পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
"পরীক্ষা – ১৩
টপিক:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পাস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এবং বিবিধ বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব
[Live Class – 17 & 18]
ক্লাস মেন্টর: তপন ভট্টাচার্য"
GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন
১.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোগ নেন কে?
ক
সৈয়দ আমীর আলী
খ
নওয়াব আব্দুল লতিফ
গ
নবাব সলিমুল্লাহ
ঘ
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ গঠন: - মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। - এ দলটি মুসলিম জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে এবং অবশেষে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে। - বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) পরবর্তী রাজনীতির আলোকে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। - ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোগ নেন।
- নওয়াব আব্দুল লতিফ মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি গঠন করেন। - সৈয়দ আমীর আলী সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২.
মেট্রোরেলের পরিচালনা সংস্থার নাম কী?
ক
জাইকা
খ
এমআরটি-৬
গ
ডিএমটিসিএল
ঘ
ডিএইচইউটিএস
ব্যাখ্যা
মেট্রোরেল: - প্রকল্পের নাম: ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬। - উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা: জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) । - পরিচালনা সংস্থা: ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। - ডিএমটিসিএল গঠনের তারিখ: ৩ জুন ২০১৩ সাল। - ডিএমটিসিএলের রূপকল্প: বাঁচবে সময়, বাঁচবে পরিবেশ, যানজট কমাবে মেট্রোরেল।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল): Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা, সার্ভে, ডিজাইন, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত The Companies Act 1994 অনুযায়ী ০৩ জুন ২০১৩ তারিখ শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন Dhaka Mass Transit Company Limited (DMTCL) গঠন করা হয়।
উৎস: ডিএমটিসিএল ওয়েবসাইট।
৩.
বাংলাদেশ কততম ন্যাম সম্মেলনে প্রথম অংশগ্রহণ করে?
ক
দ্বিতীয়
খ
তৃতীয়
গ
চতুর্থ
ঘ
পঞ্চম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন: - বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ। - ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হলেও নতুন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কূটনৈতিক অঙ্গনে বিপুল তৎপরতা চালাতে হয়। - ভুটান ও ভারত প্রথম দুটি দেশ যারা ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। - এটি ছিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে প্রথম পদক্ষেপ। - তবে এর পরেও অনেক দেশ স্বীকৃতি দিতে গড়িমসি করেছিল এবং পাকিস্তান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি করেছিল। - পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বীকৃতি বাধাগ্রস্ত করতে চীন ও কিছু ইসলামি দেশের সহযোগিতা নিয়ে অপপ্রচার চালায়। - বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেয়, তবে এর পূর্বশর্ত ছিল পাকিস্তানের স্বীকৃতি। - পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো শর্ত দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ না হলে তারা স্বীকৃতি দেবে না। - ১৯৭৩ সালের আলজেরিয়ার চতুর্থ ন্যাম সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রথম অংশগ্রহণ করে। - এই সম্মেলনের মাধ্যমে কিছু ইসলামি দেশও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসে।
উৎস: বিবিসি বাংলা (২৬ মার্চ ২০২১)
৪.
ইউনেস্কো সুন্দরবনকে কততম বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে?
ক
৫৬০তম
খ
৭৯৮তম
গ
৬৬০তম
ঘ
৬৯৮তম
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন: - বাংলায় সুন্দরবন-এর আক্ষরিক অর্থ সুন্দর জঙ্গল বা সুন্দর বনভূমি। - সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে খুব সম্ভবত এর প্রধান বিশেষ গাছ সুন্দরীর (Heritiera fomes) নাম থেকেই। - সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম। - প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত। - সমগ্র সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে স্থিত। - এ বনের প্রধান বৃক্ষ প্রজাতি সুন্দরী এবং গেওয়া। - এছাড়া পশুর, ধুন্দল, গরান, বাইন, কাঁকড়া, কেওড়া ইত্যাদি গাছও প্রাকৃতিক ভাবে জন্মে। - ১৯৯৬ সালে সুন্দরবনে তিনটি অভয়ারণ্য ও ২০১২ সালে তিনটি ডলফিন অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং ২০১৪ সালে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। - জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বিধায় ১৯৯২ সালে সুন্দরবন ৫৬০তম রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। - ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনের ১,৩৯,৭০০ হেক্টর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকাকে ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ - গানটির বর্তমান সুরকার কে?
ক
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
খ
গোবিন্দ হালদার
গ
আলতাফ মাহমুদ
ঘ
আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
আলতাফ মাহমুদ: - শহীদ আলতাফ মাহমুদ (১৯৩৩-১৯৭১) সঙ্গীতশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। - তাঁর প্রকৃত নাম এ.এন.এম আলতাফ আলী। - ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ ভাষা-শহীদদের উদ্দেশ্যে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত এ বিখ্যাত গানটি বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয় তার রচয়িতা আলতাফ মাহমুদ। - ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি দেশাত্মবোধক গান রচনা ও পরিবেশনার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী জনগণকে গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেন। - দেশের সংস্কৃতিচর্চা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সরকারিভাবে কবে গৃহীত হয়?
ক
১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
খ
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
গ
১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
ঘ
১৯৭২ সালের ২৭ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা: - বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। - সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। - বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়। - ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় একই রকম দেখতে একটি পতাকা ব্যবহার করা হতো, যেখানে মাঝের লাল বৃত্তের ভেতর হলুদ রংয়ের একটি মানচিত্র ছিল। - ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। - পতাকার উভয় পাশে সঠিকভাবে মানচিত্রটি ফুটিয়ে তোলার অসুবিধা পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলার অন্যতম কারণ।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭.
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' কোন দেশে আয়োজিত হয়?
ক
ফ্রান্স
খ
যুক্তরাজ্য
গ
যুক্তরাষ্ট্র
ঘ
ভারত
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ: - ১৯৭১ সালের পহেলা আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হয় “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” । - এটি ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক বেনিফিট কনসার্ট হিসেবে পরিচিত। - রবি শঙ্করের উদ্যোগ এবং বিটলসের সদস্য জর্জ হ্যারিসনের প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই কনসার্ট মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়। - জর্জ হ্যারিসনের গান "বাংলাদেশ" এবং রবি শঙ্করের “বাংলা ধুন” শ্রোতাদের মধ্যে গভীর আবেগ তৈরি করে। - এই কনসার্ট থেকে সংগৃহীত প্রায় আড়াই লক্ষ মার্কিন ডলার শরণার্থীদের জন্য ব্যয় করা হয়। - এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের নজর বাংলাদেশের মানবিক সংকটের দিকে আকর্ষিত হয়। - “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” ছিল বেনিফিট কনসার্টের ধারণার সূচনা। - "কনসার্ট ফর বাংলাদেশ" শুধু একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুরের প্রতিবাদ। - এ আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় এবং শিল্প ও মানবিকতার একটি অনন্য উদাহরণ।
উৎস: বিবিসি বাংলা (১ আগস্ট ২০২১)
৮.
বাংলাদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পরিচালিত প্রথম নির্বাচন কোনটি?
ক
চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
খ
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
গ
ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ঘ
অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা
পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: - ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। - এটি ছিল প্রথম নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পরিচালিত নির্বাচন। - দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালায় এবং দেশের জনগণ বিপুল উৎসাহের সঙ্গে ভোট প্রদান করে। - সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের অংশ হিসেবে তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হয়, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে। - সাড়ে ছয় কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০-৭০% ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। - আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি এবং লক্ষ্য জনগণের সামনে তুলে ধরে।আওয়ামী লীগ ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বহালের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। - বিএনপি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়।
- কোনও দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। - নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগ তৎকালীন সময়েই অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং কারচুপির অভিযোগ তোলে। - ড. কামাল হোসেন এক চিঠিতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও দুর্বল প্রচারণাকে পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। - নির্বাচনের পর একটি সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। - এই নির্বাচন থেকে স্পষ্ট হয় যে বাংলাদেশে রাজনীতি মূলত দুটি প্রধান শক্তির মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে, যা পরবর্তী সময়েও লক্ষ করা গেছে। - ১৯৯১ সালের নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি মাইলফলক হলেও, এটির ফলাফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে।
উৎস: বিবিসি বাংলা (১৬ নভেম্বর ২০২৩)।
৯.
নিচের কোনটি সুশীল সমাজের অংশ?
ক
ব্র্যাক
খ
বেলা
গ
সুজন
ঘ
সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ: - উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিকামী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। - ব্র্যাক, যা আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। - অপর উদাহরণ হলো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, যেটি বিশ্বে গণমুখী চিকিৎসাসেবার একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। - একটি তথ্য অধিকার আইন পাসের এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন গঠনের সফল আন্দোলন।
ব্র্যাকের লক্ষ্য: - দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সুযোগ তৈরির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। - ব্র্যাক বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে ৫০টিরও বেশি দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। মূল কার্যক্রম: সামাজিক ক্ষমতায়ন: - নারী অধিকার ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা। - দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন। শিক্ষা: - প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো। - দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি। স্বাস্থ্য: - সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। - পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়ন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন: - মাইক্রোফাইন্যান্স ও কৃষি উদ্যোগ। - সামাজিক ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা। সংকট ব্যবস্থাপনা: - জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। - মানবিক সংকট, যেমন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সহায়তা। উদ্ভাবন ও গবেষণা: - টেকসই উন্নয়নে নতুন পদ্ধতি ও সমাধান উদ্ভাবন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন): - সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন। - গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য। - ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা। - ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা): - বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) ১৯৯৩ সালে একটি পরিবেশবাদী আইনজীবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। - প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি পরিবেশগত ন্যায়বিচার এবং আইন সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। - বেলা দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশগত ন্যায়বিচারের ধারণা জনপ্রিয় করে তোলে এবং পরিবেশগত অবনতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কৌশল উদ্ভাবন করে। - ১৯৯৭ সালে বেলার একটি মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জনস্বার্থ মামলার (PIL) ধারণা স্বীকৃতি দেয়, যা অসংখ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ন্যায়বিচারের সুযোগ করে দিয়েছে। - জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:২০০৩ সালে বেলা UNEP Global 500 Roll of Honours পুরস্কার লাভ করে। - বেলার প্রধান নির্বাহী ২০০৯ সালে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ এবং TIME ম্যাগাজিনের পরিবেশ নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পান। ২০১২ সালে তিনি রেমন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
উৎস: ব্র্যাক ওয়েবসাইট। সুশাসনের জন্য নাগরিক ওয়েবসাইট। বেলা ওয়েবসাইট।
১০.
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন কে?
ক
জিয়াউর রহমান
খ
খালেদ মোশাররফ
গ
কর্নেল আবু তাহের
ঘ
মেজর এম এ মঞ্জুর
ব্যাখ্যা
কর্নেল আবু তাহের: - কর্নেল আবু তাহের (১৯৩৮-১৯৭৬) ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। - আবু তাহের ময়মনসিংহ এবং রংপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত ১১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার নিয়োজিত হন। - ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর ঢাকার প্রবেশদ্বার নামে খ্যাত কামালপুর শত্রু ঘাটিতে আক্রমণ পরিচালনাকালে তিনি আহত হন এবং তাঁর হাঁটুর ওপর পর্যন্ত বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। - কর্নেল তাহের ১৯৭২ সালের অক্টোবর মাসে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। - ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য কর্তৃক শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডের পর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের কারণে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়। - এ প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর (১৯৭৫) আবু তাহের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সহযোগিতায় সিপাহি-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। - ১৯৭৫ সালের ২৪ নভেম্বর কর্নেল তাহের গ্রেফতার হন। - ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক অবস্থায় কারাগারের অভ্যন্তরে তাহেরসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার হয় এবং বিচারে তাঁকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। - ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে তাঁর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। - কর্নেল তাহের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য ‘বীরউত্তম’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
জেল হত্যা দিবসে নিম্নের কাকে হত্যা করা হয়নি?
ক
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
খ
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
গ
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ঘ
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
জেল হত্যা দিবস: - প্রতি বছর ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে জেল হত্যা দিবস পালিত হয়। - ১৯৭৫ সালের এই দিনে চার জাতীয় নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়: • সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, মুজিবনগর সরকার) • তাজউদ্দিন আহমদ (প্রধানমন্ত্রী, মুজিবনগর সরকার) • ক্যাপ্টেন মনসুর আলী • এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনা কর্মকর্তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টা করছিলেন। - এই পরিস্থিতিতে চার শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। - খন্দকার মোশতাক ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে, এই চার নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হলে তাদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। - তাদের প্রভাব এবং অভিজ্ঞতাকে ধ্বংস করার জন্যই কারাগারের ভেতরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। - হত্যার দিনেই দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, যার নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ।