পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫৮: বাংলা পরীক্ষা - ৭ বিষয়: বাংলা টপিক: সন্ধি, কারক-বিভক্তি, প্রবাদ প্রবচন, শব্দার্থ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, বাগধারা। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
'শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।' - বাক্যে 'শাক দিয়ে' কোন কারক?
  1. কর্মে তৃতীয়া
  2. করণে তৃতীয়া
  3. অপাদানে তৃতীয়া
  4. অধিকরণে তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। 'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।
[বাক্যকে কী দিয়ে মাছ ঢেকো না? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'শাক দিয়ে'। সুতরাং 'শাক দিয়ে' করণে তৃতীয়া বিভক্তি।] 

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োেগ রয়েছে-
• করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
• করণ কারকে 'দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
• করণ কারকে 'দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
• করণ কারকে এ-বিভক্তি- গ্যাসে গাড়ি চলে।
• করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'অন্তরিত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অন্ত + ইত
  2. অন্তর + রিত
  3. অন্তঃ + ইত
  4. অন্ত + রিত
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্, পুনর্, প্রাতর্) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ র হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ,
- পুনঃ +  অধিকার = পুনরধিকার,
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা,
- অন্তঃ + ইত = অন্তরিত,
- অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়,
- অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ,
- অন্তঃ + ঈপ = অন্তরীপ,
- পুনঃ+ উত্থান = পুনরুত্থান,
- পুনঃ + উক্তি = পুনরুক্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'মতি' শব্দের অর্থ কী?
  1. বুদ্ধি
  2. মুক্তা
  3. আলো
  4. অস্বচ্ছ মসৃণ পাথর
ব্যাখ্যা
• মতি (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ- 
- বুদ্ধি (কুমতি)।
- স্মৃতি; স্মরণশক্তি (মতিভ্রম)।
- প্রবৃত্তি; ইচ্ছা; অভিপ্রায় (ধর্মে মতি)।
- মন (হরষিত মতি-কাশীরাম দাস)।

উল্লেখ্য, 
• 'মোতি' অর্থ - মুক্তা। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অর্ণব
  2. বিভাবরী
  3. সায়র
  4. পয়োধি
ব্যাখ্যা
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
সাগর, সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, জলধি, অকূল, পাথার, বারিধি, রত্নাকর, নীলাম্বু, পয়োধি, বারীন্দ্র, অর্ণব, পারাবার।

অন্যদিকে, 
'রাত' শব্দের সমার্থক শব্দ:
রাত্রি, রজনী, নিশি, নিশা, নিশীথ, নিশীথিনী, যামিনী, শর্বরী, বিভাবরী

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
'প্রভু' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. দুর্বল
  2. ভীরু
  3. ভৃত্য
  4. শিষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'প্রভু' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - ভৃত্য। 

• 'ভৃত্য' অর্থ - বেতনভৃক; চাকর; নফর।

অন্যদিকে, 
• ভীরু  - সাহসী। 
• প্রবল - দুর্বল। 
• দুষ্ট - শিষ্ট । 

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
কোনটি 'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. উপল
  2. শৈল
  3. পাদপ
  4. মহী
ব্যাখ্যা
• পাদপ (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- পা দ্বারা পান করে যে;
- বৃক্ষ; গাছ, উদ্ভিদ।

'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
গাছ, তরু, দুম, শাখী, পাদপ, মহীরুহ, উদ্ভিদ।

অন্যদিকে, 
---------------
• পর্বত: পাহাড়, অদ্রি, ভূধর, গিরি, শৈল, অচল।
• পাথর: পাষাণ, প্রস্তর, শিলা, উপল, অশ্ব, কঙ্কর।
• পৃথিবী: জগৎ, ভুবন, সংসার, বিশ্ব, ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুমতী, মর্ত্য, বসুধা, অবনী, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
'অনিষ্ঠ' শব্দের অর্থ-
  1. নিষ্ঠাহীন
  2. ক্ষতি
  3. উদ্ধত
  4. কীর্তি
ব্যাখ্যা
• অনিষ্ঠ (বিশেষণ পদ),
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ-
- নিষ্ঠাশূন্য/ নিষ্ঠাহীন;
- অনুরক্তিহীন;
- শ্রদ্ধাহীন। 

অন্যদিকে, 
• 'অনিষ্ট' অর্থ - ক্ষতি। 
• 'অবিনীত' অর্থ - উদ্ধত। 
• 'অবদান' অর্থ - কীর্তি। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
'সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না।'- এখানে 'ঝিনুকে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না।
[বাক্যকে কিসের থেকে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ঝিনুকে'। তাই 'ঝিনুকে' শব্দটি অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্ব?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. অনুকরণ দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১০.
'ব্যাঙের সর্দি' বাগ্‌ধারার অর্থ-
  1. ক্ষণস্থায়ী
  2. অবজ্ঞা করা
  3. অসম্ভব বস্তু
  4. প্রতিবন্ধক
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাঙের সর্দি' বাগ্‌ধারার অর্থ - অসম্ভব বস্তু। 

অন্যদিকে, 
• 'নাক সিটকানো' অর্থ- অবজ্ঞা করা। 
• 'পথের কাঁটা' অর্থ- প্রতিবন্ধক। 
• 'পদ্মপাতায় জল' অর্থ- ক্ষণস্থায়ী। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
'উদক' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বাতাস
  2. পানি
  3. পুত্র
  4. বন
ব্যাখ্যা
• উদক (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- পানি;
- জল;
- বারি। 

• 'পানি'র সমার্থক শব্দ:
জল, সলিল, নীর, পয়ঃ, বারি, অপ, উদক, জীবন, অম্বু।

অন্যদিকে, 
--------------
• পুত্র: ছেলে, আত্মজ, নন্দন, দুলাল, সুত, তনয়, খোকা, কুমার
• বন: অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, কি
• বাতাস: বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুৎ, প্রভঞ্জন

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১২.
'ভাষাচার্য' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাষা + অচার্য
  2. ভাষা + চার্য
  3. ভাষা + আচার্য
  4. ভাষ + আচার্য
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির যোগে আ-ধ্বনি হয়। বানানে তা আ-কার রূপে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভাষা + আচার্য = ভাষাচার্য,
- হত + আশ = হতাশ,
- স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত
- মহা + অর্থ = মহার্ঘ,
- আশা + অতীত = আশাতীত,
- মহা + আশয় = মহাশয়,
- কারা + আগার = কারাগার,
- ব্যথা + আতুর = ব্যথাতুর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'জ্ঞেয়' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. জ্ঞাতব্য
  2. মূর্খ
  3. অবজ্ঞেয়
  4. অজ্ঞেয়
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞেয়' অর্থ - জানার বিষয়; জ্ঞানসাধ্য; জ্ঞাতব্য। 
• 'অজ্ঞেয়' অর্থ - জ্ঞানাতীত; জানা যায় না এমন। 

সুতরাং, 'জ্ঞেয়' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - অজ্ঞেয়। 

অন্যদিকে, 
• 'জ্ঞানী' বিপরীতার্থক শব্দ - মূর্খ। 
• 'অবজ্ঞেয়' অর্থ - অবজ্ঞার যোগ্য।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৪.
'রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি লিখেছেন।'- বাক্যে 'গীতাঞ্জলি' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যে মুখ্য ও গৌণ উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।

- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

যেমন:
- রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি লিখেছেন।
[ বাক্যকে কী লিখেছেন? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গীতাঞ্জলি'। সুতরাং, গীতাঞ্জলি কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।]

এরূপ কিছু উদাহরণ-
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৫.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব?
  1. আগড়ম বাগড়ম
  2. সাঁ সাঁ
  3. বুঝে সুঝে
  4. কথায় কথায়
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন:
- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
[কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।]

যেমন:
- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন-
- ফোড়া টনটন করে,
- গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধূপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

অন্যদিকে, 
• আগড়ম বাগড়ম ও বুঝে সুঝে অনুকার দ্বিত্ব। 
• কথায় কথায় পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৬.
'তেলা মাথায় তেল দেয়া' প্রবাদের অর্থ কী?
  1. চাপে পড়ে নত হওয়া
  2. স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ
  3. ক্ষমতাবানকে অযথা সাহায্য করা
  4. যোগ্যতা বা ক্ষমতাহীনের আড়ম্বর
ব্যাখ্যা
• 'তেলা মাথায় তেল দেয়া' অর্থ - ক্ষমতাবানকে অযথা সাহায্য করা। 

অন্যদিকে, 
• 'কাকের মাংস কাকে খায় না' অর্থ -  স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ। 
• 'ঠেলার নাম বাবাজি' অর্থ - চাপে পড়ে নত হওয়া। 
• 'ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার' অর্থ - যোগ্যতা বা ক্ষমতাহীনের আড়ম্বর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
'শর্বরী' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. সুন্দর
  2. সমুদ্র
  3. চাঁদ
  4. রাত
ব্যাখ্যা
• শর্বরী (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- রাত্রি; রজনী; ক্ষণদা; নিশা; বিভাবরী; যামিনী।

'রাত/রাত্রি' এর সমার্থক শব্দ:

রাত্রি, রজনী, নিশি, নিশা, নিশীথ, নিশীথিনী, যামিনী, শর্বরী, বিভাবরী।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৮.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. এলোমেলো
  2. চকচক
  3. হাতে হাতে
  4. ভটভট
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন-জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে, 
• এলোমেলো অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।
• চকচক ও ভটভট ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৯.
'সদিচ্ছা' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সধ্‌ + ইচ্ছা
  2. সত + ইচ্ছা
  3. সদ্‌ + ইচ্ছা
  4. সৎ + ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনে + স্বরে নিয়মে গঠিত ব্যঞ্জন সন্ধির নয়ম:
পূর্বপদের শেষে বর্গের প্রথম ব্যঞ্জন (ক্‌ /চ্‌ / ট্ / ত্ [ৎ] /প্‌ ) থাকলে, এবং পরপদের প্রথমটি স্বরধ্বনি হলে ব্যঞ্জনধ্বনিটি ওই বর্গের তৃতীয় ধ্বনিতে অর্থাৎ ক স্থানে গ্‌, চ্ স্থানে জ্‌ , ট্‌ স্থানে ড্ [ডু], ত্ স্থানে দু, প্‌ স্থানে ব্‌  হয়। পরপদের স্বরধ্বনি বর্গের তৃতীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর,
- প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- অচ্ + অন্ত = অজন্ত, 
- ষট্ + অঙ্গ = ষড়ঙ্গ,
- ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু,
- ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- সৎ + অর্থক = সদর্থক,
- সৎ + ইচ্ছা = সদিচ্ছা,
- মৃৎ + অঙ্গ = মৃদঙ্গ,
- শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
'আবৃতি' শব্দের অর্থ কী?
  1. অভ্যস্ত
  2. কবিতাপাঠ
  3. আবরণ
  4. প্রত্যাগমন
ব্যাখ্যা
• আবৃতি,  
- বিশেষ্য পদ। 
অর্থ:
- আবরণ;
- আচ্ছাদন।

অন্যদিকে, 
• আবৃত্তি - কবিতাপাঠ; প্রত্যাগমন। 
• আবৃত্ত: আবৃত্তি করা হয়েছে এমন; পুনঃপুন পঠিত; অভ্যস্ত।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২১.
'ভোরে সূর্য ওঠে।'- এখানে 'ভোরে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- ভোরে সূর্য ওঠে।
[কখন সূর্য ওঠে? ভোরে। সুতরাং, ভোরে অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।
• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২২.
'গূঢ়' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মুক্ত
  2. যুক্ত
  3. ব্যক্ত
  4. ব্যাপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'গূঢ়' অর্থ - গুপ্ত; লুক্কায়িত; অপ্রকাশিত (গূঢ় অভিসন্ধি)। 
• 'ব্যক্ত' অর্থ - প্রকাশ পেয়েছে এমন; প্রকাশিত।

• সুতরাং, 'গূঢ়' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - ব্যক্ত। 

অন্যদিকে, 
• 'ব্যাপ্ত' অর্থ-  প্রসারিত; বিস্তৃত।
• 'যুক্ত' অর্থ- সংযোজিত; সংলগ্ন; একত্র; মিলিত (যুক্তপাণি)।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৩.
'ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে' প্রবাদটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অসচ্ছল অবস্থা
  2. অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা
  3. কোনো না কোনোভাবে কার্যসিদ্ধি
  4. দুর্ভাগ্য সর্বত্রগামী
ব্যাখ্যা
• 'ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে' অর্থ - দুর্ভাগ্য সর্বত্রগামী। 

অন্যদিকে, 
• 'নুন আনতে পান্তা ফুরায়' অর্থ - অসচ্ছল অবস্থা। 
• 'ধান ভানতে শিবের-গীত্র/ধেনো হাটে ওল নামানো' অর্থ - অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা। 
• 'ধারে না হলে ভারে কাটে' অর্থ - কোনো না কোনোভাবে কার্যসিদ্ধি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।