পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৬
সিলেবাস
Exam - 2 • The Evidence Act, 1872
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৬ প্রশ্ন

.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ কোন তারিখে কার্যকর হয়েছিল?
  1. ১লা জানুয়ারি, ১৮৭২
  2. ১লা মার্চ, ১৮৭২
  3. ১লা সেপ্টেম্বর, ১৮৭২
  4. ১লা ডিসেম্বর, ১৮৭২
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (The Evidence Act, 1872) ব্রিটিশ শাসনামলে উপমহাদেশে প্রণীত হয়।
-আইনটি ১৮৭২ সালের ১৫ই মার্চ পাশ হয়, তবে এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়নি।
আইনের "Commencement of Act" (কার্যকারিতার তারিখ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
- "It shall come into force on the first day of September, 1872."

অর্থাৎ, আইনটি ১৮৭২ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

সাক্ষ্য আইনের পূর্ব ইতিহাস ও গঠন:
১৮৭২ সালের আগে উপমহাদেশে পূর্ণাঙ্গ কোনো সাক্ষ্য আইন ছিল না।
১৮৬৮ সালে স্যার হেনরি সামার একটি খসড়া প্রণয়ন করেছিলেন, তবে সেটি কার্যকর হয়নি।
১৮৭১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্যার জেমস স্টিফেনকে সাক্ষ্য আইনের খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেয়।
উৎপত্তি: Latin শব্দ Evidere বা Evidence থেকে এসেছে।
মূল উদ্দেশ্য: সাক্ষ্যের মাধ্যমে কোনো ঘটনা বা বিষয় প্রমাণ করা।
আইনের ধরন: এটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law/Adjective Law)।
আইন প্রণয়ন: ১৮৭২ সালের ১৫ই মার্চ।
কার্যকর: ১৮৭২ সালের ১লা সেপ্টেম্বর।
প্রণেতা: স্যার জেমস স্টিফেন (Fitz-James Stephen), যাকে সাক্ষ্য আইনের জনক বলা হয়।
সংগঠন: ৩টি ভাগ (Part), ১১টি অধ্যায় (Chapter), ১৬৭টি ধারা (Section) আছে।

সাক্ষ্য আইন এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, কারণ এর কিছু বিধান ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি কার্যবিধি, রেজিস্ট্রেশন আইন, উত্তরাধিকার আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং স্ট্যাম্প আইনেও রয়েছে।
.
সাক্ষ্য আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের মামলায় কোন তথ্য প্রাসঙ্গিক?
  1. শুধুমাত্র অপরাধের সময়ের তথ্য
  2. শুধুমাত্র আদালতের সিদ্ধান্তের সাথে সম্পর্কিত তথ্য
  3. শুধুমাত্র মূল বিষয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত তথ্য
  4. শুধুমাত্র ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১২ অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের মামলায় শুধুমাত্র সেই তথ্যই প্রাসঙ্গিক যা আদালতকে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে সাহায্য করে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ধারা-১২: ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক তথ্য:
যে সকল দেওয়ানি মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়, সেক্ষেত্রে যে কোন তথ্য যা আদালতকে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে সহায়তা করবে, তা প্রাসঙ্গিক।
অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, যে কোনো ঘটনা যা আদালতকে মামলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সহায়তা করে, সেগুলোকে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য করা হবে।
------------ 
⇒The Evidence Act,1872, Section-12. In suits for damages, facts tending to enable Court to determine amount are relevant:
 In suits in which damages are claimed, any fact which will enable the Court to determine the amount of damages which ought to be awarded, is relevant.
.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা আদালতকে বিচারিক নোটিশ নেওয়ার জন্য বাধ্য করে?
  1. ধারা ৫৭
  2. ধারা ৭৫
  3. ধারা ৫২
  4. ধারা ১২৬
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৭ আদালতকে নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে বিচারিক নোটিশ (judicial notice) নিতে বাধ্য করে।
- এর অধীনে আদালত কিছু সাধারণ বা স্বীকৃত বিষয়, যেমন বাংলাদেশের সকল আইন, সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধবিধি, সংসদের কার্যক্রম, সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে প্রকাশিত নাম, স্বীকৃত রাষ্ট্রের নাম, জাতীয় পতাকা, এবং সময় ও ভূগোল সম্পর্কিত বিষয়াবলী, সম্পর্কে স্বপ্রমাণ গ্রহণ করতে বাধ্য থাকে। এই ধরনের বিষয়গুলি আদালতে যুক্ত করা হলে, আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে এগুলোকে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য করবে এবং এর জন্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে না।
এটি আদালতের কার্যক্রম সহজ করে এবং সময় বাঁচাতে সহায়ক।

ধারা ৫৭ এর উদ্দেশ্য:
আদালতের কার্যপদ্ধতি সহজ ও দ্রুততর করা।
অপ্রয়োজনীয় প্রমাণের বোঝা কমানো।
সর্বজনবিদিত বা আইন দ্বারা স্বীকৃত বিষয়গুলো প্রমাণের প্রয়োজন ছাড়াই আদালতের বিবেচনায় আনা।
-----------
⇒The Evidence Act,1872, Section 57 of the Evidence Act outlines the facts that the Court must take judicial notice of, including:
1. All Bangladesh Laws.
2. Articles of War for the Armed Forces.
3. The proceedings of Parliament and any legislature with power over Bangladesh's territories.
4. The seals of all courts in Bangladesh, including Admiralty and Maritime Courts and Notaries Public.
5. Names, titles, functions, and signatures of public officeholders, as published in the official Gazette.
6. The existence, title, and national flag of recognized States.
7. Geographical divisions, public festivals, fasts, and holidays notified in the official Gazette.
8. The territories of Bangladesh.
9. Hostilities between Bangladesh and other States or entities.
10. The names of court members, officers, advocates, and authorized persons.
11. The rule of the road on land and sea.
The Court may refer to books or documents of reference for these facts. If any person requests judicial notice, the Court may refuse unless the necessary documents are presented.
.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতির প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণ করে?
  1. ধারা ২১
  2. ধারা ২৩
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৬
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৩ ধারার বিধান: দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক:
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।
ব্যাখ্যা: কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৩ ধারা দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতির প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণ করে। এটি বলে যে, কোন স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হবে না যদি তা এমন শর্তে দেওয়া হয় যে, তার সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বা পক্ষগণ একে অপরকে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য চুক্তি করে।
------------------
⇒ The Evidence Act,1872, Section 23: Admissions in civil cases when relevant:
In civil cases no admission is relevant, if it is made either upon an express condition that evidence of it is not to be given, or under circumstances from which the Court can infer that the parties agreed together that evidence of it should not be given.
Explanation.– Nothing in this section shall be taken to exempt any Advocate from giving evidence of any matter of which he may be compelled to give evidence under section 126.
.
নিম্নলিখিত কোনটি সরকারি দলিলের উদাহরণ?
  1. ব্যক্তিগত চিঠিপত্র
  2. একটি ব্যক্তিগত উইল
  3. একটি ব্যক্তিগত বিক্রয় চুক্তি
  4. আদালতের আদেশ বা ডিক্রি
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৭৪ ধারার মতে, সরকারি দলিল (Public Document) হলো সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত বা প্রণীত দলিল, যা সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা, ট্রাইব্যুনাল, বা বিচার বিভাগীয়, শাসন বিভাগীয়, ও আইন প্রণয়নকারী সংস্থার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত হয়।
- আদালতের আদেশ বা ডিক্রি সরকারি দলিলের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের অংশ এবং সরকারি রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষিত হয়।

অন্য অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
 (ক) ব্যক্তিগত চিঠিপত্র:
- ব্যক্তিগত চিঠিপত্র কোনো সরকারি সংস্থার কার্যক্রমের অংশ নয়, তাই এটি সরকারি দলিল নয়। এটি বেসরকারি দলিল (Private Document)।
(খ) একটি ব্যক্তিগত উইল:
- উইল ব্যক্তিগত সম্পত্তির বণ্টনসংক্রান্ত একটি দলিল, যা ব্যক্তি বা পরিবারের মধ্যে ব্যবহৃত হয় এবং সাধারণত সরকারি সংস্থার দ্বারা সংরক্ষিত হয় না। তাই এটি সরকারি দলিল নয়।
(গ) একটি ব্যক্তিগত বিক্রয় চুক্তি:
- কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত বিক্রয় চুক্তি বেসরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এটি সরকারি কর্তৃপক্ষের অধীনে সংরক্ষিত নথা

- অর্থাৎ আদালতের আদেশ বা ডিক্রি বিচার বিভাগের রেকর্ডের অংশ, যা সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হয়।

তাই সঠিক উত্তর: (ঘ) আদালতের আদেশ বা ডিক্রি।

→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২: ৭৪ ধারার বিধান সরকারি দলিল:
নিম্নলিখিত দলিলসমূহ সরকারি দলিল (Public Documents) হিসেবে গণ্য হবে—
(১) যে সকল দলিল নিম্নলিখিত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কার্যাবলির অংশ বা রেকর্ড হিসেবে গঠিত:
(i) সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(ii) সরকারি সংস্থা ও ট্রাইব্যুনালের, এবং
(iii) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশের কোনো অংশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় সরকারি কর্মকর্তার।
(২) বাংলাদেশে সরকারিভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ রেকর্ড।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section- 74. Public documents:
The following documents are public documents:– 
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
(i) of the sovereign authority, 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.
.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় অনুমান (presume) এর সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ২ ধারায়
  2. ৩ ধারায়
  3. ৪ ধারায়
  4. ৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৪ নম্বর ধারায় অনুমান (Presume) সম্পর্কিত বিধান দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় "May Presume," "Shall Presume," এবং "Conclusive Proof"—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে অনুমান করতে পারে (May presume): যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।
⇒ অনুমান করবে (Shall presume): যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।
⇒ চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof): এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত। করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।

ধারা ৪-এর মূল বিষয়বস্তু:
- May Presume (সাধারণ অনুমান): আদালত কোনো বিষয়কে প্রমাণিত বলে ধরে নিতে পারে, তবে তা পাল্টে দেওয়ার জন্য প্রমাণ গ্রহণ করতে পারে।
- Shall Presume (আবশ্যিক অনুমান): আদালত অবশ্যই নির্দিষ্ট বিষয়কে প্রমাণিত ধরে নেবে, যতক্ষণ না তা খণ্ডন করা হয়।
- Conclusive Proof (চূড়ান্ত প্রমাণ): কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় একবার প্রমাণিত হলে আদালত সেটিকে সত্য ধরে নেবে এবং তার বিপরীতে কোনো প্রমাণ গ্রহণ করবে না।
---------
The Evidence Act, 1872: Section- 4:
"May presume" - Whenever it is provided by this Act that the Court may presume a fact, it may either regard such fact as proved, unless and until it is disproved, or may call for proof of it:
“Shall presume” - Whenever it is directed by this Act that the Court shall presume a fact, it shall regard such fact as proved, unless and until it is disproved:
“Conclusive proof” - When one fact is declared by this Act to be conclusive proof of another, the Court shall, on proof of the one fact, regard the other as proved, and shall not allow evidence to be given for the purpose of disproving it.
.
সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারার অধীনে কোন শর্ত পূরণ হলে তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে?
  1. তথ্য আসামির কাছ থেকে পাওয়া যেতে হবে
  2. তথ্যের ভিত্তিতে কিছু উদ্ধার হতে হবে
  3. উদ্ধারকৃত বস্তু অপরাধের সাথে সম্পর্কযুক্ত হতে হবে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামির কাছ থেকে পাওয়া কোনো তথ্য তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যদি তা দ্বারা কোনো বস্তু বা আলামত উদ্ধার হয় এবং সেই বস্তু অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত হয়।
- ২৭ ধারার অধীনে তথ্য গ্রহণযোগ্য হতে হলে নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হতে হবে:
১) তথ্য আসামির কাছ থেকে পাওয়া যেতে হবে।
২) তথ্যের ভিত্তিতে কিছু উদ্ধার হতে হবে।
৩) উদ্ধারকৃত বস্তু অপরাধের সাথে সম্পর্কযুক্ত হতে হবে।
-  তিনটি শর্তই পূরণ হলে আদালতে তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে। 

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী, কেবলমাত্র আসামির দেওয়া তথ্যই প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বস্তু বা প্রমাণ উদ্ধার হয় এবং সেটি অপরাধের সাথে সম্পর্কিত হয়। তাই "উপরের সবগুলো" (উত্তর 'ঘ') একমাত্র সঠিক উত্তর।
.
সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যায় কোন দুটি সাক্ষ্যের মাধ্যমে?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য এবং দালিলিক সাক্ষ্য
  2. প্রাথমিক সাক্ষ্য এবং মাধ্যমিক সাক্ষ্য
  3. প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং পরোক্ষ সাক্ষ্য
  4. কোনো সাক্ষ্য নয়
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাথমিক সাক্ষ্য হচ্ছে মূল দলিল, যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক সাক্ষ্য তখন ব্যবহার করা হয় যখন মূল দলিল আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব না হয়, এবং তখন তার প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

- সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারায় বলা হয়েছে, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
তাই সঠিক উত্তর: খ) প্রাথমিক সাক্ষ্য এবং মাধ্যমিক সাক্ষ্য।

দালিলিক সাক্ষ্য (Documentary Evidence):
দালিলিক সাক্ষ্য বলতে আদালতের পরিদর্শনের জন্য যে সমস্ত দলিল বা লিপিবদ্ধ বস্তু উপস্থাপন করা হয়, তা বোঝানো হয়। সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুসারে, দলিলের বিষয়বস্তু দুই প্রকার দালিলিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে:
১. প্রাথমিক সাক্ষ্য; এবং
২. মাধ্যমিক সাক্ষ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য এর মাধ্যমে।

⇒ The Evidence Act, 1872- Section 61 - Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.
.
নিম্নলিখিত কোন আইনের অধীন গঠিত কোর্ট-মার্শালে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ প্রযোজ্য নয়?
  1. আর্মি আইন, ১৯৫২
  2. নেভাল ডিসিপ্লিন অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১
  3. এয়ার ফোর্স আইন, ১৯৫৩
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ সাধারণ বিচারিক আদালতগুলোর জন্য প্রযোজ্য হলেও কিছু নির্দিষ্ট কোর্ট-মার্শালে এটি প্রযোজ্য নয়।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর প্রারম্ভিক ধারায় (Short Title, Extent, and Commencement) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি নিম্নলিখিত সামরিক আইনগুলোর অধীনে গঠিত কোর্ট-মার্শালে প্রযোজ্য নয়:
১) আর্মি আইন, ১৯৫২ (Army Act, 1952)
২) নেভাল ডিসিপ্লিন অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১ (Naval Discipline Ordinance, 1961)
৩) এয়ার ফোর্স আইন, ১৯৫৩ (Air Force Act, 1953)

 - আইনের ভাষ্যে:
"It extends to the whole of Bangladesh and applies to all judicial proceedings in or before any Court, including Courts-martial, other than Courts-martial convened under the Army Act, 1952, the Naval Discipline Ordinance, 1961, or the Air Force Act, 1953."

→ অর্থাৎ, এই তিনটি সামরিক আইনের অধীনে গঠিত কোর্ট-মার্শাল (Courts-martial)-এ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ প্রযোজ্য নয়।
১০.
সিভিল মামলায় ক্ষতির পরিমাণে চরিত্রের প্রভাব কীভাবে প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. যখন ব্যক্তি তার চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়
  2. যখন চরিত্রের বিষয়ক প্রমাণ আইনসম্মত হয়
  3. যখন ব্যক্তির চরিত্র ক্ষতির পরিমাণকে প্রভাবিত করে
  4. যখন ব্যক্তির আচরণ কোনও ঘটনার সাথে সম্পর্কিত থাকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) যখন ব্যক্তির চরিত্র ক্ষতির পরিমাণকে প্রভাবিত করে। 
- সিভিল মামলায়, যদি কোনো ব্যক্তি তার চরিত্রের কারণে ক্ষতির পরিমাণে প্রভাব ফেলে, তাহলে সেই চরিত্র প্রাসঙ্গিক হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তির খ্যাতি বা disposition (আচরণ) ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে প্রভাবিত করে, তাহলে এটি প্রমাণ হিসেবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে।

→ সাক্ষ্য আইনের ৫৫ ধারার বিধান ক্ষতির পরিমাণে চরিত্রের প্রভাব:
সিভিল মামলায় কোনো ব্যক্তির চরিত্র যদি তার প্রাপ্য ক্ষতির পরিমাণকে প্রভাবিত করে, তবে তা প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যা:– ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪ এবং ৫৫-এ "চরিত্র" শব্দটি রূপে ও disposition বা মনোভাব, উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে; তবে, ধারা ৫৪ ছাড়া, প্রমাণ দেওয়ার সময় সাধারণ খ্যাতি এবং সাধারণ disposition ছাড়া বিশেষ কোনো কাজের প্রমাণ দেওয়া যাবে না, যা দ্বারা খ্যাতি বা disposition প্রদর্শিত হয়েছে।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 55. Character as affecting damages:
In civil cases the fact that the character of any person is such as to affect the amount of damages which he ought to receive, is relevant.

Explanation.– In sections 52, 53, 54 and 55, the word "character" includes both reputation and disposition; but, except as provided in section 54, evidence may be given only of general reputation and general disposition, and not of particular acts by which reputation or disposition were shown.
১১.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারায় দুষ্কর্মের সহযোগী সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
  1. দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দিতে অযোগ্য
  2. দুষ্কর্মের সহযোগী অন্য সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারবেন
  3. দুষ্কর্মের সহযোগী শুধুমাত্র নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারবেন
  4. দুষ্কর্মের সহযোগী কোনভাবেই সাক্ষ্য দিতে পারবেন না
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারায় দুষ্কর্মের সহযোগী সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, দুষ্কর্মের সহযোগী অন্য সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারবেন এবং এর উপর ভিত্তি করে যদি আসামিকে সাজা দেওয়া হয়, তবে তা বেআইনি হবে না।
- এটির মানে হল, দুষ্কর্মের সহযোগীকে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে, এবং তার সাক্ষ্য শুধুমাত্র সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে নয়, বরং অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য যথাযথ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তবে, তার সাক্ষ্য যদি একমাত্র প্রমাণ হিসেবে নেওয়া হয়, তাহলে আসামিকে সাজা দেওয়া হতে পারে।
অতএব, সঠিক উত্তর: খ) দুষ্কর্মের সহযোগী অন্য সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

- এটি সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান অনুযায়ী, দুষ্কর্মের সহযোগী একজন যোগ্য সাক্ষী হতে পারেন।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান দুষ্কর্মে সহযোগী: দুষ্কর্মের সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলিয়া গণ্য হইবেন। দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেওয়া হইলে কেবল সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনি হইবে না।

⇒ ১৩৩ ধারা অনুযায়ী একজন দুষ্কর্মের সহযোগী অন্যান্য সহযোগী আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য এবং এর উপর ভিত্তি করে শাস্তি দেওয়া হলে বেআইনি হবে না।
-------------------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section-133. Accomplice: An accomplice shall be a competent witness against an accused person, and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
১২.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী অপরাধের "প্রস্তুতি" প্রমাণের জন্য নিচের কোনটি প্রাসঙ্গিক?
  1. অপরাধের পূর্বে অস্ত্র ক্রয়
  2. অপরাধের সময়ের আচরণ
  3. অপরাধের পরবর্তী আচরণ
  4. শুধুমাত্র অপরাধের সাথে সম্পর্কহীন ঘটনা
ব্যাখ্যা
উত্তর: ক) অপরাধের পূর্বে অস্ত্র ক্রয়।
→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৮ অনুযায়ী, "প্রস্তুতি" প্রমাণের জন্য এমন ঘটনা প্রাসঙ্গিক যা অপরাধ সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে বা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘটেছে।
যেহেতু অপরাধের পূর্বে অস্ত্র ক্রয় মূলত অপরাধের প্রস্তুতি হিসেবে গণ্য হতে পারে, তাই এটি প্রাসঙ্গিক। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র ক্রয় করে এবং সেই অস্ত্র পরে অপরাধে ব্যবহৃত হয়, তবে সেই অস্ত্র ক্রয়ের ঘটনা অপরাধের প্রস্তুতি হিসেবে আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনযোগ্য।
অন্যদিকে, অপরাধের পরবর্তী আচরণ বা অপরাধের সময়ের আচরণ মূলত অপরাধের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত থাকে, কিন্তু সেগুলি "প্রস্তুতি" হিসেবে গণ্য হয় না। "শুধুমাত্র অপরাধের সাথে সম্পর্কহীন ঘটনা" তো পরিষ্কারভাবে প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ এটি অপরাধের প্রস্তুতি বা ঘটনাকে প্রভাবিত করে না।
১৩.
"প্রাথমিক সাক্ষ্য হল মূল দলিল বা নথি যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয়"— এটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিধান?
  1. ৬০ ধারা
  2. ৬২ ধারা
  3. ৬৪ ধারা
  4. ৬৬ ধারা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৬২ ধারা অনুযায়ী প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) হল মূল দলিল বা নথি যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

৬২ ধারার সংজ্ঞা:
"Primary evidence means the document itself produced for the inspection of the Court."
অর্থাৎ, যে কোনো মূল দলিল বা নথি যদি সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয়, তবে সেটিই প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।
প্রাথমিক সাক্ষ্যের কিছু বৈশিষ্ট্য:
- এটি মূল দলিল বা নথির সরাসরি উপস্থাপনা।
- এটি দলিল বা নথির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।
- যখন কোনো দলিল একাধিক খণ্ডে থাকে, তখন প্রত্যেক খণ্ডই প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
- যদি কোনো দলিলের একাধিক প্রতিলিপি (Copy) থাকে এবং তা একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত হয়, তবে প্রতিটি প্রতিলিপি সম্পাদনকারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।
----------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section- 62. Primary evidence:
Primary evidence means the document itself produced for the inspection of the Court.
Explanation 1.-Where a document is executed in several parts, each part is primary evidence of the document.
Where a document is executed in counterpart, each counterpart being executed by one or some of the parties only, each counterpart is primary evidence as against the parties executing it.
Explanation 2.-Where a number of documents are all made by one uniform process, as in the case of printing, lithography or photography, each is primary evidence of the contents of the rest; but, where they are all copies of a common original, they are not primary evidence of the contents of the original.

Illustration
A person is shown to have been in possession of a number of placards, all printed at one time prove one original. Any one of the placards is primary evidence of the contents of any other, but no one of them is primary evidence of the contents of the original.
১৪.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে "কোর্ট" (Court) হিসেবে গণ্য করা হবে না?
  1. বিচারক (Judge)
  2. সালিশকারী (Arbitrator)
  3. ম্যাজিস্ট্রেট (Magistrate)
  4. আইনত অনুমোদিত সাক্ষ্য গ্রহণকারী ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: সালিশকারী (Arbitrator)।
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, "কোর্ট" বলতে বোঝায়:
১) বিচারক (Judge)
২) ম্যাজিস্ট্রেট (Magistrate)
৩) যে কেউ, যিনি আইনত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা সম্পন্ন
তবে, সালিশকারী (Arbitrator) "কোর্ট" এর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ সালিশকারী আদালতের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করলেও, তিনি আইনত সাক্ষ্য গ্রহণ বা বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত নন।
⇒ অতএব, সালিশকারী "কোর্ট" নয়, তাই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর "খ) সালিশকারী (Arbitrator)"।

⇒ "Court" includes all Judges and Magistrates and all persons, except arbitrators, legally authorized to take evidence.
১৫.
সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ড কোথায় সংরক্ষিত থাকতে পারে?
  1. ম্যাগনেটিক বা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক মিডিয়া
  2. কম্পিউটার মেমরি
  3. হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।

⇒ সাক্ষ্য আইন (সংশোধন), ২০২২ অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড বলতে এমন তথ্য, উপাত্ত বা রেকর্ড বোঝায়, যা ম্যাগনেটিক বা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক মিডিয়া, কম্পিউটার মেমরি, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে সংরক্ষিত থাকতে পারে।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে সিসিটিভি রেকর্ড, ড্রোন ডেটা, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত তথ্য, ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক (ডিভিডি), কম্পিউটারে সংরক্ষিত নথি ইত্যাদিও দলিলগত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে। ফলে, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত বা সংরক্ষিত রেকর্ডও এখন আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
------
[“Digital record" or “electronic record” means any record, data or information generated, prepared, sent, received or stored in magnetic or electro-magnetic, optical, computer memory, micro film, computer generated micro fiche including audio, video, Digital Versatile Disc or Digital Video Disc (DVD), records of Closed Circuit Television (CCTV), drone data, records from cell phone, hardware, software or any other digital device as defined in Digital Security Act, 2018 (Act No. 46 of 2018)];
১৬.
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারা অনুযায়ী একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন কাকে উদ্দেশ্য করে প্রণীত হতে হবে?
  1. পুলিশকে
  2. বাদীপক্ষকে
  3. আদালতকে
  4. বিবাদীপক্ষকে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক (৪৫A) ধারা অনুযায়ী, একজন ফরেনসিক বা শারীরিক প্রমাণ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের উদ্দেশ্যে প্রণীত হবে, কোনও নির্দিষ্ট পক্ষের জন্য নয়। বিশেষজ্ঞ সাক্ষীর প্রধান দায়িত্ব আদালতকে সহায়তা করা, এবং তার প্রতিবেদন মামলার সকল পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
---------------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.-
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
১৭.
নিম্নলিখিত কোনটি সাক্ষ্য আইন অনুসারে একটি "ফ্যাক্ট" (Fact)?
  1. একজন ব্যক্তি একটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন
  2. একজন ব্যক্তি কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন
  3. একজন ব্যক্তির নির্দিষ্ট একটি মতামত রয়েছে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, "ফ্যাক্ট" বলতে এমন কোনো বিষয় বা ঘটনার অস্তিত্ব বোঝানো হয় যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হতে পারে অথবা কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা সম্পর্কিত হতে পারে।
এখানে প্রতিটি উদাহরণটি "ফ্যাক্ট" এর অন্তর্ভুক্ত:
১) একজন ব্যক্তি একটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন - এটি "ফ্যাক্ট" কারণ এটি একজন ব্যক্তির কার্যকলাপ বা কথাবার্তা যা সত্য প্রমাণিত হতে পারে।
২) একজন ব্যক্তি কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন - এটি একটি "ফ্যাক্ট" কারণ এটি অনুভূতি (শোনা বা দেখা) দ্বারা প্রমাণিত কিছু ঘটনা।
৩) একজন ব্যক্তির নির্দিষ্ট একটি মতামত রয়েছে - এটি একটি "ফ্যাক্ট" কারণ এটি একটি মানসিক অবস্থা যা ব্যক্তি নিজে উপলব্ধি করেছেন।

অতএব, উপরের সবগুলোই "ফ্যাক্ট" হিসেবে গণ্য হয়, তাই সঠিক উত্তর "ঘ) উপরের সবগুলো"।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, "ফ্যাক্ট" (Fact) এর অর্থ এবং অন্তর্ভুক্ত বিষয়:
(১) কোনো কিছু, অবস্থার অবস্থা, বা সম্পর্ক যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হতে পারে;
(২) যে কোনো মানসিক অবস্থা যার প্রতি ব্যক্তি সচেতন।

উদাহরণসমূহ:
(ক) যে কিছু বস্তু একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি নির্দিষ্ট অর্ডারে সাজানো আছে, তা একটি ফ্যাক্ট।
(খ) যে একজন ব্যক্তি কিছু শুনেছেন বা দেখেছেন, তা একটি ফ্যাক্ট।
(গ) যে একজন ব্যক্তি কিছু শব্দ বলেছেন, তা একটি ফ্যাক্ট।
(ঘ) যে একজন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট মতামত ধারণ করেন, একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে, সৎ বা অসৎ বিশ্বাসে কাজ করেন, অথবা একটি নির্দিষ্ট শব্দ একটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহার করেন, বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন বা ছিলেন, তা একটি ফ্যাক্ট।
(ঙ) যে একজন ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট খ্যাতি রয়েছে, তা একটি ফ্যাক্ট।
একটি ফ্যাক্ট অন্য একটি ফ্যাক্ট এর সাথে সম্পর্কযুক্ত তখন বলা হয় যখন একটির সাথে অন্যটি সংযুক্ত থাকে, যেভাবে এই আইনে ফ্যাক্টসের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কিত বিধানে বর্ণিত হয়েছে।
-------------
"Fact" means and includes-
(1) anything, state of things, or relation of things capable of being perceived by the senses;
(2) any mental condition of which any person is conscious.

Illustrations:
(a) That there are certain objects arranged in a certain order in a certain place, is a fact.
(b) That a man heard or saw something, is a fact.
(c) That a man said certain words, is a fact.
(d) That a man holds a certain opinion, has a certain intention, acts in good faith or fraudulently, or uses a particular word in a particular sense, or is or was at a specified time conscious of a    particular sensation, is a fact.
(e) That a man has a certain reputation, is a fact.
One fact is said to be relevant to another when the one is connected with the other in any of the ways referred to in the provisions of this Act relating to the relevancy of facts.
১৮.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী, যদি সাক্ষ্য কোনো ঘটনা সম্পর্কে হয় যা দেখা যায়, তাহলে সাক্ষ্য কে দেবে?
  1. যে ব্যক্তি তা শুনেছে
  2. যে ব্যক্তি তা দেখেছে
  3. যে ব্যক্তি তা অনুমান করেছে
  4. যে ব্যক্তি তা লিখিতভাবে জানিয়েছে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬০ অনুযায়ী, যদি সাক্ষ্য কোনো ঘটনা সম্পর্কে হয় যা দেখা যায়, তাহলে সেই সাক্ষ্য তবে ওই ব্যক্তি দিতে হবে, যিনি তা দেখেছেন।
অর্থাৎ, যদি ঘটনা এমন কিছু হয় যা চোখে দেখা যেতে পারে, তখন সেই ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে পারবেন, যিনি ওই ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেছেন এবং সরাসরি অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। অন্যের কাছ থেকে শোনা বা অনুমান করা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
এখানে সঠিক উত্তর খ) যে ব্যক্তি তা দেখেছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬০ অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে। অর্থাৎ,
যদি এটি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে হয় যা দেখা যেতে পারে, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি বলবে সে এটি দেখেছে;
যদি এটি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে হয় যা শোনা যেতে পারে, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি বলবে সে এটি শুনেছে;
যদি এটি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে হয় যা অন্য কোনো অনুভূতি বা পদ্ধতিতে অনুভব করা যেতে পারে, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি বলবে সে সেই অনুভূতির মাধ্যমে এটি অনুভব করেছে;
যদি এটি কোনো মতামত বা সেই মতামতের ভিত্তি সম্পর্কে হয়, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি ওই মতামতটি ধারণ করেছে এবং তার ভিত্তি জানে।
এছাড়া, বিশেষজ্ঞদের মতামত যে কোনো বইয়ে প্রকাশিত থাকে, সেটি যদি সাধারণভাবে বিক্রয়ের জন্য পাওয়া যায় এবং সেই লেখক মৃত অথবা পাওয়া না যায়, অথবা সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হয়, বা সাক্ষীকে ডাকার জন্য সময় ও খরচ অধিক হয়, তাহলে আদালত সেই বইটির উত্থাপন করার মাধ্যমে সেই মতামত প্রমাণ করতে পারে।
এছাড়া, যদি মৌখিক সাক্ষ্য কোনো পদার্থের অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কে হয়, যা একটি দলিল ছাড়া অন্য কোনো বস্তু, তবে আদালত, যদি তা প্রযোজ্য মনে করে, তখন সেই বস্তুটির পরিদর্শনের জন্য উত্থাপন করতে পারে।
-------------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section-60: Oral evidence must be direct:
- Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say-
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it;
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
if it refers to a fact which could be perceived by any other sense or in any other manner, it must be the evidence of a witness who says he perceived it by that sense or in that manner;
if it refers to an opinion or to the grounds on which that opinion is held, it must be the evidence of the person who holds that opinion on those grounds:
Provided that the opinions of experts expressed in any treatise commonly offered for sale, and the grounds on which such opinions are held, may be proved by the production of such treatises if the author is dead or cannot be found, or has become incapable of giving evidence, or cannot be called as a witness without an amount of delay or expense which the Court regards as unreasonable:
Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection.
১৯.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় সরকারি দলিলের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ৭২ ধারা
  2. ৭৪ ধারা
  3. ৭৬ ধারা
  4. ৭৮ ধারা
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৭৪ ধারায় সরকারি দলিল (Public Document) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যে সমস্ত দলিল সরকারিভাবে রক্ষিত থাকে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত হয়, সেগুলো সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
৭৪ ধারার মূল বক্তব্য:
- সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইব্যুনালের নথিপত্র।
- দেশি-বিদেশি আইন, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলির লিখিত বিবরণ।
- সরকারিভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২: ৭৪ ধারার বিধান সরকারি দলিল:
নিম্নলিখিত দলিলসমূহ সরকারি দলিল (Public Documents) হিসেবে গণ্য হবে—
(১) যে সকল দলিল নিম্নলিখিত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কার্যাবলির অংশ বা রেকর্ড হিসেবে গঠিত:
(i) সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(ii) সরকারি সংস্থা ও ট্রাইব্যুনালের, এবং
(iii) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশের কোনো অংশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় সরকারি কর্মকর্তার।
(২) বাংলাদেশে সরকারিভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ রেকর্ড।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section- 74. Public documents:
The following documents are public documents:– 
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
(i) of the sovereign authority, 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.
২০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৭ অনুযায়ী, জেরা (Cross-examination) কী?
  1. সাক্ষী কর্তৃক নিজেকে প্রশ্ন করা
  2. আদালত কর্তৃক সাক্ষীকে প্রশ্ন করা
  3. বিরুদ্ধ পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে প্রশ্ন করা
  4. সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে প্রশ্ন করা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) বিরুদ্ধ পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে প্রশ্ন করা।

→ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৭ অনুযায়ী, জেরা (Cross-examination) হলো সেই প্রক্রিয়া, যেখানে বিরোধী পক্ষ (যে পক্ষ মামলায় সাক্ষীর বক্তব্যের বিরোধিতা করছে) সাক্ষীকে প্রশ্ন করে। এটি মূলত সাক্ষীর বক্তব্যের সঠিকতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়। জেরার মাধ্যমে বিরোধী পক্ষ সাক্ষীর দৃষ্টিভঙ্গির অসঙ্গতি বা ভুল ধরতে পারে, যাতে আদালত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের আগে তা মূল্যায়ন করতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]: যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।
- জেরা [Cross Examination]: বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।
- পুনঃজবানবন্দি [Re-examination]: জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুনঃজবানবন্দি (Re- examination) বলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারার বিধান: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুনঃজবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 137:
- Examination-in-chief: The examination of a witness by the party who calls him shall be called his examination-in-chief.
- Cross-examination: The examination of a witness by the adverse party shall be called his cross-examination.
- Re-examination: The examination of a witness, subsequent to the cross-examination by the party who called him, shall be called his re-examination.

⇒ The Evidence Act, 1872 section 138. Order of examinations:
Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined.
The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.
২১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী, কোন ধরনের স্বীকারোক্তি অগ্রহণযোগ্য?
  1. পুলিশের কাছে করা স্বীকারোক্তি
  2. স্বেচ্ছামূলক স্বীকারোক্তি
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে করা স্বীকারোক্তি
  4. ভীতি, প্রলোভন বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আদায়কৃত স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী, যে স্বীকারোক্তি ভীতি, প্রলোভন, বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা আদায় করা হয়, সেটি আদালতে অগ্রহণযোগ্য হবে। যদি স্বীকারোক্তি এমনভাবে আদায় করা হয় যা আসামীর উপর অবৈধ চাপ সৃষ্টি করে, যেমন ভয় দেখানো বা মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া, তবে তা আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারায় দেয়া আছে:
"দোষ স্বীকারোক্তি তখনই গ্রহণযোগ্য হইবে না যখন এইরূপ প্রতীয়মান হইবে যে, ইহা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলক আশ্বাস প্রদান করিয়া আদায় করা হইয়াছে।"
অর্থাৎ, যদি দোষ স্বীকার করানোর জন্য কোনো ভীতি দেখানো হয়, বা মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
অন্যদিকে,
যদি দোষ স্বীকার স্বেচ্ছামূলক এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হয় বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট হয়, তাহলে সেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে। তবে প্রমাণিত হলে যে স্বীকারোক্তি ভীতি বা প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে, তখন তা অগ্রহণযোগ্য হবে।

সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা - প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা সৃষ্ট স্বীকারোক্তি, যখন ফৌজদারি কার্যবিধিতে অপ্রাসঙ্গিক:
যদি কোনো আসামী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত কোনো প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং আদালত মনে করেন যে, এই স্বীকারোক্তি কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসামীকে লাভ বা ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানোর জন্য প্রদান করা হয়েছে, তবে সেই স্বীকারোক্তি ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রাসঙ্গিক হবে না।
--------------------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 24. Confession caused by inducement, threat or promise, when irrelevant in criminal proceeding:
A confession made by an accused person is irrelevant in a criminal proceeding, if the making of the confession appears to the Court to have been caused by any inducement, threat or promise having reference to the charge against the accused person, proceeding from a person in authority and sufficient, in the opinion of the Court, to give the accused person grounds which would appear to him reasonable for supposing that by making it he would gain any advantage or avoid any evil of a temporal nature in reference to the proceedings against him.
২২.
নিম্নের কোনটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(৫)-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক?
  1. অপরাধের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য
  2. ব্যবসায়িক নথিপত্রে লেখা তথ্য
  3. পারিবারিক সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি
  4. আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যক্তির মৌখিক স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(৫) অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি মৃত হন বা সাক্ষ্য প্রদান করতে সক্ষম না হন, তখন তার করা কোনো বিবৃতি পারিবারিক সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত হলে তা প্রাসঙ্গিক এবং আদালতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এই ধরনের বিবৃতি সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সম্পর্ক বা তাদের পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হয়।

ধারা ৩২(৫) বিশেষত পারিবারিক সম্পর্কের অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিবৃতি (যেমন: মাতৃত্ব, পিতৃত্ব, ভাইবোনের সম্পর্ক) কে প্রাসঙ্গিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যেমন: কোনো ব্যক্তি তার পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে কোনো বিষয়ের ব্যাপারে লিখিত বা মৌখিক বিবৃতি দিয়ে থাকলে, এবং যদি সে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করতে সক্ষম না হয় (যেমন: মৃত্যুর কারণে), তবে তার পূর্বের বিবৃতিটি আদালতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

অন্য অপশনগুলির ব্যাখ্যা:
ক) অপরাধের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য: অপরাধের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য সরাসরি ঘটনাটি দেখার মাধ্যমে প্রাপ্ত সাক্ষ্য হয়, যা ধারা ৩২-এর আওতায় নয়।
খ) ব্যবসায়িক নথিপত্রে লেখা তথ্য: এটি ধারা ৩২(২) অনুযায়ী ব্যবসায়িক বিবৃতি হিসেবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, তবে এটি ৩২(৫)-এর আওতায় আসে না।
ঘ) আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যক্তির মৌখিক স্বীকারোক্তি: মৌখিক স্বীকারোক্তি সাধারণত ধারা ৩২(৩) বা ধারা ৩২(৪) অনুসারে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, তবে এটি ৩২(৫)-এর আওতায় নয়।
-----------
The Evidence Act, 1872: Section-32(5) or relates to existence of relationship;
 When the statement relates to the existence of any relationship by blood, marriage or adoption between person as to whose relationship by blood, marriage or adoption the person making the statement had special means of knowledge, and when the statement was made before the question in dispute was raised.
২৩.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১০৫ অনুযায়ী, যদি আসামি দাবি করে যে তার মামলাটি দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতাভুক্ত, তাহলে প্রমাণের দায়িত্ব কার উপর বর্তায়?
  1. পুলিশ
  2. আদালত
  3. বাদীপক্ষ
  4. আসামিপক্ষ
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী, যদি আসামি দাবি করে যে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতাভুক্ত, তাহলে প্রমাণের দায়িত্ব আসামিপক্ষের উপর বর্তায়।

⇒ আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, আদালত ধরে নেবে যে কোনো ব্যতিক্রম প্রযোজ্য নয়, যতক্ষণ না আসামি সেই ব্যতিক্রম প্রমাণ করতে পারে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপক্ষ (Prosecution) কেবল অপরাধ প্রমাণের দায়িত্ব পালন করবে, কিন্তু যদি আসামি কোনো আইনি ব্যতিক্রম দাবি করে, তাহলে সেই ব্যতিক্রম প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব তার নিজেরই থাকবে।

উদাহরণ:
১. আত্মরক্ষা (Right of Private Defence):
যদি কোনো আসামি দাবি করে যে সে আত্মরক্ষার জন্য কাউকে আঘাত করেছে, তাহলে শুধু দাবি করলেই হবে না। সে নিজেই প্রমাণ দিতে হবে যে সে বাস্তবে আত্মরক্ষার জন্যই কাজ করেছে।
মানসিক ভারসাম্যহীনতা (Insanity):
যদি কোনো আসামি দাবি করে যে সে অপরাধ সংঘটনের সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল (IPC ৮৪), তাহলে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে সে সত্যিই মানসিকভাবে সুস্থ ছিল না এবং সে অপরাধ করার সময় নিজের কাজ সম্পর্কে সচেতন ছিল না।

মূলনীতি:
- রাষ্ট্রপক্ষ (Prosecution) অপরাধ প্রমাণ করবে।
- কিন্তু আসামি যদি কোনো ব্যতিক্রম দাবি করে, তবে সেটি প্রমাণের দায়িত্ব তার নিজের উপর বর্তাবে।
- আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যতিক্রম মেনে নেবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২: ধারা ১০৫ - আসামির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রমাণের দায়িত্ব:
যখন কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হন, তখন দণ্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমগুলোর আওতায় তার মামলা আসে কিনা, অথবা একই বিধির অন্য কোনো বিশেষ ব্যতিক্রম বা শর্তাধীন বিধান তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা, তা প্রমাণ করার দায়িত্ব আসামির উপর বর্তায়।
এছাড়াও, আদালত ধরে নেবে যে এমন কোনো ব্যতিক্রম প্রযোজ্য নয়, যদি না আসামি নিজে তার উপস্থিতি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section 105- Burden of proving that case of accused comes within exceptions:
When a person is accused of any offence, the burden of proving the existence of circumstances bringing the case within any of the General Exceptions in the Penal Code, or within any special exception or proviso contained in any other part of the same Code, or in any law defining the offence, is upon him, and the Court shall presume the absence of such circumstances.
২৪.
Res Gestae সাক্ষ্য কীভাবে প্রমাণিত হয়?
  1. স্বাক্ষরের মাধ্যমে
  2. সাক্ষী দ্বারা কথা বলার মাধ্যমে
  3. আক্রমণকারী ব্যক্তির বক্তব্য দিয়ে
  4. ঘটনার সময় বা পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য বা আচরণে
ব্যাখ্যা
⇒ Res Gestae বা 'একই কার্যের অংশ'- Res Gestae (রেস গেস্টাই) অর্থ হলো একই কাজের অংশ বিশেষ বা একই Transaction এ সংগঠিত অনেকগুলো ঘটনা।
- অর্থাৎ কোন একটি কাজ করতে গিয়ে উক্ত কাজের ধারাবাহিকতায় অন্য যে-সব কাজ করা হয় বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা তা ঐ একই কাজের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে Res Gestae বলে পরিচিত।
- সাক্ষ্য আইনের ৬ থেকে ৯ এবং ১৪ ধারায় Res Gestae (রেস গেস্টাই) নীতির বিধান রয়েছে।
- Res Gestae হলো এমন এক প্রকার সাক্ষ্য যা কোনো ঘটনার সঙ্গে এত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত থাকে যে, তার প্রকৃতি ও কারণ বুঝতে সাহায্য করে। এই ধরনের সাক্ষ্য মূলত সেই ঘটনা বা আচরণের অংশ হয় যা ঘটনার সময় বা ঘটনার খুব শিগগির পরে স্বাভাবিকভাবে ঘটে।
- Res Gestae সাক্ষ্য প্রমাণিত হয় ঘটনার সময় বা পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য বা আচরণ দ্বারা, যার মাধ্যমে আদালত ঘটনাটির প্রকৃতি এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিকতা বোঝে।
২৫.
সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের উদাহরণ হিসেবে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. মৌখিক বিবরণ
  2. মূল দলিলের অনুলিপি
  3. মূল দলিলের ফটোগ্রাফ
  4. মূল দলিলের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায়, মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে মৌখিক বিবরণ, মূল দলিলের অনুলিপি, এবং মূল দলিলের ফটোগ্রাফ অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে মূল দলিলের উপস্থিতি কখনোই মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে না।
মাধ্যমিক সাক্ষ্য এমন সাক্ষ্য যা মূল দলিল বা মূল প্রমাণের অনুলিপি বা বিকল্প উপায়ে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু, মূল দলিলের উপস্থিতি তখনই প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় যখন সেটা মূল দলিল হিসাবে আদালতে সরাসরি উপস্থাপন করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মূল দলিল আদালতে হাজির না করে মূল দলিলের প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করাকে মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা Secondary Evidence বলে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারার বিধান মাধ্যমিক সাক্ষ্য- মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তাহার অন্তর্ভুক্ত হয়:
(১) বর্ণিত বিধানবলি অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল;
(২) মূল দলিল হইতে এরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্ৰস্তুত নকল, যাহাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এরূপ নকলের সহিত মিলাইয়া লওয়া অন্য নকল;
(৩) মূল দলিল হইতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সহিত মিলাইয়া লওয়া নকল;
(৪) কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তাহার বিরুদ্ধে উহা ব্যবহারের ক্ষেত্রে;
(৫) যে ব্যক্তি নিজের কোন দলিল দেখিয়াছে, তাহার দেওয়া উক্ত দলিলের বিষয় বস্তু সম্পর্কে মৌক্ষিক বিবরণ।

উদাহরণ:
(ক) একটি মূল দলিলের সহিত উহার ফটোগ্রাফ মিলাইয়া দেখা না হইয়া থাকলেও যদি প্রমাণ করা হয় যে, ফটোগ্রাফটি যে দলিলের ফটোগ্রাফ, তাহাই মূল দলিল; তবে উক্ত ফটোগ্রাফ উক্ত মূল দলিলের মাধ্যমিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
---------
The Evidence Act, 1872: Section- 63. Secondary evidence:
Secondary evidence means and includes-
(1) certified copies given under the provisions hereinafter contained;
(2) copies made from the original by mechanical processes which in themselves insure the accuracy of the copy, and copies compared with such copies;
(3) copies made from or compared with the original;
(4) counterparts of documents as against the parties who did not execute them;
(5) oral accounts of the contents of a document given by some person who has himself seen it.

Illustrations:
(a) A photograph of an original is secondary evidence of its contents, though the two have not been compared, if it is proved that the thing photographed was the original.
২৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮ অনুযায়ী, কোন বিষয়ে অভিমত প্রাসঙ্গিক?
  1. আত্মীয়তার সম্পর্ক
  2. অপরাধের প্রমাণ
  3. আদালতের সিদ্ধান্ত
  4. সাধারণ প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৪৮ ধারার বিধান অনুযায়ী, যখন আদালত সাধারণ প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব নির্ধারণ করতে চায়, তখন যেসব ব্যক্তির পক্ষে এই প্রথা বা অধিকার সম্পর্কে জানা স্বাভাবিক, তাদের অভিমত প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়।
এই ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, "সাধারণ প্রথা বা অধিকার" বলতে এমন প্রথা বা অধিকার বোঝানো হয়েছে যা যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর মধ্যে প্রচলিত।
→ অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮ অনুযায়ী, সাধারণ প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের অভিমত আদালতের কাছে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৮ ধারার বিধান- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।ঃ
ব্যাখ্যা: "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।
উদাহরণ:
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।
----------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 48- Opinion as to existence of right or custom, when relevant:
When the Court has to form an opinion as to the existence of any general custom or right, the opinions, as to the existence of such custom or right, of persons who would be likely to know of its existence if it existed, are relevant.
Explanation- The expression "general custom or right" includes customs or rights common to any considerable class of persons.
Illustration:
The right of the villagers of a particular village to use the water of a particular well is a general right within the meaning of this section.
২৭.
"ফ্যাক্ট প্রমাণিত" (Fact Proved) হওয়ার অর্থ কী?
  1. আদালত বিশ্বাস করে যে এটি সত্য
  2. আদালত মনে করে এটি সত্য হওয়া সম্ভব
  3. কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তি এটিকে সত্য বলে মেনে নিতে পারে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
→ সাক্ষ্য আইন অনুসারে, "ফ্যাক্ট প্রমাণিত" (Fact Proved) হওয়ার মানে হলো, আদালত যখন যেসব প্রমাণ এবং তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলি পর্যালোচনা করে বিশ্বাস করে যে, ঐ ঘটনা বা বিষয়টি সত্য। এই প্রক্রিয়ায় আদালত মনে করতে পারে যে এটি সত্য হওয়া সম্ভব এবং একটি যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তি বিশেষ পরিস্থিতিতে তা সত্য বলে মেনে নিতে পারে।
তাহলে, এই তিনটি বিষয়ই ফ্যাক্ট প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
১) আদালত বিশ্বাস করে যে এটি সত্য।
২) এটি সত্য হওয়ার সম্ভাবনা আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য।
৩) একটি যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তি এটি সত্য বলে মেনে নিতে পারে।

→ একটি ঘটনা প্রমাণিত বলা হয় যখন, তা নিয়ে যেসব বিষয় আদালতের সামনে উপস্থাপিত হয়, সেগুলি পর্যালোচনা করার পর আদালত বিশ্বাস করে যে তা অস্তিত্বে রয়েছে, অথবা তার অস্তিত্ব এতটা সম্ভাব্য মনে হয় যে, একটি সুবিবেচক ব্যক্তি বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি অস্তিত্বে রয়েছে বলে ধারণা করে তার উপর ভিত্তি করে কাজ করবে।
-------
→ A fact is said to be proved when, after considering the matters before it, the Court either believes it to exist, or considers its existence so probable that a prudent man ought, under the circumstances of the particular case, to act upon the supposition that it exists.
২৮.
সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারা অনুযায়ী মৌখিক সাক্ষ্য কীভাবে গ্রহণযোগ্য?
  1. যেকোনো সাক্ষী দ্বারা
  2. প্রত্যক্ষ সাক্ষী দ্বারা
  3. সাক্ষ্যকে পর্যালোচনা করে
  4. আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সাক্ষী দ্বারা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) প্রত্যক্ষ সাক্ষী দ্বারা।
- সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারা অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য শুধুমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষীর দ্বারা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, অর্থাৎ যা সে নিজে দেখেছে বা শোনেছে বা কোনো বিশেষ পদ্ধতিতে অনুভব করেছে। অন্যের কাছ থেকে শোনা সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬০ অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে। অর্থাৎ,
যদি এটি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে হয় যা দেখা যেতে পারে, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি বলবে সে এটি দেখেছে;
যদি এটি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে হয় যা শোনা যেতে পারে, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি বলবে সে এটি শুনেছে;
যদি এটি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে হয় যা অন্য কোনো অনুভূতি বা পদ্ধতিতে অনুভব করা যেতে পারে, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি বলবে সে সেই অনুভূতির মাধ্যমে এটি অনুভব করেছে;
যদি এটি কোনো মতামত বা সেই মতামতের ভিত্তি সম্পর্কে হয়, তবে সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে যে ব্যক্তি ওই মতামতটি ধারণ করেছে এবং তার ভিত্তি জানে।
এছাড়া, বিশেষজ্ঞদের মতামত যে কোনো বইয়ে প্রকাশিত থাকে, সেটি যদি সাধারণভাবে বিক্রয়ের জন্য পাওয়া যায় এবং সেই লেখক মৃত অথবা পাওয়া না যায়, অথবা সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হয়, বা সাক্ষীকে ডাকার জন্য সময় ও খরচ অধিক হয়, তাহলে আদালত সেই বইটির উত্থাপন করার মাধ্যমে সেই মতামত প্রমাণ করতে পারে।

এছাড়া, যদি মৌখিক সাক্ষ্য কোনো পদার্থের অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কে হয়, যা একটি দলিল ছাড়া অন্য কোনো বস্তু, তবে আদালত, যদি তা প্রযোজ্য মনে করে, তখন সেই বস্তুটির পরিদর্শনের জন্য উত্থাপন করতে পারে।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section-60: Oral evidence must be direct:
- Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say-
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it;
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
if it refers to a fact which could be perceived by any other sense or in any other manner, it must be the evidence of a witness who says he perceived it by that sense or in that manner;
if it refers to an opinion or to the grounds on which that opinion is held, it must be the evidence of the person who holds that opinion on those grounds:
Provided that the opinions of experts expressed in any treatise commonly offered for sale, and the grounds on which such opinions are held, may be proved by the production of such treatises if the author is dead or cannot be found, or has become incapable of giving evidence, or cannot be called as a witness without an amount of delay or expense which the Court regards as unreasonable:
Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection.
২৯.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী, কোনটি দলিল হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. লিখিত কোন বিষয়
  2. কোন মানচিত্র বা নকশা
  3. মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফকৃত বিষয়
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৩ অনুযায়ী, লিখিত কোন বিষয়, কোন মানচিত্র বা নকশা, এবং মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফকৃত বিষয় সবগুলোই দলিল হিসেবে গণ্য হবে। এ কারণে, "কোনটি নয়" সঠিক উত্তর কারণ উপরের সমস্ত উদাহরণই দলিল হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী-
- যে কোন লিখনই দলিল বলে গণ্য হয়;
- মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফকৃত যে কোন কথাও দলিল বলে গণ্য হবে (Words printed, lithographed or photographed are documents);
- কোন মানচিত্র বা নকশা, কোন ধাতু খন্ড বা প্রস্তর খন্ডের উপর খোদাইকৃত কোন বিষয় অথবা কোন ব্যঙ্গচিত্র (caricature) দলিল বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ অপশনে উল্লিখিত সবগুলো দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ The Evidence Act,1872 এর ধারা ৩ মতে-
'দলিল বা Document' বলতে কোন পদার্থের উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নের (letters, figures or marks) সাহায্যে প্রকাশিত বা বর্ণিত কোন বিষয়কে বোঝায়।
"Document" means any matter expressed or described upon any substance by means of letters, figures or marks, or by more than one of those means, intended to be used, or which may be used, for the purpose of recording that matter.
৩০.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় "স্বীকারোক্তি" (Admission) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ১৭ ধারায়
  2. ১৯ ধারায়
  3. ২১ ধারায়
  4. ২৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায় "স্বীকারোক্তি" (Admission) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এটি একটি মৌখিক বা দলিলমূলক (লিখিত) বক্তব্য যা কোনো বিষয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে এবং যা উক্ত বিষয়ে বা ঘটনার সম্পর্কিত সত্যতা বা উপসংহার প্রমাণে সহায়ক হতে পারে।

→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২: ধারার বিধান ১৭- স্বীকারোক্তি সংজ্ঞায়িত:
একটি স্বীকারোক্তি হল একটি বক্তব্য, মৌখিক বা দলিলমূলক বা ডিজিটাল রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত, যা কোনো বিষয় বা প্রাসঙ্গিক তথ্য সম্পর্কে কোনো উপসংহার বা ধারণা প্রদান করে, এবং যা যে কোনো ব্যক্তির দ্বারা এবং নিম্নোক্ত বর্ণিত পরিস্থিতিতে করা হয়।
------------ 
→The Evidence Act, 1872: Section- 17. Admission defined
An admission is a statement, oral or documentary or contained in the digital record, which suggests any inference as to any fact in issue or relevant fact, and which is made by any of the persons, and under the circumstances, hereinafter mentioned.
৩১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন কাকে সরবরাহ করা আবশ্যক?
  1. শুধুমাত্র বাদীপক্ষকে
  2. শুধুমাত্র পুলিশকে
  3. শুধুমাত্র বিবাদীপক্ষকে
  4. মামলার সকল পক্ষকে
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন (Expert's Report) মামলার সকল পক্ষকে সরবরাহ করা আবশ্যক। এই ধারার উদ্দেশ্য হলো মামলার সকল পক্ষকে বিশেষজ্ঞের মতামত ও প্রতিবেদন সম্পর্কে জানানো, যাতে তারা প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আদালতের কাছে প্রশ্ন বা আপত্তি উত্থাপন করতে পারে।

- বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে জমা দেওয়ার পাশাপাশি মামলার সকল পক্ষকে সরবরাহ করা আবশ্যক।
- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো মামলার সকল পক্ষকে বিশেষজ্ঞের মতামত ও প্রতিবেদন সম্পর্কে জানানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
- বিশেষজ্ঞের মূল দায়িত্ব হলো আদালতকে সাহায্য করা, এবং তার প্রতিবেদন নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ হতে হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
---------------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.-
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
৩২.
সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারার প্রেক্ষিতে, উইল ব্যতীত কোন ধরনের দলিলের ক্ষেত্রে সত্যায়নকারী সাক্ষী তলব করা প্রয়োজন নয়?
  1. মৌখিক দলিল
  2. রেজিস্ট্রি করা দলিল
  3. হস্তাক্ষরহীন দলিল
  4. দলিলটি স্বাক্ষরিত না হলে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, উইল ব্যতীত কোনো রেজিস্ট্রি করা দলিলের ক্ষেত্রে যদি তার সম্পাদনকারী তার সম্পাদন অস্বীকার না করেন, তবে সত্যায়নকারী সাক্ষীকে তলব করা প্রয়োজন হয় না। এই শর্তে, রেজিস্ট্রি করা দলিলগুলোকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সত্যায়নকারী সাক্ষীকে হাজির করতে হবে না যদি না তার সম্পাদন অস্বীকার করা হয়।

যদি কোনো দলিল আইন অনুসারে সাক্ষী দ্বারা সাক্ষ্যদানের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই দলিল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার আগে কমপক্ষে একজন সাক্ষীকে ডাকতে হবে (যদি সেই সাক্ষী জীবিত, আদালতের আওতায় এবং সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হন)। তবে, যদি দলিলটি উইল না হয় এবং রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী নিবন্ধিত হয়, তাহলে সাক্ষী ডাকার প্রয়োজন নেই, যতক্ষণ না দলিলটি যে ব্যক্তির দ্বারা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়, সেই ব্যক্তি বিশেষভাবে এটি অস্বীকার করে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারার বিধান দলিলের সত্যায়নের প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান:
যদি কোনো দলিল আইন অনুযায়ী সত্যায়িত হওয়া আবশ্যক হয়, তবে এটি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে না যতক্ষণ না অন্তত একজন সত্যায়নকারী সাক্ষীকে উপস্থিত করা হয়, যে সাক্ষী জীবিত, আদালতের প্রক্রিয়ার অধীন এবং সাক্ষ্য দিতে সক্ষম:
এবং proviso অনুযায়ী:
যদি দলিলটি উইল না হয় এবং এটি রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকে, তবে সেই দলিলের সত্যায়ন প্রমাণের জন্য সত্যায়নকারী সাক্ষীকে তলব করার প্রয়োজন নেই, যদি না তার সম্পাদনকারী ব্যক্তি তার সম্পাদন অস্বীকার করেন।
------------ 
- The Evidence Act, 1872: Section- 68. Proof of execution of document required by law to be attested:
If a document is required by law to be attested, it shall not be used as evidence until one attesting witness at least has been called for the purpose of proving its execution, if there be an attesting witness alive, and subject to the process of the Court and capable of giving evidence: 
 
Provided that it shall not be necessary to call an attesting witness in proof of the execution of any document, not being a will, which has been registered in accordance with the provisions of the Registration Act, 1908, unless its execution by the person by whom it purports to have been executed is specifically denied.

৩৩.
বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) কাকে বলে?
  1. যে সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয় না।
  2. যে সাক্ষী কোনো পক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
  3. যে সাক্ষী তার জবানবন্দিতে নিজের পক্ষের সমর্থনে কথা বলে।
  4. যে সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে বা বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়।
ব্যাখ্যা

→ সঠিক উত্তর: ঘ) যে সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে বা বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়।
বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) হলো সেই সাক্ষী যাকে কোনো পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করে, কিন্তু সে যদি নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে যদি সাক্ষী বৈরী হয়ে যায়। সাধারণত, জেরা করার অধিকার প্রতিপক্ষের থাকে, তবে যদি আদালত মনে করে যে একজন সাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষও তাকে জেরা করতে পারে।

 কখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়?
১) যখন সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।
২) যখন সাক্ষী প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে।
৩) যখন সাক্ষী তার আগের দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে আসে বা বিপরীত কথা বলে।

উদাহরণ:
- একজন সাক্ষী যদি পুলিশের সামনে একরকম বক্তব্য দেয়, কিন্তু আদালতে এসে তার বিপরীত কথা বলে, তাহলে সে বৈরী সাক্ষী বলে গণ্য হতে পারে।

⇒ অর্থাৎ যদি একজন সাক্ষী তার পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলে অথবা প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী বলা হয় এবং সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে জেরা করতে পারে।
- এটি আদালতের বিবেচনার বিষয় যে সাক্ষী সত্যিই বৈরী কি না।

৩৪.
সাক্ষ্য আইনের অধীনে "ডিজিটাল রেকর্ড" এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ড্রোন ডাটা
  2. সিসিটিভি রেকর্ড
  3. মৌখিক বক্তব্য
  4. মোবাইল ফোনের তথ্য
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের অধীনে "ডিজিটাল রেকর্ড" বলতে এমন কোনো রেকর্ড বোঝানো হয় যা ম্যাগনেটিক, ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমোরি, মাইক্রোফিল্ম, ইত্যাদি মাধ্যমে তৈরি বা সংরক্ষিত হয়। এর মধ্যে ড্রোন ডাটা, সিসিটিভি রেকর্ড, এবং মোবাইল ফোনের তথ্য ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় কারণ এগুলি ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরি এবং সংরক্ষিত।

তবে, মৌখিক বক্তব্য ডিজিটাল রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি কোনো ডিজিটাল বা প্রযুক্তিগত মাধ্যমের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয় না। মৌখিক বক্তব্য সাধারণত মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয় এবং তা ওরাল সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়।
- অতএব, সঠিক উত্তর "গ) মৌখিক বক্তব্য"।

“ডিজিটাল রেকর্ড" বা “ইলেকট্রনিক রেকর্ড” মানে হল যেকোনো রেকর্ড, ডেটা বা তথ্য যা ম্যাগনেটিক বা ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমরি, মাইক্রোফিল্ম, কম্পিউটার দ্বারা তৈরি মাইক্রোফিচে, অডিও, ভিডিও, ডিজিটাল ভার্সেটাইল ডিস্ক (DVD), সিসিটিভি রেকর্ড, ড্রোন ডেটা, সেলফোনের রেকর্ড, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা যেকোনো অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস দ্বারা তৈরি, প্রস্তুত, প্রেরিত, প্রাপ্ত বা সংরক্ষিত যা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, ২০১৮ (আইন নং ৪৬, ২০১৮) এ সংজ্ঞায়িত হয়েছে।
-----
“Digital record" or “electronic record” means any record, data or information generated, prepared, sent, received or stored in magnetic or electro-magnetic, optical, computer memory, micro film, computer generated micro fiche including audio, video, Digital Versatile Disc or Digital Video Disc (DVD), records of Closed Circuit Television (CCTV), drone data, records from cell phone, hardware, software or any other digital device as defined in Digital Security Act, 2018 (Act No. 46 of 2018)
৩৫.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার অধীনে বিচার্য ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে?
  1. ৩ ধারার
  2. ৫ ধারার
  3. ৭ ধারার
  4. ৯ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারার বিধান বিচার্য ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে:
- কোন মামলায় বা কার্যক্রমে বিচার্য প্রত্যেক বিষয়ের এবং এই আইনের অতঃপর যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে তাহাদের অস্তিত্ব বা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে। ইহা ভিন্ন অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না।ঃ
- ব্যাখ্যা: দেওয়ানী কার্যবিধি সম্পর্কে বর্তমান প্রচলিত কোন আইন অনুসারে কোন ব্যক্তি যে বিষয় প্রমাণ করার অধিকার নহে, এই ধারা অনুসারে সেই ব্যক্তি সেই বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারে না।

⇒ বিচার্য বিষয় (Facts in Issue)- বিচার্য বিষয় হলো এমন কোন ঘটনা যাকে কোন মামলার মূল বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, যে বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আদালত তার সিদ্ধান্ত প্রদান করে তাকে বিচার্য বিষয় বলে। কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আইনগত কোন বিষয় মামলার এক পক্ষ স্বীকার করলে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করলে বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়। যে কোন মামলার প্রকৃত বিষয় ও সত্যতা উদঘাটনের বিচার্য বিষয়ের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

⇒ প্রাসঙ্গিক বিষয় (Relevant Facts)- যে ঘটনাটি অন্য কোন ঘটনার অস্তিত্ব ও অস্তিত্বহীনতা প্রমাণ করে, তাই প্রাসঙ্গিক ঘটনা বা Relevant Fact। কোন বিষয়কে প্রাসঙ্গিক হতে হলে উক্ত ঘটনাকে কোন না কোন দিক হতে বিচার্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। সাক্ষ্য আইনের ৫ থেকে ৫৫ ধারায় বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা (Relevance of Facts) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
--------------
⇒The Evidence Act,1872: Section 5. Evidence may be given of facts in issue and relevant facts:
Evidence may be given in any suit or proceeding of the existence or non-existence of every fact in issue and of such other fact as are hereinafter declared to be relevant, and of no others.
Explanation.-This section shall not enable any person to give evidence of a fact which he is disentitled to prove by any provision of the law for the time being in force relating to Civil Procedure.
৩৬.
সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা অনুযায়ী, সরকারি দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য কী উপস্থাপন করা যেতে পারে?
  1. স্বাক্ষরিত আবেদন
  2. মূল দলিলের অনুলিপি
  3. প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি
  4. কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা অনুযায়ী, সরকারি দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য তার প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি (Certified Copy) আদালতে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা অনুযায়ী, সরকারি দলিল বা এর কোনো অংশের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দলিলের প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করা যেতে পারে। এই অনুলিপিগুলোই প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হতে পারে যদি তা সংশ্লিষ্ট দলিলের যথাযথ প্রত্যয়ন করে।

- সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা: "অনুরূপ জাবেদা নকল সরকারি যে দলিলের নকল বা যে দলিলের অংশ বিশেষের নকল বলে বুঝতে দেয়া হয়, সে দলিলের বা তার অংশ বিশেষের বিষয়বস্তুর প্রমাণ স্বরূপ তা উপস্থাপন করা যেতে পারে।"

প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি কী?
→ এটি হলো সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সত্যায়িত অনুলিপি, যা মূল দলিলের সত্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে।

উদাহরণ:
যদি কোনো ব্যক্তি জমির খতিয়ানের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে চায়, তবে তিনি সেটির প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি জমা দিতে পারবেন, যা রাজস্ব দপ্তর থেকে সত্যায়িত হবে।

সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা সহজ ভাষায়:
"সরকারি দলিলের কোনো অনুলিপি যদি সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত হয়, তাহলে সেটি আদালতে মূল দলিলের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।"
------------------
⇒ The Evidence Act,1872: section- 77.Proof of documents by production of certified copies:
- Such certified copies may be produced in proof of the contents of the public documents or parts of the public documents of which they purport to be copies.
৩৭.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে আদালতে উপস্থিতি ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তির মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
  1. ব্যক্তি মৃত হলে
  2. ব্যক্তি নিখোঁজ হলে
  3. ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে অক্ষম হলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী- কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হয়।

- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২ অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি আদালতে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদিও সেই ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত নেই। এই পরিস্থিতিগুলো হলো—
→ ব্যক্তি মৃত হলে – যদি কোনো ব্যক্তি মারা যান, তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বা মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিবৃতি আদালতে "মৃত্যুকালীন ঘোষণা" (Dying Declaration) হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
→ ধারা ৩২-এর প্রাথমিক শর্ত মতে ব্যক্তি নিখোঁজ হলে – যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া না যায় বা তার অবস্থান অনির্ধারিত থাকে, তবে তার পূর্বে করা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
→ ধারা ৩২-এর শর্ত মতে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে অক্ষম হলে – যদি কেউ শারীরিক বা মানসিক কারণে সাক্ষ্য দিতে অপারগ হন, যেমন— পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা কোমায় থাকেন, তাহলে তার পূর্বে করা লিখিত বা মৌখিক বিবৃতি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। 

অর্থাৎ উপরোক্ত তিনটি শর্তের যে কোনো একটির উপস্থিতিতে আদালত ব্যক্তির মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি গ্রহণ করতে পারে। তাই, "উপরের সবগুলো" (ঘ) সঠিক উত্তর।
৩৮.
কোনটি সরকারি দলিলের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সরকারি নথি
  2. বিক্রয় চুক্তি
  3. আদালতের রায়
  4. সংসদের আইন
ব্যাখ্যা
⇒ সরকারি দলিল (Public Document) হলো সেই সকল দলিল যা সরকারি সংস্থা, বিচার বিভাগীয় সংস্থা, ট্রাইব্যুনাল, অথবা সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক তৈরি ও সংরক্ষিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি নথি, আদালতের রায়, সংসদের আইন ইত্যাদি।
→ বিক্রয় চুক্তি একটি বেসরকারি দলিল (Private Document), কারণ এটি সাধারণত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে লেনদেনের দলিল, যা সরকারের দ্বারা সংরক্ষিত বা প্রণীত হয় না।

অন্য অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
(ক) সরকারি নথি:
- সরকারি সংস্থা বা অফিসের তৈরি করা নথি সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
(গ) আদালতের রায়:
- আদালতের রায় সরকারি দলিল, কারণ এটি আদালতের কার্যক্রমের অংশ।
(ঘ) সংসদের আইন:
- সংসদের আইনও একটি সরকারি দলিল, কারণ এটি দেশের আইন প্রণয়নকারী সংস্থার কার্যক্রমের অংশ।

→ অর্থাৎ বিক্রয় চুক্তি সরকারি দলিলের অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি একটি ব্যক্তিগত দলিল।
তাই সঠিক উত্তর: (খ) বিক্রয় চুক্তি।
৩৯.
সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারা অনুযায়ী, সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার জন্য কোন ধরনের প্রমাণ ব্যবহৃত হতে পারে?
  1. সাক্ষীর পরিচয় প্রমাণ করা
  2. সাক্ষীর শারীরিক অবস্থা প্রমাণ করা
  3. সাক্ষীর আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য প্রদান
  4. সাক্ষীকে ঘুষ দেওয়া হয়েছে বা প্রলোভন দেয়া হয়েছে তা প্রমাণ করা
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) সাক্ষীকে ঘুষ দেওয়া হয়েছে বা প্রলোভন দেয়া হয়েছে তা প্রমাণ করা।

- সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারা অনুযায়ী, সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার জন্য তিনটি পদ্ধতি রয়েছে:
১) সাক্ষী যে বিশ্বাসযোগ্য নয়, তা প্রমাণ করার জন্য অন্য ব্যক্তিদের সাক্ষ্য ব্যবহার করা।
২) সাক্ষীকে ঘুষ দেওয়া হয়েছে বা সে কোনো দুর্নীতিমূলক প্রলোভন গ্রহণ করেছে, তা প্রমাণ করা।
৩) সাক্ষীর পূর্বের বক্তব্য এবং বর্তমান সাক্ষ্যের মধ্যে অমিল প্রমাণ করা।
- এই ধারায় (ঘ) সঠিক উত্তর কারণ এটি সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। যদি কোন সাক্ষীকে ঘুষ দেওয়া হয়েছে বা সে প্রলোভন গ্রহণ করেছে, তা প্রমাণ করা গেলে, তার সাক্ষ্য সন্দেহজনক হয়ে যাবে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারার সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্টের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ ধারায় নিম্নবর্ণিত ৩ টি উপায়ে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা যায়।
১. সাক্ষী বিশ্বাসের অযোগ্য মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করে
২. সাক্ষীকে ঘুষ প্রদান করা হয়েছে বা এরূপ দুর্নীতিমূলক প্রলোভনে সম্মত হয়েছেন মর্মে প্রমাণ করে।
৩. সাক্ষীর পূর্ববর্তী বক্তব্যের সাথে বর্তমান বক্তব্য অমিল তা প্রমাণ করে বিরুদ্ধ পক্ষ সরাসরি এরূপ প্রশ্ন করতে পারেন এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে সাক্ষী হাজিরকারী পক্ষ এরূপ প্রশ্ন করতে পারেন।
---------------
⇒ The Evidence Act, 1872 Section 155. Impeaching credit of witness
 The credit of a witness may be impeached in the following ways by the adverse party, or, with the consent of the Court, by the party who calls him:-
(1) by the evidence of persons who testify that they, from their knowledge of the witness, believe him to be unworthy of credit;
(2) by proof that the witness has been bribed, or has accepted the offer of a bribe, or has received any other corrupt inducement to give his evidence;
(3) by proof of former statements inconsistent with any part of his evidence which is liable to be contradicted;

⇒ Explanation.–A witness declaring another witness to be unworthy of credit may not, upon his examination-in-chief, give reasons for his belief, but he may be asked his reasons in cross-examination, and the answers which he gives cannot be contradicted, though, if they are false, he may afterwards be charged with giving false evidence.
৪০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৮ অনুযায়ী, পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) কে করতে পারে?
  1. আদালত
  2. সাক্ষী নিজে
  3. বিরুদ্ধ পক্ষ
  4. সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৮ অনুযায়ী, সাক্ষীর প্রথম জবানবন্দি (Examination-in-chief) এবং তারপর বিরোধী পক্ষের জেরা (Cross-examination) হওয়ার পর, যদি পক্ষদ্বয় চায়, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ (যে পক্ষ সাক্ষীকে উপস্থিত করেছে) পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) করতে পারে। পুনঃজবানবন্দির উদ্দেশ্য হল, জেরার সময় উত্থাপিত ভুল বা অস্পষ্টতা দূর করা, তবে এটি শুধুমাত্র জেরার বিষয় সম্পর্কিত হতে পারে এবং কোনো নতুন বিষয় উত্থাপন করা যাবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]: যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।
- জেরা [Cross Examination]: বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।
- পুনঃজবানবন্দি [Re-examination]: জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুনঃজবানবন্দি (Re- examination) বলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারার বিধান: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুনঃজবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872 section 137:
- Examination-in-chief: The examination of a witness by the party who calls him shall be called his examination-in-chief.
- Cross-examination: The examination of a witness by the adverse party shall be called his cross-examination.
- Re-examination: The examination of a witness, subsequent to the cross-examination by the party who called him, shall be called his re-examination.

⇒ The Evidence Act, 1872 section 138. Order of examinations:
Witnesses shall be first examined-in-chief, then (if the adverse party so desires) cross-examined, then (if the party calling him so desires) re-examined.
The examination and cross-examination must relate to relevant facts but the cross-examination need not be confined to the facts to which the witness testified on his examination-in-chief.
৪১.
নিম্নলিখিত কোনটি "ডকুমেন্ট" (Document) হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. একটি ফটোগ্রাফ
  2. একটি মানচিত্র
  3. মৌখিক বক্তব্য
  4. খোদাই করা ধাতব ফলক
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুসারে, "ডকুমেন্ট" বলতে এমন কোনো বিষয় বোঝানো হয় যা কোনো পদ বা চিহ্ন দ্বারা লেখা, অঙ্কিত বা বর্ণিত হয়ে থাকে, এবং তা রেকর্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এটি ফটোগ্রাফ, মানচিত্র, বা খোদাই করা ধাতব ফলক এর মতো বস্তু হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এগুলি তথ্য ধারণ করে এবং সেগুলি ডকুমেন্ট হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা যায়।
তবে, মৌখিক বক্তব্য একটি ডকুমেন্ট হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ এটি কোনো লিখিত বা চিহ্নিত রেকর্ড নয়, বরং মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়।

- অতএব, সঠিক উত্তর "গ) মৌখিক বক্তব্য"।

"ডকুমেন্ট" মানে হলো কোনো বিষয় যা যেকোনো পদ, চিহ্ন বা অঙ্ক দ্বারা বা এইগুলোর একাধিক মাধ্যমে কোনো পদার্থের ওপর প্রকাশিত বা বর্ণিত হয়, যেটি ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় বা যা ব্যবহৃত হতে পারে সেই বিষয়টি রেকর্ড করার জন্য। [এবং এতে যেকোনো ডিজিটাল রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত।]

উদাহরণসমূহ:
একটি লেখা একটি ডকুমেন্ট।
শব্দগুলি যা মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফ করা হয়েছে তা ডকুমেন্ট।
একটি মানচিত্র বা পরিকল্পনা একটি ডকুমেন্ট।
একটি ধাতব প্লেট বা পাথরের ওপর খোদাই করা লেখা একটি ডকুমেন্ট।
একটি ক্যারিকেচার একটি ডকুমেন্ট।
-----------
 "Document" means any matter expressed or described upon any substance by means of letters, figures or marks, or by more than one of those means, intended to be used, or which may be used, for the purpose of recording that matter and includes any digital record.

Illustrations

A writing is a document:
Words printed, lithographed or photographed are documents:
A map or plan is a document:
An inscription on a metal plate or stone is a document:
A caricature is a document.
৪২.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী সর্বোত্তম সাক্ষ্য কী?
  1. গৌণ সাক্ষ্য
  2. মাধ্যমিক সাক্ষ্য
  3. পরোক্ষ সাক্ষ্য
  4. প্রাথমিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী সর্বোত্তম সাক্ষ্য (Best Evidence) হলো প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)। কারণ, প্রাথমিক সাক্ষ্য মূল দলিল বা নথি যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং এতে তথ্য বিকৃতির সম্ভাবনা কম থাকে।
সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারায় প্রাথমিক সাক্ষ্যের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটি সেই দলিল বা নথি যা আদালতে সরাসরি উপস্থাপিত হয় এবং যা থেকে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক সাক্ষ্য যেহেতু মূল নথি বা প্রত্যক্ষ উপস্থাপিত প্রমাণ, তাই এটিকে সর্বোত্তম সাক্ষ্য বলা হয়।

অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
- (ক) গৌণ সাক্ষ্য: গৌণ সাক্ষ্য বলতে সাধারণত পরোক্ষ সাক্ষ্য বা মাধ্যমিক সাক্ষ্য বোঝায়, যা কোনো ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়, বরং অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া তথ্য। এটি আদালতে গৃহীত হতে পারে, তবে প্রাথমিক সাক্ষ্যের চেয়ে কম নির্ভরযোগ্য।
- (খ) মাধ্যমিক সাক্ষ্য: মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence) তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন প্রাথমিক সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মূল দলিলের অনুলিপি বা ফটোকপি মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে। যেহেতু এটি সরাসরি আদালতে উপস্থাপিত মূল দলিল নয়, তাই এটি সর্বোত্তম সাক্ষ্য নয়।
- (গ) পরোক্ষ সাক্ষ্য: পরোক্ষ সাক্ষ্য (Circumstantial Evidence) হল এমন সাক্ষ্য যা কোনো ঘটনার সরাসরি প্রমাণ দেয় না, বরং ঘটনার পারিপার্শ্বিক প্রমাণ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এটি সরাসরি প্রমাণ নয়, তাই এটি সর্বোত্তম সাক্ষ্য নয়।

- যেহেতু প্রাথমিক সাক্ষ্যই (Primary Evidence) মূল দলিল বা প্রত্যক্ষ উপস্থাপিত নথি, যা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, তাই সর্বোত্তম সাক্ষ্য হলো প্রাথমিক সাক্ষ্য।
⇒ সঠিক উত্তর: (ঘ) প্রাথমিক সাক্ষ্য। 
৪৩.
সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারার অধীনে আদালত কোন বিষয় সম্পর্কে বিচারিক দৃষ্টিগোচরে নিবে?
  1. ব্যক্তিগত সম্পর্ক
  2. সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধবিধি
  3. ব্যক্তিগত চুক্তি
  4. ব্যক্তিগত দেহের পরিচিতি
ব্যাখ্যা
⇒সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারার অধীনে আদালত সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধবিধি (Articles of War for the Armed Forces) সম্পর্কে বিচারিক দৃষ্টিগোচরে নিবে।
- সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- আদালত কোন কোন বিষয় অবশ্যই বিচারিক দৃষ্টিগোচরে (জুডিশিয়াল নোটিশ) নিবেন [Facts of which Court must take judicial notice].
৫৭ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অবশ্যই জুডিশিয়াল নোটিশ নিবেন-
i) বাংলাদেশের সকল আইন;
ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রনীত যুদ্ধবিধি বা অস্ত্র ও রসদ;
iii) সংসদের কার্যসমূহ;
iv) বাংলাদেশের আদালত, নৌ ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত এবং নোটারি পাবলিকের সীলমোহর;
v) সরকারি পদে নিয়োগের গেজেটে উল্লেখিত নাম, পদ, স্বাক্ষর, যোগদানের সময়;
vi) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পতাকা;
vii) সময় ও ভৌগলিক বিভাগসমুহ, রোজা, ছুটির দিন সমুহ;
viii) বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা;
ix) আদালতের সদস্যবৃন্দ ও এ্যাডভোকেটগন;
x) বাংলাদেশের সাথে অপর কোন রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ:
xi) স্থল, জল ও সমুদ্রপথের নিয়মাবলী।
-----------
Section 57 of the Evidence Act outlines the facts that the Court must take judicial notice of, including:
1. All Bangladesh Laws.
2. Articles of War for the Armed Forces.
3. The proceedings of Parliament and any legislature with power over Bangladesh's territories.
4. The seals of all courts in Bangladesh, including Admiralty and Maritime Courts and Notaries Public.
5. Names, titles, functions, and signatures of public officeholders, as published in the official Gazette.
6. The existence, title, and national flag of recognized States.
7. Geographical divisions, public festivals, fasts, and holidays notified in the official Gazette.
8. The territories of Bangladesh.
9. Hostilities between Bangladesh and other States or entities.
10. The names of court members, officers, advocates, and authorized persons.
11. The rule of the road on land and sea.
The Court may refer to books or documents of reference for these facts. If any person requests judicial notice, the Court may refuse unless the necessary documents are presented.
৪৪.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের প্রধান দায়িত্ব কী?
  1. পুলিশকে সহায়তা করা
  2. আদালতকে সাহায্য করা
  3. যেকোনো পক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া
  4. শুধুমাত্র বাদীপক্ষের স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক (৪৫A) ধারা অনুযায়ী, একজন ফরেনসিক বা শারীরিক প্রমাণ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞের প্রধান দায়িত্ব হলো আদালতকে সহায়তা করা। তার প্রতিবেদন আদালতের উদ্দেশ্যে প্রণীত হবে, কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের জন্য নয়।
একজন বিশেষজ্ঞের উদ্দেশ্য নিরপেক্ষভাবে তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা, যাতে আদালত সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। তিনি কোনো পক্ষের হয়ে স্বার্থান্বেষী সাক্ষ্য দিতে পারবেন না। এজন্য, তার প্রতিবেদন মামলার সকল পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
---------------
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.-
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
৪৫.
"স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, তবে প্রতিবন্ধক হতে পারে"—এই বিষয়টি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় উল্লিখিত?
  1. ১৭ ধারায়
  2. ২৫ ধারায়
  3. ২৭ ধারায়
  4. ৩১ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ "স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, তবে প্রতিবন্ধক হতে পারে"—এই বিষয়টি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩১-এ উল্লেখিত হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে, স্বীকৃতি (admissions) চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, তবে এটি প্রতিবন্ধক (estoppel) হতে পারে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি যা কিছু স্বীকার করেছে, তা অবশ্যই প্রমাণের চূড়ান্ত পদ্ধতি নয়, তবে যদি তার স্বীকৃতির উপর ভিত্তি করে অন্য কোনো পক্ষ যে কোনো দাবিতে চলে আসে, তবে ওই ব্যক্তি পরে তার স্বীকৃতির বিপরীতে দাঁড়াতে পারবেন না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে:
কোনো বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
-------------
⇒ The Evidence Act,1872, Section 31: Admissions not conclusive proof, but may stop:
Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.
৪৬.
সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারার অধীনে কোন ক্ষেত্রে স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. আসামি নির্দোষ দাবি করলে
  2. আসামি আদালতে স্বীকার করলে
  3. আসামি পুলিশের সামনে দোষ স্বীকার করলে
  4. স্বীকারোক্তির ফলে কোনো বস্তু বা প্রমাণ উদ্ধার হলে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা অনুসারে, যদি কোনো আসামি পুলিশের হেফাজতে থেকে এমন কোনো তথ্য দেয়, যা দ্বারা কোনো বস্তু বা প্রমাণ উদ্ধার হয়, তবে সেই তথ্যের প্রাসঙ্গিক অংশ আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে। তবে সম্পূর্ণ স্বীকারোক্তি নয়, শুধুমাত্র যে অংশটি উদ্ধারকৃত আলামতের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, সেটি প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য হবে।

- সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী- আসামীর নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে যদি আলামত উদ্ধার হয়, তাহলে উক্ত স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যেতে পারে।
- সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা: আসামীর নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য কতটুকু প্রমাণ হতে পারে:
পুলিশ অফিসারের হেফাজতে থাকা কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য হতে প্রাপ্ত কোন তথ্যে, যদি এমন বিষয় উদঘাটিত হয় যা ঘটনার সাথে স্পষ্টরূপে সম্পর্কযুক্ত হয় তবে তা দোষ স্বীকার হোক বা না হোক প্রমাণ করা যেতে পারে।
-------------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section 27: How much of information received from accused may be proved:
Provided that, when any fact is deposed to as discovered in consequence of information received from a person accused of any offence, in the custody of a police officer, so much of such information, whether it amounts to a confession or not, as relates distinctly to the fact thereby discovered, may be proved.