পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়27 minutes
মোট প্রশ্ন২৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৫: বিষয়ের নাম: বাংলা ব্যাকরণ - সম্পূর্ণ সিলেবাস [৮০ নম্বর] উৎস: - বাংলা একাডেমি অভিধান, - মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), - ভাষা শিক্ষা বই, - উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই ইত্যাদি।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৯ প্রশ্ন

.
সাধুরীতির বৈশিষ্ঠ্য নয় কোনটি?
  1. ব্যাকরণের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
  2. সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
  3. সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
  4. তৎসম শব্দবহুল ও গুরুগম্ভীর।
সঠিক উত্তর:
সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।'- চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য।

সাধুরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সাধুরীতি ব্যাকরণ নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
২. সাধুরীতি তৎসম শব্দবহুল ও গুরুগম্ভীর।
৩. সাধুরীতিতে ক্রিয়ার পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : পড়িতেছি, লিখিতেছি ইত্যাদি।
৪. সাধুরীতিতে সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তাহারা, উহারা ইত্যাদি।
৫. সাধুরীতিতে অব্যয়ের তৎসম রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : তথাপি, যদ্যপি ইত্যাদি।
৬. এই রীতিতে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার বেশি। যেমন : রসনেন্দ্রিয়, মহাবুদ্ধিসম্পন্ন ইত্যাদি।
৭. সাধুরীতি নাটক, বক্তৃতা, সংলাপের উপযােগী নয়।

চলতিরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. চলতিরীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে না।
২. চলতিরীতিতে ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : পড়ছি, লিখছি ইত্যাদি।
৩. চলতিরীতিতে সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: ওরা, তারা ইত্যাদি।
৪. চলতিরীতিতে অব্যয়ের তদ্ভব রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তবু, যদিও ইত্যাদি।
৫. চলতিরীতি পরিবর্তনশীল।
৬. চলতিরীতিতে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
৭. চলতিরীতি বক্তৃতা, নাটক ও সংলাপের উপযােগী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি- (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)। 
.
‘পূর্বাহ্ণ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• ‘পূর্বাহ্ণ’ - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত।
- চায়ের বাগান = চাবাগান।
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট।
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর।
- ছবির ঘর = ছবিঘর।
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা।
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।
----------------------------
কালের কোন অংশ-বোধক শব্দ পরে থাকলে তা পূর্বে বসে।
যথা - অহ্নের (দিনের) পূর্ব ভাগ = পূর্বাহ্ণ।
এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
‘প্রশংসা’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ-
  1. অসংযত
  2. অপমান
  3. ভর্ৎসনা
  4. গিবতকারী
সঠিক উত্তর:
ভর্ৎসনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর্ৎসনা
ব্যাখ্যা
• ‘প্রশংসা’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- 'ভর্ৎসনা'। 

• আরো কিছু বিপরীতার্থক শব্দ: 
- 'আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীত শব্দ = প্রসারণ।
- 'সংহত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = বিভক্ত।
- 'প্রসারিত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = সংকুচিত।
- 'হত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = জীবিত।
- 'সংযত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = অসংযত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'নৈমিত্তিক' শব্দের অর্থ-
  1. নিয়মিত
  2. আপনজন
  3. বিশেষ উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠেয়
  4. তথ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষ উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠেয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'নৈমিত্তিক' শব্দের অর্থ- 'বিশেষ উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠেয়'।

• 'নৈমিত্তিক' (বিশেষণ):
- প্রকৃতি- প্রত্যয়: নিমিত্ত + ইক।
- অর্থ: নিয়মিত ঘতে এমন, বিশেষ উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠেয়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. জ্ঝ
  2. ক্ত
  3. ক্ষ
  4. গ্ধ
সঠিক উত্তর:
জ্ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঝ
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঝ = জ + ঝ' - স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ। 

যুক্তবর্ণ: 

- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

১) স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ্ঝ = জ + ঝ।
- ক্ট, ব্জ, দ্দ, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্ব, দ্ম, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, প্স, ল্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্‌+ত), ক্ম (ক্‌+ম), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্‌+ষ), ক্ষ্ম (ক্‌+ষ্‌+ম), ক্স (ক্‌+স), গ্ধ (গ্‌+ধ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। (সংস্করণ-২০২১)। 
.
'বিকালে আমরা ঘুরতে যাব'- এখানে 'বিকালে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• ''বিকালে আমরা ঘুরতে যাব'' - বাক্যে অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার সময়কে বোঝাচ্ছে। 
এবং এতে এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই বাক্যটি = অধিকরণে ৭মী প্রকাশ করেছে।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২২ সংস্করণ।
.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'- এর রচয়িতা-
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কোন ক্ষেত্রে 'তীব্রতা বা সঠিকতা' বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভালো ভালো আম
  2. নরম নরম হাত
  3. কালো কালো চেহারা
  4. ছোট ছোট ডাল
সঠিক উত্তর:
নরম নরম হাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরম নরম হাত
ব্যাখ্যা
• 'নরম নরম হাত'- দ্বিরুক্তি শব্দজুটি 'তীব্রতা বা সঠিকতা' বোঝায়। 

অন্যদিকে, 
• 'ভালো ভালো আম' - আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
• 'কালো কালো চেহারা' - 'সামান্যতা' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
• 'ছোট ছোট ডাল' - 'আধিক্য' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।
.
'হস্তী' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. গজ
  2. করী
  3. দ্বিপ
  4. কেশরী
সঠিক উত্তর:
কেশরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেশরী
ব্যাখ্যা
হাতি শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ, পিল ইত্যাদি।

সিংহ শব্দের সমার্থক শব্দ:
কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, পারীন্দ্র, মৃগরাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০.
বিদেশি ধাতুর উদহারণ কোনটি?
  1. গম্
  2. নাচ্
  3. চাহ্‌
  4. কর্
সঠিক উত্তর:
চাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাহ্‌
ব্যাখ্যা
• ' চাহ্‌'- বিদেশি ধাতুর উদহারণ। 

• বাংলা ভাষার মৌলিক ধাতুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে
১) খাটি বাংলা ধাতু
২) সংস্কৃত মূল ধাতু ও
৩) বিদেশি ধাতু

সংস্কৃত ধাতু:
কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা ইত্যাদি।

বাংলা ধাতু: 
কাট্, আঁক্, কাঁদ্, নাচ্, কর্ ইত্যাদি৷

বিদেশি ধাতু: 
মাগ্‌, হের্‌, ভিজ্্‌ বিগড়্‌, ঠেল্‌ ডাক্‌ ডর্‌ জম্‌ ফির্‌ চাহ্‌ ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. চাঁদা
  2. বালতি
  3. ভবন
  4. হরতাল
সঠিক উত্তর:
বালতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালতি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বালতি'- পর্তুগিজ শব্দ। 

• বালতি (বিশেষ্য): 
- পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। 
অর্থ: সহজে বহন করা যায় এমন হাতলওয়ালা জলপাত্রবিশেষ।
---------------
অন্যদিকে,
চাঁদা - বাংলা শব্দ। 
ভবন - তৎসম শব্দ।
হরতাল - গুজরাটি শব্দ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২.
নিচের বিরামচিহ্নগুলোর মাঝে কোনটিকে পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়?
  1. কমা
  2. হাইফেন
  3. দাঁড়ি
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• 'দাঁড়ি'- পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়। 

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- দাঁড়ি কে আবার পুর্ণচ্ছেদ বলা হয়। 
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস:
১/ প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২/ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)। 
১৩.
'বর্গি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. তৎসম
  2. সিংহলি
  3. বর্মি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• বর্গি,
- ফারসি শব্দ।
অর্থ: অষ্টাদেশ শতকের অশ্বারোহী মারাঠি দস্যুসৈন্য।

আবার,
বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
• ‘বর্গি’ মারাঠি শব্দ।
 
শব্দের উৎসমূল এর ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায় সঠিক উওর হবে ‘ফারসি’। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

 

১৪.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. বর্ণনা
  2. বহ্নিশিখা
  3. বিলুন্ঠন
  4. শ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
বিলুন্ঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলুন্ঠন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- 'বিলুন্ঠন' বানানটি অশুদ্ধ। 
- এর শুদ্ধ বানান- 'বিলুণ্ঠন'।

•  'বিলুণ্ঠন' শব্দের অর্থ- অপহরণ, লুণ্ঠন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৫.
'বমাল' শব্দটিতে উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাইরে
  2. সহিত
  3. স্বল্প
  4. মন্দ
সঠিক উত্তর:
সহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহিত
ব্যাখ্যা
• 'বমাল' শব্দটিতে ফারসি 'ব' উপসর্গটি 'সহিত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।  

অন্যদিকে,
আরও কিছু ফারসি উপসর্গের উদাহরণ- 
ফি - প্রত্যেক অর্থে= ফি-বছর, ফি-হপ্তা, ফি-রোজ, ফি-সব।
না - না অর্থে = নামঞ্জুর, নারাজ, নাচার।
কম - কম অর্থে = কমবখত, কমআক্কেল, কমজোর।
ব - সাথে অর্থে = বকলম, বনাম, বমাল। 
নিম - অর্ধেক অর্থে = নিমরাজি, নিমমোল্লা। 
দর - অধীন অর্থে = দরপাট্টা, দরখাস্ত, দরপাওনা। 
------------------------------- 
•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- তবে, বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
  2. আকণ্ঠ ভোজন ভাল নয়।
  3. তোমার সঙ্গে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  4. তুমি নির্দোষ নও।
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
ব্যাখ্যা
• তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না; বাক্যটি অশুদ্ধ। 
বাক্যটির শুদ্ধরূপ: তোমার তিরস্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না। 

• এই বাক্যে বানানজনিত ভুল ছিল। 
- এখানে তিরষ্কার বানানটি ভুল ছিল; এর শুদ্ধ বানান হচ্ছে- তিরস্কার।

- বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'স' হবে।
যেমন: পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি। 

তাছাড়া, অপশনের অন্য উত্তরগুলো সঠিক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
'গারদ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ময়লা
  2. বেমানান
  3. কারাগার
  4. অসভ্য
সঠিক উত্তর:
কারাগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারাগার
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'গারদ' শব্দের অর্থ:
- কারাগার,
- জেলখানা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
নিচের কোনটি হিন্দি শব্দ?
  1. তাস
  2. সপ্তাহ
  3. সমুদ্র
  4. তেজি
সঠিক উত্তর:
তাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাস
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
তাস- হিন্দি শব্দ।

• 'তাস' শব্দের অর্থ- খেলার জন্য ব্যব্হৃত চিত্রিত মোটা কাগজের চৌকো খণ্ডবিশেষ। 

অন্যদিকে,
সপ্তাহ, সমুদ্র - সংস্কৃত শব্দ। 
তেজি - ফারসি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৯.
নিচের কোনটি পারস্পরিক সর্বনাম ?
  1. কিছু
  2. নিজেরা নিজেরা
  3. নিজে
  4. উনি
সঠিক উত্তর:
নিজেরা নিজেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজেরা নিজেরা
ব্যাখ্যা
• 'নিজেরা নিজেরা'-  পারস্পরিক সর্বনাম। 

পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে । 
যেমন – কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন – নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন – নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. সম + সার = সংসার 
  2. বাক্‌ + দান = বাগদান
  3. উৎ + লাস = উল্লাস
  4. পর্‌ + পর = পরস্পর
সঠিক উত্তর:
পর্‌ + পর = পরস্পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্‌ + পর = পরস্পর
ব্যাখ্যা
• পর + পর = পরস্পর - নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। 

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
প্র + এষণ = প্রেষণ,
কুল + অটা = কুলটা,
পর + পর = পরস্পর,
অন্য + অন্য = অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
'আমি সকাল থেকে বসে আছি।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ বর্গ
  2. বিশেষ্য বর্গ
  3. ক্রিয়া বর্গ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা
• 'আমি সকাল থেকে বসে আছি।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ বর্গের উদাহরণ।

বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। 

বিশেষ্যবর্গ: 
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: 
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর

ক্রিয়াবিশেষণ-বৰ্গ:
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন: সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
আমি সকাল থেকে বসে আছি।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।

ক্রিয়াবৰ্গ: 
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে
সে লিখছে আর হাসছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২২.
'পরিচ্ছেদ' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. স্বর + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + স্বর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• 'পরিচ্ছেদ'- 'স্বর + ব্যঞ্জন' নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি।

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
ব্যঞ্জনসন্ধি সাধারণত চার নিয়মে হয়, 
১. স্বর+ব্যঞ্জন,
২. ব্যঞ্জন + স্বর,
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন,
৪. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।
--------------------
• 'স্বর + ব্যঞ্জন' নিয়ম: 
- স্বর + ছ = স্বর + চ্ছ।
যেমন,
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।
এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ- এর জায়গায় 'চ্ছ' হয়েছে।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
২৩.
'যখন সে সুসংবাদ পেল, তখন সে আনন্দিত হলো'- বাক্যটির সরলরূপ কোনটি?
  1. সে সুসংবাদ পেল এবং আনন্দিত হলো।
  2. যেই সে সুসংবাদ পেল, সেই সে আনন্দিত হলো।
  3. যদি সুসংবাদ পাও, তবে আনন্দিত হও।
  4. সুসংবাদ পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
সঠিক উত্তর:
সুসংবাদ পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুসংবাদ পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো ।
সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।

জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৪.
রাজু বললো, 'আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে'- পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি কী হবে?
  1. রাজু বললো যে, আমার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  2. রাজু বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  3. রাজু বললো, তার জানামতে সে বাসায় থাকতো।
  4. রাজু বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো না।
সঠিক উত্তর:
রাজু বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজু বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
• পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি হচ্ছে- 'রিমি বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো'।  

• উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।

যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজু বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজু বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৫.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. বাজার
  2. কলম
  3. গ্রহ
  4. কুড়ি
সঠিক উত্তর:
গ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
গ্রহ - তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

• 'গ্রহ ' শব্দের অর্থ- সূর্যকে প্রদক্ষিণ কারী ৮টি জ্যোতিষ্ক। 

অন্যদিকে,
বাজার -ফারসি শব্দ।  
কলম - আরবি শব্দ।
কুড়ি - বাংলা শব্দ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৬.
'সারাংশ লিখনে' ভাষার বাহুল্য, উপমা, অলংকার এসকল-
  1. গ্রহণীয়
  2. বর্জনীয়
  3. প্রাসঙ্গিক
  4. যৌক্তিক
সঠিক উত্তর:
বর্জনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্জনীয়
ব্যাখ্যা
• সারাংশ বা সারমর্ম:
- কোনো গদ্য বা পদ্য রচনার অন্তর্নিহিত মূল ভাবকে সহজ- সরল ভাষায় সংক্ষেপে প্রকাশ করতে সারাংশ বা সারমর্ম বলে। 
- কোনো কবিতা পদ্য রচনার মূল ভাব বা বক্তব্যকে অল্প কথায় প্রকাশ করার নাম সারমর্ম বা সারাংশ।
- সারমর্ম এবং সারাংশ যথাসম্ভব সহজ ভাষায় এবং সরল বাক্যে লিখতে হবে। 
- বক্তব্যের বর্ণনায় মূল কথার বাইরে কোনো কথা লিখা যাবে না, বক্তব্যে কোনো প্রকার ছন্দ, অলঙ্কার, উপমা, রূপক, উদ্ধৃতির ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থাৎ, সারাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক - প্রাঞ্জলতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
২৭.
কোনটি 'আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. নায়িকা
  2. মালিকা
  3. প্রথমা
  4. গায়িকা
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
ব্যাখ্যা
'আ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ- প্রথমা। 

• সাধারণ অর্থে 'আ' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ-
প্রথম- প্রথমা;
বিবাহিত- বিবাহিতা;
মাননীয়- মাননীয়া;

এখানে,
মালিকা, নায়িকা, গায়িকা - 'ইকা প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
২৮.
'অধিকার' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ
  2. সদৃশ
  3. কর্তৃত্ব
  4. মধ্যে
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ব
ব্যাখ্যা
• 'অধিকার' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি কর্তৃত্ব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• আরো কিছু উপসর্গের ব্যবহৃত অর্থ: 
⇒ “নিষেধ” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিবৃত্তি শব্দে।
⇒ “নিশ্চয়” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিবারণ, নির্ণয় শব্দে।
⇒ “আতিশয্য” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিদাঘ, নিদারুণ শব্দে।
⇒ “অভাব” অর্থে ‘নি’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম শব্দে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯.
ক- বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. পশ্চাৎ দন্তমূল
  2. জিহবামূল
  3. অগ্রদন্তমূল
  4. অগ্রতালু
সঠিক উত্তর:
জিহবামূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিহবামূল
ব্যাখ্যা
• ক, খ, গ, ঘ, ঙ এই বর্ণগুলােকে উচ্চারণ স্থানানুসারে বলে জিহ্বামূলীয় বর্ণ।

• বর্গীয় ধ্বনি: 

- ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণস্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছ বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় বর্গীয় ধ্বনি।
- বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়। যেমন- 

বৰ্গ ⇒ বৰ্গীয় বৰ্ণ ⇒ বর্গের ভাষাবৈজ্ঞানিক নাম:
• ক ⇒ ক খ গ ঘ ঙ ⇒ কণ্ঠ্য,
• চ ⇒ চ ছ জ ঝ ঞ ⇒ তালব্য, 
• ট ⇒ ট ঠ ড ঢ ণ ⇒ মূর্ধন্য,
• ত ⇒ ত থ দ ধ ন ⇒ দন্ত্য, 
• প ⇒ প ফ ব ভ ম ⇒ ওষ্ঠ্য। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।