পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২০: বিষয়: সাধারণ বিজ্ঞান সিলেবাস জীব বিজ্ঞান: পদার্থের জীববিজ্ঞান-বিষয়ক ধর্ম, টিস্যু, জেনেটিকস, জীববৈচিত্র্য, এনিম্যাল ডাইভারসিটি, প্লান্ট ডাইভারসিটি, এনিম্যাল টিস্যু, অর্গান এবং অর্গান সিস্টেম, সালোক সংশ্লেষণ, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, জুলোজিক্যাল নমেনক্লেচার, বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার, প্রাণিজগৎ, উদ্ভিদ, ফুল, ফল, রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, হৃদপিণ্ড এবং হৃদরোগ আধুনিক বিজ্ঞান: বিবর্তন, সামুদ্রিক জীবন, মানবদেহ, রোগের কারণ ও প্রতিকার, সংক্রামক রোগ, রোগ জীবাণুর জীবনধারণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাকসিনেশন, এইচআইভি, এইডস, টিবি, পোলিও, জোয়ার-ভাটা, এপিকালচার, সেরিকালচার, পিসিকালচার, হর্টিকালচার, ইত্যাদি। উৎস: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
যকৃত মানবদেহের কোন অংশে অবস্থান করে?
  1. বাম পাশ, ফুসফুসের নিচে 
  2. মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
  3. পেটে, বৃহদান্ত্রের উপরে
  4. নাভির পাশে, পেরিকর্ডিয়ামের নিচে
সঠিক উত্তর:
মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ মানবদেহের মধ্যচ্ছদার নিচে, উদরগহ্বরের উপরের ডান পাশে, পাকস্থলীর ডান দিকে এবং ডায়াফ্রামের (মধ্যচ্ছদা) ঠিক নিচে অবস্থিত। এটি শরীরের বৃহত্তম অঙ্গ এবং এর রং গাঢ় লালচে বাদামী, যা বিপাক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করে। 

যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কাজ: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাসের আক্রমণের ফলে কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. ফুলের বীজ উৎপাদন বন্ধ হয়
  2. ফুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়
  3. ফুলের রঙ নষ্ট হয়
  4. ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

- টিউলিপ ফুল "টিউলিপ ব্রেকিং ভাইরাস" (Tulip breaking virus) দ্বারা আক্রান্ত হলে পাপড়িতে সাদা বা হলুদ রঙের শিখার মতো দাগ বা রেখা তৈরি হয়, যা ফুলটিকে অনন্য এবং আরও আকর্ষণীয় করে তোলে

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ডায়াস্টোল (Diastole) কী বোঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
  2. হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  4. ধমনীতে রক্তের চাপ বৃদ্ধি 
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
ব্যাখ্যা

- ডায়াস্টোল বলতে হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলোর শিথিলকরণ বা প্রসারণের পর্যায়কে বোঝায়, যে সময়ে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলি রক্তে পূর্ণ হয়। এই পর্যায় চলাকালীন ধমনীতে রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, যা ডায়াস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোনটি বংশগতি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. প্রোটিন
  2. হরমোন
  3. ক্রোমোজোম
  4. লোহিত রক্তকণিকা
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোজোম-কে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কারণ এটি জিন বহন করে পিতা-মাতা থেকে পরবর্তী প্রজন্মে নিয়ে যায়। এই জিনগুলোই জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, চুলের ধরন, ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করে। 

ক্রোমোজোম: 
- যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
- DNA এর যে ছোট অংশ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে জিন বলে। 
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোজোম। 
- ক্রোমোজোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়। 
অর্থাৎ, ক্রোমোজোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক। 
- ক্রোমোজোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পাখি পালন সংক্রান্ত বিদ্যা কী নামে পরিচিত?
  1. এভিকালচার
  2. সেরিকালচার 
  3. এপিকালচার
  4. পিসিকালচার
সঠিক উত্তর:
এভিকালচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এভিকালচার
ব্যাখ্যা

- পাখি পালন সংক্রান্ত বিদ্যাকে এভিকালচার (Aviculture) বলা হয়, এটি বন্দী অবস্থায় পাখি পালন এবং প্রজননের অনুশীলনকে বোঝায় 

আধুনিক চাষ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিসমূহ: 

• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার।
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
• উদ্যান পালন (ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষ) বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 
• সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। 

.
নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য কোনটি?
  1. প্রজননের পদ্ধতি
  2. মূলের উপস্থিতি 
  3. বীজের আবরণ
  4. কাণ্ডের দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
বীজের আবরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজের আবরণ
ব্যাখ্যা

- নগ্নবীজী (Gymnosperm) এবং আবৃতবীজী (Angiosperm) উদ্ভিদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো বীজের আবরণের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি। নগ্নবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো নগ্ন বা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় (ovary) থাকে না এবং ফল উৎপন্ন হয় না। অন্যদিকে, আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো ফলের অভ্যন্তরে আবৃত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় থাকে যা নিষিক্তকরণের পর ফলে পরিণত হয়। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

.
লিউকেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ কোনটি?
  1. হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটি
  2. অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া
  3. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি
  4. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

- লিউকেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি, যা অপরিণত ও অকার্যকর শ্বেত রক্ত কণিকা হিসেবে অস্থি মজ্জা ও রক্তে জমা হয়ে স্বাভাবিক রক্তকণিকা উৎপাদন ব্যাহত করে। 

রক্ত ও এর অস্বাভাবিক অবস্থা: 

- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 

রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৪। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

৫। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৬। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৭। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
নিচের কোন সমীকরণটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
  1. C6H12O6 + 6O2 → 6CO2 + 6H2O
  2. C6H12O6 → 6CO2 + 6H2O
  3. 6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2
  4. 6CO2 + 12H2O → C6H12O6
সঠিক উত্তর:
6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2
ব্যাখ্যা

- 6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2 সমীকরণটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে, যেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড (6CO2) এবং জল (6H2O) সূর্যালোকের (আলো) উপস্থিতিতে গ্লুকোজ (C6H12O6) এবং অক্সিজেন (6O2) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াতে ক্লোরোফিল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। 

সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া: 

- সালোকসংশ্লেষণ হলো একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ সবুজ পাতার ক্লোরোফিল রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোক ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রধান খাদ্য উপাদান হিসেবে শর্করা উৎপন্ন হয়, যা সাধারণত স্টার্চ (মাড়) হিসেবে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত থাকে। 
- প্রাণিদেহে অতিরিক্ত শর্করা গ্লাইকোজেন আকারে যকৃত ও পেশিতে জমা থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাত (by-product) হলো অক্সিজেন, যা পরিবেশে নিঃসরণ হয়ে প্রাণীর জীবনধারণে সহায়ক হয়। 
• 6CO2 ​+ 6H2​O + আলো → C6​H12​O6 ​+ 6O2

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

.
এক্স-রশ্মি ব্যবহৃত হয় কোন ক্ষেত্রে?
  1. গোয়েন্দা কাজে 
  2. হীরক সনাক্তকরণে 
  3. শরীরের ভিতরের হাড়ে ফাটল শনাক্ত করণে 
  4. উপরোক্ত সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

- এক্স-রশ্মি (X-ray) চিকিৎসাবিজ্ঞান (হাড়ের ফাটল, ফুসফুসের রোগ), শিল্প (যন্ত্রপাতির ত্রুটি পরীক্ষা), এবং ফরেনসিক বা গোয়েন্দা কাজে (যেমন: লুকানো জিনিসপত্র সনাক্তকরণ) ও মূল্যবান পাথর (হীরা) শনাক্তকরণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

এক্স রে (রঞ্জন রশ্মি): 

- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। 

এক্স রে এর ব্যবহার: 
- হীরক সনাক্তকরণে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করণে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়ে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
Platyhelminthes পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. একস্তরী, সিলোমযুক্ত, অসীম
  2. ত্রিস্তরী, চ্যাপ্টাদেহী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম
  3. দ্বিস্তরী, কুণ্ডলীযুক্ত, অপ্রতিসম 
  4. ত্রিস্তরী, গোলাকৃতি, উভয়লিঙ্গিক
সঠিক উত্তর:
ত্রিস্তরী, চ্যাপ্টাদেহী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিস্তরী, চ্যাপ্টাদেহী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম
ব্যাখ্যা

- Platyhelminthes পর্বের প্রাণীরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), অর্থাৎ এদের দেহে তিনটি ভ্রূণীয় কোষস্তর (এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম) থাকে। এদের দেহ উপর-নিচে চ্যাপ্টা, পাতা বা ফিতার মতো হয়, যে কারণে এদেরকে চ্যাপ্টা কৃমি (flatworm) বলা হয়। এরা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম (Bilaterally symmetrical), যার অর্থ হলো এদের দেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর শুধুমাত্র একটি তলে দুটি সমান ও অভিন্ন অংশে ভাগ করা যায়। 

Platyhelminthes (চ্যাপ্টাদেহী কৃমি): 
- Platyhelminthes শব্দটি Greek শব্দ Platy = চ্যাপ্টা এবং Helminthes = কৃমি এ দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত।
- ১৮৫৯ সালে Gogenbour এ পর্বের নামকরণ করেন। এ পর্বের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা ২৯,৪৮৭।

Platyhelminthes পর্বের বৈশিষ্ট্য: 
১। এরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), চ্যাপ্টাদেহী ও সাধারণত চোষক বা আংটাযুক্ত অন্তঃপরজীবী কৃমিজাতীয়। 
২। এদের দেহগহ্বর অপ্রকৃত সিলোম। 
৩। এরা উভয়লিঙ্গিক ও দেহ সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস অথবা কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
৪। এদের স্বনিষেক হয়। 
৫। শিখাকোষ (flame cell) নামক কোষের সাহায্যে রেচন সম্পাদন করে। 
৬। এদের পরিপাকতন্ত্র অসম্পূর্ণ (পায়ুবিহীন)। 
৭। এদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম। 

- শিখাকোষ (flame cell) হলো planaria (মিঠা পানিতে মুক্তভাবে বাস করা ফ্ল্যাটওয়ার্ম) প্রাণীদের মেসোডার্মে বিদ্যমান টিউবের সাথে সংযুক্ত কোষ। এ কোষগুলো গর্তবিশিষ্ট বাল্ব ধরনের যাদের গুচ্ছাকারে সিলিয়া থাকে। সিলিয়াগুলো প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত হয়ে টিউবের ভেতরে পানির স্রোত তৈরি করে। ফলে বর্জ্য বস্তুসমূহ নির্গমন ছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়। এভাবেই শিখাকোষ রেচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। 
উদাহরণ: Taenia solium-ফিতাকৃমি, Fasciola hepatica-যকৃতকৃমি, Schistosoma ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

১১.
জন্ডিসের প্রধান কারণ হিসেবে কোন ভাইরাসকে চিহ্নিত করা হয়?
  1. র‍্যাবিস 
  2. ফ্ল্যাভি 
  3. হেপাটাইটিস-বি
  4. অ্যাডিনো 
সঠিক উত্তর:
হেপাটাইটিস-বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেপাটাইটিস-বি
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis-B) ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা জন্ডিসের অন্যতম প্রধান কারণ। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো (A, B, C, D, E) বিশ্বব্যাপী জন্ডিস রোগের প্রধান উৎস। 

ভাইরাস ও তার প্রভাব: 
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- কিছু ভাইরাস মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব, এমনকি অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদিও স্বল্প পরিসরে ভাইরাস কিছু উপকারও করে, তবে অপকারের পরিমাণই বেশি। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
- ভাইরাস বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের নানা রকমের রোগের কারণ। 
- নিচে কিছু ভাইরাসজনিত রোগ, পোষকের নাম ও ভাইরাসের নাম উল্লেখ করা হলো-  


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
কোন রক্তগ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়?
  1. O
  2. A
  3. B
  4. AB
সঠিক উত্তর:
AB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
AB
ব্যাখ্যা

- AB রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা (universal recipient) বলা হয় কারণ এই গ্রুপের একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো রক্ত ​​গ্রুপের (A, B, O, এবং AB) কাছ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারেন। 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
সমুদ্রের পানির ফুলে ওঠাকে কী বলা হয়?
  1. ভাটা
  2. জোয়ার
  3. সাগরপ্রবাহ
  4. জলোচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
জোয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোয়ার
ব্যাখ্যা

- চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে এবং পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের জল নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে ওঠে, এই ঘটনাকে জোয়ার (Tide/High tide) বলে। 

জোয়ার-ভাটা: 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্র পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে বলা হয় ভাটা। 
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দুই বার জোয়ার ও দুই বার ভাটা হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথপম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
যক্ষ্মা (TB) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ট্রেপটোমাইসিন হলো- 
  1. অ্যান্টিবায়োটিক
  2. ব্যথানাশক
  3. অ্যান্টিসেপটিক
  4. চেতনানাশক 
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিবায়োটিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যাখ্যা

- যক্ষ্মা (TB) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ট্রেপটোমাইসিন হলো একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত এবং ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে বা তাদের বৃদ্ধি রোধে কাজ করে, বিশেষত Mycobacterium tuberculosis-এর বিরুদ্ধে এটি কার্যকর। 

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 

- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনানাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদ কোন ধরনের উদ্ভিদ? 
  1. সপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. আবৃতবীজী উদ্ভিদ
  3. অপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. নগ্নবীজী উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
অপুষ্পক উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপুষ্পক উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা

- ব্রায়োফাইটা (Bryophyta) হচ্ছে এক ধরনের অপুষ্পক (non-flowering) উদ্ভিদ। এদের ফুল, ফল এবং বীজ হয় না। পরিবর্তে, এরা স্পোরের (spore) মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। 

ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
কোন ধরনের শৈবাল পাথরের গায়ে জন্মায়?
  1. এপিফাইটিক শৈবাল
  2. বেন্থিক শৈবাল
  3. এন্ডোফাইটিক শৈবাল 
  4. লিথোফাইটিক শৈবাল
সঠিক উত্তর:
লিথোফাইটিক শৈবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথোফাইটিক শৈবাল
ব্যাখ্যা

- যে শৈবাল পাথরের গায়ে বা পাথরের ফাটলে জন্মায়, তাদের লিথোফাইট বা লিথোফাইটিক শৈবাল বলা হয়। এরা বাতাস, বৃষ্টি এবং জমে থাকা জৈব পদার্থ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। 

শৈবাল: 

- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
শিশুদের রিকেটস রোগটি কোন খনিজের অভাবজনিত রোগ?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. জিংক 
  3. সোডিয়াম 
  4. আয়রন 
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

- শিশুদের রিকেটস রোগটি মূলত ক্যালসিয়াম-এর অভাবজনিত রোগ। শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে ক্যালসিয়াম সঠিকভাবে শোষিত হতে পারে না, যার ফলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং বেঁকে যায়। 

ক্যালসিয়াম (Calcium): 

- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক। 
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। 

ক্যালসিয়ামের উৎস: 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি। 
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা: 
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। 
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে। 
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে। 

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ: 
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়। 
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia)- এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮.
ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে ডাক্তারদের মতে কোন তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক?
  1. Discipline, Diet, Detox
  2. Daily exercise, Diet, Drug 
  3. Discipline, Diet, Drug
  4. Diet, Distance, Drug
সঠিক উত্তর:
Discipline, Diet, Drug
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Discipline, Diet, Drug
ব্যাখ্যা

- ডায়াবেটিস চিকিৎসায় চিকিৎসকরা মূলত তিনটি 'D' বা তিনটি মূলভিত্তি (Discipline, Diet, Drug) মেনে চলার পরামর্শ দেন। 

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: 
- রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 
- ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক। 
যেমন: Discipline, Diet ও Drug. 
(i) শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। 

(ii) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়। তবে যার ডায়াবেটিস নেই, তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই। 

(iii) ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান, তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯.
নিচের কোন প্রাণীটি অপ্রতিসাম্য?
  1. অ্যামিবা
  2. যকৃত কৃমি
  3. সমুদ্র তারা 
  4. ভলভক্স
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
ব্যাখ্যা

- অ্যামিবা (Amoeba) একটি এককোষী প্রাণী যার কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি নেই এবং এটি ক্রমাগত তার রূপ পরিবর্তন করে। এই কারণে, অ্যামিবার শরীরকে কোনো অক্ষ বা তল বরাবর দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায় না, তাই এটি অপ্রতিসাম্য (asymmetrical) প্রাণী। 

প্রতিসাম্য: 

- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

২। গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

৩। অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

৪। দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

৫। দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
জলজ উদ্ভিদের পানিতে ভাসার জন্য কোন বিশেষ অঙ্গ সাহায্য করে?
  1.  নিউক্লিয়াস
  2. বায়ু কুঠুরী
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. রাইবোসোম
সঠিক উত্তর:
বায়ু কুঠুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু কুঠুরী
ব্যাখ্যা

- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড এবং পাতায় বিশেষ ধরনের টিস্যু থাকে, যা পাতলা প্রাচীরযুক্ত কোষ এবং বৃহৎ আন্তঃকোষীয় স্থান বা বায়ুকুঠুরী দ্বারা গঠিত হয়। এই বায়ুকুঠুরী উদ্ভিদকে প্লবতা প্রদান করে, যা তাদের সহজেই পানিতে ভাসতে সাহায্য করে। 

জলজ উদ্ভিদ: 
- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, ওড়িপানা, সিংগারা, টোপাপানা, শাপলা, পদ্ম, শ্যাওলা, হাইড্রিলা, কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম ইত্যাদি নানা রকম জলজ উদ্ভিদ। এদের বেশির ভাগই পানিতে জন্মে এবং কিছু কিছু আছে (যেমন- কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম) যারা পানিতে আর মাটিতে দু'জায়গাতেই জন্মে। 
অর্থাৎ, পানি না থাকলে বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতই না, কিছু কিছু হয়তো জন্মাত কিন্তু বাঁচতে পারত না কিংবা বেঁচে থাকলেও বেড়ে উঠতে পারত না। 
- তখন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটত, কারণ এই জলজ উদ্ভিদগুলো একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে, অন্যদিকে এদের অনেকগুলো বিশেষ করে শ্যাওলাজাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড আর অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যেটা পানির স্রোত আর জলজ প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে মানানসই। পানি ছাড়া শুকনো মাটিতে এদের জন্ম হলে এরা ভেঙে পড়ত এবং বেড়ে উঠতে পারত না, এমনকি বাঁচতেও পারত না। 
- জলজ উদ্ভিদগুলো সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে, পানি না থাকলে এই বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতো। 
- জলজ উদ্ভিদ সহজে পানিতে ভাসতে পারে, কারণ এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে। 
- অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড ফাঁপা। এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে, তাই এরা পানিতে ভাসতে পারে। এই বায়ু কুঠুরী জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
ভার্টিব্রাল ধমনি দেহের কোন অঞ্চলে রক্ত সরবরাহ করে?
  1. বৃক্ক
  2. ডায়াফ্রাম
  3. পাকস্থলী 
  4. মেরুদণ্ড
সঠিক উত্তর:
মেরুদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরুদণ্ড
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি ও তার শাখাসমূহ: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনির শাখাগুলোর কাজ হলো বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ করা। 
- প্রধান শাখাগুলোর রক্ত সরবরাহের অঞ্চলসমূহ হচ্ছে- 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
‘প্রণকালচার’ বলতে কোন বাণিজ্যিক চাষকে বোঝানো হয়?
  1. মৎস্য চাষ 
  2. মৌমাছি চাষ 
  3. চিংড়ি চাষ 
  4. রেশম চাষ 
সঠিক উত্তর:
চিংড়ি চাষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিংড়ি চাষ 
ব্যাখ্যা

- চিংড়ি চাষকে ইংরেজিতে Prawn Culture বা প্রণকালচার বলা হয়। এটি জলজ চাষের একটি বিশেষ শাখা যেখানে বাণিজ্যিকভাবে চিংড়ি উৎপাদন করা হয়। 

আধুনিক চাষ: 

- বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি চাষ করাকে এপিকালচার বলে। 
- বাণিজ্যিকভাবে রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে সেরিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে পিসিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে প্রণকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে উদ্যান বিষয়ক বিদ্যাকে বলে হর্টিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে এভিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে মেরিকালচার। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২৩.
একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্র এবং নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য কোন বৈচিত্র্যের উদাহরণ? 
  1. জীবাশ্ম বৈচিত্র্য
  2. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

- পুকুর ও নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য হলো বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem Diversity)-এর উদাহরণ, কারণ এটি বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থল (যেমন পুকুর ও নদী) এবং সেগুলোর মধ্যে থাকা জীব সম্প্রদায় ও প্রক্রিয়ার ভিন্নতাকে বোঝায়। 

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 

- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। 
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity): 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়, এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। 
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। 
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। 
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। 
- এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
সামুদ্রিক জীব বায়ুমণ্ডল থেকে কোন গ্যাস শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই–অক্সাইড
  4. ওজোন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই–অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই–অক্সাইড
ব্যাখ্যা

সামুদ্রিক জীবন: 
- সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হচ্ছে, মানবজাতি এখন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রতলের মাত্র ০.০০১ শতাংশ কম এলাকা সম্পর্কে জানে। এই এলাকার আকার রোড আইল্যান্ডের প্রায় সমান বা বেলজিয়ামের প্রায় এক-দশমাংশ। এই সীমিত অনুসন্ধান আমাদের গ্রহের বৃহত্তম বাস্তুতন্ত্রকে সঠিকভাবে বোঝা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। 
- ২০০ মিটারের বেশি গভীরতা থেকে গভীর মহাসাগর শুরু হয়, যা পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে বিস্তৃত। বিশালতা সত্ত্বেও সমুদ্র সবচেয়ে কম অন্বেষণ করা অংশ। 
- গভীর মহাসাগর বিভিন্ন ধরনের জীবের আবাসস্থল, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, অক্সিজেন উৎপাদন আর খাদ্য ও ওষুধের মতো মূল্যবান সম্পদ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্রপৃষ্ঠে বসবাসকারী ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন পৃথিবীর প্রায় ৮০ ভাগ অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এসব জীব গভীর সমুদ্রস্রোত থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। 
- সামুদ্রিক জীব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণে সহায়তা করছে। জলবায়ু স্থিতিশীলতায় সমুদ্রের অবদান অনেক। 

- প্রতিবছর ২০ কোটি টন সামুদ্রিক খাবার সরবরাহ করা হয় সমুদ্র থেকে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬ কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে সমুদ্র। এছাড়া স্পঞ্জ ও ব্যাকটেরিয়ার মতো সামুদ্রিক জীব এইচআইভি, স্তন ক্যানসার ও কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখছে। পাঁচ দশক ধরে বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য চিকিৎসার জন্য হাজার হাজার নতুন সামুদ্রিক যৌগ খুঁজে যাচ্ছেন। 
- গবেষকেরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, সমুদ্রে মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ ও উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যতে ক্ষতিকর প্রভাব প্রায় দ্বিগুণ হবে। মহাসাগর ইতিমধ্যে মানুষের কার্যকলাপ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ অতিরিক্ত তাপ ও ৩০ শতাংশ কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণ করেছে। এর ফলে উষ্ণ তাপমাত্রা, অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস ও সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের পরিবর্তন গভীর সমুদ্রের আবাসস্থলকে অযোগ্য করে তুলছে। বিভিন্ন গভীরতায় সামুদ্রিক জীবনকে ব্যাহত করছে। বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য ও উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করছে। 

উৎস: সায়েন্স অ্যালার্ট এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (৬ জুন, ২০২৫) [লিঙ্ক]।

২৫.
মানুষের হৃৎপিণ্ডে মোট কয়টি প্রকোষ্ঠ থাকে?
  1. ৪টি 
  2. ৩টি 
  3. ২টি 
  4. ৫টি 
সঠিক উত্তর:
৪টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি 
ব্যাখ্যা

- মানুষের হৃৎপিণ্ড একটি পেশীবহুল অঙ্গ যা চার (৪)টি প্রকোষ্ঠ বা কক্ষ নিয়ে গঠিত।

হৃৎপিণ্ড: 

- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬.
কোন অঙ্গটি সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলো শোষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে? 
  1. কাণ্ড 
  2. পাতা 
  3. মূল 
  4. শিকড় 
সঠিক উত্তর:
পাতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা 
ব্যাখ্যা

- সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলো শোষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো পাতা, কারণ পাতায় প্রচুর ক্লোরোফিল থাকে যা আলো শোষণ করে, এবং পাতার বৃহৎ পৃষ্ঠতল আলো গ্রহণ ও গ্যাস বিনিময়ে সাহায্য করে, যা সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থান। 

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। কারণ- 
• পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
• পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
• পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে।
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২৭.
নিম্নের কোনটি মানব দেহের সংবেদী অঙ্গ নয়?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. কর্ণ 
  3. নাসিকা
  4. চক্ষু
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা

- হৃৎপিণ্ড একটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যা রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার অংশ এবং এর প্রধান কাজ হল রক্ত পাম্প করা, এটি কোনো সংবেদী অঙ্গ নয়। 

মানব সংবেদী অঙ্গ: 
- পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রকৃতি ও পরিবর্তন অনুধাবনে সক্ষম ইন্দ্রিয় সমূহকে সংবেদী অঙ্গ বা রিসেপ্টর বলা হয়।
- বিশেষ ধরনের সংবেদী কোষের সমন্বয়ে সংবেদী অঙ্গ গঠিত।
- মানব দেহের সংবেদী অঙ্গ হলো- চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক।
- এরা সাধারণভাবে পঞ্চ ইন্দ্রিয় নামে পরিচিত ।
- এদের মধ্যে চক্ষু দর্শন অনুভূতি, কর্ণ শ্রবণ অনুভূতি ও ভারসাম্য অনুভূতি, নাসিকা ঘ্রাণ অনুভূতি, জিহ্বা স্বাদ অনুভূতি এবং ত্বক স্পর্শ অনুভূতি মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৮.
নিচের কোন উদ্ভিদটির মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়?
  1. হলুদ 
  2. আদা 
  3. মিষ্টি আলু
  4. পাথরকুচি
সঠিক উত্তর:
মিষ্টি আলু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিষ্টি আলু
ব্যাখ্যা

- মিষ্টি আলু (Sweet potato) হল একটি মূল জাতীয় উদ্ভিদ, যার মূল থেকেই নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়। 

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 

- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন। 

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি?
  1. ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা
  2. প্রচুর পানি পান করা
  3. ব্যায়াম করা
  4. HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা
সঠিক উত্তর:
HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা
ব্যাখ্যা

- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা, কারণ সচেতনতার মাধ্যমে নিরাপদ যৌন অভ্যাস (যেমন-কনডম ব্যবহার), জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় 

এইডস রোগ: 

- এইডস (AIDS) একটি সংক্রামক রোগ যা সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় এই রোগ চিহ্নিত হয়। তখন থেকেই এটি একটি মরণব্যাধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। 
- প্রাকৃতিকভাবে মানুষের শরীরে রোগজীবাণু প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকে, যা ইমিউনিটি হিসেবে পরিচিত। 
-  HIV (Human Immunodeficiency Viruses) ভাইরাসটি AIDS রোগ সৃষ্টি করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। এই HIV ভাইরাস যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন এটি রক্তের T-লিম্ফোসাইট (শ্বেত রক্তকণিকা) আক্রমণ করে, ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়। 
- HIV সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তবে এই সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে। 
- এইডস সংক্রমিত হয় প্রধানত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে, তবে মায়ের বুকের দুধ বা রক্ত সঞ্চালন বা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে এটিতে সংক্রমণ হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০.
সজীব রক্তের গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ২৮°–৩০° সেলসিয়াস
  2. ৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
  3. ৩০°–৩২° সেলসিয়াস
  4. ৪০°–৪২° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৯৮.৬° ফারেনহাইট (F) বা ৩৭° সেলসিয়াস (C) ধরা হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬° থেকে ৩৮° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে

রক্ত: 

- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
গর্ভকালীন প্রথম মাস থেকে কোন ট্যাবলেট নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়?
  1. আয়রন 
  2. ফলিক অ্যাসিড 
  3. পটাসিয়াম 
  4. ক্যালসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
ফলিক অ্যাসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলিক অ্যাসিড 
ব্যাখ্যা

- গর্ভধারণের প্রথম মাস থেকে ফলিক অ্যাসিড (Folic Acid) ট্যাবলেট নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটি, যেমন-স্পাইনা বিফিডা, প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যা ও সচেতনতা: 

- প্রতিবছর গর্ভকালীন জটিলতায় অনেক নারী মৃত্যুবরণ করেন। 
- গর্ভকালীন সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব মা ও শিশুর উভয়ের জন্য জীবনঘাতী হতে পারে। তাই সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা: 
- গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহ ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী:  
- গর্ভকালীন প্রথম মাস থেকে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হয়। 
- গর্ভকালীন তৃতীয় মাস থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 
- আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন: কচুশাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি। 
- ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রনের শোষণ বৃদ্ধি পায়। যেমন: আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস, কাঁচা ফলমূল ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
PPLO-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Pleuro Pneumonitis Labeled Organisms
  2. Protozoa Pneumonia Like Organisms
  3. Pleuro Pulmonary Lymph Organs
  4. Pleuro Pneumonia Like Organisms
সঠিক উত্তর:
Pleuro Pneumonia Like Organisms
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pleuro Pneumonia Like Organisms
ব্যাখ্যা

- PPLO (Pleuro Pneumonia Like Organisms) হলো মাইকোপ্লাজমা (Mycoplasma) নামক ব্যাকটেরিয়ার একটি গ্রুপ, যা কোষ প্রাচীরবিহীন ক্ষুদ্রতম মুক্তজীবী অণুজীব। 

- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ। 
১। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organisms), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 
- আবার, অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- দেহ কোষ এবং জনন কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
শ্বেতকণিকা বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতার চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়? 
  1. কোবাল্ট-60 
  2. টেকনেশিয়াম-99m 
  3. ফসফরাস-32
  4. আয়োডিন-131 
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস-32
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস-32
ব্যাখ্যা

- ফসফরাস-32 লিউকেমিয়া বা শ্বেতকণিকা বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতার (polycethemia vera) চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। 

চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 

- শরীরের কোনো স্থানে কোনো ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা তার অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এই তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করতে সহায়তা করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কী কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- হার্টে পেইসমেকার বসাতে প্লুটোনিয়াম-২৩৮ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিডের গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
নিম্নের কোন ভ্যাকসিন নিষ্ক্রিয়কৃত জীবন্ত টিকা নয়?
  1. কলেরা 
  2. হাম 
  3. পোলিও 
  4. যক্ষ্মা
সঠিক উত্তর:
কলেরা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলেরা 
ব্যাখ্যা

- কলেরা ভ্যাকসিন সাধারণত মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ ভ্যাকসিন, তাই এটি নিষ্ক্রিয়কৃত জীবন্ত টিকার মধ্যে পড়ে না।

টিকার প্রকারভেদ: 

- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিকার প্রকারভেদ নিম্নরূপ: 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবন্ত টিকা: 
- এতে কালচার করা জীবাণুদের ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করা হয়। 
উদাহরণ: BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এ ধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি এই টিকা। 
উদাহরণ: ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু: 
- সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ: হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।