পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes২৪ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড, নওয়াব ফয়জুন্নেসা, নবীনচন্দ্র সেন, নির্মলেন্দু গুণ, নুরুল মোমেন, নীলিমা ইব্রাহিম, প্রমথ চৌধুরী, প্রেমেন্দ্র মিত্র, প্যারীচাঁদ মিত্র, ফররুখ আহমদ, বদরুদ্দীন ওমর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বন্দে আলী মিয়া, বিজন ভট্টাচার্য, বিষ্ণু দে, বিহারীলাল চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, বেগম রোকেয়া, মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মামুনুর রশিদ, মীর মশাররফ হোসেন, মুনীর চৌধুরী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ নজিবর রহমান, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। [প্রধান সাহিত্যিকগণের তথ্যগুলো ভালভাবে পড়বেন। আর বাকীদের ব্যাসিক তথ্যগুলো পড়বেন।] সোর্স: যেকোনো গাইড বই এবং সাথে যেকোনো একজন একাডেমিক ব্যক্তির বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’ - পঙক্তিগুলো কোন কবিতার অন্তর্গত? 
  1. ক) আমি যখন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি
  2. খ) স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
  3. গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
  4. ঘ) চাষাভুষার কাব্য
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিগুলো বাংলাদেশের কবি নির্মলেন্দু গুণ রচিত  'চাষাভুষার কাব্য' (১৯৮১) নামক কাব্যগ্রন্থের 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

কবিতাটি শেষ হয়েছে এভাবে- 

"শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷" 

উৎস: স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো, নির্মলেন্দু গুণ।
.
'নিমগাছ' গল্পে বনফুল 'নিমগাছ' বলতে কী বুঝিয়েছেন?
  1. ক) সকলের জন্য সাহায্যে হাত বাড়ানো
  2. খ) রোগ নিরাময়ের অস্ত্র
  3. গ) নারীর আত্মত্যাগ
  4. ঘ) সাধারণের মধ্যে অসাধারণ গুণ
ব্যাখ্যা
নিমগাছ গল্পটি বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) এর 'অদৃশ্যলোক' (১৯৪৭) নামক গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এটি একটি প্রতীকী গল্প।
- এখানে নিমগাছের তুলনা করা হয়েছে একজন গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউ এর সাথে। 
- 'নিমগাছ' গল্পটিতে নিমগাছ প্রতীকের সূত্রে বনফুল দেখিয়েছেন নারীর অপরিসীম আত্মত্যাগ।

কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (১৮৯৯-১৯৭৯) এর জন্ম বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ
- বনফুলের গল্প (১৯৩৬),
- বিন্দুবিসর্গ (১৯৪৪),
- অদৃশ্যলোকে (১৯৪৬),
- তন্বী (১৯৪৯),
- অনুগামিনী (১৯৫৮),
- দূরবীণ (১৯৬১),
- মণিহারী (১৯৬৩),
- বহুবর্ণ (১৯৭৬),
- বনফুলের নতুন গল্প (১৯৭৬) প্রভৃতি।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
- তৃণখন্ড (১৯৩৫),
- জঙ্গম (তিন খন্ড, ১৯৪৩-১৯৪৫),
- অগ্নি (১৯৪৬),
- ডানা (তিনখন্ড, যথাক্রমে ১৯৪৮, ১৯৫০ ও ১৯৫৫),
- স্থাবর (১৯৫১),
- অগ্নীশ্বর (১৯৫৯),
- হাটেবাজারে (১৯৬১),
- ত্রিবর্ণ (১৯৬৩),
- ভুবনসোম (১৯৬৩),
- প্রচ্ছন্ন মহিমা (১৯৬৭),
- উদয় অস্ত (দুই খন্ড, ১৯৫৯ ও ১৯৭৪) প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
.
একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি ?
  1. ক) ওরা কদম আলী
  2. খ) নেমেসিস
  3. গ) রক্তকরবী
  4. ঘ) চিত্রাঙ্গদা
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক 'নেমেসিস'।
- ১৯৩৯-'৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লিখেন। 
- 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়। 
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। 
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের একক চরিত্র বিশিষ্ট
- অদৃশ্য চরিত্র হিসেবে আছে নৃপেন বোস, তাঁর সুলতা, ম্যানাজার অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব প্রমুখ।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তবচিত্র অঙ্কিত হয়েছে। 

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক
- যদি এমন হতো (১৯৬০),
- নয়া খান্দান (১৯৬২),
- আলোছায়া (১৯৬২),
- আইনের অন্তরালে (১৯৬৬),
- শতকরা আশি (১৯৬৭),
- রূপলেখা (১৯৬৯) ও
- যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)।

উল্লেখ্য,
- নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটকে এক বোবা চরিত্রের মাধ্যমে গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্যে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান পাধান্য পেয়েছে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সাংকেতিক নাটকে' ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের এবং মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৭৩৪
  2. খ) ১৭৩৫
  3. গ) ১৭৪৩
  4. ঘ) ১৭৫৩
ব্যাখ্যা
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ রচিত গ্রন্থ।
- এটি রচিত হয় ১৭৩৫ সালে।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে এটি প্রকাশিত হয়।
- মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ ছিলেন একজন পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি। 
- গুরু শিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন ছিলো এই গ্রন্থের লক্ষ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কুঁচবরণ কন্যা' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) শিশু সাহিত্য
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬-১৯৭৯)-এর জন্ম পাবনা জেলার রাধানগর গ্রাম। 
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:

শিশুসাহিত্য

- চোর জামাই (১৯২৭),
- মেঘকুমারী (১৯৩২),
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (১৯৩২),
- সোনার হরিণ (১৯৩৯),
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৫৬),
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬১),
- সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭)

কাব্য

- ময়নামতীর চর (১৯৩০),
- অনুরাগ (১৯৩২),
- পদ্মানদীর চর (১৯৫৩),
- মধুমতীর চর (১৯৫৩),
- ধরিত্রী (১৯৭৫);

উপন্যাস

- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে (১৯৩১),
- শেষ লগ্ন (১৯৪১),
- অরণ্য গোধূলি (১৯৪৯),
- নীড়ভ্রষ্ট (১৯৫৮);

গল্পগ্রন্থ

- তাসের ঘর (১৯৫৪);

নাটক

- মসনদ (১৯৩১);
 এবং

জীবনী

- কামাল আতাতুর্ক (১৯৩৭),
- শরৎচন্দ্র, ছোটদের নজরুল (১৯৫৮) ইত্যাদি।


উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোন লেখন কল্লোল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
- যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
- কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যের একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
- মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।
- সমকালীন ইংরেজি ও বিদেশী সাহিত্যের অনুসরণে বাংলা সাহিত্যের পাঠকরা পরিচিত হয় ন্যাচারালিজম, শারীরিক ভাবনা, জীবনসংগ্রাম, রাজনীতি, সমাজনীতি সহ নানা নতুন নতুন বিষয়ের সাথে।
- কার্ল মার্কস ও সিগমন ফ্রয়েডের চিন্তাধারার প্রভাবে সাহিত্যে এক নতুন রচনাশৈলী তৈরী হয়।
- এ যুগের শক্তিমান কথা-সাহিত্যিকদের হলেন জগদীশ গুপ্ত, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, প্রমথনাথ বিশী, মনোজ বসু, গোপাল হালদার, অন্নদাশঙ্কর রায়, প্রবোধকুমার সান্যাল, সুবোধ ঘোষ, গজেন্দ্রকুমার মিত্র সহ আরো অনেকে।
- কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত, তাঁরা হলেন- কবি জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, কাজী নজরুল ইসলাম, অমিয় চক্রবর্তী, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সঞ্জয় ভট্টাচর্য সহ অনেকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবিতার ব্লগ।
.
রৈবতক, কুরুক্ষেত্র, প্রভাস কাব্যত্রয়ের নায়ক কে?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণ
  2. খ) রাম
  3. গ) অর্জুন
  4. ঘ) শিব
ব্যাখ্যা
নবীনচন্দ্র সেন রচিত ত্রয়ী কাব্য-
- রৈবতক (১৮৮৭),
- কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩), এবং
- প্রভাস (১৮৯৬)

- এই তিনটি কাব্যের কাহিনি একই সুতোয় বাঁধা। 
- এই তিনটি কাব্যের নায়কই শ্রীকৃষ্ণ।
- রৈবতক- এ কৃষ্ণের আদি
- কুরুক্ষেত্র- এ তাঁর মধ্য
- প্রভাস- কৃষ্ণের অন্তর্লীলা বর্ণিত হয়েছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'আমার সোনার বাংলা' গানটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদর্শন
  2. খ) সাধনা
  3. গ) ভারতী
  4. ঘ) বিশ্বভারতী
ব্যাখ্যা
'আমার সোনার বাংলা' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতবিতানের স্বরবিতানের অন্তর্ভূক্ত।
- এটি স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- এই গানের সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং, তবে এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।

- এটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি এই সঙ্গীতটি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থের অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) মুখরা রমনী বশীকরণ
  4. ঘ) রত্নাবতী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোন বিশ্ববিদ্যালয় ডি-লিট উপাধি দেয়?
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ১৯৩৬ সালে 'ডি-লিট' ডিগ্রি দেয়া হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ১৯১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর 'ডি-লিট' ডিগ্রি দেয়া হয়।
- ১৯৪০ সালের ৭-ই আগস্ট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাকে 'ডি-লিট' ডিগ্রি প্রদান করেন।
- ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- ১৯১৫ সালের ৩রা জুন ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইটহুড বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
'বিশ্বভারতী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) ভানুসিংহ
  2. খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. গ) যাযাবর
  4. ঘ) বীরবল
ব্যাখ্যা
বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)'র ছদ্মনাম বীরবল। 
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।
- তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো
- বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০),
- রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং
- অলকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
'নন্দিনী' চরিত্রের দেখা পাওয়া যার রবীন্দ্রনাথের কোন রচনায় ?
  1. ক) বিসর্জন
  2. খ) গোরা
  3. গ) ডাকঘর
  4. ঘ) রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সাংকেতিক নাটক। 
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যায় 'প্রবাসী' তে এটি প্রকাশিত হয়। 
- চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন ইত্যাদি। 
-  'রক্তকরবী'-তে ধনের উপর ধ্যানের, শক্তির উপর প্রেমের এবং মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। 

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক- 
-  বাল্মীকিপ্রতিভা
- কালমৃগয়া
- রাজা ও রাণী 
-  গোড়ায় গলদ 
- বৈকুণ্ঠের খাতা 
- বিসর্জন
- চিরকুমার সভা 
- শারদোৎসব
- রাজা
- ডাকঘর
- অচলায়তন
- ফাল্গুনী 
- মুক্তধারা 
- রক্তকরবী
- তাসের দেশ 
- কালের যাত্রা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৩.
মেহনতি মানুষের প্রতিবাদ বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে কোন নাটকে?
  1. ক) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  2. খ) নূরুলদীনের সারাজীবন
  3. গ) ওরা কদম আলী
  4. ঘ) ইবলিশ
ব্যাখ্যা
নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত নাটক 'ওরা কদম আলী' প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালে। 
- এই নাটকের মধ্য দিয়ে নাট্যকার হিসেবে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে। 
- শোষিত-নিপীড়িত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নিয়ে আসেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা। 
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সমষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহন করে তা কদম আলী নামক এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে তা দেখানো হয়েছে। 

মামুনুর রশীদ (জন্ম: ১৯৪৮) এর প্রকাশিত নাটক সমূহ-
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮)
- ওরা আছে বলেই (১৯৮০)
- মে দিবস (১৯৮১)
- ইবলিশ (১৯৮২)
- এখানে নোঙর (১৯৮৬)
- গিনিপিগ (১৯৮৫)
- সমতট (১৯৯০)
- পাথর (১৯৯৩)
- লেবেদেফ (১৯৯৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
কোন সাহিত্যিক পাকিস্তান সরকারের দেয়া 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাব বর্জন করেন?
  1. ক) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  2. খ) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কারর (১৯৬২) লাভ করেন।
মীর মানস গ্রন্থের জন্য তিনি দাউদ পুরস্কার (১৯৬৫), পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাব (১৯৬৬) লাভ করেন। 

- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ খেতাব বর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না?
  1. ক) আঙুর
  2. খ) দি পীস
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) তকবীর
ব্যাখ্যা
ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।

উল্লেখ, সাম্যবাদী পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের কোন গ্রন্থটি সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত?
  1. ক) বত্রিশ সিংহাসন
  2. খ) হিতোপদেশ
  3. গ) রাজাবলী
  4. ঘ) প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের 'হিতোপদেশ' গ্রন্থটি সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন উইলিয়াম কেরির অধিনস্থ বাংলা বিভাগের প্রধান-পন্ডিত।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হলো: 
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), 
- হিতোপদেশ (১৮০৮), 
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং 
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)। 
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১৭.
চলিত রীতির প্রথম গদ্যরচনা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) ভারতী
  3. গ) বিশ্বভারতী
  4. ঘ) হিতকরী
ব্যাখ্যা
বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)।
- তাঁর ছদ্মনাম 'বীরবল'। 
- চলিত রীতিতে তাঁর প্রথম রচনা 'বীরবলের হালখাতা'। 
- এটি ভারতী পত্রিকায় ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয়। 

- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। 
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। 
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
কোন নাটকে কোন নারী চরিত্র নেই?
  1. ক) কবর
  2. খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. গ) বহিপীর
  4. ঘ) নুরুলদীনের সারাজীবন
ব্যাখ্যা
'কবর' (১৯৫৩) মুনীর চৌধুরী রচিত একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক। 
- বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধুরীকে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সরকার আটক ও জেলে প্রেরণ করে। 
- জেলে থাকা অবস্থায় তিনি লেখেন এই নাটক ও ১৯৫৩ সালে কারান্তরালে রাজবন্দিরা তাতে অভিনয় করেন ।
- এ নাটকে মুনীর চৌধুরী কোন নারী চরিত্র রাখেন নি। 
-------------

মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)

- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মার্চে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- মুনীর চৌধুরী মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক-
- কবর (১৯৬৬),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- দন্ডকারণ্য (১৯৬৬)
- পলাশী ব্যারাক  ও অন্যান্য  (১৯৬৯)
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৭),
- রূপার কৌটা (১৯৬৯),
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
'পথের পাঁচালী' ছাড়াও বিভূতিভূষণের কোন উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রুপান্তরিত হয়েছে?
  1. ক) অশনি সংকেত
  2. খ) আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. গ) আরণ্যক
  4. ঘ) অনুবর্তন
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অশনি সংকেত' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র তৈরি করেন - সত্যজিৎ রায়
উল্লেখ্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বইয়ে - চলচ্চিত্র নির্মাণকারী হিসাবে সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটক - দুজনের কথা বলা আছে।
সত্যজিৎ রায় বিভূতিভূষণের 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' - উপন্যাস অবলম্বনেও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
এছাড়াও,
"আদর্শ হিন্দু হোটেল" নামেও অর্ধেন্দু সেন - চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
সুতরাং, অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় বাতিল করা হয়েছে।
-----------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০):
- কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে ।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- পথের পাঁচালী (১৯২৯)
- অপরাজিত (১৯৩১),
- মেঘমল্লার  (১৯৩১),
- মৌরীফুল (১৯৩২),
- যাত্রাবদল (১৯৩৪),
- চাঁদের পাহাড় (১৯৩৭),
- কিন্নরদল (১৯৩৮),
- আরণ্যক (১৯৩৯),
- আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০),
- মরণের ডঙ্কা বাজে (১৯৪০),
- স্মৃতির রেখা (১৯৪১),
- দেবযান (১৯৪৪),
- হীরামানিক জ্বলে (১৯৪৬),
- উৎকর্ণ (১৯৪৬),
- হে অরণ্য কথা কও (১৯৪৮),
- ইছামতী (১৯৫০), ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করা হয় কোন রচনায়?
  1. ক) The Zamindar and Royats
  2. খ) The Indigo Planting Mirror
  3. গ) Tree Without Roots
  4. ঘ) Cry River Cry
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র তাঁর The Zamindar and Royats নামক প্রবন্ধে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করেছেন। 

প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)
- টেকচাঁদ ঠাকুর প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে 
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮০১ সালের ৪ মে  ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন।
- ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন।
- পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯)  সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর অন্য বাঙালি সহকর্মীদের তুলনায় বেশি সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- অনেকের মতে, তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেকার সবচেয়ে ভালো বাংলা গদ্য লেখক। 

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা।

- এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক। তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন রচনাটি অপরগুলি থেকে ভিন্নধর্মী?
  1. ক) দেনা পাওনা
  2. খ) হৈমন্তী
  3. গ) ছুটি
  4. ঘ) অপরিচিতা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে যৌতুক প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কথা উঠেছে। 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬টি যৌতুক বিষয়ের গল্প পাওয়া যায়- 
গল্পগুলো যথাক্রমে—‘দেনা পাওনা’, ‘কঙ্কাল’, ‘স্বর্ণমৃগ’, ‘সুভা’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘মানভঞ্জন’, ‘ঠাকুরদা’, ‘দুর্বুদ্ধি’, ‘যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ’, ‘নষ্টনীড়’, ‘পণরক্ষা’, ‘হৈমন্তী’, ‘অপরিচিতা’, ‘স্ত্রীর পত্র’, ‘তপস্বিনী’ ও ‘পাত্রপাত্রী’।

অপরদিকে 'ছুটি' ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফটিক চক্রবর্তী নামে এক কিশোরের করুণ পরিণতি বর্ণনা করেছেন।

উৎস: ছুটি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং দৈনিক পত্রিকা।
২৩.
বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  2. খ) সংস্কৃতির কথা
  3. গ) সভ্যতার সংকট
  4. ঘ) সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা
'সংস্কৃতির সংকট' বদরুদ্দীন উমর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 

অধ্যাপক ও রাজনীতিবীদ বদরুদ্দীন উমর এর জন্ম ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে। 
- তিনি 'সংস্কৃতি' নামে একটি সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।

- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
- সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮)
- পূর্ববাঙালার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (১৯৭০)
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ (১৯৭৪)
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৬)
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৪)
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৮০)
- বাঙলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি (১৯৮৯)
- দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ (২০০৬) ইত্যাদি। 

উল্লেখ,
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা। 
- 'সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই' (১৯৮৫) শওকত ওসমান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কোন উপন্যাসে নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন?
  1. ক) ইছামতী
  2. খ) আরণ্যক
  3. গ) যাত্রাদল
  4. ঘ) জমীদার দর্পন
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত শেষ উপন্যাস 'ইছামতী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। 
- উপন্যাসটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে। 
- ইছামতী নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। 
- উপন্যাসের চরিত্র: ভবানী বাড়ুয্যে, তিলু, বিলু, নীলু, গয়া মেম, নানুপাল, নিস্তা রানী প্রমুখ।  
- ইংরেজ শাসকদের প্রভাবে কৃষিনির্ভর বাঙালির মনে যে বাণিজ্য চেতনা জাগে তা দেখানো হয়েছে। 
- প্রচলিত সংস্কার ও নারী জাগরণের প্রতিনিথি নিস্তা রানী। 
- নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আছে এই উপন্যাসে। 
- একটি ঐতিহাসিক পটভূমিকায় নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার ঐতিহাসিক দলিল উপন্যাসটি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫.
'মুহুর্তের কবিতা' নামক সনেট সংকলন করেন কে?
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) বিজন ভট্টাচার্য
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
'মুহুর্তের কবিতা' নামক সনেট সংকলনের রচয়িতা ফররুখ আহমদ। 

কবি, শিশুসাহিত্যিক ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪) -এর জন্ম মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে ফররুখ আহমদ সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্ত্ত ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
- ব্যঙ্গ্যকবিতা ও সনেট রচনায় তাঁর কৃতিত্ব অনস্বীকার্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
- সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪),
- সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২),
- নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১),
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩),
- হাতেমতায়ী (১৯৬৬),
- হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১) ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা
- পাখির বাসা (১৯৬৫),
- হরফের ছড়া (১৯৭০),
- ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।