পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২৪০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ পরীক্ষার টপিক: ১. সমাস, ২. বাক্য প্রকরণ ও বাক্যের রূপান্তর, ৩. বানান ও বাক্যশুদ্ধি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

১৪তম - ২০তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. দর্শনমাত্র
  2. গ্রামান্তর
  3. বিরানব্বই
  4. অনুতাপ
সঠিক উত্তর:
অনুতাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুতাপ
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অনুতাপ = অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ প্রাদি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
"আমরণ" শব্দটি কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য,
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

.
'জ্ঞানালোক' কোন সমাস?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র, 
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়, 
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, 
- জ্ঞান রূপ আলোক = জ্ঞানালোক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি সাক্ষ্য দিব না।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল
  4. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
সঠিক উত্তর:
আমি সাক্ষ্য দিব না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি সাক্ষ্য দিব না।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

তাছাড়া,
- অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
- শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

- অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
- শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

- অশুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল।
- শুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ভাগিরথী
  2. সমীচীন
  3. কৃষিজীবি
  4. বিভিষিকা
সঠিক উত্তর:
সমীচীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীচীন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 • শুদ্ধ বানান - 'সমীচীন'।

অন্যদিকে,
- বাকি অপশন গুলর শুদ্ধ বানান:  বিভীষিকা, কৃষিজীবী এবং সমীচীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
  2. আমার আর বাঁচার সাধ নাই।
  3. আজকাল বিদ্যান মেয়ের অভাব নেই।
  4. আমার বড় দুরাবস্থা। 
সঠিক উত্তর:
আমার আর বাঁচার সাধ নাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার আর বাঁচার সাধ নাই।
ব্যাখ্যা

• 'আমার আর বাঁচার সাধ নাই।' বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: আমার বড় দুরাবস্থা। 
- শুদ্ধ: আমার বড় দুরবস্থা।

- অশুদ্ধ: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
- শুদ্ধ: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

- অশুদ্ধ: দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
- শুদ্ধ: দৈন্য/ দীনতা প্রশংসনীয় নয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1.  আশীষ
  2. কিরীট
  3. মন্ত্রিত্ব
  4. জাত্যভিমান
সঠিক উত্তর:
 আশীষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 আশীষ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
-  শুদ্ধ বানান - আশিস।
শব্দের অর্থ:
- আশীর্বাদ,
- দোয়া,
- শুভেচ্ছা।

অন্যদিকে,
- কিরীট, মন্ত্রিত্ব এবং জাত্যভিমান - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  2. একটা গোপনীয় কথা বলি।
  3. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  4. সূর্য উদয় হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
একটা গোপনীয় কথা বলি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটা গোপনীয় কথা বলি।
ব্যাখ্যা

 • শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি। 

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

অশুদ্ধ বাক্য: সূর্য উদয় হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সূর্য উদিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে তাকে কোন বাক্য বলে?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: সরল, জটিল ও যৌগিক।

- সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

- জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন – যদি তােমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলাে।

- যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন - রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

১০.
'উপকূল' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- যে সমাসের পূর্বপদে অব্যয় থাকে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।
- অন্যভাবে বলা যায়, পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে অর্থের প্রাধান্য থাকলে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয় উল্লেখ হয় না, কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি গঠিত হয়।
যেমন-
- জানু পর্যন্ত লম্বিত = আজানুলম্বিত (কাছে),
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।

বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ নিচে দেয়া হলো-
• সামীপ্য (উপ):
কূলের সমীপে = উপকূল, নগরীর সমীপে = উপনগরী, শহরের সমীপে = উপশহর, কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, অক্ষির সমীপে = সমক্ষ, ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ ইত্যাদি।

• বীপ্সা (অনু, প্রতি):
রোজ রোজ = হররোজ, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ, বছর বছর = ফিবছর, দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণ ক্ষণ = প্রতিক্ষণ, হপ্তা হপ্তা = ফিহপ্তা ইত্যাদি।

• অভাব (নিঃ, নির):
ভিক্ষার অভাব =  দুর্ভিক্ষ, মিলের অভাব = গরমিল, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জয়ের অভাব = পরাজয়, জলের অভাব = নির্জল, আমিষের অভাব = নিরামিষ, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন
  1. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
  2. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
  3. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  4. মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসি।
সঠিক উত্তর:
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

অন্যদিকে,
- ভুল বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
- শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

- অশুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
- শুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।

- অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসি।
- শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভ্রাতূষ্পুত্র
  2. ভ্রাতুস্পুত্র
  3. ভ্রাতুষ্পুত্র
  4. ভ্রাতূস্পুত্র
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতুষ্পুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতুষ্পুত্র
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 • শুদ্ধ বানান - 'ভ্রাতুষ্পুত্র'

- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: ভ্রাতুঃ + পুত্র।
যার অর্থ:
- ভাইয়ের ছেলে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩.
'যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।' এই বাক্যের যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যদি পরিশ্রম কর তাহলে সাফল্য পাবে।
  2. পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।
  3. সাফল্য চাইলে পরিশ্রম কর।
  4. পরিশ্রম করলে সাফল্য পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- সূত্র ক: আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
- সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
- সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।
যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল:যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪.
'ছায়াশীতল' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- ছায়া দ্বারা শীতল = ছায়াশীতল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫.
শুদ্ধ বানান - 
  1. প্রতিদন্দ্বীতা
  2. প্রতিদন্দ্বিতা
  3. প্রতিদ্বন্দ্বীতা
  4. প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সঠিক উত্তর:
প্রতিদ্বন্দ্বিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 • শুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ।
- প্রতিযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৬.
সমস্যমান পদগুলোর প্রথম পদকে বলা হয়-
  1. উত্তরপদ
  2. পরপদ
  3. পূর্বপদ
  4. সমস্যমান পদ
সঠিক উত্তর:
পূর্বপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বপদ
ব্যাখ্যা

সমাসের কয়েকটি পরিভাষা:
• সমস্যমান পদ:
যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

• সমস্ত পদ:
সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে। একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

• ব্যাসবাক্য:
সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। 'ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ। একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

• পূর্বপদ ও পরপদ:
মাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ। সিংহাসন শব্দের সিংহ হলো পূর্বপদ, আর আসন হলো পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
শুদ্ধ বানান -
  1. কান্ড 
  2. কুর্ণিশ
  3. বেণু
  4. মনিকা
সঠিক উত্তর:
বেণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেণু
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- বেণু।
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: কান্ড।
- শুদ্ধ: কাণ্ড।

- অশুদ্ধ: কুর্ণিশ।
- শুদ্ধ: কুর্নিশ।

- অশুদ্ধ: মনিকা।
- শুদ্ধ: মণিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৮.
'লােকটি শিক্ষিত কিন্তু অভদ্র।' - বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. যে লোকটি শিক্ষিত সে লোকটি অভদ্র
  2. লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র।
  3. লােকটি শিক্ষিত ও অভদ্র।
  4. লোকটি শিক্ষিত হওয়ায় অভদ্র।
সঠিক উত্তর:
লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: 'লােকটি শিক্ষিত কিন্তু অভদ্র।'
সরল বাক্য: লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
নিচের কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. তেলেভাজা
  2. ধীরেসুস্থে
  3. গায়েপড়া
  4. কানেখাটো
সঠিক উত্তর:
ধীরেসুস্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেসুস্থে
ব্যাখ্যা

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সুস্ত না হয়ে সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে।
- যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে,
- দুধে ও ভাতে = দুধেতাতে।
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে ইত্যাদি।

এরূপ- আদায়-কাঁচকলায়, আগেপিছে, কাগজে-কলমে, ধীরেসুস্থে, ক্ষেতেখামারে, দলেদলে, দুঃখেসুখে, হাতেপায়ে, হাতেনাতে, যাকেতাকে, ঝোপেঝাড়ে, মনেপ্রাণে, জলেডাঙায়, পথেপ্রবাসে, ইত্যাদি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

অন্যদিকে, 
• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে তৎপুরুষ সমাস হলে তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। 'অলুক' শব্দের অর্থ অ-লোপ, অর্থাৎ লোপ না হওয়া।
যেমন-
- সোনার তরী = সোনার তরী,
- চিনির বলদ = চিনির বলদ,
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- খেলার মাঠ = খেলার মাঠ ইত্যাদি অলুক তৎপুরুষ সমাস।

• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। যেমন-
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।