পরীক্ষা আর্কাইভ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

পরীক্ষা৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন৪৪
সিলেবাস
“Award Mania: Season - 5” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ১৫ ---------------- পার্ট – ১: বাংলা ব্যাকরণ টপিকসমূহ: শব্দ প্রকরণ (শব্দের শ্রেণিবিভাগ; শব্দের উৎসমূল; ধাতু, প্রকৃতি - প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ) উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) পার্ট – ২: বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা। ২. বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক। উৎস: পৌরনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived

৪০ দিনে ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৪ প্রশ্ন

.
তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. জিভ
  2. ডাব
  3. দাঁত
  4. ভবন
সঠিক উত্তর:
ভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবন
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ - ভবন

অন্যদিকে,
• তদ্ভব শব্দ - জিভ, দাঁত।
• দেশি শব্দ - ডাব।

বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. তৎসম,
২. তদ্ভব,
৩. দেশি ও
৪. বিদেশি।
- এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
.
সাধিত ধাতু কোনটি?
  1. খা
  2. বলা
  3. শো
সঠিক উত্তর:
বলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলা
ব্যাখ্যা
• সাধিত ধাতু - বলা

• ধাতু তিন প্রকারের। যথা:
(১) মৌলিক ধাতু,
(২) সাধিত ধাতু এবং
(৩) যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন - চল্, পড়্‌, কর্, শো, , খা ইত্যাদি।

সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন -
→ দেখ + আ = দেখা,
→ পড় + আ = পড়া,
→ বল + আ = বলা
- সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
যেমন -
→ মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' = দেখায়)।
এরূপ - শোনায়, বসায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
প্রত্যয় যুক্ত হয় -
  1. ধাতুর পরে
  2. বিভক্তির পরে
  3. শব্দের পরে
  4. শব্দ ও ধাতুর পরে
সঠিক উত্তর:
শব্দ ও ধাতুর পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ ও ধাতুর পরে
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা,
→ দিন + ইক = দৈনিক,
→ দুল্ + অনা = দোলনা,
→ কৃ + তব্য = কর্তব্য।
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।
- অন্যদিকে ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে, 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. চড়ক
  2. নিন্দক
  3. পাঠক
  4. ফলক
সঠিক উত্তর:
ফলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলক
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - ফলক (ফলা + ক)।
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ পঠ্‌ + অক = পাঠক।
উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'অক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক',  'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
উৎসমূল অনুযায়ী ‘দাপট’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. তুর্কি
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• দাপট - হিন্দি শব্দ।

কিছু হিন্দি শব্দ:
- কাচারি,
- দুলকি,
- দিলরুবা,
- দাবা,
- দাঙ্গা,
- দহলা,
- দশেরা
- রোকড়,
- লড়াকু,
- লেনদেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'মানব' শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. মনু + ষ্ণ
  2. মনু + ষ্ণ্য
  3. মানু + ষ্ণ
  4. মানু + ষ্ণ্য
সঠিক উত্তর:
মনু + ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ (অ) প্রত্যয়:
(ক) অপত্য অর্থে: মনু + ষ্ণ = মানব, যদু + ষ্ণ = যাদব। ('ষ্ণ' লোপ পেয়ে সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: মনু + অ)।
(খ) উপাসক অর্থে: শিব + ষ্ণ = শৈব, জিন + ষ্ণ = জৈন।
এরূপ,  শক্তি-শাক্ত, বুদ্ধ-বৌদ্ধ, বিষ্ণু-বৈষ্ণব।
(গ) ভাব অর্থে: শিশু + ষ্ণ = শৈশব, গুরু + ষ্ণ = গৌরব, কিশোর + ষ্ণ = কৈশোর।
(ঘ) সম্পর্ক বোঝাতে: পৃথিবী + ষ্ণ = পার্থিব, দেব + ষ্ণ = দৈব, চিত্র (একটি নক্ষত্রের নাম)+ ষ্ণ = চৈত্র।

• নিপাতনে সিদ্ধ: সূর্য + ষ্ণ = সৌর (সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সুর + ষ্ণ = সৌর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন দুটি যৌগিক শব্দ?
  1. কর্তব্য, প্রবীণ
  2. গায়ক, দৌহিত্র
  3. চিকামারা, মহাযাত্রা
  4. মধুর, বাঁশি
সঠিক উত্তর:
গায়ক, দৌহিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ক, দৌহিত্র
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ - গায়ক, দৌহিত্র

অন্যদিকে,
• রূঢ়ি শব্দ - প্রবীণ, বাঁশি।
• যোগরূঢ় শব্দ - মহাযাত্রা।

• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা -
ক. যৌগিক শব্দ,
খ. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
গ. যোগরূঢ় শব্দ।

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘তোপ’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ওলন্দাজ
  2. তুর্কি
  3. পর্তুগিজ
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা
• ‘তোপ’ শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে এসেছে।

কিছু তুর্কি শব্দ:
- কলগি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কোনটি 'খোঁচা' এর আদিগণ?
  1. ঘুরা
  2. ধোয়া
  3. ফিরা
  4. লাফা
সঠিক উত্তর:
ধোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোয়া
ব্যাখ্যা
• 'খোঁচা' এর আদিগণ - ধোয়া

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ ঘুরা - আদিগণ,
→ ধোয়া - আদিগণ,
→ ফিরা - আদিগণ,
→ লাফা - আদিগণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কালের দৃষ্টান্ত?
  1. এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
  2. তারা বাড়িতে ফিরেছে।
  3. তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
  4. সকলের মঙ্গল হোক।
সঠিক উত্তর:
তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

অন্যদিকে,
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। = ঘটমান ভবিষ্যৎ।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে। = পুরাঘটিত বর্তমান।
- সকলের মঙ্গল হোক। = অনুজ্ঞা বর্তমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
দেশি শব্দ কোনটি?
  1. চাল
  2. চালতা
  3. চালা
  4. চালাক
সঠিক উত্তর:
চালতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালতা
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ - চালতা

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত শব্দ - চাল।
• বাংলা শব্দ - চালা।
• ফারসি শব্দ - চালাক।

দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
উৎসমূল অনুযায়ী ‘মুড়ি’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. তুর্কি
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
• মুড়ি - বাংলা শব্দ।

কিছু বাংলা শব্দ:
- এলোকেশ,
- ডালি,
- ভাপা,
- ভাড়াটিয়া,
- ভাড়াবাড়ি,
- মুচি, 
- মুণ্ডি,
- লেজ,
- লাবড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩.
প্রাতিপদিককে বলা হয় -
  1. ক্রিয়া প্রকৃতি
  2. ক্রিয়াবিভক্তি
  3. নাম প্রকৃতি
  4. নাম শব্দ
সঠিক উত্তর:
নাম প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
নিচের কোন বাক্যে ঘটনা অতীতের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল ভবিষ্যৎ?
  1. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
  3. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
  4. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
সঠিক উত্তর:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ)

অন্যদিকে,
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫.
সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গোলাপ
  2. ডুবুরি
  3. তিন
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - ডুবুরি

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মৌলিক শব্দ।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'বোধ' শব্দটিতে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বন্ধ্‌
  2. বাঁধ
  3. বুঝ্‌
  4. বুধ্‌
সঠিক উত্তর:
বুধ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুধ্‌
ব্যাখ্যা
• 'বোধ' শব্দটিতে 'বুধ্‌' ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে।

সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন - কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতুসাধিত পদ
দৃশ্‌ ⇒ দৃশ্য, দর্শন।
ধৃ ⇒ ধৃত, ধারণ।
বন্ধ্‌ ⇒ বন্ধন।
বুধ্‌ ⇒ বুদ্ধ, বোধ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
রূঢ়ি শব্দ কোনটি?
  1. কর্তব্য
  2. গায়ক
  3. তৈল
  4. পঙ্কজ
সঠিক উত্তর:
তৈল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৈল
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ - তৈল

রূঢ়ি শব্দ: 
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। 
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

অন্যদিকে, 
- যৌগিক শব্দ: কর্তব্য, গায়ক।
- যোগরূঢ় শব্দ: পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
কোনটি ‘মূল্যায়ন’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়?
  1. √মূল্য + অন
  2. √মূল্য + আয়ন
  3. √মূল্যায়্‌ + অন
  4. √মূল্যায়্‌ + আয়ন
সঠিক উত্তর:
√মূল্যায়্‌ + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√মূল্যায়্‌ + অন
ব্যাখ্যা
মূল্যায়ন:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = √মূল্যায়্‌ + অন
- অর্থ:
⇒ মূল্য নির্ধারণ,
⇒ গুণাগুণ বিচার,
⇒ মর্যাদা বা গুরুত্ব প্রদান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
কোন বাক্যে ঘটনা ভবিষ্যতের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান?
  1. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
  2. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
  3. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  4. সবাই যেন সভায় হাজির থাকে।
সঠিক উত্তর:
সবাই যেন সভায় হাজির থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবাই যেন সভায় হাজির থাকে।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)

অন্যদিকে,
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. আদিত্য
  2. চিকামারা
  3. গবেষণা
  4. মধুর
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ - আদিত্য

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- আদিত্য: ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অদিতির পুত্র বা সকল দেবতা। কিন্তু আদিত্য মানে সূর্য।

অন্যদিকে,
- যৌগিক শব্দ: চিকামারা, মধুর।
- রূঢ়ি শব্দ: গবেষণা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২১.
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে কী বলে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
বর্তমান কাল:
- বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।
- বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- আমি অঙ্কটি করেছি
- তারা বাড়িতে ফিরেছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২.
কোনগুলো সংস্কৃত শব্দ?
  1. আকাশ, পৃথিবী
  2. চন্দ্র, চাঁদ
  3. তামা, বৃক্ষ
  4. তাঁতি, পাত্র
সঠিক উত্তর:
আকাশ, পৃথিবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাশ, পৃথিবী
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত শব্দ - আকাশ, পৃথিবী

অন্যদিকে,
• তদ্ভব শব্দ - চাঁদ, তামা, তাঁতি।

তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
'The Spirit of Islam' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আমীর আলী The Spirit of Islam এবং  A short History of the Saracens নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ এবং বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করার পর ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৪ সালে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য নিয়োজিত হন এবং আমৃত্যু সে পদে বহাল থাকেন। 
- ১৯০৮ সালে লন্ডনে মুসলিম লীগের একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
কে ‘নিখিল প্ৰজা সমিতি' গঠন করেন?
  1. উইলিয়াম হান্টার
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
‘নিখিল প্ৰজা সমিতি' গঠন করেন - এ কে ফজলুল হক।

• রাজনীতিতে শেরে বাংলার অবদান:
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণার পর পূর্ব বাংলার মানুষ যখন চরম হতাশাগ্রস্থ তখন তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- উল্লেখ্য যে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ফজলুল হককে বিশ্বস্তু যোগ্য ও শক্তিশালী সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
- ১৯১৩ সালে তিনি বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯১৫ সালে তিনি কৃষক-প্রজা আন্দোলনে যোগদান করেন।

- ১৯১৬ সালে স্বাক্ষরিত লৌক্ষ্ম প্যাক্ট ফজলুল হকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।
- ১৯১৮ সালে তিনি একদিকে মুসলিম লীগের সভাপতি অন্যদিকে নিখিল ভারত কংগ্রেসের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ অলংকৃত করেন।
- এ সময় তিনি মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের মধ্যে ঐক্য স্থাপনে প্রচেষ্টা চালান।
- ১৯২৯ সালে তিনি ‘নিখিল প্ৰজা সমিতি' গঠন করেন।
- একে ফজলুল হক একজন অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংকট মিমাংসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

- তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে শেরে বাংলা ভারতের শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য যে প্রজ্ঞা প্রদীপ্ত সুপারিশ করেছিলেন তার মধ্যে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতিসত্তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে ফজলুল হকের অসাধারণ নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে স্বাধীকারের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
- এরই সূত্র ধরে পূর্ব বাংলার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে।

সূত্র: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
যুক্তফ্রন্ট কখন গঠিত হয়েছিলো?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।

• দলগুলো ছিল: 
– মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন- আওয়ামী মুসলিম লীগ
– শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক- শ্রমিক পার্টি
– মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন- নেজাম-ই-ইসলামী এবং
– হাজী দানেশের- বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। 
– ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
– ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
– ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
– যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
– যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবির প্রথম দফাটি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী ও ইতিহাস প্রথম পত্র (এইচ এস সি) বাংলাদেশ ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
কার প্রচেষ্টায় হিন্দু বিধবা-বিবাহ আইন পাস হয়?
  1. অমর্ত্য সেন
  2. জগদীশচন্দ্র বসু
  3. রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১ খ্রি.): 
- বিদ্যাসাগর ছিলেন একাধারে দার্শনিক, শিক্ষানুরাগী, শিক্ষক, লেখক, অনুবাদক, মুদ্রাকর, প্রকাশক, সমাজ সংস্কারক এবং ব্যাকরণবিদ।
-  সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য বিদ্যাসাগর নিজের পুত্রকেও একজন বিধবার সাথে বিয়ে দেন। 
- বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে। 
- ব্রিটিশ ভারতের ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন।
- বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তনের ক্ষেত্রে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যাপক প্রচেষ্টা চালান।

- পান্ডিত্যের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করে- কোলকাতার সংস্কৃত কলেজ।
- সংস্কৃত কলেজে সহকারী সেক্রেটারি পদে যোগদান করেন-১৮৪৬ সালে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত করেজের অধ্যক্ষ হন- ১৮৫১ সালে।
- তিনি নিজ অর্থ ব্যয়ে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
কাকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র‘ হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফকে
  2. সৈয়দ আমীর আলীকে
  3. এ কে ফজলুল হককে
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে
ব্যাখ্যা
• হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
- বাংলাদেশের তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র' নামেই পরিচিত
- রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ ও মেধার গুনুত্ব বিবেচনায় তিনি কোন আপোস করেন নি।
- দেশপ্রেম, মানব-কল্যাণ ও গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ সাধক হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী এ দেশের রাজনীতিতে ধ্রুবতারার জ্যোতি নিয়ে বিরাজ করতে থাকবেন।

সূত্র: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে উঠে?
  1. মীর নিসার আলী
  2. ফকির মজনু শাহ
  3. মুহসিন উদ্দিন দুদু
  4. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
ব্যাখ্যা
হাজী শরিয়ত উল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.):
- বর্তমান শরিয়তপুর জেলার শ্যামাইল গ্রামে ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে শরিয়ত উল্লাহর জন্ম হয়।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ হজ্জ করতে মক্কা গমন করেন- ১৭৯৯ সালে
- ১৮১৮ সালে দেশে ফিরে তিনি ফরায়েজি আন্দোলন নামে ইসলামি সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল- ফরিদপুর।
- হাজী শরীয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন- তার একমাত্র পুত্র দুদু মিয়া।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ পরিচালিত ফরায়েজি আন্দোলন ছিল - ধর্ম সংস্কার আন্দোলন।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
আওয়ামী লীগ কয়টি মূলনীতিতে বিশ্বাসী?
  1. দুইটি
  2. চারটি
  3. পাচঁটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী লীগ চারটি মূলনীতিতে বিশ্বাসী।
মূলনীতিগুলো হলো: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র।

- আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি: 
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন- সামছুল হক।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি- আতাউর রহমান, আব্দুস সালাম খান।
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু মাওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলীম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়-১৯৫৫ সালে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
সমাজতন্ত্রের প্রবর্তক কার্ল মার্কস এর অনুসারী দল কোনটি?
  1. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
  2. বিকল্পধারা বাংলাদেশ
  3. বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
  4. বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি:
- সমাজতন্ত্রের প্রবর্তক কার্ল মার্কস এর অনুসারী দল- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।
- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিখিল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী সংগঠন।
- ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে কমিউনিস্ট ইউনিট গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ দলটি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের পূর্বে দলটির কার্যক্রম নানাভাবে দমিয়ে রাখা হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দলটির নামকরণ করা হয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
- সামরিক শাসন ও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দলটির ভূমিকা স্মরনীয়।
- মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দলটির সভাপতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিক, একাদশ-দাদ্বশ শ্রেণি (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩১.
বঙ্গবন্ধু কত তারিখে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন?
  1. ১৯৭৩ সালের ১০ জানুয়ারি
  2. ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
  3. ১৯৭৩ সালের ১২ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
• স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
- আন্তর্জাতিক চাপে বাধ্য হয়ে পাকিস্তানি সরকার ০৮ জানুয়ারি তাকে মুক্ত করে দেয়। তিনি সেখান থেকে বিশেষ বিমানযোগে লন্ডনে চলে যান।
- তারপর লন্ডন থেকে ভারত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালের ১০ ই জানুয়ারি আসেন মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে।
- ১০ ই জানুয়ারি ২০২২ সালে বঙ্গবন্ধুর  স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ৫০ বছর পূর্তি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
৩২.
‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ এর প্রতিষ্ঠাতা - নওয়াব আব্দুল লতিফ।

• আবদুল লতিফের জন্ম- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায়।
- কলকাতা মাদ্রাসায় তিনি ইংরেজী শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে আবদুল লতিফ প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এবং কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।

- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন এবং ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতার প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের কাউন্সিল আইন অনুযায়ী বাংলায় ব্যবস্থাপক পরিষদ গঠিত হলে তিনি এর সদস্য মনোনীত হন। 
- কর্মজীবনে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার প্রথমে তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ এবং পরে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- আবদুল লতিফের সর্বাপেক্ষা উল্লেখ্যযোগ্য কীর্তি ছিল ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
স্যার সৈয়দ আহমদ খান ‘নাইট’ উপাধি লাভ করেন কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৮১৭
  2. ১৮৩৭
  3. ১৮৮৮
  4. ১৮৯৮
সঠিক উত্তর:
১৮৮৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮৮
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আহমদ খান:
- ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে সৈয়দ আহমদ খানের জন্ম হয়।
- কোম্পানির অধীনে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেরেস্তাদারের চাকুরী গ্রহণ করেন এবং পরে সাব জজ পদে উন্নীত হন।
- তিনি ইম্পিরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল, হান্টার শিক্ষা কমিশন ও ভারতীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ছিলেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৪.
‘নীল কমিশন’ কত খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়?
  1. ১৮২৮
  2. ১৮৪৯
  3. ১৮৬০
  4. ১৮৭৭
সঠিক উত্তর:
১৮৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬০
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আবদুল লতিফ:
- আবদুল লতিফ যখন সাতক্ষীরায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন তখন তিনি সেখানকার কৃষকদের উপর নীলকর সাহেবদের
অত্যাচারের কথা সরকারকে অবহিত করেন এবং সুবিচারের জন্য অনুরোধ জানান।
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে নীল কমিশন গঠিত হলে এর সুপারিশ অনুসারে নীলচাষ কৃষকদের ইচ্ছাধীন করা হয়। ফলে বাংলার কৃষকরা নীলকরদের হাত থেকে রেহাই পায়। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম  পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
শান্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে ’জুলিও কুরী’ পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ১৯৭৩ সালের ২৩ মে
  2. ১৯৭৩ সালের ২৩ জুন
  3. ১৯৭৩ সালের ২৫ জুন
  4. ১৯৭৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালের ২৩ মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালের ২৩ মে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৩৬.
নওয়াব আবদুল লতিফ কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন?
  1. কলকাতা ন্যাশনাল কলেজ
  2. সেন্ট্রাল ন্যাশনাল স্কুল
  3. ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল
  4. প্রেসিডেন্সি কলেজ
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আবদুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল লতিফের জন্ম ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায়।
- কলকাতা মাদ্রাসায় তিনি ইংরেজী শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে আবদুল লতিফ প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এবং কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন এবং ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতার প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের কাউন্সিল আইন অনুযায়ী বাংলায় ব্যবস্থাপক পরিষদ গঠিত হলে তিনি এর সদস্য মনোনীত হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম  পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৭.
নিচের কোনটির সাথে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাম জড়িয়ে আছে?
  1. কৃষক প্রজা পার্টি
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ছয় দফা 
সঠিক উত্তর:
কৃষক প্রজা পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষক প্রজা পার্টি
ব্যাখ্যা
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক:
- ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বৃহত্তর বরিশাল জেলার রাজাপুর থানাধীন সাতুরিয়া গ্রামে নিজ মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বাবার বাড়ি বরিশালের চাখার। তাঁর পিতা কাজী ওয়াজেদ ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী।
- ফজলুল হক বাল্যকাল থেকেই তীক্ষ্ম মেধা শক্তির পরিচয় দেন।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কিছু রাজনৈতিক চিন্তা ও কর্মকান্ড তুলে ধরা হল-
- ১৯১৬ সালের হিন্দু-মুসলমান ‘লক্ষ্নৌ চুক্তি’ সম্পাদনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ১৯১৮-১৯ সালে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

- ১৯২৯ সালে তিনি ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন, ১৯৩৬ সালে যার নতুন নামকরণ হয় কৃষক-প্রজা পার্টি।
- ১৯৪০ সালে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। 
 
তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম  পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৮.
আওয়ামী মুসলীম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন -
  1. সভাপতি
  2. সহ-সভাপতি
  3. সাধারণ সম্পাদক
  4. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
সঠিক উত্তর:
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
ব্যাখ্যা
• আওয়ামী মুসলীম লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলীম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়-১৯৫৫ সালে।

এছাড়াও -
- আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ: 
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ ছিলেন- সামছুল হক।

- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি- আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু মাওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
মাস্টারদা সূর্যসেনকে বৈপ্লবিক আর্দশে উদ্বুদ্ধ করেন কে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
  3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. সুভাষ চন্দ্র বসু 
সঠিক উত্তর:
সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্যসেন:
- মাস্টারদা সূর্যসেন ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
বাবা রাজমনি সেন এবং মা শশীবালা দেবী।
সূর্যসেন ১৯১২ সালে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন।
সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
ক্রমে এই আন্দোলন বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়।
১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বি.এ. শ্রেণিতে পড়াকালীন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন সূর্যসেন।
সূর্যসেন চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
একজন গ্রামবাসীর বিশ্বাসঘাতকতায় ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাস্টারদা গ্রেফতার হন। পরের বছর ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর ফাঁসি হয়। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
হাজী শরীয়তুল্লাহ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. ফরিদপুর
  4. পঞ্চগড়
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
হাজী শরীয়তুল্লাহ:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ সালে ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পরবর্তীতে তাঁর নামানুসারে শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে।
- মাত্র আট বছর বয়সে পিতাকে হারানোর পর চাচার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হন শরীয়তুল্লাহ্।
- কলকাতা ও হুগলীতে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর তিনি আঠারো বছর বয়সে মক্কা গমন করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কে অবদান রেখেছিলেন?
  1. নবাব সলিমুল্লাহ
  2. নবাব খাজা আলীমুল্লাহ
  3. নবার সিরাজউদ্দৌলা
  4. নবাব আলীবর্দী খান
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ:
- ১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারে খাজা সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম নবাব খাজা আহসানউল্লাহ। খাজা সলিমুল্লাহ নবাবী পরিবারের বিত্ত-বৈভবের মধ্যে বেড়ে উঠলেও চিন্তা-চেতনায় ছিলেন আলাদা।
- নবাব পরিবারের মধ্যে সলিমুল্লাহ ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
- যৌবনকালে তিনি কিছুকাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরি করলেও পরে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে সমাজকল্যাণমূলক কাজে আত্মনেয়োগ করেন।
- মুসলিম স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার জন্য নবাব সলিমুল্লাহ সকল প্রদেশের স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে, সংস্থায়, আইনসভায় মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন দাবি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নবাব সলিমুল্লাহ নানামুখী অবদান রাখেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস হলো -
  1. আমলাগণ
  2. জনগণ
  3. সুশীল সমাজ
  4. নীতি ও কর্মসূচি
সঠিক উত্তর:
জনগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণ
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস হলো - জনগণ।
- গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সক্রিয়, সচেতন ও সদাজাগ্রত জনমত।
- রাজনৈতিক দল বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রচারের মাধ্যমে সেরূপ জনমত সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
৪৩.
বেঙ্গল প্যাক্টের রূপকার কে?
  1. পন্ডিত মতিলাল নেহেরু
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. মাওলানা শওকত আলী 
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ:
- সি. আর দাশ নামেও পরিচিত দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের অন্তর্গত তেলিরবাগ গ্রামে।
- তাঁর পিতা ভুবনমোহন দাস কলকাতা হাইকোটের সলিসিটার ও ব্রাহ্মসমাজের নেতা ছিলেন।
- ভবানীপুরের লন্ডন মিশনারী সোসাইটি স্কুল থেকে ১৮৮৬ সালে এন্ট্রান্স পাশ করার পর চিত্তরঞ্জন দাশ কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে বি. এ. ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য তিনি ইংল্যান্ডে গমন করেন এবং ১৮৯৪ সালে তিনি ব্যারিস্টারি পরীক্ষা পাশ করে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
----------------------
চিত্তরঞ্জন দাশের সময়ে ভারতবর্ষের রাজনীতিতে যে সমস্যাটি অত্যন্ত প্রকট ছিল তা হলো হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সমস্যা।
তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সমস্যা জিইয়ে রেখে স্বরাজ আন্দোলনের গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক কঠিন হবে।
আর তাই ১৯২৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পূর্বে তিনি নিজ প্রদেশে মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন যা ’বেঙ্গল প্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
’বেঙ্গল প্যাক্ট’ এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়। যতদিন মুসলমানরা ৫৫ শতাংশে না পৌঁছায়, ততদিন পর্যন্ত মোট সরকারি চাকুরির ৮০ ভাগ মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব কোন ধরনের শাসন ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. স্বৈরতন্ত্র
  2. রাজতন্ত্র
  3. সামরিক শাসন
  4. গণতন্ত্র 
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র 
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে রাজনৈতিক দল।
- গণতন্ত্র সুসংহতকরণে এটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
- রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন করা।
- জনগণের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করা এবং কোন বিষযের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের কাজ।
- জনগণের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে এবং শাসন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে।
- সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল বিকল্প সরকার ও ছায়া মন্ত্রিসভা হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
- রাজনৈতিক দল তাদের কার্যাবলির মাধ্যমে সুযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।