলোর পুরোটাকেই বোঝায়। এই প্রক্রিয়াগুলো হলো:

খাদ্য গ্রহণ (Ingestion): খাবার খাওয়া।
হজম (Digestion): খাদ্যকে ছোট ছোট অংশে ভেঙে ফেলা, যাতে শরীর তা শোষণ করতে পারে।
শোষণ (Absorption): হজম হওয়া পুষ্টি উপাদানগুলোকে রক্তে বা লিম্ফে শুষে নেওয়া।
ব্যবহার (Utilization): শোষিত পুষ্টি উপাদানগুলোকে শরীরের শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি, মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য কাজে লাগানো।
পুষ্টি বিজ্ঞানে এসব ধাপের প্রতিটিই অন্তর্ভুক্ত।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) কেবল খাদ্য গ্রহণ: এটি পুষ্টির একটি অসম্পূর্ণ সংজ্ঞা। খাদ্য গ্রহণ কেবল প্রথম ধাপ, কিন্তু পুষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো সেই খাবার শরীরে কীভাবে কাজ করছে তা বোঝা।
C) কেবল ক্যালরি গ্রহণ: এটিও ভুল। পুষ্টি শুধু ক্যালরি নিয়ে নয়, বরং সব পুষ্টি উপাদান (যেমন: প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ) নিয়ে গঠিত।
D) শুধুই প্রোটিন গ্রহণ: এটিও ভুল। প্রোটিন পুষ্টির একটি অংশ মাত্র, কিন্তু পুষ্টির সংজ্ঞা এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

৪৩.
পুষ্টি উপাদানের সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস কোনটি? (Which is the most scientific classification of nutrients?)
  1. শরীর গঠনকারী, শক্তি প্রদানকারী, রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য [Body building, energy giving, protective foods]
  2. ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস [Macronutrients and Micronutrients]
  3. জৈব এবং অজৈব খাদ্য [Organic and inorganic foods]
  4. অত্যাবশ্যকীয় এবং অ-অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য [Essential and non-essential foods]
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস [Macronutrients and Micronutrients]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস [Macronutrients and Micronutrients]
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস।

কেন এটি সঠিক: পুষ্টি উপাদানকে তাদের পরিমাণের প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে দুটি প্রধান বৈজ্ঞানিক ভাগে ভাগ করা হয়। এটিই সবচেয়ে সঠিক এবং আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস।

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস (Macronutrients): "ম্যাক্রো" অর্থ "বৃহৎ"। এই পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরকে বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয় এবং এগুলি শক্তি সরবরাহ করে। এই শ্রেণিতে আছে: কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট এবং জল।
মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস (Micronutrients):): "মাইক্রো" অর্থ "ক্ষুদ্র"। এই পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরকে খুব কম পরিমাণে প্রয়োজন হয়, কিন্তু এরা শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বৃদ্ধি-বিকাশের জন্য অপরিহার্য। এই শ্রেণিতে আছে: ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ।
এই শ্রেণিবিন্যাস পুষ্টি বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি, কারণ এটি পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ এবং তাদের প্রধান কাজকে স্পষ্টভাবে আলাদা করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) শরীর গঠনকারী, শক্তি প্রদানকারী, রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য: এটি একটি কার্যকারিতা-ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস, যা পুষ্টি উপাদানের জৈব-রাসায়নিক প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে নয়। যেমন, প্রোটিন একই সাথে শরীর গঠনকারী এবং শক্তি প্রদানকারী হতে পারে।
C) জৈব এবং অজৈব খাদ্য: এটি একটি আংশিক শ্রেণিবিন্যাস। ভিটামিন জৈব এবং খনিজ অজৈব হলেও, এটি সব পুষ্টি উপাদানকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করতে পারে না।
D) অত্যাবশ্যকীয় এবং অ-অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য: এটিও একটি আংশিক শ্রেণিবিন্যাস। কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড অত্যাবশ্যকীয় হলেও, এটি পুষ্টির একটি সম্পূর্ণ বা বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিভাগ নয়।

Ref: Park’s PSM, FAO.

৪৪.
খাবার প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে PEM থাকার মূল কারণ কী?
[The persistence of PEM in Bangladesh despite food availability is MAINLY due to—]
  1. Poor distribution and inadequate dietary diversity (খাদ্য বিতরণ বৈষম্য ও বৈচিত্র্যের অভাব)
  2. People dislike protein foods (মানুষ প্রোটিন পছন্দ করে না)
  3. Only poverty (শুধুই দারিদ্র্য)
  4. No nutritional awareness programs (কোনও সচেতনতা নেই)
সঠিক উত্তর:
Poor distribution and inadequate dietary diversity (খাদ্য বিতরণ বৈষম্য ও বৈচিত্র্যের অভাব)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Poor distribution and inadequate dietary diversity (খাদ্য বিতরণ বৈষম্য ও বৈচিত্র্যের অভাব)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) খাদ্য বিতরণ বৈষম্য ও বৈচিত্র্যের অভাব।

কেন এটি সঠিক: বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে, কিন্তু এর পরেও প্রোটিন-এনার্জি ম্যালনিউট্রিশন (PEM) একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে:

খাদ্য বিতরণ বৈষম্য (Inequity in food distribution): সামগ্রিকভাবে খাবারের প্রাপ্যতা থাকলেও, এটি ধনী এবং দরিদ্র পরিবারের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হয় না। দরিদ্র পরিবারগুলো প্রায়শই পর্যাপ্ত এবং পুষ্টিকর খাবার (বিশেষ করে প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার) কেনার সামর্থ্য রাখে না।
খাদ্য বৈচিত্র্যের অভাব (Lack of dietary diversity): অনেক পরিবারে কেবল শর্করা-নির্ভর খাবার (যেমন: ভাত) খাওয়া হয়, যা প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব তৈরি করে। পুষ্টি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের কারণে অনেক বাবা-মা জানেন না যে শিশুদের সুষম বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য কোন কোন খাবার জরুরি।
সুতরাং, খাদ্য বিতরণে অসমতা এবং খাদ্য তালিকায় পুষ্টির বৈচিত্র্যের অভাব হলো মূল কারণ, যা বাংলাদেশে খাবারের প্রাপ্যতা থাকা সত্ত্বেও অপুষ্টিকে ধরে রাখে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) মানুষ প্রোটিন পছন্দ করে না: এটি ভুল। খাবারের পছন্দ একটি ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু এটি অপুষ্টির মূল কারণ নয়।
C) শুধুই দারিদ্র্য: দারিদ্র্য একটি বড় কারণ, কিন্তু এটি একমাত্র কারণ নয়। পুষ্টির জ্ঞান এবং বিতরণে অসমতার মতো অন্যান্য বিষয়গুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
D) কোনো সচেতনতা প্রোগ্রাম নেই: এটি ভুল। সরকার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা অপুষ্টি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এগুলো এখনো সব মানুষের কাছে পৌঁছায়

Ref: UNICEF Bangladesh Nutrition Report.

৪৫.
কোন পুষ্টির অভাব শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি দুর্বল করে?
(Which nutrient deficiency MOST impairs immune function in children?)
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Calcium
  4. Sodium
সঠিক উত্তর:
Vitamin A
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin A
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভিটামিন এ (Vitamin A)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন এ হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অপরিহার্য। এটি রোগ প্রতিরোধের জন্য দায়ী বিভিন্ন কোষের (যেমন: লিম্ফোসাইট) বৃদ্ধি ও কার্যকারিতাকে সমর্থন করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করা: ভিটামিন এ-এর অভাবে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে তারা বিভিন্ন সংক্রমণ, বিশেষ করে হাম (measles) এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এই সংক্রমণগুলো শিশুদের অপুষ্টি এবং মৃত্যুর প্রধান কারণ।
হাম (Measles) এবং সংক্রমণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, ভিটামিন এ-এর অভাব শিশুদের হাম এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন সি (Vitamin C): ভিটামিন সিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর অভাবের প্রভাব ভিটামিন এ-এর মতো এত গুরুতর নয়।
C) ক্যালসিয়াম (Calcium): ক্যালসিয়াম প্রধানত হাড় এবং দাঁতের গঠন, এবং পেশীর কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
D) সোডিয়াম (Sodium): সোডিয়াম একটি ইলেক্ট্রোলাইট, যা শরীরের জলীয় ভারসাম্য এবং স্নায়ু কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক নেই।

Ref: WHO, Micronutrient Deficiency Guidelines.

৪৬.
ম্যারাসমাস (Marasmus) এবং কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor)-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
(Which feature BEST differentiates Marasmus from Kwashiorkor?)
  1. Marasmus has severe wasting without edema, Kwashiorkor has edema (ম্যারাসমাসে শীর্ণ দেহ, কোন ফোলা নেই; কোয়াশিওরকরে ফোলা থাকে)
  2. উভয়টিতেই ফোলা থাকে (Both have edema)
  3. উভয়ই কেবল ভিটামিনের অভাবে হয় (Both are only due to vitamin deficiency)
  4. ম্যারাসমাস কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের হয় (Marasmus only affects adults)
সঠিক উত্তর:
Marasmus has severe wasting without edema, Kwashiorkor has edema (ম্যারাসমাসে শীর্ণ দেহ, কোন ফোলা নেই; কোয়াশিওরকরে ফোলা থাকে)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Marasmus has severe wasting without edema, Kwashiorkor has edema (ম্যারাসমাসে শীর্ণ দেহ, কোন ফোলা নেই; কোয়াশিওরকরে ফোলা থাকে)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ম্যারাসমাসে শীর্ণ দেহ, কোনো ফোলা নেই; কোয়াশিওরকরে ফোলা থাকে।

কেন এটি সঠিক: ম্যারাসমাস এবং কোয়াশিওরকর উভয়ই প্রোটিন-এনার্জি ম্যালনিউট্রিশনের (Protein-Energy Malnutrition - PEM) মারাত্মক রূপ। এদের প্রধান পার্থক্য হলো শরীরে লক্ষণ প্রকাশে:

ম্যারাসমাস (Marasmus): এটি মূলত ক্যালরি এবং প্রোটিন উভয়েরই তীব্র ঘাটতির কারণে হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো শরীরে ফ্যাট এবং পেশী মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে শরীর শীর্ণ হয়ে যায়, কিন্তু শরীরে কোনো ফোলা বা এডিমা (edema) থাকে না। এর ফলে শিশুর চেহারা বৃদ্ধ মানুষের মতো দেখায়।
কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor): এটি প্রধানত প্রোটিনের তীব্র ঘাটতির কারণে হয়, যখন ক্যালরির অভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকে। প্রোটিনের অভাবের কারণে রক্তে অ্যালবুমিনের মাত্রা কমে যায়, যা শরীরে পানি ধরে রাখতে পারে না। এর ফলে শরীরে এডিমা বা ফোলা দেখা যায়, বিশেষ করে হাত, পা এবং পেটে। এডিমা থাকার কারণে বাহ্যিকভাবে শীর্ণতা বোঝা যায় না।
সুতরাং, এডিমা বা ফোলা হলো এই দুটি রোগের মধ্যে সবচেয়ে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) উভয়টিতেই ফোলা থাকে: এটি ভুল। ম্যারাসমাসে ফোলা বা এডিমা থাকে না।
C) উভয়ই কেবল ভিটামিনের অভাবে হয়: এটি ভুল। এই দুটি রোগ প্রধানত প্রোটিন এবং/অথবা ক্যালরির অভাবে হয়।
D) ম্যারাসমাস কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের হয়: এটি ভুল। এই দুটি রোগই সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

Ref: Guyton Physiology, Park’s PSM.

৪৭.
বাংলাদেশে হিডেন হাঙ্গার (Hidden Hunger) বলতে কী বোঝানো হয়? Hidden hunger in Bangladesh mainly refers to—
  1. Starvation (ক্ষুধা)
  2. Calorie sufficiency but micronutrient deficiency (ক্যালরি ঠিক আছে, কিন্তু ক্ষুদ্রপুষ্টি ঘাটতি)
  3. শুধুই পিইএম (PEM)
  4. ওবেসিটি (Obesity)
সঠিক উত্তর:
Calorie sufficiency but micronutrient deficiency (ক্যালরি ঠিক আছে, কিন্তু ক্ষুদ্রপুষ্টি ঘাটতি)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Calorie sufficiency but micronutrient deficiency (ক্যালরি ঠিক আছে, কিন্তু ক্ষুদ্রপুষ্টি ঘাটতি)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ক্যালরি ঠিক আছে, কিন্তু ক্ষুদ্রপুষ্টি ঘাটতি।

কেন এটি সঠিক: "হিডেন হাঙ্গার" বা "লুকানো ক্ষুধা" হলো একটি পুষ্টিগত অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ করলেও তার খাবারে প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্রপুষ্টি উপাদান (মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস), যেমন ভিটামিন এবং খনিজের অভাব থাকে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের প্রধান খাদ্য হলো ভাত, যা ক্যালরির একটি ভালো উৎস। এর ফলে তারা হয়তো ক্যালরিজনিত অপুষ্টিতে (যেমন: ম্যারাসমাস) ভুগছে না। কিন্তু তাদের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের অভাব থাকে, যা ভিটামিন এ, আয়রন, আয়োডিন, জিঙ্ক ইত্যাদির মতো ক্ষুদ্রপুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।
ফলাফল: এই ক্ষুদ্রপুষ্টির অভাবে ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে সুস্থ দেখালেও ভেতরে ভেতরে তার শরীর দুর্বল হতে থাকে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এই কারণে একে "লুকানো" ক্ষুধা বলা হয়, কারণ এটি সহজে চোখে পড়ে না।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) স্টারভেশন (Starvation): স্টারভেশন হলো খাদ্যের চরম অভাব, যেখানে ক্যালরি এবং সব পুষ্টি উপাদানেরই মারাত্মক ঘাটতি থাকে। এটি দৃশ্যমান অপুষ্টির একটি রূপ।
C) শুধুই পিইএম (PEM): পিইএম হলো প্রোটিন-এনার্জি ম্যালনিউট্রিশন, যা ক্যালরি এবং প্রোটিনের ঘাটতিজনিত রোগ। এটি হিডেন হাঙ্গারের চেয়ে ভিন্ন একটি অবস্থা।
D) ওবেসিটি (Obesity): স্থূলতা বা ওবেসিটি হলো অতিরিক্ত ওজন। অনেক ক্ষেত্রে ওবেসিটিতেও হিডেন হাঙ্গার থাকতে পারে, কারণ ফাস্ট ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে ক্যালরি বেশি থাকলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান কম থাকে। তবে, হিডেন হাঙ্গার কেবল ওবেসিটিকে বোঝায় না।

৪৮.
শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে সবচেয়ে বেশি কোন ক্ষুদ্রপুষ্টির অভাব ক্ষতি করে?
(Which micronutrient deficiency MOST affects cognitive development of children?)
  1. আয়রন (Iron)
  2. আয়োডিন (Iodine)
  3. জিঙ্ক (Zinc)
  4. ভিটামিন ডি (Vitamin D)
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন (Iodine)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন (Iodine)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) আয়োডিন (Iodine)।

কেন এটি সঠিক: আয়োডিন হলো থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য একটি অপরিহার্য খনিজ। এই হরমোন মস্তিষ্কের বিকাশ, স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।

ক্রেটিনিজম (Cretinism): গর্ভাবস্থায় এবং শৈশবের প্রথম দিকে আয়োডিনের মারাত্মক অভাব হলে এটি মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি করে, যা ক্রেটিনিজম নামক একটি অবস্থায় পরিণত হয়। এই রোগে শিশুরা গুরুতর মানসিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়।
আইকিউ হ্রাস: মৃদু থেকে মাঝারি আয়োডিনের অভাবও শিশুদের আইকিউ (IQ) হ্রাস করে এবং তাদের শেখার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
এই কারণে, আয়োডিনের অভাব প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী লবণ আয়োডিনকরণ (salt iodization) কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) আয়রন (Iron): আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতাও মস্তিষ্কের বিকাশকে ব্যাহত করে, কিন্তু আয়োডিনের অভাবে যে ধরনের গুরুতর এবং অপূরণীয় ক্ষতি হয়, আয়রনের অভাবে তা সাধারণত হয় না।
C) জিঙ্ক (Zinc): জিঙ্কও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর অভাবের প্রভাব আয়োডিনের মতো এত তীব্র নয়।
D) ভিটামিন ডি (Vitamin D): ভিটামিন ডি প্রধানত হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

Ref: ICCIDD, WHO.

৪৯.
পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কের সবচেয়ে সঠিক ব্যাখ্যা কোনটি?
[Which statement about nutrition & health relation is most accurate?]
  1. Good nutrition ensures growth, immunity, and disease prevention [ভালো পুষ্টি = বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা]
  2. পুষ্টি শুধু অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে [Nutrition only prevents deficiency diseases]
  3. স্বাস্থ্য কেবল বংশগতির উপর নির্ভর করে, পুষ্টির উপর নয় [Health depends only on genetics, not nutrition]
  4. পুষ্টি = কেবল শারীরিক বৃদ্ধি [Nutrition = only physical growth]
সঠিক উত্তর:
Good nutrition ensures growth, immunity, and disease prevention [ভালো পুষ্টি = বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Good nutrition ensures growth, immunity, and disease prevention [ভালো পুষ্টি = বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা]
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভালো পুষ্টি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ নিশ্চিত করে।

কেন এটি সঠিক: পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পুষ্টি শুধুমাত্র শরীরের শক্তি সরবরাহ করে না, বরং এটি একটি সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

বৃদ্ধি ও বিকাশ: শৈশবে সঠিক পুষ্টি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: পর্যাপ্ত পুষ্টি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, জিঙ্ক এবং আয়রনের মতো পুষ্টি উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রোগ প্রতিরোধ: পুষ্টি শুধু অপুষ্টিজনিত রোগ (যেমন: ম্যারাসমাস, কোয়াশিওরকর, গলগণ্ড) প্রতিরোধ করে না, বরং এটি জীবনযাত্রাজনিত রোগ (lifestyle diseases), যেমন: ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, এবং কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।
সুতরাং, পুষ্টির ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক এবং এটি শারীরিক, মানসিক এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) পুষ্টি শুধু অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে: এটি একটি অসম্পূর্ণ ধারণা। পুষ্টির ভূমিকা অনেক ব্যাপক, এবং এটি শুধুমাত্র অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে না।
C) স্বাস্থ্য কেবল বংশগতির উপর নির্ভর করে, পুষ্টির উপর নয়: এটি ভুল। স্বাস্থ্য বংশগতি এবং জীবনযাত্রার (lifestyle) উপাদান, যেমন পুষ্টি এবং ব্যায়ামের উপর নির্ভর করে।
D) পুষ্টি = কেবল শারীরিক বৃদ্ধি: এটিও একটি অসম্পূর্ণ ধারণা। পুষ্টি শুধু শারীরিক বৃদ্ধি নয়, বরং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজকেও প্রভাবিত করে।

Ref: WHO Nutrition & Health Report

৫০.
নিচের কোন জোড়াটি ভুল? (Which nutrient pair is incorrect?)
  1. ভিটামিন কে – রক্ত জমাট বাঁধা (Vitamin K – Blood clotting )
  2. ভিটামিন ডি – ক্যালসিয়াম শোষণ (Vitamin D – Calcium absorption)
  3. আয়রন – অক্সিজেন পরিবহন (Iron – Oxygen transport)
  4. ভিটামিন সি – প্রোটিন সংশ্লেষণ (Vitamin C – Protein synthesis )
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি – প্রোটিন সংশ্লেষণ (Vitamin C – Protein synthesis )
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি – প্রোটিন সংশ্লেষণ (Vitamin C – Protein synthesis )
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: D) ভিটামিন সি – প্রোটিন সংশ্লেষণ।

কেন এটি ভুল: ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) আমাদের শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, কিন্তু এর প্রধান কাজ সরাসরি প্রোটিন সংশ্লেষণ (synthesis) নয়।

ভিটামিন সি এর কাজ:

কোলাজেন সংশ্লেষণ (Collagen synthesis): এটি একটি প্রধান কাজ, যেখানে ভিটামিন সি কোলাজেন প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ত্বক, হাড়, রক্তনালী এবং অন্যান্য টিস্যুকে শক্তিশালী করে।
আয়রন শোষণ: এটি অ-হিম (non-heme) আয়রনের শোষণ বাড়ায়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
প্রোটিন সংশ্লেষণ একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এর জন্য অনেক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড, এনজাইম এবং জেনেটিক তথ্যের প্রয়োজন হয়। ভিটামিন সি সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় জড়িত নয়।

কেন অন্য অপশনগুলো সঠিক:
A) ভিটামিন কে – রক্ত জমাট বাঁধা: এটি সঠিক। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন (যেমন: প্রোথ্রোমবিন) সংশ্লেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
B) ভিটামিন ডি – ক্যালসিয়াম শোষণ: এটি সঠিক। ভিটামিন ডি ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে ক্যালসিয়ামের শোষণকে উৎসাহিত করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
C) আয়রন – অক্সিজেন পরিবহন: এটি সঠিক। আয়রন হিমোগ্লোবিনের একটি প্রধান উপাদান। হিমোগ্লোবিন হলো সেই প্রোটিন যা লোহিত রক্তকণিকায় অক্সিজেন পরিবহন করে।

৫১.
বাংলাদেশে সার্বজনীন লবণ আয়োডিনকরণ (USI) মূলত কেন চালু করা হয়েছিল?
(The introduction of universal salt iodization (USI) in Bangladesh was primarily aimed at—)
  1. Preventing goitre & cretinism (গলগণ্ড (goitre) এবং ক্রেটিনিজম (cretinism) প্রতিরোধ করার জন্য)
  2. Reducing anemia (অ্যানিমিয়া (Anemia) কমানো)
  3. Preventing rickets (রিকেটস (Rickets) প্রতিরোধ করা)
  4. Reducing PEM (পিইএম (PEM) কমানো)
সঠিক উত্তর:
Preventing goitre & cretinism (গলগণ্ড (goitre) এবং ক্রেটিনিজম (cretinism) প্রতিরোধ করার জন্য)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Preventing goitre & cretinism (গলগণ্ড (goitre) এবং ক্রেটিনিজম (cretinism) প্রতিরোধ করার জন্য)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) গলগণ্ড (goitre) এবং ক্রেটিনিজম (cretinism) প্রতিরোধ করার জন্য।

কেন এটি সঠিক: আয়োডিন হলো মানব শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য খনিজ, যা থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য জরুরি। এই হরমোন শরীরের স্বাভাবিক বিপাক, বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

গলগণ্ড (Goitre): যখন শরীরে আয়োডিনের অভাব হয়, তখন থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায়, যাকে গলগণ্ড বলা হয়।
ক্রেটিনিজম (Cretinism): গর্ভাবস্থায় এবং শৈশবের প্রথম দিকে আয়োডিনের মারাত্মক অভাব হলে এটি মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি করে, যার ফলে শিশু গুরুতর মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়।
এই মারাত্মক রোগগুলো প্রতিরোধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৩ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে এবং ১৯৯৬ সালে সারা দেশে সার্বজনীন লবণ আয়োডিনকরণ কর্মসূচি চালু করে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল সকল খাদ্য উপযোগী লবণে আয়োডিন যোগ করে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগগুলো নির্মূল করা।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) অ্যানিমিয়া (Anemia) কমানো: অ্যানিমিয়া সাধারণত আয়রনের অভাবের কারণে হয়।
C) রিকেটস (Rickets) প্রতিরোধ করা: রিকেটস হলো ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত একটি রোগ, যা হাড়কে দুর্বল করে।
D) পিইএম (PEM) কমানো: পিইএম বা প্রোটিন-এনার্জি ম্যালনিউট্রিশন হলো ক্যালরি এবং প্রোটিনের অভাবজনিত অপুষ্টি।

Ref: WHO, UNICEF Bangladesh.

৫২.
ক্লিনিকাল নিউট্রিশনাল অ্যাসেসমেন্টে সবচেয়ে সহজ এবং প্রাথমিক সূচক কোনটি?
(What is the simplest and primary indicator in clinical nutritional assessment?)
  1. Serum albumin level (সেরাম অ্যালবুমিন লেভেল)
  2. Clinical signs and symptoms (ক্লিনিকাল লক্ষণ ও উপসর্গ)
  3. Body Mass Index (বডি মাস ইনডেক্স)
  4. Skinfold thickness (স্কিনফোল্ড থিকনেস)
সঠিক উত্তর:
Clinical signs and symptoms (ক্লিনিকাল লক্ষণ ও উপসর্গ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Clinical signs and symptoms (ক্লিনিকাল লক্ষণ ও উপসর্গ)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ক্লিনিকাল লক্ষণ ও উপসর্গ (Clinical signs and symptoms)

কেন এটি সঠিক: পুষ্টিগত অবস্থা নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে সহজ এবং প্রাথমিক পদ্ধতি হলো রোগীর ক্লিনিকাল লক্ষণ ও উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করা।

ক্লিনিকাল অ্যাসেসমেন্ট: একজন স্বাস্থ্যকর্মী শুধুমাত্র শারীরিক পরীক্ষা করে রোগীর পুষ্টিগত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। এটি কোনো যন্ত্র বা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। উদাহরণস্বরূপ:

রোগীর চুল পাতলা বা ভঙ্গুর কি না।
ত্বকে কোনো পরিবর্তন বা অস্বাভাবিকতা আছে কি না।
মুখে বা জিহ্বায় কোনো ঘা আছে কি না।
শরীরে কোনো ফোলা (এডিমা) বা ওজন কমে যাওয়ার লক্ষণ আছে কি না।
চোখের নিচে বিবর্ণতা দেখে অ্যানিমিয়া সন্দেহ করা।
এই লক্ষণগুলো দেখে একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসক দ্রুত রোগীর পুষ্টিগত অভাবের একটি প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) সেরাম অ্যালবুমিন লেভেল: এটি একটি ল্যাবরেটরি টেস্ট। এটি পুষ্টিগত অবস্থা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি প্রাথমিক বা সহজ ক্লিনিকাল অ্যাসেসমেন্টের অংশ নয়।
c) বডি মাস ইনডেক্স (BMI): এটি একটি অ্যানথ্রোপোমেট্রিক পরিমাপ, যা ওজন এবং উচ্চতার উপর ভিত্তি করে করা হয়। এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, পুষ্টিগত অভাবের নির্দিষ্ট লক্ষণগুলো (যেমন: ভিটামিন বা খনিজের অভাব) এর মাধ্যমে বোঝা যায় না।
d) স্কিনফোল্ড থিকনেস: এটিও একটি অ্যানথ্রোপোমেট্রিক পদ্ধতি যা শরীরের ফ্যাট পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ক্লিনিকাল অ্যাসেসমেন্টের চেয়ে আরও বিশেষায়িত এবং পুষ্টিগত অভাবের প্রাথমিক সূচক হিসেবে বিবেচিত নয়।

Reference: WHO, Manual on Nutritional Assessment, 2003

৫৩.
মুখ, চোখ, ত্বক এবং চুলের পরিবর্তন কোন ধরণের অ্যাসেসমেন্টের অন্তর্গত?
(Changes in mouth, eyes, skin, and hair are part of which type of assessment?)
  1. Dietary assessment (ডায়েটারি অ্যাসেসমেন্ট)
  2. Clinical assessment (ক্লিনিকাল অ্যাসেসমেন্ট)
  3. Biochemical assessment (বায়োকেমিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট)
  4. Anthropometric assessment (অ্যানথ্রোপোমেট্রিক অ্যাসেসমেন্ট)
সঠিক উত্তর:
Clinical assessment (ক্লিনিকাল অ্যাসেসমেন্ট)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Clinical assessment (ক্লিনিকাল অ্যাসেসমেন্ট)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ক্লিনিকাল অ্যাসেসমেন্ট (Clinical assessment)।

কেন এটি সঠিক: পুষ্টিগত অবস্থা নির্ণয়ের জন্য চারটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে: ডায়েটারি, ক্লিনিকাল, বায়োকেমিক্যাল এবং অ্যানথ্রোপোমেট্রিক। এদের মধ্যে, ক্লিনিকাল অ্যাসেসমেন্ট হলো সেই পদ্ধতি যেখানে একজন স্বাস্থ্যকর্মী রোগীর শরীরের দৃশ্যমান লক্ষণ ও উপসর্গগুলো পর্যবেক্ষণ করে।

দৃশ্যমান লক্ষণ: পুষ্টির অভাবের কারণে প্রায়শই মুখ, চোখ, ত্বক এবং চুলের গঠনে পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন:

মুখ: ঠোঁটের কোণায় ফাটল (রাইবোফ্ল্যাভিনের অভাব)।
চোখ: রাতকানা বা কনজাংটিভার শুষ্কতা (ভিটামিন এ-এর অভাব)।
ত্বক: ত্বকে লালচে দাগ বা শুষ্কতা (বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের অভাব)।
চুল: চুল পাতলা হওয়া বা সহজে ভেঙে যাওয়া (প্রোটিন বা আয়রনের অভাব)।
এই পরিবর্তনগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে পুষ্টিগত অবস্থা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ডায়েটারি অ্যাসেসমেন্ট: এই পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তি কী পরিমাণ এবং কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, তা বিশ্লেষণ করা হয়। এটি কোনো শারীরিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে না।
c) বায়োকেমিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট: এই পদ্ধতিতে রক্ত, প্রস্রাব বা অন্যান্য শরীরের তরলের নমুনা পরীক্ষা করে পুষ্টি উপাদানের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। এটি একটি ল্যাবরেটরি-ভিত্তিক পদ্ধতি, সরাসরি পর্যবেক্ষণ নয়।
d) অ্যানথ্রোপোমেট্রিক অ্যাসেসমেন্ট: এই পদ্ধতিতে শরীরের বিভিন্ন পরিমাপ, যেমন: উচ্চতা, ওজন, বডি মাস ইনডেক্স (BMI) এবং মধ্য-বাহুর পরিধি (MUAC) নেওয়া হয়। এটি শরীরের আকার এবং গঠনের পরিবর্তন পরিমাপ করে, কিন্তু পুষ্টির অভাবের নির্দিষ্ট লক্ষণগুলো দেখায় না।

 Reference: Gibney et al., Public Health Nutrition, 2009

৫৪.
কোন ক্লিনিকাল ফাইন্ডিং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে আয়রন ঘাটতি অ্যানিমিয়ার নির্দেশ দেয়?
(Which clinical finding most reliably indicates iron deficiency anemia?)
  1. Koilonychia (চামচের মতো নখ)
  2. Night blindness (রাতকানা)
  3. Peripheral edema (শরীরে পানি জমা)
  4. Glossitis (জিভ ফুলে যাওয়া ও ব্যথা)
সঠিক উত্তর:
Koilonychia (চামচের মতো নখ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Koilonychia (চামচের মতো নখ)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) চামচের মতো নখ (Koilonychia)।

কেন এটি সঠিক: ক্লিনিকাল ফাইন্ডিং হলো রোগীর দৃশ্যমান লক্ষণ। এদের মধ্যে কিছু লক্ষণ আছে যা নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতিকে নির্ভরযোগ্যভাবে নির্দেশ করে।

কৈলোনিকিয়া (Koilonychia): এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে নখগুলো পাতলা, নরম এবং অবতল (concave) বা চামচের মতো আকৃতি ধারণ করে। এটি আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতার একটি ক্লাসিক এবং সুনির্দিষ্ট ক্লিনিকাল লক্ষণ।
যদিও রক্তস্বল্পতার অন্যান্য লক্ষণ (যেমন: ফ্যাকাশে ত্বক) অনেক সাধারণ কারণেও হতে পারে, কিন্তু কৈলোনিকিয়া হলো এমন একটি বিরল ও নির্দিষ্ট লক্ষণ যা সরাসরি আয়রনের ঘাটতি নির্দেশ করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) রাতকানা (Night blindness): এটি ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত একটি লক্ষণ, আয়রনের অভাবের নয়।
c) পেরিফেরাল এডিমা (Peripheral edema): এটি শরীরে পানি জমা হওয়াকে বোঝায়, যা প্রোটিনের মারাত্মক ঘাটতি (যেমন: কোয়াশিওরকর) বা কিডনি বা হার্টের সমস্যার কারণে হতে পারে।
d) গ্লসাইটিস (Glossitis): এটি জিভের প্রদাহ বা ফোলাকে বোঝায়। এটি ভিটামিন বি১২, ফলিক অ্যাসিড, নিয়াসিন বা আয়রনের অভাবসহ একাধিক পুষ্টির ঘাটতির কারণে হতে পারে, তাই এটি আয়রন ঘাটতির জন্য নির্দিষ্ট নয়।

Reference: Krause’s Food & Nutrition Therapy, 14th Edition

৫৫.
২৪-ঘণ্টার রিকল মেথডের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা কোনটি?
(What is the major limitation of the 24-hour dietary recall method?)
  1. It requires highly trained interviewers (অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ইন্টারভিউয়ার প্রয়োজন)
  2. It does not represent usual intake (এটি সাধারণ খাদ্যগ্রহণের প্রতিনিধিত্ব করে না)
  3. It is expensive and time-consuming (এটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ)
  4. It is prone to interviewer bias (ইন্টারভিউয়ার পক্ষপাতের শিকার হতে পারে)
সঠিক উত্তর:
It does not represent usual intake (এটি সাধারণ খাদ্যগ্রহণের প্রতিনিধিত্ব করে না)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
It does not represent usual intake (এটি সাধারণ খাদ্যগ্রহণের প্রতিনিধিত্ব করে না)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) এটি সাধারণ খাদ্যগ্রহণের প্রতিনিধিত্ব করে না।

কেন এটি সঠিক: ২৪-ঘণ্টার ডায়েটারি রিকল (24-hour dietary recall) হলো পুষ্টিগত অবস্থা নির্ণয়ের একটি পদ্ধতি, যেখানে একজন ব্যক্তিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সে কী খেয়েছে, তা বলতে বলা হয়।

প্রধান সীমাবদ্ধতা: এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে তথ্য দেয়। একজন ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস দিন, সপ্তাহ বা মাসের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন, ছুটির দিনে বা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে একজন ব্যক্তি তার স্বাভাবিক দিনের চেয়ে ভিন্ন খাবার খেতে পারে। তাই, একটি মাত্র দিনের তথ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির সাধারণ বা দীর্ঘমেয়াদী খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যায় না।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ইন্টারভিউয়ার প্রয়োজন: এটি একটি সীমাবদ্ধতা হলেও, এটি প্রধান সীমাবদ্ধতা নয়। সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, কিন্তু এটি পদ্ধতির মূল দুর্বলতা নয়।
c) এটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ: এটি ভুল। তুলনামূলকভাবে, এই পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল বা সময়সাপেক্ষ নয়। এটি দ্রুত এবং সহজে করা যায়।
d) ইন্টারভিউয়ার পক্ষপাতের শিকার হতে পারে: এটি একটি সম্ভাব্য সমস্যা, তবে এটি প্রধান সীমাবদ্ধতা নয়। ইন্টারভিউয়ারের প্রশ্নের ধরন বা তার আচরণ তথ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু মূল সমস্যা হলো তথ্যের অসম্পূর্ণতা।

Reference: Gibson, Principles of Nutritional Assessment, 2005

৫৬.
ফুড ফ্রিকোয়েন্সি কোয়েশ্চেনেয়ার (FFQ)-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?
(What is the greatest advantage of the Food Frequency Questionnaire (FFQ)?)
  1. Captures habitual intake over long periods (দীর্ঘ সময়ের অভ্যাসগত খাদ্যগ্রহণ নির্ণয় করতে সক্ষম)
  2. Provides precise portion size estimation (সঠিক পরিমাণ অনুমান দেয়)
  3. Requires no literacy or memory (সাক্ষরতা বা স্মৃতির প্রয়োজন নেই)
  4. Provides highly accurate nutrient data (অত্যন্ত নির্ভুল পুষ্টি তথ্য দেয়)
সঠিক উত্তর:
Captures habitual intake over long periods (দীর্ঘ সময়ের অভ্যাসগত খাদ্যগ্রহণ নির্ণয় করতে সক্ষম)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Captures habitual intake over long periods (দীর্ঘ সময়ের অভ্যাসগত খাদ্যগ্রহণ নির্ণয় করতে সক্ষম)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) দীর্ঘ সময়ের অভ্যাসগত খাদ্যগ্রহণ নির্ণয় করতে সক্ষম।

কেন এটি সঠিক: ফুড ফ্রিকোয়েন্সি কোয়েশ্চেনেয়ার (FFQ) হলো একটি পুষ্টিগত অ্যাসেসমেন্ট টুল, যেখানে একজন ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (যেমন: গত মাস বা বছর) বিভিন্ন ধরনের খাবার এবং পানীয় কত ঘন ঘন খেয়েছে, তা বলতে বলা হয়।

দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসের ধারণা: এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একজন ব্যক্তির সাধারণ বা অভ্যাসগত খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা দেয়। এটি ২৪-ঘণ্টার রিকলের মতো একটি মাত্র দিনের তথ্যের উপর নির্ভর করে না, যা খাদ্যাভ্যাসের ভিন্নতা তুলে ধরতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদী খাদ্যাভ্যাসের তথ্য বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি (যেমন: হৃদরোগ, ক্যান্সার) এবং পুষ্টির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) সঠিক পরিমাণ অনুমান দেয়: এটি ভুল। FFQ-এর একটি প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো এটি সাধারণত নির্দিষ্ট খাবারের পরিমাণের (portion size) সঠিক অনুমান দিতে পারে না, বরং প্রায়ই একটি নির্দিষ্ট আকারের উপর নির্ভর করে।
c) সাক্ষরতা বা স্মৃতির প্রয়োজন নেই: এটি ভুল। FFQ পূরণ করার জন্য একজন ব্যক্তির অবশ্যই ভালো স্মৃতিশক্তির প্রয়োজন হয়, কারণ তাকে দীর্ঘ সময়ের খাদ্যাভ্যাস স্মরণ করতে হয়।
d) অত্যন্ত নির্ভুল পুষ্টি তথ্য দেয়: এটি ভুল। FFQ থেকে পাওয়া তথ্য ২৪-ঘণ্টার রিকল বা ফুড ডায়েরির মতো অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে কম নির্ভুল হতে পারে, কারণ এটি গড় পরিমাণের উপর নির্ভর করে এবং এতে স্মৃতিজনিত ত্রুটি (memory bias) থাকতে পারে।

৫৭.
ডায়েট হিস্টরি মেথডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
(What is the major challenge of the diet history method?)
  1. It underestimates energy intake (এটি শক্তি গ্রহণকে কম হিসাব করে)
  2. It requires high respondent cooperation and memory (এটি উচ্চ মাত্রার সহযোগিতা ও স্মৃতি প্রয়োজন করে)
  3. It is unsuitable for epidemiological studies (এটি মহামারি গবেষণার জন্য অনুপযোগী)
  4. It cannot capture dietary diversity (এটি খাদ্য বৈচিত্র্য ধরতে পারে না)
সঠিক উত্তর:
It requires high respondent cooperation and memory (এটি উচ্চ মাত্রার সহযোগিতা ও স্মৃতি প্রয়োজন করে)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
It requires high respondent cooperation and memory (এটি উচ্চ মাত্রার সহযোগিতা ও স্মৃতি প্রয়োজন করে)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) এটি উচ্চ মাত্রার সহযোগিতা ও স্মৃতি প্রয়োজন করে।

কেন এটি সঠিক: ডায়েট হিস্টরি (Diet History) হলো পুষ্টিগত অবস্থা নির্ণয়ের একটি পদ্ধতি, যেখানে একজন পুষ্টিবিদ বা স্বাস্থ্যকর্মী একটি বিশদ সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদী (যেমন: গত মাস, বছর বা তারও বেশি) খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

প্রধান চ্যালেঞ্জ: এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর জন্য ব্যক্তির অত্যন্ত ভালো স্মৃতিশক্তি এবং উচ্চ মাত্রার সহযোগিতা প্রয়োজন। ব্যক্তিকে তার নিয়মিত খাবার, খাবারের পরিমাণ, রান্নার পদ্ধতি এবং খাদ্যাভ্যাসের ভিন্নতা বিস্তারিতভাবে মনে করে বলতে হয়। যেহেতু এটি একটি দীর্ঘ এবং জটিল প্রক্রিয়া, তাই ব্যক্তি ভুল তথ্য দিতে পারে, যা ফলাফলের নির্ভুলতাকে প্রভাবিত করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) এটি শক্তি গ্রহণকে কম হিসাব করে: এটি একটি সম্ভাব্য ত্রুটি (under-reporting), কিন্তু এটি প্রধান চ্যালেঞ্জ নয়। এই ধরনের ত্রুটি প্রায় সব ডায়েটারি অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতিতেই দেখা যায়।
c) এটি মহামারি গবেষণার জন্য অনুপযোগী: এটি ভুল। ডায়েট হিস্টরি পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদী খাদ্যাভ্যাস মূল্যায়ন করার জন্য উপযোগী, তাই এটি মহামারি গবেষণায় প্রায়শই ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে রোগ এবং খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করার জন্য।
d) এটি খাদ্য বৈচিত্র্য ধরতে পারে না: এটি ভুল। এই পদ্ধতিটি বিশদভাবে খাদ্যগ্রহণ বিশ্লেষণ করে, তাই এটি খাদ্যের বৈচিত্র্য সম্পর্কে ভালো ধারণা দিতে পারে।

৫৮.
Weighed food record পদ্ধতির মূল সীমাবদ্ধতা কী?
(What is the main limitation of the weighed food record method?)
  1. High subject burden and behavior modification (অংশগ্রহণকারীর উপর বেশি চাপ এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হতে পারে)
  2. It cannot measure portion size (এটি পরিমাণ মাপতে পারে না)
  3. It is inaccurate for nutrient analysis (এটি পুষ্টি বিশ্লেষণে অনির্ভুল)
  4. It does not capture day-to-day variation (এটি দৈনিক ভিন্নতা ধরতে পারে না)
সঠিক উত্তর:
High subject burden and behavior modification (অংশগ্রহণকারীর উপর বেশি চাপ এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হতে পারে)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
High subject burden and behavior modification (অংশগ্রহণকারীর উপর বেশি চাপ এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হতে পারে)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) অংশগ্রহণকারীর উপর বেশি চাপ এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হতে পারে।

কেন এটি সঠিক: ওজন করা খাদ্য রেকর্ড (weighed food record) হলো পুষ্টিগত অ্যাসেসমেন্টের একটি পদ্ধতি, যেখানে একজন ব্যক্তিকে তার প্রতিটি খাবার এবং পানীয় খাওয়ার আগে ওজনের মাধ্যমে রেকর্ড করতে বলা হয়। এটি পুষ্টি গ্রহণের সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতিগুলির মধ্যে একটি।

প্রধান সীমাবদ্ধতা: এই পদ্ধতির প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো এটি অংশগ্রহণকারীর উপর অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিদিন প্রতিটি খাবার মেপে রেকর্ড করা একটি সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন কাজ। এই ধরনের কাজ করার সময়, ব্যক্তিরা তাদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, তারা জটিল খাবার এড়িয়ে যেতে পারে বা সহজ খাবার বেছে নিতে পারে যাতে রেকর্ড করা সহজ হয়। এই ধরনের পরিবর্তন তথ্যের নির্ভরযোগ্যতাকে প্রভাবিত করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) এটি পরিমাণ মাপতে পারে না: এটি ভুল। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যই হলো খাবারের পরিমাণকে সবচেয়ে নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা।
c) এটি পুষ্টি বিশ্লেষণে অনির্ভুল: এটি ভুল। যেহেতু পরিমাণ সঠিকভাবে রেকর্ড করা হয়, তাই এটি পুষ্টি বিশ্লেষণের জন্য একটি অত্যন্ত নির্ভুল পদ্ধতি।
d) এটি দৈনিক ভিন্নতা ধরতে পারে না: এটি ভুল। কয়েক দিন ধরে রেকর্ড করলে এটি খাদ্যাভ্যাসের দৈনিক ভিন্নতা সম্পর্কে ভালো ধারণা দিতে পারে।

৫৯.
কোন ডায়েটারি অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতিটি সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যক্তিগত-স্তরের পুষ্টি গ্রহণ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল?
(Which dietary assessment method is best suited for determining individual-level nutrient intake, though it is the most time-consuming and expensive?)
  1. 24-hour recall (২৪-ঘণ্টা রিকল)
  2. Diet history (ডায়েট হিস্ট্রি)
  3. Weighed food record (ওজনকৃত খাদ্য রেকর্ড)
  4. Food frequency questionnaire (ফুড ফ্রিকোয়েন্সি কোয়েশ্চেনেয়ার)
সঠিক উত্তর:
Weighed food record (ওজনকৃত খাদ্য রেকর্ড)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Weighed food record (ওজনকৃত খাদ্য রেকর্ড)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) ওজনকৃত খাদ্য রেকর্ড (Weighed food record)।

কেন এটি সঠিক: ওজনকৃত খাদ্য রেকর্ড (weighed food record) পদ্ধতিকে পুষ্টি গ্রহণের পরিমাপের জন্য গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড বা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নির্ভুলতা: এই পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তিকে প্রতিটি খাবার ও পানীয় খাওয়ার আগে ও পরে একটি স্কেলের সাহায্যে ওজন করে রেকর্ড করতে বলা হয়। এর ফলে খাবারের পরিমাণের সবচেয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। এই নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পুষ্টির পরিমাণও অত্যন্ত সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
সীমিত ব্যবহার: যেহেতু এই পদ্ধতিটি অংশগ্রহণকারী এবং গবেষক উভয়ের জন্যই অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং শ্রমসাধ্য, তাই এটি বড় আকারের জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হয় না। এটি সাধারণত ছোট গ্রুপে বা ক্লিনিকাল গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে পুষ্টি গ্রহণের নির্ভুল তথ্য অপরিহার্য।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ২৪-ঘণ্টা রিকল: এটি একটি সহজ এবং দ্রুত পদ্ধতি। এটি সাধারণত বড় জনগোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এটি ওজনকৃত পদ্ধতির মতো নির্ভুল নয়।
b) ডায়েট হিস্ট্রি: এই পদ্ধতিটি একজন ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদী খাদ্যাভ্যাসের একটি ধারণা দেয়, কিন্তু এটি খাবারের পরিমাণের সঠিক পরিমাপ দিতে পারে না এবং স্মৃতিশক্তির উপর নির্ভর করে।
d) ফুড ফ্রিকোয়েন্সি কোয়েশ্চেনেয়ার (FFQ): এটি মহামারিতাত্ত্বিক গবেষণায় ব্যবহারের জন্য আদর্শ, কারণ এটি দীর্ঘ সময়ের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে তথ্য দেয়। তবে এটি ব্যক্তিগত-স্তরের পুষ্টি গ্রহণের জন্য নির্ভুল তথ্য দেয় না।

Reference: Gibson, Nutritional Assessment, 2005; FAO, 2018

৬০.
(Which biochemical reaction requires both folic acid and vitamin B12 simultaneously?)
কোন বায়োকেমিক্যাল রিঅ্যাকশন-এ Folate ও Vitamin B12 উভয়ই একসাথে প্রয়োজন হয়?
  1. Homocysteine → Methionine conversion [হোমোসিস্টিন → মেথিওনিন রূপান্তর]
  2. Methylmalonyl-CoA → Succinyl-CoA conversion [মিথাইলম্যালোনাইল-কোএ → সাক্সিনাইল-কোএ রূপান্তর]
  3. Serine → Glycine conversion [সেরিন → গ্লাইসিন রূপান্তর]
  4. Formylation in purine synthesis [পিউরিন সংশ্লেষণ]
সঠিক উত্তর:
Homocysteine → Methionine conversion [হোমোসিস্টিন → মেথিওনিন রূপান্তর]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Homocysteine → Methionine conversion [হোমোসিস্টিন → মেথিওনিন রূপান্তর]
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) হোমোসিস্টিন → মেথিওনিন রূপান্তর।

কেন এটি সঠিক: আমাদের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া হলো হোমোসিস্টিনকে মেথিওনিনে রূপান্তরিত করা। এই বিক্রিয়াটি মেথিওনিন সিনথেজ (methionine synthase) নামক একটি এনজাইম দ্বারা অনুঘটক হয়।

উভয় ভিটামিনের প্রয়োজন: এই বিক্রিয়াটির জন্য দুটি কো-ফ্যাক্টর প্রয়োজন:

ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12): এটি মেথিওনিন সিনথেজ এনজাইমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে।
এন⁵-মিথাইল টেট্রাহাইড্রাফলিক অ্যাসিড (N⁵-methyl tetrahydrofolate): এটি ফলিক অ্যাসিডের (Folate) একটি সক্রিয় রূপ এবং এটি মেথিওনিন সিনথেজ এনজাইমকে মিথাইল গ্রুপ সরবরাহ করে।
এই দুটি ভিটামিন একসাথে কাজ না করলে মেথিওনিন তৈরি হয় না এবং হোমোসিস্টিন রক্তে জমা হতে থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই বিক্রিয়ার ব্যর্থতার কারণে ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি১২ উভয়ের ঘাটতিতেই এক ধরনের মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (megaloblastic anemia) দেখা যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) মিথাইলম্যালোনাইল-কোএ → সাক্সিনাইল-কোএ রূপান্তর: এই বিক্রিয়াটি ভিটামিন বি১২ এর উপর নির্ভরশীল, কিন্তু ফলিক অ্যাসিডের উপর নয়।
C) সেরিন → গ্লাইসিন রূপান্তর: এই বিক্রিয়াটি ফলিক অ্যাসিডের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু ভিটামিন বি১২ এর উপর নয়।
D) পিউরিন সংশ্লেষণ: পিউরিন (DNA-এর উপাদান) সংশ্লেষণের জন্য ফলিক অ্যাসিড প্রয়োজন, কিন্তু ভিটামিন বি১২ এর কোনো প্রয়োজন হয় না।

৬১.
ভিটামিন বি১২ ঘাটতিজনিত মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া কেন শুধুমাত্র ফোলেট দিয়ে সারানো যায় না?
(Megaloblastic anemia due to vitamin B12 deficiency is not corrected by folate because—)
  1. ভিটামিন বি১২ ছাড়া ফোলেট অস্থি মজ্জায় প্রবেশ করতে পারে না (Folate cannot enter the bone marrow without B12)
  2. ভিটামিন বি১২ ছাড়া ফোলেট N⁵-মিথাইল টিএইচএফ (THF) হিসেবে আটকে থাকে (Folate is trapped as N⁵-methyl THF without B12)
  3. ভিটামিন বি১২ এর অভাবে ফোলেট ডিএনএ সংশ্লেষণকে বাধা দেয় (Folate inhibits DNA synthesis in absence of B12)
  4. ভিটামিন বি১২ দ্বারা শুধুমাত্র ফোলেট বিপাক হয় (Folate is metabolized only by B12)
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি১২ ছাড়া ফোলেট N⁵-মিথাইল টিএইচএফ (THF) হিসেবে আটকে থাকে (Folate is trapped as N⁵-methyl THF without B12)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি১২ ছাড়া ফোলেট N⁵-মিথাইল টিএইচএফ (THF) হিসেবে আটকে থাকে (Folate is trapped as N⁵-methyl THF without B12)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ভিটামিন বি১২ ছাড়া ফোলেট N⁵-মিথাইল টিএইচএফ (THF) হিসেবে আটকে থাকে।

কেন এটি সঠিক: মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে লোহিত রক্তকণিকা (red blood cells) বড় এবং অস্বাভাবিক হয়। এটি সাধারণত ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি১২ এর অভাবের কারণে হয়, কারণ এই দুটি ভিটামিন ডিএনএ (DNA) সংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য।

মিথাইল ট্র্যাপ হাইপোথিসিস (Methyl Trap Hypothesis): এটি ব্যাখ্যা করে কেন ভিটামিন বি১২ এর অভাবে ফলিক অ্যাসিড কাজ করতে পারে না। আমাদের শরীরে ফলিক অ্যাসিড তার সক্রিয় রূপ N⁵-মিথাইল টেট্রাহাইড্রাফলিক অ্যাসিড (N⁵-methyl THF) হিসেবে জমা হয়। এই সক্রিয় রূপ থেকে মিথাইল গ্রুপটি সরিয়ে নিতে এবং ডিএনএ সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সক্রিয় ফোলেট তৈরি করতে ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য।
ফলাফল: যখন ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি থাকে, তখন ফলিক অ্যাসিড তার সক্রিয় রূপ N⁵-মিথাইল THF থেকে বের হতে পারে না এবং সেখানে "আটকে" পড়ে। এই আটকে পড়া অবস্থার কারণে এটি ডিএনএ সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে না, তাই অ্যানিমিয়া বজায় থাকে।
শুধুমাত্র ফলিক অ্যাসিড দিয়ে এই ধরনের অ্যানিমিয়া চিকিৎসা করলে রক্ত পরীক্ষা স্বাভাবিক দেখা যেতে পারে, কিন্তু ভিটামিন বি১২ এর অভাবে স্নায়ুজনিত সমস্যা (neurological problems) চলতে থাকবে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ভিটামিন বি১২ ছাড়া ফোলেট অস্থি মজ্জায় প্রবেশ করতে পারে না: এটি ভুল। ফোলেট অস্থি মজ্জায় প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু এটি তার কাজ করতে পারে না।
C) ভিটামিন বি১২ এর অভাবে ফোলেট ডিএনএ সংশ্লেষণকে বাধা দেয়: এটি ভুল। ফোলেট ডিএনএ সংশ্লেষণকে বাধা দেয় না, বরং এটি ছাড়া ডিএনএ সংশ্লেষণ ব্যর্থ হয়।
D) ভিটামিন বি১২ দ্বারা শুধুমাত্র ফোলেট বিপাক হয়: এটি ভুল। ফোলেট তার নিজস্ব পথে বিপাক হয়, কিন্তু ভিটামিন বি১২ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়ায় তার কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

৬২.
নিচের কোন ল্যাব ফাইন্ডিং Vitamin B12 ঘাটতি এবং Folate ঘাটতির মধ্যে পার্থক্য করে?
(Which of the following laboratory findings differentiates Vitamin B12 deficiency from folate deficiency?)
  1. উচ্চ হোমোসিস্টিন (Elevated homocysteine)
  2. উচ্চ মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিড (Elevated methylmalonic acid)
  3. মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (Elevated methylmalonic acid)
  4. হাইপারসেগমেন্টেড নিউট্রোফিল (Hypersegmented neutrophils)
সঠিক উত্তর:
উচ্চ মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিড (Elevated methylmalonic acid)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিড (Elevated methylmalonic acid)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) Elevated methylmalonic acid (উচ্চ মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিড)।

কেন এটি সঠিক: মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া এবং হাইপারসেগমেন্টেড নিউট্রোফিলের মতো লক্ষণগুলো ভিটামিন বি১২ এবং ফোলেট উভয়ের ঘাটতিতেই দেখা যায়, কারণ উভয়ই ডিএনএ (DNA) সংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য। তাই, এই দুটি ঘাটতির মধ্যে পার্থক্য করতে নির্দিষ্ট বায়োকেমিক্যাল মার্কারের প্রয়োজন হয়।

মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিড (Methylmalonic acid - MMA): ভিটামিন বি১২ একটি এনজাইম মিথাইলম্যালোনাইল-কোএ মিউটেজ (methylmalonyl-CoA mutase)-এর জন্য একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। এই এনজাইমটি মিথাইলম্যালোনাইল-কোএকে সাক্সিনাইল-কোএতে রূপান্তর করে।
ভিটামিন বি১২ এর অভাব: যখন ভিটামিন বি১২ এর অভাব হয়, তখন এই এনজাইমটি কাজ করতে পারে না। এর ফলে মিথাইলম্যালোনাইল-কোএ জমা হয় এবং মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিডের মাত্রা রক্ত ও প্রস্রাবে বেড়ে যায়।
ফোলেট এর অভাব: ফোলেট এই বিক্রিয়ায় কোনো ভূমিকা রাখে না। তাই, ফোলেটের অভাবজনিত মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার ক্ষেত্রে মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
এই কারণে, রক্তে বা প্রস্রাবে মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিডের মাত্রা পরীক্ষা করা ভিটামিন বি১২ এবং ফোলেট ঘাটতির মধ্যে পার্থক্য করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) উচ্চ হোমোসিস্টিন: উচ্চ হোমোসিস্টিন (homocysteine) ভিটামিন বি১২ এবং ফোলেট উভয় ঘাটতিতেই দেখা যায়।
C) মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া: এটি উভয় ঘাটতির একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
D) হাইপারসেগমেন্টেড নিউট্রোফিল: এটিও উভয় ঘাটতির একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

রেফারেন্স: Nelson Textbook of Pediatrics.

৬৩.
নিউরোলজিকাল ম্যানিফেস্টেশন (মেরুদণ্ডের সাব-অ্যাকিউট কম্বাইন্ড ডিজেনারেশন) কোন ভিটামিন ঘাটতিতে হয়?
(Neurological manifestations (subacute combined degeneration) are seen only in—)
  1. Folate deficiency
  2. Vitamin B12 deficiency
  3. Both Folate and B12 deficiency
  4. Vitamin A deficiency
সঠিক উত্তর:
Vitamin B12 deficiency
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin B12 deficiency
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ভিটামিন বি১২ ঘাটতি।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি শুধুমাত্র মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া তৈরি করে না, এটি স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

সাব-অ্যাকিউট কম্বাইন্ড ডিজেনারেশন (Subacute combined degeneration - SCD): এটি ভিটামিন বি১২-এর অভাবজনিত একটি নির্দিষ্ট স্নায়ু রোগ। এই রোগে স্নায়ু কোষের আবরণ বা মায়েলিন শিথ (myelin sheath) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে স্নায়ু সংকেত পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হয়, যা মেরুদণ্ডের পশ্চাৎ কলাম (dorsal column) এবং পার্শ্বীয় কর্টিকোস্পাইনাল ট্র্যাকে (lateral corticospinal tract) অবক্ষয় (degeneration) ঘটায়।
লক্ষ্যণ: এর ফলে স্পর্শ, কম্পন এবং অবস্থান অনুভূতির অভাব, পেশীর দুর্বলতা, চলনে অস্থিরতা এবং ডিমেনশিয়া (dementia)-এর মতো স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দেয়।
ভিটামিন বি১২ এই মায়েলিন তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর অভাবের কারণে এই ধরনের গুরুতর স্নায়ু রোগ দেখা যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ফোলেট ঘাটতি: ফোলেট ঘাটতি সাধারণত মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া তৈরি করে, কিন্তু এটি স্নায়ুগত সমস্যা, যেমন SCD তৈরি করে না। যদি কোনো রোগীর ফোলেট ঘাটতি থাকে এবং তাকে বি১২ না দিয়ে শুধু ফোলেট দিয়ে চিকিৎসা করা হয়, তাহলে তার অ্যানিমিয়া ঠিক হয়ে যেতে পারে, কিন্তু স্নায়ুজনিত সমস্যা চলতে থাকবে এবং আরও খারাপ হতে পারে।
C) উভয় ফোলেট এবং বি১২ ঘাটতি: এটি ভুল কারণ ফোলেটের অভাব নিজে থেকে স্নায়ুর ক্ষতি করে না।

রেফারেন্স: Harrison’s.

৬৪.
ফোলেট গ্রহণ যথেষ্ট থাকলেও কোন ক্লিনিকাল কন্ডিশনে সিউডো-ফোলেট ডেফিসিয়েন্সি (pseudo-folate deficiency) দেখা যায়? (Which clinical situation shows “pseudo-folate deficiency” despite normal folate intake?)
  1. ক্রনিক অ্যালকোহল গ্রহণ (Chronic alcohol intake)
  2. গর্ভাবস্থা (Pregnancy)
  3. ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি (Vitamin B12 deficiency)
  4. ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর (Chronic renal failure)
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি (Vitamin B12 deficiency)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি (Vitamin B12 deficiency)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি।

কেন এটি সঠিক: সিউডো-ফোলেট ডেফিসিয়েন্সি বা ছদ্ম-ফোলেট ঘাটতি এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরে পর্যাপ্ত ফোলেট থাকা সত্ত্বেও, তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রধান কারণ হলো ভিটামিন বি১২ এর অভাব।

"মিথাইল ট্র্যাপ হাইপোথিসিস": এই হাইপোথিসিস ব্যাখ্যা করে কেন এমনটি হয়। ফোলেট যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন এটি N⁵-মিথাইল টিএইচএফ (tetrahydrofolate)-এ রূপান্তরিত হয়ে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এই নিষ্ক্রিয় ফোলেটকে সক্রিয় রূপে ফিরিয়ে আনার জন্য ভিটামিন বি১২ প্রয়োজন।
ফলাফল: যখন ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি থাকে, তখন এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায় এবং ফোলেট তার নিষ্ক্রিয় রূপে "আটকে" পড়ে। এর ফলে শরীরে প্রচুর ফোলেট থাকলেও তা কাজে লাগানো যায় না, যা কার্যগতভাবে ফোলেটের অভাব তৈরি করে।
এই কারণে, ভিটামিন বি১২ এর অভাবে রোগীর শরীরে ফোলেটের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও, তার লক্ষণগুলো ফোলেট ঘাটতির মতোই হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ক্রনিক অ্যালকোহল গ্রহণ: ক্রনিক অ্যালকোহল গ্রহণ ফোলেটের শোষণকে ব্যাহত করে এবং যকৃতে এর সঞ্চয় কমিয়ে দেয়, যা একটি প্রকৃত ফোলেট ঘাটতি তৈরি করে, ছদ্ম-ঘাটতি নয়।
B) গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশের জন্য ফোলেটের চাহিদা বেড়ে যায়, যা পর্যাপ্ত পরিমাণে ফোলেট গ্রহণ না করলে প্রকৃত ফোলেট ঘাটতি তৈরি করে।
D) ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর: এই অবস্থায় সাধারণত ভিটামিন বি১২ এবং ফোলেট উভয়েরই মাত্রা কমে যায়, যা একটি প্রকৃত ঘাটতি।

রেফারেন্স: Harper’s; Guyton.

৬৫.
কোন বায়োকেমিক্যাল প্রক্রিয়া সরাসরি Vitamin C-এর কো-ফ্যাক্টর হিসেবে প্রয়োজন হয়?
(Which biochemical process is directly dependent on Vitamin C as a cofactor?)
  1. রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টরগুলোর γ-কার্বক্সিলেশন (γ-carboxylation of clotting factors)
  2. কোলাজেন সংশ্লেষণে প্রোলিন এবং লাইসিনের হাইড্রক্সিলেশন (Hydroxylation of proline and lysine in collagen synthesis)
  3. মিথাইলম্যালোনাইল-কোএ থেকে সাক্সিনাইল-কোএ রূপান্তর (Conversion of methylmalonyl-CoA to succinyl-CoA)
  4. অ্যামিনো অ্যাসিডের ট্রান্সঅ্যামিনেশন (Conversion of methylmalonyl-CoA to succinyl-CoA)
সঠিক উত্তর:
কোলাজেন সংশ্লেষণে প্রোলিন এবং লাইসিনের হাইড্রক্সিলেশন (Hydroxylation of proline and lysine in collagen synthesis)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলাজেন সংশ্লেষণে প্রোলিন এবং লাইসিনের হাইড্রক্সিলেশন (Hydroxylation of proline and lysine in collagen synthesis)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) কোলাজেন সংশ্লেষণে প্রোলিন এবং লাইসিনের হাইড্রক্সিলেশন।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) আমাদের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোলাজেন সংশ্লেষণ।

কোলাজেন (Collagen): কোলাজেন হলো শরীরের সবচেয়ে প্রাচুর্যপূর্ণ প্রোটিন, যা ত্বক, হাড়, তরুণাস্থি (cartilage) এবং রক্তনালীর মতো সংযোগকারী টিস্যুগুলোকে শক্তিশালী করে।
হাইড্রক্সিলেশন: কোলাজেনকে স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী করার জন্য প্রোলিন এবং লাইসিন নামক অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোকে হাইড্রক্সিল গ্রুপ দিয়ে পরিবর্তন করতে হয়। এই বিক্রিয়াটি প্রোলিল হাইড্রক্সিলেজ (prolyl hydroxylase) এবং লাইসিল হাইড্রক্সিলেজ (lysyl hydroxylase) নামক এনজাইম দ্বারা অনুঘটক হয়। এই এনজাইমগুলোর সঠিক কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন সি একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।
ভিটামিন সি-এর অভাবে এই হাইড্রক্সিলেশন প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়, যার ফলে দুর্বল কোলাজেন তৈরি হয়। এটি স্কার্ভি (scurvy) রোগের মূল কারণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টরগুলোর γ-কার্বক্সিলেশন: এই প্রক্রিয়াটি ভিটামিন কে-এর উপর নির্ভরশীল, ভিটামিন সি-এর উপর নয়।
C) মিথাইলম্যালোনাইল-কোএ থেকে সাক্সিনাইল-কোএ রূপান্তর: এই বিক্রিয়াটি ভিটামিন বি১২-এর উপর নির্ভরশীল।
D) অ্যামিনো অ্যাসিডের ট্রান্সঅ্যামিনেশন: এই বিক্রিয়াটি ভিটামিন বি৬ (পাইরিডক্সাল ফসফেট) এর উপর নির্ভরশীল।

রেফারেন্স: Harper’s Biochemistry.

৬৬.
ভিটামিন সি ঘাটতি (স্কার্ভি)-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
(Which of the following is a characteristic feature of Vitamin C deficiency (Scurvy)?)
  1. রক্তক্ষরণকারী মাড়ি এবং দুর্বল ক্ষত নিরাময় (Bleeding gums and poor wound healing)
  2. শিশুদের সাবপেরিওস্টিয়াল রক্তক্ষরণ (Subperiosteal hemorrhage in children)
  3. কর্কস্ক্রু চুল (Corkscrew hair)
  4. উপরের সবগুলোই(All of the above)
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই(All of the above)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই(All of the above)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: D) উপরের সবগুলোই।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড)-এর প্রধান কাজ হলো কোলাজেন প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করা। কোলাজেন আমাদের শরীরের সংযোগকারী টিস্যু, যেমন ত্বক, হাড়, রক্তনালী এবং দাঁতের গোড়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি-এর অভাব হলে এই কোলাজেন দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে স্কার্ভি নামক রোগ হয়।

স্কার্ভি রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

রক্তক্ষরণকারী মাড়ি এবং দুর্বল ক্ষত নিরাময় (Bleeding gums and poor wound healing): দুর্বল কোলাজেনের কারণে রক্তনালীগুলো ভঙ্গুর হয়ে যায়, যার ফলে মাড়ি থেকে রক্তপাত হয়। টিস্যু মেরামত ও নতুন টিস্যু গঠনে কোলাজেন অপরিহার্য, তাই স্কার্ভির রোগীদের ক্ষত সহজে শুকায় না।
শিশুদের সাবপেরিওস্টিয়াল রক্তক্ষরণ (Subperiosteal hemorrhage in children): শিশুদের হাড়ের উপরে যে পাতলা ঝিল্লি (পেরিউস্টিয়াম) থাকে, সেখানে ভিটামিন সি-এর অভাবে রক্তপাত হতে পারে। এটি শিশুদের মধ্যে স্কার্ভির একটি গুরুতর লক্ষণ।
কর্্ক-স্ক্রু চুল (Corkscrew hair): দুর্বল চুলের ফলিকল এবং কোলাজেনের অভাবে চুলের গঠন দুর্বল হয়ে যায়, যার ফলে চুলগুলো কোঁকড়া বা কর্ক-স্ক্রুর মতো হয়ে যায়।

রেফারেন্স: Nelson Pediatrics.

৬৭.
কোন ভিটামিন ঘাটতিতে প্রোথ্রমবিন টাইম (PT) বাড়ে কিন্তু ব্লিডিং টাইম (BT) স্বাভাবিক থাকে?
(Which vitamin deficiency leads to prolonged prothrombin time (PT) but normal bleeding time?)
  1. Vitamin C
  2. Vitamin K
  3. Vitamin A
  4. Vitamin D
সঠিক উত্তর:
Vitamin K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin K
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B) ভিটামিন কে (Vitamin K)।

কেন এটি সঠিক: রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াটি দুটি ভিন্ন পথের মাধ্যমে ঘটে: অভ্যন্তরীণ পথ (intrinsic pathway) এবং বাহ্যিক পথ (extrinsic pathway)। এই পথগুলোতে একাধিক প্রোটিন ফ্যাক্টর জড়িত থাকে।

ভিটামিন কে এর ভূমিকা: ভিটামিন কে হলো একটি ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন, যা যকৃতে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিনের (যেমন: ফ্যাক্টর II, VII, IX, এবং X) কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য। এটি এই প্রোটিনগুলোর γ-কার্বক্সিলেশন নামক একটি প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
প্রোথ্রমবিন টাইম (PT): প্রোথ্রমবিন টাইম পরিমাপ করে যে বাহ্যিক পথটি কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে। ভিটামিন কে-এর অভাবে এই ফ্যাক্টরগুলোর উৎপাদন কমে যায় বা তাদের কার্যকারিতা নষ্ট হয়। এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে বেশি সময় লাগে এবং প্রোথ্রমবিন টাইম বেড়ে যায়।
ব্লিডিং টাইম (BT): ব্লিডিং টাইম পরিমাপ করে প্লেটলেট (platelet) বা অণুচক্রিকার কার্যকারিতা। ভিটামিন কে-এর অভাব প্লেটলেটকে সরাসরি প্রভাবিত করে না। তাই, ভিটামিন কে-এর অভাবে প্রোথ্রমবিন টাইম বাড়লেও ব্লিডিং টাইম স্বাভাবিক থাকে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ভিটামিন সি: ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, যা কোলাজেনের দুর্বলতার কারণে রক্তনালীকে ভঙ্গুর করে। এর ফলে ব্লিডিং টাইম বাড়তে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি প্রোথ্রমবিন টাইমকে প্রভাবিত করে না।
C) ভিটামিন এ: ভিটামিন এ-এর অভাব প্রধানত দৃষ্টিশক্তি (যেমন: রাতকানা) এবং ত্বকের সমস্যা তৈরি করে, রক্ত জমাট বাঁধার সাথে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
D) ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি-এর অভাব হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এবং রিকেটস বা অস্টিওম্যালাসিয়া রোগ তৈরি করে, রক্ত জমাট বাঁধার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

রেফারেন্স: Harrison’s Internal Medicine.

৬৮.
Hemorrhagic disease of newborn is due to deficiency of—
নবজাতকের হেমোরেজিক রোগ (Hemorrhagic disease of newborn) কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে হয়?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin K
সঠিক উত্তর:
Vitamin K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin K
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: D) ভিটামিন কে।

কেন এটি সঠিক: নবজাতকের হেমোরেজিক রোগ হলো একটি বিরল কিন্তু গুরুতর অবস্থা যা নবজাতকের শরীরে ভিটামিন কে-এর ঘাটতির কারণে হয়। এই ভিটামিনের অভাবে নবজাতকের রক্তপাত হতে পারে।

ভিটামিন কে এর ভূমিকা: ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিনের (যেমন: প্রোথ্রমবিন, ফ্যাক্টর II, VII, IX, এবং X) কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য। এই প্রোটিনগুলো যকৃতে তৈরি হয়।
নবজাতকের ঘাটতির কারণ:

স্টেরাইল অন্ত্র (Sterile gut): নবজাতকের অন্ত্রে জন্ম মুহূর্তে কোনো ব্যাকটেরিয়া থাকে না। ভিটামিন কে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংশ্লেষিত হয়। তাই, নবজাতকের দেহে এই ভিটামিন তৈরি হয় না।
কম প্লাসেন্টাল পরিবহন: মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর শরীরে ভিটামিন কে খুব কম পরিমাণে পৌঁছায়।
মাতৃদুগ্ধে কম পরিমাণ: মাতৃদুগ্ধে ভিটামিন কে-এর পরিমাণ কম থাকে।
এই কারণে, জন্মের পর ভিটামিন কে-এর ঘাটতি থেকে রক্তক্ষরণজনিত রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি প্রতিরোধ করতে সাধারণত জন্মের পর সকল নবজাতককে ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়া হয়।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ভিটামিন এ: ভিটামিন এ এর অভাব প্রধানত দৃষ্টিশক্তি (যেমন: রাতকানা) এবং ত্বকের সমস্যা তৈরি করে।
B) ভিটামিন সি: ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি হয়, যা দুর্বল কোলাজেনের কারণে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে, কিন্তু এটি নবজাতকের হেমোরেজিক রোগের কারণ নয়।
C) ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি এর অভাব শিশুদের রিকেটস নামক হাড়ের রোগ তৈরি করে।

রেফারেন্স: Nelson Textbook of Pediatrics.

৬৯.
কোন ভিটামিনের টক্সিসিটি নবজাতকে হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (Hemolytic anemia) ঘটাতে পারে?
(Which vitamin toxicity can cause hemolytic anemia in newborns treated with high doses?)
  1. Vitamin C
  2. Vitamin A
  3. Vitamin K (synthetic menadione form)
  4. Vitamin E
সঠিক উত্তর:
Vitamin K (synthetic menadione form)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin K (synthetic menadione form)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) ভিটামিন কে (মেনডায়োন বা মেনাফিনন)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন কে সাধারণত নবজাতককে রক্তক্ষরণজনিত রোগ (hemorrhagic disease) প্রতিরোধের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু ভিটামিন কে-এর কিছু রূপ অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে বিষাক্ত হতে পারে।

মেনডায়োন (Menadione): এটি হলো ভিটামিন কে-এর একটি কৃত্রিম বা সিন্থেটিক রূপ, যা ভিটামিন K3​ নামেও পরিচিত। উচ্চ মাত্রায় এই ভিটামিনটি গ্রহণ করলে এটি অক্সিডেটিভ চাপ (oxidative stress) তৈরি করে।
হিমোলাইসিস (Hemolysis): এই অক্সিডেটিভ চাপ নবজাতকের লোহিত রক্তকণিকাকে (red blood cells) ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তাদের ভেঙে ফেলে। এই প্রক্রিয়াকে হিমোলাইসিস বলা হয়, যার ফলে হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া হয়।
এই কারণে, বর্তমানে নবজাতকদের ভিটামিন কে-এর কৃত্রিম রূপ মেনডায়োন বা মেনাফিনন ব্যবহার করা হয় না। এর পরিবর্তে, ফাইলোকুইনোন বা ভিটামিন K1​ (Phylloquinone or Vitamin K1​) ব্যবহার করা হয়, যা নিরাপদ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ভিটামিন সি: ভিটামিন সি-এর অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণ করলে সাধারণত কিডনিতে অক্সালেট পাথর (oxalate stones) তৈরি হতে পারে, হিমোলাইসিস হয় না।
B) ভিটামিন এ: ভিটামিন এ-এর টক্সিসিটি হলে ইন্ট্রাক্রানিয়াল হাইপারটেনশন (intracranial hypertension) বা যকৃতের ক্ষতি (hepatotoxicity) হতে পারে।
D) ভিটামিন ই: ভিটামিন ই একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এটি প্রিম্যাচিওর শিশুদের হিমোলাইসিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে, হিমোলাইসিস ঘটাতে নয়।

রেফারেন্স: Nelson; Harper’s.

৭০.
Which hormone regulates blood calcium by increasing intestinal absorption via Vitamin D activation?
কোন হরমোন ভিটামিন D সক্রিয় করে অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ বৃদ্ধি করে?
  1. Parathyroid hormone (প্যারাথাইরয়েড হরমোন)
  2. Calcitonin (ক্যালসিটোনিন)
  3. Insulin (ইনসুলিন)
  4. Growth hormone (গ্রোথ হরমোন)
সঠিক উত্তর:
Parathyroid hormone (প্যারাথাইরয়েড হরমোন)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Parathyroid hormone (প্যারাথাইরয়েড হরমোন)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) প্যারাথাইরয়েড হরমোন (Parathyroid hormone - PTH)।

কেন এটি সঠিক: আমাদের রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্যারাথাইরয়েড হরমোন (PTH) একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। যখন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যায়, তখন এটি প্যারথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।

ভিটামিন ডি সক্রিয়করণ: পিটিএইচ কিডনিকে সংকেত পাঠায় যাতে এটি একটি বিশেষ এনজাইম, ১-আলফা-হাইড্রক্সিলেজ (1α-hydroxylase), তৈরি করে। এই এনজাইমটি তখন ভিটামিন ডি-এর একটি নিষ্ক্রিয় রূপ, ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি [25(OH)D], কে তার সক্রিয় রূপ, ১,২৫-ডাইহাইড্রক্সিভিটামিন ডি [1,25(OH)2​D] বা ক্যালসিট্রিয়লে রূপান্তরিত করে।
ক্যালসিয়াম শোষণ বৃদ্ধি: এই সক্রিয় ভিটামিন ডি তখন অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণকারী প্রোটিন তৈরি করে, যা খাদ্য থেকে আরও বেশি ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে।
এই কারণে, প্যারাথাইরয়েড হরমোন হলো সেই হরমোন যা ভিটামিন ডি-কে সক্রিয় করে অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ বৃদ্ধি করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) ক্যালসিটোনিন (Calcitonin): এটি প্যারাথাইরয়েড হরমোনের বিপরীত কাজ করে। রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে এটি নিঃসৃত হয় এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম জমা করে রক্তে এর মাত্রা কমিয়ে দেয়।
c) ইনসুলিন (Insulin): ইনসুলিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, ক্যালসিয়ামের নয়।
d) গ্রোথ হরমোন (Growth hormone): গ্রোথ হরমোন হাড় এবং পেশীর বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে, কিন্তু এটি সরাসরি ক্যালসিয়াম শোষণকে নিয়ন্ত্রণ করে না।

রেফারেন্স: Guyton & Hall, Physiology

৭১.
Which of the following increases phosphate excretion in urine?
নিচের কোনটি প্রস্রাবে ফসফেট নিঃসরণ বাড়ায়?
  1. Parathyroid hormone (প্যারাথাইরয়েড হরমোন)
  2. Calcitonin (ক্যালসিটোনিন)
  3. Vitamin D (ভিটামিন D)
  4. Aldosterone (অ্যালডোস্টেরন)
সঠিক উত্তর:
Parathyroid hormone (প্যারাথাইরয়েড হরমোন)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Parathyroid hormone (প্যারাথাইরয়েড হরমোন)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) প্যারাথাইরয়েড হরমোন (Parathyroid hormone - PTH)।

কেন এটি সঠিক: প্যারাথাইরয়েড হরমোন (PTH) হলো এমন একটি হরমোন যা রক্তে ক্যালসিয়াম এবং ফসফেটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি যখন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যায়, তখন প্যারথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।

ফসফেট নিঃসরণ বৃদ্ধি: পিটিএইচ কিডনির উপর কাজ করে এবং রেনাল টিউবিউলস (renal tubules) থেকে ফসফেটের পুনঃশোষণ (reabsorption) বাধা দেয়। এর ফলে ফসফেট বেশি পরিমাণে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
ক্যালসিয়াম নিঃসরণ হ্রাস: একই সময়ে, পিটিএইচ কিডনি থেকে ক্যালসিয়ামের পুনঃশোষণ বাড়ায়, যার ফলে ক্যালসিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বের না হয়ে রক্তে থেকে যায়।
এই দ্বৈত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পিটিএইচ রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়াতে এবং ফসফেটের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) ক্যালসিটোনিন (Calcitonin): ক্যালসিটোনিন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমায়, কিন্তু এটি ফসফেট নিঃসরণকে সরাসরি প্রভাবিত করে না।
c) ভিটামিন ডি (Vitamin D): ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট উভয়েরই শোষণকে উৎসাহিত করে, যা রক্তে তাদের মাত্রা বাড়ায়, কমায় না।
d) অ্যালডোস্টেরন (Aldosterone): অ্যালডোস্টেরন একটি হরমোন যা কিডনিতে সোডিয়াম (sodium) এবং পটাশিয়াম (potassium) এর ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে, ক্যালসিয়াম বা ফসফেটের নয়।

রেফারেন্স: Harrison’s Internal Medicine

৭২.
Osteomalacia in adults is primarily due to deficiency of:
প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালেশিয়া মূলত কোন ঘাটতির কারণে হয়?
  1. Vitamin D (ভিটামিন D)
  2. Calcium (ক্যালসিয়াম)
  3. Phosphorus (ফসফরাস)
  4. Magnesium (ম্যাগনেসিয়াম)
সঠিক উত্তর:
Vitamin D (ভিটামিন D)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin D (ভিটামিন D)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) ভিটামিন ডি (Vitamin D)।

কেন এটি সঠিক: অস্টিওম্যালেশিয়া হলো একটি রোগ যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের হাড় দুর্বল, নরম এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। এটি মূলত ভিটামিন ডি-এর গুরুতর ঘাটতির কারণে হয়।

ভিটামিন ডি-এর ভূমিকা: ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের শোষণকে উৎসাহিত করে, যা হাড়কে শক্ত ও মজবুত করার জন্য অপরিহার্য। এই প্রক্রিয়াকে মিনারেলীকরণ (mineralization) বলা হয়।
রোগের কারণ: যখন ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হয়, তখন অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ কমে যায়। এর ফলে হাড়ে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস জমা হতে পারে না। এই অসম্পূর্ণ মিনারেলীকরণের কারণে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে, যা অস্টিওম্যালেশিয়া রোগের সৃষ্টি করে। শিশুদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর অভাবে এই রোগটি রিকেটস (Rickets) নামে পরিচিত।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) ক্যালসিয়াম (Calcium): যদিও ক্যালসিয়াম হাড়ের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে সাধারণত অস্টিওম্যালেশিয়া হয় না। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে প্রাথমিকভাবে পেশীতে খিঁচুনি বা টিটানি (tetany) হতে পারে।
c) ফসফরাস (Phosphorus): ফসফরাসের অভাবও হাড়কে প্রভাবিত করতে পারে, তবে এটি অস্টিওম্যালেশিয়ার প্রধান কারণ নয়।
d) ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium): ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে স্নায়ু এবং পেশীর কার্যকারিতায় সমস্যা হয়, যেমন: পেশীর খিঁচুনি এবং দুর্বলতা। এর সাথে অস্টিওম্যালেশিয়ার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রেফারেন্স: WHO – Vitamin D and Bone Health

৭৩.
Which of the following conditions is associated with hyperphosphatemia?
নিচের কোন অবস্থায় Hyperphosphatemia দেখা যায়?
  1. Chronic kidney disease (দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ)
  2. Vitamin D deficiency (ভিটামিন D ঘাটতি)
  3. Primary hyperparathyroidism (প্রাইমারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম)
  4. Rickets (রিকেটস)
সঠিক উত্তর:
Chronic kidney disease (দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Chronic kidney disease (দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (Chronic kidney disease)।

কেন এটি সঠিক: হাইপারফসফাটেমিয়া হলো রক্তে ফসফেটের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকা। কিডনি আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত ফসফেট বের করে দেওয়ার প্রধান অঙ্গ।

কিডনি এবং ফসফেট: একটি সুস্থ কিডনি রক্ত থেকে অতিরিক্ত ফসফেট ফিল্টার করে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ: যখন কোনো ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হয়, তখন কিডনির এই ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে শরীর থেকে ফসফেট ঠিকমতো বের হতে পারে না এবং তা রক্তে জমা হতে থাকে, যা হাইপারফসফাটেমিয়া ঘটায়।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের রোগীদের প্রায়শই এই অবস্থা দেখা যায় এবং এটি হাড়ের রোগ এবং রক্তনালীতে ক্যালসিয়াম জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
b) ভিটামিন ডি ঘাটতি: ভিটামিন ডি-এর অভাবে অন্ত্র থেকে ফসফেট এবং ক্যালসিয়াম শোষণ কমে যায়। এর ফলে রক্তে ফসফেটের মাত্রা কমে যায়, যা হাইপোফসফাটেমিয়া (hypophosphatemia) ঘটায়।
c) প্রাইমারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম: এই অবস্থায় প্যারাথাইরয়েড হরমোন (PTH) অতিরিক্ত পরিমাণে নিঃসৃত হয়। পিটিএইচ কিডনি থেকে ফসফেটের পুনঃশোষণ (reabsorption) কমিয়ে দেয়, যার ফলে প্রস্রাবে ফসফেট বেশি বের হয়ে যায় এবং রক্তে এর মাত্রা কমে যায় (হাইপোফসফাটেমিয়া)।
d) রিকেটস: রিকেটস হলো শিশুদের ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত একটি হাড়ের রোগ। যেহেতু ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে ফসফেট শোষণ কমে যায়, তাই রিকেটস-এর রোগীদের ক্ষেত্রে হাইপোফসফাটেমিয়া দেখা যায়।

রেফারেন্স: Harrison’s Internal Medicine

৭৪.
Which form of Vitamin D is produced in the kidney?
কিডনিতে কোন রূপের ভিটামিন D উৎপন্ন হয়?
  1. 25-hydroxycholecalciferol (25-OH-D₃)
  2. 1,25-dihydroxycholecalciferol (Calcitriol)
  3. Cholecalciferol (Vitamin D₃)
  4. Ergocalciferol (Vitamin D₂)
সঠিক উত্তর:
1,25-dihydroxycholecalciferol (Calcitriol)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1,25-dihydroxycholecalciferol (Calcitriol)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ১,২৫-ডাইহাইড্রক্সি কোলে ক্যালসিফেরল (ক্যালসিট্রিয়ল)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন ডি একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সক্রিয় হয়, যার মধ্যে দুটি প্রধান ধাপ রয়েছে।

প্রথম ধাপ: সূর্যালোকে আমাদের ত্বকে ৭-ডিহাইড্রো-কোলেস্টেরল থেকে কোলে ক্যালসিফেরল বা ভিটামিন D3​ উৎপন্ন হয়।
দ্বিতীয় ধাপ (যকৃতে): এই ভিটামিন D3​ রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে যকৃতে (liver) যায়, যেখানে এটি ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন D3​ বা ২৫-ওএইচ-ডি তে রূপান্তরিত হয়। এটি ভিটামিন ডি-এর প্রধান সঞ্চিত রূপ।
তৃতীয় ধাপ (কিডনিতে): ২৫-ওএইচ-ডি তখন কিডনিতে যায়। কিডনিতে থাকা ১-আলফা-হাইড্রক্সিলেজ (1α-hydroxylase) নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম এই ২৫-ওএইচ-ডি কে তার চূড়ান্ত এবং সক্রিয় রূপ ১,২৫-ডাইহাইড্রক্সিভিটামিন ডি বা ক্যালসিট্রিয়লে রূপান্তরিত করে।
এই সক্রিয় রূপটিই অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ এবং হাড়ের খনিজকরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
a) ২৫-হাইড্রক্সি-কোলে ক্যালসিফেরল: এটি যকৃতে উৎপন্ন হয়, কিডনিতে নয়। এটি ভিটামিন ডি-এর সঞ্চিত রূপ।
c) কোলে ক্যালসিফেরল: এটি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে ত্বকে উৎপন্ন হয়।
d) আরগোক্যালসিফেরল: এটি উদ্ভিদ উৎস থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন D2​। এটি মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি-এর একটি রূপ হলেও, এটি কিডনিতে তৈরি হয় না।

রেফারেন্স: Guyton & Hall Physiology

৭৫.
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে (Chronic kidney disease - CKD) কোন খনিজের অস্বাভাবিকতা সেকেন্ডারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম (Secondary hyperparathyroidism) ঘটায়?
  1. Hypocalcemia (হাইপোক্যালসেমিয়া)
  2. Hypercalcemia (হাইপারক্যালসেমিয়া)
  3. Hypermagnesemia (হাইপারম্যাগনেসেমিয়া)
  4. Hyponatremia (হাইপোনাট্রেমিয়া)
সঠিক উত্তর:
Hypercalcemia (হাইপারক্যালসেমিয়া)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hypercalcemia (হাইপারক্যালসেমিয়া)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) হাইপোক্যালসেমিয়া (Hypocalcemia)।

কেন এটি সঠিক: সেকেন্ডারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরের অন্য কোনো রোগের (এই ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ) কারণে প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত পরিমাণে প্যারাথাইরয়েড হরমোন (PTH) তৈরি করে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করে।

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে:

ভিটামিন ডি-এর অভাব: কিডনি রোগ হলে ভিটামিন ডি-এর সক্রিয় রূপ ক্যালসিট্রিয়ল তৈরি কমে যায়।
ক্যালসিয়াম শোষণের অভাব: সক্রিয় ভিটামিন ডি-এর অভাবে অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ কমে যায়, যার ফলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যায় (হাইপোক্যালসেমিয়া)।
পিটিএইচ-এর নিঃসরণ: শরীর তখন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থিকে সংকেত পাঠায়। এর ফলে অতিরিক্ত পরিমাণে পিটিএইচ নিঃসৃত হয়, যা সেকেন্ডারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম ঘটায়।
সুতরাং, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে হাইপোক্যালসেমিয়া হলো সেই প্রধান কারণ যা প্যারাথাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) হাইপারক্যালসেমিয়া (Hypercalcemia): হাইপারক্যালসেমিয়া হলো রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, যা সেকেন্ডারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজমের কারণ নয়। এটি সাধারণত প্রাইমারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজমের একটি বৈশিষ্ট্য।
c) হাইপারম্যাগনেসেমিয়া (Hypermagnesemia): এটি কিডনি ব্যর্থতায় দেখা দিতে পারে, কিন্তু এটি সেকেন্ডারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজমের সরাসরি কারণ নয়।
d) হাইপোনাট্রেমিয়া (Hyponatremia): এটি সোডিয়ামের মাত্রার ভারসাম্যহীনতা, যার সাথে প্যারাথাইরয়েড হরমোন বা ক্যালসিয়াম বিপাকের কোনো সম্পর্ক নেই।

রেফারেন্স: Harrison’s Internal Medicine; KDIGO Guidelines

৭৬.
ভিটামিন ডি ঘাটতি রিকেটস-এ প্রথম যে বায়োকেমিক্যাল অস্বাভাবিকতা দেখা যায় তা কোনটি?
(Which of the following is the earliest biochemical abnormality in Vitamin D deficiency rickets?)
  1. Hypophosphatemia (হাইপোফসফাটেমিয়া)
  2. Hypocalcemia (হাইপোক্যালসেমিয়া)
  3. Elevated serum alkaline phosphatase (সিরাম অ্যালকেলাইন ফসফাটেজ বৃদ্ধি)
  4. Hyperparathyroidism (হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম)
সঠিক উত্তর:
Hypophosphatemia (হাইপোফসফাটেমিয়া)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hypophosphatemia (হাইপোফসফাটেমিয়া)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) হাইপোফসফাটেমিয়া (Hypophosphatemia)।

কেন এটি সঠিক: রিকেটস হলো শিশুদের ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিজনিত একটি রোগ, যা হাড়কে নরম ও ভঙ্গুর করে। এই রোগের বায়োকেমিক্যাল অস্বাভাবিকতাগুলো একটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুযায়ী ঘটে।

ভিটামিন ডি-এর ভূমিকা: ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট উভয়ের শোষণকে উৎসাহিত করে। যখন ভিটামিন ডি-এর অভাব হয়, তখন প্রথমে ফসফেটের শোষণ কমে যায়। এর কারণ হলো ফসফেট ক্যালসিয়ামের চেয়ে ভিটামিন ডি-এর প্রতি বেশি সংবেদনশীল।
হাইপোফসফাটেমিয়া: ভিটামিন ডি-এর শোষণ কমে যাওয়ায় ফসফেটের মাত্রা প্রথমে রক্তে কমে যায়। এটিই রিকেটসের সবচেয়ে প্রথম বায়োকেমিক্যাল লক্ষণ।
পরবর্তী ধাপ: এরপর শরীরের ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য প্যারাথাইরয়েড হরমোন (PTH) নিঃসৃত হয়, যা কিডনি থেকে ফসফেটের নির্গমন বাড়িয়ে দেয় এবং হাড় থেকে ক্যালসিয়াম বের করে আনে। এর ফলে ক্যালসিয়ামের মাত্রা প্রথমে স্বাভাবিক থাকলেও পরে তা কমে যায় (হাইপোক্যালসেমিয়া)। এরপর হাড়ে মিনারেলিজেশনের অভাবে অ্যালকালাইন ফসফাটেজ (ALP) লেভেল বেড়ে যায়।
সুতরাং, হাইপোফসফাটেমিয়া হলো রিকেটস রোগের প্রথম বায়োকেমিক্যাল অস্বাভাবিকতা।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) হাইপোক্যালসেমিয়া: এটি রিকেটসের একটি লক্ষণ হলেও এটি প্রথম লক্ষণ নয়। প্রাথমিকভাবে শরীর ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে।
c) সিরাম অ্যালকালাইন ফসফাটেজ বৃদ্ধি: এই এনজাইমটি তখনই বাড়ে যখন হাড়ের ক্ষয় বা মেরামত প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটি একটি পরবর্তী লক্ষণ।
d) হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম: এটি রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমার একটি সেকেন্ডারি প্রতিক্রিয়া, প্রথম অস্বাভাবিকতা নয়।

রেফারেন্স: Nelson Textbook of Pediatrics; WHO – Rickets Guideline

৭৭.
Which enzyme system requires magnesium as a cofactor for ATP utilization?
(ATP ব্যবহারের জন্য কোন এনজাইম সিস্টেমে ম্যাগনেসিয়াম কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে?)
  1. Na⁺/K⁺-ATPase (সোডিয়াম-পটাশিয়াম-এটিপিএজ)
  2. Cytochrome oxidase (সাইটোক্রোম অক্সিডেজ)
  3. Glutathione reductase (গ্লুটাথায়ন রিডাক্টেজ)
  4. Catalase (ক্যাটালেজ)
সঠিক উত্তর:
Na⁺/K⁺-ATPase (সোডিয়াম-পটাশিয়াম-এটিপিএজ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Na⁺/K⁺-ATPase (সোডিয়াম-পটাশিয়াম-এটিপিএজ)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) সোডিয়াম-পটাশিয়াম-এটিপিএজ (Na+/K+-ATPase)।

কেন এটি সঠিক: এটিপি বা অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (adenosine triphosphate) হলো আমাদের শরীরের প্রধান শক্তি মুদ্রা। এটিপিতে থাকা শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন এনজাইম এবং প্রোটিন কাজ করে। এই প্রক্রিয়াগুলোর জন্য প্রায়ই ম্যাগনেসিয়াম একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর হিসেবে প্রয়োজন হয়।

Na+/K+-ATPase: এটি একটি পাম্প যা কোষের ঝিল্লিতে (cell membrane) থাকে। এর কাজ হলো সোডিয়াম (Na+) আয়নকে কোষের বাইরে পাম্প করা এবং পটাশিয়াম (K+) আয়নকে কোষের ভেতরে পাম্প করা। এটি স্নায়ু সংকেত এবং পেশীর সংকোচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পাম্পটি কাজ করার জন্য এটিপি থেকে শক্তি নেয়, এবং এই এটিপি-র সাথে বন্ধন তৈরি করার জন্য ম্যাগনেসিয়াম (Mg2+) আয়ন প্রয়োজন হয়। এটিপি-কে কার্যকরীভাবে ব্যবহার করতে ম্যাগনেসিয়াম অপরিহার্য।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
b) সাইটোক্রোম অক্সিডেজ (Cytochrome oxidase): এই এনজাইমটি ইলেকট্রন পরিবহন চেইন (electron transport chain)-এর একটি অংশ। এর কার্যকারিতার জন্য প্রধানত কপার (Copper) এবং আয়রন (Iron) প্রয়োজন হয়, ম্যাগনেসিয়াম নয়।
c) গ্লুটাথায়ন রিডাক্টেজ (Glutathione reductase): এই এনজাইমটি আমাদের শরীরকে অক্সিডেটিভ চাপ থেকে রক্ষা করে। এর কার্যকারিতার জন্য প্রধানত এফএডি (FAD) নামক কো-ফ্যাক্টর প্রয়োজন হয়।
d) ক্যাটালেজ (Catalase): ক্যাটালেজ হলো একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইম যা হাইড্রোজেন পারক্সাইডকে ভেঙে জল এবং অক্সিজেনে পরিণত করে। এই এনজাইমের কার্যকারিতার জন্য আয়রন (Iron) প্রয়োজন হয়।

রেফারেন্স: Guyton & Hall, Textbook of Medical Physiology

৭৮.
Hypomagnesemia is most commonly associated with which clinical manifestation?
(Hypomagnesemia সবচেয়ে সাধারণত কোন ক্লিনিক্যাল সমস্যার সাথে যুক্ত?)
  1. Cardiac arrhythmia (হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন)
  2. Goiter (গলগণ্ড)
  3. Night blindness (রাতকানা)
  4. Anemia (রক্তস্বল্পতা)
সঠিক উত্তর:
Cardiac arrhythmia (হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cardiac arrhythmia (হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন (Cardiac arrhythmia)।

কেন এটি সঠিক: ম্যাগনেসিয়াম হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা আমাদের স্নায়ু এবং পেশীর স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে হৃদপিণ্ডের পেশী এবং স্নায়ু সংকেত নিয়ন্ত্রণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

হৃদযন্ত্রের উপর প্রভাব: যখন রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমে যায় (হাইপোম্যাগনেসেমিয়া), তখন হৃদপিণ্ডের পেশী কোষগুলোর বৈদ্যুতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে হৃদপিণ্ডের কোষগুলো অতিরিক্ত সংবেদনশীল (excitable) হয়ে পড়ে এবং অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে।
অ্যারিথমিয়া: এই অস্বাভাবিক সংকেতগুলোর কারণে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যায়, যাকে কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া বলা হয়। এটি একটি গুরুতর অবস্থা এবং চিকিৎসা না করা হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
তাই, হাইপোম্যাগনেসেমিয়া হলো অ্যারিথমিয়ার একটি প্রধান কারণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) গলগণ্ড (Goiter): এটি আয়োডিনের অভাবজনিত একটি রোগ, ম্যাগনেসিয়ামের নয়।
c) রাতকানা (Night blindness): এটি ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত একটি লক্ষণ, ম্যাগনেসিয়ামের নয়।
d) অ্যানিমিয়া (Anemia): রক্তস্বল্পতা সাধারণত আয়রন, ভিটামিন বি১২, ফলিক অ্যাসিড বা কপারের অভাবের কারণে হয়। ম্যাগনেসিয়ামের অভাব সরাসরি অ্যানিমিয়া ঘটায় না।

রেফারেন্স: Harrison’s Internal Medicine; WHO – Micronutrient Deficiency

৭৯.
Which condition impairs magnesium absorption in the intestine?
(অন্ত্রে কোন অবস্থায় Magnesium শোষণ ব্যাহত হয়?)
  1. Chronic diarrhea (দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া)
  2. Hypothyroidism (হাইপোথাইরয়েডিজম)
  3. Vitamin A deficiency (ভিটামিন A ঘাটতি)
  4. Hypertension (উচ্চ রক্তচাপ)
সঠিক উত্তর:
Chronic diarrhea (দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Chronic diarrhea (দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া (Chronic diarrhea)।

কেন এটি সঠিক: ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত ক্ষুদ্রান্ত্র (small intestine) এবং বৃহদন্ত্রের (colon) মাধ্যমে শোষিত হয়। যখন একজন ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ায় ভোগেন, তখন হজম হওয়া খাবার দ্রুত অন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলে যায়, যার ফলে শরীর পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়াম, শোষণ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না।

ম্যাগনেসিয়াম এবং দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া: দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল এবং ইলেক্ট্রোলাইট (যেমন: ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম) বেরিয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা হাইপোম্যাগনেসেমিয়া ঘটায়। এই ঘাটতি হৃদরোগ এবং স্নায়ুজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে।
সুতরাং, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হলো একটি প্রধান ক্লিনিকাল অবস্থা যা অন্ত্রে ম্যাগনেসিয়ামের শোষণকে ব্যাহত করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism): এটি একটি থাইরয়েড রোগ যা শরীরের বিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এর সাথে ম্যাগনেসিয়াম শোষণের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
c) ভিটামিন এ ঘাটতি: ভিটামিন এ-এর অভাব প্রধানত দৃষ্টিশক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, ম্যাগনেসিয়ামের শোষণকে নয়।
d) উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension): উচ্চ রক্তচাপ একটি কার্ডিওভাসকুলার রোগ। ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করলেও, উচ্চ রক্তচাপ ম্যাগনেসিয়াম শোষণকে প্রভাবিত করে না।

রেফারেন্স: WHO/FAO – Human Vitamin and Mineral Requirements

৮০.
একটি ল্যাব এক্সপেরিমেন্টে দেখা গেল, কোনো এনজাইমে সাবস্ট্রেট কনসেন্ট্রেশন বাড়ালেও Vmax একই থাকছে, কিন্তু Km অনেক বেড়ে গেছে। এখানে ইনহিবিটরটির ধরণ কী?
(In an experiment, enzyme shows unchanged Vmax but increased Km with increasing substrate concentration. What type of inhibitor is present?)
  1. কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর (Competitive inhibitor)
  2. নন-কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর (Non-competitive inhibitor)
  3. আনকম্পিটিটিভ ইনহিবিটর (Uncompetitive inhibitor)
  4. সুইসাইড ইনহিবিটর (Suicide inhibitor)
সঠিক উত্তর:
কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর (Competitive inhibitor)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর (Competitive inhibitor)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর (Competitive inhibitor)।

কেন এটি সঠিক: এনজাইম ইনহিবিশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি অণু এনজাইমের কার্যকলাপকে বাধা দেয়। বিভিন্ন ধরনের ইনহিবিটর বিভিন্নভাবে এনজাইমকে প্রভাবিত করে।

কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর: এই ধরনের ইনহিবিটর সাবস্ট্রেটের সাথে প্রতিযোগিতা করে এনজাইমের সক্রিয় সাইটে (active site) যুক্ত হয়। এর ফলে সাবস্ট্রেট এনজাইমের সাথে যুক্ত হতে পারে না এবং বিক্রিয়ার হার কমে যায়।

Vmax (সর্বোচ্চ বিক্রিয়া হার): যদি সাবস্ট্রেটের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে এটি ইনহিবিটরকে প্রতিস্থাপন করতে পারে এবং এনজাইমের সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করতে পারে। তাই, Vmax অপরিবর্তিত থাকে।
Km (মাইকেলিস ধ্রুবক): Km হলো সেই সাবস্ট্রেট কনসেন্ট্রেশন, যেখানে বিক্রিয়ার হার Vmax-এর অর্ধেক হয়। কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর উপস্থিত থাকলে, Vmax-এর অর্ধেক গতিতে পৌঁছাতে আরও বেশি সাবস্ট্রেট কনসেন্ট্রেশন প্রয়োজন হয়। তাই, Km বেড়ে যায়।
এই কারণে, যদি Vmax একই থাকে কিন্তু Km বেড়ে যায়, তাহলে ইনহিবিটরটি অবশ্যই কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) নন-কম্পিটিটিভ ইনহিবিটর: এই ইনহিবিটর এনজাইমের অন্য একটি সাইটে যুক্ত হয় এবং এর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে Vmax কমে যায়, কিন্তু Km অপরিবর্তিত থাকে।
c) আনকম্পিটিটিভ ইনহিবিটর: এই ইনহিবিটর শুধুমাত্র এনজাইম-সাবস্ট্রেট কমপ্লেক্সের (enzyme-substrate complex) সাথে যুক্ত হয়। এর ফলে Vmax এবং Km উভয়ই কমে যায়।
d) সুইসাইড ইনহিবিটর: এই ইনহিবিটর এনজাইমের সাথে অপরিবর্তনীয়ভাবে (irreversibly) যুক্ত হয় এবং এনজাইমকে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের ইনহিবিশন এবং এটি Vmax ও Km-এর এই নির্দিষ্ট প্যাটার্ন দেখায় না।

কেন সঠিক: Competitive inhibition-এ Vmax অপরিবর্তিত থাকে, কিন্তু Km বেড়ে যায়।

৮১.
রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন (I-131) দিয়ে থাইরয়েড গ্রন্থি পরীক্ষা করা হলো। আপটেক রেট খুব কম পাওয়া গেল। কোন রোগ সন্দেহ করা যায়?
(Thyroid scan with I-131 shows markedly reduced uptake. Which condition is suspected?)
  1. গ্রেভস রোগ (Graves’ disease)
  2. হাইপোথাইরয়েডিজম (হাশিমোটোস)
  3. হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism)
  4. থাইরয়েড স্টর্ম (Thyroid storm)
সঠিক উত্তর:
হাইপোথাইরয়েডিজম (হাশিমোটোস)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইপোথাইরয়েডিজম (হাশিমোটোস)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) হাইপোথাইরয়েডিজম (হাশিমোটোস)।

কেন এটি সঠিক: থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন আপটেক টেস্ট (RAIU test) ব্যবহার করা হয়। থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন একটি অপরিহার্য উপাদান।

আয়োডিনের আপটেক (Uptake): একটি সুস্থ থাইরয়েড গ্রন্থি রক্ত থেকে আয়োডিন শোষণ করে এবং থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। যখন গ্রন্থিটি অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে, তখন এটি বেশি আয়োডিন শোষণ করে। আর যখন এটি নিষ্ক্রিয় থাকে, তখন শোষণ কমে যায়।
হাশিমোটোস থাইরয়েডাইটিস: এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে এবং ধীরে ধীরে এটিকে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে গ্রন্থিটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। যেহেতু গ্রন্থিটি ক্ষতিগ্রস্ত, তাই এটি রক্ত থেকে আয়োডিন শোষণ করতে পারে না, যার ফলে রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন আপটেক রেট খুব কম পাওয়া যায়।
অতএব, রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন আপটেক রেট কম হওয়া সরাসরি থাইরয়েড গ্রন্থির নিষ্ক্রিয়তাকে (হাইপোথাইরয়েডিজম) নির্দেশ করে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) গ্রেভস রোগ (Graves’ disease) ও c) হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism): এই দুটি রোগেই থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে। এর ফলে গ্রন্থিটি অতিরিক্ত পরিমাণে আয়োডিন শোষণ করে। তাই, আপটেক রেট অনেক বেশি পাওয়া যায়।
d) থাইরয়েড স্টর্ম (Thyroid storm): এটি হাইপারথাইরয়েডিজমের একটি তীব্র এবং গুরুতর অবস্থা। এই অবস্থায় থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা চরমভাবে বেড়ে যায়, কিন্তু এর ফলে আয়োডিন আপটেক রেট কমে যায় না। এটি একটি ক্লিনিকাল ইমার্জেন্সি।

রেফারেন্স: Harrison’s Internal Medicine.

৮২.
একটি এনজাইম পরীক্ষায় অপটিমাম তাপমাত্রা ছিল ৩৭°C। কিন্তু ৪২°C তাপমাত্রায় এনজাইমের কার্যকারিতা হঠাৎ অর্ধেক হয়ে যায় এবং আর ফিরে আসে না। এর কারণ কী?
(Enzyme activity drops permanently after 42°C despite higher temperature. Why?)
  1. এনজাইম ডিন্যাচারেশন (Enzyme denaturation)
  2. সাবস্ট্রেট শেষ হয়ে যাওয়া (Substrate depletion)
  3. কম্পিটিটিভ ইনহিবিশন (Competitive inhibition)
  4. অ্যালোস্টেরিক ইনহিবিশন (Allosteric inhibition)
সঠিক উত্তর:
এনজাইম ডিন্যাচারেশন (Enzyme denaturation)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনজাইম ডিন্যাচারেশন (Enzyme denaturation)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) এনজাইম ডিন্যাচারেশন (Enzyme denaturation)।

কেন এটি সঠিক: এনজাইম হলো প্রোটিন দ্বারা গঠিত এক ধরনের অনুঘটক। প্রোটিনের একটি নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন থাকে, যা তার কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। এই গঠনটি বিভিন্ন দুর্বল বন্ধন দ্বারা ধরে রাখা হয়।

তাপমাত্রার প্রভাব: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার নিচে এনজাইমের কার্যকলাপ বাড়ে, কারণ অণুগুলো দ্রুত নড়াচড়া করে এবং একে অপরের সাথে সংঘর্ষ হয়। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (অপটিমাম টেম্পারেচার) এনজাইমটি তার সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করে।
ডিন্যাচারেশন: যখন তাপমাত্রা অপটিমাম তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়, তখন এনজাইমের ত্রিমাত্রিক গঠন ধরে রাখা দুর্বল বন্ধনগুলো ভেঙে যায়। এই প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারেশন বলা হয়। যখন এনজাইমটি ডিন্যাচার হয়ে যায়, তখন এর সক্রিয় সাইট (active site) তার আকার হারায় এবং সাবস্ট্রেটের সাথে সঠিকভাবে যুক্ত হতে পারে না। যেহেতু এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত অপরিবর্তনীয় (irreversible), তাই তাপমাত্রা আবার কমিয়ে দিলেও এনজাইমের কার্যকলাপ আর ফিরে আসে না।
যেহেতু ৪২°C তাপমাত্রায় এনজাইমের কার্যকলাপ স্থায়ীভাবে অর্ধেক হয়ে গেছে, এটি ডিন্যাচারেশনের একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) সাবস্ট্রেট শেষ হয়ে যাওয়া (Substrate depletion): সাবস্ট্রেট শেষ হয়ে গেলে এনজাইমের কার্যকলাপ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেত। নতুন করে সাবস্ট্রেট যোগ করলে কার্যকলাপ আবার শুরু হতো, যা এখানে ঘটেনি।
c) কম্পিটিটিভ ইনহিবিশন এবং d) অ্যালোস্টেরিক ইনহিবিশন: এই দুটি ইনহিবিশন হলো এনজাইমের কার্যকলাপ কমানোর একটি প্রক্রিয়া, যা সাধারণত পরিবর্তনীয় (reversible)। এই ক্ষেত্রে এনজাইমটি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায় না। যদি ইনহিবিটর সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে কার্যকলাপ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসত, যা এই ক্ষেত্রে ঘটেনি।

রেফারেন্স: Voet & Voet Biochemistry.

৮৩.
একজন গবেষক ইঁদুরের ইনসুলিন রিসেপ্টর জিনকে নিষ্ক্রিয় করে দিলেন। এর ফলে ইঁদুরগুলোর মধ্যে কোন লক্ষণটি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?
(A researcher deactivated the insulin receptor gene in mice. As a result, which symptom would the mice most likely show?)
  1. তীব্র হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Severe hypoglycemia )
  2. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সহ হাইপারগ্লাইসেমিয়া (Insulin resistance with hyperglycemia)
  3. কুশিংয়েড চেহারা (Cushingoid appearance)
  4. হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সহ হাইপারগ্লাইসেমিয়া (Insulin resistance with hyperglycemia)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সহ হাইপারগ্লাইসেমিয়া (Insulin resistance with hyperglycemia)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সহ হাইপারগ্লাইসেমিয়া।

কেন এটি সঠিক: ইনসুলিন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোষের ইনসুলিন রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে কোষকে রক্ত থেকে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে সংকেত দেয়।

ইনসুলিন রিসেপ্টর নকআউট: যখন ইনসুলিন রিসেপ্টর তৈরির জিনটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়, তখন কোষের পৃষ্ঠে কোনো ইনসুলিন রিসেপ্টর থাকে না। এর ফলে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করলেও, এই ইনসুলিন কোষের সাথে যুক্ত হতে পারে না এবং তার কাজ করতে পারে না।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও হাইপারগ্লাইসেমিয়া: যেহেতু ইনসুলিন কোষকে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে সংকেত দিতে ব্যর্থ হয়, তাই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, যাকে হাইপারগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এই অবস্থাটিকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়, কারণ শরীর ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়। এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সুতরাং, ইনসুলিন রিসেপ্টর জিন নিষ্ক্রিয় করলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দেখা যাবে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) তীব্র হাইপোগ্লাইসেমিয়া: হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলো রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, যা তখন হতো যদি ইনসুলিন অতিরিক্ত পরিমাণে কাজ করত। ইনসুলিন রিসেপ্টর না থাকলে এর প্রভাব বিপরীত হবে।
c) কুশিংয়েড চেহারা (Cushingoid appearance): কুশিংয়েড চেহারা অতিরিক্ত কর্টিসল (cortisol) হরমোনের কারণে হয়, যা ইনসুলিন রিসেপ্টরের সাথে সম্পর্কিত নয়।
d) হাইপোথাইরয়েডিজম: এটি থাইরয়েড হরমোনের অভাবজনিত রোগ, যা ইনসুলিনের সাথে সম্পর্কিত নয়।

রেফারেন্স: Voet & Voet Biochemistry.

৮৪.
যদি কোনো রোগীর রক্ত পরীক্ষায় ↑TSH কিন্তু ↓T4 দেখা যায়, তাহলে সমস্যা কোথায়?
(If blood test shows high TSH but low T4, where is the primary defect?)
  1. পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland )
  2. হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus)
  3. থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland )
  4. অ্যাড্রেনাল কর্টেক্স (Adrenal cortex)
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland )
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland )
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) থাইরয়েড গ্রন্থি।

কেন এটি সঠিক: আমাদের শরীরের থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা একটি জটিল চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

সাধারণ প্রক্রিয়া: হাইপোথ্যালামাস টিআরএইচ (TRH) হরমোন তৈরি করে, যা পিটুইটারি গ্রন্থিকে সংকেত দেয় টিএসএইচ (TSH) হরমোন তৈরি করার জন্য। এই টিএসএইচ তখন থাইরয়েড গ্রন্থিকে থাইরয়েড হরমোন টি৪ (T4) এবং টি৩ (T3) তৈরি ও নিঃসরণ করার জন্য উদ্দীপিত করে। যখন টি৪ এবং টি৩ এর মাত্রা স্বাভাবিক থাকে, তখন তারা নেগেটিভ ফিডব্যাক-এর মাধ্যমে টিএসএইচ উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।
রোগীর অবস্থা:

উচ্চ টিএসএইচ (↑TSH): রক্তে টিএসএইচ এর উচ্চ মাত্রা নির্দেশ করে যে পিটুইটারি গ্রন্থি থাইরয়েডকে আরও বেশি কাজ করার জন্য সংকেত পাঠাচ্ছে।
নিম্ন টি৪ (↓T4): কিন্তু রক্তে টি৪ এর মাত্রা কম, যা নির্দেশ করে যে থাইরয়েড গ্রন্থি এই সংকেত অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না বা পর্যাপ্ত পরিমাণে হরমোন তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এই দুটি লক্ষণ একসাথে দেখা গেলে বোঝা যায় যে থাইরয়েড গ্রন্থিটিই প্রধানত ক্ষতিগ্রস্ত। এই অবস্থাকে প্রাইমারি হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) পিটুইটারি গ্রন্থি বা b) হাইপোথ্যালামাস: যদি সমস্যা পিটুইটারি বা হাইপোথ্যালামাসে হতো (সেকেন্ডারি বা টারশিয়ারি হাইপোথাইরয়েডিজম), তাহলে টিএসএইচ এর উৎপাদন কমে যেত, যার ফলে টিএসএইচ এবং টি৪ উভয়ই কম হতো।
d) অ্যাড্রেনাল কর্টেক্স: অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি স্টেরয়েড হরমোন তৈরি করে, যা থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

রেফারেন্স: Ganong Physiology.

৮৫.
একটি নতুন ড্রাগ ল্যাকটেজ এনজাইমকে বাধা দেয় (inhibit)। কোন পরীক্ষামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এটি প্রমাণ করা যাবে?
(Which experimental test would prove lactase enzyme inhibition by a new drug?)
  1. ল্যাকটোজ গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়া (Increased blood glucose after lactose ingestion)
  2. ল্যাকটোজ গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া (Decreased blood glucose after lactose ingestion)
  3. ল্যাকটোজ গ্রহণের পর সেরাম ইনসুলিন বেড়ে যাওয়া (Increased serum insulin after lactose ingestion)
  4. প্রস্রাবে গ্যালাকটোজ নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া (Increased galactose excretion in urine)
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোজ গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া (Decreased blood glucose after lactose ingestion)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোজ গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া (Decreased blood glucose after lactose ingestion)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ল্যাকটোজ গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া।

কেন এটি সঠিক: ল্যাকটোজ হলো একটি ডাইস্যাকারাইড, যা দুটি মনোস্যাকারাইড (গ্লুকোজ এবং গ্যালাকটোজ) দিয়ে গঠিত। ল্যাকটোজকে হজম করার জন্য ল্যাকটেজ এনজাইম প্রয়োজন হয়। এই এনজাইমটি ল্যাকটোজকে ভেঙে গ্লুকোজ এবং গ্যালাকটোজ তৈরি করে, যা পরে অন্ত্রের মাধ্যমে শোষিত হয় এবং রক্তে প্রবেশ করে।

ড্রাগের কার্যকারিতা: যদি একটি নতুন ড্রাগ ল্যাকটেজ এনজাইমকে বাধা দেয়, তাহলে ল্যাকটোজ আর গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ-এ ভেঙে যাবে না। এর ফলে, ল্যাকটোজ খাওয়ার পরও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়বে না।
পরীক্ষামূলক প্রমাণ: ল্যাকটোজ খাওয়ার পর যদি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, তাহলে এটি সরাসরি প্রমাণ করবে যে ল্যাকটেজ এনজাইম কাজ করছে না।
সুতরাং, ল্যাকটোজ গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া এই ড্রাগের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ল্যাকটোজ গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়া: এটি একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। যদি এটি ঘটে, তাহলে বোঝা যাবে যে ড্রাগটি কাজ করছে না।
c) ল্যাকটোজ গ্রহণের পর সেরাম ইনসুলিন বেড়ে যাওয়া: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। যেহেতু ড্রাগটি গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে দেবে না, তাই ইনসুলিনের মাত্রাও বাড়বে না।
d) প্রস্রাবে গ্যালাকটোজ নিঃসরণ বেড়ে যাওয়া: ল্যাকটেজ এনজাইম যদি ল্যাকটোজকে ভাঙতেই না পারে, তাহলে গ্যালাকটোজ তৈরি হবে না। ফলে প্রস্রাবে গ্যালাকটোজ নিঃসরণ বেড়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

রেফারেন্স: Harper’s Biochemistry.

৮৬.
এক্সপেরিমেন্টাল কর্টিসল ইনফিউশন দিলে রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধি পেল। এর কারণ কী?
(Why does blood glucose rise after cortisol infusion?)
  1. গ্লাইকোলাইসিস বৃদ্ধি (Increased glycolysis)
  2. গ্লাইকোজেন সংশ্লেষণ বৃদ্ধি (Increased glycogen synthesis)
  3. গ্লুকোনিওজেনেসিস বৃদ্ধি এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Increased gluconeogenesis and insulin resistance)
  4. ইনসুলিন নিঃসরণ বৃদ্ধি (Increased insulin secretion)
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোনিওজেনেসিস বৃদ্ধি এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Increased gluconeogenesis and insulin resistance)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোনিওজেনেসিস বৃদ্ধি এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Increased gluconeogenesis and insulin resistance)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) গ্লুকোনিওজেনেসিস বৃদ্ধি এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স।

কেন এটি সঠিক: কর্টিসল (Cortisol) হলো একটি স্ট্রেস হরমোন যা অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। এটি শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যার মধ্যে অন্যতম হলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা।

গ্লুকোনিওজেনেসিস বৃদ্ধি: কর্টিসল যকৃতকে (liver) অ্যামিনো অ্যাসিড, ল্যাকটেট এবং ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো নন-কার্বোহাইড্রেট উৎস থেকে গ্লুকোজ তৈরি করতে উদ্দীপিত করে। এই প্রক্রিয়াকে গ্লুকোনিওজেনেসিস বলা হয়। এর ফলে যকৃত থেকে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ মুক্ত হয়।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: একই সাথে, কর্টিসল শরীরের কোষগুলোতে ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে ইনসুলিন কোষকে রক্ত থেকে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে সঠিকভাবে সংকেত দিতে পারে না। কোষগুলো তখন গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না এবং রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়।
এই দুটি কারণ একত্রিত হয়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে, যা কর্টিসল ইনফিউশনের পর দেখা যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) গ্লাইকোলাইসিস বৃদ্ধি: গ্লাইকোলাইসিস হলো গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া। যদি এটি বাড়তো, তাহলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যেত, বাড়তো না।
b) গ্লাইকোজেন সংশ্লেষণ বৃদ্ধি: গ্লাইকোজেন সংশ্লেষণ হলো রক্ত থেকে গ্লুকোজ নিয়ে গ্লাইকোজেন হিসেবে যকৃতে সঞ্চয় করা। এই প্রক্রিয়া বাড়লে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমতো, বাড়তো না।
d) ইনসুলিন নিঃসরণ বৃদ্ধি: কর্টিসল ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায় না, বরং ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

রেফারেন্স: Guyton Physiology.

৮৭.
এক্সপেরিমেন্টালি সায়ানাইড যোগ করলে সেলুলার রেসপিরেশন (cellular respiration) সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়। কোন এনজাইমটি ব্লক হয়?
(Experimental addition of cyanide stops cellular respiration immediately. Which enzyme is blocked?)
  1. Cytochrome c oxidase
  2. Succinate dehydrogenase
  3. Pyruvate dehydrogenase
  4. ATP synthase
সঠিক উত্তর:
Cytochrome c oxidase
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cytochrome c oxidase
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) সাইটোক্রোম সি অক্সিডেজ (Cytochrome c oxidase)।

কেন এটি সঠিক: সেলুলার রেসপিরেশন বা কোষীয় শ্বসন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদন করে। এই প্রক্রিয়ার একটি প্রধান ধাপ হলো ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন (electron transport chain), যা মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের পর্দায় ঘটে।

সায়ানাইডের কার্যকারিতা: সায়ানাইড একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিষাক্ত পদার্থ যা ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের শেষ ধাপটিকে সম্পূর্ণভাবে ব্লক করে দেয়। এটি কমপ্লেক্স IV বা সাইটোক্রোম সি অক্সিডেজ নামক এনজাইমটির সাথে শক্তভাবে যুক্ত হয়।

ফলাফল: এই এনজাইমটি অক্সিজেনে ইলেকট্রন স্থানান্তর করার জন্য দায়ী। যখন সায়ানাইড এটিকে ব্লক করে দেয়, তখন ইলেকট্রন প্রবাহ থেমে যায় এবং চূড়ান্তভাবে এটিপি (ATP) উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু এটিপি হলো শরীরের প্রধান শক্তি উৎস, তাই শক্তি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে কোষের মৃত্যু ঘটে।

এই কারণে, সায়ানাইড যোগ করলে সাথে সাথে সেলুলার রেসপিরেশন বন্ধ হয়ে যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
b) সাক্সিনেট ডিহাইড্রোজিনেজ (Succinate dehydrogenase): এটি কমপ্লেক্স II। এই এনজাইমটি ম্যালনেট (malonate) নামক ইনহিবিটর দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়, সায়ানাইড দ্বারা নয়।
c) পাইরুভেট ডিহাইড্রোজিনেজ (Pyruvate dehydrogenase): এই এনজাইমটি ক্র্যাবস সাইকেলের (Krebs cycle) আগে পাইরুভেটকে অ্যাসিটাইল-কোএতে রূপান্তর করে। এটি আর্সেনিক দ্বারা ইনহিবিটেড হয়, সায়ানাইড দ্বারা নয়।
d) এটিপি সিনথেজ (ATP synthase): এই এনজাইমটি এটিপি তৈরি করে। এটি অলিগোমাইসিন (oligomycin) নামক একটি পদার্থ দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়, সায়ানাইড দ্বারা নয়।

রেফারেন্স: Lehninger Principles of Biochemistry.

৮৮.
ইনডাইরেক্ট ক্যালরিমেট্রিতে (indirect calorimetry) রেসপিরেটরি কোশেন্ট (RQ) যদি ০.৯ হয়, তবে কোন পুষ্টি উপাদান মিশ্রণ বিপাক বেশি নির্দেশ করে? (If RQ = 0.9 in indirect calorimetry, which nutrient metabolism is dominant?)
  1. বিশুদ্ধ কার্বোহাইড্রেট অক্সিডেশন (Pure carbohydrate oxidation)
  2. বিশুদ্ধ ফ্যাট অক্সিডেশন (Pure fat oxidation)
  3. কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট মিশ্র অক্সিডেশন (Mixed carbohydrate and fat oxidation )
  4. উপবাস অবস্থা (Starvation state)
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট মিশ্র অক্সিডেশন (Mixed carbohydrate and fat oxidation )
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট মিশ্র অক্সিডেশন (Mixed carbohydrate and fat oxidation )
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: c) কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট মিশ্র অক্সিডেশন।

কেন এটি সঠিক: রেসপিরেটরি কোশেন্ট (RQ) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ মান যা শরীরের বিপাকীয় অবস্থা নির্ধারণ করে। এটি নিঃশ্বাসে বের হওয়া কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2​) এবং নেওয়া অক্সিজেনের (O2​) অনুপাত।

RQ=উৎপন্ন CO2​ এর পরিমাণ​/ব্যবহৃত O2​ এর পরিমাণ

বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের জন্য RQ-এর মান ভিন্ন হয়:

বিশুদ্ধ কার্বোহাইড্রেট অক্সিডেশন: কার্বোহাইড্রেট বিপাকের সময় RQ-এর মান হলো ১.০। এর কারণ হলো কার্বোহাইড্রেট হজমের জন্য যে পরিমাণ O2​ প্রয়োজন হয়, প্রায় সেই পরিমাণ CO2​ উৎপন্ন হয়।
বিশুদ্ধ ফ্যাট অক্সিডেশন: ফ্যাট হজমের সময় RQ-এর মান হলো ০.৭। এর কারণ হলো ফ্যাট অণুগুলোতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় এটি হজমের জন্য অনেক বেশি O2​ প্রয়োজন হয়।
প্রোটিন অক্সিডেশন: প্রোটিন বিপাকের সময় RQ-এর মান প্রায় ০.৮।
যেহেতু, এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে RQ-এর মান ০.৯, যা ১.০ এবং ০.৭ এর মাঝামাঝি, এটি নির্দেশ করে যে শরীর শক্তি উৎপাদনের জন্য কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাট উভয়ই ব্যবহার করছে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) বিশুদ্ধ কার্বোহাইড্রেট অক্সিডেশন: এই ক্ষেত্রে RQ-এর মান ১.০ হতো।
b) বিশুদ্ধ ফ্যাট অক্সিডেশন: এই ক্ষেত্রে RQ-এর মান ০.৭ হতো।
d) উপবাস অবস্থা: উপবাসের সময় শরীর প্রথমে কার্বোহাইড্রেটের সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ব্যবহার করে, তারপর ফ্যাট ব্যবহার শুরু করে। তাই, উপবাসের সময় RQ-এর মান ধীরে ধীরে ১.০ থেকে কমে ০.৭-এর দিকে চলে যায়।

৮৯.
একজন ক্রীড়াবিদ উচ্চ-প্রোটিন খাদ্য গ্রহণের পর তার energy expenditure বৃদ্ধি পেল। এর প্রধান কারণ কী?
(Athlete’s energy expenditure increased after high-protein diet. The main reason is—)
  1. গ্লাইকোজেন সঞ্চয় বৃদ্ধি (Increased glycogen storage)
  2. খাবারের তাপীয় প্রভাব বৃদ্ধি (Increased Thermic Effect of Food)
  3. অভিযোজিত তাপ উৎপাদন বৃদ্ধি (Increased adaptive thermogenesis)
  4. ATP সংশ্লেষণের দক্ষতা বৃদ্ধি (Increased ATP synthesis efficiency)
সঠিক উত্তর:
খাবারের তাপীয় প্রভাব বৃদ্ধি (Increased Thermic Effect of Food)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাবারের তাপীয় প্রভাব বৃদ্ধি (Increased Thermic Effect of Food)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) খাবারের তাপীয় প্রভাব বৃদ্ধি (Increased Thermic Effect of Food - TEF)।

কেন এটি সঠিক: খাবারের তাপীয় প্রভাব (TEF) হলো খাবার হজম, শোষণ, পরিবহন এবং পুষ্টি উপাদান বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যয়। এটি মোট শক্তি ব্যয়ের প্রায় ১০%।

প্রোটিনের TEF: বিভিন্ন ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের TEF আলাদা।

প্রোটিন: প্রোটিন হজম এবং বিপাকের জন্য শরীরের সবচেয়ে বেশি শক্তি ব্যয় হয়। প্রোটিনের TEF প্রায় ২০-৩০%, যার মানে হলো প্রোটিন থেকে প্রাপ্ত মোট ক্যালরির ২০-৩০% এটি হজম করতেই ব্যয় হয়ে যায়।
কার্বোহাইড্রেট: কার্বোহাইড্রেটের TEF প্রায় ৫-১০%।
ফ্যাট: ফ্যাটের TEF সবচেয়ে কম, মাত্র ০-৩%।
যেহেতু প্রোটিনের TEF অন্য দুটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের চেয়ে অনেক বেশি, তাই একজন ক্রীড়াবিদ যখন উচ্চ-প্রোটিন খাদ্য গ্রহণ করেন, তখন তার শরীরের মোট শক্তি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) গ্লাইকোজেন সঞ্চয় বৃদ্ধি: গ্লাইকোজেন সঞ্চয় করার জন্য কিছু শক্তি প্রয়োজন হলেও, এটি খাবারের তাপীয় প্রভাবের মতো এত বড় প্রভাব ফেলে না।
c) অভিযোজিত তাপ উৎপাদন বৃদ্ধি (Adaptive thermogenesis): এটি শরীরের বিপাকীয় হার পরিবর্তন করার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা ঠান্ডা আবহাওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী ক্যালরি ঘাটতির প্রতিক্রিয়ায় ঘটে। এটি প্রোটিন গ্রহণের মতো একটি একক ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
d) এটিপি সংশ্লেষণের দক্ষতা বৃদ্ধি: পুষ্টি গ্রহণের ফলে এটিপি সংশ্লেষণের দক্ষতা সরাসরি বৃদ্ধি পায় না। এটিপি সংশ্লেষণের দক্ষতা একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদের উপর নির্ভর করে না।

রেফারেন্স: Mahan’s Textbook.

৯০.
অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ (overfeeding) গবেষণায় দেখা যায় শক্তি ব্যয় (energy expenditure) বেড়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে কী বলে?
(In overfeeding experiments, increased energy expenditure is termed as—)
  1. বেসাল বিপাক (Basal metabolism)
  2. অভিযোজিত তাপ উৎপাদন (Adaptive thermogenesis)
  3. খাবারের তাপীয় প্রভাব (Thermic effect of food)
  4. বিশ্রাম শক্তি ব্যয় (Resting energy expenditure)
সঠিক উত্তর:
অভিযোজিত তাপ উৎপাদন (Adaptive thermogenesis)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিযোজিত তাপ উৎপাদন (Adaptive thermogenesis)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) অভিযোজিত তাপ উৎপাদন (Adaptive thermogenesis)।

কেন এটি সঠিক: অভিযোজিত তাপ উৎপাদন (Adaptive thermogenesis) হলো আমাদের শরীরের একটি প্রক্রিয়া, যা পরিবেশের তাপমাত্রা, মানসিক চাপ, বা পুষ্টির পরিবর্তনের মতো বাহ্যিক কারণগুলোর প্রতিক্রিয়ায় বিপাকীয় হারকে (metabolic rate) পরিবর্তন করে।

অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের প্রতিক্রিয়া: যখন একজন ব্যক্তি তার স্বাভাবিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খায় (overfeeding), তখন শরীর অতিরিক্ত শক্তিকে চর্বি হিসেবে সঞ্চয় করার পাশাপাশি অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন করে তা ব্যয় করার চেষ্টা করে। এই তাপ উৎপাদন হলো এক ধরনের অভিযোজন, যা শরীরের ওজন বাড়ার প্রক্রিয়াকে সীমিত করার চেষ্টা করে।
বিপাকীয় পরিবর্তন: এই প্রক্রিয়ায়, শরীরের বিপাকীয় হার স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, যা তাপ হিসেবে শক্তি নষ্ট করে। এটি খাবারের তাপীয় প্রভাব (Thermic Effect of Food) থেকে আলাদা, কারণ এটি নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের হজমের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক ব্যয় নয়, বরং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের একটি সমন্বয়মূলক প্রতিক্রিয়া।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) বেসাল বিপাক (Basal metabolism): এটি সেই শক্তি যা শরীর তার মৌলিক কার্যকারিতা (যেমন: শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত সঞ্চালন) বজায় রাখার জন্য সম্পূর্ণ বিশ্রাম অবস্থায় ব্যয় করে। এটি অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের কারণে পরিবর্তিত হয় না।
c) খাবারের তাপীয় প্রভাব (Thermic effect of food - TEF): এটি খাবার হজম, শোষণ এবং বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক শক্তি ব্যয়। এটি অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের একটি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং খাদ্য গ্রহণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
d) বিশ্রাম শক্তি ব্যয় (Resting energy expenditure - REE): এটিও বেসাল বিপাকের মতোই, তবে এটি সামান্য কম কঠোর শর্তে পরিমাপ করা হয়। এটি অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের সরাসরি প্রতিক্রিয়া নয়।

রেফারেন্স: WHO Human Energy Requirements (2004).

৯১.
ডাবলি লেবেলড ওয়াটার (doubly labeled water) গবেষণায় দেখা গেল যে একজন ব্যক্তির মোট শক্তি ব্যয় (TEE) গবেষণাগারে করা ইনডাইরেক্ট ক্যালরিমেট্রির চেয়ে বেশি। এর কারণ কী হতে পারে?
(In doubly labeled water, TEE was higher than lab indirect calorimetry. Why?)
  1. ডাবলি লেবেলড ওয়াটার মেথডে ভুল (Overestimation error in DLW)
  2. ফ্রি-লিভিং অবস্থায় অতিরিক্ত শারীরিক কাজ (Extra physical activity in free-living condition)
  3. বেশি প্রোটিন গ্রহণ (Higher protein intake)
  4. কম বেসাল মেটাবলিজম (Low BMR)
সঠিক উত্তর:
ফ্রি-লিভিং অবস্থায় অতিরিক্ত শারীরিক কাজ (Extra physical activity in free-living condition)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রি-লিভিং অবস্থায় অতিরিক্ত শারীরিক কাজ (Extra physical activity in free-living condition)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) ফ্রি-লিভিং অবস্থায় অতিরিক্ত শারীরিক কাজ।

কেন এটি সঠিক: ডাবলি লেবেলড ওয়াটার (DLW) এবং ইনডাইরেক্ট ক্যালরিমেট্রি (Indirect Calorimetry) হলো মোট শক্তি ব্যয় (Total Energy Expenditure - TEE) পরিমাপ করার দুটি ভিন্ন পদ্ধতি।

ডাবলি লেবেলড ওয়াটার (DLW): এই পদ্ধতিটি একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাপন অবস্থায় (free-living condition) দীর্ঘ সময়ের (যেমন: ১-৩ সপ্তাহ) জন্য মোট শক্তি ব্যয় পরিমাপ করে। এটি কেবল বেসাল বিপাকীয় হার (BMR) বা বিশ্রামকালীন শক্তি ব্যয় (REE) পরিমাপ করে না, বরং ব্যক্তির সমস্ত শারীরিক কার্যকলাপ, যেমন হাঁটা, কাজ করা, খেলাধুলা, ইত্যাদির জন্যও ব্যয় হওয়া শক্তি অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণে, এটি টিইই পরিমাপের জন্য "গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড" হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইনডাইরেক্ট ক্যালরিমেট্রি: এটি সাধারণত একটি আবদ্ধ স্থানে (যেমন: একটি গবেষণাগারে), অল্প সময়ের জন্য (যেমন: ৩০ মিনিট) ব্যক্তির শক্তি ব্যয় পরিমাপ করে। এই পদ্ধতিতে ব্যক্তির শারীরিক কার্যকলাপ খুব সীমিত বা প্রায় অনুপস্থিত থাকে।
যেহেতু DLW একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনের সব কার্যকলাপের জন্য ব্যয় হওয়া শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই DLW দ্বারা পরিমাপ করা টিইই-এর মান সাধারণত গবেষণাগারে পরিমাপ করা মানের চেয়ে বেশি হয়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
a) ডাবলি লেবেলড ওয়াটার মেথডে ভুল: DLW পদ্ধতিটিকে টিইই পরিমাপের জন্য সবচেয়ে নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই এর ভুলের সম্ভাবনা কম।
c) বেশি প্রোটিন গ্রহণ: উচ্চ প্রোটিন গ্রহণ খাবারের তাপীয় প্রভাব (Thermic Effect of Food - TEF) বাড়ায়, কিন্তু এই বৃদ্ধি সাধারণত দুটি পদ্ধতির মধ্যে এত বড় পার্থক্যের কারণ হয় না।
d) কম বেসাল বিপাকীয় হার (BMR): যদি বিএমআর কম হতো, তাহলে ব্যক্তির মোট শক্তি ব্যয়ও কম হতো, যা এই ফলাফলের বিপরীত।

৯২.
হাইপোক্যালোরিক ডায়েট (hypocaloric diet) গবেষণায় দেখা যায় শক্তি ব্যয় ধীরে ধীরে কমে যায়। এর শারীরবৃত্তীয় ব্যাখ্যা কী?
(In hypocaloric diet, energy expenditure gradually decreases. Why?)
  1. Increased BMR – বেসাল মেটাবলিজম বৃদ্ধি
  2. Decreased adaptive thermogenesis – অভিযোজিত তাপ উৎপাদন হ্রাস
  3. Increased TEF – খাবারের তাপীয় প্রভাব বৃদ্ধি
  4. Increased fat oxidation – ফ্যাট অক্সিডেশন বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
Decreased adaptive thermogenesis – অভিযোজিত তাপ উৎপাদন হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Decreased adaptive thermogenesis – অভিযোজিত তাপ উৎপাদন হ্রাস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) অভিযোজিত তাপ উৎপাদন হ্রাস (Decreased adaptive thermogenesis)।

কেন এটি সঠিক: হাইপোক্যালোরিক ডায়েট হলো সেই ধরনের খাদ্যগ্রহণ, যেখানে একজন ব্যক্তি তার শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করে। এই পরিস্থিতিতে শরীর তার টিকে থাকার জন্য কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটায়।

অভিযোজিত তাপ উৎপাদন হ্রাস: যখন শরীরের ক্যালরি গ্রহণ কমে যায়, তখন শরীর এটিকে একটি স্ট্রেস বা অনাহার অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে। তখন শরীর অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় কমিয়ে দেয় এবং শক্তি সংরক্ষণ করার জন্য তার বিপাকীয় হারকে কমিয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াটি হলো অভিযোজিত তাপ উৎপাদন (adaptive thermogenesis)-এর হ্রাস। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ক্যালরি ঘাটতি অবস্থায় শক্তি ব্যয় কমিয়ে জীবন ধারণে সাহায্য করে।
ফলাফল: এই প্রক্রিয়াটি ওজন কমানোকে আরও কঠিন করে তোলে, কারণ কম ক্যালরি গ্রহণ করা সত্ত্বেও শরীর কম শক্তি ব্যয় করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) বেসাল মেটাবলিজম বৃদ্ধি: হাইপোক্যালোরিক ডায়েটে বেসাল মেটাবলিজম (BMR) বাড়ে না, বরং কমে যায়।
c) খাবারের তাপীয় প্রভাব বৃদ্ধি: ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমে গেলে খাবারের তাপীয় প্রভাবও কমে যায়।
d) ফ্যাট অক্সিডেশন বৃদ্ধি: ক্যালরি ঘাটতিতে ফ্যাট অক্সিডেশন বাড়ে, কিন্তু এটি মোট শক্তি ব্যয় কমার কারণ নয়। বরং, শক্তি ব্যয় কমে যাওয়ায় ওজন কমার গতি কমে যায়, যদিও ফ্যাট ব্যবহার হয়।

রেফারেন্স: FAO/WHO/UNU 2004.

৯৩.
একজন গবেষক ইনডাইরেক্ট ক্যালরিমেট্রি দিয়ে শক্তি ব্যয় মাপলেন এবং দেখলেন রোগীর রেসপিরেটরি কোশেন্ট (RQ) ১.০ এর চেয়ে বেশি। এর সম্ভাব্য কারণ কী? (RQ > 1.0 observed. Possible reason?)
  1. Severe starvation – তীব্র অনাহার
  2. Lipogenesis from carbohydrate – কার্বোহাইড্রেট থেকে ফ্যাট সংশ্লেষণ
  3. Pure protein oxidation – বিশুদ্ধ প্রোটিন অক্সিডেশন
  4. Fat oxidation – ফ্যাট অক্সিডেশন
সঠিক উত্তর:
Lipogenesis from carbohydrate – কার্বোহাইড্রেট থেকে ফ্যাট সংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lipogenesis from carbohydrate – কার্বোহাইড্রেট থেকে ফ্যাট সংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) কার্বোহাইড্রেট থেকে ফ্যাট সংশ্লেষণ (Lipogenesis from carbohydrate)।

কেন এটি সঠিক: রেসপিরেটরি কোশেন্ট (RQ) হলো নিঃসৃত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2​) এবং ব্যবহৃত অক্সিজেন (O2​) এর অনুপাত।

RQ=[CO2​ উৎপাদন​]/[O2​ ব্যবহার]—

কার্বোহাইড্রেট থেকে ফ্যাট সংশ্লেষণ: যখন একজন ব্যক্তি তার শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করে, তখন শরীর এই অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাট হিসেবে সংরক্ষণ করে। এই প্রক্রিয়াকে লাইপোজেনেসিস বলা হয়।
কেন RQ > 1.0: এই সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায়, কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় বেশি পরিমাণে CO2​ উৎপন্ন হয়। যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় CO2​ উৎপাদন O2​ ব্যবহারের চেয়ে বেশি হয়, তাই RQ-এর মান ১.০ এর চেয়ে বেশি হয়। এটি সাধারণত অতিরিক্ত খাওয়ানোর (overfeeding) গবেষণায় দেখা যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) তীব্র অনাহার: অনাহারের সময় শরীর প্রথমে কার্বোহাইড্রেটের সঞ্চয় (গ্লাইকোজেন) ব্যবহার করে এবং তারপর ফ্যাট ব্যবহার শুরু করে। এই অবস্থায় RQ-এর মান ধীরে ধীরে ১.০ থেকে কমে ০.৭ এর দিকে যায়।
c) বিশুদ্ধ প্রোটিন অক্সিডেশন: বিশুদ্ধ প্রোটিন অক্সিডেশনের সময় RQ-এর মান প্রায় ০.৮ হয়।
d) ফ্যাট অক্সিডেশন: বিশুদ্ধ ফ্যাট অক্সিডেশনের সময় RQ-এর মান প্রায় ০.৭ হয়।

রেফারেন্স: Guyton & Hall.

৯৪.
ঠান্ডা আবহাওয়া গবেষণায় শক্তি ব্যয় কেন বাড়ে? (Why does energy expenditure increase in cold exposure?)
  1. Increased BMR only – কেবলমাত্র BMR বৃদ্ধি
  2. Shivering thermogenesis and brown adipose tissue activation – কম্পনজনিত তাপ উৎপাদন ও ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয়তা
  3. Increased TEF – খাবারের তাপীয় প্রভাব বৃদ্ধি
  4. Increased fat absorption – ফ্যাট শোষণ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
Shivering thermogenesis and brown adipose tissue activation – কম্পনজনিত তাপ উৎপাদন ও ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Shivering thermogenesis and brown adipose tissue activation – কম্পনজনিত তাপ উৎপাদন ও ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয়তা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) কম্পনজনিত তাপ উৎপাদন এবং ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয়তা।

কেন এটি সঠিক: ঠান্ডা আবহাওয়ায় আমাদের শরীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করে, যা শরীরের শক্তি ব্যয় বাড়ায়।

কম্পনজনিত তাপ উৎপাদন (Shivering thermogenesis): যখন শরীর খুব ঠান্ডা অনুভব করে, তখন পেশীগুলো দ্রুত এবং অনিয়মিতভাবে সংকুচিত হতে শুরু করে। এই কম্পনের ফলে তাপ উৎপন্ন হয়, যা শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি একটি দ্রুত এবং কার্যকর প্রক্রিয়া।
ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয়তা (Brown adipose tissue - BAT activation): ব্রাউন অ্যাডিপোজ টিস্যু বা ব্রাউন ফ্যাট হলো এক ধরনের বিশেষ চর্বি যা প্রচুর পরিমাণে মাইটোকন্ড্রিয়া ধারণ করে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় এই ফ্যাট সক্রিয় হয় এবং মাইটোকন্ড্রিয়ায় আনকাপলিং প্রোটিন (uncoupling protein) তৈরি করে। এই প্রোটিনগুলো ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের শক্তিকে এটিপি তৈরিতে ব্যবহার না করে সরাসরি তাপ হিসেবে রূপান্তরিত করে। এই প্রক্রিয়াকে নন-শিভারিং থার্মোজেনেসিস (non-shivering thermogenesis) বলা হয়। ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয় হলে শরীরের তাপ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এই দুটি প্রক্রিয়া হলো ঠান্ডা আবহাওয়ায় শক্তি ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) কেবলমাত্র বেসাল মেটাবলিজম বৃদ্ধি: ঠান্ডা আবহাওয়ায় বেসাল বিপাকীয় হার (BMR) বাড়ে, কিন্তু শুধুমাত্র এটিই কারণ নয়। শিভারিং এবং ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয়তা হলো এর প্রধান কার্যকরী প্রক্রিয়া।
c) খাবারের তাপীয় প্রভাব বৃদ্ধি: খাবারের তাপীয় প্রভাব হলো খাবার হজম ও বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যয়। এটি ঠান্ডা আবহাওয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
d) ফ্যাট শোষণ বৃদ্ধি: ঠান্ডা আবহাওয়ায় ফ্যাট শোষণ বৃদ্ধি পায় না। বরং শরীর শক্তি উৎপাদনের জন্য বিদ্যমান ফ্যাট ব্যবহার করে।

রেফারেন্স: Physiological Reviews, BAT metabolism papers.

৯৫.
মেটাবলিক চেম্বার (metabolic chamber) গবেষণায় একজন ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টা রাখা হলো। এর মাধ্যমে কোন প্যারামিটার সবচেয়ে সঠিকভাবে মাপা যায়? (What is most accurately measured in a 24h metabolic chamber?)
  1. Basal Metabolic Rate – বেসাল মেটাবলিক রেট
  2. Total Energy Expenditure – মোট শক্তি ব্যয়
  3. TEF only – শুধু খাবারের তাপীয় প্রভাব
  4. Protein turnover – প্রোটিন টার্নওভার
সঠিক উত্তর:
Total Energy Expenditure – মোট শক্তি ব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Total Energy Expenditure – মোট শক্তি ব্যয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) মোট শক্তি ব্যয় (Total Energy Expenditure - TEE)।

কেন এটি সঠিক: মেটাবলিক চেম্বার হলো একটি বিশেষভাবে নির্মিত ছোট কক্ষ, যা সম্পূর্ণ বায়ু-নিরোধক। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইনডাইরেক্ট ক্যালরিমিটার হিসেবে কাজ করে।

কার্যকারিতা: মেটাবলিক চেম্বার ২৪ ঘণ্টা ধরে একজন ব্যক্তির দ্বারা ব্যবহৃত অক্সিজেন (O2​) এবং নিঃসৃত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2​) পরিমাপ করে। এই পরিমাপের ভিত্তিতে, এটি ব্যক্তির বিশ্রাম, শারীরিক কার্যকলাপ এবং খাদ্য হজমসহ সব ধরনের কার্যকলাপের জন্য ব্যয় হওয়া মোট শক্তি নির্ভুলভাবে হিসাব করতে পারে।

সঠিকতা: ২৪ ঘণ্টা ধরে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি একজন ব্যক্তির পুরো দিনের শক্তি ব্যয় (TEE) পরিমাপ করে, যা অন্যান্য সংক্ষিপ্ত পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল।
তাই, মেটাবলিক চেম্বার হলো মোট শক্তি ব্যয় পরিমাপের জন্য একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং নির্ভুল পদ্ধতি।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
a) বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR): BMR হলো মৌলিক কার্যকারিতার জন্য ব্যয় হওয়া শক্তি। এটি পরিমাপ করার জন্য ব্যক্তিকে একটি কঠোর শর্তে (যেমন: ঘুমানোর পর, না খেয়ে, সম্পূর্ণ বিশ্রামে) থাকতে হয়। মেটাবলিক চেম্বার ২৪ ঘণ্টার জন্য টিইই পরিমাপ করে, শুধু বিএমআর নয়।
c) শুধু খাবারের তাপীয় প্রভাব (TEF): টিইএফ পরিমাপ করা গেলেও, এটি ২৪ ঘণ্টার মোট পরিমাপের একটি অংশ মাত্র।
d) প্রোটিন টার্নওভার: প্রোটিন টার্নওভার বা প্রোটিন সংশ্লেষণ ও ভাঙন পরিমাপের জন্য আইসোটোপ ট্রেসার (isotope tracer) পদ্ধতির প্রয়োজন হয়, যা মেটাবলিক চেম্বারের প্রধান কাজ নয়।

রেফারেন্স: WHO Energy Expenditure Methods (2004).

৯৬.
এক্সারসাইজ ফিজিওলজি গবেষণায় দেখা গেল, একই কাজ করলে একজন প্রশিক্ষিত ক্রীড়াবিদের শক্তি ব্যয় (energy cost) একজন অ-প্রশিক্ষিত ব্যক্তির তুলনায় কম। কেন? (Why does trained athlete have lower energy cost for same work than sedentary person?)
  1. Higher mitochondrial efficiency – মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা বেশি
  2. Lower BMR – কম বেসাল মেটাবলিজম
  3. Lower fat oxidation – ফ্যাট অক্সিডেশন কম
  4. Higher glycogen utilization – গ্লাইকোজেন ব্যবহার বেশি
সঠিক উত্তর:
Higher mitochondrial efficiency – মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Higher mitochondrial efficiency – মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা বেশি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা বেশি।

কেন এটি সঠিক:
নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, বিশেষ করে পেশী কোষে, শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে।

মাইটোকন্ড্রিয়ার ভূমিকা: মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের "পাওয়ারহাউস", যেখানে এটিপি (ATP) বা শক্তি উৎপাদন হয়। শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া যত বেশি কার্যকর হবে, একই পরিমাণ কাজ করার জন্য তত কম শক্তি ব্যয় হবে।

ব্যায়ামের প্রভাব: নিয়মিত ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ পেশী কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা (mitochondrial density) এবং কার্যকারিতা (efficiency) বাড়ায়। এর ফলে, প্রশিক্ষিত পেশীগুলো শক্তি উৎপাদনের জন্য অক্সিজেনকে আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারে। একই কাজ করার জন্য তাদের কম শক্তি ব্যয় হয়, যার ফলে তারা ক্লান্তও হয় দেরিতে।
এই কারণে, একজন প্রশিক্ষিত ক্রীড়াবিদ একটি নির্দিষ্ট কাজ (যেমন: হাঁটা বা দৌড়ানো) একজন অ-প্রশিক্ষিত ব্যক্তির চেয়ে কম শক্তি ব্যয় করে করতে পারেন।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) কম বেসাল মেটাবলিজম: প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের সাধারণত বেশি পেশী ভর (muscle mass) থাকে, যা তাদের বেসাল বিপাকীয় হারকে (BMR) বাড়িয়ে দেয়, কমিয়ে দেয় না।
c) ফ্যাট অক্সিডেশন কম: প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ফ্যাটকে আরও দক্ষতার সাথে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তাই, তাদের ফ্যাট অক্সিডেশন কম হয় না, বরং বেশি হয়, যা গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়কে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
d) গ্লাইকোজেন ব্যবহার বেশি: প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের পেশী গ্লাইকোজেনকে রক্ষা করে ফ্যাটকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হয়। তাই, তারা একই কাজের জন্য গ্লাইকোজেন কম ব্যবহার করে, বেশি নয়। এই প্রক্রিয়াকে গ্লাইকোজেন স্পেয়ারিং (glycogen sparing) বলা হয়।

রেফারেন্স: Exercise Physiology texts (McArdle et al.).

৯৭.
অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ (overfeeding) গবেষণায় দেখা যায়, কম ওজনের (thin) ব্যক্তিদের শক্তি ব্যয় মোটা (obese) ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি বেড়েছে। কেন? (In overfeeding trials, thin subjects show higher increase in energy expenditure than obese. Why?)
  1. Higher adaptive thermogenesis – বেশি অভিযোজিত তাপ উৎপাদন
  2. Higher BMR – বেশি বেসাল মেটাবলিজম
  3. Higher TEF – বেশি খাবারের তাপীয় প্রভাব
  4. Lower fat storage capacity – কম ফ্যাট সঞ্চয় ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
Higher adaptive thermogenesis – বেশি অভিযোজিত তাপ উৎপাদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Higher adaptive thermogenesis – বেশি অভিযোজিত তাপ উৎপাদন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) বেশি অভিযোজিত তাপ উৎপাদন (Higher adaptive thermogenesis)।

কেন এটি সঠিক: শরীরের ওজন এবং বিপাকীয় হার নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়াগুলো অনেক জটিল এবং ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় শরীর দুইভাবে সাড়া দেয়: অতিরিক্ত শক্তিকে চর্বি হিসেবে জমা করে এবং তাপ হিসেবে তা ব্যয় করে।

অভিযোজিত তাপ উৎপাদন: কম ওজনের (lean) ব্যক্তিদের শরীর অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে শক্তি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াকে অভিযোজিত তাপ উৎপাদন বলা হয়। তাদের শরীর প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করলে তা তাপ হিসেবে "পুড়িয়ে" দেয়। এটি সম্ভবত ওজন বৃদ্ধিকে সীমিত করার জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
মোটা ব্যক্তিদের দুর্বল প্রতিক্রিয়া: মোটা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই অভিযোজনমূলক প্রতিক্রিয়াটি দুর্বল হয়। তাদের শরীর অতিরিক্ত শক্তিকে তাপ হিসেবে ব্যয় না করে বরং চর্বি হিসেবে জমা করতে বেশি দক্ষ। এই ভিন্নতা একটি কারণ হতে পারে কেন কিছু ব্যক্তি সহজেই ওজন বাড়ায়, আবার অন্যরা সহজে বাড়ায় না।
এই কারণে, অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের পর কম ওজনের ব্যক্তিদের শক্তি ব্যয় বেশি বাড়ে, কারণ তাদের শরীরের অভিযোজনমূলক প্রতিক্রিয়া বেশি কার্যকর।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) বেশি বেসাল মেটাবলিজম: বেসাল বিপাকীয় হার (BMR) শরীরের ওজনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। মোটা ব্যক্তিদের সাধারণত কম ওজনের ব্যক্তিদের চেয়ে বেশি বিএমআর থাকে, কারণ তাদের বেশি পেশী এবং অঙ্গ থাকে।
c) বেশি খাবারের তাপীয় প্রভাব (TEF): TEF খাবারের ধরনের উপর নির্ভর করে, শরীরের ওজন বা গঠনের উপর নয়। যদিও প্রোটিনের TEF বেশি, কিন্তু lean এবং obese ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি তেমন ভিন্ন হয় না।
d) কম ফ্যাট সঞ্চয় ক্ষমতা: এটি ভুল। গবেষণায় দেখা যায়, মোটা ব্যক্তিদের ফ্যাট সঞ্চয় করার ক্ষমতা প্রায় অসীম এবং এটিই তাদের ওজন বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ।

রেফারেন্স: Levine JA, NEAT studies (Science 2005).

৯৮.
একজন নিরামিষভোজী (Vegetarian) ব্যক্তির মধ্যে ভিটামিন B12-এর ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি কেন?
Why is a vegetarian more prone to Vitamin B12 deficiency?
  1. ভিটামিন B12 শুধু প্রাণীজ উৎসে থাকে (Vitamin B12 is present only in animal sources)
  2. উদ্ভিজ্জ খাবারে ক্যালসিয়াম কম থাকে (Plant foods have low calcium)
  3. উদ্ভিজ্জ খাবারে আয়রন নেই (Plants do not have iron)
  4. দুধে কোনো ভিটামিন নেই (Milk has no vitamins)
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B12 শুধু প্রাণীজ উৎসে থাকে (Vitamin B12 is present only in animal sources)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B12 শুধু প্রাণীজ উৎসে থাকে (Vitamin B12 is present only in animal sources)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) ভিটামিন বি১২ শুধু প্রাণীজ উৎসে থাকে।

কেন এটি সঠিক:
ভিটামিন বি১২ বা কোবালামিন হলো একটি প্রয়োজনীয় ভিটামিন যা আমাদের শরীরের স্নায়ু এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনের জন্য অপরিহার্য।

প্রাণীজ উৎস:
ভিটামিন বি১২ শুধুমাত্র প্রাণীজ উৎস, যেমন: মাংস, মাছ, ডিম, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য, থেকে পাওয়া যায়। উদ্ভিজ্জ খাবারে, যেমন: ফল, সবজি এবং শস্যে, স্বাভাবিকভাবেই ভিটামিন বি১২ থাকে না।

ভেগান ডায়েট (Vegan Diet):
যেসব ব্যক্তি কঠোরভাবে নিরামিষাশী (ভেগান) এবং কোনো প্রাণীজ খাবারই খান না, তাদের ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। যারা ডিম বা দুধ খান (ল্যাক্টো-ওভো নিরামিষাশী), তাদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি থাকলেও তা ভেগানদের তুলনায় কম।
এই কারণে, একজন নিরামিষভোজীকে অবশ্যই ভিটামিন বি১২-এর অভাব পূরণের জন্য ভিটামিন বি১২ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে অথবা ভিটামিন বি১২ দ্বারা ফোর্টিফাইড (fortified) খাবার খেতে হবে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) উদ্ভিজ্জ খাবারে ক্যালসিয়াম কম থাকে: এটি ভুল। অনেক উদ্ভিজ্জ খাবারে, যেমন: সবুজ শাকসবজি (ব্রকলি, বাঁধাকপি), বাদাম, বীজ এবং ফোর্টিফাইড উদ্ভিদ দুধে, ক্যালসিয়াম থাকে।
c) উদ্ভিজ্জ খাবারে আয়রন নেই: এটি ভুল। উদ্ভিজ্জ খাবারে আয়রন থাকে, তবে তা নন-হিম আয়রন (non-heme iron), যা প্রাণীজ উৎসের হিম আয়রনের (heme iron) তুলনায় কম শোষিত হয়।
d) দুধে কোনো ভিটামিন নেই: এটি ভুল। দুধে অনেক প্রয়োজনীয় ভিটামিন থাকে, যেমন: ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি২ (রাইবোফ্ল্যাভিন) এবং ভিটামিন বি১২।

৯৯.
এক গৃহবধূ যদি প্রতিদিন পরিবারের সকালের নাস্তায় শুধু সাদা ভাত দেন, তবে শিশুদের মধ্যে কোন ঘাটতির ঝুঁকি বেশি?
If a homemaker serves only polished rice daily at breakfast, which deficiency risk is higher in children?
  1. থায়ামিন ঘাটতি (Thiamine deficiency)
  2. ভিটামিন C ঘাটতি (Vitamin C deficiency)
  3. ভিটামিন D ঘাটতি (Vitamin D deficiency)
  4. ক্যালসিয়াম ঘাটতি (Calcium deficiency)
সঠিক উত্তর:
থায়ামিন ঘাটতি (Thiamine deficiency)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থায়ামিন ঘাটতি (Thiamine deficiency)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) থায়ামিন ঘাটতি (Thiamine deficiency)।

কেন এটি সঠিক: সাদা ভাত বা পালিশ করা চাল হলো এমন চাল, যা থেকে তার বাইরের খোসা, তুষ এবং ব্রান স্তরটি সরিয়ে ফেলা হয়। এই ব্রান স্তরেই বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যেমন: থায়ামিন (ভিটামিন বি১), নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩) এবং আয়রন থাকে।

থায়ামিনের অভাব: থায়ামিন আমাদের শরীরের স্নায়ুতন্ত্র এবং হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। এটি শর্করাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। যখন একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে থায়ামিনের অভাবজনিত খাবার (যেমন: সাদা ভাত) খায়, তখন তার বেরিবেরি (beriberi) নামক রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বেরিবেরির লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্নায়ু এবং কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা।
যেহেতু সাদা চালে প্রায় কোনো থায়ামিন থাকে না, তাই এটি শিশুদের মধ্যে থায়ামিন ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) ভিটামিন সি ঘাটতি: ভিটামিন সি সাধারণত ফল, বিশেষ করে সাইট্রাস ফল এবং কিছু সবজিতে পাওয়া যায়। ভাতে ভিটামিন সি থাকে না, কিন্তু এটি থায়ামিনের মতো সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
c) ভিটামিন ডি ঘাটতি: ভিটামিন ডি সাধারণত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে ত্বকে তৈরি হয় এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবারে (যেমন: চর্বিযুক্ত মাছ) পাওয়া যায়। এটি ভাতের সাথে সম্পর্কিত নয়।
d) ক্যালসিয়াম ঘাটতি: ক্যালসিয়াম সাধারণত দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য এবং কিছু সবুজ শাকসবজিতে পাওয়া যায়। সাদা ভাতে ক্যালসিয়াম থাকে না, তবে এটি থায়ামিনের মতো সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

১০০.
একজন গর্ভবতী নারী যদি প্রতিদিন শুধু ডাল খেয়ে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে চান, তবে কোন অ্যামিনো অ্যাসিড সীমাবদ্ধতার ঝুঁকি থাকবে? If a pregnant woman consumes only pulses to meet protein needs, which amino acid deficiency risk will remain?
  1. লাইসিন (Lysine)
  2. মেথিওনিন (Methionine)
  3. থ্রিওনিন (Threonine)
  4. ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan)
সঠিক উত্তর:
মেথিওনিন (Methionine)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেথিওনিন (Methionine)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) মেথিওনিন (Methionine)।

কেন এটি সঠিক: প্রোটিন হলো অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে গঠিত একটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড আছে যা আমাদের শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না, সেগুলোকে আবশ্যিক অ্যামিনো অ্যাসিড (essential amino acids) বলা হয় এবং এগুলো অবশ্যই খাদ্য থেকে গ্রহণ করতে হয়।

ডালের অ্যামিনো অ্যাসিড প্রোফাইল: ডাল এবং অন্যান্য শস্যের (legumes) মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, তবে তাদের অ্যামিনো অ্যাসিডের প্রোফাইলে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। ডাল সাধারণত মেথিওনিন এবং সিস্টেইন (cysteine)-এর মতো সালফার-ধারণকারী অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোতে দুর্বল বা সীমিত (limiting) থাকে।
সুষম খাদ্য: সাধারণত শস্যজাতীয় খাবার (যেমন: চাল বা গম) মেথিওনিনের ভালো উৎস। তাই, ডাল এবং শস্য একসাথে খেলে (যেমন: ভাত-ডাল বা রুটি-ডাল) প্রোটিনের মান উন্নত হয় এবং সব আবশ্যিক অ্যামিনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ হয়।
যদি একজন গর্ভবতী নারী শুধু ডাল খেয়ে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে চান, তাহলে মেথিওনিনের ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে, যা প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং ভ্রূণের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) লাইসিন (Lysine): লাইসিন সাধারণত শস্যজাতীয় খাবারে সীমিত, কিন্তু ডাল লাইসিনের একটি ভালো উৎস।
c) থ্রিওনিন (Threonine) ও d) ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan): থ্রিওনিন এবং ট্রিপটোফ্যান সাধারণত ডালের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।

১০১.
একজন রোগী দীর্ঘদিন মাছ না খেলে Omega-3 fatty acids-এর ঘাটতিতে কোন স্বাস্থ্য সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে?
If a patient does not eat fish for a long time, deficiency of Omega-3 fatty acids may lead to which health issue?
  1. হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি (Increased risk of heart disease)
  2. হাড় ভাঙা (Bone fracture)
  3. থাইরয়েড সমস্যা (Thyroid disorder)
  4. ডায়রিয়া (Diarrhea)
সঠিক উত্তর:
হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি (Increased risk of heart disease)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি (Increased risk of heart disease)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি।

কেন এটি সঠিক: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হলো এক ধরনের অপরিহার্য পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (polyunsaturated fat) যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবদেহ এই ফ্যাট তৈরি করতে পারে না, তাই এটি খাদ্য থেকে গ্রহণ করতে হয়।

হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের দুটি প্রধান রূপ, ইকোসাপেন্টাইনয়িক অ্যাসিড (EPA) এবং ডোকোসাহেক্সাইনয়িক অ্যাসিড (DHA), হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
যেভাবে কাজ করে: ওমেগা-৩ রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড (triglyceride) এর মাত্রা কমায়, যা হৃদরোগের একটি প্রধান কারণ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে এবং রক্তনালীর প্রদাহ (inflammation) কমায়। এই সবকিছুর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
যেহেতু সামুদ্রিক মাছ (যেমন: স্যালমন, টুনা, ম্যাকেরেল) ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি প্রধান উৎস, তাই এটি না খেলে এই প্রয়োজনীয় ফ্যাটের ঘাটতি হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) হাড় ভাঙা: হাড়ের স্বাস্থ্য সাধারণত ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের উপর নির্ভরশীল। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হাড়ের স্বাস্থ্যে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও, এর ঘাটতি সরাসরি হাড় ভাঙার প্রধান কারণ নয়।
c) থাইরয়েড সমস্যা: থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা মূলত আয়োডিনের উপর নির্ভরশীল। এর সাথে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
d) ডায়রিয়া: ডায়রিয়া সাধারণত সংক্রমণ বা হজমজনিত সমস্যার কারণে হয়, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতির কারণে নয়।

১০২.
একজন কিশোর যদি প্রতিদিন অনেক ভাজা বাদাম খায়, তবে তার শরীরে প্রধানত কোন ধরনের ফ্যাট বাড়বে?
If a teenager eats a lot of fried nuts daily, which type of fat will primarily increase in his body?
  1. Saturated fat
  2. PUFA (Polyunsaturated fatty acids)
  3. Trans fat
  4. Cholesterol
সঠিক উত্তর:
PUFA (Polyunsaturated fatty acids)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
PUFA (Polyunsaturated fatty acids)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) পিইউএফএ (Polyunsaturated fatty acids - PUFA)।

কেন এটি সঠিক: বাদাম একটি পুষ্টিকর খাবার এবং এটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার এবং ভিটামিনের একটি ভালো উৎস।

ফ্যাটের ধরন: বাদামে প্রধানত অসম্পৃক্ত ফ্যাট (unsaturated fats) থাকে। এই অসম্পৃক্ত ফ্যাটের দুটি প্রধান প্রকার হলো মনোআনস্যাচুরেটেড (MUFA) এবং পলিআনস্যাচুরেটেড (PUFA)। বাদামের ধরন অনুযায়ী এদের অনুপাত পরিবর্তিত হয়, তবে উভয়ই প্রচুর পরিমাণে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, আখরোট এবং চিনাবাদামের মতো বাদামে প্রচুর পরিমাণে পিইউএফএ থাকে, যা ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস।
ভাজার প্রভাব: বাদাম ভাজার সময় কিছু পরিমাণ ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হতে পারে, তবে এটি বাদামের মূল ফ্যাটের গঠন পরিবর্তন করে না। ভাজা হলেও বাদামের প্রধান ফ্যাট উপাদান থাকে পিইউএফএ।
যেহেতু বাদামে স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে পিইউএফএ থাকে, তাই প্রতিদিন ভাজা বাদাম খেলে শরীরে প্রধানত এই ধরনের ফ্যাটের পরিমাণ বাড়বে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) স্যাচুরেটেড ফ্যাট: বাদামে খুব কম পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। তাই এটি খাওয়ার ফলে এই ফ্যাটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে না।
c) ট্রান্স ফ্যাট: যদিও ভাজার সময় ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হতে পারে, তবে বাদামের মূল উপাদান হিসেবে এটি প্রধান ফ্যাট নয়। তেলকে উচ্চ তাপমাত্রায় বারবার গরম করলে বেশি ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়।
d) কোলেস্টেরল: কোলেস্টেরল শুধুমাত্র প্রাণীজ খাবারে পাওয়া যায়। বাদাম হলো উদ্ভিজ্জ খাবার, তাই এতে কোনো কোলেস্টেরল থাকে না।

১০৩.
একজন শ্রমিক সারাদিন মাঠে কাজ করে শুধু ভাত ও আলু খেলে তার শরীরে কোন ঘাটতি দেখা দেবে?
If a laborer works in the field all day but eats only rice and potatoes, which deficiency is likely?
  1. প্রোটিন ঘাটতি (Protein deficiency)
  2. কার্বোহাইড্রেট ঘাটতি (Carbohydrate deficiency)
  3. ফ্যাট ঘাটতি (Fat deficiency)
  4. Vitamin C ঘাটতি (Vitamin C deficiency)
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন ঘাটতি (Protein deficiency)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন ঘাটতি (Protein deficiency)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) প্রোটিন ঘাটতি (Protein deficiency)।

কেন এটি সঠিক: একজন শ্রমিক যিনি সারাদিন কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন, তার শরীরের প্রোটিনের চাহিদা বেশি থাকে। প্রোটিন পেশীর মেরামত এবং পুনর্গঠনের জন্য অপরিহার্য।

খাদ্যের পুষ্টি উপাদান: ভাত এবং আলু উভয়ই প্রধানত কার্বোহাইড্রেট-এর উৎস, যা শরীরকে শক্তি দেয়। যদিও এদের মধ্যে সামান্য পরিমাণে প্রোটিন থাকে, তা শরীরের দৈনিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।
প্রোটিনের উৎস: প্রোটিনের প্রধান উৎস হলো মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম এবং বীজ। এই খাদ্যগুলো ছাড়া শুধুমাত্র ভাত এবং আলু থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া অসম্ভব।
ফলাফল: দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ না করলে প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টি (Protein-Energy Malnutrition - PEM) দেখা দিতে পারে, যার ফলে পেশীর ক্ষয়, দুর্বলতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং শারীরিক বৃদ্ধির অভাব হতে পারে।
এই কারণে, শুধুমাত্র ভাত ও আলু খেয়ে একজন শ্রমিকের প্রোটিন ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) কার্বোহাইড্রেট ঘাটতি: ভাত ও আলু উভয়ই কার্বোহাইড্রেটে সমৃদ্ধ। তাই, এই খাবারগুলো থেকে কার্বোহাইড্রেট ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
c) ফ্যাট ঘাটতি: যদিও এই খাদ্যগুলোতে ফ্যাটের পরিমাণ কম, তবে এটি প্রোটিন ঘাটতির মতো গুরুতর সমস্যা নয় এবং প্রোটিন ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় হবে।
d) ভিটামিন সি ঘাটতি: ভিটামিন সি সাধারণত ফল এবং সবজিতে পাওয়া যায়। ভাত বা আলুতে এটি খুব কম থাকে, তাই ভিটামিন সি এর অভাব হতে পারে। তবে, শারীরিক শ্রমের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রোটিনের ঘাটতিই সবচেয়ে প্রধান এবং তাৎক্ষণিক সমস্যা হবে।

১০৪.
এক বৃদ্ধা মহিলার দাঁত নেই, তাই তিনি মাংস খেতে পারেন না। কোন বিকল্প খাদ্য তার জন্য ভালো প্রোটিন উৎস হবে?
An elderly woman cannot eat meat due to loss of teeth. Which food will be a good alternative source of protein?
  1. ডিম (Eggs)
  2. ভাত (Rice)
  3. আলু (Potato)
  4. কলা (Banana)
সঠিক উত্তর:
ডিম (Eggs)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিম (Eggs)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) ডিম (Eggs)।

কেন এটি সঠিক:
মাংস হলো প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস, কিন্তু দাঁত না থাকলে এটি চিবানো কঠিন হতে পারে। একজন বৃদ্ধা মহিলার জন্য এমন প্রোটিন উৎস প্রয়োজন যা নরম, সহজে হজমযোগ্য এবং উচ্চমানের প্রোটিন সরবরাহ করে।

ডিম: ডিম হলো প্রোটিনের একটি পূর্ণাঙ্গ উৎস, যার অর্থ হলো এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সবকটি অ্যামিনো অ্যাসিড সঠিক অনুপাতে থাকে। এটি সহজেই সেদ্ধ বা নরম করে রান্না করা যায়, যার ফলে দাঁত না থাকলেও তা খাওয়া সহজ। এটি ভিটামিন এবং খনিজেরও ভালো উৎস।
সহজপাচ্য: ডিম নরম হওয়ায় এটি হজম করাও সহজ।
সুতরাং, মাংসের একটি excelente বিকল্প হিসেবে ডিম হলো এমন একটি খাবার যা প্রয়োজনীয় প্রোটিন চাহিদা পূরণ করতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) ভাত এবং c) আলু: ভাত এবং আলু প্রধানত কার্বোহাইড্রেটের উৎস। এগুলো শক্তি সরবরাহ করলেও, প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।
d) কলা: কলা কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং পটাসিয়ামের একটি ভালো উৎস, কিন্তু এতে প্রোটিনের পরিমাণ খুবই কম।

১০৫.
গরমকালে একজন কৃষক প্রচুর ঘাম ঝরান। কোন খাদ্য তার জন্য বেশি উপকারী হবে?
In summer, a farmer sweats heavily. Which food will be most beneficial for him?
  1. ডিম (Eggs)
  2. লেবু পানি/ফলমূল (Lemon water/Fruits)
  3. বাদাম (Nuts)
  4. ভাত (Rice)
সঠিক উত্তর:
লেবু পানি/ফলমূল (Lemon water/Fruits)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেবু পানি/ফলমূল (Lemon water/Fruits)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: b) লেবু পানি/ফলমূল।

কেন এটি সঠিক: গরমকালে কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের সময়, একজন কৃষক প্রচুর ঘাম ঝরান। ঘামের সাথে শরীর থেকে জল এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট (যেমন: সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম) বেরিয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন এবং ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।

লেবু পানি/ফলমূলের উপকারিতা:

জলীয়তা (Hydration): লেবু পানি এবং ফলমূল (যেমন: তরমুজ, শসা, কমলা) জলীয় উপাদান দিয়ে ভরপুর, যা শরীরকে পুনরায় জলপূর্ণ (rehydrate) করতে সাহায্য করে।
ইলেক্ট্রোলাইটস: ফলমূল এবং লেবুতে প্রাকৃতিক শর্করা এবং পটাসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট থাকে, যা ঘামের মাধ্যমে হারানো ইলেক্ট্রোলাইট পূরণ করতে সাহায্য করে।
ভিটামিন ও খনিজ: লেবু এবং ফলমূলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এবং শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
এই কারণে, একজন কৃষকের জন্য লেবু পানি বা ফলমূল হলো সর্বোত্তম খাদ্য যা তাকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং তার কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

a) ডিম: ডিম প্রোটিনের ভালো উৎস। এটি পেশী মেরামতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সরাসরি সাহায্য করে না।
c) বাদাম: বাদাম ফ্যাট এবং প্রোটিনের ভালো উৎস। এগুলো শরীরে তাপ উৎপাদন বাড়াতে পারে, যা গরমকালে উপযুক্ত নয়।
d) ভাত: ভাত কার্বোহাইড্রেটের ভালো উৎস এবং এটি শক্তি দেয়। কিন্তু এটি ঘামের মাধ্যমে হারানো জল ও ইলেক্ট্রোলাইট পূরণ করতে যথেষ্ট নয়।

১০৬.
এক গৃহিণী প্রতিদিন পরিবারের জন্য ডাল-ভাত রান্না করেন কিন্তু কোনো সবজি দেন না। এতে পরিবারের মধ্যে কোন ভিটামিন ঘাটতি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা?
If a homemaker serves rice and lentils daily but no vegetables, which vitamin deficiency is more likely in the family?
  1. ভিটামিন A (Vitamin A)
  2. ভিটামিন B12 (Vitamin B12)
  3. ভিটামিন D (Vitamin D)
  4. ভিটামিন E (Vitamin E)
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন A (Vitamin A)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন A (Vitamin A)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: a) ভিটামিন এ (Vitamin A)।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন এ (Vitamin A) হলো একটি ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন, যা আমাদের শরীরের দৃষ্টিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কোষের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এটি সাধারণত দু'টি রূপে পাওয়া যায়: রেটিনয়েড (প্রাণীজ উৎস) এবং ক্যারোটিনয়েড (উদ্ভিজ্জ উৎস)।

উদ্ভিজ্জ উৎস: ক্যারোটিনয়েড, বিশেষ করে β-ক্যারোটিন, হলো ভিটামিন এ-এর একটি অগ্রদূত (precursor) যা শরীর ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত করে। এটি প্রধানত রঙিন সবজি এবং ফলে পাওয়া যায়, যেমন: গাজর, মিষ্টি আলু, কুমড়া, পালং শাক এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজি।
ডাল-ভাত: ভাত ও ডাল হলো কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিনের ভালো উৎস, কিন্তু এতে ভিটামিন এ-এর পরিমাণ খুবই কম থাকে।
যেহেতু সবজি হলো ভিটামিন এ-এর প্রধান উৎস এবং পরিবারটি কোনো সবজি খাচ্ছে না, তাই তাদের মধ্যে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা (night blindness) এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

b) ভিটামিন বি১২: ভিটামিন বি১২ প্রধানত প্রাণীজ খাদ্যে পাওয়া যায়। এই ভিটামিন সবজির সাথে সম্পর্কিত নয়।
c) ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি প্রধানত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে ত্বকে উৎপন্ন হয় এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবারে (যেমন: চর্বিযুক্ত মাছ) পাওয়া যায়। এটি সবজির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
d) ভিটামিন ই: ভিটামিন ই বাদাম, বীজ এবং কিছু তেলে পাওয়া যায়, যা ডাল ও ভাতে থাকে। এটি সবজির সাথে সম্পর্কিত হলেও ভিটামিন এ-এর মতো এতো সরাসরিভাবে ঘাটতি দেখা যায় না।

১০৭.
Which method ensures active participation and retention in a community nutrition education session?
কমিউনিটি পুষ্টি শিক্ষা সেশনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি কোনটি?
  1. Lecture-based teaching (লেকচার ভিত্তিক শিক্ষা)
  2. Interactive group discussions (ইন্টারঅ্যাকটিভ গ্রুপ ডিসকাশন)
  3. Distribution of printed pamphlets (প্রিন্টেড প্যামফ্লেট বিতরণ)
  4. Screening educational videos only (শুধু শিক্ষামূলক ভিডিও প্রদর্শন)
সঠিক উত্তর:
Interactive group discussions (ইন্টারঅ্যাকটিভ গ্রুপ ডিসকাশন)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Interactive group discussions (ইন্টারঅ্যাকটিভ গ্রুপ ডিসকাশন)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:
B) Interactive group discussions (ইন্টারঅ্যাকটিভ গ্রুপ ডিসকাশন)

কেন সঠিক:
Active participation & peer learning বৃদ্ধি করে। Knowledge retention অনেক বেশি হয়।

অন্য অপশনগুলো কেন ভুল:

A: Passive learning, retention কম।
C: Pamphlets supportive, কিন্তু active learning কম।
D: ভিডিও alone engagement কম দেয়।
রেফারেন্স:
WHO, Community-based Nutrition Education Methods, 2017.

১০৮.
একজন lactating মা তার শিশুকে exclusive breastfeeding করছেন, কিন্তু মা vegan diet অনুসরণ করেন। শিশুর জন্য কোন deficiency সবচেয়ে সম্ভাব্য?
A vegan mother exclusively breastfeeds her infant. Which deficiency is most likely in the infant?
  1. Vitamin B12 deficiency
  2. Vitamin C deficiency
  3. Vitamin K deficiency
  4. Zinc deficiency
সঠিক উত্তর:
Vitamin B12 deficiency
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin B12 deficiency
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ভিটামিন বি১২ ঘাটতি।

কেন এটি সঠিক: ভিটামিন বি১২ বা কোবালামিন হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, যা স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনের জন্য অপরিহার্য।

ভিটামিন বি১২ এবং ভেগান ডায়েট: ভিটামিন বি১২ শুধুমাত্র প্রাণীজ খাদ্য, যেমন: মাংস, মাছ, ডিম এবং দুগ্ধজাত পণ্যে পাওয়া যায়। ভেগান ডায়েটে এই খাদ্যগুলো সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়।
দুগ্ধে ভিটামিন বি১২: মায়ের দুধে ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ নির্ভর করে মায়ের শরীরে এই ভিটামিনের সঞ্চয়ের উপর। যেহেতু একজন ভেগান মা প্রাণীজ খাদ্য থেকে ভিটামিন বি১২ গ্রহণ করেন না, তার শরীরে এই ভিটামিনের মাত্রা খুবই কম থাকে। এর ফলে তার দুধেও ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ কম হবে, যা শিশুর মধ্যে গুরুতর ঘাটতির কারণ হতে পারে।
শিশুদের মধ্যে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই, একজন ভেগান মাকে অবশ্যই ভিটামিন বি১২ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন সি: ভিটামিন সি সাধারণত ফল এবং সবজিতে পাওয়া যায়। একটি স্বাস্থ্যকর ভেগান ডায়েটে পর্যাপ্ত ফল ও সবজি থাকে, তাই ভিটামিন সি-এর অভাব হওয়ার সম্ভাবনা কম।
C) ভিটামিন কে: নবজাতকদের জন্মের পর ভিটামিন কে-এর ঘাটতি প্রতিরোধের জন্য সাধারণত ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
D) জিঙ্ক: জিঙ্ক অনেক উদ্ভিজ্জ খাবারে, যেমন: ডাল, শস্য, বাদাম এবং বীজে পাওয়া যায়। একটি সুপরিকল্পিত ভেগান ডায়েটে জিঙ্কের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

রেফারেন্স: Allen LH. Vitamin B12 in vegetarian diets. Am J Clin Nutr. 2010.

১০৯.
একজন ৮ মাসের শিশু কমপ্লিমেন্টারি ফিডিং (complementary feeding) শুরু করেছে, কিন্তু প্রধানত রাইস-ওয়াটার (ভাতের মাড়) খাচ্ছে। সবচেয়ে আগে কোন ঘাটতি দেখা দিতে পারে?
(An 8-month-old infant is fed mostly rice-water after complementary feeding. Which deficiency is most likely to appear first?)
  1. আয়রন ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া (Iron deficiency anemia )
  2. ভিটামিন ডি ঘাটতি (Vitamin D deficiency)
  3. আয়োডিন ঘাটতি (Iodine deficiency)
  4. ভিটামিন ই ঘাটতি (Vitamin E deficiency)
সঠিক উত্তর:
আয়রন ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া (Iron deficiency anemia )
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া (Iron deficiency anemia )
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) আয়রন ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া।

কেন এটি সঠিক: একটি শিশু যখন ৮ মাস বয়সে পৌঁছায়, তখন তার শরীরের আয়রনের সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে আসে। এই সময়ে তার বৃদ্ধির জন্য এবং রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণে আয়রনের প্রয়োজন হয়। এই প্রয়োজন পূরণের জন্য কমপ্লিমেন্টারি ফিডিং-এর মাধ্যমে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া জরুরি।

রাইস-ওয়াটারের পুষ্টিগুণ: রাইস-ওয়াটার বা ভাতের মাড়ে প্রধানত শর্করা থাকে, যা শিশুকে শক্তি দেয়। কিন্তু এতে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন এবং আয়রনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের পরিমাণ খুবই কম থাকে।
আয়রনের অভাব: যদি শিশুটি শুধুমাত্র রাইস-ওয়াটার খায়, তাহলে তার শরীর প্রয়োজনীয় আয়রন পাবে না। এর ফলে, শিশুর শরীরে আয়রনের সঞ্চয় দ্রুত শেষ হয়ে যাবে এবং আয়রন ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া দেখা দেবে। এটি শিশুদের মধ্যে একটি সাধারণ এবং গুরুতর পুষ্টিজনিত সমস্যা।
সুতরাং, রাইস-ওয়াটার খাওয়ানো শিশুদের মধ্যে আয়রন ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এবং এটিই সাধারণত প্রথম দেখা যায়।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
B) ভিটামিন ডি ঘাটতি: ভিটামিন ডি-এর অভাব হতে পারে, কিন্তু এটি সাধারণত রোদ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের উপর নির্ভর করে। আয়রন ঘাটতির তুলনায় এর লক্ষণগুলো দেরিতে দেখা যায়।
C) আয়োডিন ঘাটতি: আয়োডিনের অভাব সাধারণত অঞ্চলের মাটির উপর নির্ভরশীল এবং এর লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে দেখা যায়। এটি এই পরিস্থিতিতে প্রথম দেখা যাওয়ার মতো সমস্যা নয়।
D) ভিটামিন ই ঘাটতি: ভিটামিন ই-এর ঘাটতি বিরল এবং এটি সাধারণত প্রিম্যাচিওর (premature) শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে এর সম্ভাবনা কম।

১১০.
একজন বয়স্ক ব্যক্তি নিয়মিত ভারী খাবারের সাথে চা পান করেন এবং তার দীর্ঘস্থায়ী রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এর পুষ্টিগত ব্যাখ্যা কী? (An elderly man regularly drinks tea with heavy meals and develops chronic anemia. What is the nutritional explanation?)
  1. ক্যাফেইন আয়রন নিঃসরণ বাড়ায় (Caffeine increases iron excretion )
  2. পলিফেনল নন-হিম আয়রন শোষণে বাধা দেয় (Polyphenols inhibit non-heme iron absorption )
  3. চায়ে ফোলেট কম থাকে (Low folate in tea)
  4. ট্যানিন ভিটামিন বি১২ নষ্ট করে (Vitamin B12 destroyed by tannins)
সঠিক উত্তর:
পলিফেনল নন-হিম আয়রন শোষণে বাধা দেয় (Polyphenols inhibit non-heme iron absorption )
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলিফেনল নন-হিম আয়রন শোষণে বাধা দেয় (Polyphenols inhibit non-heme iron absorption )
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ) পলিফেনল নন-হিম আয়রন শোষণে বাধা দেয়।

কেন এটি সঠিক: Bচায়ে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনল এবং ট্যানিন নামক যৌগ থাকে। এই যৌগগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এরা পুষ্টি উপাদান শোষণে বাধা দিতে পারে।

আয়রনের প্রকারভেদ: খাদ্যে দুই ধরনের আয়রন থাকে:

হিম আয়রন (Heme iron): এটি প্রাণীজ উৎস, যেমন: মাংস, মাছ থেকে পাওয়া যায় এবং সহজেই শরীর দ্বারা শোষিত হয়।
নন-হিম আয়রন (Non-heme iron): এটি উদ্ভিজ্জ উৎস, যেমন: শাকসবজি, শস্য এবং ডাল থেকে পাওয়া যায়। এই আয়রনের শোষণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে জটিল।
চায়ের প্রভাব: চায়ে থাকা পলিফেনল এবং ট্যানিনগুলো অন্ত্রে থাকা নন-হিম আয়রনের সাথে যুক্ত হয়ে একটি জটিল যৌগ তৈরি করে। এই যৌগটি অন্ত্রের মাধ্যমে শোষিত হতে পারে না। এর ফলে, খাবারের সাথে চা পান করলে নন-হিম আয়রনের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
যেহেতু আয়রন রক্তস্বল্পতার (অ্যানিমিয়া) প্রধান কারণ, তাই নিয়মিত খাবারের সাথে চা পান করার ফলে দীর্ঘমেয়াদে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) ক্যাফেইন আয়রন নিঃসরণ বাড়ায়: এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে চায়ের ক্যাফেইন আয়রনের নিঃসরণ বাড়ায়।
C) চায়ে ফোলেট কম থাকে: চায়ে ফোলেট খুব বেশি পরিমাণে থাকে না, তবে এটি ফোলেটের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার (megaloblastic anemia) প্রধান কারণ নয়। এখানে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার কথা বলা হয়েছে।
D) ট্যানিন ভিটামিন বি১২ নষ্ট করে: ট্যানিন ভিটামিন বি১২ নষ্ট করে না। ভিটামিন বি১২ প্রধানত প্রাণীজ খাদ্যে পাওয়া যায় এবং এর শোষণ পদ্ধতি ভিন্ন।

১১১.
একজন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন। তিনি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকায় দুধ খান না। কোন খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তন তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত?
(A 65-year-old woman with osteoporosis avoids milk due to lactose intolerance. Which dietary modification is best for her?)
  1. ভিটামিন এ ক্যাপসুল (Vitamin A capsules)
  2. উচ্চ-প্রোটিন মাংসের খাদ্য (High-protein meat diet)
  3. অতিরিক্ত সাইট্রাস ফল গ্রহণ (Excess citrus fruit intake)
  4. ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি দ্বারা ফোর্টিফাইড সয়ামিল্ক (Soy milk fortified with calcium and vitamin D)
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি দ্বারা ফোর্টিফাইড সয়ামিল্ক (Soy milk fortified with calcium and vitamin D)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি দ্বারা ফোর্টিফাইড সয়ামিল্ক (Soy milk fortified with calcium and vitamin D)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: D) ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি দ্বারা ফোর্টিফাইড সয়ামিল্ক।

কেন এটি সঠিক: অস্টিওপোরোসিস হলো এমন একটি রোগ যেখানে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং এটি ভঙ্গুর হয়ে যায়। এটি প্রতিরোধ এবং চিকিৎসার জন্য ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা: ক্যালসিয়াম হাড়ের প্রধান উপাদান। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের কারণে দুধ খেতে না পারলে ক্যালসিয়ামের একটি বড় উৎস বাদ পড়ে যায়।
ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজনীয়তা: ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, যা হাড়ের জন্য অপরিহার্য।
ফোর্টিফাইড সয়ামিল্ক: এই পরিস্থিতিতে, ফোর্টিফাইড সয়ামিল্ক একটি চমৎকার বিকল্প। ফোর্টিফাইড সয়ামিল্কে গরুর দুধের মতোই ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি থাকে। এটি ল্যাকটোজ-মুক্ত হওয়ায় ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের রোগীদের জন্য নিরাপদ।
এই কারণে, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি দ্বারা ফোর্টিফাইড সয়ামিল্ক এই বৃদ্ধা মহিলার জন্য একটি আদর্শ খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তন।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) ভিটামিন এ ক্যাপসুল: অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ হাড়ের ঘনত্ব কমাতে পারে এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষত বয়স্কদের ক্ষেত্রে।

B) উচ্চ-প্রোটিন মাংসের খাদ্য: প্রোটিন হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটি ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস নয়। অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনিতে ক্যালসিয়াম নিঃসরণ বাড়াতে পারে।
C) অতিরিক্ত সাইট্রাস ফল গ্রহণ: সাইট্রাস ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা কোলাজেনের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু এটি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস নয়।

১১২.
একজন মা এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং করছেন এবং খুব বেশি ব্যায়াম করছেন, দিনে মাত্র ১২০০ কিলোক্যালরি খাবার খাচ্ছেন। এর ফলে শিশুর বৃদ্ধিতে কী হবে?
(A mother exclusively breastfeeds while consuming only 1200 kcal/day due to heavy exercise. How will this affect infant growth?)
  1. দুধের গুণমান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে (Milk composition will drastically change)
  2. শিশুর বৃদ্ধির ব্যর্থতা দুই সপ্তাহের মধ্যে দেখা যাবে (Infant growth failure will appear within 2 weeks)
  3. শিশুর বৃদ্ধি প্রাথমিকভাবে প্রভাবিত হবে না (Infant growth will be unaffected initially)
  4. শিশুটির শুধুমাত্র ভিটামিন এ-এর ঘাটতি হবে (Infant will develop vitamin A deficiency only)
সঠিক উত্তর:
দুধের গুণমান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে (Milk composition will drastically change)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধের গুণমান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে (Milk composition will drastically change)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) শিশুর বৃদ্ধি প্রাথমিকভাবে প্রভাবিত হবে না।

কেন এটি সঠিক: মায়ের পুষ্টি এবং বুকের দুধের গুণমান একটি জটিল সম্পর্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

মায়ের শরীর প্রথম প্রভাবিত হয়: যখন একজন মা তার শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কম ক্যালরি গ্রহণ করেন, তখন তার শরীর প্রথমে সঞ্চিত শক্তি (চর্বি এবং পেশী) ব্যবহার করে বুকের দুধের উৎপাদন বজায় রাখার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে মায়ের নিজের ওজন কমে যেতে পারে এবং তিনি দুর্বল হয়ে যেতে পারেন।
দুধের উৎপাদন স্থিতিশীল থাকে: শরীরের এই কৌশলটির কারণে, বুকের দুধের পরিমাণ এবং গুণমান (composition) প্রাথমিকভাবে প্রভাবিত হয় না। বেশিরভাগ ভিটামিন এবং খনিজের মাত্রা স্থির থাকে, যদিও কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিন, যেমন: ভিটামিন বি১২, থায়ামিন (বি১) এবং ভিটামিন এ-এর মাত্রা কম হতে পারে।
শিশুর সুরক্ষা: শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য শরীর তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে বুকের দুধের উৎপাদন এবং গুণমানকে রক্ষা করতে। এই কারণে, মায়ের খাদ্যের গুরুতর ঘাটতি হলেও, শিশুর বৃদ্ধি প্রাথমিকভাবে সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু যদি মায়ের এই খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে একসময় দুধের উৎপাদন কমতে শুরু করবে এবং শিশুর বৃদ্ধিও ব্যাহত হবে।
সুতরাং, এই পরিস্থিতিতে শিশুটি প্রাথমিকভাবে মায়ের খাদ্যের ঘাটতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) দুধের গুণমান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে: দুধের গুণমান খুব বেশি পরিবর্তিত হয় না। শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিন, যেমন: ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ কমে যেতে পারে, কিন্তু ফ্যাট, প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ স্থিতিশীল থাকে।

B) শিশুর বৃদ্ধির ব্যর্থতা দুই সপ্তাহের মধ্যে দেখা যাবে: এটি সঠিক নয়। বুকের দুধের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং শিশুর বৃদ্ধির ব্যর্থতা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী এবং গুরুতর অপুষ্টির পরেই ঘটে, দুই সপ্তাহের মধ্যে নয়।

D) শিশুটির শুধুমাত্র ভিটামিন এ-এর ঘাটতি হবে: এটি সঠিক নয়। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ভিটামিন এ-এর ঘাটতি হবে না, বরং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানেরও ঘাটতি হতে পারে।

রেফারেন্স: Lawrence & Lawrence, Breastfeeding: A guide for medical profession. 2015.

১১৩.
একজন কিশোরী মেয়ে অতিরিক্ত ডায়েটিং করে কম ওজনের (underweight) হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে তার গর্ভধারণের ফল কী হতে পারে?
(An underweight adolescent girl due to chronic dieting later becomes pregnant. Which pregnancy outcome is most likely?)
  1. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational diabetes)
  2. প্রি-একলাম্পসিয়া (Pre-eclampsia)
  3. কম ওজনের শিশু (Low birth weight baby)
  4. ম্যাক্রোসোমিয়া (Macrosomia)
সঠিক উত্তর:
কম ওজনের শিশু (Low birth weight baby)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম ওজনের শিশু (Low birth weight baby)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C) কম ওজনের শিশু (Low birth weight baby)।

কেন এটি সঠিক: একজন কিশোরী তার জীবনের সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধির পর্যায়ে থাকে। এই সময়ে তার শরীরের সঠিক পুষ্টি এবং শক্তির প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত ডায়েটিং করে কম ওজন হলে তার পুষ্টির সঞ্চয় (nutritional reserve) কমে যায়, যা ভবিষ্যতে গর্ভধারণের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ভ্রূণের বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য মায়ের শরীরের পুষ্টি সঞ্চয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন মায়ের ওজন কম থাকে এবং পুষ্টির অভাব থাকে, তখন ভ্রূণ পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না।
আন্তঃ-জরায়ু বৃদ্ধি সীমাবদ্ধতা (Intrauterine Growth Restriction - IUGR): অপর্যাপ্ত পুষ্টির কারণে ভ্রূণের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়, যা আন্তঃ-জরায়ু বৃদ্ধি সীমাবদ্ধতা নামে পরিচিত। এর ফলে শিশুটি স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন নিয়ে জন্মায় (low birth weight baby)।
কম ওজনের শিশুদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেশি থাকে, যেমন: শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশের সমস্যা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

A) গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational diabetes): গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সাথে সম্পর্কিত।
B) প্রি-একলাম্পসিয়া (Pre-eclampsia): এটি একটি গুরুতর উচ্চ রক্তচাপজনিত অবস্থা যা সাধারণত গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণে ঘটে।
D) ম্যাক্রোসোমিয়া (Macrosomia): ম্যাক্রোসোমিয়া হলো স্বাভাবিকের চেয়ে বড় আকারের শিশুর জন্ম, যা সাধারণত মায়ের অতিরিক্ত ওজন বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের কারণে ঘটে।

রেফারেন্স: WHO Adolescent pregnancy and nutrition, 2018.

১১৪.
একজন ৩ বছর বয়সী শিশু প্রলম্বিত বোতল ফিডিং করছে এবং খাবারের প্রতি অনীহা দেখাচ্ছে। সবচেয়ে সম্ভাব্য ঘাটতি কী?
(A 3-year-old child continues prolonged bottle feeding and refuses normal food. Which deficiency is most probable?)
  1. আয়রন ঘাটতি (Iron deficiency)
  2. ভিটামিন ডি ঘাটতি (Vitamin D deficiency)
  3. জিঙ্ক ঘাটতি (Zinc deficiency)
  4. প্রোটিন ঘাটতি (Protein deficiency)
সঠিক উত্তর:
আয়রন ঘাটতি (Iron deficiency)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন ঘাটতি (Iron deficiency)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) আয়রন ঘাটতি।

কেন এটি সঠিক: একটি ৩ বছর বয়সী শিশুর জন্য বোতলের দুধ (formula milk) বা গরুর দুধ পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ করে না। এই বয়সে শিশুর শক্ত খাবারের মাধ্যমে প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ গ্রহণ করা উচিত, যার মধ্যে আয়রন অন্যতম।

আয়রনের অভাব: গরুর দুধে আয়রনের পরিমাণ খুবই কম থাকে। অন্যদিকে, শিশুদের জন্য তৈরি ফর্টিফাইড দুধও (fortified formula milk) এই বয়সে প্রয়োজনীয় আয়রনের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। যখন একটি শিশু দীর্ঘ সময় ধরে শুধুমাত্র বোতলের দুধ খায়, তখন তার শরীরের আয়রনের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়, যার ফলে আয়রন ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া হয়।
খাবারের অনীহা: আয়রনের ঘাটতি একটি শিশুর ক্ষুধামন্দা (appetite loss) বা খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি করতে পারে। এটি একটি দুষ্ট চক্রের সৃষ্টি করে: শিশুটি পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন পায় না, যার ফলে তার ক্ষুধা কমে যায় এবং সে শক্ত খাবার খেতে চায় না।
সুতরাং, এই পরিস্থিতিতে আয়রন ঘাটতি সবচেয়ে সম্ভাব্য সমস্যা।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন ডি ঘাটতি: ভিটামিন ডি-এর অভাব হতে পারে, কিন্তু এটি প্রধানত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে না আসা এবং দুধের উপর নির্ভরশীল। আয়রনের ঘাটতি এই পরিস্থিতিতে বেশি লক্ষণীয়।
C) জিঙ্ক ঘাটতি: জিঙ্কের ঘাটতিও হতে পারে, কিন্তু এটি আয়রনের ঘাটতির মতো এতো বেশি প্রচলিত নয় এবং সরাসরি বোতলের দুধ খাওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়।
D) প্রোটিন ঘাটতি: যদিও বোতলের দুধে প্রোটিনের পরিমাণ শক্ত খাবারের তুলনায় কম থাকে, কিন্তু এটি শিশুর সম্পূর্ণ প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। তবে, আয়রন ঘাটতিই এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং লক্ষণীয় হবে।

রেফারেন্স: American Academy of Pediatrics, Iron deficiency in children. 2010.

১১৫.
একজন বয়স্ক ব্যক্তি তার স্বাভাবিক খাদ্যের পরিবর্তে বারবার ইনস্ট্যান্ট নুডুলস খাচ্ছেন (যা কম প্রোটিন এবং উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত)। তার জন্য কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
(An elderly man replaces normal diet with instant noodles (low protein, high sodium). Which health risk is most prominent?)
  1. সারকোপেনিয়া সহ উচ্চ রক্তচাপ (Sarcopenia with hypertension)
  2. ভিটামিন বি১২ ঘাটতি (Vitamin B12 deficiency)
  3. অস্টিওম্যালেশিয়া (Osteomalacia)
  4. হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)
সঠিক উত্তর:
সারকোপেনিয়া সহ উচ্চ রক্তচাপ (Sarcopenia with hypertension)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারকোপেনিয়া সহ উচ্চ রক্তচাপ (Sarcopenia with hypertension)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) সারকোপেনিয়া সহ উচ্চ রক্তচাপ।

কেন এটি সঠিক: একজন বয়স্ক মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের শরীর পেশী ভর ধরে রাখতে এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সক্ষম নাও হতে পারে।

কম প্রোটিন ও সারকোপেনিয়া: ইনস্ট্যান্ট নুডুলসে প্রোটিনের পরিমাণ খুব কম থাকে। প্রোটিন আমাদের শরীরের পেশী গঠন ও মেরামতের জন্য অপরিহার্য। একজন বয়স্ক ব্যক্তি যদি নিয়মিতভাবে পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ না করেন, তবে তার সারকোপেনিয়া (sarcopenia) হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সারকোপেনিয়া হলো বয়সজনিত পেশীর ক্ষয় এবং দুর্বলতা।
উচ্চ সোডিয়াম ও উচ্চ রক্তচাপ: ইনস্ট্যান্ট নুডুলসে উচ্চ পরিমাণে সোডিয়াম থাকে, যা শরীরের তরল ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ সরাসরি উচ্চ রক্তচাপ (hypertension) এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
সুতরাং, এই ধরনের খাদ্যগ্রহণের ফলে একই সাথে সারকোপেনিয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ উভয়ই দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।


কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) ভিটামিন বি১২ ঘাটতি: যদিও ইনস্ট্যান্ট নুডুলসে ভিটামিন বি১২ থাকে না, তবে এই ঘাটতি সরাসরি এই ধরনের খাদ্যগ্রহণের সাথে যুক্ত নয়। এই ভিটামিনের ঘাটতি সাধারণত প্রাণীজ খাদ্যের অভাবজনিত কারণে ঘটে।
C) অস্টিওম্যালেশিয়া: অস্টিওম্যালেশিয়া সাধারণত ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে হয়। এটি ইনস্ট্যান্ট নুডুলসের উচ্চ সোডিয়ামের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
D) হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা মূলত আয়োডিনের উপর নির্ভরশীল। ইনস্ট্যান্ট নুডুলস উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত হলেও, এর সাথে হাইপোথাইরয়েডিজমের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রেফারেন্স: WHO Guideline on sodium intake & elderly nutrition, 2012.

১১৬.
একজন ৭৫ বছর বয়সী পুরুষ দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য (chronic constipation) এবং মৃদু জ্ঞানীয় অবক্ষয় (mild cognitive decline)-এ ভুগছেন। তার খাদ্য মূলত কম ফাইবার এবং কম তরলযুক্ত। কোন খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তনটি স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি উভয় ফলাফল উন্নত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
(A 75-year-old man suffers from chronic constipation and mild cognitive decline. His diet is low in fiber and fluids. Which dietary modification is most critical to improve both short-term and long-term outcomes?)
  1. ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন (Vitamin A supplementation)
  2. উচ্চ-প্রোটিন খাদ্য (High-protein diet)
  3. কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমানো (Reduce carbohydrate intake)
  4. ফাইবারের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত জল পান করা (Increase fiber intake + adequate hydration)
সঠিক উত্তর:
ফাইবারের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত জল পান করা (Increase fiber intake + adequate hydration)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইবারের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত জল পান করা (Increase fiber intake + adequate hydration)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: D) ফাইবারের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত জল পান করা।

কেন এটি সঠিক: এই প্রশ্নের উত্তরটি পুষ্টি এবং আমাদের অন্ত্র ও মস্তিষ্কের (gut-brain axis) মধ্যকার সংযোগের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

স্বল্পমেয়াদি উপকারিতা:

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ: ফাইবার আমাদের হজমতন্ত্রের মাধ্যমে খাদ্য চলাচলে সহায়তা করে। ফাইবার এবং পর্যাপ্ত তরল (জল) একসাথে মলকে নরম করে এবং তার আয়তন বাড়িয়ে দেয়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এটি একটি দ্রুত এবং কার্যকর সমাধান।
দীর্ঘমেয়াদি উপকারিতা:

জ্ঞানীয় অবক্ষয় প্রতিরোধ: আমাদের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া (microbiome) ফাইবারের ওপর নির্ভর করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (short-chain fatty acids - SCFAs) তৈরি করে, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে যে একটি স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের পরিবেশ জ্ঞানীয় কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং স্নায়ু অবক্ষয়জনিত রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। তাই, নিয়মিত ফাইবার গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞানীয় অবক্ষয় প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সুতরাং, শুধুমাত্র একটি পরিবর্তন (ফাইবার এবং জল বৃদ্ধি) একই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং জ্ঞানীয় অবক্ষয়—এই দুটি সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:
A) ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন: ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটি কোষ্ঠকাঠিন্য বা জ্ঞানীয় অবক্ষয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ বরং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

B) উচ্চ-প্রোটিন খাদ্য: উচ্চ-প্রোটিন খাদ্য পেশী ভর বজায় রাখতে সাহায্য করলেও, কোষ্ঠকাঠিন্য বা জ্ঞানীয় অবক্ষয়ের উপর এর সীমিত প্রভাব রয়েছে।
C) কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমানো: কোষ্ঠকাঠিন্য বা জ্ঞানীয় অবক্ষয়ের সাথে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রেফারেন্স: Slavin JL. Dietary fiber and aging. Nutr Rev. 2013.

১১৭.
একজন ৮০ বছর বয়সী মহিলা অস্টিওপোরোসিস (osteoporosis) এবং সারকোপেনিয়া (sarcopenia)-তে ভুগছেন। তিনি দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলেন। কোন খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তন সবচেয়ে প্রমাণ-ভিত্তিক উপায়ে হাড় ভাঙা এবং পেশী ক্ষয় কমাতে সাহায্য করবে?
(An 80-year-old woman suffers from osteoporosis and sarcopenia but avoids dairy. Which combination dietary modification is most evidence-based to reduce fracture risk and muscle loss?)
  1. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দ্বারা ফোর্টিফাইড প্ল্যান্ট-ভিত্তিক দুধ + লিউসিন-সমৃদ্ধ প্রোটিন (Fortified plant-based milk (Calcium + Vitamin D) + leucine-rich protein)
  2. উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ডায়েট + ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্টেশন (High carbohydrate diet + vitamin C supplementation)
  3. কম ফ্যাট ডায়েট + অতিরিক্ত আয়রন সাপ্লিমেন্টেশন (Low-fat diet + excess iron supplementation)
  4. উচ্চ শর্করা ডায়েট + মাল্টিভিটামিন (High sugar diet + multivitamin)
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দ্বারা ফোর্টিফাইড প্ল্যান্ট-ভিত্তিক দুধ + লিউসিন-সমৃদ্ধ প্রোটিন (Fortified plant-based milk (Calcium + Vitamin D) + leucine-rich protein)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দ্বারা ফোর্টিফাইড প্ল্যান্ট-ভিত্তিক দুধ + লিউসিন-সমৃদ্ধ প্রোটিন (Fortified plant-based milk (Calcium + Vitamin D) + leucine-rich protein)
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: A) ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দ্বারা ফোর্টিফাইড প্ল্যান্ট-ভিত্তিক দুধ + লিউসিন-সমৃদ্ধ প্রোটিন।

কেন এটি সঠিক: অস্টিওপোরোসিস এবং সারকোপেনিয়া উভয়ই বার্ধক্যজনিত রোগ। অস্টিওপোরোসিস হাড়কে দুর্বল করে এবং সারকোপেনিয়া পেশী ক্ষয় ঘটায়। এই দুটি রোগেরই চিকিৎসা ও প্রতিরোধের জন্য নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন।

হাড়ের জন্য: অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের জন্য ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালসিয়াম হাড়ের মূল খনিজ এবং ভিটামিন ডি ক্যালসিয়ামের শোষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করে। যেহেতু এই মহিলা দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলেন, তাই ফোর্টিফাইড প্ল্যান্ট-ভিত্তিক দুধ (যেমন: সয়ামিল্ক, বাদামের দুধ) একটি চমৎকার বিকল্প, কারণ এতে গরুর দুধের মতোই ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যোগ করা থাকে।
পেশীর জন্য: সারকোপেনিয়া প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ অপরিহার্য। অ্যামিনো অ্যাসিড লিউসিন (leucine) পেশী প্রোটিন সংশ্লেষণ (muscle protein synthesis) উদ্দীপিত করতে বিশেষভাবে কার্যকর। তাই, লিউসিন-সমৃদ্ধ প্রোটিন (যেমন: মটর প্রোটিন, সোয়া প্রোটিন) পেশী ভর বজায় রাখতে সাহায্য করে।


এই দুটি পুষ্টি উপাদানের সমন্বয় একই সাথে হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং পেশী ক্ষয় প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে, যা একজন বয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল:

B) উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ডায়েট + ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্টেশন: কার্বোহাইড্রেট শক্তি সরবরাহ করলেও, এটি হাড় বা পেশী মজবুত করতে সরাসরি সাহায্য করে না। ভিটামিন সি কোলাজেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি ক্যালসিয়াম বা প্রোটিনের বিকল্প নয়।
C) কম ফ্যাট ডায়েট + অতিরিক্ত আয়রন সাপ্লিমেন্টেশন: কম ফ্যাট ডায়েট ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন (ভিটামিন ডি) শোষণকে বাধা দিতে পারে, যা হাড়ের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত আয়রন শরীরের জন্য বিষাক্ত হতে পারে এবং এর সাথে অস্টিওপোরোসিস বা সারকোপেনিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
D) উচ্চ শর্করা ডায়েট + মাল্টিভিটামিন: উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি পেশী বা হাড়ের জন্য কোনো উপকার বয়ে আনে না। মাল্টিভিটামিন উপকারী হতে পারে, কিন্তু এটি প্রোটিন বা ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের অভাব পূরণ করতে পারে না।

রেফারেন্স:
Bauer J et al. Protein intake in elderly. Clin Nutr. 2013.
NIH Osteoporosis Guidelines, 2018.