পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্সতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
Exam - 103 Bangla: Topic: ধ্বনি ও বর্ণ, ধ্বনি পরিবর্তন, শব্দের উচ্চারণ, লিঙ্গ, দ্বিরুক্ত শব্দ, যুক্তবর্ণ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স

ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি ⎯ লং কোর্স · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্ধমাত্রার বর্ণগুলোর মধ্যে কয়টি স্বরবর্ণের?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. ছয়টি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার স্বরবর্ণ : ১টি (ঋ)। 

অর্ধমাত্রা বর্ণ : 
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ), 
- এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি ( খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

• মাত্রাভেদে বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ হচ্ছে ৮টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।

আবার,
• মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

• মাত্রাভেদে স্বরবর্ণ:
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
অপিনিহিতির উদাহরণ কোনটি?
  1. পোখত্ > পোক্ত
  2. চারি > চাইর
  3. শিকা > শিকে
  4. বেঞ্চ > বেঞ্চি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: 
- সত্য  > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, শিকা > শিকে, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন: দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্তবেঞ্চ > বেঞ্চি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
‘এ’ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে কোন শব্দে?
  1. বেলা
  2. খেলা
  3. এলো
  4. ঠেলা
ব্যাখ্যা
• এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম:
[এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
‘এ’ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: দেশ [দেশ্], এলো [এলো]
‘এ’ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা], ঠেলা [ঠ্যালা]। 

এরূপ কিছু বর্ণের শুদ্ধ উচ্চারণ হলো:
• ‘ঐ’ বর্ণের উচ্চারণ [ওই্]: ঐকিক [ওইকিক্], তৈল [তোই্লো]।
• ‘ও’ বর্ণের উচ্চারণ [ও]: ওল [ওল্], বোধ [বোধ্]।
• ‘ঔ’ বর্ণের উচ্চারণ [ওউ্]: ঔষধ [ওউ্শধ্], মৌমাছি [মোউ্মাছি]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
.
'ব্যাঙ্গমা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ব্যাঙ্গম
  2. বেঙামি
  3. বেঙ্গমানী
  4. ব্যাঙ্গমি
ব্যাখ্যা
• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ হলো - 
- ভাগনে-ভাগনী,
- ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি ইত্যাদি।

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

• ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. ঠুকঠুক
  2. বুদ্ধিশুদ্ধি
  3. কুটুস-কুটুস
  4. হাতে হাতে
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - ঠুকঠুক, কুটুস-কুটুস।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - হাতে হাতে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
.
"বিলাতি > বিলিতি" - কী ধরনের ধ্বনির পরিবর্তন?
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. বিষমীভবন
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
- যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'মসৃণ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. মস্‌স্রিণ
  2. মোস্‌সৃণ
  3. মস্‌সৃন
  4. মোস্‌সৃন্
ব্যাখ্যা
• 'মসৃণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'মোস্‌সৃন্'।

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ:
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'আনী' প্রত্যয়যুক্ত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কামারনী
  2. নাপিতানী
  3. ধোপানী
  4. মজুরনী
ব্যাখ্যা
নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ:
• কামার - কামারনী,
• জেলে - জেলেনী,
• কুমার - কুমারনী,
• ধোপা - ধোপানী,
• মজুর - মজুরনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• আনী-প্রত্যয়:
ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ -
  1. ল্ট
  2. ল্ফ
  3. ভ্র
  4. ষ্ট
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১০.
যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ কোনটি?
ব্যাখ্যা

দ্বিস্বরধ্বনি:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বিস্বর নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়।
- দ্বিস্বরে দুটি স্বর থাকে একটি পূর্ণ, আর একটি অপূর্ণ।

- বাংলায় পরের স্বরটিই সাধারণত অর্ধ হয়।
- বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।


- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে : ঐ এবং ঔ।
- উদাহরণ : কৈ, বৌ।
- অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনাে বর্ণ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
'অ' বর্ণের উচ্চারণ কয় রকমের হতে পারে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।

'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ:
- অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।

'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ:
- অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
কোনটি তালব্য ব্যঞ্জন?
ব্যাখ্যা
• তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩.
'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপোরান্নো
  2. অপরান্‌হ
  3. অপোরান্‌হো
  4. অপোরানও
ব্যাখ্যা
• 'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'অপোরান্‌হো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৪.
'ক্ষ্ম' যুক্তবর্ণটিতে কী কী বর্ণ আছে?
  1. হ্‌ + ম্‌ + ন
  2. ক্‌ + ষ্‌ + ন
  3. হ্‌ + ম্‌ + ণ
  4. ক্‌ + ষ্‌ + ম
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষ্ম' যুক্তবর্ণটিতে আছে: ক্‌ + ষ্‌ + ম।
যেমন : সূক্ষ্ম। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ন্ + ম = ন্ম,
- হ্ + ণ = হ্ণ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- ত্ + থ = ত্থ,
- ন্ + ন = ন্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. উড়ু উড়ু
  2. কত কত
  3. মজার মজার
  4. ভালো ভালো
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব - মজার মজার।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
অভিধান অনুসারে যুক্তাক্ষরের ক্ষেত্রে কোনটি আগে বসবে?
  1. ল্প
  2. ল্ক
  3. ল্ল
  4. ল্ম
ব্যাখ্যা
বাংলা অভিধানে শব্দ ক্রমানুসারে সাজানোর সময় যুক্তাক্ষরগুলোর মধ্যে উপরের বর্ণটি যদি একই থাকে তবে, যে বর্ণটি যুক্তাক্ষরের দ্বিতীয় অংশে থাকে, তার বর্ণানুক্রমিক অবস্থান অনুসারে ক্রম নির্ধারিত হয়।

এখানে ব্যঞ্জনবর্ণের যুক্তাক্ষরগুলো হলো:

ল্ক → ক যুক্ত (ক = ১ম বর্ণ);
ল্প → প যুক্ত (প = ২১তম বর্ণ);
ল্ম → ম যুক্ত (ম = ২৫তম বর্ণ);
ল্ল → ল যুক্ত (ল = ২৮তম বর্ণ)।

• বাংলা অভিধানে যুক্তাক্ষরগুলির ক্রম নির্ধারিত হয় দ্বিতীয় বর্ণের ক্রম অনুসারে। 'ল্' এর পরে যথাক্রমে 'ক', 'ম', 'প' এবং 'ল' বর্ণ রয়েছে। বর্ণমালায় 'ক' আগে, তারপর 'প', 'ম' এবং 'ল' - এই ক্রম অনুযায়ী অভিধানে যুক্তাক্ষরগুলি সাজানো থাকে।

অতএব, "ল্ক" যুক্তাক্ষরে 'ক' সবচেয়ে আগে আসে, তাই অভিধানে এটি সবার আগে বসে।
১৭.
"কবাট > কপাট" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সমীভবন
  2. অন্তর্হতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: 
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
নিচের কোনটি পত্নী অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সৎমা
  2. ছাত্রী
  3. আয়া
  4. গুরুপত্নী
ব্যাখ্যা
•'গুরুপত্নী'- পত্নী অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ।
এর পুরুষবাচক শব্দ- গুরু।
-------------- 
 সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের: 
- পত্নীবাচক, 
- অপত্নীবাচক। 

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
যেমন: পিতা-মাতা, চাচা- চাচি, দাদা- দাদি, জেলে- জেলেনি, গুরু- গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি। 

• অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। 
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা, নেতা- নেত্রী, পাগল- পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক- বালিকা ইত্যাদি।  

অন্যদিকে,
• খানসামা এর স্ত্রীবাচক শব্দ-আয়া,
• ছাত্র- ছাত্রী- অপত্নীবাচক শব্দ।
• সৎমা- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
'টসটস' কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. পদদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, টসটস, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০.
কোন ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়?
  1. অঘোষ ধ্বনি
  2. অল্পপ্রাণ ধ্বনি
  3. ঘোষ ধ্বনি
  4. মহাপ্রাণ ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• অঘোষ ধ্বনি: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যেমন- ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি। 

• ঘোষ ধ্বনি: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে।
যেমন- গ, জ, ড, ঘ, ঝ, ধ ইত্যাদি ঘোষ ধ্বনি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২২)।
২১.
ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ফাল্গুন > ফাগুন
  2. তৎহিত > তদ্ধিত
  3. পিশাচ > পিচাশ
  4. ধোবা > ধোপা
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

অনুরূপ-  পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

অন্যদিকে,
• অন্তর্হতি: পদের মধ্যে ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, আলাহিদা > আলাদা।

সমীভবন: 
দুটো ধ্বনির একে অপরের প্রভাবে অল্প বিস্তর সমতা লাভ করাকে বলে সমীভবন।
উদাহরণ: জন্ম > জম্ম, তৎহিত > তদ্ধিত

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২২.
'ন্ধ' যুক্তবর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ন + দ
  2. ন্‌ + ব
  3. ণ্‌ + ধ
  4. ন্‌ + ধ
ব্যাখ্যা
• 'ন্ধ' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে- ন্‌ + ধ।

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ণ্ + ড = ণ্ড,
- ত + র = ত্র,
- শ্‌ + ঊ = শু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।