পরীক্ষা আর্কাইভ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

পরীক্ষাসহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
[ATEO - নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ২১] বাংলা পরীক্ষা - ৫ (ব্যাকরণ) পরীক্ষার টপিক: উপসর্গ ১. বচন, লিঙ্গ, সংখ্যাবাচক শব্দ, ২. সমাস, ৩. পদ প্রকরণ, ৪. বাগ্‌ধারা, উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
‘পায়া ভারি’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. কুৎসিত
  2. ফাঁকি
  3. অহঙ্কার
  4. দীর্ঘজীবী
ব্যাখ্যা
• ‘পায়া ভারি’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অহঙ্কার।

অন্যদিকে:
'কালে ভদ্রে' অর্থ - কদাচিৎ। 
‘ডাকাবুকো’ অর্থ - নির্ভীক।
'পগারপার' অর্থ - 'পলায়ন করা'।
‘কানকাটা’ অর্থ - বেহায়া।
'কেউ কেটা' অর্থ - সামান্য।
‘কূপমুন্ডক’ অর্থ - সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
‘কাকভূষণ্ডী’ অর্থ - দীর্ঘজীবী।
‘বকধার্মিক’ অর্থ - ভণ্ড।
'ঝিঙেফুল ফোটা' অর্থ - আয়ু ফুরিয়ে আসা।

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান;
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
- ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
কোন পদের ক্ষেত্রে বচনভেদ হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'বিশেষ্য ও সর্বনাম' দুটি পদের ক্ষেত্রে বচনভেদ হয়।

বচন:
'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।

- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন- 
– সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'পগারপার' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ভণ্ড
  2. পলায়ন করা
  3. দীর্ঘজীবী
  4. কদাচিৎ
ব্যাখ্যা
• 'পগারপার' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - 'পলায়ন করা'।

অন্যদিকে,
‘বকধার্মিক’ অর্থ - ভণ্ড।
• ‘কাকভূষণ্ডী’ অর্থ - দীর্ঘজীবী।
• 'কালে ভদ্রে' অর্থ - কদাচিৎ। 

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান;
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
- ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
কোনটি উভয় লিঙ্গ?
  1. বিদ্বান
  2. সুন্দর
  3. সাথি
  4. চঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ‘সাথি’ শব্দের অর্থ: সঙ্গী, সহচর।
⇒ 'সাথি' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝানো যায়। সুতরাং সাথি/'সাথী' শব্দটি উভয় লিঙ্গ। 
- সঙ্গী শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ হচ্ছে সঙ্গিনী। তবে সাথি শব্দের কোনো স্ত্রীবাচক শব্দ নেই।

বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা :
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর, চঞ্চল
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গ বাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'বেকায়দা' শব্দের 'বে' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. তৎসম
  2. খাঁটি বাংলা
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'বেকায়দা' শব্দের 'বে' ফারসি উপসর্গ।
এখানে 'বে' উপসর্গটি না অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

আরও কিছু ফারসি উপসর্গ-
- ফি: প্রত্যেক অর্থে = ফি-বছর, ফি-সপ্তাহ, ফি-রোজ, ফি-সব।
- না: না অর্থে = নারাজ, নাচার।
- ব: সাথে অর্থে = বনাম, বকলম, বমাল। 
- কম: অল্প অর্থে = কমবখ্‌ত, কমআক্কেল, কমজোর।
- বে: না অর্থে = বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া।
- বর: মন্দ অর্থে = বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরদাস্ত, বরবাদ।
- নিম: অর্ধেক অর্থে = নিমরাজি, নিমমোল্লা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস কোনটি?
  1. চা-বিস্কুট
  2. ধুতি - চাদর
  3. হাট-বাজার
  4. অহি - নকুল
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

• বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া, অহি - নকুল।

অন্যদিকে, 
- মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ, চা-বিস্কুট।
- প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর।
- সমার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস- হাট ও বাজার= হাট-বাজার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
.
'নয়-ছয়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. উচ্ছৃঙ্খল
  2. খুঁটিনাটি
  3. অপব্যয়
  4. কাণ্ডজ্ঞানহীন
ব্যাখ্যা
• 'নয়-ছয়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপব্যয়।

অন্যদিকে,
• 'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - উচ্ছৃঙ্খল।
• 'বারো সতেরো' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - খুঁটিনাটি।
• 'গোঁয়ার গোবিন্দ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'দ্বাদশ' শব্দটি -
  1. সাধারণ পূরণবাচক
  2. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  3. তারিখ পূরণবাচক
  4. গণনাবাচক
ব্যাখ্যা
• ‘দ্বাদশ’ সাধারণ পূরণবাচক শব্দ।

------------------------
• পূরণবাচক:
পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী), ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. আমদরবার
  2. অচেনা
  3. মেহনত
  4. নিরেট
ব্যাখ্যা
মেহনত: এটি উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়; কারণ এখানে কোনো ধরনের উপসর্গ নেই।

অন্যদিকে,
• আমদরবার শব্দে- আরবি উপসর্গ 'আম' রয়েছে।
• নিরেট শব্দে - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'নি' রয়েছে।
• অচেনা শব্দে - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'অ' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি সামীপ্যবাচক সর্বনাম পদ?
  1. ঐসব
  2. ইহারা
  3. সমুদয়
  4. নিজে নিজে
ব্যাখ্যা
সর্বনাম পদ: 
বিশেষ্যর পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। 
যেমন,
- রাহাত ভালো ছেলে, সে নিয়মিত স্কুলে যায়। 
- উপরোক্ত উদাহরণের দ্বিতীয় বাক্যটিতে ‘সে' শব্দটি রাহাতের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই ‘সে’ হলো সর্বনাম পদ। 

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন - 
• ব্যক্তি বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা ইত্যাদি। 
• আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি ইত্যাদি। 
• সামীপ্যবাচক: এ, এই, ইহারা, ইনি ইত্যাদি। 
• দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব, সব ইত্যাদি। 
• সাকল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ ইত্যাদি। 
• প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে ইত্যাদি। 
• অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি। 
• ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি। 
• সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি। 
• অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১.
'ঝাড়েবংশে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. গম্ভীর
  2. প্রচুর
  3. সবসুদ্ধ
  4. পাগলামি
ব্যাখ্যা
• 'ঝাড়েবংশে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সবসুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- 'তোলা হাঁড়ি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - গম্ভীর।
- 'চোদ্দবুড়ি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - প্রচুর।
- 'ঊনপঞ্চাশ বায়ু' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - পাগলামি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
কোনটি ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. দোসরা, তেসরা
  2. দুই, তিন
  3. দ্বিতীয়, তৃতীয়
  4. সাড়ে, পোয়া
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা:
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয় তৃতীয় ইত্যাদি।

• পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২২ সংস্করণ।
১৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. মনুষ্যসমূহ
  2. বৃক্ষসমূহ
  3. মনুষ্যসকল
  4. পর্বতপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
সব = ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ = বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।
কুল = কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল = পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পর্বতপুঞ্জ - অশুদ্ধ। এর সঠিক বচন লগ্নক - মালা (পর্বতমালা)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
'দক্ষযজ্ঞ' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. অরাজক দেশ
  2. যথেচ্ছাকারী
  3. আয়ুশেষ
  4. ব্যাপক আয়োজন
ব্যাখ্যা
• 'দক্ষযজ্ঞ' বাগ্‌ধারার অর্থ - ব্যাপক আয়োজন।

অন্যদিকে,
- মগের মুল্লুক - অরাজক দেশ; 
- 'ধর্মের ষাড়' - যথেচ্ছাকারী;
- দিন ফুরানো - আয়ুশেষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
'দক্ষ কারিগর' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. উপাদানবাচক
  2. রূপবাচক
  3. গুণবাচক
  4. অংশবাচক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
- 'দক্ষ কারিগর'।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম', চৌকস এবং দক্ষ - হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬.
কোনটিতে বস্তুবাচক বিশেষ্য রয়েছে?
  1. সুন্দর পাখি
  2. জনতার মিছিল
  3. বেলে মাটি
  4. তাজা মাছ
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
বেলে মাটি: এখানে "মাটি" একটি বস্তুবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক পদার্থ (মাটি) কে নির্দেশ করছে। "বেলে" হলো বিশেষণ, যা মাটির ধরন বর্ণনা করছে।
---------------
অন্যদিকে,
অন্যান্য অপশন:
ক) সুন্দর পাখি → "পাখি" জাতিবাচক বিশেষ্য।
খ) জনতার মিছিল → "মিছিল" সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
ঘ) তাজা মাছ → "মাছ" জাতিবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
'পাতি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহার করা যায়?
  1. নিম্ন
  2. ক্ষুদ্র
  3. বিপরীত
  4. অভাব
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন- 
- অজনা = অ + জানা
- অভিযোগ = অভি + যোগ

- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই।
- কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় - উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্ত অর্থ দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
• যেমন- পাতি + হাঁস = পাতিহাঁস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
"ছেলেটি একেবারে ননীর পুতুল।" - এ বাক্যে 'ননীর পুতুল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. একগুঁয়ে
  2. শ্রমবিমুখ
  3. অতিরিক্ত চালবাজি
  4. কপট ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• "ছেলেটি একেবারে ননীর পুতুল।" - এ বাক্যে 'ননীর পুতুল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - 'শ্রমবিমুখ'।

অন্যদিকে,
• নেই আঁকড়া - একগুঁয়ে;
• ফপর দালালি - অতিরিক্ত চালবাজি;
• বর্ণচোরা - কপট ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
‘কুহকী’ এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কুহকীনি
  2. কুহকিনী
  3. কুহকীনী
  4. কুহুকীনি
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক 'কুহকী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ -'কুহকিনী' হয়েছে।

এখানে,
কুহক - মায়া, ছলনা, ইন্দ্রজাল।
কুহকী- মায়াবী, জাদুকর।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন:
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি। 

নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন:
- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২) ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
"সে অত্যন্ত পরিশ্রমী" – এখানে "অত্যন্ত" কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

• ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

উপরিউক্ত বাক্যটিতে,
"পরিশ্রমী" হলো একটি নাম-বিশেষণ, যা কোনো ব্যক্তির গুণ প্রকাশ করে।
আবার, "অত্যন্ত" শব্দটি "পরিশ্রমী" বিশেষণটিকে বিশেষিত করছে, অর্থাৎ এটি বিশেষণকে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করছে।
যেহেতু, যেসব শব্দ বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাদের বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। সুতরাং, এ বাক্যে 'অত্যন্ত' বিশেষণের বিশেষণ।

অন্য অপশন:
(ক) বিশেষ্য → "অত্যন্ত" বিশেষ্য নয়, কারণ এটি কোনো বস্তু বা ব্যক্তি নির্দেশ করে না।
(খ) ক্রিয়া → "অত্যন্ত" কোনো কাজ বা কর্ম বোঝাচ্ছে না, তাই এটি ক্রিয়া নয়।
 (ঘ) সর্বনাম → এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তু নির্দেশ করছে না, তাই সর্বনামও নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।