পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ১৩ টপিক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পাস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এবং বিবিধ বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব [Live Class – 17 & 18] ক্লাস মেন্টর: তপন ভট্টাচার্য"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোগ নেন কে?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. নবাব সলিমুল্লাহ
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ গঠন: 
- মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। 
- এ দলটি মুসলিম জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে এবং অবশেষে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে।  - বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) পরবর্তী রাজনীতির আলোকে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠন করা হয়।
- ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোগ নেন।

- নওয়াব আব্দুল লতিফ মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি গঠন করেন। 
- সৈয়দ আমীর আলী সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
মেট্রোরেলের পরিচালনা সংস্থার নাম কী?
  1. জাইকা
  2. এমআরটি-৬
  3. ডিএমটিসিএল
  4. ডিএইচইউটিএস
ব্যাখ্যা
মেট্রোরেল: 
- প্রকল্পের নাম: ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬। 
- উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা: জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ।
- পরিচালনা সংস্থা: ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। 
- ডিএমটিসিএল গঠনের তারিখ: ৩ জুন ২০১৩ সাল। 
- ডিএমটিসিএলের রূপকল্প: বাঁচবে সময়, বাঁচবে পরিবেশ, যানজট কমাবে মেট্রোরেল। 

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল): 
Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা, সার্ভে, ডিজাইন, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত The Companies Act 1994 অনুযায়ী ০৩ জুন ২০১৩ তারিখ শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন Dhaka Mass Transit Company Limited (DMTCL) গঠন করা হয়।

উৎস: ডিএমটিসিএল ওয়েবসাইট। 
.
বাংলাদেশ কততম ন্যাম সম্মেলনে প্রথম অংশগ্রহণ করে?
  1. দ্বিতীয়
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. পঞ্চম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন: 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হলেও নতুন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কূটনৈতিক অঙ্গনে বিপুল তৎপরতা চালাতে হয়।
- ভুটান ও ভারত প্রথম দুটি দেশ যারা ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- এটি ছিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে প্রথম পদক্ষেপ।
- তবে এর পরেও অনেক দেশ স্বীকৃতি দিতে গড়িমসি করেছিল এবং পাকিস্তান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি করেছিল।
- পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বীকৃতি বাধাগ্রস্ত করতে চীন ও কিছু ইসলামি দেশের সহযোগিতা নিয়ে অপপ্রচার চালায়।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেয়, তবে এর পূর্বশর্ত ছিল পাকিস্তানের স্বীকৃতি।
- পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো শর্ত দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ না হলে তারা স্বীকৃতি দেবে না।
- ১৯৭৩ সালের আলজেরিয়ার চতুর্থ ন্যাম সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রথম অংশগ্রহণ করে।
- এই সম্মেলনের মাধ্যমে কিছু ইসলামি দেশও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসে।

উৎস: বিবিসি বাংলা (২৬ মার্চ ২০২১)
.
ইউনেস্কো সুন্দরবনকে কততম বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে?
  1. ৫৬০তম
  2. ৭৯৮তম
  3. ৬৬০তম
  4. ৬৯৮তম
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন: 
- বাংলায় সুন্দরবন-এর আক্ষরিক অর্থ সুন্দর জঙ্গল বা সুন্দর বনভূমি।
- সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে খুব সম্ভবত এর প্রধান বিশেষ গাছ সুন্দরীর (Heritiera fomes) নাম থেকেই।
- সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম।
- প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- সমগ্র সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে স্থিত।
- এ বনের প্রধান বৃক্ষ প্রজাতি সুন্দরী এবং গেওয়া।
- এছাড়া পশুর, ধুন্দল, গরান, বাইন, কাঁকড়া, কেওড়া ইত্যাদি গাছও প্রাকৃতিক ভাবে জন্মে।
- ১৯৯৬ সালে সুন্দরবনে তিনটি অভয়ারণ্য ও ২০১২ সালে তিনটি ডলফিন অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং ২০১৪ সালে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বিধায় ১৯৯২ সালে সুন্দরবন ৫৬০তম রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনের ১,৩৯,৭০০ হেক্টর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকাকে ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ - গানটির বর্তমান সুরকার কে?
  1. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
আলতাফ মাহমুদ: 
- শহীদ আলতাফ মাহমুদ (১৯৩৩-১৯৭১) সঙ্গীতশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।  
- তাঁর প্রকৃত নাম এ.এন.এম আলতাফ আলী।
- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ ভাষা-শহীদদের উদ্দেশ্যে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত এ বিখ্যাত গানটি বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয় তার রচয়িতা আলতাফ মাহমুদ। 
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি দেশাত্মবোধক গান রচনা ও পরিবেশনার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী জনগণকে গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেন।
- দেশের সংস্কৃতিচর্চা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সরকারিভাবে কবে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
  2. ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
  3. ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ২৭ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা: 
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত।
- সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় একই রকম দেখতে একটি পতাকা ব্যবহার করা হতো, যেখানে মাঝের লাল বৃত্তের ভেতর হলুদ রংয়ের একটি মানচিত্র ছিল।
- ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। 
- পতাকার উভয় পাশে সঠিকভাবে মানচিত্রটি ফুটিয়ে তোলার অসুবিধা পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলার অন্যতম কারণ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' কোন দেশে আয়োজিত হয়?
  1. ফ্রান্স
  2. যুক্তরাজ্য
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ: 
- ১৯৭১ সালের পহেলা আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হয় “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” । 
- এটি ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক বেনিফিট কনসার্ট হিসেবে পরিচিত।
- রবি শঙ্করের উদ্যোগ এবং বিটলসের সদস্য জর্জ হ্যারিসনের প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই কনসার্ট মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়।
- জর্জ হ্যারিসনের গান "বাংলাদেশ" এবং রবি শঙ্করের “বাংলা ধুন” শ্রোতাদের মধ্যে গভীর আবেগ তৈরি করে।
- এই কনসার্ট থেকে সংগৃহীত প্রায় আড়াই লক্ষ মার্কিন ডলার শরণার্থীদের জন্য ব্যয় করা হয়।
- এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের নজর বাংলাদেশের মানবিক সংকটের দিকে আকর্ষিত হয়।
- “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” ছিল বেনিফিট কনসার্টের ধারণার সূচনা।
- "কনসার্ট ফর বাংলাদেশ" শুধু একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুরের প্রতিবাদ।
- এ আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় এবং শিল্প ও মানবিকতার একটি অনন্য উদাহরণ।

উৎস: বিবিসি বাংলা (১ আগস্ট ২০২১)
.
বাংলাদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পরিচালিত প্রথম নির্বাচন কোনটি?
  1. চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  2. পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  3. ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  4. অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: 
- ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- এটি ছিল প্রথম নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পরিচালিত নির্বাচন। 
- দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালায় এবং দেশের জনগণ বিপুল উৎসাহের সঙ্গে ভোট প্রদান করে।
- সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের অংশ হিসেবে তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হয়, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে।
- সাড়ে ছয় কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০-৭০% ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি এবং লক্ষ্য জনগণের সামনে তুলে ধরে।আওয়ামী লীগ ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বহালের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- বিএনপি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়।

নির্বাচনী ফলাফল:
- বিএনপি: ১৪০টি আসন
- আওয়ামী লীগ: ৮৪টি আসন
- জাতীয় পার্টি: ৩৫টি আসন
- জামায়াতে ইসলামী: ১৮টি আসন

- কোনও দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগ তৎকালীন সময়েই অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং কারচুপির অভিযোগ তোলে।
- ড. কামাল হোসেন এক চিঠিতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও দুর্বল প্রচারণাকে পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
- নির্বাচনের পর একটি সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এই নির্বাচন থেকে স্পষ্ট হয় যে বাংলাদেশে রাজনীতি মূলত দুটি প্রধান শক্তির মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে, যা পরবর্তী সময়েও লক্ষ করা গেছে।
- ১৯৯১ সালের নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি মাইলফলক হলেও, এটির ফলাফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে।

উৎস: বিবিসি বাংলা (১৬ নভেম্বর ২০২৩)।
.
নিচের কোনটি সুশীল সমাজের অংশ?
  1. ব্র্যাক
  2. বেলা
  3. সুজন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ: 
- উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিকামী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
- ব্র্যাক, যা আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান।
- অপর উদাহরণ হলো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, যেটি বিশ্বে গণমুখী চিকিৎসাসেবার একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- একটি তথ্য অধিকার আইন পাসের এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন গঠনের সফল আন্দোলন।

ব্র্যাকের লক্ষ্য:
- দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সুযোগ তৈরির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- ব্র্যাক বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে ৫০টিরও বেশি দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।
মূল কার্যক্রম:
সামাজিক ক্ষমতায়ন:
- নারী অধিকার ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা।
- দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন।
শিক্ষা:
- প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো।
- দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি।
স্বাস্থ্য:
- সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান।
- পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়ন।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন:
- মাইক্রোফাইন্যান্স ও কৃষি উদ্যোগ।
- সামাজিক ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা।
সংকট ব্যবস্থাপনা:
- জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।
- মানবিক সংকট, যেমন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সহায়তা।
উদ্ভাবন ও গবেষণা:
- টেকসই উন্নয়নে নতুন পদ্ধতি ও সমাধান উদ্ভাবন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন): 
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’। 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা): 
- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) ১৯৯৩ সালে একটি পরিবেশবাদী আইনজীবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি পরিবেশগত ন্যায়বিচার এবং আইন সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
- বেলা দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশগত ন্যায়বিচারের ধারণা জনপ্রিয় করে তোলে এবং পরিবেশগত অবনতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৌশল উদ্ভাবন করে।
- ১৯৯৭ সালে বেলার একটি মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জনস্বার্থ মামলার (PIL) ধারণা স্বীকৃতি দেয়, যা অসংখ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ন্যায়বিচারের সুযোগ করে দিয়েছে।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:২০০৩ সালে বেলা UNEP Global 500 Roll of Honours পুরস্কার লাভ করে।
- বেলার প্রধান নির্বাহী ২০০৯ সালে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ এবং TIME ম্যাগাজিনের পরিবেশ নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পান।
২০১২ সালে তিনি রেমন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

উৎস: ব্র্যাক ওয়েবসাইট।
সুশাসনের জন্য নাগরিক ওয়েবসাইট।
বেলা ওয়েবসাইট।
১০.
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন কে?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. কর্নেল আবু তাহের
  4. মেজর এম এ মঞ্জুর
ব্যাখ্যা
কর্নেল আবু তাহের: 
- কর্নেল আবু তাহের (১৯৩৮-১৯৭৬) ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার।
- আবু তাহের ময়মনসিংহ এবং রংপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত ১১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর ঢাকার প্রবেশদ্বার নামে খ্যাত কামালপুর শত্রু ঘাটিতে আক্রমণ পরিচালনাকালে তিনি আহত হন এবং তাঁর হাঁটুর ওপর পর্যন্ত বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- কর্নেল তাহের ১৯৭২ সালের অক্টোবর মাসে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য কর্তৃক শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডের পর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের কারণে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
- এ প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর (১৯৭৫) আবু তাহের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সহযোগিতায় সিপাহি-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৭৫ সালের ২৪ নভেম্বর কর্নেল তাহের গ্রেফতার হন।
- ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক অবস্থায় কারাগারের অভ্যন্তরে তাহেরসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার হয় এবং বিচারে তাঁকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে তাঁর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
- কর্নেল তাহের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য ‘বীরউত্তম’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
জেল হত্যা দিবসে নিম্নের কাকে হত্যা করা হয়নি?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
জেল হত্যা দিবস: 
- প্রতি বছর ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে জেল হত্যা দিবস পালিত হয়। 
- ১৯৭৫ সালের এই দিনে চার জাতীয় নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়: 
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, মুজিবনগর সরকার)
• তাজউদ্দিন আহমদ (প্রধানমন্ত্রী, মুজিবনগর সরকার)
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
• এ এইচ এম কামরুজ্জামান

- রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনা কর্মকর্তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টা করছিলেন।
- এই পরিস্থিতিতে চার শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।
- খন্দকার মোশতাক ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে, এই চার নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হলে তাদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
- তাদের প্রভাব এবং অভিজ্ঞতাকে ধ্বংস করার জন্যই কারাগারের ভেতরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
- হত্যার দিনেই দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, যার নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ।

উৎস: বিবিসি বাংলা (৩ নভেম্বর ২০১৭)