পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২ পার্ট-১) বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) প্রাচীন যুগ - প্রাচীন জনপদ বিভিন্ন রাজবংশের শাসন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি; ii) মধ্যযুগ - মুসলিম শাসন, মুঘল, সুলতানি ও নবাবী আমলে বাংলা ও উপমহাদেশ; iii) উপমহাদেশ ইউরোপীয়দের আগমন, ইংরেজ শাসন ও ইংরেজ শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম ও উপমহাদেশের ইতিহাস। পার্ট-২) পদার্থের অবস্থা, ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, চৌম্বকত্ব, তরঙ্গ এবং শব্দ, তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, আলোক যন্ত্রপাতি, তড়িৎ চৌম্বক, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি। ------------------ পার্ট–১ সোর্স: বোর্ড বই (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সংশ্লিষ্ট NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই), বাংলাপিডিয়া অথবা যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৫ প্রশ্ন

.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ কোন শতকে সমতট পরিদর্শন করেছিলেন?
  1. ৭ম শতকে
  2. ৮ম শতকে
  3. ৫ম শতকে
  4. ৬ষ্ঠ শতকে
সঠিক উত্তর:
৭ম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম শতকে
ব্যাখ্যা
সমতট জনপদ:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মেঘনা-পূর্ববতী অঞ্চলই সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করেন-
  1. সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  2. মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
ব্যাখ্যা
মুসলিম শাসন:
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮-১৩৪৯)  বাংলার সুলতান।
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন জাতিতে তুর্কি এবং তুর্কিদের কারাউনা গোত্রীয়।
- তিনি ছিলেন দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা  বাহরাম খানের সিলাহদার তত্ত্বাবধায়ক।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন ।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- ফখরুদ্দীন আল-সুলতানুল আযম ফখরুদ্দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন আবুল মুজাফফর মুবারক শাহ আল-সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন।
- ফখরুদ্দীন ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণার অব্যবহিত পরে দিল্লি সুলতান মুহম্মদ তুগলকের নির্দেশে লখনৌতি এর শাসনকর্তা কদর খান, সাতগাঁয়ের শাসনকর্তা  আইজ্জুদ্দিন ইয়াহিয়া তাদের সম্মিলিত বাহিনী নিয়ে বিদ্রোহী ফখরুদ্দীনের বিরুদ্ধে অভিযান করেন।
- কদর খানের নেতৃত্বে এই সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফখরুদ্দীন পরাজিত হন ।

উৎস: ¡) বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয়, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া
.
ইংরেজদের সুরাটে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন-
  1. সিরাজউদ্দৌলা
  2. সম্রাট শাহজাহান
  3. নবাব আলীবর্দী খান
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
• বাংলায় ইংরেজ শাসন:
- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করা হয় ১৬০০ সালে।
- কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইংরেজদের আগমন  ঘটে বাংলায়।
- ইংরেজদের সুরাটে বাণিজ্যকুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন সম্রাট জাহাঙ্গির।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যের জন্য বাংলায় আসেন ১৬০৮ সালে।
- ইংরেজরা কলকাতায় আশেপাশে ৪৮টি গ্রাম ক্রয়ের অনুমতি পায় সম্রাট ফররুখশিয়ার কাছ থেকে।
- কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে ১৭০০ সালে।
- বাংলায় কুঠি স্থাপন করে সুরাটে।
- ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে বাংলা, বিহার ও  উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে।
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক লর্ড ক্লাইভ।
- তাদের অবসান ঘটে ১৮৫৮ সালে।
- দীর্ঘ ১৯০ বছর তারা শাসন করে।

⇒ এছাড়াও,
- ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম বাণিজ্য আসে পর্তুগিজরা ।
- ভারতে আসর জল পথ আবিষ্কারক তারা।
- পর্তুগিজরা ভারত বর্ষে ব্যবসা করার অনুমতি পায় সম্রাট আকবরের আমলে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম- দশম শ্রেণি।
.
বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করেন কে?
  1. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসী
  4. লর্ড ওয়েলেসলী
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসী
ব্যাখ্যা
বিধবা বিবাহ আইন:
- বিধবা বিবাহ  আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসী।
- এই আইন প্রণয়ন করেন -১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের জন্য সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিধবা বিবাহ জন্য সংগ্রাম করেন
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের সাথে বিধবা বিবাহ দিয়েছিলেন।

⇒ এছাড়াও,
- লর্ড ডালহৌসী  স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন।
- রেললাইনের প্রচলন করেন।

⇒ অপরদিকে,
- লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- লর্ড ক্যানিং কাগজি মুদ্রার প্রচলন করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলী অধীনতা মুলক নীতির প্রবর্তক।
- ব্রিটিশদের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বড়োলাট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বিখ্যাত ’গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোডটি বাংলাদেশের কোন অঞ্চল থেকে শুরু হয়েছে?
  1. কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি
  2. ঢাকা জেলার পূর্বাচল
  3. যশোর জেলার ঝিকরগাছা
  4. নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
’গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোড:
- নির্মাতা: গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোডের নির্মাতা শেরশাহ।
- দৈর্ঘ্য: আড়াই হাজার কিলোমিটার।
- বিস্তার: সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাব বিস্তৃত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সড়ক।
- এটি নির্মাণ করা হয়- ষোল শতকে।
- মূল পরিকল্পনায় রাজধানী আগ্রাকে পূর্বে সোনারগাঁও, পশ্চিমে দিল্লি ও লাহোর হয়ে মূলতান, দক্ষিণে বোরহানপুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে যোধপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
- সড়ক- ই- আজম নামে পরিচিত এ সড়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
.
প্রাচীনকালে বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন -
  1. সম্রাট অশোক
  2. শশাঙ্ক
  3. সমুদ্রগুপ্ত
  4. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোক
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- মৌর্য বংশের তৃতীয় শাসক ছিলেন সম্রাট অশোক।
- উত্তর বাংলা জয়কারী প্রথম মৌর্য সম্রাট।
- কলিঙ্গ যুদ্ধ ভয়াবহ দেখে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম দীক্ষা লাভ করেন।
- সম্রাট অশোককে বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক বা কনস্ট্যানটাইন বলা হয়।

অপরদিকে,
শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক ছিলেন গৌড়ের স্বাধীন রাজা।
- তার রাজধানী কর্ণসুবর্ণ।
- তাকে বৌদ্ধ ধর্ম বিদ্বেষী বলা হয়।
-তার মৃত্যুর পর মৎস্যন্যায় শুরু হয়।

সমুদ্র গুপ্ত: 
- সমতট ব্যতীত সমগ্র বাংলা জয় করেন সমুদ্র গুপ্ত।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।

এছাড়াও,
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা। 
- প্রথম স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
মাৎসন্যায় কী?
  1. ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. মাছ বাজার
  3. মাছ ধরার নৌকা
  4. আইন শৃঙ্খলাহীন অরাজক অবস্থা
সঠিক উত্তর:
আইন শৃঙ্খলাহীন অরাজক অবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন শৃঙ্খলাহীন অরাজক অবস্থা
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়:
- রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- ছোট ছোট রাজ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তাদের পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহের ফলে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়। 
- মাৎস্যন্যায় শব্দের অর্থ: আইন শৃঙ্খলাহীন অরাজক অবস্থা।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্য অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায় সময়কাল: আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ।
- মাৎস্যন্যায় সময়: গুপ্ত ও পাল আমলের মধ্যবর্তী তাম্রশাসন যুগ।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এ বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং মাৎস্যন্যায় অবসান ঘটান।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাকে ”জান্নাতবাদ” নাম ঘোষণা করেন-
  1. মুঘল সম্রাট আকবর
  2. মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
  3. মুঘল সম্রাট বাবর
  4. মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুন প্রায় ৯ মাস  বাংলায় অবস্থান করেন এবং আবহাওয়া চমৎকার লাগায় বাংলাকে জান্নাতাবাদ নাম ঘোষণা করেন।
- হুমায়ুনের রাজত্বকাল দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্ব: ১৫৩০-১৫৪০খ্রিস্টাব্দ।
- দ্বিতীয় পর্ব: ১৫৫৫-১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ।
- মুঘল বংশের দ্বিতীয় শাসক।
- মধ্যখানে ১৫৪০-১৫৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি শের শাহের কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে পারস্য আশ্রিত ছিলেন।
- ১৫৩৯ সালে চৌসার যুদ্ধে এবং ১৫৪০ সালে কনৌজের যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।
- ১৫৫৫ সালে পারস্যর সহায়তায় তিনি মোঘল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন।
- কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত ১৫৫৬ সালে ২৬ জানুয়ারি গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

⇒অপরদিকে,
- মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও তার পিতা বাবর।
- হুমায়ুনের পুত্র মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট আকবর।
- সম্রাট জাহাঙ্গির নিজের নামে মুদ্রা প্রচলন করেন।

উৎস: ¡) ইতিহাস ১ম পত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ¡¡)  বাংলাপিডিয়া।
.
”জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি’’ কথাটি কে বলেছেন?
  1. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. সৈয়দ আহমদ বেরেলভী
  3. তিতুমীর
  4. দুদু মিয়া
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- ফরায়েজি আন্দোলন  শুরু হয় -১৮১৮ সালে।
- এ আন্দোলন কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন দুদু মিয়া।
- দুদু মিয়ার  আসল নাম পীর মুহসীনউদ্দীন আহমদ।
- দুদু মিয়ার নেতৃত্ব ফরায়েজি আন্দোলন সশস্ত্র আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ’’জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি’’ কথাটি  বলেছেন দুদু মিয়া।
- দুদু মিয়া অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছেলেন।
- এবং বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
- দুদু মিয়া বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে খলিফা নিযুক্ত করেন।

অপরদিকে,
- ভারতবর্ষে ওহাবি আন্দোলনের  মতাদর্শ  প্রতিষ্ঠা করেন সৈয়দ আহমেদ বেরেলভী।
- তিতুমীর ১৮৩১ সালে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- এটি নারিকেলবাড়িয়ায় তৈরি করেছিলেন।
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্ট  এটি ধ্বংস করে দেন। 

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
          ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
১০.
ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সাথে ‍যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. মজনু শাহ
  2. জুম্মা খান
  3. ভবানী পাঠক
  4. মুসা শাহ
সঠিক উত্তর:
জুম্মা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুম্মা খান
ব্যাখ্যা
ফকির  ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম বিদ্রোহ ছিল- ফকির  ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।
- এই বিদ্রোহের প্রধান কারণ তাদের দলবেঁধে চলাচলে ইংরেজরা বাধা প্রদান করে।
- এই আদেশ জারি করেন- ওয়ারেন হেস্টিংস।
- এটি সংঘটিত হয় -অষ্টাদশ শতাব্দীতে।
- এই আন্দোলনের নেতা ছিল- মজনু শাহ, ভবানী পাঠক, মুসা শাহ।
- চাকমা বিদ্রোহ সাথে জড়িত - জুম্মা খান।
- ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে ফকিররা মীর কাসিমের পক্ষে যুদ্ধ করেন।
- ১৭৬০- ১৮০০ সাল পর্যন্ত বিদ্রোহ করেন।
- এই বিদ্রোহের কেন্দ্রে ছিল- উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের বিভিন্ন স্থানে।
- ফকিররা প্রথম ইংরেজ বাণিজ্য কুঠি আক্রমণ করেন বাকেরগঞ্জে বা বরিশালে।

উল্লেখ্য,
- ইংরেজদের বিরুদ্ধে চাকমা রাজা বিদ্রোহ করে জোয়ান বকস।
- তার প্রধান সেনাপতি ছিল- রুনু খান ( জুম্মা খান)

উৎস: ইতিহাস, (প্রথম পত্র) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
প্রাচীন বাংলার নিদর্শন সোমপুর বিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. নওগাঁ
  3. রাজশাহী
  4. জয়পুরহাট
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
ব্যাখ্যা
সোমপুর বিহার:
- অবস্থান: নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার।
-  নির্মাতা: রাজবংশের রাজা ধর্মপাল  অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- মোট ৭০.৩১ একর জমির উপর সোমবার বিহার অবস্থিত। 
- পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭ টি কক্ষ ছিল।
-  বেলে পাথরের চামুণ্ডা মূর্তি, লাল পাথরের দণ্ডায়মান শীতলা মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণুর খণ্ডাংশ, কৃষ্ণ পাথরের দণ্ডায়মান গণেশ, বেলে পাথরের কীর্তি মূর্তি, দুবলহাটির মহারাণীর তৈলচিত্র পাওয়া গেছে এখানে।
- ১০ম শতাব্দীর শেষভাগে পাল বংশীয় রাজা মহিপাল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন ও সোমপুর বিহার মেরামত করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প।
১২.
বাংলার প্রথম রাজা ছিলেন-
  1. ধর্মপাল
  2. লক্ষণ সেন
  3. গোপাল
  4. শশাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম ও স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক।
- শশাঙ্ক ৬০০ থেকে ৬২৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাজত্ব করেন বলে ধারণা করা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে পরিচিত রাজা শশাঙ্ক।
- শশাঙ্ক রাজ্য বাংলার উত্তর , উত্তর পশ্চিমাংশ ও মগধের বিস্তৃত ছিল।
- তিনি শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- রাজধানীর নাম: কর্ণসুবর্ণ।
- উপাধি: মহাসামন্ত।
- গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- পাল বংশের শেষ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠা গোপাল।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষণ সেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে?
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. আলীবর্দী খান
  3. মুর্শিদকুলি খান
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
ব্যাখ্যা
মুর্শিদ কুলি খান:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবি আমলের সূচনা হয়।
- তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ সন্তান।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
 - তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- তাঁর কন্যা জিনাত-উন-নেসা।

⇒ অপরদিকে,
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন হোসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- বাংলায় বর্গীদের দমনে সবচেয়ে অবদান আলীবর্দী খান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় / গভর্নর:
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর: লর্ড ক্লাইভ।
- শেষ গভর্নর: লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিল- লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- শেষ গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয়: লর্ড ক্যানিং।
- শেষ ভাইসরয়: লর্ড মাউন্টব্যাটেন। 

এছাড়াও,
- পূর্ব বাংলার ও আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট জেনারেল - স্যার জেনারেল ব্যামফিল্ড ফুলার।
- পূর্ব বাংলার ও আসামের শেষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল- স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি।

উৎস: ¡) ইতিহাস, (প্রথম পত্র) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
১৫.
বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় কার শাসনামালে?
  1. পঞ্চম জর্জ
  2. লর্ড কর্ণওয়ালিস
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
লর্ড হার্ডিঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ রদ:
- লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ  ১৯১১ সালের ২৫ আগস্ট গোপনে এক বার্তায় ভারতের প্রশাসনে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করেন।
- রাজা পঞ্চম জর্জ, গভর্নর জেনারেলের লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ ১৯১১ সালে তার রাজ্য অভিষেকে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা করেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদের কার্যকর হয়- ২০ জানুয়ারি, ১৯১২ সালে।
- দুই বাংলা রচিত হয় ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল।
- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা করেন- রাজা পঞ্চম জর্জ।
- বঙ্গভঙ্গ রদে করেন- লর্ড হার্ডিঞ্জ।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গভঙ্গ করেন- লর্ড কার্জন।
- ১৯০৫ সালে ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়।
- বঙ্গভঙ্গ ফলে নতুন প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয় - উত্তর পূর্বাঞ্চল ও আসাম প্রদেশ।
- বঙ্গভঙ্গ বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলনের  নেতৃত্ব দেন   অরবিন্দ ঘোষ।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
১৬.
প্রথম বংশানুক্রমিক শাসন শুরু করেন কারা?
  1. সেন বংশ
  2. পাল বংশ
  3. গুপ্ত বংশ
  4. মৌর্য বংশ
সঠিক উত্তর:
মৌর্য বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌর্য বংশ
ব্যাখ্যা
• প্রথম বংশানুক্রমিক শাসন শুরু করে মৌর্য বংশ (Maurya Dynasty)। খ্রিস্টপূর্ব ৩২২ সালে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। মৌর্যরা ছিল প্রাচীন ভারতে প্রথম সুসংগঠিত ও কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা, যা উত্তরাধিকার সূত্রে শাসিত হয়েছিল।
------------- 
অন্যদিকে,
পাল সাম্রাজ্য:
- বাংলায় প্রথম বংশানুক্রমিক শাসন শুরু করেন → পালরা।
- বাংলার প্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ → পালবংশ।
- প্রায় ৪২৪ বছর শাসন করেছে।
- পালবংশের প্রতিষ্ঠাতা ও গণতান্ত্রিকভাবে  নির্বাচিত ভারতবর্ষের প্রথম রাজা→ গোপাল।
- সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠাতা → রাজা ধর্মপাল।
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা  → ধর্মপাল।
- পাল বংশের শেষ রাজা → মদনপাল।
- পাল বংশের শেষ রাজধানী → বরেন্দ্র।

উল্লেখ্য
- চর্যাপদ রচিত হয় → পাল শাসনামলে।
- পাল যুগের পুঁতি চিত্র আঁকা হয় → তালপাতার উপর।
- পাল শাসকদের উপাধি ছিল → মহারাজাধিরাজ, পরমেশ্বর।
- কৈবর্ত বিদ্রোহ / বরেন্দ্র বিদ্রোহ হয় → ২য় মহিপালের সময়ে।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
১৭.
সেন বংশের সর্বশেষ স্বাধীন রাজা ছিলেন-
  1. লক্ষণ সেন
  2. কেশব সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:
- সেন বংশের রাজত্ব কাল ছিল→ ১০৭০- ১২৩০ সাল পর্যন্ত।
- সেন রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন→ সামন্ত সেন।
- বাংলার সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা→ হেমন্ত সেন।
- বাংলার সর্বপ্রথম একক শাসনাধীন আসে→ বিজয় সেনের সময়।
- সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা→ বিজয় সেন।
- সেন বংশের সর্বশেষ রাজা→ লক্ষণ সেন।
- বাংলার শেষ স্বাধীন হিন্দু রাজা → লক্ষণ সেন।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসনকর্তা → কেশব সেন।

উল্লেখ্য,
- লক্ষণ সেনের সময় রাজধানী ছিল নদীয়া বা  নবদ্বীপ।
- লক্ষণসেনের উপাধি ছিল গৌড়েশ্বর।
- কৌলীন্য প্রথার প্রবর্তক বল্লাল সেন।
- দান সাগর ও অদ্ভুত সাগর নামে দুটি গ্রন্থ লিখেছেন বল্লাল সেন।
- লক্ষণ সেনের রাজসভার কবি ছিলেন জয়দেব, ধোয়ি, হলায়ুধ মিশ্র।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
১৮.
ভারত ছাড় আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়-
  1. ১৯৪২ সালে
  2. ১৯৩৭ সালে
  3. ১৯৩৫ সালে
  4. ১৯২০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড় আন্দোলন, ১৯৪২
- ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
-  ১৯৪২ সালের ৯ আগস্ট ভোরে কংগ্রেস নেতাদের গ্রেপ্তার দেশব্যাপী এক নজিরবিহীন গণরোষের সৃষ্টি করে, যা বাংলার শহরগুলিতে, বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে  এ আন্দোলন  ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
- ভারত ছাড় আন্দোলন চলাকালীন  ‘পঞ্চম বাহিনী’র সুচিন্তিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে। 
- ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রধান তিনটি পর্ব দেখা যায়। ⇒
- প্রথম পর্বে  শহরগুলিতে হরতাল, ধর্মঘট, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ ছিল লক্ষণীয় বিষয়। 
- দ্বিতীয়  পর্যায়ে জঙ্গি ছাত্ররা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ে ও তারা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয় ।
- তৃতীয় পর্ব শিক্ষিত যুবক সম্প্রদায় ও কৃষক দলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা এবং গেরিলা যুদ্ধ। 
-  আন্দোলনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে দমন করা হয় এবং আন্দোলন দমন করতে সরকার আকাশ থেকে মেশিনগান ব্যবহার করেছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন হয়।
- ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯.
রাজা রামমোহন রায় কে ’রাজা’ উপাধি দিয়েছেলেন কে?
  1. সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. রাজা পঞ্চম জর্জ
সঠিক উত্তর:
সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত ছিলেন।
-  তিনি হিন্দি ও তাঁর মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও  যেমন সংস্কৃত, আরবি ও ফারসিতে উল্লেখযোগ্য ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।
- একেশ্বরবাদ বানী প্রচারে রামমোহন রায় আত্মীয় সভা গঠন করেন ।
- ১৮২২ সালে  অ্যাংলো হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট দ্বিতীয় আকবর রাজা রামমোহন রায়কে রাজা উপাধি দেন।
- ১৮২৫ সালে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, গঙ্গা সাগরে সন্তান বিসর্জন, শিশুকন্যা হত্যার প্রতিবাদ করেন।
- তার প্রচেষ্টায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন।
- তাকে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ব্রাহ্ম সমাজ নামের পরিবর্তে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করা হয় ১৮৪৩ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০.
’সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ কে গঠন করেন?
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. হাজী মুহাম্মদ মুহসীন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী জন্মগ্রহণ করেন আসামে। 
- তিনি কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- ১৯০৯ সালে লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য পদ লাভ করেন।
- ১৮৭৭ সালে সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন।
- এটি ১৯২৪ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

⇒ এছাড়াও,
- তিনি ব্রিটিশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা।
- ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ১৯২৮ সালে সিআইই উপাধি পান।
- ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য আন্দোলনের শুরু হয় তার মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করার পর থেকে।

উল্লেখ্য,
- নওয়াব আব্দুল লতিফ মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- কলকাতায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন।
- নীল কমিশন গঠনে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১.
প্রাচীন বাংলায় স্বাধীন জনপদ ছিল-
  1. গৌড়
  2. পুণ্ড্র
  3. রাঢ়
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড় রাজ্য:
- প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য গৌড় রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
কোন যুগ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত?
  1. মৌর্যযুগ
  2. কুষাণযুগ
  3. গুপ্তযুগ
  4. পালযুগ
সঠিক উত্তর:
গুপ্তযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুপ্তযুগ
ব্যাখ্যা
গুপ্তযুগ:
- বাংলায় গুপ্তরা শাসন করে ৩২০ থেকে ৪১৫ সাল পর্যন্ত।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গুপ্ত।
- গুপ্ত যুগ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণ যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।
- এর শ্রেষ্ঠ রাজা ছিল সমুদ্রগুপ্ত।
- তাকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন বলা হয় ।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি ছিল বিক্রমাদিত্য।
- এই সাম্রাজ্যের রাজধানী পাটালিপুত্র।
- চীনা পরিব্রাজক ফাহিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় ভারতবর্ষে আসেন।
- গুপ্ত বংশ ধ্বংস হয় হুন শক্তির হাতে।
- এই সময় পণ্ডিত ছিলেন আর্যভট্ট, কালিদাস, বিষ্ণুশর্মা, বরাহমিহির।

উল্লেখ্য 
- পাল আমল ছিল বংশানুক্রমিক রাজবংশ।
- এই বংশ সবচেয়ে বেশি শাসন করেছিল।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
২৩.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কোন আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. তেভাগা আন্দোলনে
  2. ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে
  3. ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে
  4. সত্যাগ্রহ আন্দোলনে
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন:
- বাংলায় সশস্ত্র আন্দোলনের সময়কাল: ১৯১১-১৯৩০ সাল।
- এই আন্দোলনের চট্রগ্রামের নেতা ছিলেন- মাস্টারদা সুর্য সেন।
- মাস্টারদা সুর্য সেন ১৯৩০ সালে চট্রগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন ।
- ইংরেজ মেজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে বোমা মেরে হত্যা করে ক্ষুদিরাম।
- কিংসফোর্ডকে বোমা মেরে হত্যার অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয় ক্ষুদিরামকে।
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন মাস্টারদা সূর্যসেন শিষ্য এবং নারী বিপ্লবী।
- বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সাথে জড়িত ছিলেন।
- তিনি পাহাড়তলী রেলওয়ে ক্লাব আক্রমণ করেন- ১৯৩২সালে।
- প্রীতিলতা আত্মহত্যা করেন - পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে।
- অস্ত্র লুণ্ঠন অভিযোগে মাস্টারদা সূর্যসেনকে  ফাঁসি দেওয়া হয় - জানুয়ারি, ১৯৩৪ সালে।

⇒ এছাড়াও,
- সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল - ঢাকার অনুশীলন সমিতির।
- সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠক সাধনা প্রতিষ্ঠিত হয় - ময়মনসিংহে।
- ঢাকার অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক - পুলিন বিহারী দাস।
- কয়েকজন বিপ্লবী নেতা ছিলেন- বিনয়বসু, দীনেশগুপ্ত ও সূর্যসেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৪.
উড়োজাহাজের মডেল তৈরি করেছিলেন কে?
  1. রবার্ট বয়েল
  2. রবার্ট হুক
  3. বিজ্ঞানী হাইগেনস
  4. লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি
সঠিক উত্তর:
লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি
ব্যাখ্যা
- লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি ছিলেন মূলত একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। 
- তিনি উড়োজাহাজের মডেল তৈরি করেছিলেন। 

অন্যদিকে, 
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 
- জার্মানীর বিজ্ঞানী স্নেল প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। 
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- বিজ্ঞানী রবার্ট বয়েল গ্যাসের সূত্র আবিস্কার করেন। 
- রোমার বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করে আলোর বেগ পরিমাণ করেন, যা তখনকার বিজ্ঞানীদের নিকট গ্রহণযোগ্য ছিল না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি পরিমাপ করা হয় তাকে কী বলে?
  1. গ্যালভানোমিটার
  2. তড়িৎ প্রবাহ মিটার
  3. অ্যামমিটার
  4. ভোল্টমিটার
সঠিক উত্তর:
অ্যামমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামমিটার
ব্যাখ্যা
অ্যামমিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামমিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামমিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামমিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
পানির কয়টি অবস্থা রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা: 
- রোদে ফেলে রাখা একখন্ড বরফ লক্ষ্য করেলে দেখা যায় বরফর খন্ড গলতে থাকে এবং এর চারিদিকে পানি গড়িয়ে পড়ে। 
- আর কিছুক্ষণের মধ্যে পানি বাস্প হয়ে উড়ে যেতেও দেখা যায়। 
- এই বরফ, পানি আর পানি বাষ্প তিনটিই আসলে পানির তিনটি অবস্থা যা কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- সকল পদার্থেরই কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিনটি অবস্থা হতে পারে। 
- পদার্থেরই কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিনটি অবস্থা নির্ভর করে তাপ বা তাপমাত্রার উপর। 
- তাপ একটি শক্তি। 
- কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে তাপমাত্রা বাড়ে, এবং একসময় তা তরলে রূপান্তরিত হয়, তরল পদার্থের তাপমাত্রা বাড়ালে এক পর্যায়ে তা বায়বীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়। বিপরীতভাবে তাপমাত্রা কমালে বায়বীয় পদার্থ তরল হয়। 
যেমন- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়। 
- তরল পদার্থের তাপমাত্রা কমলে এক সময় কঠিন হয়। 
যেমন- শীত প্রধান এলাকায় পানি জমে বরফ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গকে বলা হয়-
  1. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. গামারশ্মির তরঙ্গ
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়া যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, সে তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মির তরঙ্গ, গামারশ্মির তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
'পিকো' উপসর্গের মান কত?
  1. 10- 9
  2. 10- 12
  3. 10- 15
  4. 10- 18
সঠিক উত্তর:
10- 12
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10- 12
ব্যাখ্যা
- 'পিকো' উপসর্গের মান হচ্ছে- 10-12  । 

এককের গুণিতক ও উপগুণিতক: 

- মৌলিক এককগুলোর গুণিতক ও উপগুণিতক ব্যবহৃত হয়। 
- বিজ্ঞানীরা এমন অনেক রাশি ব্যবহার করে থাকেন যেগুলোর মান খুব ছোট বা বড় হয়ে থাকে। 
যেমন- আলোর দ্রুতি প্রায় 30,00,00,000 ms-1 । 
- এই জাতীয় রাশির সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই পড়া, লেখা, বুঝা এবং মনে রাখা খুবই অসুবিধাজনক। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য 10 সংখ্যাটির ঘাত (power) ব্যবহার করা। তাহলে আলোর দ্রুতিকে লেখা যায় 3×108 ms- 1 । 


- কোনো সংখ্যাকে 10 এর যে কোন ঘাত এবং 1 থেকে 10 এর মধ্যে অবস্থিত অপর সংখ্যার গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হলে তাকে বৈজ্ঞানিক প্রতীক বলে।
যেমন 5800000 হল 5.8×106 এবং 0.0000000956 হল 9.56×10- 8
তাহলে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এ প্রতীকে প্রকাশিত সংখ্যাটির 10 এর ধনাত্মক সূচক যত, দশমিক বিন্দুকে ডান দিকে তত ঘর সরালে মূল সংখ্যাটি পাওয়া যাবে। অনুরূপভঅবে 10 এর ঋণাত্মক সূচক যত, দশমিক বিন্দুকে বাম দিকে তত ঘর সরালে মূল সংখ্যাটি পাওয়া যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
এক্সরের সাহায্যে কোন রোগ সনাক্ত করা হয়? 
  1. চর্মরোগ
  2. ক্যান্সার
  3. মুত্রথলির পাথর
  4. সকল উল্লিখিত
সঠিক উত্তর:
সকল উল্লিখিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল উল্লিখিত
ব্যাখ্যা
এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১. শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২. চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় যুগান্তকারী উন্নতি সাধনের জন্য এক্সরের অবদান অকল্পনীয়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৩. বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

৪. গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
মৌলিক রাশির অন্তর্ভূক্ত নয় কোনটি?
  1. সময়
  2. তাপমাত্রা
  3. ত্বরণ
  4. পদার্থের পরিমাণ
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা, পদার্থের পরিমাণ- এই সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি বলে। 
- রাশিগুলোকে পরিমাপ করতে অন্য কোন এককের উপর নির্ভর করতে হয় না। 

লব্ধ রাশি: 
- যে রাশিগুলো মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল তাদেরকে লব্ধ রাশি বলে। 
যেমন- বেগ, কাজ, ত্বরণ ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
একমুখী প্রবাহের সংক্ষিপ্ত রূপ কী?
  1. A.C
  2. D.C
  3. V.C
  4. R.C
সঠিক উত্তর:
D.C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
D.C
ব্যাখ্যা
দিক পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ ও তড়িচ্চালক শক্তি:  
- তড়িৎ কোষ থেকে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ প্রেরণ করলে তড়িৎ প্রবাহ বর্তনীর মধ্য দিয়ে সমমাত্রায় একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এ ধরনের তড়িৎ প্রবাহকে সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ (direct current) বলা হয়। 
- একমুখী প্রবাহকে সংক্ষেপে ডি.সি (D.C) বলা হয়। 
- ডি.সি ভোল্টেজের তরঙ্গরূপ সরলরেখা হয়। 

দিক পরিবর্তী প্রবাহ: 
- কোনো বর্তনীতে প্রবাহমাত্রা যদি একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বারবার বিপরীত মুখী হয় এবং প্রবাহমাত্রা একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সর্বাধিক ও সর্বনিম্ন মান প্রাপ্ত হয়, তাহলে এ ধরনের তড়িৎ প্রবাহকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ (alternating current) বলা হয়। 
- একে সংক্ষেপে এ.সি. (A.C) বলা হয়। 

দিক পরিবর্তী তড়িচ্চালক শক্তি: 
- যে তড়িচ্চালক শক্তির ক্রিয়ায় কোন বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান প্রাপ্ত হয়, সেই তড়িচ্চালক শক্তিকে দিক পরিবর্তী তড়িচ্চালক শক্তি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
এক্সরে কোনটিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে? 
  1. কাচ
  2. প্লাস্টিক
  3. ফটোগ্রাফিক প্লেট
  4. কাঠ
সঠিক উত্তর:
ফটোগ্রাফিক প্লেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোগ্রাফিক প্লেট
ব্যাখ্যা
এক্সরে (X-ray): 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
- পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
- গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার। 
যথা- 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

এক্সরের ধর্ম: 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
পৃথিবীর বাইরে কোথায় প্লাজমার আধিক্য দেখা যায়? 
  1. পাহাড়ের চূড়ায়
  2. ভূগর্ভস্থ স্থানে
  3. সমুদ্রের গভীরে
  4. মহাবিশ্বে এবং সূর্যে
সঠিক উত্তর:
মহাবিশ্বে এবং সূর্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাবিশ্বে এবং সূর্যে
ব্যাখ্যা
প্লাজমা: 
- পদার্থের কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি অবস্থা হচ্ছে 'প্লাজমা'। 
- এটিও পদার্থের চতুর্থ একটি অবস্থা। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- এ অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 
- শিল্প কারখানায় প্লাজমা টর্চ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
শব্দের তীক্ষ্ণতা প্রধানত কোনটির উপর নির্ভর করে? 
  1. শব্দের অনুরণন
  2. শব্দের কম্পাঙ্ক
  3. শব্দের তীব্রতা
  4. শব্দের প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
শব্দের কম্পাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
শব্দের তীক্ষ্ণতা: 
- যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে কোন সুর চড়া বা সরু এবং কোন সুর মোটা বা খাদের তা বুঝা যায় তাকে শব্দের তীক্ষ্ণতা বলে। 
- শব্দের তীক্ষ্ণতা শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে। 
- কপাঙ্ক যত বেশি হবে শব্দের তীক্ষ্ণতা তত বৃদ্ধি পাবে। 
- ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট শব্দের তীক্ষ্ণতা বেশি ও বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট শব্দের তীক্ষ্ণতা কম। 
- পুরুষ অপেক্ষা মহিলা ও শিশুদের কন্ঠস্বরের কম্পাঙ্ক বেশি বলে তাদের স্বরও চড়া হয়। 
- মনে রাখতে হবে তীক্ষ্ণতা কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক হলেও দুটি এক জিনিস নয়। 
- কম্পাঙ্ক হলো যান্ত্রিক আন্দোলন যা নিখুঁতভাবে মাপা যায় আর তীক্ষ্ণতা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি। 
- কম্পাঙ্ক কারণ, আর তীক্ষ্ণতা তার ফল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
কুরি তাপমাত্রা চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব কতটুকু নষ্ট হয়?
  1. আংশিক নষ্ট হয়
  2. দুই ভাগের এক ভাগ
  3. সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
  4. চার ভাগের এক ভাগ
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

চুম্বকত্ব: 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম, কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 


চৌম্বক মেরু: 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মের N ও S দেখানো হয়েছে। N = North Pole (উত্তরমেরু), S = South Pole (দক্ষিণমেরু)। 

চৌম্বক অক্ষ: 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। চিত্রে AB দন্ডচুম্বকের অক্ষ। 

কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক বা চৌম্বক ভ্রামক: 
- কোনো একটি চুম্বকের যে কোনো একটি মেরু শক্তি এবং চৌম্বক দৈর্ঘ্যের গুণফলকে ঐ চুম্বকের দ্বিমেরু ভ্রামক বা চৌম্বক ভ্রামক বলে। 
- কোনো চুম্বকের মেরু শক্তি m এবং চৌম্বক দৈর্ঘ্য 2l হলে চৌম্বক ভ্রামক M = m (2l)। 
- চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামকের একক অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)। 

চৌম্বক ফ্লাক্স বা চৌম্বক আবেশ: 
- কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাকে চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্ব বা চৌম্বকক্ষেত্র ভেক্টর বলে। 
- চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্বের একক ওয়েবার/মি2 (Wbm-2) বা টেসলা। 

চৌম্বক দৈর্ঘ্য: 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। চিত্রে NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

চৌম্বক মধ্যতল: 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলন্ত কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

ভৌগলিক মধ্যতল: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমেরু বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
'নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য' এই কথা কে প্রমাণ করেন?
  1. ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
  2. ওটো হান ও আইনস্টাইন
  3. আইনস্টাইন ও স্ট্রেসম্যান
  4. স্ট্রেসম্যান ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু
সঠিক উত্তর:
ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
ব্যাখ্যা
ভৌত বিজ্ঞানের অবদান: 
- বিংশ শতাব্দিীতে পদার্থবিজ্ঞানে আরো নতুন নতুন আবিষ্কার যুক্ত হয়। 
- ম্যাক্স প্ল্যাংক বিকিরণ সম্পর্কীত কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রদান করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত ভর-শক্তির সূত্র (E=mc2) আবিষ্কার করেন। 
- ১৯১১ সালে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব এবং নীলস্ বোর হাইড্রোজেন পরমাণু ইলেকট্রন স্তরের ধারণা প্রদান করেন। পরবর্তীতে নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে আরো উন্নতি সাধিত হয়।
- ১৯৩৮ সালে ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান প্রমাণ করেন যে, নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। 
অর্থাৎ, ফিশনের ফলে একটি বড় ভর সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রায় সমান ভর বিশিষ্ট দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং প্রচুর শক্তি উৎপাদিত হয়। এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে নিউক্লিয় বোমা ও নিউক্লিয় চুল্লীর উদ্ভাবন হয়। নিউক্লিয়াস বিভাজন থেকে যে শক্তি উৎপাদন হয়, সেই শক্তির পরিমাণ বিপুল। এজন্য বর্তমান আধুনিক বিশ্ব নিউক্লিয় শক্তিকে শক্তির একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে। 
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার তত্ত্ব বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব নামে পরিচিত। তার নামানুসারে বিশেষ এক শ্রেণির মৌলিক কণার নামকরণ করা হয়েছে 'বোসন' নামে। 
- ভারতীয় নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেংকটারমন রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন। 
- এছাড়া পাকিস্তানী বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম তাড়িতচুম্বক বল ও দুর্বল পারমাণবিক বলের অভিন্নতা প্রদান করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
কোন পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না?
  1. লোহা
  2. প্লাস্টিক
  3. তামা
  4. জার্মেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক
ব্যাখ্যা

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে, যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
যদি রৈখিক বিবর্ধন m < 1 হয়, তাহলে প্রতিবিম্ব কীরূপ হবে?
  1. খর্বিত হবে
  2. বিবর্ধিত হবে
  3. সমান হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
সঠিক উত্তর:
খর্বিত হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খর্বিত হবে
ব্যাখ্যা
রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। 
- কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L° এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য L
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/L° । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
• m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
বিটা কণিকার চার্জ কী? 
  1. নিরপেক্ষ চার্জ
  2. ধনাত্মক চার্জ
  3. ঋণাত্মক চার্জ
  4. কোনো চার্জ নেই
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক চার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক চার্জ
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্মি। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। 
যথা: প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা। 

বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। বিটা কণিকা খুব হালকা। এরা ইলেকট্রন প্রবাহ। এর ভর 9.1×10-31 কেজি। 
২। বিটা কণিকা ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান - 1.6×10-19 কুলম্ব। 
৩। তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়। এর বেগ প্রায় 0.9×108 ms-1 পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
৪। এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশি। 
৮। জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
অ্যাম্পিয়ারের সংজ্ঞা কী? 
  1. 1 কিলোগ্রামের ভর
  2. শূন্য মাধ্যমে 1 মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি পরিবাহকের তড়িৎপ্রবাহ
  3. 1 পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার 1/273.16 ভাগ
  4. বায়ুশূন্য স্থানে আলো 1/299,792,458 সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে 1 মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি পরিবাহকের তড়িৎপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে 1 মিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি পরিবাহকের তড়িৎপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
এস.আই. (SI) এর মৌলিক একক সমূহ: 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলোর জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ নিম্নে বর্ণনা করা হল- 
১। দৈর্ঘ্যের একক: মিটার 
- বায়ুশূন্য স্থানে আলো 1/299,792,458 সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, সে দূরত্ব কে 1 মিটার (m) বলা হয়। 

২।  ভরের একক: কিলোগ্রাম 
- ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস এন্ড মেজারস্ এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি একটি সিলিন্ডারের ভরকে 1 কিলোগ্রাম (kg) বলে। 
- এই সিলিন্ডারটির উচ্চতা ও ব্যাস উভয়েই 3.9 cm  । 

৩। তড়িৎ প্রবাহের একক: অ্যাম্পিয়ার 
- শূন্য মাধ্যমে 1m দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষনীয় প্রস্থচ্ছেদের দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎপ্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে 2×10-7 N নিউটন বল উৎপন্ন হয় তাকে 1 ampere বলে। 

 ৪। সময়ের একক: সেকেন্ড 
- একটি সিজিয়াম পরমানুর (133Cs) 9,192,631,770 টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময়ের প্রয়োজন হয় তাকে 1 সেকেন্ড (s) বলে। 

৫। তাপমাত্রার একক: কেলভিন 
- 1 পানির ত্রৈধ বিন্দুর (triple point) তাপমাত্রার 1/273.16 ভাগকে 1 কেলভিন (K) বলে। 

৬ । দীপন তীব্রতার একক: ক্যান্ডেলা 
- ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে 540×1012 হার্জ কম্পাঙ্কের এক 1 বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরোডিয়ান ঘনকোণে 1/863 ওয়াট। 

৭। পদার্থের পরিমাণের একক: মোল 
- যে পরিমাণ পদার্থে 0.012 কিলোগ্রাম কার্বন-১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট (যেমন পরমাণু, অণু, আয়ন, ইলেকট্রন ইত্যাদি বা এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ) থাকে তাকে 1 মোল বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
প্লবতার মান পরিমাপের জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. তরলের ঘনত্ব
  2. বস্তুর আয়তন
  3. তরল বা বায়বীয় পদার্থের উচ্চতা
  4. বস্তুর অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজন
সঠিক উত্তর:
বস্তুর অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজন
ব্যাখ্যা
প্লবতা: 
- তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোন বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে ঊর্ধ্বমুখী বল বা চাপ প্রয়োগ করে, এই ঊর্ধ্বমুখী বলকে বলা হয় প্লবতা। 
- পানির মধ্যে একটি ফুটবল ডুবিয়ে ছেড়ে দিলে দেখা যায়, বলটিকে পানি কীভাবে ঊর্ধ্বমুখী ধাক্কা দিচ্ছে। 
- প্লবতার মান বস্তুর নিমজ্জিত অংশ কর্তৃক অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান হয়। 

প্লবতার মান: 
- তরলের মধ্যে একটি কঠিন বস্তু নিমজ্জিত করলে বস্তুর প্রতিটি বিন্দুতে তরল সর্বমুখী চাপ প্রয়োগ করে। 
- নিমজ্জিত বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বল বা প্লবতা বস্তু কর্তৃক অপসারিত প্রবাহীর ওজনের সমান। 
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলের কারণে নিমজ্জিত বস্তুর ওজন কমে যায় বা ওজন হারায় বলে প্রতীয়মান হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
কোন বিজ্ঞানী আলোর প্রতিসরণ সম্পর্কিত 'অপটিকস' নামক গ্রন্থটি লিখেছিলেন?
  1. এরিস্টটল
  2. টলেমি
  3. ইউক্লিড
  4. লুক্রেটিয়াস
সঠিক উত্তর:
টলেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টলেমি
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রীক ও হেলেনিক তত্ত্ব: 
- খ্রিষ্ট পূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীকরা বিশ্বাস করতেন সব বস্তু আগুন, বায়ু, মাটি ও পানি এই ৪টি মূল উপাদানে তৈরি হয়। 
- দেবী আফ্রেদিতি এই চার উপাদান দিয়ে মানুষের চোখ সৃষ্টি করেছেন। তিনি চোখের মধ্যে আগুন জ্বালান। এটি চোখ থেকে বেরিয়ে আসে এবং বস্তুর উপর পড়লে বস্তু দেখা যায়, এটি সত্য হলে রাতের বেলা দেখতে না পাওয়ার কারণ নাই। 

- খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে পিথাগোরাস মনে করতেন দৃশ্যমান বস্তু থেকে আলো উৎপন্ন হয়। 
- আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে ইউক্লিড অপটিকা নামে একটি বই লিখেন। তিনি সিদ্ধান্ত দেন আলো সরলরেখায় চলে। তিনি আলোর প্রতিফলনের সূত্র দেন, গাণিতিক ভাবে সূত্রটি প্রমাণ করেন। চোখ থেকে রশ্মি বেরিয়ে দেখতে সাহায্য করে এটি তিনি মেনে নিতে পারেন নাই। তিনি প্রশ্ন তোলেন তাহলে বন্ধ চোখ খুললেই আকাশের অসীম দূরের তারা দেখা যায় কিভাবে? 

- খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে এরিস্টটল বৃষ্টি কণার মধ্যে আলোর প্রতিসরণের ফলে রঙধনু সৃষ্টি হয় উল্লেখ করেন। ইউক্লিড আলোর প্রতিফলনের সূত্র এবং দর্পণের ধর্ম বর্ণনা করেন। আলোর প্রতিসরণ প্রক্রিয়া পরিমাপ করেন, কিন্তু তিনি এর গাণিতিক সূত্র জানতেন না। 

- টলেমি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে অপটিকস নামে একটি বই লিখেন, তাতে তিনি আলোর প্রতিসরণ সম্পর্কে বর্ণনা দেন। প্রথম আলোক সম্পর্কীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তথ্যাদি সংগ্রহ করেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন চোখ থেকে আলো এসে বস্তুর উপর পড়ে বলে দেখা যায়। 

- খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫ অব্দে রোমান দার্শনিক লুক্রেটিয়াস উল্লেখ করেন সূর্যের আলো এবং তাপ অতি ক্ষুদ্র পরমাণু দ্বারা গঠিত। এগুলো যখন নির্গত হয় তৎক্ষণাৎ নিমেষে মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে ছুটে যায়। এটি কণা তত্ত্বের সদৃশ হলেও এই ধারণা গৃহীত হয় নাই। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
স্ক্রু গজের সাহায্যে কী পরিমাপ করা যায়?
  1. তড়িৎ প্রবাহ
  2. তরলের ঘনত্ব
  3. বড় বস্তুর দৈর্ঘ্য
  4. ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- এই যন্ত্রে U আকৃতির একটি কাঠামো থাকে। 
- এই U আকৃতি বিশিষ্ট কাঠামোর দুই বাহুর প্রান্তে দুটি নল সংযুক্ত থাকে। 
- একটি নলের মধ্য দিয়ে কীলক বা দন্ড A স্থায়ীভাবে আটকানো থাকে এবং অপর বাহুতে রয়েছে একটি ফাঁপা নল C, যার মধ্য দিয়ে একটি দন্ড B সংযুক্ত থাকে যা সামনে পেছনে সরানো যায়। 
- C নলে মিলিমিটারে দাগাঙ্কিত একটি রৈখিক স্কেল থাকে। 
- C নলের বাইরের অংশ অপর একটি ফাঁপা নল দ্বারা বেষ্টিত থাকে যার বহিঃপ্রান্তে একটি বেলনাকৃতির টুপি T থাকে। 
- T এর কিনারকে সাধারণত 50 বা 100 ভাগ করা হয়। 
- যখন B স্থায়ী কীলক বা সমতল প্রান্ত বিশিষ্ট দন্ড A কে স্পর্শ করে তখন বৃত্তাকার স্কেল শূন্য দাগ ও রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগ মিলে যায়। 
- যদি দুটি স্কেলের শূন্য দাগ মিলে না যায় তাহলে বুঝতে হবে যন্ত্রটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। 


- টুপি T একবার ঘুরালে যতটুকু সরণ ঘটে এবং রৈখিক স্কেল বরাবরে যে দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে তাকে ক্রুর পিচ (pitch) বলা হয়। 
- বৃত্তাকার স্কেলের মাত্র একভাগ ঘুরালে, এর প্রান্ত যতটুকু সরে আসে তাকে যন্ত্রের লঘিষ্ট গণন (Least count) L.C বলা হয়। 
- স্পষ্টত যন্ত্রের পিচকে বৃত্তাকার স্কেলের মোট ভাগ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যন্ত্রের লঘিষ্ঠ গণন পাওয়া যায়। 
সুতরাং, লঘিষ্ঠ গণন = পিচ/বৃত্তাকার স্কেলের ভাগের সংখ্যা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বৃদ্ধি পেলে কী ঘটবে? 
  1. তাপমাত্রা কমে যাবে
  2. পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমবে
  3. পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বাড়বে
  4. বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কমে যাবে
সঠিক উত্তর:
পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বাড়বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বাড়বে
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 
যেমন- 
• কোনো স্থানে ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বুঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ জলীয় বাষ্প বায়ু থেকে হালকা। এক্ষেত্রে ঐস্থানে বা এলাকায় বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা। 
• যদি কোনো স্থানে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ খুব কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে চারিদিকে বায়ুমণ্ডলের চাপ সহসা কমে গেছে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তখন পার্শ্ববর্তী উচ্চ চাপের এলাকা থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঐ স্থানে ছুটে আসবে। সুতরাং ঐ স্থানে দ্রুত ঝড়ের সম্ভাবনা। 
• ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে বা এলাকায় বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প অপসারিত হয়ে শুষ্ক বাতাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুতরাং আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। এভাবে ব্যারোমিটারের পাঠ দেখে আহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
কোন বিজ্ঞানীকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়?
  1. হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  2. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও গ্যালিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও গ্যালিলি
ব্যাখ্যা
ভৌত বিজ্ঞানে বিজ্ঞানীদের অবদান: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেল্লার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 
- গ্যালিলিও গ্যালিলিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 
- আইজ্যাক নিউটন ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 
- অষ্টাদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আবিষ্কার ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ঘটায়। 
- জেমস্ ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। 
- হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন। 
- পরবর্তীতে মাইকেল ফ্যারাডে, হেনরী, লেঞ্জ প্রমূখ বিজ্ঞানীগণ চৌম্বকীয় ক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপাদন করার তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। এটি ছিল যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরের কৌশল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।