পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: ১. মধ্য-যুগের সাহিত্য ধারা; ২. মধ্যযুগের প্রধান প্রধান লেখক ও তাঁদের সাহিত্য কর্ম; ৩. বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৪. বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৫. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের চরিত্র। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------- নির্দেশিকা: ১. এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে। ২. এই পরীক্ষাটি "Award Mania: Season - 10” এর জন্য প্রযোজ্য।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
কৃত্তিবাসের পদবি কী ছিল?
  1. মহামহোপাধ্যায়
  2. উপপাধ্যায়
  3. মুখোপাধ্যায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি ‘কৃত্তিবাস ওঝা’।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়। ওঝা শব্দটি এসেছে ‘উপাধ্যায়' থেকে।
- তবে কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল ‘মুখোপাধ্যায়’।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
ধর্মমঙ্গল ধারার আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি -
  1. কৃত্তিবাস
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।
- ধর্মমঙ্গল ধারার প্রথম কবি - ময়ূরভট্ট। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'হাকন্দপুরাণ'।
- ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী।
- ধর্মমঙ্গল ধারার আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কাদম্বিনী' রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের প্রধান চরিত্র?
  1. কঙ্কাল
  2. রবিবার
  3. জীবিত ও মৃত
  4. ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
'জীবিত ও মৃত':
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি,
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
"জ্ঞানপ্রদীপ" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. গুণরাজ খান
  3. মুকুন্দ চক্রবর্তী
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'নগেন্দ্রনাথ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. বিষবৃক্ষ
  4. ইন্দিরা
ব্যাখ্যা
‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
কুন্দনন্দিনী,
নগেন্দ্রনাথ,
হীরা,
সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কত সালে বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয়?
  1. ১৮৫২ সালে
  2. ১৮৫৫ সালে
  3. ১৮৫৬ সালে
  4. ১৮৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।
- যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস', তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' এই বৎসরে প্রকাশিত নাটক।
- কীর্তিবিলাস বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। কীর্তিবিলাসের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত ভদ্রার্জুন ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম। ভদ্রার্জুন নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
কার পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র রায়
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী:
- এটি হচ্ছে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কোরেশী মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দি পদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ। পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান।
- দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
"হিরণবালা" মুনীর চৌধুরীর কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. কবর
  3. চিঠি
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি কে?
  1. কবি কঙ্ক
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ঘনরাম চক্রবর্তী
  4. কবিকঙ্কণ
ব্যাখ্যা
কবি কঙ্ক:
- 'কালিকামঙ্গল' বা 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি।
- কিশোরগঞ্জের রাজ্যেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিপ্র গ্রামে ব্রাহ্মণ ঘরে তাঁর জন্ম। পিতা গুণরাজ, মাতা গুণবতী।
- তিনি কোন সময় বর্তমান ছিলেন, এব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায় না। গবেষকগণ মনে করেন, তিনি চৈতন্যদেবের সমসামায়িক। সুকুমার সেনের মতে কবি কঙ্ক আরও পরের কবি।
- শৈশবে পিতৃমাতৃহীন নিরাশ্রয় কঙ্ক, মুরারি ও কৌশল্যা নামধেয় এক চণ্ডাল দম্পতির ঘরে পালিত হন। তারাই কঙ্ক নাম রাখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থটির নাম কী?
  1. আশ্চর্যবৃত্তান্ত
  2. বর্ণপরিচয়
  3. মথী রচিত মঙ্গল সমাচার
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
মথী রচিত মঙ্গল সমাচার:
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ - মথী রচিত মঙ্গল সমাচার।
- এটিই বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ। মুদ্রিত হয় ১৮০০ সালের আগস্ট মাসে।

শ্রীরামপুর মিশন প্রেস:
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে। ১৮০০ সালের ১০ই জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি এবং ভ্রাতৃবৃন্দ এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেই বছরই মার্চ মাসে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস নামে ছাপাখানাটি খোলেন।
- বাংলা গদ্য চর্চায় যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খ্রিষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রীরামপুর মিশন' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- বাংলায় বাইবেল আনুবাদ করে প্রদেশে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন উইলিয়াম কেরি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
'কাপালিক' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ইন্দিরা
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
"সুরেন্দ্রনাথ" শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পথের দাবী
  2. বড়দিদি
  3. বিরাজবৌ
  4. দেনা-পাওনা
ব্যাখ্যা
‘বড়দিদি’ উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭)।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মাধবী,
- সুরেন্দ্রনাথ,
- ব্রজরাজ,
- প্রমীলা।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কমলা
  2. মহুয়া
  3. চন্দ্রাবতী
  4. রূপবতী
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
বাংলা গদ্যের নবযাত্রা শুরু হয়েছিল কোন শতকে?
  1. উনিশ শতকের শুরুতে
  2. আঠারো শতকের শেষ দিকে
  3. বিশ শতকের শুরুতে
  4. উনিশ শতকের মাঝামাঝি
ব্যাখ্যা
- ইংরেজ শাসনের সূত্রপাতে বাংলা গদ্যের ধারাবাহিক চর্চার পূর্বে পুরানো গদ্য যে নিতান্ত অবহেলার ব্যাপার ছিল না তা উক্ত মন্তব্য থেকে সহজেই অনুধাবন করা যায়। 
- আর সে পটভূমিকায় ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, 'তিন শ বছরের সচল ধারা ফেলে রেখে নতুন অভিভাবকতায় এভাবে বাংলা গদ্যের নবযাত্রা শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের শুরুতে।  এ যাত্রার অনেক বিত্ত সংগৃহীত হয়েছিল সন্দেহ নেই, কিন্তু ঘরের অনেকদিনের সঞ্চয়ও হারিয়ে গিয়েছিল।
- ড. গোলাম মুরশিদ প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা গদ্য নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন তাঁর 'আঠারো শতকের গদ্য: ইতিহাস ও সংকলন' গ্রন্থে। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বেশ আগে থেকে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫.
কোন কবি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. আলাওল
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪-এর শেষে থকে ১৫ শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর রচিত ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়।
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. রাজা নরোত্তম রায়
  2. রাজা রঘুনাথ রায়
  3. রাজা প্রতাপাদিত্য
  4. শ্রীজীব গোস্বামী
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্যে জনৈক প্রসাদ দেব এ কাব্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি কবি এবং সঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই প্রচুর অলংকার সামগ্রী, বিলাসবহুল পোষাক-পরিচ্ছদ এবং ভ্রমণের জন্য ঘোড়া দিয়ে পুরস্কৃত করেন।
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুকুমার সেন মুকুন্দরামের পাঁচালিকে একটি দুর্লভ শ্রেষ্ঠ পাঁচালি হিসেবে বর্ণনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
  1. রাজা রঘুনাথ রায়
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. রাজা গণেশ
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
- অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তিনি 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’।
- ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির রচয়িতা তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. নওয়াজিস খান
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
‘গুলে বকাওলী' কাব্য:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত এই গ্রন্থটির বঙ্গানুবাদ করেন 'কবি নওয়াজিশ খান'।
- এছাড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি মহম্মদ মুকিম তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম দেন ‘গুলে বকাওলী'।
- এই গ্রন্থে তিনি তাঁর সমসাময়িক মুসলিম কবিদের নাম উল্লেখ করে মুসলিম বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ নিয়ে আলোকপাত করেন
- তারপরও নওয়াজিস খান খন্দকার বিরচিত ‘গুলে বকাওলী'র রচনাকাল নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
- তবে কাব্যটি যে সতের শতকের রচনা এ ব্যাপারে পণ্ডিতেরা মত দিয়েছেন।
- চট্টগ্রামের জমিদার বংশীয় বৈদ্যনাথ রায়ের আদেশে কবি এই কাব্য লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
'কেশব এবং বৈকুণ্ঠ' দীনবন্ধু মিত্র রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. কমলে কামিনী
  3. সধবার একাদশী
  4. নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো 'জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নসিরাম, রতা, রাজীব,ন রাজমণি, কেশব, বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত নাটক:
- নীলদর্পণ, 
- নবীন তপস্বিনী, 
- সধবার একাদশী, 
- লীলাবতী 
- কমলে কামিনী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার -
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রামায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের (১৮২৪-৭৩) সগৌরব আবির্ভাব ঘটেছিল নাট্যরচনার সূত্র ধরে। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার হিসেবে মাইকেল বাংলা মধুসূদন দত্তের স্থান সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

- তাঁর প্রথম নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা নাটকে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয়।
- এই নাটকের পূর্বেকার বাংলা নাটকে কৌতুকরসের বাহুল্য, রচনার গুরুভার ইত্যাদি ত্রুটি বিদ্যমান ছিল।

উল্লেখ্য,
সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি, কাহিনিতে নিরবচ্ছিন্ন গতি, নাট্যরীতিতে পাশ্চাত্য আদর্শ গ্রহণ ইত্যাদির ফলে বাংলা নাটক তাঁর হাতেই ভাবীকালের পথের সন্ধান পেয়ে সার্থকতর সৃষ্টির পর্যায়ে উন্নীত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২১.
কোন কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। এবং এই কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২.
"সুচরিতা এবং আনন্দময়ী" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. গোরা
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়,
- মালঞ্চ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৩.
'তাতারি' শওকত ওসমানের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. দুই সৈনিক
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।