পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১১
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৫ --------------- বাংলা পরীক্ষা - ৬ (ব্যাকরণ) টপিক: ১. ধ্বনি ও বর্ণ, ২. ধ্বনি পরিবর্তন, ৩. বর্ণের উচ্চারণ
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১১ প্রশ্ন

.
'সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ' - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. আদিস্বরলোপ
  2. মধ্যস্বর লোপ
  3. অন্ত্যস্বর লোপ
  4. অপনিহিতি
সঠিক উত্তর:
অন্ত্যস্বর লোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ত্যস্বর লোপ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ তিন ধরনের হয়ে থাকে।

সেগুলো হলো:
আদিস্বরলোপ:
 যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ,
- উদ্ধার উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

অন্ত্যস্বর লোপ:
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- পোকা > পোক্‌
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) ভাষা-শিক্ষা ড. মামুদ।
.
বাংলা সংখ্যা বর্ণ কয়টি?
  1. সাতটি
  2. আটটি
  3. দশটি
  4. এগারটি
সঠিক উত্তর:
দশটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দশটি
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবৰ্ণ:
- বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে।
যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ০।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
স, শ, হ কোন ধরনের ধ্বনির উদাহরণ?
  1. উষ্ম ব্যঞ্জন
  2. কম্পিত ব্যঞ্জন
  3. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
  4. নাসিক্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
উষ্ম ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ম ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
উষ্ম ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
নাসিক্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
- যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
- লাল শব্দে ল পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের উচ্চারন [ও] এর মতো হবে?
  1. অদ্য
  2. কথা
  3. অনাথ
  4. অনেক
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা
• 'অদ্য' শব্দটিতে অ বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়।

• স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'মিলামিশা > মেলামেশা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
- পাঁচধরনের স্বরসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়।
যেমন:
- প্রগত,
- পরাগত,
- মধ্যগত,
- অন্যোন্য,
- চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি।

চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা,
- মিলামিশা > মেলামেশা,
- মিঠা > মিঠে,
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়।
 যেমন:
- মুড়া > মুড়ো,
- চুলা > চুলো ইত্যাদি।
বিশেষ নিয়মে:
- উড়ুনি > উড়নি,
- এখনি > এখুনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'ঋণ' শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. ঋন্‌
  2. রিন্‌
  3. রিণ্‌
  4. ঋণ
সঠিক উত্তর:
রিন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিন্‌
ব্যাখ্যা
বর্ণের উচ্চারণ:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ।
- এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ।
- কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে।
- আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন।
- ধ্বনিগুলাে দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়। 

ঋ এর উচ্চারণ:
- ঋ বর্ণের উচ্চারণ রি-এর মতাে: ঋতু [রিতু], ঋণ [রিন্], কৃষক [ক্রিশক], দৃশ্য [দ্ৰিশশাে]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
অর্ধস্বরধ্বনির অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. [ও]
  2. [উ]
  3. [ই]
  4. [আ]
সঠিক উত্তর:
[আ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[আ]
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি:
[ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

অন্যদিকে,
- [আ] হচ্ছে মৌলিক স্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
কোনটি পরাগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. তৎ + হিত > তদ্ধিত
  2. পদ্ম > পদ্দ
  3. চক্র > চক্ক
  4. সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা
সঠিক উত্তর:
তৎ + হিত > তদ্ধিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + হিত > তদ্ধিত
ব্যাখ্যা
• পরাগত সমীভবনের উদাহরণ হচ্ছে - তৎ + হিত > তদ্ধিত।

সমীভবন:

- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
 যেমন:
- চক্র > চক্ক, 
 - পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

অন্যান্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ,
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'ব্যাকুল > বেয়াকুল' এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদিস্বরাগম
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন:
- অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্র্ , ভুরু ইত্যাদি।
- এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ, ব্যাকুল > বেয়াকুল ইত্যাদি।
- ও – শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. একটা
  2. খেলা
  3. বেলা
  4. এলাে
সঠিক উত্তর:
এলাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাে
ব্যাখ্যা
এ বর্ণের উচ্চারণ: 
- এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]।
- সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনাে কখনাে [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
- এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলাে [এলাে]।
- এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা ], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১.
'তলোয়ার > তরোয়াল' - এটি কিসের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন চ্যুতি
  2. অন্তর্হতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা,
- তলোয়ার > তরোয়াল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২)ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।