পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৩ বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ ⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯ টপিক: ধ্বনি ও শব্দ, পদ, প্রত্যয়, সমাস, বাগধারা, সন্ধি, উপসর্গ, এক কথায় প্রকাশ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, বানান, পরিভাষা, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ। [নম্বর কাভার - ৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৫ প্রশ্ন

.
কারবর্ণ নয় কোনটি?
ব্যাখ্যা
• কারবর্ণ নয়- ঝ।

• কারবর্ণ:
স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোকে কারবর্ণ বলে। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্চিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

• ১০টি কারবর্ণ হলো:
- আ-কার,
- এ-কার,
- ঈ-কার,
- ই-কার,
- উ-কার,
- ঊ-কার,
- ঋ-কার,
- ও-কার,
- ঔ-কার,
- ঐ-কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
.
জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. মিছিল
  2. চিনি
  3. দল
  4. নদী
ব্যাখ্যা
• 'নদী'- জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 
------------------------
জাতিবাচক বিশেষ্য: 
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
---------------- 
অন্য অপশনে, 
বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. তেজস্বী
  2. মেধাবী
  3. মিশুক
  4. ইমন
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী,
- নীলিমা = নীল = ইমন ,
- গুরু + অ = গৌরব ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।

উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক',  'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
.
‘যা বপন করা হয়েছে’ -এর এককথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. উদ্ভিদ
  2. বোনাই
  3. উক্ত
  4. উপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'যা বপন করা হয়েছে' এর এক কথায় প্রকাশ - উপ্ত।

অন্যদিকে,
• 'যা মাটি ভেদ করে উঠে' - 'উদ্ভিদ'। 
• বলা হয়েছে যা - উক্ত ।
• বোনের বর - বোনাই। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
.
উচ্চারণের স্থান অনুসারে ওষ্ঠ্য ধ্বনি কোনটি?
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:
ফুসফুস থেকে আগত বাতাস বাক্সত্যঙ্গের যে স্থানে বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনিটি উচ্চারিত হয় সে-স্থানই ওই ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান। 

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিসমূহকে কয়েক শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
• ওষ্ঠ্য ধ্বনি:
যে ধ্বনির উচ্চারণে দুটি ঠোঁট পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলা হয়। 
যেমন- প, ফ, ব, ভ, ম হলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি। যেমন- তাপ, লাফ, ডাব, সভা, নাম।

• দন্ত-ধ্বনি:
জিভের ডগা ওপরের পাটি দাঁতের পেছনের অংশকে স্পর্শ করে বায়ুপথে বাধার সৃষ্টি করলে দন্ত ধ্বনি উচ্চারিত হয়। , থ, দ, ধ দন্ত্য ধ্বনি। যেমন: তালা, থালা, দল, ধান।

• দন্তমূলীয় ধ্বনি:
জিভের ডগা ওপরের পাটি দাঁতের মূলকে স্পর্শ করে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করলে দন্তমূলীয় ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়। ন, র,  দন্তমূলীয় ধ্বনি। যেমন: মান, বার, প্রাল। দন্ত্য-ন ধ্বনি উচ্চারণে কোনোক্রমেই দাঁতের স্পর্শ নেই। 'কান' শব্দ উচ্চারণ করলেই তা বুঝতে পারি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
.
"বেগুনভাজা" এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. বেগুন ও ভাজা
  2. বেগুনে ভাজা
  3. বেগুন দিয়ে ভাজা
  4. ভাজা যে বেগুন
ব্যাখ্যা
• "বেগুনভাজা" এর ব্যাসবাক্য - ভাজা যে বেগুন।
----------------
• কর্মধারয় সমাস:

যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে যে’ যােজক থাকে, যেমন –
 
খাস যে জমি = খাসজমি;
চিত যে সঁতার = চিতসাঁতার;
ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা;
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ;
কনক যে চাঁপা = কনকচাপা;
টাক যে মাথা = টাকমাথা;
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর;
যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি বাগ্‌ধারা নয়?
  1. দুধের মাছি
  2. তালকানা
  3. বর্ণচোরা
  4. ফূঁইফোড়
ব্যাখ্যা
এখানে,
• দুধের মাছি বাগ্‌ধারার অর্থ- সুসময়ের বন্ধু।
• তালকানা বাগ্‌ধারার অর্থ- কাণ্ডজ্ঞানহীন;
• বর্ণচোরা বাগ্‌ধারার অর্থ- ভণ্ড।

- ভুঁইফোড় নামে বাগ্‌ধারা থাকলেও ফূঁইফোড় নামে কোনো বাগ্‌ধারা নেই।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
.
'আশ্চর্য' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. আশ্‌ + অর্য
  2. আঃ + চর্য
  3. আশ + চর্য
  4. আ + চর্য
ব্যাখ্যা
• 'আশ্চর্য' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - আ + চর্য।
- এটি নিপাতনে সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ।
-----------------------
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলাে সন্ধি কোনাে নিয়মে সাধিত হয় না এমন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

•নিচে কতগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ দেয়া হলো: 
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- ষট্ + দশ = ষােড়শ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- এক + দশ = একাদশ।
- পর্ + পর = পরস্পর
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গাে + পদ = গােষ্পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
উপসর্গ কোনটি?
  1. তরে
  2. চেয়ে
  3. হতে
  4. অতি
ব্যাখ্যা
• ‘অতি’ তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
তরে, চেয়ে, হতে অনুসর্গের উদাহরণ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরেচেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 
---------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
'Drop-scene' এর সঠিক বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. যবনিকা-পতন
  2. নাট্যচিত্র
  3. দৃশ্যান্তর
  4. পর্দা
ব্যাখ্যা

- 'Drop-scene' এর বাংলা পরিভাষা - যবনিকা-পতন।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা:
'Deputationist' এর বাংলা পরিভাষা - প্রতিনিধি।
• 'Depopulate' এর বাংলা পরিভাষা - জনশূন্য করা।
• 'Deputation' এর বাংলা পরিভাষা - প্রেষণ।
• 'Ethics' এর বাংলা পরিভাষা - নীতিবিদ্যা।
• 'Modesty' এর বাংলা পরিভাষা - শালীনতা।
• 'Morality' এর বাংলা পরিভাষা - সদাচার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

১১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. দক্ষিনায়ন
  2. দক্ষিণায়ণ
  3. দক্ষিণায়ন
  4. দক্ষিনায়ণ
ব্যাখ্যা
উত্তর: গ) দক্ষিণায়ন।

• "দক্ষিণায়ন" হল - শুদ্ধ বানান। এটি দুটি শব্দ থেকে গঠিত: 'দক্ষিণ' + 'আয়ন'।

এখানে,
"দক্ষিণায়ন" শব্দটি জ্যোতির্বিদ্যায় বিষুবরেখা থেকে সূর্যের ক্রমশ দক্ষিণে গমনকাল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
"ডাকাতরা নিশীথ রাতেই গ্রামের ঘরে হানা দিয়েছিল।" - এখানে 'নিশীথ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি - "ডাকাতরা নিশীথ রাতেই গ্রামের ঘরে হানা দিয়েছিল।" - 

- 'নিশীথ' শব্দটি এখানে 'রাত' শব্দটির বিশেষণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
অর্থাৎ কেমন রাত? — নিশীথ রাত (রাত্রির গভীর সময়)।
তাই,
'নিশীথ' এখানে বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'ডুমুরের ফুল' এর সমার্থক বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. আঁধার ঘরের মানিক
  2. রাশভারি
  3. অমাবস্যার চাঁদ
  4. আষাঢ়ে গল্প
ব্যাখ্যা
• 'ডুমুরের ফুল' এর সমার্থক বাগধারা অমাবস্যার চাঁদ। 
- ডুমুরের ফুল ও অমাবস্যার চাঁদ বাগধারার অর্থ দুর্লভ বস্তু বা বিরল বস্তু।

• অন্যদিকে,
- 'আঁধার ঘরের মানিক' বাগধারটির অর্থ অত্যন্ত প্রিয়জন।
- ‘রাশভারি' বাগধারাটির অর্থ 'গম্ভীর'। 
- 'আষাঢ়ে গল্প' বাগধারার অর্থ- আজগুবি কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
১৪.
'সাকার' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. আকার
  2. মূর্তিমান
  3. করাল
  4. নিরাকার
ব্যাখ্যা
• 'সাকার' শব্দের বিপরীত শব্দ - নিরাকার।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
- 'বিধি' শব্দের বিপরীত শব্দ - নিষেধ।
- 'সৌম্য' শব্দের বিপরীত শব্দ - করাল।
- 'ভীরু' শব্দের বিপরীত শব্দ - নির্ভীক।
- 'মহাজান' শব্দের বিপরীত শব্দ - খাতক।
- 'ভাটি' শব্দের বিপরীত শব্দ - উজান।
- 'বিষ' শব্দের বিপরীত শব্দ - অমৃত।
- 'সিক্ত' শব্দের বিপরীত শব্দ - শুষ্ক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
'কুন্তল' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. কবরী
  2. চিকুর
  3. কেশ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• 'কুন্তল' শব্দের সমার্থক শব্দ: কেশ। 
- 'কুন্তল' শব্দের অর্থ: চুল।

• “চুল” এর সমর্থক শব্দ:
- কেশ, অলক, চিকুর, কুন্তল, কবরী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ।
১৬.
"সে এসেছে অথচ আমন্ত্রণ পায়নি।" — এখানে 'অথচ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক
  2. বিয়োজক
  3. সংকোচক
  4. অনুগামী
ব্যাখ্যা
"সে এসেছে অথচ আমন্ত্রণ পায়নি।" — এখানে 'অথচ'সংকোচক অব্যয়।

-----------------
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
- সে এসেছে অথচ আমন্ত্রণ পায়নি।
এখানে, 'অথচ' শব্দটি দুটি বিপরীত বা পরস্পর বিরোধী বক্তব্যকে যুক্ত করে। যেমন: "সে এসেছে" — এটি একটি তথ্য, কিন্তু পরের অংশ "অথচ আমন্ত্রণ পায়নি" — এতে এক ধরনের বৈপরীত্য প্রকাশ পায়। এজন্য 'অথচ' এখানে সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
‘ই’ ধ্বনি উচ্চারণে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. বিবৃত
  2. সংবৃত
  3. অর্ধ-বিবৃত
  4. অর্ধ-সংবৃত
ব্যাখ্যা
• ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনি কে ৪ ভাগ করা হয়।
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

উল্লেখ্য,
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খােলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খােলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৮.
কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. কালসাপ
  2. প্রবচন
  3. ঘরমুখো
  4. আপাদমস্তক
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'কালসাপ' নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- 'ঘরমুখো' প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- পর্যন্ত অর্থে - অব্যয়ীভাব সমাস = আপাদমস্তক ( পা থেকে মাথা পর্যন্ত)।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
'কিম্ভূত' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কিম + ভূত
  2. কিম + উত
  3. কিম্ভ + উত
  4. কিম + ভুত
ব্যাখ্যা
• 'কিম্ভূত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - কিম + ভূত।

• সন্ধি বিচ্ছেদে নাসিক্য বর্ণের পরিবর্তে ’ম‘ হয়। এরূপ-
সম্+ ধি= সন্ধি,
সম্+ চয়= সঞ্চয়,
সম্+তাপ= সন্তাপ,
কিম+ভূত= কিম্ভূত,
সম্+সার= সংসার,
সম্+বাদ= সংবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২০.
‘অংশু’ শব্দটি নিচের কোন শব্দটির সমার্থক?
  1. ফুল
  2. সূর্য
  3. কিরণ
  4. হৃদয়
ব্যাখ্যা
• কিরণ’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- রশ্মি,
- কর,
- প্রভা,
- দীপ্তি, 
- অংশু।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
২১.
নিচের কোনটি ‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক নয়?
  1. কুবলয়
  2. শতদল
  3. সরোজ
  4. রঙ্গন
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক নয় ঘ) রঙ্গন।

কারণ, রঙ্গন একটি বিশেষ ধরনের ফুল, যা সাধারণত লাল রঙের হয়ে থাকে, এবং এটি 'পদ্ম' (জলফুল) এর সমার্থক নয়।

অন্যদিকে:
কুবলয়, শতদল, এবং সরোজ সবই 'পদ্ম' এর সমার্থক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ।
 
২২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নূন্যতম
  2. ন্যূনতম
  3. নুনতম
  4. ন্যূন্যতম
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ন্যূনতম।
- 'ন্যূনতম' মানে হলো সর্বনিম্ন বা কমপক্ষে।
বাক্য গঠন: এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৪০% নম্বর পেতে হবে।

অশুদ্ধ বানান- শুদ্ধ বানান:
মূর্ধণ্য- মূর্ধন্য, 
অতিথী- অতিথি,
নিরীক্ষন- নিরীক্ষণ,
শারিরীক- শারীরিক।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩.
'কায়া' শব্দটি কোন শব্দের প্রতিশব্দ?
  1. মায়া
  2. দেহ
  3. চক্ষু
  4. গিরি
ব্যাখ্যা
• 'দেহ' শব্দের প্রতিশব্দ:
- কায়া,
- কলেবর,
- গা,
- গাত্র,
- তনু,
- শরীর,
- অঙ্গ,
- কায় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'চক্ষু' শব্দের প্রতিশব্দ - দর্শন,  লোচন, নয়ন, নেত্র, অক্ষি, চোখ আঁখি।
• 'পর্বত' শব্দের প্রতিশব্দ: পাহাড়, অচল, গিরি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২৪.
'কিস্তিমাত করা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. কুপরামর্শ দেওয়া
  2. সফলতা লাভ
  3. চাটুকার
  4. অন্ধ অনুকরণ
ব্যাখ্যা
• 'কিস্তিমাত করা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ — 'সফলতা লাভ'।
বাক্য গঠন: সবচেয়ে বড়ো পুরস্কারটা পেয়ে সে একেবারে কিস্তিমাত করেছে। 

অন্য অপশনে, 
• কান ভাঙানো - কুপরামর্শ দেওয়া । 
• খয়ের খাঁ - চাটুকার।
• গড্ডলিকা প্রবাহ - অন্ধ অনুকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫.
"আলুসিদ্ধ" কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে যে’ যােজক থাকে, যেমন –
 
খাস যে জমি = খাসজমি;
চিত যে সঁতার = চিতসাঁতার;
ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা;
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ;
কনক যে চাঁপা = কনকচাপা;
টাক যে মাথা = টাকমাথা;
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর;
যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬.
'স' ধ্বনির উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী কোন ধরনের বর্ণ?
  1. মূর্ধন্য বর্ণ
  2. ওষ্ঠ্য বর্ণ
  3. দন্তমূলীয় বর্ণ
  4. তালব্য বর্ণ
ব্যাখ্যা
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন -  স।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
যেমন-
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৭.
নিচের কোনটি ভুল বানান?
  1. পুরস্কার
  2. তিরষ্কার
  3. নূপুর
  4. নিষ্প্রাণ
ব্যাখ্যা
উত্তর: খ) তিরষ্কার।

• বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- 'র- ধ্বনি'র পরে যদি অ, আ স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'স' হবে।
যেমন: পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি। 

অন্য অপশনগুলির "পুরস্কার; নূপুর; নিষ্প্রাণ" বানান সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সমূল
  2. পৌরুষ
  3. দ্বৈততা
  4. স্বাগত
ব্যাখ্যা
• 'দ্বৈততা' - 'অপপ্রয়োগ'।
এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ।
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: দ্বৈত।

অন্যদিকে,
- সমূল,
- স্বাগত,
- পৌরুষ,
→ উপরিউক্ত শব্দগুলো প্রয়োগ শুদ্ধ।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. প্রস্থান
  2. নিবৃত্তি
  3. অনুবাদ
  4. সুন্দর
ব্যাখ্যা
• সুন্দর → এটি একটি মূল শব্দ, এখানে কোনো উপসর্গ নেই।

অন্যদিকে,
- 'প্রস্থান' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'প্র' যোগে গঠিত।
- 'নিবৃত্তি' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘নি’ যোগে গঠিত।
- 'অনুবাদ' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'অনু’ যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০.
'Demographic' এর বাংলা পরিভাষা-
  1. জনসংখ্যা
  2. গণতন্ত্র
  3. জনতাত্ত্বিক
  4. সমাজতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• 'Demographic' এর বাংলা পরিভাষা → জনতাত্ত্বিক।

অন্যদিকে,
Democracy → গণতন্ত্র;
Demography → জনতত্ত্ব;
Socialism → সমাজতন্ত্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩১.
‘চিনিপাতা’ কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে।

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন-
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৩২.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. সদা + শয় = সদাশয়
  2. সদ + আশয় = সদাশয়
  3. সৎ + আশয় = সদাশয়
  4. সদা + আশয় = সদাশয়
ব্যাখ্যা
• 'সদাশয়' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'সৎ + আশয়'।
----------------
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
বন + পতি = বনস্পতি,
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোস্পদ,
পর + পর = পরস্পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
এক + দশ = একাদশ,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৩৩.
'মগের মল্লুক' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. চির অশান্তি
  2. অনিষ্টে ইষ্ট লাভ
  3. উপযুক্ত মিলন
  4. অরাজকতা
ব্যাখ্যা
• 'মগের মল্লুক' বাগ্‌ধারার অর্থ- অরাজকতা।

অন্যদিকে,
• 'রাবণের চিতা' অর্থ - চির অশান্তি।
• 'মণিকাঞ্চন যোগ' অর্থ -উপযুক্ত মিলন।
• 'ফটো পয়সার লড়াই' অর্থ- সামান্য কিছু দিয়ে ঝগড়া লাগানো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৪.
কোনটি ঘোষ ব্যঞ্জন?
ব্যাখ্যা
ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।

যেমন:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।

যেমন:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫.
"ক্ষুদ্র নদী" এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. উপাঙ্গ
  2. নালি
  3. সারণি
  4. নুড়ি
ব্যাখ্যা
• "ক্ষুদ্র নদী" এর এক কথায় প্রকাশ - 'সারণি'।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
• 'ক্ষুদ্র বিন্দু' এর এক কথায় প্রকাশ- 'ফুটকি'। 
• 'ক্ষুদ্র ফোঁড়া' এর এক কথায় প্রকাশ- 'ফুসকুড়ি'। 
• 'ক্ষুদ্র নালা' এর এক কথায় প্রকাশ- 'নালি'।
• 'ক্ষুদ্র প্রস্তরখণ্ড' এর এক কথায় প্রকাশ - 'নুড়ি'।
• 'ক্ষুদ্র কূপ' এর এক কথায় প্রকাশ- 'পাতকুয়া'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।