পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়40 minutes
মোট প্রশ্ন৫৩
সিলেবাস
পার্ট – ১: বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ii) সত্তরের নির্বাচন iii) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ iv) বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি v) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------- পার্ট – ২: মানসিক দক্ষতা টপিকসমূহ: ১. বানান ও ভাষা (Spelling and Language): ২. যান্ত্রিক দক্ষতা (Mechanical Reasoning): উৎস: যেকোনো গাইড বই, আর্কাইভ থেকে Live MCQ এর আগের সকল প্রশ্ন দেখে নিতে পারেন।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৩ প্রশ্ন

.
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) জেনারেল আইয়ুব খানের পতন
  2. খ) বাংলার স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) ভারতের সহযোগিতায় পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা

- ১৯৬৬ সালে ছয় দফা উত্থাপিত হওয়ার পর দ্রুত তা বাংলার গ্রামগঞ্জে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি ছয়দফা আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।
- এরই প্রেক্ষাপটে দায়ের করা হয় ষড়যন্ত্রমূলক আগরতলা মামলা।
- আগরতলা মামলা ছিল সামরিক একনায়ক আইয়ুব খানের শাসনামলের এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।
- বাঙ্গালির অধিকার আদায়ের লড়াই নস্যাৎ করতে এবং আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির ময়দান হতে নির্মূল করতে পাকিস্তানী শাসক চক্র এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে।

- আগরতলা মামলার প্রথমদিকে শেখ মুজিবুর রহমানকে যুক্ত করা হয়নি।
- কিন্তু ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে প্রধান আসামী করে পূর্বের ২৮ জনসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে 'ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা ও পরিচালনা'র অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়।
- এক্ষেত্রে অভিযোগনামায় বলা হয়, শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ও ভারতের সহযোগিতায় অভিযুক্ত সামরিক সদস্যরা পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিল।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবি ছিল-
  1. ক) আইয়ুব খান বিরোধী
  2. খ) খাজা নাজিমুদ্দিন বিরোধী
  3. গ) জুলফিকার আলী ভুট্টো বিরোধী
  4. ঘ) ইয়াহিয়া খান বিরোধী
ব্যাখ্যা
ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি

- ১৯৬৬ সালের ছয় দফার জনপ্রিয়তা দেখে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- এ মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সমাজ আইয়ুব খান বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।

- এরই প্রেক্ষিতে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের একাংশ (দোলন গ্রুপ) ও ডাকসুর উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয় এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে 'এগার দফা কর্মসূচি' বা দাবি ঘোষণা করে।
- ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
-  ১১ দফা আন্দোলন পরিণত হয় গণঅভ্যুত্থানে। 

ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি নিম্নরূপ:-

১. জাতীয় শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট (হামুদুর রহমান কমিশন) এবং বিশ্ববিদ্যালয় কালাকানুন বাতিল ঘোষণা, ছাত্র ও অন্যান্য ফি কমিয়ে শিক্ষার ব্যয় সঙ্কোচ করতে হবে।
২. সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. ছয় দফা দাবির ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করতে হবে।
৪. বেলুচিস্তান, সিন্ধু ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন দানের পর পশ্চিম পাকিস্তানে সাব-ফেডারেশন গঠন করতে হবে।
৫. ব্যাংক, বিমা ও বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে হবে।
৬. কৃষকের করভার লাঘব করতে হবে।
৭. শিল্প-শ্রমিকদের অধিক মজুরি প্রদান করতে হবে।
৮. পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৯. জরুরি অবস্থাসহ জন-নিরাপত্তা আইন, জরুরি আইন ও অন্যান্য দমনমূলক আইন রহিতকরণ করতে হবে।
১০. স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ এবং ‘সিয়াটো' ও 'সেন্টো' নামক সামরিক জোট হতে বের হয়ে আসতে হবে।
১১. সকল রাজবন্দীর মুক্তি এবং তথাকথিত আগরতলা মামলাসহ সকল রাজনৈতিক মামলার অবসান ঘোষণা, সকল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া প্রত্যাহার করতে হবে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
.
বাংলাদেশ সংবিধানকে বঙ্গবন্ধু কী নামে আখ্যায়িত করেন?
  1. ক) গণ-মানুষের সংবিধান
  2. খ) উত্তম সংবিধান
  3. গ) বিপ্লবী সংবিধান
  4. ঘ) শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ (Spirit and Ideology of Liberation War)

- বাংলাদেশ এক সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করেছে। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত এবং চার লাখ নির্যাতিত নারীর ত্যাগের মহিমায় বাংলাদেশের জনগণ লাভ করে স্বাধীনতা।

- বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে তা এক অনন্য ঘটনা। যেসব মহান আদর্শ বাংলাদেশের জনগণকে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং যে সব স্বপ্ন (সাম্য, গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, আর ধর্মনিরপেক্ষতা) বাস্তবায়নে ১৯৭১ সালে বাঙালি কৃষক-শ্রমিক-জনতা অকাতরে প্রাণ দিয়েছে সেগুলোই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ। বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

- বস্তুত বাঙালির চেতনায় ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা সমুজ্জ্বল থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি হিসেবে এ চারটি আদর্শকে সংযুক্ত করেন। বাংলাদেশ সংবিধানকে এ কারণেই তিনি ‘শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান' হিসাবে আখ্যায়িত করেন।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
জাতিসংঘে উত্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বমোট কতবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে?
  1. ক) ২ বার
  2. খ) ৩ বার
  3. গ) ৪ বার
  4. ঘ) ৫ বার
ব্যাখ্যা
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রয়োগ

পাকিস্তানের পতন অনিবার্য হয়ে উঠলে পতন ঠেকাতে আমেরিকা চেয়েছিল যুদ্ধ বিরতি করাতে। এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি অস্থায়ী সদস্য নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন ডাকা হলে জর্জ ডব্লিউ বুশ যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এতে ভেটো প্রয়োগ করে।

- আবারও যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করলে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবারও ভেটো প্রয়োগ করে।

- শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের পরিবর্তে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৭ ডিসেম্বর একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তৃতীয়বারের মতো ভেটো প্রয়োগ করে।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘শেখ মুজিব কার্যত ঢাকার সরকার।' - ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে ঢাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন -
  1. ক) জুলফিকার আলী ভুট্টো
  2. খ) জেনারেল টিক্কা খান
  3. গ) এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান
  4. ঘ) খান বাহাদুর আবদুল কাইউম খান
ব্যাখ্যা

সাত মার্চ পরবর্তী পরিস্থিতি এবং স্বাধীনতার প্রস্তুতি শুরু

- শেখ মুজিবের ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম' ঘোষণার প্রেক্ষিতে সর্বাত্মক হরতাল পালনের পাশাপাশি সর্বত্র কালো পতাকা উত্তোলন, মিছিল, সমাবেশ শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ ছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেয়।
- ৭ মার্চ থেকেই আওয়ামী লীগের নির্দেশে দেশ চলতে থাকে।
- ঢাকা সফর শেষে করাচিতে গণঐক্য আন্দোলনের নেতা এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান বলেন,

“শেখ মুজিব কার্যত ঢাকার সরকার, সেখানে সব সরকারি কর্মচারী ও সচিবরা তাঁর নির্দেশ পালন করছে। ঢাকায় কেবল সামরিক সদর দপ্তরে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছে।”


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধকালে অনিয়মিত বাহিনীর সরকারি নাম ছিল -
  1. ক) গণবাহিনী
  2. খ) মুক্তিযোদ্ধা
  3. গ) ফ্রিডম ফাইটার
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী

মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুভাগে বিভক্ত ছিল-

১. নিয়মিত বাহিনী ও
২. অনিয়মিত বাহিনী।

১. নিয়মিত বাহিনী:
- পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর সমন্বয়ে বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়।
- সৈন্যবলের ঘাটতি পূরণের জন্য আধা-সামরিক বাহিনী (যেমন পুলিশ, আনসার, মুজাহিদ) বা যুবকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৮টি ব্যাটালিয়ন গঠিত হয়।
- এছাড়া সেক্টর ট্রুপস গড়ে তোলা হয়। সেক্টর ট্রুপসের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০,০০০। নিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের সেক্টর ট্রুপসে নেয়া হয়।
- নিয়মিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়ন নিয়ে ৩টি ব্রিগেড গঠন করা হয়।
- এই ব্রিগেডগুলো কে ফোর্স, এস ফোর্স ও জেড ফোর্স নামে পরিচিত ছিল।
- সরকারি পর্যায়ে এদের নামকরণ করা হয় মুক্তিফৌজ (এম.এফ.)।

- নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা মাসিক বেতনভাতা ও সেনাবাহিনীর আইন-শৃংখলার আওতাধীন ছিল।
- নিয়মিত বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮,৬০০ জন।
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসাবে সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌবাহিনীও গড়ে তোলে।

২. অনিয়মিত বাহিনী:
- মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর 'মুক্তিফৌজ' (এম.এফ.) বা 'মুক্তিবাহিনীর' সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশের হাজার হাজার ছাত্র, কিশোর, যুবক, কৃষক-শ্রমিকের যুব অংশ।
- এদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়মিত বাহিনীর অধীনেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পাঠানো হতো।
- এদের কাজ ছিল পাকিস্তানি শত্রু সেনাকে ‘আঘাত করে সরে পড়া' (Hit and run)।
- অনিয়মিত বাহিনীকে সরকারিভাবে বলা হতো 'গণবাহিনী' বা এফ.এফ. (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)
- সে সময় গ্রামে-গঞ্জের লোকজন এদেরকে ‘গেরিলা বাহিনী' বা 'গেরিলা' বলেও অভিহিত করতো।
- এই বাহিনীর জন্য কোন সামরিক আইন কার্যকর ছিল না। গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের কোন বেতন-ভাতা দেয়া হতো না।
- অনিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বাংলাদেশের প্রথম নৌবহরের নাম -
  1. ক) বঙ্গবন্ধু
  2. খ) তিতুমীর
  3. গ) ঈশা খাঁ
  4. ঘ) সম্রাট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ নৌবাহিনী

- মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনী হিসাবে নৌবাহিনীও গড়ে তোলা হয়।
- ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে এ বাহিনী গড়ে তোলা হয়।
- ৯ নভেম্বর পাকবাহিনীর কাছ থেকে ৬টি দখলকৃত নৌযান নিয়ে প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু' নৌবহরের উদ্বোধন করা হয়।
- যুদ্ধের শেষদিকে নৌবাহিনী গঠিত হলেও নৌপথে যুদ্ধ পরিচালনার কৃতিত্ব মূলত নৌ-কমান্ডো গেরিলাদের।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নৌ-কমান্ডোদের সর্বপ্রথম অপারেশনের নাম -
  1. ক) অপারেশন এন্টারপ্রাইজ
  2. খ) অপারেশন জ্যাকপট
  3. গ) অপারেশন সি এঞ্জেল
  4. ঘ) অপারেশন ঈগল
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট

- অপারেশন জ্যাকপট ছিল নৌ-কমান্ডোদের প্রথম অপারেশন
- চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া ছিল এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।
- নৌ-কমান্ডোরা জাহাজে মাইন লাগিয়ে ফিরে আসেন।
- ১৫ আগস্ট রাত ১২টায় মাইন বিস্ফোরণে চট্টগ্রাম বন্দর প্রকম্পিত হয়।
- ঐ দিন ক্ষতিগ্রস্থ হয় ১০টি জাহাজ ও ২টি গানবোট।
- চট্টগ্রাম বন্দরের এই নৌ-অপারেশনের খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ক্ষতিগ্রস্থ জাহাজের সবই ছিল বিদেশি।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
২৫ মার্চ পাকসেনাদের নির্মম গণহত্যার শিকার হয় প্রথমে -
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) পিলখানার ইপিআর
  3. গ) পুরান ঢাকা
  4. ঘ) ফার্মগেইটে মিছিলরত বাঙালিরা
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট

- মূল পরিকল্পনায় ছিল রাত ১.০০টা থেকে অপারেশন চালানো হবে।
- কিন্তু পথে বিলম্ব হবে ভেবে সৈন্যরা ১১.৩০ টার সময় রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।
- এ সময় প্রথম আক্রমণের শিকার হয় ফার্মগেইট এলাকায় রাস্তায় মিছিলরত মুক্তিকামী বাঙালিরা
- পাক সেনাদের গুলিতে মুহূর্তের মধ্যে তাদের কণ্ঠরোধ হয়ে যায়।
- একই সাথে আক্রমণ চালানো হয় পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। 
- রাত ১.৩০ টার সময় শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
বঙ্গবন্ধুর লেখা স্বাধীনতা ঘোষণাটি প্রথম যে বেতার মাধ্যমে প্রচারিত হয় সেটার নাম-
  1. ক) চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র
  2. খ) স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র
  3. গ) কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র
  4. ঘ) স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণা
- গ্রেফতার হওয়ার পূর্বমুহূর্তে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে (২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে, যাতে বিশ্ববাসী ঘোষণাটি বুঝতে পারেন। 

- স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশের সকল স্থানে তদানীন্তন ইপিআর এর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন।
- ২৭ মার্চ উক্ত বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান পুনরায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ দেশগুলোর সম্মেলনে বাংলাদেশ যোগদান করে -
  1. ক) ১৯৭১ সালে
  2. খ) ১৯৭২ সালে
  3. গ) ১৯৭৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন ও বাংলাদেশ

- স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ অধিকাংশ জোটনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সাহায্য ও সহযোগিতা লাভ করেছিল।
- স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রতি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে।
- বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনে শরীক হয় ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলনে।
- এ সম্মেলনে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ তেজোদীপ্ত কণ্ঠে এ সম্মেলনে সকল প্রকার উপনিবেশবাদ, নয়া-উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিন্দাজ্ঞাপন করেন।
- তিনি জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য এবং কাজে ও কথায় এর নীতি অনুসরণ করার জন্য সকল রাষ্ট্রের প্রতি আবেদন জানান।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২.
সর্বদলীয় গোলটেবিল বৈঠক কোন মাসে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) জানুয়ারি
  2. খ) ফেব্রুয়ারি
  3. গ) মাৰ্চ
  4. ঘ) মে
ব্যাখ্যা
গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য

- ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিশেষ করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ গণআন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ সুসংগঠিত হয়ে ওঠে। এ আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার বিরোধী মানসিকতা জনগণের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত হয়। জনগণ সর্বস্ব ত্যাগ স্বীকারের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়।

- আন্দোলনের তীব্রতায় আইয়ুব সরকার জনগণের নিকট নতি স্বীকার করে এবং ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাওয়ালপিন্ডিতে একটি সর্বদলীয় গোল টেবিল বৈঠক ডাকতে বাধ্য হন। এ গোলটবিল বৈঠকে তিনটি বিষয়ে নেতৃবর্গ ঐকমত্যে পৌঁছান। যথা-

- যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন পদ্ধতির প্রবর্তন,
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং
- প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
ছাত্রনেতা আসাদকে কত তারিখে হত্যা করা হয়?
  1. ক) ২০ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ২১ জানুয়ারি
  3. গ) ২০ জানুয়ারি
  4. ঘ) ২২ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নামে ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতার একজন নেতার মৃত্যু হলে আন্দোলন প্রকট আকার ধারণ করে।
- আসাদ হত্যার পরিণতিতে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

- এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামমসুজ্জোহা সেনাবাহিনীর বেয়োনেট চার্জে মৃত্যুবরণ করেন।
- পাকিস্তান সরকার নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন রুদ্ধ করতে গিয়ে এর গতি আরো তীব্র করে তোলে। ফলে গণঅভ্যূত্থান হয়ে পড়ে অবধারিতI


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি ৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত মোর্চার নাম ছিল -
  1. ক) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
  2. খ) গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ
  3. গ) সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)
  4. ঘ) যুক্তফ্রন্ট
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ

- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়রি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দরা মিলে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- অচিরেই ১১ দফা দাবিকে আপামর বাঙালি সমর্থন প্রদান করে।
- ঊনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রামের এই ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী। ফলে দ্রুত এ কর্মসূচিকে করে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ' (ডাক) (Democratic Action Party - DAC) নামক মোর্চা গঠন করে এবং ৮ দফা দাবি পেশ করে।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কোন কূটনীতিক প্রথম বাংলাদেশ বিষয়ে মার্কিন নীতির সমালোচনা করেন?
  1. ক) আর্চার ব্লাড
  2. খ) এডওয়ার্ড কেনেডি
  3. গ) মনডেল
  4. ঘ) গালাকার
ব্যাখ্যা
সরকারি আমলাদের ভূমিকা

মার্কিন প্রশাসনের অন্দরমহলের কিছু আমলা বিশেষ করে পররাষ্ট্র দপ্তরের কিছু আমলা এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মচারীগণ মার্কিন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বা পাকিস্তান ঘেঁষা নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। 

ঢাকার কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ১৯ জন কূটনীতিবিদের স্বাক্ষরসহ ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক কড়া পত্রে জানান যে, 'মার্কিন নীতি শুধু নৈতিকভাবেই অগ্রহণযোগ্য নয়, বরং মার্কিন স্বার্থেরও পরিপন্থী।'


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. ক) লাহোর
  2. খ) ভারত
  3. গ) করাচী
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা

১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ -     
- বঙ্গবন্ধু জেল গেটের বাইরে পা রাখার সাথে সাথেই তাঁকে পুনরায় গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কুর্মিটোলা সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলা দায়ের করা হয়।
- এ মামলার মোট আসামি ছিলেন ৩৫ জন।
- মামলাটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।

১৯ জুন, ১৯৬৮ - কুর্মিটোলা সেনানিবাসে (ঢাকা) কড়া প্রহরায় এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ - আইয়ুব খান বাধ্য হয়ে মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুসহ বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দান করে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭.
১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি কে ছিলেন? 
  1. ক) আব্দুর রউফ
  2. খ) তোফায়েল আহমেদ
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ

- ১৯৬৬ সালের ছয় দফার জনপ্রিয়তা দেখে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- এ মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সমাজ আইয়ুব খান বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।

- এরই প্রেক্ষিতে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের একাংশ (দোলন গ্রুপ) ও ডাকসুর উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয় এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে 'এগার দফা কর্মসূচি' বা দাবি ঘোষণা করে।
- ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
-  ১১ দফা আন্দোলন পরিণত হয় গণঅভ্যুত্থানে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৮.
বঙ্গবন্ধু কত সালে ওআইসি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৭৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
ওআইসি ও বাংলাদেশ

- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে (২২-২৪ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করে।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' সিরিজটির পরিকল্পনা কার ছিল?
  1. ক) আব্দুল হান্নান
  2. খ) আব্দুল মান্নান
  3. গ) এম.আর. মুকুল
  4. ঘ) ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
'চরমপত্র'

- মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারের জাতীয় সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান, সংবাদ বুলেটিন এবং 'জল্লাদের দরবার' ও 'চরমপত্র' অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। 
- 'জল্লাদের দরবার' অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে 'কেল্লা ফতেহ্ খান' নামক একজন অমানবিক, পাশবিক ও নিষ্ঠুর চরিত্রের মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়। 
- আর একটি জনপ্রিয় প্রোগ্রাম ছিল 'চরমপত্র'। এ সিরিজটির পরিকল্পনা ছিল আব্দুল মান্নান খান এম.এন.এ.-এর। 
- চরমপত্র'-এর স্ক্রিপট তৈরি ও তা পাঠ করতেন এম আর আখতার মুকুল। 
- তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক শব্দে এবং ঢাকাইয়া ভাষায় রচিত চরমপত্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এম.আর. মুকুলের অনবদ্য উপস্থাপনায়।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২০.
মুক্তিযুদ্ধকালে ভারত-সোভিয়েত ইউনিয়ন মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ৯ আগস্ট ১৯৭১
  2. খ) ৪ জুলাই ১৯৭১
  3. গ) ৬ মে ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত নীতির বিভিন্ন পর্যায়

- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তান সফর করার পরই প্রেসিডেন্ট নিক্সনের প্রস্তাবিত চীন সফরের সংবাদ প্রচারিত হয়- যা সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য ছিল বিব্রতকর।
- অন্যদিকে পিকিং থেকে ফিরেই হেনরি কিসিঞ্জার ওয়াশিংটনে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে বলেন যে, ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করলে চীন হস্তক্ষেপ করবে এবং আমেরিকা ভারতের সাহায্যে নাও এগিয়ে আসতে পারে। 
- এর ফলে ভারতীয় নেতৃবৃন্দ বিশেষভাবে চিন্তিত ও শঙ্কিত হয়ে পড়েন।
- সোভিয়েত ইউনিয়নও এ বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। ফলে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পারস্পরিক নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে ১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয় ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি।

- কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারত জোটনিরপেক্ষ নীতি বিসর্জন দিয়েছে বলে সমালোচনা হলে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, “India will continue to follow its policy of non-alignment as before.”
- তবে বাস্তব সত্য হচ্ছে যে, চীন-মার্কিন আঁতাতের জবাবেই মূলত এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে জজ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ফ্লোরিডায়
  2. খ) নিউইয়র্কে
  3. গ) ওয়াশিংটনে
  4. ঘ) মস্কোতে
ব্যাখ্যা
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’

- মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য জর্জ হ্যারিসনের আহবানে সাড়া দিয়ে ওস্তাদ আলী আকবর খান নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এ অংশগ্রহণ করেন।
- সেই অনুষ্ঠানে পন্ডিত রবি শঙ্কর এবং ওস্তাদ আল্লা রাখা খানের সঙ্গে বাজানো ‘বাংলাদেশ ধুন’ এক অসাধারণ সৃষ্টি।

- ১ আগস্ট ১৯৭১ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
- সেতারবাদক রবিশঙ্কর ও বিখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ আলি আকবর খান যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। তাদের সাথে তবলায় ছিলেন ওস্তাদ আল্লা রাখা খান। তারা 'বাংলাদেশ ধুন' নামে একটি ধুন পরিবেশন করেন।

- এই কনসার্ট পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সচেতনতা এবং তহবিল সাহায্যের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিলো।


তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২২.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে জাতিসংঘের প্রতি সমর্থনের আবশ্যকতা তুলে ধরা হয়েছে?
  1. ক) ১৪১ ক
  2. খ) ৭
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ২৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ

- বাংলাদেশ জাতিসংঘের সনদের প্রতি আস্থাশীল।
- বাংলাদেশ একটি শান্তিকামী রাষ্ট্র।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫নং অনুচ্ছেদে জাতিসংঘের প্রতি সমর্থনের আবশ্যকতা তুলে ধরা হয়েছে।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতি সবসময় আস্থাশীল এবং সক্রিয়ভাবে সদাসর্বদা কর্মরত।


আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন (অনুচ্ছেদ ২৫)
'জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি।'


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশ সংবিধান।
২৩.
আগরতলা মামলার কোন আসামিকে সেনানিবাসে হত্যা করা হয়েছিল?
  1. ক) ড. শামসুজ্জোহা
  2. খ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  3. গ) আব্দুর রাজ্জাক
  4. ঘ) আসাদুজ্জামান
ব্যাখ্যা
- আগরতলা মামলার আসামি জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা ও ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসাদুজ্জামান নিহত হলে আন্দোলন আরো জোরদার হয়।
- ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব সরকার মামলা প্রত্যাহার করে নেয় ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকলকে মুক্তি প্রদান করে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
জাতিসংঘে বাংলাদেশ বিষয়ে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গৃহীত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. খ) ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘে বাংলাদেশ বিষয়ে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব

- নিরাপত্তা পরিষদের পরিবর্তে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৭ ডিসেম্বর একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তৃতীয়বারের মত ভেটো প্রয়োগ করে।
- ভারতীয় বাহিনী ঢাকা দখল করার পূর্ব মুহুর্ত্ত পর্যন্ত যেকোন প্রকার যুদ্ধবিরতির পদক্ষেপকে বানচাল করাই ছিল এ ভেটো দানের উদ্দেশ্য।
- আর তাই ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করার পর নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ইউনিয়ন আর ভেটো প্রয়োগ না করায় শেষপর্যন্ত ২১ ডিসেম্বর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গৃহীত হয়।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
মুজিবনগর সরকারে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- গঠিত হয়: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- শপথ গ্রহণ করে: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- শপথ বাক্য পাঠ করান: অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন: তাজউদ্দীন আহমেদ



তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৬.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. ক) শাহজাহান সিরাজ
  2. খ) ইউসুফ আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ

মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে বহু দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং আইনসভার সদস্যদের উপস্থিতিতে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' (মুজিবনগর সরকার) শপথ গ্রহণ করে।

'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' পাঠ করেন: আইনসভার সদস্য ও প্রখ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী
গার্ড অব অনার প্রদানকারী দলের নেতৃত্ব প্রদান করেন: মাহবুব উদ্দিন আহমেদ (PSP)।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৭.
মুক্তিযুদ্ধকালে 'যৌথকমান্ড' গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. খ) ১ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. গ) ১৫ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
'যৌথকমান্ড' গঠন

'যৌথ বাহিনী' বা 'যৌথকমান্ড' গঠন করা হয়: ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর (বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে)। 
'যৌথ কমান্ড'-এর অধিনায়ক নির্বাচিত করা হয়: ভারতের ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। 
'যৌথ কমান্ড'-এর প্রধান হন: ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল শ্যাম মানেকশ'।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৮.
'মুজিব বাহিনী' গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় -
  1. ক) ১৯৭১ সালের মে মাসে
  2. খ) ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে
  3. গ) ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে
ব্যাখ্যা
মুজিব বাহিনী বা বি.এল.এফ.

- ১৯৭১ সালের নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে আর একটি বাহিনীর আবির্ভাব ঘটে।
- এটি 'মুজিব বাহিনী' নামে পরিচিত হয়।
- এ-বাহিনীর ট্রেনিং, যুদ্ধ অভিযান ইত্যাদি সরকার তথা নিয়মিত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল না।
- মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নির্দিষ্টভাবে বাছাই করা কিছু তরুণ ও যুবককে নিয়ে।
- ধারণা করা হয় যে, মুক্তিযুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে তা যেন কোনো উগ্র বা চরমপন্থী গ্রুপ বা দলের হাতে চলে না যায়, সেজন্যই আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসীদের নিয়ে এরূপ একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গঠন করার পরিকল্পনা করা হয়।

- ১৯৭১ সালের মে মাসে অত্যন্ত গোপনে 'মুজিব বাহিনী' গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- জুন থেকে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত জেনারেল উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মুজিব বাহিনীর সদস্যদের ট্রেনিং দেওয়া হয় জাফলং ও দেহরাদুনে।
- মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৯.
বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান দায়িত্ব ছিল কোনটির ওপর?
  1. ক) রাজাকার বাহিনী
  2. খ) আল-বদর বাহিনী
  3. গ) শান্তি কমিটি
  4. ঘ) আল-শামস বাহিনী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ

- রাজাকার বাহিনী ছাড়াও আলবদর নামে আরও একটি ভয়ঙ্কর বাহিনী ছিল। 
- জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসঙ্ঘের সদস্যদের নিয়ে আল-বদর বাহিনী গড়ে তোলা হয়। [অন্যান্য ইসলামী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে আল-শামস বাহিনী গঠিত হয়।]
- বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান দায়িত্ব ছিল আল-বদর বাহিনীর ওপর।
- তাই এই বাহিনী ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও হিংস্র প্রকৃতির।
- আল-বদর বাহিনীর প্রধান ছিল জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির (মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত) মতিউর রহমান নিজামী।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
বহির্বিশ্বে মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত ছিলেন -
  1. ক) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. খ) এ. এম. এ. মুহিত
  3. গ) হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী
  4. ঘ) বিচারপতি এম. এ. রহমান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত

- ১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য ।
- মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
- সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমতসৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা আঞ্চলিক বাহিনী কোনটি?
  1. ক) কাদেরিয়া বাহিনী
  2. খ) বাতেন বাহিনী
  3. গ) হেমায়েত বাহিনী
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী

নিয়মিত বাহিনী (Mukhti Fouz সংক্ষেপে M.F.) এবং অনিয়মিত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাগণের (Freedom fighter = F.F.) পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় কিছু সাহসী স্বাধীনতাকামী ব্যক্তির নেতৃত্বে দেশের অভ্যন্তরেই বিশেষ বাহিনী গড়ে ওঠে। এসব বাহিনীকে 'আঞ্চলিক বাহিনী' বলা হয় ।

- এসব আঞ্চলিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় লক্ষাধিক।
- এছাড়াও তাদের সাথে ছিল স্বেচ্ছাসেবক; তাদের সংখ্যাও ছিল তিন থেকে চার লক্ষের মতো। 

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক বাহিনী হলো -

১. কাদেরিয়া বাহিনী
২. হেমায়েত বাহিনী
৩. আফসার বাহিনী
৪. আকবর বাহিনী
৫. বাতেন বাহিনী 
৬. হালিম বাহিনী
৭. জিয়া বাহিনী
৮. রফিক মীর্জা বাহিনী


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৩২.
মুজিবনগর সরকারের বক্তব্য সম্বলিত একটি পত্রকে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসাবে গ্রহণ করে জাতিসংঘের কোন সংস্থা?
  1. ক) সাধারণ পরিষদ
  2. খ) নিরাপত্তা পরিষদ
  3. গ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ
  4. ঘ) অছি পরিষদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার ও জাতিসংঘ

- ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে যুদ্ধ বন্ধ ও বিশ্বশান্তি প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শুরু হয়।
- ৪ ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি দলের নেতা আবু সাঈদ চৌধুরীকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দান প্রশ্নে ব্যাপক বিতর্কের পর তাঁকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়া না হলেও তাঁর বক্তব্য সম্বলিত পত্রটি নিরাপত্তা পরিষদের অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসাবে গ্রহণ ও বিলি করা হয়।
- অর্থাৎ এটি ছিল এক ধরনের পরোক্ষ স্বীকৃতি। এই প্রথম জাতিসংঘে বাংলাদেশের মানুষের বক্তব্য বাংলাদেশের প্রতিনিধির মাধ্যমে সরাসরি উচ্চারিত হয়।

- তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, জাতিসংঘ হচ্ছে এমন একটি বিশ্ব সংস্থা যেখানে প্রধানত বৃহৎ শক্তিবর্গের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত ও বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বৃহৎ শক্তিবর্গের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় জাতিসংঘ ত্রাণকার্য পরিচালনা ব্যতীত অন্য কোন দায়িত্ব পালনে পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছিল।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানানে লেখা?
  1. ক) দিধিতি
  2. খ) দিধীতি
  3. গ) দীধিতি
  4. ঘ) দীধিতী
ব্যাখ্যা
দীধিতি সংস্কৃত ভাষার শব্দ 
শব্দের অর্থ হলো- 
১. কিরণ 
২. প্রভা 

[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান]
৩৪.
'পদ্মের মত সুন্দর চোখ বিশিষ্ট' এর এক কথায় হল- 
  1. ক) চ প লো দ্ম ন
  2. খ) দ্ম প গ রা
  3. গ) তী দ্মা প ব
  4. ঘ) কা প নী ন্ত দ্মি
ব্যাখ্যা
পদ্মের মত সুন্দর চোখ বিশিষ্ট - পদ্মলোচন
পদ্মলোচন শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - পদ্মলোচনা 

[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান]
৩৫.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) মুহুর্মুহ
  2. খ) মুহুর্মুহু 
  3. গ) মুহুমুহু 
  4. ঘ) মুহর্মুহু
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান = মুহুর্মুহু 

মুহুর্মুহু (অব্যয়, ক্রিয়াবিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মুহুঃ+মুহুঃ
অর্থ - বারবার, ঘনঘন

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৬.
চিত্রে প্রদর্শিত Weight টি উত্তোলন করতে ন্যূনতম কত ওজন স্থাপন করতে হবে? 
  1. ক) 60kg
  2. খ) 72kg
  3. গ) 78kg
  4. ঘ) 65kg
ব্যাখ্যা
চিত্রে প্রদর্শিত Weight টি উত্তোলন করতে ন্যূনতম কত ওজন স্থাপন করতে হবে? 


প্রয়োজনীয় ওজন = প্রদত্ত ওজন/ওজনটির ঝুলন্ত রশির শাখা 
                            = 360kg/6
                            = 60kg
৩৭.
উপগত : অপগত :: উগ্র : ?
  1. ক) উন্নত
  2. খ) অবনতি
  3. গ) নির্দয় 
  4. ঘ) সৌম্য
ব্যাখ্যা
'উগ্র' এর বিপরীত শব্দ - 'সৌম্য' 
'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ- 'বিনীত' 
'উন্নতি' এর বিপরীত শব্দ - 'অবনতি' 
'উপগত' এর বিপরীত শব্দ- 'অপগত' 
'দরদি' শব্দের বিপরীত শব্দ - 'নির্দয়' 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৩৮.
'ফরিয়াদি' এর বিপরীত শব্দ-
  1. ক) প্রতীচী 
  2. খ) প্রশস্তি 
  3. গ) আসামি
  4. ঘ) কমতি 
ব্যাখ্যা
'ফরিয়াদি' এর বিপরীত শব্দ - আসামি
'বামপন্থী' এর বিপরীত শব্দ- ডানপন্থী 
'প্রাচী' এর বিপরীত শব্দ- প্রতীচী 
'বাড়তি' এর বিপরীত শব্দ - কমতি 
'নিন্দা' এর বিপরীত শব্দ- প্রশস্তি 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৩৯.
প্রদত্ত চিত্রে কোন কোন চাকা ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরছে? 
  1. ক) A, F, D এবং B
  2. খ) C এবং E
  3. গ) C, D, B এবং E
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত চিত্রে C এবং E চাকা ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরছে। 
৪০.
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) বারীশ
  2. খ) অর্ণব
  3. গ) উদধি
  4. ঘ) মিহির
ব্যাখ্যা
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অর্ণব,
- জলধি,
- জলনিধি,
- পারাবার,
- বারিধি,
- রত্নাকর,
- সাগর,
- সিন্ধু
- বারীশ
- উদধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ: মিহির 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমত্র শেখর 
৪১.
'গূঢ়' শব্দের অর্থ কোনটি? 
  1. ক) সহজ
  2. খ) জটিল 
  3. গ) ঘরের লোক
  4. ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা
'গূঢ়' শব্দের অর্থ কোনটি? 

'গূঢ়' শব্দের অর্থ: 
১.গুপ্ত, লুক্কায়িত 
২. দুর্বোধ্য, জটিল 
৩. দুর্গম 
৪. নিভৃত 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
৪২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান? 
  1. ক) প্রনিধি
  2. খ) প্রোনিধি
  3. গ) প্রোণিধি 
  4. ঘ) প্রণিধি 
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান : প্রণিধি 
প্রণিধি এর অর্থ 
১. অনুচর, প্রতিনিধি 
২.প্রণিধান, ধ্যান 
৩. বিনীত আবেদন 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান 
৪৩.
চিত্রে প্রদর্শিত Weight টি উত্তোলন করতে ন্যূনতম কত ওজন প্রয়োগ করা লাগবে ?
  1. ক) 10kg
  2. খ) 20kg
  3. গ) 15kg
  4. ঘ) 30kg
ব্যাখ্যা
চিত্রে প্রদর্শিত Weight টি উত্তোলন করতে ন্যূনতম কত ওজন প্রয়োগ করা লাগবে ?
 

প্রয়োজনীয় ওজন = প্রদত্ত ওজন/ওজনটির ঝুলন্ত রশির শাখা 
                            = 20kg/1
                            = 20kg
৪৪.
'Test' শব্দের বাংলা পরিভাষা -
  1. ক) সমীক্ষা
  2. খ) সমীক্ষক
  3. গ) সমীক্ষা করা
  4. ঘ) অভীক্ষা
ব্যাখ্যা
- 'Test' শব্দের বাংলা পরিভাষা -'অভীক্ষা' 
- 'Scrutiny' শব্দের বাংলা পরিভাষা -'সমীক্ষা' 
- 'Scrutinizer' শব্দের বাংলা পরিভাষা- 'সমীক্ষক' 
- 'Scrutinize' শব্দের বাংলা পরিভাষা - 'সমীক্ষা করা' 

[উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা]
৪৫.
প্রদত্ত চিত্রের সবগুলো চাকা ঘূর্ণায়মান হলে A চাকাটি কোন দিকে ঘুরবে? 
  1. ক) ঘড়ির কাঁটার দিকে
  2. খ) ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
  3. গ) স্থির থাকবে
  4. ঘ) যেকোন দিকে
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত চিত্রের সবগুলো চাকা ঘূর্ণায়মান হলে A চাকাটি কোন দিকে ঘুরবে? 


সমাধান:
সর্বডানের চাকাটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘূর্ণায়মান বিধায় A চাকাটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরবে।
৪৬.
'নৈসর্গিক' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো-
  1. ক) কৃত্রিম
  2. খ) পারত্রিক
  3. গ) রাজসিক
  4. ঘ) প্রসারণ
ব্যাখ্যা
'নৈসর্গিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'কৃত্রিম/অনৈসর্গিক'।

অন্যদিকে, 
'ঐহিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'পারত্রিক'
'তামসিক' শব্দের বিপরীত শব্দ 'রাজসিক' 
আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীত শব্দ- প্রসারণ

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪৭.
প্রদত্ত চিত্রে D চাকাটি নির্দেশিত দিক অনুসারে ঘুরলে A চাকাটি কোন দিকে ঘুরবে? 
  1. ক) ঘড়ির কাঁটার দিকে
  2. খ) ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
  3. গ) স্থির থাকবে
  4. ঘ) যেকোনো দিকে
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত চিত্রে D চাকাটি নির্দেশিত দিক অনুসারে ঘুরলে A চাকাটি কোন দিকে ঘুরবে? 


প্রদত্ত চিত্রে D চাকাটি নির্দেশিত দিক হলো ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিক
A চাকাটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরবে। 
৪৮.
নিচের চিত্রে অবলম্বন বিন্দু থেকে কত দূরে ৫২ পাউন্ড ওজন রাখলে লিভারের ভারসাম্য বজায় থাকবে? 
  1. ক) 8 ফুট 
  2. খ) 9 ফুট 
  3. গ) 10 ফুট 
  4. ঘ) 12 ফুট 
ব্যাখ্যা
নিচের চিত্রে অবলম্বন বিন্দু থেকে কত দূরে ৫২ পাউন্ড ওজন রাখলে লিভারের ভারসাম্য বজায় থাকবে? 


সমাধান: 
ধরি
বামদিকের ১ম বস্তুর অবলম্বন বিন্দুর দূরত্ব l1= 8 ফুট 
বামদিকের ১ম বস্তুর বস্তুর ওজন w1= 20 পাউন্ড
বামদিকের ২য় বস্তুর অবলম্বন বিন্দুর দূরত্ব l2= 6 ফুট 
বামদিকের ২য় বস্তুর বস্তুর ওজন w2= 60 পাউন্ড  

ডানদিকের অবলম্বন বিন্দুর দূরত্ব l3= ? ফুট 
ডানদিকের বস্তুর ওজন w3= 52 পাউন্ড 

এখন, 
l1 × w1 + l2 × w2= l3 × w3
বা, 8 × 20  + 6 × 60 =  52 ×  l3
বা, 160 + 360 =  l3  × 52
বা, l3 × 52 = 520
বা, l3  = 520/52
∴,  l3   = 10 ফুট 
৪৯.
‘অপলাপ’ শব্দের অর্থ হলো-
  1. ক) প্রলাপ
  2. খ) সদালাপ
  3. গ) মিথ্যা উক্তি
  4. ঘ) গতিশীল
ব্যাখ্যা
অপলাপ (বিশেষ্য)
১ মিথ্যা উক্তি
২ গোপন।
৩ অস্বীকার।
৪  সংগত বাক্য 
{(তৎসম বা সংস্কৃত)অপ+√লপ্+অ(ঘঞ্)}

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
৫০.
'ত্বিষাম্পতি' শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) সাগর
  3. গ) সূর্য 
  4. ঘ) নদী
ব্যাখ্যা
ত্বিষাম্পতি একটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ 
এর অর্থ 
১. সূর্য 
২. তপন 
৩. প্রভাকর 
৪. আদিত্য 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান 
৫১.
শত্রু : অরাতি :: যুদ্ধ : ?
  1. ক) ভাস্কর
  2. খ) আহব
  3. গ) অর্ক
  4. ঘ) দ্রুম
ব্যাখ্যা
'যুদ্ধ' শব্দের সমার্থক শব্দ: সংগ্ৰাম, সমর, আহব, বিগ্রহ, রণ
'শত্রু' শব্দের সমার্থক শব্দ:  অরাতি, অরি, বৈরি, অরুর, রিপু , প্রতিপক্ষ 
'আফতাব' শব্দের সমার্থক:  অর্ক ,রবি, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য
'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ = গাছ, পাদপ, তরু, বিটপী, দ্রুম, মহীরুহ, শাখী, শৃঙ্গী, 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ]
৫২.
পা, ফি, ন, লি এর সাথে নিচের কোন বর্ণটি যোগ করলে একটি দেশের নাম পাওয়া যায়?
  1. ক) ও
  2. খ) ই
  3. গ) এ
  4. ঘ) ক
ব্যাখ্যা
পা, ফি, ন, লি এর সাথে নিচের 'ই' বর্ণটি যোগ করলে একটি দেশের নাম পাওয়া যায়। 
  দেশটির নাম হলো-ফিলিপাইন 
 
ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- বিশ্বের সপ্তম সর্বোচ্চ দ্বীপ রয়েছে ফিলিপাইনে।
- লুজন, ভিসায়াস এবং মিন্দানাও ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ।
- লুজন ফিলিপাইনের বৃহত্তম ও সর্বাধিক জনবহুল দ্বীপ।
- এই দ্বীপে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা অবস্থিত।

উৎসঃ worldatlas.com
৫৩.
প্রদত্ত চিত্রের সবগুলো চাকা ঘূর্ণায়মান হলে কমলা রঙের চাকাটি কোন দিকে ঘুরবে? 
  1. ক) ঘড়ির কাঁটার দিকে
  2. খ) ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
  3. গ) যেকোন দিকে
  4. ঘ) স্থির দিকে
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত চিত্রে কমলা রঙের চাকাটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরবে।