পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ টপিক: পৃথিবীর জলভাগ - ২ (উপসাগর ও প্রণালী), বায়ুমন্ডলীয় স্তর এবং আবহাওয়া ও জলবায়ু, জলবায়ুর নিয়ামক, বায়ু প্রবাহ। [Live Class – 7, 8 & 9]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
তাতার প্রণালী সংযুক্ত করেছে কোন দুই সাগরকে?
  1. বেরিং সাগর ও ওখোটস্ক সাগর
  2. জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগর
  3. জাপান সাগর ও পূর্ব চীন সাগর
  4. হলুদ সাগর ও জাপান সাগর
সঠিক উত্তর:
জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগর
ব্যাখ্যা

তাতার প্রণালী:
- অবস্থান: রাশিয়ার সাখালিন দ্বীপ ও এশীয় মূল ভূখণ্ড (সাইবেরিয়া) এর মধ্যে।
- সংযোগ স্থাপন: জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগরের মধ্যে।
- দৈর্ঘ্য: প্রায় ৬৬০ কিলোমিটার।
- প্রস্থ: সর্বাধিক প্রায় ৩২০ কিমি;
- সংকীর্ণতম অংশ (নেভেলস্কয় প্রণালী) প্রায় ৭–৮ কিমি।
- প্রকৃতি: তুলনামূলকভাবে অগভীর জলরাশি।
- জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য: শীতকালে উত্তরাংশ বরফে আচ্ছাদিত থাকে।
- গুরুত্ব: রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

.
ব্যাফিন উপসাগর কোন প্রণালীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে যুক্ত?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. ডেভিস প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. মালাক্কা প্রণালী
সঠিক উত্তর:
ডেভিস প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেভিস প্রণালী
ব্যাখ্যা

ব্যাফিন উপসাগর: 
- এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সাগর।
- এটি কানাডার বেফিন দ্বীপ ও গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ–পশ্চিম উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
- এর দক্ষিণে ডেভিস প্রণালী ও ল্যাব্রাডর সাগর হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে যুক্ত।
- এটি উত্তরে ন্যারেস প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- বছরের অধিকাংশ সময় এই উপসাগরটি বরফে আচ্ছাদিত থাকে।
- ভাসমান বরফ ও হিমশৈলের কারণে এই উপসাগর নৌ চলাচল অত্যন্ত সীমিত।

উৎস: ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ব্রিটানিকা।

.
বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক ধরনের আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় কেন?
  1. শুধুমাত্র আবহাওয়ার নিয়ামকের প্রভাবে 
  2. আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের প্রভাবে
  3. শুধুমাত্র স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থানের কারণে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের প্রভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের প্রভাবে
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক:
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর মূল নিয়ামকগুলো প্রধানত আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধরনের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা 
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব 
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল 
৭। ভূ-প্রকৃতি 
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং 
১০। বনভূমির অবস্থান।

উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ যথা-বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বনভূমির অবস্থান, ভূ- প্রাকৃতিক অবস্থা, উচ্চতা, অক্ষাংশ, স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান, ভূমির ঢাল ইত্যাদির প্রভাবে বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক ধরনের আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় কত কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত?
  1. ১০০০ কিমি
  2. ১০০০০ কিমি
  3. ১৫০০০ কিমি
  4. ২০০০০ কিমি
সঠিক উত্তর:
১০০০০ কিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০০০ কিমি
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডল:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমন্ডল।
- বায়ুমন্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere।
- বায়ুমন্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ।
- এটি আমরা দেখতে পাইনা কিন্তু অনুভব করতে পারি।
- বায়ুমন্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে।
- তবে বায়ুকঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে।
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমন্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর।
- বায়ুমন্ডল ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমন্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করেছে কোন খাল?
  1. সুয়েজ খাল
  2. গ্রান্ড খাল
  3. পানামা খাল
  4. গোটা খাল
সঠিক উত্তর:
সুয়েজ খাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুয়েজ খাল
ব্যাখ্যা

সুয়েজ খাল:
- সুয়েজ খাল হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম কৃত্রিম খাল।
- ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দে লেসেপ্স হলেন সুয়েজ খাল নির্মাণের মূল পরিকল্পনাকারী।
- ১৮৫৯ সালে সুয়েজ খালের খনন কাজ শুরু হয়।
- এটি চালু হয় ১৮৬৯ সালে।
- সুয়েজ খাল লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করেছে।
- মিশর সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করে ১৯৫৬ সালে। 
- দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয় মিশরের এই জাতীয়করণের ফলেই।

উল্লেখ্য,
- পানামা খাল আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করে।
- গ্রান্ড খাল পৃথিবীর প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম কৃত্রিম খাল।

উৎস: ব্রিটানিকা।

.
বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলোকে কতটি ভাগে ভাগ করা করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলের উপাদান:
- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।
- বায়ুমন্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%।
- অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমন্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমন্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমন্ডল (Heterosphere) বলে।

• বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা করা যায়। যথা-
ক. গ্যাসীয় উপাদান (Composition of Gases):
খ. জলীয়বাষ্প (Water Vapour):
গ. ধূলিকণা (Dust):



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাবেল মান্দেব প্রণালী কোন দুইটি সাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. পার্সিয়ান উপসাগর ও আন্দামান সাগর
  2. লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর
  3. লোহিত সাগর ও আন্দামান সাগর
  4. আরব উপসাগর ও বঙ্গোপসাগর
সঠিক উত্তর:
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর
ব্যাখ্যা

বাবেল মান্দেব প্রণালী:
- বাবেল মান্দেব প্রণালী এশিয়া মহাদেশ এবং আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে পৃথকীকরণের জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করে। 
- এই প্রণালীটি আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী একটি প্রণালী। 
- এটি দুই মহাদেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা সঠিকভাবে তাদের বিভক্ত করে।
- এর অবস্থান: ইয়েমেন (আরব উপদ্বীপ) এবং ডিজিবুতি‑ইথিওপিয়ার অংশ (আফ্রিকা)।
- আরবী বাব এল মান্দেবের অর্থ দুর্দশার দুয়ার।
- ইংরেজিতে প্রণালীটিকে কখনও কখনও মান্দাব প্রণালী হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- বাব এল মান্দেব লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

.
উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রার কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথম বৃদ্ধি পায়, পরে কমে
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা

উচ্চতা:
- উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতা ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়।
- দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম।

উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা 
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব 
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল 
৭। ভূ-প্রকৃতি 
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং 
১০। বনভূমির অবস্থান।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পারস্য উপসাগরের উপকূলীয় দেশ নয় কোনটি?
  1. কুয়েত
  2. ওমান
  3. বাহরাইন
  4. সিরিয়া
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া
ব্যাখ্যা

পারস্য উপসাগর: 
- পারস্য উপসাগরকে কখনও কখনও আরব উপসাগর বা ইরান উপসাগর নামেও ডাকা হয়।
- এটি আনুমানিক ২,৫১০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এবং এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৯০ মিটার, আর গড় গভীরতা ৫০ মিটার।
- এই উপসাগরটি ইরান ও আরব উপদ্বীপের মাঝে অবস্থিত। 
- এটি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ওমান উপসাগরের সাথে যুক্ত।
- ইরানের উল্লেখযোগ্য দ্বীপ: গেশম, হরমুজ, বাহরাইন, আবু মুসা, এবং খার্ক/খার্গ এই উপসাগরে অবস্থিত।

• পারস্য উপসাগরের আটটি উপকূলীয় দেশ হলো:
- বাহরাইন,
- ইরান,
- ইরাক,
- কুয়েত,
- ওমান,
- কাতার,
- সৌদি আরব এবং
- সংযুক্ত আরব আমিরাত।

উল্লেখ্য,
- পারস্য উপসাগরে উপকূলীয় দেশ নয় সিরিয়া।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১০.
সমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয় নিচের কোনটি?
  1. ট্রপোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. স্ট্রাটোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা

'এক্সোমন্ডল' সমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

বায়ুমন্ডলের স্তর বিন্যাস:

- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন স্তরে স্তরে সজ্জিত।
- বায়ুমন্ডলের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর থেকে উপরের দিকে ক্রমশ লঘু হয়।
- উলম্বভাবে (Vertically) বায়ুর তাপমাত্রার বিন্যাসের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডলকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- ট্রপোমন্ডল,
- স্ট্রাটোমন্ডল,
- মেসোমন্ডল,
- তাপমন্ডল ও
- এক্সোমন্ডল।

উল্লেখ্য,
- বায়ুমন্ডলের উপরিউক্ত স্তরগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি (ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডল) সমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।
- শেষের দুইটি (তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল) বিষমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী কোন দিকে বেঁকে যায়?
  1. ডান দিকে
  2. বাম দিকে 
  3. উভয় দিকে
  4. কোনটিই নয়
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে গোলার্ধ উল্লেখ নেই, তাই প্রশ্নটি অসম্পূর্ণ/অস্পষ্ট।

ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী - 
- উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডান দিকে বেঁকে যায়। 
- দক্ষিণ গোলার্ধে বায়ু বাম দিকে বেঁকে যায়। 

প্রশ্নটি অসম্পূর্ণ থাকায় বাতিল করা হয়েছ।
---------------------------

মৌসুমি বায়ু (Monsoon Wind):

- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় “মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। 
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে।
- সেজন্য মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধানত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তী অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চলে এই বায়ু প্রবাহের অন্তর্গত। 
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এর ফলে কর্কটক্রান্তি অঞ্চলের অন্তর্গত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত, মধ্য এশিয়া প্রভৃতি স্থানের স্থলভাগ অতিশয় উত্তপ্ত হয়।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে।
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং
- উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে?
  1. মেসোমন্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমন্ডল: 
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর সব রকমের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫০ সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
দেশ হিসেবে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
  1. ডোভার প্রণালী
  2. বেরিং প্রণালী
  3. পক প্রণালী
  4. হরমুজ প্রণালী
সঠিক উত্তর:
বেরিং প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেরিং প্রণালী
ব্যাখ্যা

বেরিং প্রণালী:
- এটি প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে উত্তরের অংশ।
- বেরিং প্রণালী পৃথক করেছে এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশকে।
- এটি দেশ হিসেবে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পৃথক করেছে।
- এই প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছিল ভিটাস বেরিং-এর সম্মানে।
- বেরিং প্রণালী তুলনামূলকভাবে অগভীর।
- এর গড় গভীরতা: ৫০ মিটার, গভীরতম বিন্দু: ৯০ মিটার।
- বেরিং প্রণালীতে ডায়োমেড দ্বীপপুঞ্জ ও সেন্ট লরেন্স দ্বীপপুঞ্জসহ অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ডোভার প্রণালী ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে পৃথক করেছে।
- পক প্রণালী শ্রীলঙ্কা ও ভারত পৃথক করেছে।
- হরমুজ প্রণালী: ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পৃথক করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৪.
দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবলভাবে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুর জন্য এই অঞ্চলকে কী বলা হয়?
  1. Horse Latitude
  2. Roaring Forties
  3. Trade Winds
  4. Doldrums
সঠিক উত্তর:
Roaring Forties
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Roaring Forties
ব্যাখ্যা

পশ্চিমা বায়ু:
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়।
- ৩০ অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেষে মেরুর দিকে ৬০অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়।
- এসময় অপেক্ষাকৃতি উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল।
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ু প্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু।
- ৪০থেকে ৪৭ দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)।
- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- ৩০থেকে ৫০ উত্তর ও দক্ষিণঅক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে।
- বায়ু নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় বলেই এই অঞ্চলে অনুভূমিক বায়ু অনুভব করা যায় না।
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত।
- কিন্তু এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো।
- এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ৩০ থেকে ৩৫ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
পানামা খাল কোন দুইটি মহাদেশকে পৃথক করেছে?
  1. উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
  2. উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকা
  3. দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপ
  4. এশিয়া ও ইউরোপ
সঠিক উত্তর:
উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- পানামা খাল বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- অবস্থিত: পানামা প্রজাতন্ত্র, বুক চিরে কৃত্রিম খাল।
- খনন শুরু: ১৯০৪, সমাপ্ত: ১৯১৪।
- দৈর্ঘ্য: ৬৫ কিমি (গভীর জলভাগ থেকে ৮২ কিমি)।
- প্রস্থ: ৩০-৯০ মিটার।
- গভীরতা: ৪৬-৮৫ ফুট, স্থানভেদে পরিবর্তিত।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।
- পানামা খাল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজের পথ প্রায় ১৫,০০০ কিমি হ্রাস করেছে।

 উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৬.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়?
  1. ট্রপোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. স্ট্রাটোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমন্ডল: 
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল।
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। এ
- রপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০ সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।
- স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে।
- এই স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে।
- স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। 
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। 
- জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর।
- তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না।
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬ সেলসিয়াস) অনেক বেশি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. ধূলিকণা ও কনিকা
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যার পরিমাণ প্রায় ৭৮.০২%।
- দ্বিতীয় প্রধান উপাদান হিসাবে সবচেয়ে বেশী রয়েছে অক্সিজেন। যার পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ।
- এ দুটি গ্যাসবায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যার পরিমাণ প্রায় ০.০১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোথায় অবস্থিত?
  1. এডেন উপসাগর
  2. বঙ্গোপসাগর
  3. আন্দামান সাগর
  4. আরব উপসাগর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সবচেয়ে গভীর সামুদ্রিক খাদ হলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।
- এটি সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- এই গিরিখাতের গড় গভীরতা প্রায় ১২০০ মিটার।
- সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত গভীরতা প্রায় ১৩৪০ মিটার।
- এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল
- বিশ্বের বৃহত্তম ডুবো গিরিখাতগুলোর মধ্যেও এটি অন্যতম।

উল্লেখ্য,
- ভারত মহাসাগরের একটি বিস্তৃত অংশ হলো বঙ্গোপসাগর।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর হিসেবে পরিচিত। 
- এটি ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মধ্যবর্তী ত্রিভুজাকৃতির জলভাগ। 
- উপসাগরটির পশ্চিম সীমান্তে ভারত ও শ্রীলঙ্কা, উত্তরে ভারত ও বাংলাদেশ এবং পূর্বে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড অবস্থিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৯.
নিচের কোনটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ?
  1. বাংলাদেশের মৌসুমি বায়ু
  2. আরব মালভূমির সাইমুম
  3. চীনের বৃষ্টিপাত ও ঝড়
  4. ভিয়েতনামের ঘুর্ণিবাত বায়
সঠিক উত্তর:
আরব মালভূমির সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরব মালভূমির সাইমুম
ব্যাখ্যা

স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।

• কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ-
- রকি পবর্তের চিনুক,
- ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল,
- আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু,
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা,
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা,
- আরব মালভূমির সাইমুম,
- মিসরের খামসিন ও
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু।

• উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু:
- দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়।
- দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়।
- এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে।
- এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে।
- এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করে কোন প্রণালী?
  1. দার্দানিলিস প্রণালী
  2. মোজাম্বিক প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. পক প্রণালী
সঠিক উত্তর:
পক প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক প্রণালী
ব্যাখ্যা

পক প্রণালী: 
- এই প্রণালী ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত।
- পক প্রণালী আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করে।
- এটি শ্রীলঙ্কার মান্নার জেলা এবং ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যকে পৃথক করেছে।
- শ্রীলঙ্কা ও ভারত পৃথক করেছে পক প্রণালী।

অন্যদিকে, 
- মোজাম্বিক প্রণালী - ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- বসফরাস প্রণালী- মর্মর সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে।
- দার্দানিলিস প্রণালী- মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।