'জাতীয় বন-নীতি':
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৪ সালে 'জাতীয় বন-নীতি' ঘোষণা করে।
জাতীয় বননীতির উদ্দেশ্য:
- বনজ সম্পদের বিনাশ ও বনের অবক্ষয় রোধকল্পে যথাযথ কর্মসূচি এবং প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০% ঘনত্ব সম্পন্ন দেশের বৃক্ষাচ্ছাদিত (tree cover) এলাকার পরিমাণ ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যূনপক্ষে ২০% বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকাসমৃদ্ধ এবং সম্প্রসারণ করা।
- সরকারি বনভূমির কঠোর সংরক্ষণ, বনের বৃদ্ধি, বন বাস্তুতান্ত্রিক সেবার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বনজদ্রব্য, বাজার প্রভাবের আওতাধীন রেখে বন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের স্বার্থে বন প্রত্যয়নপত্র প্রদান (Forest Certification) ব্যবস্থা চালু করা।
- সরকারি বনের বাইরে শহর এলাকাসহ সরকারি এবং বেসরকারি মালিকানাধীন ভূমিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি বনের উপর বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতা হ্রাস করার জন্য সকল প্রকার অংশীদারিত্বমূলক বনায়ন কার্যক্রম এবং বনের বাইরে (off-forest) কর্মসংস্থান সৃষ্টি উৎসাহিত করা।
- রক্ষিত এলাকা ও অন্যান্য আবাসস্থলে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ পদ্ধতির উন্নয়ন করা।
- বন বাস্তুতন্ত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাভূমির জল-বিভাজিকা (catchment) চিহ্নিত করা এবং কঠোর প্রাকৃতিক রক্ষিত এলাকা (strict protected area) হিসেবে ঘোষণা করা।
- ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও বছর জুড়ে নদীপ্রবাহ নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপিত বনভূমির ৩০% এলাকা 'রক্ষিত এলাকা'য় সম্প্রসারণ করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জনসংখ্যার চাপ, শহরায়নসহ বিদ্যমান এবং উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলার জন্য বন বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের মাধ্যমে গবেষণা, শিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি কার্যক্রম জোরদার করা।
- বাস্তুতান্ত্রিক সেবার মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পরিশোধ, বন বাস্তুতান্ত্রিক পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করা।
- বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ২০০৯ (Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan, 2009)-এ চিহ্নিত সংশ্লিষ্ট সুপারিশসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
- বিবৃত নীতিমালা এবং এর অধীনে প্রণীত কার্যক্রম যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ও মূল্যায়ন এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা সেল প্রতিষ্ঠা করা।
- কাঠ ও কাঠের বিকল্প সক্ষম কারখানা স্থাপন সহজীকরণ এবং সেইসাথে কাঠের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- বিভিন্ন বহুপাক্ষিক পরিবেশ চুক্তি সম্পর্কিত বাংলাদেশের অঙ্গীকারসমূহ যেমন CITES, CBD, UNCED, Ramsar ইত্যাদি যাতে পরিপালিত হয় তা নিশ্চিত করা।
- বনায়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিশেষ করে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে নারীর সম্পৃক্ততা উৎসাহিত করা হবে।
- নীতির রূপরেখাকে কার্যে পরিণত করার লক্ষ্যে সমানুপাতিক আর্থিক সংশ্লেষ এবং যথার্থ জবাবদিহিতাসহ যথপোযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।