পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি টপিক - আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান i) জাতিসংঘ - History, মূল সংস্থা, প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ব্যক্তি, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও নোবেল পুরস্কার, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (গুরুত্বপূর্ণগুলো), জাতিসংঘ মিশন সমূহ; ii) Bretton Woods - সংস্থাসমূহ [বিশ্বব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও GATT/WTO)। ------------------------- [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
প্রতি বছর কয়টি দেশ ECOSOC পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়?
  1. ১০টি
  2. ১৫টি
  3. ১৮টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC):
- অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ইস্যু নিয়ে পলিসি নির্ধারণ, সময় ও সদস্যদের আলােচনার প্রধান অঙ্গ হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC)।
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য উদ্ভাবনমূলক ধারণা (Innovative idea) নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় প্লাটফর্ম হলো এই পরিষদ।
- জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই পরিষদ দেশসমূহকে দরিদ্র, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উন্নত এই ৪টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে থাকে।
- জাতিসংঘ সনদের দশম অধ্যায় (৬১ - ৭২নং অনুচ্ছেদ) - এ ECOSOC সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ১৮টি।
- বর্তমান সদস্য: ৫৪টি।
- ১৯৬৫ সালে জাতিসংঘ সনদের তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে সদস্য সংখ্যা ৫৪ হয়।
- প্রতি বছর ১৮টি সদস্য দেশ ৩ বছরের জন্য এই পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়।
- বছরে কমপক্ষে দুইবার এ পরিষদের অধিবেশন বসে নিউইয়র্কে অথবা জেনেভায়।

⇒ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ECOSOC) এর অধীন ৫টি আঞ্চলিক কমিশন রয়েছে।
- এগুলো হলো:
১) United Nations Economic Commission for Europe (ECE);
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
২) United Nations Economic Commission for Africa (ECA);
- সদর দপ্তর: আদ্দিস আবাবা, ইথিওপিয়া।
৩) United Nations Economic Commission for Latin America and the Caribbean (ECLAC);
- সদর দপ্তর: সান্টিয়াগো, চিলি।
8) Economic and Social Commission for Asia and the Pacific (ESCAP);
- সদর দপ্তর: ব্যাংকক, থাইল্যান্ড।
৫) Economic and Social Commission for Western Asia (ESCWA);
- সদর দপ্তর: বৈরুত, লেবানন।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
.
স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) কী?
  1. কোনো দেশের সরকারের ডিজিটাল মুদ্রা
  2. আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের একটি সিস্টেম
  3. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি বিশেষ মুদ্রা ইউনিট
  4. একটি দেশীয় মুদ্রা
ব্যাখ্যা
SDR:
- SDR-এর পূর্ণরূপ: Special Drawing Rights.
- SDR হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) দ্বারা তৈরি একটি বিশেষ ধরনের মুদ্রা।
- এটা কোনো দেশের স্থানীয় মুদ্রা নয় বরং একটি আন্তর্জাতিক "মুদ্রা ইউনিট" যা বিভিন্ন দেশ তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করতে পারে।
- এটা এমনভাবে তৈরি হয়েছে যেন বিশ্বের দেশগুলো একে ব্যবহার করে তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করতে পারে।
- উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনো দেশের মুদ্রার দাম কমে যায় বা তারা আর্থিক সংকটে পড়ে, তখন তারা SDR ব্যবহার করে IMF থেকে সাহায্য নিতে পারে।

⇒ SDR এর মূল্য কয়েকটি প্রধান মুদ্রা: মার্কিন ডলার (USD), ইউরো (EUR), চীনা রেনমিনবি (CNY), জাপানি ইয়েন (JPY) এবং ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) ওপর নির্ভর করে।
- এটা সরাসরি কোনো দেশের মুদ্রার মতো ব্যবহার হয় না, কিন্তু আন্তর্জাতিক লেনদেন বা দেশগুলোর মধ্যে অর্থ সাহায্য দেওয়ার জন্য কাজ করে।
= অর্থাৎ, SDR হল IMF এর তৈরি একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা যা দেশের জন্য সাহায্য বা সংকট কাটাতে ব্যবহৃত হয়।
- এর মাধ্যমে একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে যায়।
- নিয়মিত এসডিআরের মূল্যমান হালনাগাদ করা হয়।
- SDR-এর মান প্রতিদিন লন্ডনের সময় দুপুরের দিকে পর্যবেক্ষণ করা স্পট এক্সচেঞ্জ হারের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়।
- IMF ১৯৬৯ সালে SDR গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগষ্ট যখন মার্কিন ডলারের সাথে স্বর্ণের সম্পর্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় তখন ব্রেটন উডস চুক্তি ভেঙ্গে পড়ে।
- যার ফলে ১৯৭৩ সালে SDR-কে পুনরায় সজ্ঞায়িত করা হয় এবং সংযুক্ত করা হয় একের অধিক মূদ্রার ঝুড়ির সাথে।
- মূলত তিনটি উৎস থেকে আইএমএফ তহবিল বা অর্থ সংগ্রহ করে।
- সদস্য চাঁদা, ঋণ গ্রহণ ও দ্বিপক্ষীয় ঋণচুক্তি।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।
.
জাতিসংঘ সনদের কত নং অনুচ্ছেদে নিরাপত্তা পরিষদের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ২৩ নং
  2. ২৪ নং
  3. ২৭ নং
  4. ২৮ নং
ব্যাখ্যা
নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council):
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য নিয়ে গঠিত।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী পাঁচ পরাশক্তি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য।
- স্থায়ী সদস্য: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র।
- এই পাঁচ পরাশক্তিকে একত্রে পি-৫ নামে অভিহিত করা হয়।

⇒ জাতিসংঘ সনদের ২৮নং অনুচ্ছেদে নিরাপত্তা পরিষদের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
১. নিরাপত্তা পরিষদ এমনভাবে গঠন করতে হবে, যাতে তা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যেতে পারে। এই উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা পরিষদের প্রত্যেক সদস্য সর্বদাই পরিষদের কার্যালয়ে প্রতিনিধি রাখবে। ২. নিরাপত্তা পরিষদ নৈমিত্তিকভাবে যেসব অধিবেশনে মিলিত হবে তাতে সদস্যদের প্রত্যেকেই ইচ্ছা করলে সরকারের প্রতিনিধি অথবা বিশেষভাবে ভারপ্রাপ্ত অন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে।
৩. সংগঠনটির সদস্য কার্যালয়ে ছাড়াও নিরাপত্তা পরিষদ তার বিচারে কার্যনির্বাহের জন্য প্রকৃষ্টতম স্থানে অধিবেশন আহ্বান করতে পারবে।

অন্যদিকে,
⇒ জাতিসংঘ সনদের ২৩ নং অনুচ্ছেদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে।
- জাতিসংঘ সনদের ২৪ নং অনুচ্ছেদে নিরাপত্তা পরিষদের কাজ, দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- জাতিসংঘ সনদের ২৭ নং অনুচ্ছেদে নিরাপত্তা পরিষদের ভোটিং পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: UN Security Council ওয়েবসাইট।
.
ব্রেটন উডস সম্মেলনে মোট কতটি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল?
  1. ২৯টি
  2. ৩১টি
  3. ৩৯টি
  4. ৪৪টি
ব্যাখ্যা
Bretton Woods Conference:
- ১৯৪৪ সালের ১-২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে ব্রেটন উডস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- বিশ্বের ৪৪টি দেশের নেতারা এই সম্মেলনে অংশ নেন।
- এই সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস।
- তাদের দুই জনকে World Bank ও IMF- এর Founding Fathers বলা হয় ৷
- সেই সম্মেলনে দুটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: আইএমএফ এবং পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংক বা বিশ্বব্যাংক।
- ব্রেটন উডস সম্মেলনে জন্ম হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংকসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেগুলো সম্মিলিতভাবে ব্রেটন উডস ইনস্টিটিউশনস নামে পরিচিত। 

⇒ ১৯১৮ থেকে ১৯৩৯ সাল অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়কে ওয়ার পিরিয়ড বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
- যে সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির হালচাল ছিল অস্থিতিশীল।
- উল্লম্ফন মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক বাণিজ্যে সীমাবদ্ধতা, বিদেশি শেয়ারবাজারে ফটকাবাজি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক রিজার্ভে উত্থান-পতন, স্বর্ণের সংকট, মুদ্রামান কমে যাওয়া- বৈশ্বিক অর্থনীতি ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত ছিল।
- এ সমস্যা সমাধানে একটি বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করা হয়।
- আইএমএফ-এর প্রতিষ্ঠাতারা স্বর্ণ বিনিময়কে আদর্শ মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করেন যা গোল্ড এক্সচেঞ্জ স্ট্যান্ডার্ড নামে পরিচিত (gold exchange standard)।

উৎস: i) World Bank Group.
ii) U.S. Department of State (.gov).
.
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত কোনটি?
  1. জাতিসংঘ বিচারিক কাউন্সিল
  2. আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত
  3. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত
  4. আন্তর্জাতিক স্থায়ী বিচারিক আদালত
ব্যাখ্যা
International Court of Justice (ICJ):
- ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত।
- জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত হলো আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত।
- এটি জাতিসংঘের প্রধান বিচার বিভাগীয় সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৪৫ সালে (সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন দ্বারা)।
- কার্যক্রম শুরু হয়: ১৯৪৬ সালে।
- সদরদপ্তর: হেগ নেদারল্যান্ডস।
- এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট নওয়াফ সালাম।

⇒ বিচারক সংখ্যা: আদালতের সদস্য সংখ্যা ১৫ জন এবং তারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদ দ্বারা নির্বাচিত হন।
- একজন বিচারক নির্বাচিত হন ৯ বছরের জন্য ও একজন সভাপতি নির্বাচিত হন ৩ বছরের জন্য।

⇒ কাজ: আদালত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কিত পরামর্শ প্রদান করে।
- বিরোধ নিষ্পত্তি: রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে যে কোনো আন্তর্জাতিক আইনের বিষয় নিয়ে বিরোধ থাকলে আদালত সেগুলোর নিষ্পত্তি করে।
- আইনি পরামর্শ: জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি পরামর্শ প্রদান।

উৎস: International Court of Justice ওয়েবসাইট।
.
IMF কোন শর্তে সদস্য দেশগুলোকে ঋণ প্রদান করে থাকে?
  1. সামরিক ব্যয়ের শর্ত
  2. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার শর্ত
  3. কর ও ট্যাক্সের পরিবর্তনের শর্ত
  4. অর্থনৈতিক সংস্কারের শর্ত
ব্যাখ্যা
IMF:
- IMF-এর পূর্ণরূপ: The International Monetary Fund বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
- গঠনের সিদ্ধান্ত: ৪ জুলাই, ১৯৪৪ সাল।
- আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা/চুক্তি কার্যকর: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ সাল।
- কার্যক্রম শুরু: মার্চ, ১৯৪৭।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: নিউ হ্যাম্পশায়ার, যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: Bretton Woods Conference।
- বর্তমান সদস্য: ১৯১টি।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক: ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।
- এর রিজার্ভ মুদ্রা: ৫টি (ডলার, পাউন্ড, ইয়েন, ইউরো ও ইউয়ান)।।

⇒ IMF-এর কাজ:
- IMF এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
- যখন কোনো দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে, তখন IMF সেই দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ঋণ প্রদান করে।
- IMF সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে তাদের উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেয়।
- IMF বিশ্ব অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে গবেষণা করে। তারা এসব তথ্য দেশগুলোকে প্রদান করে, যাতে দেশগুলি তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা সঠিকভাবে তৈরি করতে পারে।
- IMF সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মুদ্রা বিনিময়ের সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করে। তারা মুদ্রার মানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সহজ হয়।
- IMF সদস্য দেশগুলোকে সংকটকালীন সময়ে অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহৃত হতে পারে।
- প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা বৃদ্ধি: IMF সদস্য দেশগুলোর সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং অর্থনৈতিক পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

উৎস: IMF ওয়েবসাইট।
.
লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন -
  1. মেটারনিক
  2. রুজভেল্ট
  3. উড্রো উইলসন
  4. বিসমার্ক
ব্যাখ্যা
জাতিপুঞ্জ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জাতিপুঞ্জের (League of Nations) আত্মপ্রকাশ হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভার্সাই চুক্তির একটি অংশ হিসেবে স্বাক্ষরিত হয় জাতিপুঞ্জের চুক্তিপত্র।
- লীগ অব নেশনস বা জাতিপুঞ্জ ১৯২০ সালে আত্মপ্রকাশ করে।
- জাতিপুঞ্জ গঠনের প্রস্তাবক ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন।
- এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ৪১টি।
- সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- জাতিপুঞ্জ বিলুপ্ত হয়: ২০ এপ্রিল, ১৯৪৬।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি বক্তব্য প্রদান করেন।
- তাতে ছিল ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠার ও জাতিপুঞ্জ গঠনের আহ্বান।
- এ বক্তব্যটি ছিল ১৪ দফা বিশিষ্ট।
- এই প্রস্তাবনার ১৪ নং পয়েন্টে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।

⇒ সুদীর্ঘ আলোচনা এবং বিতর্কের পর এই প্রস্তাবনাকে একটি নীতিমালায় রূপান্তরিত করা হয়।
- আন্তর্জাতিক নেতাদের সমঝোতার মাধ্যমে শেষপর্যন্ত ১৯১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি লিগ অফ নেশনস নামে একটি সংগঠন গঠনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।
- সেবছর ২৮ জুন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটিয়ে স্বাক্ষর করা ভার্সাই চুক্তির প্রথম অংশে এই সংগঠন গঠন করার প্রস্তাবনা যুক্ত করা হয়।
- জাতিপুঞ্জের নিয়মপত্রে স্বাক্ষর করেন বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া ৩১ দেশসহ ৪৪ দেশের রাষ্ট্রনায়কগণ।
- ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ভার্সাই চুক্তি কার্যকর হয়।

⇒ জাতিপুঞ্জ গঠনের নিয়মপত্রকে ‘দ্য কোভেন্যান্ট’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
- মোট ২৬টি নিবন্ধে বর্ণিত এই নিয়মপত্র ছিল জাতিপুঞ্জের সংবিধান।

উৎস: United Nations ওয়েবসাইট।
.
জাতিসংঘ গঠনের প্রথম পদক্ষেপ কোনটি?
  1. ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন
  2. ইয়াল্টা সম্মেলন
  3. লন্ডন ঘোষণা
  4. ভার্জিনিয়া সম্মেলন
ব্যাখ্যা
লন্ডন ঘোষণা:
- জাতিসংঘ গঠনের প্রথম পদক্ষেপ লন্ডন ঘোষণা বা সেইন্ট জেমস প্যালেস ঘোষণা।
- ১৯৪১ সালে ব্রিটেনসহ পুরো ইউরোপ তখন যুদ্ধে টালমাটাল। গ্রেট ব্রিটেনের রাজধানী খোদ লন্ডনের আকাশ তখন নাৎসি বাহিনীর যুদ্ধ বিমানের আওতায়। প্রতিদিনই নিয়ম করে লন্ডনে নাৎসিরা বোমাবর্ষণ করে। তার আগে থেকেই ফ্রান্সসহ ভীত-সন্ত্রস্ত ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র-প্রধানরা আশ্রয় নেয় লন্ডনে। এই দেশগুলো তখন নাৎসি জার্মান বাহিনীর দখলে ছিলো।

⇒ লন্ডনে আশ্রয় গ্রহণকারী ইউরোপীয় দেশের সংখ্য তখন নয়টি।
- দেশগুলো হচ্ছে: বেলজিয়াম, চেকোস্লোভাকিয়া, গ্রিস, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস্‌, নরওয়ে, পোল্যান্ড, যুগোস্লাভিয়া ও ফ্রান্স।
- এই দেশগুলো লন্ডনে অবস্থান করেই নিজ নিজ দেশের যুদ্ধ পরিচালনা ও অন্যান্য কার্যক্রম তত্ত্বাবধায়ন করছিলো।

⇒ ১৯৪১ সালের ১২ জুন এই নয়টি দেশসহ মোট ১৪টি দেশের সরকার প্রধান ও প্রতিনিধিরা লন্ডনের সেইন্ট জেমস্‌ প্যালেসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে।
- বৈঠকে অংশ নেওয়া ১৪টি দেশ হলো গ্রেট ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নির্বাসিত ৯টি দেশ।
- এই বৈঠকে বিশ্ব শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রথম আলোচনা হয়।

⇒ বৈঠকে ১৪টি দেশের সরকার প্রধান ও প্রতিনিধিরা একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করে।
- এই ঘোষণাপত্রটি ‘সেইন্ট জেমস্‌ প্যালেস ঘোষণা’ বা ‘লন্ডন ঘোষণা’ নামে ইতিহাসে পরিচিত হয়ে আছে।
- এটিকে জাতিসংঘ গঠনের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- ঘোষণার মূল কথা ছিলো - "To work together, with other free peoples, both in war and in peace".

⇒ এই বৈঠকে ৩টি প্রস্তাব পাশ হয়। যথা -
- জার্মানি ও ইতালির বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশগুলোর পারস্পারিক সহযোগীতা
- অক্ষ শক্তিকে পরাজিত করে মিত্রশক্তির দেশগুলো একক কোনো চুক্তি করবে না। সকল দেশের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে মিত্রশক্তি না করে
- মিত্র দেশগুলোর সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা।

⇒ উক্ত বৈঠক ও ঘোষণার প্রেক্ষিতে যে বৈশ্বিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার ধারণা পাওয়া যায় তা পরবর্তীতে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ ঘোষণা কার্যকরের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। নবগঠিত এই সংগঠনের নাম হয় - United Nations বা জাতিসংঘ।

অন্যদিকে,
- FAO প্রতিষ্ঠিত হয় - ভার্জিনিয়া সম্মেলন।
- নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র নির্ধারণ করা হয়, জাতিসংঘের নামকরণ করা হয় -ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন।
- ৫টি স্থায়ী রাষ্ট্রকে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে -ইয়াল্টা সম্মেলন।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) History.com
.
GATT প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কতটি দেশের মাধ্যমে?
  1. ২৩টি
  2. ২৯টি
  3. ৩৩টি
  4. ৪৪টি
ব্যাখ্যা
GATT:
- GATT-এর পূর্ণরূপ: General Agreement on Tariffs and Trade.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৪৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৯৪৮ সালে।
- GATT মূলত একটা বাণিজ্যিক চুক্তি।
- উদ্দেশ্য: বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসূচী প্রণয়ন করা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিকে গতিশীল করা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালের ৩০ অক্টোবর, ২৩টি দেশ GATT স্বাক্ষর করেছে।
- এই চুক্তির পিছনে উদ্দেশ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিশ্ব বাণিজ্যকে পুনর্গঠন।
- এই চুক্তি কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারী।

⇒ GATT প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন বাণিজ্য আলোচনা "রাউন্ড" আকারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ড ছিল কেটো রাউন্ড, টোকিও রাউন্ড এবং উরুগুয়ে রাউন্ড।
- GATT এর সবচেয়ে বৃহত্তম ও প্রভাবশালী রাউন্ড ছিল উরুগুয়ে রাউন্ড। এই রাউন্ডের মাধ্যমে WTO বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্ত হয়। 

⇒ GATT থেকে WTO-তে পরিবর্তন:
- ১৯৯৫ সালে WTO (World Trade Organization) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, GATT এর কার্যক্রম WTO এর মধ্যে চলে যায়।
- WTO আরও ব্যাপক এবং শক্তিশালী বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করেছে।
- GATT ছিল এক ধরনের চুক্তি, কিন্তু WTO একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা বাণিজ্য সম্পর্কিত সকল চুক্তি এবং নিয়মাবলী বাস্তবায়ন ও সমাধান নিশ্চিত করে।

উৎস: World Trade Organization ওয়েবসাইট।
১০.
কত সালে ইয়াল্টা সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা (United Nations Declaration) গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়?
  1. ১৯৪৪ সালে
  2. ১৯৪৫ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ইয়াল্টা সম্মেলন:
- ১৯৪৫ সালের ৪-১১ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রিমিয়ার ইয়াল্টাতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় যখন সুনিশ্চিত তখন মিত্রপক্ষীয় তিন রাষ্ট্রপ্রধান রুজভেল্ট, চার্চিল ও স্ট্যালিন ক্রিমিয়ার ইয়াল্টা প্রদেশে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তাঁদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা হয়।
- যা জাতিসংঘ গঠনের ইতিহাসে 'Yalta Conference' নামে পরিচিত।
- এই সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের 'ভেটো ক্ষমতা' (Veto Power) নির্ধারিত হয়।
- এটি ক্রিমিয়া সম্মেলন নামেও পরিচিত।

⇒ সম্মেলনের মূল আলোচনা বিষয়:
- জার্মানির পরাজয় ও ভবিষ্যৎ: জার্মানি পরাজিত হলে তার ভাগ-বাটোয়ারা এবং এর পরবর্তী শাসন কিভাবে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় জার্মানির বিভाजन এবং ন্যাজি নেতাদের বিচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

- জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা: জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সংস্থা গঠন করা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে বিশ্বের শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষা করা যায়। এখানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীন ও ফ্রান্সকে স্থান দেওয়া হয়।

- পোল্যান্ডের ভবিষ্যৎ: পোল্যান্ডের সীমান্ত পরিবর্তন এবং সরকারের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়, যাতে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পশ্চিমী শক্তিগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি করা যায়।

- ইউরোপে মুক্ত নির্বাচন: পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো হবে, এমন একটি ঘোষণা করা হয়।

উৎস: History.com
১১.
জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী
  2. আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত
  4. এস এ করিম
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি এস এ করিম।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ:
- ১ম : এস এ করিম (১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪),
- ২য় : কে এম কায়সার,
- ৩য় : খাজা ওয়াসিউদ্দিন,
- ৪র্থ : বি এ সিদ্দিকী,
- ৫ম : আতাউল করিম,
- ৬ষ্ঠ : এ.এইচ.জি. মহিউদ্দিন,
- ৭ম : মোহাম্মদ মহসিন,
- ৮ম : হুমায়ুন কবির,
- ৯ম : রিয়াজ রহমান
- ১০ম : আনোয়ারুল কমির চৌধুরী,
- ১১তম : ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী,
- ১২তম : ইসামত জাহান (১৮ জুন ২০০৭, প্রথম নারী),
- ১৩তম : এ কে আব্দুল মোমেন,
- ১৪তম : মাসুদ বিন মোমেন,
- ১৫তম : রাবাব ফাতিমা,
- ১৬তম : মুহাম্মদ আবদুল মুহিত,
- ১৭তম : সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী (বর্তমান)।

• জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৮ আগস্ট জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে।
- ১৯৭২ সালের ১৭ অক্টোবর জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা লাভ করে।
- বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সাল।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য।
- বাংলাদেশকে প্রথম জাতিসংঘ সংস্থায় সদস্যরূপে স্বাগত জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
- ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১২.
ইরাক-কুয়েত মিশনে নিয়োজিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের নাম -
  1. UNIKOM
  2. UNYOM
  3. UNSMIS
  4. UNOGIL
ব্যাখ্যা
UNIKOM:
- UNIKOM-এর পূর্ণরূপ: United Nations Iraq-Kuwait Observation Mission.

⇒ ইরাক-কুয়েত মিশনে নিয়োজিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের নাম ছিল "UNIKOM".
- এটি ১৯৯১ সালে গালফ যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে গঠিত হয়।
- UNIKOM এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরাক এবং কুয়েতের সীমান্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং শান্তি রক্ষা করা।
- এই মিশনটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে ইরাকের আক্রমণ থেকে কুয়েতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করেছিল।
- মিশনটি ২০০৩ সালের ৬ অক্টোবর বন্ধ হয়।

অন্যদিকে,
- United Nations Yemen Observation Mission (UNYOM).
- UN Supervision Mission in Syria (UNSMIS).
- United Nations Observation Group in Lebanon (UNOGIL).

উৎস: UN peacekeeping ওয়েবসাইট।
১৩.
বিশ্বব্যাংকের কোন সংস্থা বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে থাকে?
  1. IDA
  2. MIGA
  3. IFC
  4. ICSID
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ:
- IMF ও World Bank ব্রেটন উডস সম্মেলনের মাধ্যমে এ দুটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- তাই IMF ও IBRD এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে ব্রেটন উডস জমজ বলা হয়।
- বিশ্বব্যাংক ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত।
- প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
1. International Bank for Reconstruction and Development (IBRD).
2. International Finance Corporation (IFC).
3. Multilateral Investment Guarantee Agency (MIGA).
4 International Center for Settlement of Investment Disputes (ICSID).
5.International Development Association (IDA).

IDA:
- IDA-এর পূর্ণরূপ: International Development Association.
- যেসব দেশ IBRD থেকে ঋণ পায় না, IDA তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে থাকে।
- এজন্যে এটি Soft Loan Window নামে পরিচিত।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৬০ সালে।
- এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৭৫টি।
- সর্বশেষ সদস্য সুরিনাম।

⇒ IDA সদস্য দেশগুলোর যথাক্রমে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে এবং বহুপাক্ষিক বিনিয়োগে গ্যারান্টি প্রদান করে থাকে।

অন্যদিকে,
• MIGA:
- এটি ১৯৮৮ সালের ১২ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- MIGA প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো বৈদেশিক বিনিয়োগে মধ্যস্থতা এবং গ্যারান্টি প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা করে থাকে।
- MIGA এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮২টি।
- সর্বশেষ সদস্য সোমালিয়া।
- বাংলাদেশ MIGA এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

• IFC:
- IFC ১৯৫৬ সালের ২০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮৬টি।
- সংস্থাটি স্বল্প আয়ের উন্নয়নশীল দেশের বেসরকারি খাতে আর্থিক সহযোগীতা করে ও উপদেশ দিয়ে থাকে।

• ICSID:
- ICSID-এর পূর্ণরূপ: International Center for Settlement of Investment Disputes.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৪ অক্টোবর, ১৯৬৬।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ১৬৬টি।
- সংস্থাটি পুঁজি বিনিয়োগজনিত বিরোধ নিষ্পত্তির আন্তর্জাতিক কেন্দ্র।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।
১৪.
জাতিসংঘের কোন মহাসচিব বিমান দূর্ঘটনায় মারা যান?
  1. কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম
  2. পেরেজ ডি কুয়েলার
  3. কফি আনান
  4. দ্যাগ হ্যামারশোল্ড
ব্যাখ্যা
দ্যাগ হ্যামারশোল্ড:
- জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব ছিলেন দ্যাগ হ্যামারশোল্ড।
- তিনি সুইডেনের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৩ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬১ সালে তিনি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।
- ১৯৬১ সালে তিনি মরণোত্তর নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

⇒ ১৯৬১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তানজানিয়ার আরুশা শহরের কাছাকাছি একটি বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
- তিনি একটি শান্তি মিশনের অংশ হিসেবে কঙ্গোতে যাচ্ছিলেন, যখন তাঁর বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে নিহতদের জন্য সর্বোচ্চ পদক 'দ্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল' প্রবর্তন করা হয়।

অন্যদিকে -
- জাতিসংঘের চতুর্থ মহাসচিব অস্ট্রিয়ার কুর্ট ওয়ার্ল্ডহেইম (তার সময়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে)।
- জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব ঘানার কফি আনান। তিনি ২০০১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী।
- পেরেজ ডি কুয়েলার (Javier Pérez de Cuéllar) ছিলেন জাতিসংঘের ৫ম মহাসচিব। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।