পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৬
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩৪: বিষয়: আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সিলেবাস ১. বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি। ২. আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক। উৎস: বিভিন্ন শ্রেণির বোর্ড বই, বিভিন্ন অথেনটিক ওয়েবসাইট, সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইড বই। --------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ১০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৬ প্রশ্ন

.
মুসলিম বিশ্বের নির্বাচিত প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. বেনজির ভুট্টো
  2. খালেদা জিয়া
  3. তানসু চিলার
  4. শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে
সঠিক উত্তর:
বেনজির ভুট্টো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনজির ভুট্টো
ব্যাখ্যা

বেনজির ভুট্টো:
- মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে নির্বাচিত প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো।
- ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বেনজির ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পিপিপি জয়ী হলে তিনি মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
- তিনি ১৯৮৮-৯০ এবং ১৯৯৩-৯৬ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দুটি মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ বেনজির ভুট্টো ছিলেন জুলফিকার আলি ভুট্টোর কন্যা।
- বেনজির ভুট্টোর জন্ম ১৯৫৩ সালের ২১ জুন, করাচিতে।
- জুলফিকার আলি ভুট্টো ১৯৭১ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের নেতা ছিলেন।
- প্রতিপক্ষের এক নেতাকে খুনের অভিযোগে ১৯৭৯ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে বেনজির ভুট্টো মাত্র ২৬ বছর বয়সে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় বেনজির ভুট্টো নিহত হন।

অন্যদিকে -
- বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মাঝে দ্বিতীয় মহিলা সরকারপ্রধান (বেনজীর ভুট্টোর পর)।
- বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট ইসাবেলা পেরন।
- মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট মেঘবর্তী সুকর্নপুত্রী।
- বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরানায়েক।

উৎস: Britannica. 

.
‘রোজ বিপ্লব’ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. ইউক্রেন
  2. জর্জিয়া
  3. লিবিয়া
  4. ইরান
সঠিক উত্তর:
জর্জিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জিয়া
ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক বিপ্লবসমূহ:
- রোজ বিপ্লব: সংঘটিত হয় জর্জিয়ায় ২০০৩ সালে।
- আমেরিকান বিপ্লব: সংঘটিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৭৬ সালে।
- ফরাসি বিপ্লব: সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
- রুশ বিপ্লব: সংঘটিত হয় রাশিয়ায় ১৯১৭ সালে।
- সাংস্কৃতিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় চীনে ১৯৬৬- ১৯৭৬ সালে।
- ইসলামিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইরানে ১৯৭৯ সালে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইউক্রেনে ২০০৪ সালে।
- টিউলিপ বিপ্লব: সংঘটিত হয় কিরগিজস্থানে ২০০৫ সালে।
- নীল বিপ্লব: সংঘটিত হয় মিসরে ২০১১ সালে।
- জেসমিন বিপ্লব: সংঘটিত হয় তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে।

উৎস: Britannica.

.
ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কিউবা
  2. মেক্সিকো
  3. ভেনিজুয়েলা 
  4. হাইতি
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা 
ব্যাখ্যা

ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি:
- ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত।
- এটি ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, 
- সম্প্রতি (৩ জানুয়ারি, ২০২৬) ভেনেজুয়েলায় ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাজধানী কারাকাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিকট বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। স্থাপনা দুটির একটি হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি। অন্য সামরিক ঘাঁটি হলো ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি। এটিতেই প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে থাকেন বলে মনে করা হচ্ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের ব্যাপারে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

.
ফ্যাসিবাদের জনক বলা হয় কাকে?
  1. এডলফ হিটলার
  2. বেনিতো মুসোলিনি
  3. জোসেফ স্টালিন
  4. ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো
সঠিক উত্তর:
বেনিতো মুসোলিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনিতো মুসোলিনি
ব্যাখ্যা

বেনিতো মুসোলিনি:
- ফ্যাসিবাদের প্রবর্তক বেনিতো মুসোলিনি।

⇒ বেনিতো মুসোলিনি ছিলেন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ কালে ইতালির সর্বাধিনায়ক।
- তিনি ছিলেন একজন বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক নেতা।
- বেনিতো মুসোলিনির জন্ম ১৮৮৩ সালের ২৯ জুলাই।
- ১৯২২ সালে বেনিতো মুসোলিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষনা করেন।
- বেনিতো মুসোলিনি বিশ শতকের ইউরোপে প্রথম ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯২২ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকেন।
- একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসনকে সাংবিধানিক মর্যাদায় উন্নীত করা মুসোলিনি একজন রাজনৈতিক সাংবাদিকও ছিলেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন তিনি।
- মুসোলিনি ১৯৪০ সালে অক্ষশক্তির পক্ষে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করেন।
- ১৯৪৩ সালে সিসিলিতে ক্ষমতাচ্যুত হলে তাকে বন্দী করা হয়।
- বেনিতো মুসোলিনি ১৯৪৫ সালের ২৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- 'নারীর কাছে মাতৃত্ব যেমন অপরিহার্য, পুরুষের কাছে যুদ্ধও তেমনি অপরিহার্য'- উক্তিটি করেছেন বেনিতো মুসোলিনি।

উৎস: i) History.com
ii) BBC.

.
ভেনেজুয়েলার রাজধানীর নাম কী?
  1. কারাকাস
  2. বোগোটা 
  3. লিমা
  4. কুইটো
সঠিক উত্তর:
কারাকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারাকাস
ব্যাখ্যা

ভেনিজুয়েলা:
- ভেনিজুয়েলা (venezuela) দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তর উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরের তীরে অবস্থিত ফেডারেল প্রজাতন্ত্র শাসিত একটি রাষ্ট্র।
- উত্তর প্রান্তে রয়েছে আন্দিস পর্বতমালার সুউচ্চ পর্বতাঞ্চল। 
- ভেনিজুয়েলা মোট ২১টি রাজ্য নিয়ে গঠিত। 
- সরকারি ভাষা: স্প্যানিশ। 
- মুদ্রা: ভেনেজুয়েলান বলিভার।
- রাজধানী: কারাকাস।
- বর্তমান রাষ্ট্রপতি: ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

উল্লেখ্য,
- প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়ায় ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এখন থেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন বলে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

.
মনরো ডকট্রিন কত সালে ঘোষিত হয়?
  1. ১৭৭৬ সালে
  2. ১৮১২ সালে
  3. ১৮২৩ সালে
  4. ১৮৬১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৩ সালে
ব্যাখ্যা

মনরো ডকট্রিন (Monroe Doctrine): 
- ১৮২৩ সালের ২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ‘মনরো ডকট্রিন’ ঘোষণা করেন।
- এ নীতিতে বলা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় কোনো বিষয়ে আর হস্তক্ষেপ করবে না। তবে পুরো পশ্চিম গোলার্ধ তাদের প্রভাবের আওতায় থাকবে।
- প্রকৃতপক্ষে মনরো মতবাদ হলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির অবস্থান যা পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের বিরোধিতা করে।
- এই মতবাদের মূল কথা হলো বিদেশি শক্তি দ্বারা আমেরিকা মহাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে যেকোনো হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য শত্রুতামূলক কাজ।
- এই মতবাদটি বিশ শতকে আমেরিকান গ্র্যান্ড কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
- এই মতবাদ ‘পলিসি অব আইসোলেশন’ নামেও পরিচিত ছিল।

⇒ মনরো ডকট্রিনের মূল বক্তব্য ছিল:
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইউরোপের কোনো দেশ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
- এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো উপনিবেশ স্থাপন করা যাবে না।
- কোনো ইউরোপীয় হস্তক্ষেপকে আমেরিকার নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখা হবে।
- বিনিময়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যমান ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোকে স্বীকৃতি দেবে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবে না।

উৎস: Britannica.

.
ফিলিস্তিনের নির্বাচনে জয়লাভ করে কত সালে হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয়?
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০০৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

হামাস:
- হামাস ফিলিস্তিনের গেরিলা সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৭।
- প্রতিষ্ঠাতা: শেখ ইয়াসিন।
- এর সদরদপ্তর গাজায় অবস্থিত।
- সামরিক শাখা: ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডস।
- গাজা উপত্যকা দখল: ২০০৭ সালে। 

⇒ ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসানের দাবিতে ‘ইন্তিফাদা’ বা ফিলিস্তিনি গণজাগরণ শুরুর পর ১৯৮৭ সালে হামাস গঠিত হয়। কট্টর ইসরায়েলবিরোধী আধ্যাত্মিক নেতা শেখ আহমাদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে আবদেল আজিজ আল-রান্তিসি ও মাহমুদ জহর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- শুরু থেকেই নীতিগতভাবে প্রয়াত ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের স্বাধীনতাপন্থী সংস্থা পিএলও এর বিরোধিতা করে আসছে দলটি।
- তাদের প্রথম উদ্দেশ্য এর সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।

উল্লেখ্য,
- ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে প্যালেস্টাইনের সাধারণ নির্বাচনে হামাস ফাতাহকে হারিয়ে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফাতাহ হেরে যাওয়ার পর এবং হামাস যোদ্ধারা গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই সহিংসতা শুরু হয়। ওই সংঘাতের ফলে ফিলিস্তিনের যৌথ সরকারের বিলুপ্তি ঘটে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শাসনভার ভাগ হয়ে যায়। ফিলিস্তিনের দুই অংশ- পশ্চিম তীর ফাতাহ আর গাজা হামাসের শাসনে চলে যায়।
- ১০ জুন, ২০০৭ থেকে গাজায় হামাস এবং ফাতাহের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়। তিন দিনের তীব্র সংঘর্ষের পর হামাস গাজা নিয়ন্ত্রণ নেয়।

উৎস: i) Al Jazeera.
ii) Britannica.

.
মুকালা সমুদ্র বন্দর কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইয়েমেন 
  2. জর্ডান 
  3. ইসরায়েল
  4. ইন্দোনেশিয়া
সঠিক উত্তর:
ইয়েমেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়েমেন 
ব্যাখ্যা

মুকালা সমুদ্র বন্দর:
- মুকালা সমুদ্র বন্দর ইয়েমেনে অবস্থিত। 
- এটি আরব সাগরের তীরে হাদরামাউত গভর্নরেটের একটি প্রধান বন্দর ও রাজধানী শহর। 

⇒ ইয়েমেন:
- ইয়েমেন প্রজাতন্ত্র পশ্চিম এশিয়ার একটি আরব দেশ।
- দেশটি এককালে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার সংযোগস্থল ছিল।
- আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে দক্ষিণ আরবজুড়ে দেশটির অবস্থান।
- ইয়েমেন আরব উপদ্বীপের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র।
- ইয়েমেনের সীমান্তে রয়েছে উত্তরে সৌদি আরব, পশ্চিমে লোহিত সাগর, দক্ষিণে এডেন উপসাগর ও আরব সাগর এবং পূর্ব-উত্তর পূর্বে ওমান।
- রাজধানী: সানা।
- ভাষা: আরবি।
- মুদ্রা: ইয়েমেনি রিয়াল।

উৎস: i) World Atlas.
ii) Britannica.

.
ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার কোন শাসকের পতন ঘটে?
  1. লেনিন
  2. জার দ্বিতীয় নিকোলাস
  3. কেরেনস্কি
  4. স্টালিন
সঠিক উত্তর:
জার দ্বিতীয় নিকোলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার দ্বিতীয় নিকোলাস
ব্যাখ্যা

রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- মোট দুইটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী শাসনের পতন ঘটে এবং ১৯২২ সালে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব (মার্চ, ১৯১৭):
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রোমানভ রাজবংশের পতন ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়। 
- একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে অক্টোবর বিপ্লবে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটায়।

⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব (নভেম্বর, ১৯১৭):
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন।
- ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি অস্থায়ী সরকারকে উৎখাত করে এবং ক্ষমতা দখল করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- লেনিন বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের একনায়ক হয়ে ওঠেন।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

১০.
'অপারেশন জাস্ট কজ' কোন দেশে পরিচালিত হয়েছে?
  1. সোমালিয়া
  2. পানামা
  3. নিকারাগুয়া
  4. ভেনেজুয়েলা
সঠিক উত্তর:
পানামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানামা
ব্যাখ্যা

অপারেশন জাস্ট কজ:
- 'অপারেশন জাস্ট কজ' পরিচালিত হয়েছে পানামায়।

⇒ লাতিন আমেরিকার দেশ পানামার স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ধরতে ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে ‘অপারেশন জাস্ট কজ’ পরিচালনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। 
- যুক্তরাষ্ট্রের ২০০টির বেশি উড়োজাহাজ পানামা অভিযানে অংশ নিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ৮০টি সি-১৪১, ২২ থেকে ২৫টি সি-১৩০, ১১টি সি-৫১ স্ট্র্যাটেজিক এয়ার কমান্ড ছিল। এ ছাড়া ১৬টি এফ-১৫ ও ৪টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কি ইস্ট থেকে ক্যারিবীয় উপকূলে ইউকাটান উপদ্বীপ ও কিউবার মধ্যে যুদ্ধকালীন টহল দিয়েছিল।
- রাতের আকাশ ভেদ করে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। পিডিএফের দুটি রাইফেল কোম্পানি ব্যারাকে দুটি ২০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা ফেলা হয়। অ্যাপাচি হেলিকপ্টার থেকে নিখুঁত নিশানায় ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল মার্কিনদের জীবন রক্ষা করা, পানামায় গণতন্ত্র রক্ষা করা, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং পানামা খাল চুক্তির অখণ্ডতা রক্ষা করা।
- বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানামায় মার্কিন সামরিক অভিযানে দেশটির ৫১৪ জন সেনা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫০ থেকে ২০০ জন পিডিএফের সেনা, অন্যরা বেসামরিক নাগরিক।
- দুই সপ্তাহে সফলভাবে পানামায় জাস্ট কজ অভিযান শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কর্মকর্তারা নরিয়েগাকে মায়ামিতে উড়িয়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
- ১৯৯২ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

উৎস: Britannica.

১১.
‘গ্রিনল্যান্ড দ্বীপ’ কোন দেশের একটি স্বশাসিত অঞ্চল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র 
  2. কানাডা
  3. ডেনমার্ক
  4. নরওয়ে
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

গ্রিনল্যান্ড:
- বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল।
- গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ।
- এর অবস্থান উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- এর অবস্থান কানাডা এবং আইসল্যান্ডের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে মূল ডেনমার্কের চেয়ে গ্রীনল্যান্ড প্রায় ৫০ গুন বড়।
- রাজধানী: নুউক।
- গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এস্কিমো হিসেবে পরিচিত।
- গ্রীনল্যান্ডের ৮০ শতাংশ এলাকা বরফে ঢাকা।
- জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ হচ্ছে আদিবাসী ইনুইট সম্প্রদায়ের।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনল্যান্ড ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের একটি উপনিবেশ ছিল।
- ১৯৭৯ সালে গণভোটের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছিল, তবে দ্বীপটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি এখনও ডেনমার্কই দেখভাল করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১২.
কোন যুদ্ধ 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' নামে পরিচিত?
  1. উপসাগরীয় যুদ্ধ
  2. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  3. কোরীয় যুদ্ধ
  4. ওয়াটারলু যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
উপসাগরীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসাগরীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম:
- '১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ' অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ইরাক এবং ৩৪টি দেশের জাতিসংঘ অনুমোদিত যৌথ বাহিনীর মধ্যে।
- ১৯৯০ সালের আগস্ট মাসে ইরাকের কুয়েত আগ্রাসন এবং কুয়েতি ভূ-খন্ড দখলের প্রেক্ষিতে ইরাক বাহিনীর হাত থেকে কুয়েতকে মুক্ত করাই ছিল সে যুদ্ধের উদ্দেশ্য।
- ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট ইরাক কর্তৃক কুয়েত আক্রান্ত হলে ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী ইরাকের উপর বিমান হামলা শুরু করে।
- ইরাকের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধই ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ নামে পরিচিত।
- বহুজাতিক বাহিনীর আক্রমণের মুখে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরাকি বাহিনী পরাজয় বরণ করে।
- এই যুদ্ধ প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান - অপারেশন এনডুরিং ফ্রিডম।
- অপারেশন অডিসি ডন (Operation Odyssey Dawn) লিবিয়ায় মার্কিন তথা আন্তর্জাতিক মিলিটারি অপারেশনস-এর কোড নাম।
- ১৯৪১ সালে ২২ জুন জার্মানীর হিটলার 'অপারেশন বারবারোসা' নামে পরিচিত সোভিয়েত ইউনিয়ন অভিযান শুরু করেছিলেন।

উৎস: Britannica.

১৩.
মিয়ানমারের বর্তমান জান্তা সরকারের প্রধান কে?
  1. অং সান সু চি
  2. থা কিয়া
  3. নিয়ো সা
  4. জেনারেল মিন অং হ্লাইং
সঠিক উত্তর:
জেনারেল মিন অং হ্লাইং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল মিন অং হ্লাইং
ব্যাখ্যা

মিয়ানমার:
- দেশটি বার্মা নামেও পরিচিত।
- রাজধানী: নেপিদো।
- মুদ্রা: কিয়াট।
- প্রধান ভাষা: বার্মিজ।
- সীমান্তরক্ষী বাহিনী: বর্ডার গার্ড পুলিশ (BGP)।
- মিয়ানমারের জাতীয় সংসদ দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট।

⇒ মিয়ানমারের জান্তা সরকার:
- ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জান্তা সরকার মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন শুরু করে।
- নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জেনারেল মিন অং হ্লাইং নেতৃত্বে একটি সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় যা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল (SAC) নামে পরিচিত।
- মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান হচ্ছেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং।
- তিনি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশটির শাসনক্ষমতা গ্রহণ করেন।
- মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর তিনি "স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল" (SAC) এর চেয়ারম্যান হন, যা মিয়ানমারের বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রধান নির্বাহী অঙ্গ।

⇒ ১৯৬২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা দীর্ঘ ৪৭ বছর জান্তা সরকারের শাসনাধীন ছিল দেশটি।
- ২০১১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের হাতে নামমাত্র ক্ষমতা হস্তান্তর করে সামরিক বাহিনী।
- ২০১৫ সালে অং সাং সু চি’র নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল এনএলডি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।
- ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চি ও তার সরকারের পতন হয়।
- এর পর থেকেই দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ চলছে।

উৎস: Britannica.

১৪.
সানা কোন দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা?
  1. সিরিয়া
  2. তুরস্ক
  3. ইরান
  4. ইয়েমেন
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া
ব্যাখ্যা

সানা হলো সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।

বিভিন্ন দেশের সংবাদ সংস্থা:
- বাংলাদেশ: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), মিডিয়া সিন্ডিকেট, ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (এনা), ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেসন (আইএসপিআর), ইউনাইটেড নিউজ অব, বাংলাদেশ (ইউএনবি), আবাস, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)।
- যুক্তরাষ্ট্র: এসোসিয়েট প্রেস (এপি), ভয়েস অব আমেরিকা (VOA), ক্যাবল নিউজ, নেটওয়ার্ক (CNN)।
- যুক্তরাজ্য: রয়টার্স, ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি)।
- পাকিস্তান: এসোসিয়েট প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি), পাকিস্তান প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (পিপিআই), ইউনাইটেড প্রেস অব পাকিস্তান (ইউপিপি)।
- চীন: সিনহুয়া।
- ফ্রান্স: এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি)।
- ভারত: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (PTI), ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া (ইউএনআই)।
- রাশিয়া: ইতার-তাস (ITAR-TASS), রাশিয়া টুডে (Rossiya Segodnya), ইন্টারফ্যাক্স।
- ইন্দোনেশিয়া: আনতারা।
- ইরান: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (ইরনা), ইরান নিউজ এজেন্সি (আইএনএ)।
- ইরাক: নিউজ এজেন্সি (ইনা)।
- ইসরাইল: জিউস টেলিগ্রাফ এজেন্সি (JTA)।
- অষ্ট্রেলিয়া: অষ্ট্রেলিয়ান ব্রডকাষ্টিং কর্পোরেশন (এবিসি)।
- কানাডা: কানাডিয়া প্রেস (সিপি)।
- লিবিয়া: জানা।
- মালয়েশিয়া: বারনামা।
- মিশর: মেনা (মিডিল ইস্ট নিউজ এজেন্সি)।
- পর্তুগাল: লুসা।
- বেলজিয়াম: বেলজা।

উৎস: সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।

১৫.
নেলসন ম্যান্ডেলা কত বছর কারাবাস ভোগ করেছিলেন?
  1. ১৮ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২৭ বছর
  4. ৩৩ বছর 
সঠিক উত্তর:
২৭ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭ বছর
ব্যাখ্যা

নেলসন ম্যান্ডেলা (Nelson Mandela):
- দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।
- তার জন্ম ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার মভেজোতে।
- তার ডাকনাম মাদিবা, তাতা, রোলিহ্লাহ্লা, ডালিভুঙ্গা ইত্যাদি।
- ১৯৪২ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন।
- তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট।

⇒ ১৯৬২ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২৭ বছর নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকায় রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে কারাগারে ছিলেন।
- দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কারণে আফ্রিকার ন্যাশনাল কংগ্রেসের এই নেতাকে কারাবরণ করতে হয়।
- ম্যান্ডেলাকে 'রোবেন দ্বীপ' এর কারাগারে ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত অন্তরীণ রাখা হয়। এখানে তিনি তাঁর ২৭ বছরের কারাবাসের প্রথম ১৮ বছর কাটান।
- ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে ম্যান্ডেলাকে রবেন দ্বীপের কারাগার থেকে পোলসমুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৮৮ সালে ম্যান্ডেলাকে ভিক্টর ভার্সটার কারাগারে সরিয়ে নেয়া হয়। ভিক্টর ভার্সটার কারাগার থেকে ম্যান্ডেলাকে ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি মুক্তি দেয়া হয়।
- তিনি কারাগারে থাকার সময় তার কয়েদী নম্বর ছিলো ৪৬৬। কারাদন্ডের সাল মিলিয়ে ‘৪৬৬৬৪’ গঠন করা হয় যা মেন্ডেলার এইডস বিরোধী প্রচারণার নাম।

⇒ কারা মুক্তির পর ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৯০ হতে ১৯৯৪ পর্যন্ত তিনি এই দলের নেতা ছিলেন।
- তিনি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর জোহানেসবার্গে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৬.
আরব বসন্তের ফলে কোন দেশে জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল?
  1. তিউনিসিয়া
  2. মিশর 
  3. লিবিয়া
  4. ইয়েমেন
সঠিক উত্তর:
তিউনিসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিউনিসিয়া
ব্যাখ্যা

আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া থেকে সূচিত এই গণবিক্ষোভ ক্রমেই প্রসারিত হয় অন্যান্য দেশে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পরিবর্তনের ঢেউ লাগে।

⇒ তিউনিসিয়া: আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বুয়াজিজির আত্মাহুতির পর দেশজুড়ে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ায় জনগণ শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের ডাক দেয়।
- ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রাষ্ট্রপতি জাইন আল-আবিদিন বেন আলী পদত্যাগ করেন এবং দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। পরে তিউনিসিয়ার আদালত তাকে অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের জেদ্দায় নির্বাসিত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.

১৭.
বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা কোথায় হয়েছিল?
  1. ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
  2. নিউ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র
  3. হিরোশিমা, জাপান 
  4. নাগাসাকি, জাপান 
সঠিক উত্তর:
নিউ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর প্রথম পারমাণবিক বোমা:
- পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল।
- এই প্রকল্পের নাম ছিল 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট'।
- সেই বোমা তৈরির প্রধান বিজ্ঞানী ছিলেন রবার্ট ওপেনহাইমার।
- তিনি প্রকৌশলী ও পদার্থবিদদের নিয়ে এমন একটি বোমা তৈরি করেন, যা ‘গ্যাজেট’ নামে পরিচিত ছিল।
- প্রথম পারমাণবিক বোমাটি তৈরির ক্ষেত্রে মূল উপাদান ছিল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম-২৩৫, তা পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। এর নকশাটি পরিচিত ছিল ‘গান ডিজাইন’ নামে। 

⇒ ১৬ই জুলাই, ১৯৪৫ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের ইয়োর্নাদা দেল মুয়ের্তো মরুভূমিতে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
- এর সাংকেতিক নাম ছিল ট্রিনিটি।

⇒ জাপানের দুটি শহরে এই বোমা ফেলার পর বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসলীলা ঘটেছিল।
- ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ জাপানের হিরোশিমা শহরে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম লিটলবয় নামের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ ফ্যাটম্যান নামের বোমা নিক্ষেপ করা হয় নাগাসাকি শহরে।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

উৎস: BBC.

১৮.
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কে?
  1. আব্রাহাম লিংকন
  2. থিওডোর রুজভেল্ট
  3. ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার
  4. টমাস জেফারসন
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিংকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্রাহাম লিংকন
ব্যাখ্যা

রিপাবলিকান পার্টি:
- আব্রাহাম লিংকন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম এবং প্রথম রিপাবলিক দলের প্রেসিডেন্ট।
- তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১৮৫৬ সালে আব্রাহাম লিংকন রিপাবলিকান দলে যোগ দেন। ১৮৬০ সালে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হন এবং ৬ নভেম্বর নির্বাচিত হন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট।

- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টি।
- রিপাবলিকান পার্টির লোগো: হাতি।

⇒ উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আব্রাহাম লিংকন এবং দাসপ্রথাবিরোধী হুইগরা মিলে গড়েন নতুন রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টি।
- ১৮৭৪ সালে থমাস ন্যাস্ট হাতিকে রিপাবলিকানদের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি তার কার্টুনে দেখান, সিংহের চামড়া পিঠে চাপিয়ে একটি গাধা বনের সব প্রাণীকে ভয় দেখাচ্ছে। সিংহের ছদ্মবেশী সেই গাধাকে দেখে সবাই ভয়ে পালাচ্ছে। কেবল স্থির ও অচঞ্চল একটি হাতি ছাড়া। হাতির এই নির্ভীক বিষয়টাই তুলে ধরেন কার্টুনশিল্পী। থমাস ন্যাস্টের এমন অর্থবহ কার্টুন দারুণ পছন্দ হয় রিপাবলিকানদের।

এছাড়াও,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি ডেমোক্রেটিক পার্টি, অন্যটি রিপাবলিকান পার্টি।
- ডেমোক্রেটিক পার্টির লোগো: গাধা।
- ১৮৫৩ সালের পর থেকে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দল থেকেই প্রতি চার বছর অন্তর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ওয়াশিংটন।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica. [link]

১৯.
গোলান মালভূমিতে সিরিয়া-ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি রেখা কী নামে পরিচিত?
  1. ব্লু লাইন
  2. গ্রিন লাইন
  3. ইয়েলো লাইন
  4. পার্পল লাইন
সঠিক উত্তর:
পার্পল লাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্পল লাইন
ব্যাখ্যা

গোলান মালভূমি:
- গোলান মালভূমি সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ১৮০০ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ১০০০ বর্গমাইল) আয়তনের এক পাথুরে মালভূমি। 
- সিরিয়া ও ইসরায়েলের মাঝখানে বাফার জোন (সংঘাতমুক্ত বিশেষ অঞ্চল) বলা হতো গোলান মালভূমিকে।
- এর উত্তরে লেবানন এবং দক্ষিণে জর্ডান অবস্থিত।
- গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

⇒ ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত গোলান মালভূমি সিরিয়ার একটি অংশ ছিল।
- ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধের সময় গোলান মালভূমিজুড়ে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায় সিরিয়া। কিন্তু ইসরায়েল পাল্টা প্রতিরোধ নেয় এবং গোলানের ১২০০ বর্গকিলোমিটার (৪৬০ বর্গমাইল) এলাকা দখল করে নেয়।
- ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের (যা ইয়োম কিপুর যুদ্ধ নামেও পরিচিত) সিরিয়া গোলানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
- ১৯৭৪ সালে দুই দেশই অস্ত্রবিরতিতে সই করে। চুক্তির শর্ত মেনে দুই পক্ষকেই মালভূমির ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি লম্বালম্বি এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হয়। এই এলাকাটি পরিচিত 'এরিয়া অব সেপারেশন' নামে। এরপর সেখানে জাতিসংঘ নিয়োজিত 'ডিজএনগেজমেন্ট অবজারভার ফোর্স' মোতায়েন করা হয় অস্ত্রবিরতির বিষয়টিতে নজর রাখার জন্য।
- ১৯৮১ সালে ইসরায়েলি সরকার ঘোষণা করে যে  গোলান মালভূমি এলাকাটি ইসরায়েলের একটি অংশ।

⇒ এই এলাকায় ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বে কখনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি।
- তবে মার্কিন নীতি ভঙ্গ করে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দখলদারিত্বে স্বীকৃতি দেন।

এছাড়াও,
- গোলান মালভূমিতে সিরিয়া-ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি রেখা ‘পার্পল লাইন' নামে পরিচিত।

অন্যদিকে -
- ব্লু লাইন ইসরাইল এবং লেবাননের মধ্যকার সীমারেখা।
- গ্রিন লাইন ইসরাইল ও তার পার্শ্ববর্তী দেশ (ইজিপ্ট, জর্ডান, লেবানন এবং সিরিয়া) এর মধ্যে অবস্থিত সীমারেখা।

উৎস: Britannica.

২০.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির অন্তর্গত ছিল না কোন দেশ?
  1. বুলগেরিয়া
  2. বেলজিয়াম
  3. সার্বিয়া
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
বুলগেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুলগেরিয়া
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।

• যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট:
- জার্মান, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।

মিত্রশক্তি জোট:
- রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র।

- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৮ জুন, ১৯১৯ সালে।
- চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটে।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com

২১.
MI6 কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ফ্রান্স
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

MI6:
- MI6 (সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস) যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা।
- এটি বিদেশী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রচারের জন্য দায়িত্বশীল।
- এটি ১৯০৯ সালে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরোর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্র।
- সামরিক গোয়েন্দা (Military Intelligence) বিভাগের ছয় নম্বর সেকশন হিসেবে MI6 নামে পরিচিত।
- জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের ক্ষমতায় উত্থানের পর, MI6 ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশিরভাগ অংশে গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,
- এটি অ্যাডলফ হিটলারের ক্ষমতায় উত্থানের সময় ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ভূমিকা, শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য বিখ্যাত।

উৎস: SIS (Secret Intelligence Service) ওয়েবসাইট।

২২.
'গডস আর্মি' কোন দেশের গেরিলা সংগঠন?
  1. মিয়ানমার
  2. ফিলিপাইন
  3. লেবানন
  4. শ্রীলঙ্কা
সঠিক উত্তর:
মিয়ানমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিয়ানমার
ব্যাখ্যা

গডস আর্মি:
- ‘গডস আর্মি' মিয়ানমারের একটি গেরিলা সংগঠন।
- গডস আর্মি হল কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের একটি বিচ্ছিন্ন দল।
- সংগঠনটির নেতৃত্ব দেয় যমজ ভাই জনি এবং লুথার হটু। 
- ১৯৯৭ সালে সাউ তুই তুই এটা প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যদিকে -
- লেবাননের গেরিলা সংগঠন হিজবুল্লাহ।
- শ্রীলঙ্কার গেরিলা সংগঠন LTTE.
- ফিলিপাইনের গেরিলা সংগঠন MNLF.

উৎস: Federation of American Scientists.

২৩.
কোন দেশটির আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট?
  1. পাকিস্তান
  2. ভুটান
  3. ইরান
  4. মিয়ানমার
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা

এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা:
• ইরান: মজলিস/ অ্যাসেম্বলি,
• ইরাক: মজলিস আল-নওয়াব আল-ইরাকি,
​• সৌদি আরব: মজলিস-এ-শূরা,
• ফিনল্যান্ড: এসডুস্কুন্টা,
​• ডেনমার্ক: ফোকেটিং,
• সুইডেন: রিকসড্যাগ,
​- চীন: ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস।
​• বাংলাদেশ: জাতীয় সংসদ,
​• মালদ্বীপ: মজলিস/ পার্লামেন্ট,
• ইসরাইল: নেসেট/ অ্যাসেম্বলি,
• ইউক্রেন: ভারখোরনা রাডা,

​⇒ দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা:
​• পাকিস্তান: মজলিস-এ- শূরা (উচ্চকক্ষ: সিনেট, নিম্ন কক্ষ: ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি),
​• ভুটান: পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: ন্যাশনাল কাউন্সিল, নিম্ন কক্ষ: ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি),
​• মিয়ানমার: ইউনিয়ন অ্যাসেম্বলি (উচ্চকক্ষ: ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, নিম্ন কক্ষ: পিপলস অ্যাসেম্বলি)।

উৎস: Britannica.

২৪.
গোল্ডেন ডোম কোন দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?
  1. ইসরায়েল
  2. ইরান 
  3. তুরস্ক
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

গোল্ডেন ডোম:
- গোল্ডেন ডোম  যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

⇒ এই ব্যবস্থার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখা, বিশেষত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি থেকে।
- হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ দ্রুত চলে, তার আঘাত প্রতিরোধ করতে গোল্ডেন ডোম তৈরি করা হচ্ছে।
- এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার আকাশ ও ভূখণ্ডকে এমন শক্তিশালী সুরক্ষা দেবে, যা বর্তমানে কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করতে সক্ষম নয়।
- এটি মহাকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে, ইনফ্রারেড লেজারের মাধ্যমে সেগুলোকে ধ্বংস করবে।
- গোল্ডেন ডোমের লেজার প্রযুক্তির অন্যতম বিশেষত্ব হলো এটি আয়রন ডোমের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী হবে।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংস্থা ৪৪টি ভূমিভিত্তিক প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে থাকে।
- সেগুলো আলাস্কা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত। এগুলো শুধু সীমিত হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

উৎস: i) Lockheed Martin.
ii) প্রথম আলো

২৫.
'সিয়াচেন হিমবাহ' কোন দুইটি দেশের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল?
  1. ভারত ও চীন
  2. চীন ও নেপাল
  3. ভারত ও পাকিস্তান
  4. ভারত ও নেপাল
সঠিক উত্তর:
ভারত ও পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত ও পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

সিয়াচেন হিমবাহ:
- সিয়াচেন হিমবাহ মূলত ভারত ও পাকিস্তান-এর মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- এখানে উভয় দেশই নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে। 
- এটি উত্তর কাশ্মীরে অবস্থিত পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র বলে পরিচিত।

⇒ কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন হিমবাহ দখলে রাখা নিয়ে দুই চিরবৈরী দেশ ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই শুরু হয় আশির দশকের গোড়া থেকে।
- তবে দ্বন্দ্বের বীজ লুকিয়ে ছিল দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া করাচি আর সিমলা চুক্তি দুটির মধ্যেই – যেখানে ‘এন জে ৯৮৪২’ নামের একটি অবস্থানের পরে নিয়ন্ত্রণ রেখা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি মানচিত্রে।
- মনে করা হত ওই এলাকার আবহাওয়া এতটাই প্রতিকুল, যেখানে কোনও মানুষ থাকতে পারবে না।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৪ সালে ভারত অপারেশন মেঘদূতের (Operation Meghdoot) মাধ্যমে সিয়াচেন হিমবাহের ৭০% নিয়ন্ত্রণ নেয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

২৬.
ইরাকে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান কবে শুরু হয়েছিল?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯৯ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০০৩ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা

ইরাকে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান:
- ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল।
- শুরু হয় ইরাক যুদ্ধ। পরদিন থেকে অর্থাৎ ২০০৩ সালের ২০ মার্চ দেশটিতে স্থল অভিযান শুরু করে পশ্চিমা বাহিনী।
- মাসখানেকের বেশি চলে সর্বাত্মক যুদ্ধ।
- ইঙ্গ–মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে এ অভিযানে যুক্ত হন পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সেনারা।

⇒ তখন ইরাকের নেতা ছিলেন সাদ্দাম হোসেন।
- যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্য অভিযোগ করে, প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের (ডব্লিউএমডি) মজুত গড়ে তুলেছেন।
- সেই সঙ্গে আল–কায়েদার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
- তাই সাদ্দামের বিরুদ্ধে শুরু হয় ইঙ্গ–মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধ।
- ২০০৩ সালের ১ মে জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাক যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন।
- তবে তিনি জানান যে যুদ্ধ শেষ হলেও পশ্চিমা সেনারা ইরাক ছাড়বে না। 
- ২০১১ সাল পর্যন্ত ইরাকে মার্কিন সেনারা অবস্থান করেন।

উৎস: United States Navy (.mil) ওয়েবসাইট।

২৭.
ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা RAW-এর মূল দায়িত্ব কোনটি?
  1. অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা গোয়েন্দা তৎপরতা
  2. অর্থনৈতিক জালিয়াতি তদন্ত
  3. অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ দমন
  4. বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা
সঠিক উত্তর:
বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা
ব্যাখ্যা

RAW:
- ভারতীয় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW-এর পূর্ণরূপ: Research and Analysis Wing.
- প্রতিষ্ঠা লাভ করে: ১৯৬৮ সালে।
- প্রতিষ্ঠাকালিন পরিচালক ছিলেন: রামেশ্বর নাথ কাও।
- এর বর্তমান প্রধান: রবি সিংহ (Ravi Sinha)।
- প্রধান কার্যালয়: নয়াদিল্লি, ভারত।
- RAW সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিকট রিপোর্ট করে। 
- RAW-এর সাথে সম্পর্কিত গোপন সংকেত Cabinet Secretariat ও Aviation Research Centre।
- RAW-এর মূল দায়িত্ব হলো ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ। 

⇒ কাজ:
- বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা;
- জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিশ্লেষণমূলক তথ্য প্রদান করা;
- সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সহযোগিতা করা;
- দেশের অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য,
- RAW প্রতিষ্ঠার পূর্বে Intelligence Bureau ভারতের অভ্যন্তরীন এবং বাহ্যিক উভয় ক্ষেত্রে তৎপরতা চালাতো।
- ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চীনের নিকট ভারতের পরাজয়ের দুর্বলতার অনুসন্ধানে ভারত সরকার একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

⇒ চীন ও পাকিস্তানকে মোকাবেলার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ANC ক্ষমতা লাভ, আফগানিস্তানে ভারতের উপস্থিতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে RAW গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: Council on Foreign Relations.

২৮.
বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ কোন দেশের মদদপুষ্ট?
  1. ইরান
  2. ইসরায়েল
  3. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  4. তুরস্ক
সঠিক উত্তর:
সংযুক্ত আরব আমিরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা

সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল:
- দক্ষিণ ইয়েমেনের প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)।
- বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মদদপুষ্ট। 
- এটি ২০১৭ সালের ১১ মে গঠিত হয়।
- তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ১৯৬৭–১৯৯০ সময়কালের মতো ‘দক্ষিণ রাষ্ট্র’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

উল্লেখ্য, 
- সম্প্রতি ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুকাল্লায় ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বোমা হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
- সৌদি আরবের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর জন্য অস্ত্রের একটি চালান পাঠানো হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলা চালানো হয়েছে।
- ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে তেলের কোটা ও এর উপর প্রভাব বিস্তার নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বন্দ্বই বর্তমান উত্তেজনার মূল উৎস।
- আমিরাত দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এসটিসি-কে সমর্থন করছে। এই গোষ্ঠী বিগত মাসে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের কিছু অংশ দখল করেছে।

উৎস: Al Jazeera.

২৯.
ডমিনো তত্ত্বের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. কমিউনিজমের বিস্তার রোধ করা
  2. পুঁজিবাদের প্রসার ঘটানো
  3. ইউরোপে যুদ্ধ রোধ করা
  4. আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন
সঠিক উত্তর:
কমিউনিজমের বিস্তার রোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমিউনিজমের বিস্তার রোধ করা
ব্যাখ্যা

ডমিনো তত্ত্ব:
- ডমিনো তত্ত্বে বলা হয়েছে, কোনো একটি রাষ্ট্রে যদি সমাজতন্ত্রীরা ক্ষমতাসীন হয়, তাহলে পাশের রাষ্ট্রটিও সমাজতন্ত্রীদের দখলে চলে যাবে।
- স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কয়েকটি পররাষ্ট্র নীতি গ্রহন করেছিল, তার মধ্যে 'ডমিনো তত্ত্ব' অন্যতম।
- ডমিনো তত্ত্বের মূল উদ্দেশ্য ছিল কমিউনিজমের বিস্তার রোধ করা।
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জন্য 'ডমিনো তত্ত্বটি' প্রযোজ্য ছিল।

⇒ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান এই তত্ত্বের উদ্যোক্তা হলেও তার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার প্রথম এই অঞ্চলে প্রয়োগ করেন।
- ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় 'ভিয়েতনাম যুদ্ধ' ও স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।
- তিনি এন্টি-কমিউনিস্ট দক্ষিণ ভিয়েতনাম সরকারকে সহায়তা করেন।
- ডমিনো তত্ত্বটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য প্রযোজ্য ছিল।
- ১৯৫০-৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তত্ত্বটি প্রচার করেছিল।

উৎস: History.com

৩০.
‘অপারেশন র‍্যাথ অফ গড’ পরিচালনা করে -
  1. মোসাদ
  2. ব্লাক সেপ্টেম্বর
  3. সিআইএ
  4. আইএসআই
সঠিক উত্তর:
মোসাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসাদ
ব্যাখ্যা

অপারেশন র‍্যাথ অফ গড (Operation Wrath of God):
- 'অপারেশন র‍্যাথ অফ গড’ পরিচালনা করে মোসাদ।
- এটি অপারেশন ‘বেয়োনেট’ নামেও পরিচিত।

⇒ ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক হত্যাকাণ্ডের পর ‘অপারেশন র‍্যাথ অফ গড’ পরিচালনা করে মোসাদ।
- ১৯৭২ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল জার্মানির মিউনিখ শহরে। মিউনিখ অলিম্পিকে অংশ নেওয়া ইসরায়েলের অ্যাথলেটকে অপহরণ করে ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর। তাঁদের চাওয়া ছিল, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী থাকা কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিতে হবে, কিন্তু তা হয়নি। জার্মান পুলিশ অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামে। এর ফলে অপহরণকারীরা দুজন খেলোয়াড়কে হত্যা করেন।
- এর জবাবে মোসাদ অপারেশন র‌্যাথ অব গড অভিযান পরিচালনা করে।
- এ অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল মিউনিখ গণহত্যায় জড়িতদের হত্যা করা।  মূল টার্গেট ছিল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র উগ্রপন্থি গ্রুপ ‘ব্লাক সেপ্টেম্বরের’ সদস্যরা এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের অপারেটিভরা। এ অপারেশন অনুমোদন দিয়েছিলেন ১৯৭২ সালের শরতে তখনকার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মায়ার।

উৎস: Britannica.

৩১.
'নেকড়েযোদ্ধা কূটনীতি' প্রধানত কোন দেশের পররাষ্ট্রনীতির অংশ?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. চীন
  3. রাশিয়া
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা

নেকড়েযোদ্ধা কূটনীতি:
- 'নেকড়েযোদ্ধা কূটনীতি' প্রধানত চীনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ।
- মূলত র‍্যাম্বো স্টাইলের চীনা চলচ্চিত্র 'উলফ ওরিয়র-২' থেকে 'নেকড়ে যোদ্ধা' পরিভাষাটি ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- চীনের 'নেকড়ে যোদ্ধা' কূটনীতি প্রথম শুরু করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
- শি জিনপিংয়ের মহান কূটনৈতিক দর্শন থেকে এই পরিভাষাটি বেছে নেয়া হয়েছে।
- নিজের মর্যাদা বাড়াতে ও ক্ষমতাকে আরও পাকাপোক্তে কৌশলের অংশ হিসেবে চীনাদের জাতীয়তাবাদী অনুভূতি শক্তিশালী করতে শি জিনপিং এমন কৌশল নিয়েছিলেন।

⇒ মার্কিন চাপে জি৭ দেশগুলো যাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই নতুন পথ বেছে নিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতি।

উৎস: The National Bureau of Asian Research (NBR). 

৩২.
Central Intelligence Agency (CIA) কত সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৫ সালে
  2. ১৯৪৭ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

CIA:
- CIA-এর পূর্ণরূপ: Central Intelligence Agency.
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
- আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে: ১৯৪৭ সালে।
- সদর দপ্তর: ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।

⇒ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা এই সংস্থার দায়িত্ব।
- CIA মূলত বহির্বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত অফিস অফ স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস (OSS)-এর উত্তরসূরী হিসেবে CIA-এর জন্ম।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪২ সালের জুন মাসে রুজভেল্ট মার্কিন বিদেশী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের খণ্ডিত এবং অসংলগ্ন স্ট্র্যান্ডগুলিকে একক সংস্থায় একত্রিত করার জন্য OSS তৈরি করেছিলেন।
- এর কাজ ছিলো যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা।

উৎস: i) Britannica.
ii) CIA ওয়েবসাইট।

৩৩.
ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ভারতীয় জনতা পার্টি
  2. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  3. অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস
  4. দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাঘাম 
সঠিক উত্তর:
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
ব্যাখ্যা

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস:
- ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress)।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৮শে ডিসেম্বর, ১৮৮৫।
- প্রতিষ্ঠাতা: ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম এবং অন্যান্য ভারতীয় ও ব্রিটিশ সদস্য।
- কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার উমেশ ব্যানার্জী।
- সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী ১৮৭৬ সালে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যদিকে,
- উপমহাদেশের দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উৎস: i) Britannica.
ii) EBSCO.

৩৪.
ইউরোপের বাইরে NATO'র প্রথম সামরিক অভিযান কোথায় হয়েছিল?
  1. আফগানিস্তান
  2. ইরাক
  3. লিবিয়া
  4. সোমালিয়া
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

NATO:
- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।
- সর্বশেষ ৩২তম সদস্য হলো সুইডেন।

⇒ ইউরোপের বাইরে NATO'র প্রথম সামরিক অভিযান আফগানিস্তানে ছিল।
- ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর Operation Eagle Assist-এর মাধ্যমে আফগানিস্তানে NATO-এর প্রথম অ-ইউরোপীয় অভিযান শুরু হয়, যা পরে ISAF (ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফোর্স) মিশনে রূপান্তরিত হয়।
- আর্টিকেল-৫ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে বাকি সবার সামরিক হস্তক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
- ন্যাটোর ইতিহাসে একবার মাত্র ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ কার্যকর করা হয়েছে।
- নাইন ইলেভেনে টুইন টাওয়ার হামলার পর ২০০১ সালে এই আর্টিকেল অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
- এটির ভিত্তিতেই সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আফগানিস্তানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়াও,
- ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক যুদ্ধে সহায়তা কার্যক্রম চালায় ন্যাটো।

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

৩৫.
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৮২ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৮ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা

ফিলিস্তিন:
- ফিলিস্তিন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ।
- ভৌগোলিকভাবে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত।
- এটি দুটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত: পশ্চিম তীরে (West Bank) এবং গাজা উপত্যকা (Gaza Strip)।
- এটি বর্তমানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিরোধের কারণে বেশ পরিচিত।
- রাজধানী: ইস্ট জেরুজালেম, রামাল্লাহ।
- মুদ্রা: মিশরীয় পাউন্ড, ইসরাইলি শেকেল, জর্ডানীয় দিনার।
- সংবাদ সংস্থা: প্যালেস্টাইন নিউজ অ্যাজেন্সি (Wafa)।

 ⇒ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয় ১৫ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে।
- ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজেয়ার্সে প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল কাউন্সিলের সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
- ফিলিস্তিনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাত পবিত্র জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমারেখায় এই ঘোষণা দিয়েছিলেন।
- এর মাধ্যমে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিরোধের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে কাজ শুরু করে।
- স্বাধীন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ আলজেরিয়া।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৩৬.
Operation Absolute Resolve অভিযানটি কোন দেশের বাহিনী পরিচালনা করেছিল?
  1. রাশিয়া
  2. চীন
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. নাইজেরিয়া
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ:
- 'অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ' অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করেছিল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে।

⇒ ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে কারাকাসে চালানো এক বিশেষ অভিযানে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স মাদুরোর বাসভবনে ঢুকে তাকে সস্ত্রীক আটক করে। 
- 'অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ' নামের এই মিশনের নীল নকশা তৈরি হয়েছিল অন্তত চার মাস আগে।
- গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ভেনিজুয়েলার ভেতরে একটি গোপন দল মোতায়েন করেছিল। তাদের একমাত্র কাজ ছিল মাদুরোর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখা। 
- অভিযান শুরু হতেই ২০টি ভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি থেকে ১৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার আকাশে ওড়ে। রাডার ফাঁকি দিতে হেলিকপ্টারগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০০ ফুট ওপর দিয়ে উড়ে কারাকাসে পৌঁছায়। মার্কিন সাইবার কমান্ডের মাধ্যমে কারাকাসের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ মাধ্যম সম্পূর্ণ বিকল করে দেয়া হয়।
- বর্তমানে মাদুরো ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
- অভিযান শেষে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেবে।

উৎস: The New York Times.