পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) ভাষা আন্দোলন, ii) ১৯৫৪-সালের নির্বাচন, iii) ১৯৫৬ - এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন, iv) ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
১৯৫৮ সালের কত তারিখে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করা হয়?
  1. ১১ সেপ্টেম্বর
  2. ১৪ সেপ্টেম্বর
  3. ৭ অক্টোবর
  4. ২৭ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
৭ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা নির্বাচিত সংসদীয় সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- কিন্তু উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান এতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

⇒ ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন চাওয়া হয়েছে?
  1. জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার ১১ নং দফায় ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দাবি জানানো হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৫৬ সালের সংবিধান কতদিন স্থায়ী হয়েছিল?
  1. প্রায় ৬ মাস
  2. প্রায় ১.৫ বছর
  3. প্রায় ২ বছর
  4. প্রায় ২.৫ বছর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২.৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২.৫ বছর
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র। 
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন। 
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- আলোচনার পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ২রা মার্চ, ১৯৫৬ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

⇒ এ শাসনতন্ত্রের অধীনে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু এ শাসনতন্ত্র যথার্থভাবে কাজ করতে পারেনি। এ শাসনতন্ত্র দিনে দিনে অকার্যকর হয়ে পড়ে। শাসনতন্ত্রের এ ব্যর্থতার জন্যে (পশ্চিম পাকিস্তানের) শাসকবর্গই দায়ী ছিলেন।
- যার পরিপ্রেক্ষিতে শাসনতন্ত্র রচনার আড়াই বছরের মধ্যে ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর এটি বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং সামরিক শাসন জারী করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে কতটি আসনে নির্বাচন হয়?
  1. ২৫০টি
  2. ৩০০টি
  3. ৩০১টি
  4. ৩০৯টি
সঠিক উত্তর:
৩০৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০৯টি
ব্যাখ্যা
প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে ৩০৯টি আসনে নির্বাচন হয়।

⇒ নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে (আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩টি) জয়ী হয় এবং প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন যা প্রদত্ত ভোটের ২৭% মাত্র।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

⇒ ১৯৫৩ সালে  ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন সালের প্রভাত ফেরিতে সর্বপ্রথম একুশের গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটি গাওয়া হয়?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির রচয়িতা 'আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী'।
- ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে এই গানটি ছিল তখনকার ছাত্র-যুবক-জনতার মুখে মুখে।
- ১৯৫৪ সালের প্রভাত ফেরিতে প্রথম গাওয়া হয় আলতাফ মাহমুদের সুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানটি এবং এটিই এখন গানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুর। 

উল্লেখ্য,
- এই গানটি প্রথম হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি'(১৯৫৩) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
- বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।
- ঢাকা কলেজের নতুন নতুন ছাত্র ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) যুগান্তর।
.
কোন সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে?
  1. ১৯৫৬ সাল
  2. ১৯৭২ সাল
  3. ১৯৯৯ সাল
  4. ২০০০ সাল
সঠিক উত্তর:
২০০০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০০ সাল
ব্যাখ্যা
ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।
- ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আকরাম খাঁ
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. মুক্তার আলি
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আকরাম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আকরাম খাঁ
ব্যাখ্যা
পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার ভাষা কমিটির সভাপতি ছিলেন মাওলানা আকরাম খাঁ। 

⇒ পূর্ব বাংলার জনগণের আন্দোলনের মুখে প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁকে সভাপতি এবং কবি গোলাম মোস্তফাকে সম্পাদক করে একটি সংস্কার কমিটি গঠন করে।
- দেড় বছর ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
- এই রিপোর্টে বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণমালার প্রচুর সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়।
- নতুন ভাষার নামকরণ হয় 'সহজ বাংলা'।
- কমিটি রোমান বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রশ্নকে কমপক্ষে বিশ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়।
- এ সময়ের মধ্যে উর্দু ভাষাকেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানায়।
- এই রিপোর্টটি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পছন্দ হয়নি বলেই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কবে শপথ গ্রহণ করে?
  1. ১ এপ্রিল, ১৯৫৪
  2. ২ এপ্রিল, ১৯৫৪
  3. ৩ এপ্রিল, ১৯৫৪
  4. ৪ এপ্রিল, ১৯৫৪
সঠিক উত্তর:
৩ এপ্রিল, ১৯৫৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ এপ্রিল, ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকার:
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসসিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আর মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে। বাকি আসন অন্যরা পায়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক সরকার গঠনের রায় লাভ করে।
- জনগণই যে 'সকল ক্ষমতার উৎস'-এই নির্বাচন তা প্রমাণ করে।
- জনগণ এ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান করে এবং পূর্ববাংলায় এর শাসনের অবসান ঘটায়।

⇒ ১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলি কাগজের কলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
- উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের ইন্ধনে ঐ দাঙ্গা হয়েছিল। শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দি করা হয়। বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মাধ্যমে পূর্ববাংলার প্রতি পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর চরম বৈরী মনোভাব প্রকাশ পায়। পূর্ববাংলায় পাকিস্তানের অরাজক শাসন পর্ব শুরু হয়। কেন্দ্র এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হতে থাকে। দেশ সামরিক শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
সর্বস্তরে 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' প্রণয়ন করা হয় -
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আঘাতটাই আসে বাংলা ভাষার ওপর।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, যা অঙ্কুরিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরিপূর্ণতা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতার পরপর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য একাধিক পরিপত্র জারি করা হয়।
- সর্বোপরি ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন সংসদ কর্তৃক পাশ হয়।

⇒ ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হবে।
- এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হবে।’

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১.
মারি চুক্তি কত সালে সম্পাদিত হয়?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
মারি চুক্তি:
- স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ পাকিস্তান সংবিধান রচনায় ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় গণপরিষদ ১৯৫৫ সালের ৭ জুলাই মারিতে প্রথম অধিবেশনে মিলিত হয়।
- এ অধিবেশনে পাকিস্তানের সকল প্রদেশের নেতাগণ, বিশেষ করে মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ ও যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ সংবিধান সম্পর্কে একটি আপোস চুক্তি সম্পাদন করেন।
- এটি 'মারি চুক্তি' নামে খ্যাত।
- এ চুক্তিতে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয় অঞ্চলের সংসদ সদস্যগণ একমত হন।
- মারি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, আতাউর রহমান খান ও মোস্তাক হোসেন গুরমানী।
- মারি চুক্তি সম্পাদনের পর ১৯৫৫ সালের ১১ আগস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ আলী প্রধানমন্ত্রী হন।
- তার মন্ত্রিপরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন এ. কে. ফজলুল হক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিরোধী দলের নেতা।

⇒ মারি চুক্তির আলোকে ১৯৫৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের সকল প্রদেশকে একত্রিত করে একটি প্রদেশ গঠন করা হয়।
- অতঃপর ১৯৫৬ সালের ৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় গণপরিষদে 'পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের' বিল উত্থাপন করা হয়।
- ২ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দিলে সংবিধান বলবৎ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।
iii) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
১২.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে পাকিস্তানকে কী নামে ঘোষণা করা হয়?
  1. পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র
  2. পাকিস্তান রেজোলিউশন
  3. ইসলামাবাদ ঘোষণা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।

⇒ ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়। এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- এ গণপরিষদ গঠিত হয় ৮০ জন সদস্য সমন্বয়ে, যাদের মধ্যে ৪০ জন ছিলেন পূর্ববাংলার এবং বাকি ৪০ জন পশ্চিম পাকিস্তানের সদস্য।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। 
- অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ২৩ মার্চে এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ থেকে পাকিস্তানের নতুন সংবিধান কার্যকর হয়।
- পাকিস্তানের সংবিধান, ১৯৫৬ পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ২৩৪টি অনুচ্ছেদ, ১৩টি ভাগ এবং ৬টি তফসিল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- পাকিস্তানের সংবিধানে ছিল একটি দীর্ঘ প্রস্তাবনা, যাতে পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকান্ড সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৩.
২১শে ফেব্রুয়ারির পূর্বে ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে কোন দিনটিকে পালন করা হয়?
  1. ৩ মার্চ
  2. ৭ মার্চ
  3. ১১ মার্চ
  4. ১৩ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ
ব্যাখ্যা
প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস:
- ২১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতো।
- ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে ১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে পালিত হয়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ হিসেবে।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলায় বক্তব্য প্রদান ও সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব দাখিল করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি গণপরিষদে আলোচিত হয়।
- এদিন তমিজুদ্দিন খানের নেতৃত্বে গণপরিষদের মুসলিম লীগের সব মুসলিম সদস্য একযোগে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্র ধর্মঘট ও হরতাল পালিত হয় পূর্ব বাংলার প্রায় সবগুলো জেলা শহরেই।
- ১১ মার্চের বিক্ষোভ কর্মসূচি, ছাত্র ধর্মঘটের মধ্য দিয়েই পাকিস্তানের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গিয়েছিল।
- তীব্র আন্দোলনের মুখে খাজা নাজিমুদ্দীন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আসন্ন ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ৮টি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি সই করতে বাধ্য হন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের এ ঘটনার পরের বছর, তথা ১৯৪৯ সালে প্রথমবারের মতো দিনটি ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত আন্দোলনের আগপর্যন্ত, অর্থাৎ ১৯৫১ সাল পর্যন্ত দিনটি পালিত হতো।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
১৪.
যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে পত্রপত্রিকায় কী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল?
  1. ব্যালট জয়
  2. ভোট–বিপ্লব
  3. ব্যালট–বিপ্লব
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ব্যালট–বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যালট–বিপ্লব
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের বিজয়:
- যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে পত্রপত্রিকায় ব্যালট–বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

⇒ পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাঙালি জাতি, বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি এবং বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে মুসলিম লীগ নেতৃত্বের কার্যকলাপ ও পাকিস্তানি শাসকদের ছয় বছরের শোষণের বিরুদ্ধে এই নির্বাচন ছিল 'ব্যালট বিপ্লব'। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিভিন্ন উপদল, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যর্থ শাসন, অঞ্চলভেদে বৈষম্যমূলক নীতি প্রভৃতির কারণে এই সময়ে পূর্ব বাংলায় আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামী, পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস প্রভৃতি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য স্ব-স্ব জনসমর্থন যাচাইয়ের একটি সুযোগ সৃষ্টি করে। পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে এই নির্বাচন সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করে কে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. ফিরোজ খান নুন
  2. আইয়ুব খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. লিয়াকত আলী খান
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন জারি:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।

উল্লেখ্য,
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গণপরিষদে প্রথম প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. আবুল কাসেম
  3. মাওলানা আব্দুর রহমান তর্কবাগীশ
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গণপরিষদে প্রথম প্রস্তাব উত্থাপন করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের  প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
- এই অধিবেশনে বিরোধী দল দুটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন।"
- "প্রথম প্রস্তাবটিতে বৎসরে অন্তত একবার ঢাকায় পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল ভাষা বিষয়ক। এটিতে উর্দু ও ইংরেজির সাথে বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করার দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পূর্ব বাঙলার প্রতিনিধি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।"
- পরে বিভিন্ন পর্যায়ে মি. দত্ত মোট তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন গণপরিষদে, যার প্রতিটিতেই বাংলাকে সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব ছিল।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাবটি উত্থাপনের একদিন পর ২৫শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে তুমুল বিতর্ক হয়। প্রস্তাবটির তীব্র বিরোধিতা করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান।
- মি. দত্তের প্রস্তাবটিই ছিল বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণের জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব।
- পরে পাকিস্তানের শাসকরা ১৯৫৬ সালে দেশটির প্রথম শাসনতন্ত্রে উর্দুর সাথে বাংলাকেও সরকারি ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিলো, যার মাধ্যমে বাংলা সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলো।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
১৭.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কত দিন ক্ষমতায় ছিল?
  1. ৫৪ দিন
  2. ৫৬ দিন
  3. ৬২ দিন
  4. ৬৫ দিন
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকার:
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসসিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আর মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে। বাকি আসন অন্যরা পায়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক সরকার গঠনের রায় লাভ করে।
- জনগণই যে 'সকল ক্ষমতার উৎস'-এই নির্বাচন তা প্রমাণ করে।
- জনগণ এ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান করে এবং পূর্ববাংলায় এর শাসনের অবসান ঘটায়।

⇒ ১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- কেন্দ্রীয় সরকার '৫৪ সালের ৩০মে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত এবং পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের ইন্ধনে ঐ দাঙ্গা হয়েছিল।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দি করা হয়। বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
- এর মাধ্যমে পূর্ববাংলার প্রতি পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর চরম বৈরী মনোভাব প্রকাশ পায়।
- পূর্ববাংলায় পাকিস্তানের অরাজক শাসন পর্ব শুরু হয়। কেন্দ্র এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হতে থাকে। দেশ সামরিক শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮.
ভাষা আন্দোলনের কোন শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. আবদুল জব্বার
  2. আবদুস সালাম
  3. আবুল বরকত
  4. রফিক উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকত
ব্যাখ্যা
আবুল বরকত:
- ভাষা আন্দোলনের আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

⇒ ভাষা শহিদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৩ জুন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে সপরিবার ঢাকায় চলে আসেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চতুর্থ হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল জব্বার সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন।
- রফিক উদ্দীন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
- আবদুস সালাম ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।