পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১ সাধারণ জ্ঞান - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক: বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, পরিবেশ ও দুর্যোগ। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ সম্পর্কিত অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], বাংলাপিডিয়া, ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. আর্দ্র
  2. সমভাবাপন্ন
  3. উষ্ণ
  4. চরমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু (Climate of Bangladesh):
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন
- দেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব অধিক থাকায় সামগ্রিকভাবে এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
- এখানকার জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমী বায়ু।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত।
- তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো-গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
গ্রীন হাউস ইফেক্টের প্রভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর প্রত্যক্ষ ক্ষতি কোনটি হবে?
  1. সাইক্লোনের প্রবনতা বাড়বে
  2. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  3. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  4. উত্তাপ অনেক যাবে
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ প্রভাব:
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়।
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে।
- ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে।
- এর ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে ন্যূনতম কত ডিগ্রি সেলসিয়াস প্রয়োজন হয়?
  1. ২৪°
  2. ২৫°
  3. ২৬°
  4. ২৭°
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস (Cyclone and Tidal Surge):
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে কোনো কোনোটি মারাত্মক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে কোন সমভূমি গঠিত?
  1. বদ্বীপ সমভূমি
  2. পাদদেশীয় সমভূমি
  3. স্রোতজ বনভূমি
  4. উপকূলীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বাংলাদেশকে একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছে।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে।
- এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
• পাদদেশীয় সমভূমি:  হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।

• বন্যাপ্রবণ সমভূমি: ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।

• স্রোতজ সমভূমি:  খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

• উপকূলীয় সমভূমি:  নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।  এখানকার পতেঙ্গা সৈকত, কক্সবাজার সৈকত এবং টেকনাফ সৈকত পর্যটনের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ।

• ব-দ্বীপ সমভূমি:
- ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের অতি তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. রংপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. দিনাজপুর
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
খরা:
- কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

⇒ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল: রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি খরাপ্রবণ অঞ্চল: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য খরাপ্রবণ অঞ্চল: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপর কোন নেতিবাচক প্রভাবটি পড়ে?
  1. লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি
  2. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস
  3. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশের নিম্নের কোন ভূমিরূপটি সবচেয়ে প্রাচীন?
  1. বরেন্দ্রভূমি
  2. প্লাবন সমভূমি
  3. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি ভূমি
  4. উপকূলীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ও উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি ভূমি যেমন রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এগুলো সবচেয়ে প্রাচীন ভূমি।

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
.
আকস্মিক বন্যা বাংলাদেশের কোথায় দেখা যায়?
  1. রংপুর
  2. কুড়িগ্রাম
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
.
বরেন্দ্রভূমি বাংলাদেশের কোন ভূ-প্রাকৃতিক সময়ে গঠিত?
  1. টারশিয়ারি যুগে
  2. সাম্প্রতিককালে
  3. প্লাইস্টোসিনকালে
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় নয় কোনটি?
  1. কিওক্রাডং
  2. লালমাই
  3. তাজিনডং
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
i) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

ii) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

অন্যদিকে,
- লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনযুগের পাহাড়। এটি আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় নয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
কত সালের সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল?
  1. ১৭৮৩ সাল
  2. ১৭৮৭ সাল
  3. ১৮৮৩ সাল
  4. ১৮৮৭ সাল
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাসমূহ ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।

১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২.
হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় নিম্নের কোন পাহাড়টির সৃষ্টি হয়েছে?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. প্লাইস্টোসিনকালের পাহাড়
  3. সাম্প্রতিককালের পাহাড়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
বাংলাদেশে বর্ষাকালে কোন বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  3. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  4. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে বাংলাদেশে বর্ষাকালে ঘূর্ণিঝড় হয়। 

বর্ষাকাল:
- বাংলাদেশে মধ্য জুন থেকে নভেম্বর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।
- বর্ষাকালেও অধিক সূর্যতাপ থাকার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- তবে আকাশে মেঘ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অধিক তাপমাত্রা উপলব্ধি করা যায় না।
- বর্ষাকালে অধিক জলীয়বাষ্পের কারণে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসে।
- বছরে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এসময় হয়।
- বর্ষার শেষ দিকে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
কোন রেখা প্রবাহিত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ ক্রান্তীয় জলবায়ুর অন্তর্গত?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
ট্রপিক অব ক্যান্সার:
- ট্রপিক অব ক্যান্সার বা কর্কটক্রান্তি রেখা।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে, ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
বাংলাদেশে কোন সময়ে 'আশ্বিনের ঝড়' সংঘটিত হয়ে থাকে?
  1. গ্রীষ্মের শুরুর দিকে
  2. গ্রীষ্মের শেষের দিকে
  3. বর্ষার শুরুর দিকে
  4. বর্ষার শেষের দিকে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রাবাহ:
- বর্ষার শেষের দিকে বঙ্গোপসাগরে মাঝে মাঝে ঝড়ের উৎপত্তি হয় এবং ঘূর্ণিঝড় উত্তর ও উত্তর-পূর্বদিক হতে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশের উপকূল ভাগে আঘাত হানে।
- এ ঝড়ের গতিবেগ প্রায় ১০০ মাইলেরও অধিক।
- ফলে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত এলাকার ব্যাপক অবর্ণনীয় ক্ষতি সাধন হয়।
- বাংলাদেশে এ সময়ের ঝড়কে 'আশ্বিনের ঝড়' বলে এবং এ ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি হয়। 

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
বাংলাদেশের কোথায় ল্যাটেরাইটযুক্ত মাটি পাওয়া যায়?
  1. মধুপুর গড়
  2. লালমাই পাহাড়
  3. বরেন্দ্রভূমি
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
লোহিত মৃত্তিকা:
- বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত উঁচু প্লাইস্টোসিন চত্বরগুলোতে এক প্রকার মাটি দেখতে পাওয়া যায়।
- এর আয়তন প্রায় ১১,০৯৫.৫৬ বর্গ কি.মি.।
- প্লাইস্টোসিন যুগের এ চত্বরগুলো ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর গড়, গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড়, উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমি এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় নামে পরিচিত।
- এসব অঞ্চলের মৃত্তিকায় চুনের পরিমাণ বেশি।
- রাসায়নিক দিক হতে এসব মৃত্তিকাকে ল্যাটেরাইট শ্রেণীর মৃত্তিকা বলা যায়।
- লাল কাঁকড়যুক্ত হওয়ায় এ মৃত্তিকার বর্ণ লাল।
- তাই একে লোহিত মৃত্তিকা বলে।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
পরিবেশ উন্নয়নে কবে বাংলাদেশ জাতীয় বন-নীতি গ্রহণ করেছে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

'জাতীয় বন-নীতি':
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৪ সালে 'জাতীয় বন-নীতি' ঘোষণা করে।

জাতীয় বননীতির উদ্দেশ্য:
- বনজ সম্পদের বিনাশ ও বনের অবক্ষয় রোধকল্পে যথাযথ কর্মসূচি এবং প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০% ঘনত্ব সম্পন্ন দেশের বৃক্ষাচ্ছাদিত (tree cover) এলাকার পরিমাণ ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যূনপক্ষে ২০% বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকাসমৃদ্ধ এবং সম্প্রসারণ করা।
- সরকারি বনভূমির কঠোর সংরক্ষণ, বনের বৃদ্ধি, বন বাস্তুতান্ত্রিক সেবার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বনজদ্রব্য, বাজার প্রভাবের আওতাধীন রেখে বন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের স্বার্থে বন প্রত্যয়নপত্র প্রদান (Forest Certification) ব্যবস্থা চালু করা।
- সরকারি বনের বাইরে শহর এলাকাসহ সরকারি এবং বেসরকারি মালিকানাধীন ভূমিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি  বনের উপর বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতা হ্রাস করার জন্য সকল প্রকার অংশীদারিত্বমূলক বনায়ন কার্যক্রম এবং বনের বাইরে (off-forest) কর্মসংস্থান সৃষ্টি উৎসাহিত করা।
- রক্ষিত এলাকা ও অন্যান্য আবাসস্থলে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ পদ্ধতির উন্নয়ন করা।
- বন বাস্তুতন্ত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাভূমির জল-বিভাজিকা (catchment) চিহ্নিত করা এবং কঠোর প্রাকৃতিক রক্ষিত এলাকা (strict protected area) হিসেবে ঘোষণা করা।
- ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও বছর জুড়ে নদীপ্রবাহ নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপিত বনভূমির ৩০% এলাকা 'রক্ষিত এলাকা'য় সম্প্রসারণ করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জনসংখ্যার চাপ, শহরায়নসহ বিদ্যমান এবং উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলার জন্য বন বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের মাধ্যমে গবেষণা, শিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি কার্যক্রম জোরদার করা।
- বাস্তুতান্ত্রিক সেবার মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পরিশোধ, বন বাস্তুতান্ত্রিক পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করা।
- বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ২০০৯ (Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan, 2009)-এ চিহ্নিত সংশ্লিষ্ট সুপারিশসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
- বিবৃত নীতিমালা এবং এর অধীনে প্রণীত কার্যক্রম যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ও মূল্যায়ন এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা সেল প্রতিষ্ঠা করা।
- কাঠ ও কাঠের বিকল্প সক্ষম কারখানা স্থাপন সহজীকরণ এবং সেইসাথে কাঠের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- বিভিন্ন বহুপাক্ষিক পরিবেশ চুক্তি সম্পর্কিত বাংলাদেশের অঙ্গীকারসমূহ যেমন CITES, CBD, UNCED, Ramsar ইত্যাদি যাতে পরিপালিত হয় তা নিশ্চিত করা।
- বনায়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিশেষ করে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে নারীর সম্পৃক্ততা উৎসাহিত করা হবে।
- নীতির রূপরেখাকে কার্যে পরিণত করার লক্ষ্যে সমানুপাতিক আর্থিক সংশ্লেষ এবং যথার্থ জবাবদিহিতাসহ যথপোযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।