পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা ⎯ ২ টপিক: বানান শুদ্ধীকরণ [লাইভ ক্লাস ⎯ ৩, ৪ ও ৪২]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
প্রমিত বানানের নিয়ম অনুসারে, কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঊর্দ্ধ
  2. মূর্চ্ছা
  3. কার্ত্তিক
  4. অর্জন
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
অর্জন- শুদ্ধ বানান। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। 
যেমন:
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কার্ত্তিক,  কর্ম্ম, মূর্চ্ছ্‌ কার্য্য  ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কার্তিক, কর্ম, মূর্ছা, কার্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. উৎকন্ঠা
  2. কাণ্ড
  3. বণ্টন
  4. লুণ্ঠন
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দে ট- বর্গের (ট, ঠ, ড, ঢ) সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ' হয়ে যায়। 
যেমন- মণ্ড, উৎকণ্ঠা , লুণ্ঠন, বণ্টন, খণ্ড, ভণ্ড, কাণ্ড ইত্যাদি।

• সে অনুসারে, 'উৎকন্ঠা' বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান হবে- 'উৎকণ্ঠা'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

.
কোনটি মিথ্যা?
  1. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না। 
  2. বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য ষ লেখার প্রয়োজন হয়না। 
  3. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
  4. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ন' হয়। 
ব্যাখ্যা

ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ন' হয়। - উক্তিটি মিথ্যা।
কারণ, ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. মাস্টার
  2. তৃণ
  3. গভর্ণর
  4. প্রণয়
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন। 

এখানে, 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'। 

অন্যদিকে,
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• - পরি, প্র, নির- এই তিনটি উপসর্গের পর ণত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি মূর্ধন্য ণ হয়। 
যেমন- প্রণয়, প্রণাম।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. বেণু
  2. শোণিত
  3. মণি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে।
যেমন:
- মাণিক্য, গণ, লবণ, বেণু, কঙ্কণ, কল্যাণ, শোণিত, মণি ইত্যাদি।

• অতৎসম বানানে ণ হবে না। তার বদলে হবে ন। 
যেমন:
অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি অভিধান।

.
তৎসম শব্দের নিয়মানুযায়ী কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. প্রণব
  2. পরিমাণ
  3. প্রয়ান
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দে 'প্র, পরি, নির' প্রভৃতি উপসর্গের পর কতকগুলো শব্দের 'দন্ত্য- ন' পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন- প্রণব, প্রণয়, প্রণাম, প্রয়াণ, প্রাণ, প্রণোদন ইত্যাদি।  

• সে অনুসারে, 'প্রয়ান' এর শুদ্ধ বানান হবে- 'প্রয়াণ'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 

.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. তিরস্কার
  2. বাচস্পতি
  3. ক এবং খ উভয়ই 
  4. নিষ্পন্দ
ব্যাখ্যা

নিষ্পন্দ- অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান: নিস্পন্দ। 
অর্থ: স্থির, অসাড়।

-------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে,
ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
(স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

.
নিচের কোনটি শুদ্ধ? 
  1. হেঁয়ালী
  2. হেয়ালী
  3. হেঁয়ালি
  4. হেয়ালি
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম অনুসারে অশুদ্ধ বানান: হেঁয়ালী।
• এর শুদ্ধরূপ: হেঁয়ালি।

নিয়ম:
আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে ‘সোনালী ব্যাংক’ এর (সোনালী) বানানটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধিত। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও বানানের নিয়ম অনুসারে (সোনালী) শব্দের সঠিক বানান সোনালি।]

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. যোগিনী 
  2. মালীনী 
  3. একাকিনী
  4. মায়াবিনী
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম অনুসারে 'মালীনী' শব্দটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বানান: মালিনী।

-----------------
• নিয়ম:
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ত, ‘ত্ব’, নী ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী - কৃতিত্ব,
যোগী - যোগিনী,
মালী - মালিনী,
একাকী- একাকিনী,
দায়ী - দায়িত্ব,
প্রতিযোগী - প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী - মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী - সহযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. আকাঙ্খা
  2. আকাংক্ষা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আকাংখা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'আকাঙ্ক্ষা' - শুদ্ধ বানান।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. পূর্বাহ্ন
  2. প্রাহ্ণ
  3. অপরাহ্ণ
  4. পরাহ্ণ
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন- অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, পূর্বাহ্ন শুদ্ধ নয়, এর শুদ্ধ বানান- 'পূর্বাহ্ণ'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

১২.
অতৎসম ও বিদেশি শব্দে কোন চিহ্নটি ব্যবহৃত হবে না?
  1. ই-কার
  2. ঊ-কার
  3. এ-কার
  4. উ-কার
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
- অতৎসম অর্থাৎ নিজস্ব (অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ইত্যাদি) ও বিদেশি শব্দে সর্বদা ঈ-কার এবং ঊ-কার বর্জিত হবে।
যেমন: তরকারি, মুলা, দিঘি, সরকারি, শাড়ি, পশমি, ইমান, কুরান, নিচু, ভুখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৩.
“উষা” - শব্দটি কোন ধরনের বানান-নিয়ম অনুসারে লেখা হয়?
  1. অতৎসম শব্দ
  2. তৎসম শব্দ
  3. বিদেশি শব্দ
  4. দেশি শব্দ 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে।
তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, লাইভ এমসিকিউ লেকচার; ভাষা শিক্ষা- ড.  হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪.
প্রমিত বানান-
  1. উষশী 
  2. ভ্রান্তিবশতঃ
  3. মনযোগ
  4. জ্যোতিঃশাস্ত্র
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়মাবলী অনুসারে:

ক) উষশী → ভুল। প্রমিত: উষসী।
গ) জ্যোতিঃশাস্ত্র → সঠিক।
খ) ভ্রান্তিবশতঃ → ভুল। প্রমিত: ভ্রান্তিবশত।
গ) মনযোগ → ভুল। প্রমিত: মনোযোগ।

তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫.
নিচের কোন শব্দটি প্রমিত বানানে অশুদ্ধ?
  1. রূপালি
  2. মিতালী
  3. বর্ণালি
  4. খেয়ালি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুসারে শুদ্ধ - রূপালি, খেয়ালি, বর্ণালি।
- 'মিতালী' শব্দটির শুদ্ধ বানান — 'মিতালি'। 

- '-আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন: সোনালী হবে না, হবে সোনালি; মিতালী হবে না, হবে মিতালি।

অনুরূপভাবে,
- বর্ণালি, খেয়ালি, রূপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. পরায়ণ
  2. রামায়ণ
  3. পলায়ণ
  4. দক্ষিণায়ন
ব্যাখ্যা

‘পলায়ণ’- বানানটি অশুদ্ধ।

• দক্ষিণায়ন, রামায়ণ, পরায়ণ, ণ হলেও ণত্ব বিধি অনুযায়ী পলায়ন বানানে ‘ন’ হবে ।

উৎস : প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৭.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. শামিয়ানা
  2. শৌখিন
  3. কিশমিষ
  4. স্টিমার
ব্যাখ্যা

• কিশমিষ -অশুদ্ধ বানান।
- এর শুদ্ধ বানান হচ্ছে - কিশমিশ।

• বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
- কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, স্টিমার, বেহেস্ত, শখ, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন

উৎস : প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৮.
প্রমিত বাংলায় কোন রূপটি অধিক গ্রহণযোগ্য?
  1. পদবী
  2. পদবি
  3. পদোবি
  4. পদবি/পদবী উভয়ই
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:

- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে। তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

উৎস : প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৯.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?  
  1. সুষুপ্ত
  2. অনুষঙ্গ
  3. প্রতিষেধক
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

এখানে, সবগুলো বানানই শুদ্ধ।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন,
- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

২০.
'কার্পণ্যতা' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. বাহুল্যজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বানানজনিত
  4. সমাসসাধিত
ব্যাখ্যা

• 'কার্পণ্যতা' শব্দটি-  'অপপ্রয়োগ'। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'কার্পণ্য'। 
এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।
 
• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।