পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন৩০
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ২০ টপিক: রিভিশন পরীক্ষা [১৩ থেকে ১৯ পর্যন্ত পরীক্ষার সকল টপিকসমূহ] [লাইভ ক্লাস - ২৩ থেকে ৩৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ৩০ প্রশ্ন

.
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. দর্শনমাত্র
  2. কালসাপ
  3. নীলকন্ঠ
  4. ত্রিনয়ন 
ব্যাখ্যা

নীলকণ্ঠ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন - নদীমাতৃক (নদী মাতা যার) ,
- সবান্ধব: বান্ধবসহ বর্তমান,
- বিপত্নীক: বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার,
- নীলবসনা: নীল বসন যার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

• বহুব্রীহি সমাস আট প্রকার-
- সমানাধিকরণ,
- ব্যাধিকরণ,
- মধ্যপদলোপী,
- প্রত্যয়ান্ত,
- ব্যতিহার,
- নঞর্থক,
- সংখ্যাবাচক এবং
- অলুক। 
-------------------------------------------
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
- নীলকন্ঠ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।
- কারণ, নীলকণ্ঠ: নীল (বিশেষণ) কণ্ঠ (বিশেষ্য) যার = শিব (অন্য পদ)। 
- সমানাধিকরণ বহুব্রীহির কিছু উদাহরণ-
- হতশ্রী: হত (বিশেষণ) হয়েছে শ্রী (বিশেষ্য) যার = শ্রীহীন (অন্য পদ)।
- শশাঙ্ক: শশ (বিশেষণ) অঙ্ক (বিশেষ্য) যার = চাঁদ (অন্য পদ)।
-------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• নিত্য সমাস: 
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। 
যেমন-
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর ইত্যাদি।

• ত্রিনয়ন সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হয় তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
- বহু ব্রীহি যার = বহুব্রীহি;
- ত্রিনয়ন যার = ত্রিনয়ন;
- দশানন যার = দশানন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
নতুন শব্দ গঠনের জন্য কোন ধ্বনিতত্ত্বের প্রয়োজন হয়? 
  1. ণত্ব বিধান 
  2. সন্ধি 
  3. ষত্ব বিধান 
  4. ধ্বনির পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

'সন্ধি':
- 'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন বা সংযোগ।
- দ্রুত উচ্চারণের ফলে পরস্পর সন্নিহিত দুইটি ধ্বনির মিলনে যে ধ্বনিগত পরিবর্তন হয় তাকেই সন্ধি বলে।
- খুব কাছাকাছি দুটি ধ্বনি দ্রুত উচ্চারণের ফলে কখনো একটি ধ্বনিতে পরিণত হয়;
- কখনো একটি ধ্বনির লোপ হয় বা একটির রূপান্তর হয়;
- এবং কখনো দুটি ধ্বনিই রূপান্তরিত হয়ে নতুন ধ্বনি তৈরি করে, যেমন:
• ধ্বনির মিলন বা রূপান্তর: রবি ইন্দ্র = রবীন্দ্র।
• ধ্বনি-লোপ: চন্দ্র + আলয় = চন্দ্রালয়।
• পূর্বধ্বনির বদল: সত্ + য = সত্য়।
• পরধ্বনির বদল: রাজ্ + নী = রাজ্ঞী। 

• সন্ধির প্রয়োজনীয়তা:
- ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
- শব্দের আকার সংক্ষিপ্ত করতে সাহায্য করে।
- ভাষাকে সুন্দর ও সাবলীল করে।
- উচ্চারণ সহজ করে।
- উচ্চারণের সৌন্দর্য, শ্রুতিমাধুর্য ও ভাষার প্রাঞ্জলতা বাড়ায়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয়- 
  1. ধাতু 
  2. প্রত্যয়
  3. বিশেষ্য
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা

ধাতু:
- কোনো ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে বা ভেঙে ফেললে এমন একটি মূল বা শিকড় পাওয়া যায়, যাকে আর ভাঙা সম্ভব হয় না এবং সেই মূলের মাধ্যমেই ক্রিয়াপদের অন্তর্নিহিত ভাব বা অর্থ প্রকাশিত হয়।
- ক্রিয়াপদের এই শিকড় বা মূল অংশকেই ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
- ধাতু বা ক্রিয়ামূলের আগে মূল চিহ্ন [ √ ] ব্যবহার করা হয়।
- এই ধাতুর ওপর বিভিন্ন প্রত্যয় ও বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী ধাতু মূলত তিন প্রকার: 
 ১) মৌলিক ধাতু
 ২) সাধিত ধাতু
 ৩) যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু

• মৌলিক ধাতু:
- যে ধাতুগুলোকে আর ভেঙে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোকেই মৌলিক ধাতু বলা হয়।
- এ ধরনের ধাতু নিজেরাই সম্পূর্ণ, তাই এগুলোকে সিদ্ধ ধাতু বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু নামেও পরিচিত।
- যেমন: দেখ্ চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু বা কখনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু তৈরি হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলা হয়।
- যেমন:
- শুন + আ = শোনা;
- লিখ্ + আ = লেখা;
- পড়্ + আ = পড়া।
- এই সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষ নির্দেশক বিভক্তি যোগ হলে পূর্ণ ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
- যেমন- "শিক্ষক ছাত্রদের পড়া শোনাচ্ছেন"।

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সঙ্গে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় প্রভৃতি মৌলিক ধাতু যুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু তৈরি হয়, তাকে যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু বলা হয়।
- যেমন-
- যোগ কর: (যোগ + কর্‌);
- পূজা কর: (পূজা + কর);
- রাজি হ: (রাজি + হ)।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ নয়?    
  1. তারুণ্য
  2. দুঃখ
  3. সন্ধ্যা
  4. ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
- ঐচ্ছিক বিশেষ্য পদ নয়।
- এটি বিশেষণের উদাহরণ।
- ঐচ্ছিক এমন একটি বিশেষণ পদ, যা কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত করে।
- যেমন- ঐচ্ছিক বিষয়, ঐচ্ছিক শিক্ষা।
- বিশেষণ হলো সেই পদ যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
- যেমন:
- মেধাবী ছেলে (গুণ);
- নীল আকাশ (অবস্থা/রং);
- সুন্দর মেয়ে (গুণ);
- দ্রুত হাঁট (ক্রিয়া);
- তিন/চার (সংখ্যা)।
 
- বিভিন্ন ধরনের বিশেষণ পদের উদাহরণ: 

• বিশেষ্যের বিশেষণ: বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে।
- উদাহরণ: চঞ্চল শিশু (শিশুর অবস্থা), চলন্ত ট্রেন (ট্রেনের অবস্থা)।

• সর্বনামের বিশেষণ: সর্বনামকে বিশেষিত করে।
- উদাহরণ: ধৈর্যশীল তুমি (তোমার গুণ), যত পদ তত ফল (ফলের অবস্থা। 

• ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়াপদকে বিশেষিত করে।
- উদাহরণ: দ্রুত দৌড়াও (দৌড়ানোর ধরন)।

• সংখ্যাবাচক বিশেষণ: সংখ্যা বোঝায়।
- উদাহরণ: সতের বছর, পাঁচশ টাকার নোট।

• গুণবাচক বিশেষণ: গুণ বা দোষ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: মেধাবী ছেলে, কুৎসিত লোক।

• পরিমাণবাচক বিশেষণ: পরিমাণ বোঝায়।
- উদাহরণ: সল্প সম্পদ, অনেক পানি।

• অবস্থা নির্দেশক বিশেষণ: অবস্থার মান প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: লাল গোলাপ, নরম বিছানা।
-------------------------------------------------
বিশেষ্য পদ:
- তারুণ্য, দুঃখ, সন্ধ্যা- বিশেষ্য পদের উদাহরণ।
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা বা গুণের নাম বোঝানো হয়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলা হয়।

- বিশেষ্য পদ সাধারণত ছয় প্রকারে বিভক্ত:
১. নাম-বিশেষ্য: আরিফ, রিমা, সিলেট, যমুনা, রবিবার, শ্রাবণ, ফাল্গুন, ঈদ, স্বাধীনতা।
২. জাতি-বিশেষ্য: মানুষ, সিংহ, হরিণ, গাছ, ফল, নদী, পাহাড়।
৩. বস্তু-বিশেষ্য: কাঁঠাল, লবণ, আকাশ, চেয়ার, বই।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: দল, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল।
৫. গুণ-বিশেষ্য: উদারতা, করুণা, আনন্দ, গুরুত্ব, ধৈর্য, সততা।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: পঠন, ভ্রমণ, শয়ন, লেখা, খাওয়া, শেখা।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ);
আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

.
দ্বিগু সমাস নিষ্পন্ন পদটি কোন পদের হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দ্বিগু সমাস: 
- দ্বিগু সমাসে প্রথম পদটি হবে সংখ্যাবাচক আর পরপদটি হবে বিশেষ্য।
- অর্থাৎ, যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
- যেমন:
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।

- আবার, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- উদাহরন্সরুপ: 
- দশ চক্রের সমাহার = দশচক্র। 
- চার রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা। 
- তিন নদীর মোহনা =তেমহনা। 
- ত্রি পদের সমাহার = ত্রিপদী
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী;
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী। 
- চার অঙ্গের সমাহার = চতুরঙ্গ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
‘চিরুনি’ শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. চির্ + ওনি
  2. চির্ + অণি 
  3. চির্ + অনি 
  4. চির্ + আনি 
ব্যাখ্যা

প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- ‘চিরুনি’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয়- চির্ + অনি।
- এখানে, প্রকৃতি: √চির্;
- প্রত্যয়: -অনি (কৃৎ প্রত্যয়)

• প্রকৃতি:
- সাধিত শব্দের মূল অংশকে প্রকৃতি বলা হয়। 
- এখানে ‘চির’ হলো মূল শব্দ, যা চুলকে বোঝায়।

• প্রত্যয়:
- প্রকৃতি বা ধাতুর পরে যুক্ত হওয়া বর্ণ বা বর্ণসমষ্টিকে প্রত্যয় বলে, যা নতুন শব্দ তৈরি করে।
- এখানে ‘-উনি’ হলো বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়, যা বিশেষ্য পদ গঠনে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা কৃৎ বলতে আমরা সেইসব কৃৎ প্রত্যয় বুঝি যেগুলো প্রাকৃত থেকে জন্মেছে।
- প্রাকৃতজ শব্দেযোগেই বাংলা কৃৎ প্রত্যয় গঠিত হয়। 
- এখানে ‘-উনি’ হলো সেই প্রত্যয়, যা প্রাকৃতজ (‘চির’) শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে ‘চিরুনি’ (চুল আঁচড়ানোর যন্ত্র) তৈরি করেছে।

• ‘উনি’ প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ উদাহরণ:
- √চির্ + অনি = চিরনি> চিরুনি;
- √নাচ্ + অনি = নাচনি> নাচুনি;
- √বাঁধ + অনি = বাঁধনি> বাঁধুনি;
- √আঁট্ + উনি = আঁটনি> আঁটুনি, ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ);
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

.
নিচের কোন বাক্যে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. কিছু দরকার হলে বলো। 
  2. যদি ডাক পাই, নিশ্চয় যাব।
  3. কে তোমায় ডাক দিয়েছে আজ?
  4. ক ও গ 
ব্যাখ্যা

• 'কিছু দরকার হলে বলো' ও 'কে তোমায় ডাক দিয়েছে আজ'?- বাক্য দুইটিতে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়েছে।  
- 'কিছু' অনির্দিষ্ট সর্বনামের উদাহরণ এবং 'কে' প্রশ্নবাচক সর্বনামের উদাহরণ। 

• সর্বনাম পদ:
- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলো মূলত নয়টি ভাগে বিভক্ত করা যায়: 
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম, যেমন—স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনাম- নিকট নির্দেশক (এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি) এবং দূর নির্দেশক (ও, ওই, ওরা, উনি)। 
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন। 
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম- কে, কারা, কাকে, কার, কী। 
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন। 
৭. পারস্পারিক সর্বনাম- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা। 
৮. সকল বা সাকুল্যবাচক সর্বনাম- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত। 
৯. অন্যবাচক সর্বনাম- অন্য, অপর, পর, অমুক। এছাড়া সংযোগজ্ঞাপক সর্বনামও আছে, যেমন—যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ);
বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
“রুবেল ভদ্র ছেলে।”- এখানে ‘ভদ্র’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. সর্বনামের বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• “রুবেল ভদ্র ছেলে”- এখানে ‘ভদ্র’ শব্দটি ‘রুবেল’ ও ‘ছেলে’ - উভয়েরই গুণ প্রকাশ করছে। 
- বাক্যে ‘ছেলে’ হচ্ছে বিশেষ্য এবং ‘ভদ্র’ তার গুণ নির্দেশ করছে।
- যে বিশেষণ বিশেষ্যের গুণ প্রকাশ করে, তাকে বিশেষ্যের বিশেষণ বলে।
- তাই “রুবেল ভদ্র ছেলে।”- এখানে ‘ভদ্র’ বিশেষ্যের বিশেষণ। 
-------------------------------------------
বিশেষণ:
- বিশেষণ হলো সেই পদ যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
- যেমন:
- মেধাবী ছেলে (গুণ);
- নীল আকাশ (অবস্থা/রং);
- সুন্দর মেয়ে (গুণ);
- দ্রুত হাঁট (ক্রিয়া);
- তিন/চার (সংখ্যা)।

• বিশেষণ দুই প্রকার:
১. নাম বিশেষণ- বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে, যেমন- 'সুন্দর ফুল' বা 'রূপবান ছেলে'।
২. ভাব বিশেষণ- বিশেষ্য বা সর্বনাম ছাড়া অন্য পদ, যেমন ক্রিয়া বা পুরো বাক্যকে বিশেষিত করে, যেমন- 'আস্তে হাঁটো' বা 'খুব ভালো।

• নামবিশেষণ আবার দুই ভাগে বিভক্ত:
- বিশেষ্যের বিশেষণ: যা বিশেষ্যের গুণ নির্দেশ করে (যেমন—ভদ্র ছেলে)।
- সর্বনামের বিশেষণ: যা সর্বনামের গুণ নির্দেশ করে (যেমন—ওই তুমি, এই আমি)।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 

.
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. উদ্যান 
  2. শুনানি 
  3. বোমারু
  4. ছটফটানি 
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
-
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় হলো সেইসব প্রত্যয় যা ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- এই নতুন শব্দকে কৃদন্ত পদ বলা হয়, যা সাধারণত বিশেষ্য বা বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।
- অর্থাৎ, সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় হলো ধাতুর শেষে যোগ করা কিছু বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যা নতুন শব্দ বা কৃদন্ত পদ গঠন করে।
- উদ্যান- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। 
- 'উদ্যান'- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- √যা+অন = উদ্যান।
- এখানে, প্রকৃতি: √যা;
- প্রত্যয়: -অন (সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়)। 

• 'অন' প্রত্যয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ:
- √যা+অন = উদ্যান। 
- √নী+অন = নয়ন।
- √ভূ+অন = ভুবন। 
- √নৃত+অন = নর্তন।
- √দৃশ্+অন = দর্শন।

অন্যদিকে, 
• 'শুনানি' ও 'ছটফটানি' হচ্ছে- 'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত বাংলা কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• 'বোমারু' শব্দে 'বোমা' (বিশেষ্য) পদের সাথে আরু তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। 

উৎস:
বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০.
উপসর্গযোগে গঠিত হয় কোন সমাস?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস 
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস 
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থাকে আর পরপদে বিশেষ্য থাকে।
- অর্থাৎ, পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- আ, হা, উপ, উৎ, অনু, গর, প্রতি, ইত্যাদি উপসর্গ ও ‘যথা’ এই অব্যয়গুলো শুরুতে থাকলে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
- যেমন: অনুগমন, প্রতিবাদ, উপগ্রহ, নিরামিষ, উদ্বেল ইত্যাদি।
- অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যয়ের অর্থযোগেই ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। 
- অব্যয়ীভাব সমাসের কিছু উদাহরণ-
• শহরের সদৃশ = উপশহর;
• জীবন পর্যন্ত = আজীবন;
• বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
• ঈষৎ নত = আনত;
• অন্য মত = মতান্তর;
• আমিষের অভাব = নিরামিষ;
• সমুদ্র পর্যন্ত = আসমুদ্র;
• মূল পর্যন্ত = আমূল;
• পাদ (পা) থেকে মস্তক পর্যন্ত = আপাদমস্তক;
• শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
• আদি থেকে অস্ত পর্যন্ত = আদ্যন্ত;
• কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ।
• মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
• জেলার সদৃশ = উপজেলা। 

অন্যদিকে, 
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি হলো সেই সব বহুব্রীহি সমাস, যেগুলোকে ব্যাকরণের সাধারণ বা নির্দিষ্ট নিয়ম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। 
- যেমন: 
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ;
- অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ। 

• কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যেমন: 
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা;
- ইন্দ্রকে জয় করে যে = ইন্দ্রজিৎ। 

• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের শেষে- আ, এ, ও এই তিনটি প্রত্যয় থাকবে।
- যেমন: একচোখা, ঘরমুখো ইত্যাদি। 

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১.
নিচের কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ? 
  1. সচ্চরিত্র 
  2. উজ্জ্বল 
  3. চলচ্চিত্র 
  4. সদানন্দ
ব্যাখ্যা

স্বরসন্ধি:
- দুটি শব্দের মধ্যে প্রথম শব্দের শেষ স্বর এবং দ্বিতীয় শব্দের প্রথম স্বর মিলিত হয়ে একটি নতুন স্বরধ্বনি তৈরি করে।
- সদানন্দ = সদা + আনন্দ- স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• স্বরসন্ধির কিছু নিয়ম ও উদাহরণ:
• অ + অ = আ।
- উদাহরণ:
- নর + অধম = নরাধম,
- উত্তরাধিকার = উত্তর + অধিকা্‌
- হিমাচল = হিম + অচল,
- প্রাণাধিক = প্রাণ + অধিক, ইত্যাদি।

• অ + আ = আ।
- উদাহরণ:
- হিমালয়: হিম + আলয় = হিমালয়,
- দেবালয়: দেব + আলয় = দেবা লয়,
- রত্ন + আকর = রত্নাকর,
- সিংহাসন = সিংহ + আসন, ইত্যাদি।

• আ + অ = আ।
- উদাহরণ:
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- আশাতীত =আশা + অতীত,
- কথামৃত = কথা + অমৃত,
- মহার্ঘ = মহা + অর্ঘ, ইত্যাদি।

• আ + আ = আ।
- উদাহরণ:
- সদানন্দ = সদা + আনন্দ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কারাগার = কারা + আগার,
- মহাশয় =মহা + আশয়, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- সচ্চরিত্র = সৎ+ চরিত্র, উজ্জ্বল = উৎ + জল, এবং চলচ্চিত্র = চলৎ + চিত্র- ব্যঞ্জন ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ; 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২.
নিচের কোনটি শব্দ বিভক্তির মতো কাজ করে?
  1. ধাতু 
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয়গুলো কখনো স্বাধীন পদ হিসেবে এবং কখনো বাক্যে শব্দ বিভক্তির মতো ব্যবহার হয়ে অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বলা হয়।
- অনুসর্গের অপর নাম- বা কর্মপ্রবচনীয়।
- অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
• সাধারণ অনুসর্গ ও
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
- এই অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে আসে;
- আবার কখনো ‘কে’ বা ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
- যেমন:
- “দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?” (প্রাতিপদিকের পরে)।
- "সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে" (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।
- “তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব” (দ্বিতীয়ার ‘কে’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ রয়েছে, যেমন:
- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত, অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া/দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে/হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া/দিয়ে, কর্তৃক, হইতে/হতে, চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি অনুসর্গ সাধারণত বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
নিচের কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. নদী বহে। 
  2. আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম।
  3. জাদুকর জাদু দেখায়।
  4. বাতাস হু-হু করে বইছে। 
ব্যাখ্যা

জাদুকর জাদু দেখায়- প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

প্রযোজক ক্রিয়া:
- প্রযোজক ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়া যা একজনের প্রযোজনায় বা চালনায় অন্য কর্তৃক সম্পন্ন হয়।
- সংস্কৃত ব্যাকরণে এই ক্রিয়াকে ণিজন্ত ক্রিয়াও বলা হয়।
- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে ‘জাদু দেখায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।
- কারণ জাদুকর নিজে জাদু হয় না, বরং দর্শককে জাদু দেখায়।
- প্রযোজক কর্তা হলো যে ব্যক্তি ক্রিয়াটি প্রযোজনা করছে।
- আর প্রযোজ্য কর্তা হলো যার মাধ্যমে ক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে।
- উদাহরণস্বরূপ- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে-
- প্রযোজক কর্তা: জাদুকর;
- প্রযোজ্য কর্তা: দর্শককে (অপ্রকাশিত/উহ্য);
- প্রযোজক ক্রিয়া: জাদু দেখায়। 
--------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• নদী বহে- অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

• 'আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম'- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ। 
- মিশ্র ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া যা বিশেষ্য, বিশেষণ অথবা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ‘কর’, ‘হ’, ‘দে’, ‘পা’, ‘গাও’, ‘কাট্’ প্রভৃতি ধাতু বা মূল ক্রিয়ার সংযোগে সৃষ্টি হয়।

• বাতাস হু-হু করে বইছে- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- যৌগিক ক্রিয়া বলতে সেই ক্রিয়াকে বোঝায়, যা একটি অসমাপিকা ক্রিয়া এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়ার মিলনে গঠিত হয় এবং একসঙ্গে একটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪.
একটি সার্থক বাক্য যোগ্যতা হারায় কোন কারণে?
  1. রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার অভাবে
  2. অসম্পূর্ণ ভাব
  3. অলংকারহীনতা
  4. কর্তার অনুপস্থিতি
ব্যাখ্যা

সার্থক বাক্য:
- যে বাক্য শুনে বা পড়ে একটি সম্পূর্ণ অর্থ বা ভাব বোঝা যায়, তাকে সার্থক বাক্য বলে।
- সার্থক বাক্যের যোগ্যতা হারানোর ৬টি কারণ উল্লেখ করা হলো:
১️. রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার অভাব:
- রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার অভাবে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।
- যেমন- গবেষণা মানে হচ্ছে অনুসন্ধান।
- আর গবেষণা = গো + এষনা- এর অর্থ গরু খোঁজা।
- এখন গরু খোঁজা আর অনুসন্ধান এক জিনিস না।
- কেউ যদি অনুসন্ধান করতে গিয়ে গরু খোঁজে তাহলে রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার কারণে বাক্য তার যোগ্যতা হারাবে।

২️. বাহুল্য দোষ:
- বাহুল্য দোষ হলো বাক্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ বা একই অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা।
- উদাহরণস্বরূপ, "সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত", এতে বাহুল্য দোষ রয়েছে, কারণ "সকল" এবং "আলেমগণ" একই অর্থ প্রকাশ করে।

৩️. গুরুচণ্ডালী দোষ:
- সাধু ও চলিত ভাষাকে একসাথে ব্যবহার করে বাক্যের স্বাভাবিকতা নষ্ট করাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। 
- এর উদাহরণ- তিনি বড় বজ্জাত ভদ্রলোক।
- ‘তিনি বড় বজ্জাত ভদ্রলোক’- বাক্যটিতে ‘বজ্জাত’ (চলিত ভাষা) আর ‘ভদ্রলোক’ (সাধুভাষা) একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে।
- এখানে সাধু ও চলিত ভাষার অপ্রয়োজনীয় মিশ্রণ ঘটেছে, তাই বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষযুক্ত হয়েছে। 

৪️. উপমার ভুল প্রয়োগ:
- উপমার ভুল প্রয়োগের উদাহরণ "সে পাথরের মতো শক্ত।"
- এখানে "পাথর" একটি জড়বস্তু, আর "সে" একজন ব্যক্তি।
- যেহেতু তাদের মধ্যে তুলনাটি সঠিক নয়, তাই এটি উপমার ভুল প্রয়োগ। 

৫️. বাগধারার ভুল প্রয়োগ:
- বাগধারার ভুল প্রয়োগের উদাহরণ: অকাল কুষ্মাণ্ড (অপদার্থ) বলতে কোনো অপদার্থ ব্যক্তিকে বোঝানো উচিত।
- কিন্তু যদি বলা হয় "কুষ্মাণ্ডগুলো পেকেছে" তবে তা ভুল হবে কারণ এখানে আভিধানিক অর্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।  
- এখানে বাগধারা আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা অর্থবিকৃতি ঘটায়।

৬. দুর্বোধ্যতা:
- "তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছ" এই বাক্যটি দুর্বোধ্য কারণ 'প্রপঞ্চ' শব্দটি চাতুরি অর্থে ব্যবহৃত হলেও এটি বর্তমানে অপ্রচলিত।
- 'প্রতারণা' শব্দের বদলে 'প্রপঞ্চ' ব্যবহার করলে বাক্যটি দুর্বোধ্য হয়ে যায়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা — সৌমিত্র শেখর;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

১৫.
নিচের কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ? 
  1. বিরানব্বই
  2. অনুতাপ
  3. চাহিবামাত্র 
  4. অন্তরীপ 
ব্যাখ্যা

• প্রাদি সমাস:
- প্রাদি সমাস হলো এমন একটি সমাস, যেখানে প্র, প্রতি, অনু, পরি ইত্যাদি অব্যয় শব্দ আগে বসে এবং পরে একটি বিশেষ্য পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- মূলত অব্যয় শব্দের অর্থের প্রভাবেই এই নতুন শব্দটির অর্থ গড়ে ওঠে।
- সহজভাবে বলা যায় যে, যখন প্র/অনু/পরি অব্যয়গুলো কোনো বিশেষ্য শব্দের আগে বসে তার অর্থ পরিবর্তন বা বিস্তৃত করে, তখন সেই সমাসকে প্রাদি সমাস বলা হয়।
- কিছু প্রাদি সমাসের উদাহরণ হলো-
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত,
- প্র (উন্নতি) যে গতি = প্রগতি। 

অন্যদিকে,
- 'বিরানব্বই' ও 'চাহিবামাত্র' হলো- নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- ‘অন্তরীপ' হচ্ছে নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬.
ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-  
  1. জেলখানা
  2. সুদখোর
  3. ধোঁকাবাজ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

তদ্ধিত প্রত্যয়: 
- শব্দমূল বা নাম প্রকৃতির সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- তদ্ধিত প্রত্যয় মূলত তিন প্রকার—
১. সংস্কৃত তদ্ধিত,
২. বাংলা তদ্ধিত,
৩. বিদেশি তদ্ধিত।
-----------------------------
• ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়- বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।
- ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো সেইসব প্রত্যয়, যা ফারসি বা আরবি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে।
- এই প্রত্যয় সাধারণত নামবাচক বা বিশেষ্য পদ গঠনে ব্যবহৃত হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি, স্থানের নাম বা বৈশিষ্ট্যসূচক অর্থও প্রকাশ করে।
- জেলখানা, সুদখোর, ধোঁকাবাজ- ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।  

- কিছু ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
• আফগানিস্তান,
• পাকিস্তান,
• হিন্দুস্থান,
• কারখানা,
• ছাপাখানা,
• চিড়িয়াখানা,
• বালাখানা,
• চালবাজ,
• মামলাবাজ,
• গাঁজাখোর,
• নেশাখোর,
• চশমখোর,
• সওদাগর,
• বাজিকর,
• নজরবন্দি, 
• বাক্সবন্দি,
• জবানবন্দি,
• কেমনতর,
• এমনতর, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৭.
কোনটি কালজ্ঞাপক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. ঠিকভাবে  চললে কেউ কিছু বলবে না।
  2. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  3. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  4. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যাখ্যা

আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।- কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ। 

কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ- ক্রিয়াবিশেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন, যা ক্রিয়ার সময় বা কাল নির্দেশ করে।
- সময় বা কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলতে সেই ক্রিয়াবিশেষণকে বোঝায়, যার মাধ্যমে কোনো কাজ কখন বা কত সময়ে সংঘটিত হচ্ছে—তা জানা যায়।
- যেমন:
• “সেদিন তুমি এলে না।”
•“অনেকক্ষণ ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।”
•“আজ যখন সে আসবে, তখন তাকে বুঝিয়ে দিয়ো।”
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- ক্রিয়াকে ‘কখন’ বা ‘কতক্ষণ’ প্রশ্ন করলে যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ উত্তর হিসেবে পাওয়া যায়, সেটিই সময় বা কালজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ।

উদাহরণস্বরূপ- 
• আগামীকাল বৃষ্টি হবে (কখন বৃষ্টি হবে?)।
• সে দুপুরে আসবে (কখন আসবে?)।
• আমরা মাঝে মাঝে এখানে আসি (কখন আসি?)।
• তাড়াতাড়ি যাও (তাড়াতাড়ি = কখন?)।
• কাল সে আসেনি (কাল = কখন?)।
• শীঘ্রই সে ফিরে আসবে (শীঘ্রই = কখন?)।
• সবসময় সে পড়াশোনা করে (সবসময় = কখন?)।
----------------------------------------------------------------------
অন্যদিকে, 
- ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে। 
• টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে ও ঠিকভাবে  চললে কেউ কিছু বলবে না- ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ। 

• তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না- স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ।
- স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৮.
“যাকগে, ওসব কথা মনে রেখোনা।” – কোন ধরনের আবেগ?
  1. প্রশংসা
  2. আতঙ্ক
  3. করুণা
  4. আলংকারিক
ব্যাখ্যা

• “যাকগে, ওসব কথা মনে রেখোনা।” – আলংকারিক আবেগ। 

• আলংকারিক আবেগ:

- যে শব্দের সাহায্যে বক্তার মনের নানা ভাব বা আবেগ প্রকাশ পায় তাকে আবেগ—শব্দ বলে।
- প্রচলিত ব্যাকরণে এগুলোকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। 
- ৮ প্রকার আবেগ শব্দের মধ্যে আলংকারিক আবেগ একটি।
- যে আবেগ-শব্দ দ্বারা বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশ পায় তাকে আলংকারিক আবেগ বলে।
- যেমন:
- দূর, এমন কথা কি বলতে আছে?
- দুর পাগল! তোকে তো কিছুই বলিনি। 
- মাগো মা! লোকে এমন হাসাতেও পারে!
- যাকগে যাক, ওসব ভেবে লাভ নেই।
- যাকগে, ওসব কথা থাক।
---------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• প্রশংসা আবেগ:
- এই ধরনের শব্দ বা অভিব্যক্তি বাক্যে প্রশংসা বা প্রণোদনার মনোভাব প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: বাহ! সত্যিই দারুণ ছবি আঁকছ।

• আতঙ্ক আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, ভয় বা চাঞ্চল্য প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: ওহ না! কীভাবে এমন হলো!

• করুণা আবেগ:
- এই ধরনের শব্দ করুণা, দয়া বা সহানুভূতি প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: আহা! ছেলেটির কত দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০২৪ সংস্করণ)।

১৯.
কোন বাক্যে ‘উৎকর্ষতা’ শব্দটি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1.  শিক্ষার উৎকর্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে
  2. শিক্ষার উৎকৃষ্ট বৃদ্ধি করতে হবে
  3. শিক্ষার উৎকৃষ্টতা বৃদ্ধি করতে হবে
  4. কোনোটি নয় 
ব্যাখ্যা

শিক্ষার উৎকৃষ্টতা বৃদ্ধি করতে হবে- এই বাক্যে ‘উৎকর্ষতা’ শব্দ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• নিয়ম:
-  বাংলা ভাষায় কিছু প্রত্যয় (যেমন: ই, তা, ত্ব) মূলত বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কিন্তু যদি এগুলো ইতিমধ্যেই বিশেষ্য হিসেবে থাকা শব্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তা অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ হয়।
- যেমন- 
- বিশেষণ + 'ই' → সঠিক, যেমন: 'ভালো + 'ই' → ভালোই বলতে শুধু ভালো বুঝায়। 
- বিশেষ্য + 'তা' → অশুদ্ধ, যেমন: 'উৎকর্ষতা' → এখানে বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ হয়েছে, তাই 'তা' প্রত্যয়টি অপপ্রয়োগ। 
- আবার, বিশেষণ + 'তা'→ সঠিক, যেমন: উৎকৃষ্ট + 'তা'→ এখানে 'তা' প্রত্যয়টি বিশেষণের সাথে যুক্ত হয়ে বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করেছে।
- তাই, উৎকর্ষতা’ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।
- এবং সঠিক বাক্যটি হবে-  শিক্ষার উৎকৃষ্টতা বৃদ্ধি করতে হবে। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০.
কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ নয়? 
  1. গ্রামান্তর 
  2. দেশান্তর 
  3. তেপান্তর 
  4. গৃহান্তর 
ব্যাখ্যা

তেপান্তর নিত্য সমাসের উদাহরণ নয়। 

• দ্বিগু সমাস: 
- যদি কোন সমাসে পূর্বপদে সংখ্যাবাচক শব্দ থাকে আর পরপদ বিশেষ্য হয় এবং পদটি কোনো সংখ্যা বা সমাহার বুঝায়, তাহলে সেই সমাসকে দ্বিগু সমাস বলে।
- তেপান্তর দ্বিগু সমাসের উদাহরণ।
- তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার। 
- “তিন” → সংখ্যাবাচক শব্দ;
- “প্রান্তর” → বিশেষ্য।
- এখানে সংখ্যাবাচক পূর্বপদের সঙ্গে পরপদে বিশেষ্য যুক্ত হয়ে তিনটি প্রান্তের সমাহার বুঝানো হয়েছে;
- তাই তেপান্তর নিত্য সমাস না হয়ে দ্বিগু সমাস হয়েছে।
----------------------------------
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয়না তাকে নিত্য সমাস বলে। 
নিত্য সমাসের উদাহরণ-
- অন্য দেশ = দেশান্তর;
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর;
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র;
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর;
- অন্য রূপ = রুপান্তর। 
- আরও কিছু নিত্যসমাস এর উদাহরণ হচ্ছে- বিরানব্বই, কালসাপ, চাহিবামাত্র, কেবলমাত্র ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
কোনটি অপাদান কারকের উদাহরণ? 
  1. এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই।
  2. ফারুক ফুটবল খেলে।
  3. তিলে তৈল আছে।
  4. বনে সিংহ আছে। 
ব্যাখ্যা

- এখানে ‘কুকুরের’ শব্দটি অপাদান কারক নির্দেশ করছে এবং এটি ষষ্ঠী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তাই হলো অপাদান কারক।
• বাক্য: ‘এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই'। 
- এখানে ‘কুকুরের’ শব্দটি অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। 
-  এখানে কুকুরের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে;
- অর্থাৎ ভয় পাওয়ার উৎস বা হেতু বোঝানো হচ্ছে।
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন ‘এর’ ব্যাবহার করা হয়েছে।
- তাই ‘এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই’ বাক্যটিতে 'কুকুরের' হচ্ছে অপাদানে ষষ্ঠী বিভক্তি।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• ‘ফারুক ফুটবল খেলে’ প্রশ্নে ‘ফারুক’ কর্তাকারকে শুন্য বিভক্তি।
• 'তিলে তৈল আছে'- অভিব্যাপক আধারাধিকরণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।
• ‘বনে সিংহ আছে।’-এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি 'এ'  বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২২.
মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল ছন্দের কোন স্থানে থাকে? 
  1. শেষে
  2. শুরুতে
  3. মাঝখানে
  4. সব স্থানে
ব্যাখ্যা

মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল সাধারণত ছন্দের শুরুতে থাকে।

• মুক্তাক্ষর:
- অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। 
- একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- মুক্তাক্ষর বা মুক্তদল হলো ছন্দের সেই অংশ যা বাক্যের মূল ছন্দের বাইরে থাকে।
- এটি সাধারণত বাক্যের শুরুতে অবস্থান করে।
- মুক্তদল ছন্দের মূল অংশের (বদ্ধাক্ষরের) আগে আসে।
- মুক্তাক্ষরের মাত্রা সাধারণত এক মাত্রা।
- মুক্তাক্ষর হলো ছন্দের সূচনাকারী একমাত্রা। 
- এটি ছন্দের বাকি অংশের সঙ্গে মিলিয়ে বাক্যের গতি ও ছন্দ নির্ধারণে সহায়তা করে।
- যখন মূল বদ্ধাক্ষর (ছন্দের প্রধান অংশ) শুরু হয়, তখন মুক্তাক্ষরের উপস্থিতি বাকি ছন্দের জন্য প্রারম্ভিক তাল ও সমন্বয় তৈরি করে।
- ফলে পুরো বাক্যের ছন্দ এবং গতি সুষম ও স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হয়।
- মুক্তাক্ষর অংশের ব্যবহার- ছন্দকে স্বতন্ত্র ও প্রাথমিক রূপ প্রদান করে, যাতে মূল ছন্দের প্রবাহ সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ, “কবির কণ্ঠে হে বন্ধু বাজে সুর”–এখানে "হে বন্ধু" অংশটি শুরুতে মুক্তদল হিসেবে বসে, যা বাক্যের বাকি ছন্দকে সুন্দরভাবে সূচনা দেয়।

উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

২৩.
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন-  
  1. দাঁড়ি
  2. প্রশ্নচিহ্ন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিরামচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট ও ঠিকভাবে প্রকাশ করতে বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- মুখের কথা লিখিত রূপে উপস্থাপন করার সময় কম-বেশি থামা বা বিরতি বোঝাতে এবং বক্তব্যকে পরিষ্কার করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
- বিরামচিহ্নকে কখনও যতিচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
- বাক্যের মধ্যে অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিরামচিহ্ন দুই ভাগে ভাগ করা যায়—
১. প্রান্তিক বিরামচিহ্ন;
২. বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- এ ধরনের চিহ্ন সাধারণত বাক্যের শেষে বসে।
- যেমন—দাঁড়ি (।), প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?), বিস্ময়বোধক চিহ্ন (!)।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের মাঝে বা বাক্যের অন্যান্য স্থানে বসে।
- যেমন—কমা (,), কোলন (:), সেমিকোলন (;), ড্যাশ (—), হাইফেন (-) ইত্যাদি।
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের গঠন ও অর্থের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

২৪.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. দ্যুলোক
  2. গবাক্ষ
  3. কুলটা
  4. স্বৈর 
ব্যাখ্যা

দ্যুলোক = দিব্‌ + লোক- নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি হলো সেই ধরনের ব্যঞ্জনসন্ধি যা সাধারণ ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসরণ করে না।
- এগুলি বিশেষ নিয়ম বা ব্যতিক্রম অনুসারে গঠিত হয়।
- সাধারণত এই ধরনের সন্ধি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ থেকে আসে এবং এগুলির জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।

• কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ:
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি;
- ষোড়শ = ষট্ + দশ;
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি;
- পহরিশ্চন্দ্র = হরি + চন্দ্র;
- তস্কর = তৎ + কর;
- আশ্চর্য = আ + চর্য;
- আস্পদ = আ + পদ;
- বিশ্বামিত্র = বিশ্ব+ মিত্র;
- গোষ্পদ = গো + পদ;
- দ্যুলোক = দিব্‌ + লোক;
- পশ্চার্ধ = পশ্চাৎ + অর্ধ;
- দ্যুমণি = দিক্ + মণি;
- একাদশ = এক + দশ;
- ব্রাগেশ্বরী = বাক্ + ঈশ্বরী।

অন্যদিকে, 
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ, কুলটা = কুল + অটা, স্বৈর = স্ব +ঈর- নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৫.
রূপতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত কোন শব্দাংশের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকা আছে? 
  1. অনুসর্গ 
  2. প্রকৃতি ও প্রত্যয় 
  3. উপসর্গ 
  4. সমাস 
ব্যাখ্যা

উপসর্গ:
- উপসর্গ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- ব্যাকরণে কিছু শব্দাংশ ব্যবহৃত হয়, যাদের নিজস্ব অর্থ নেই।
- তবে এই শব্দাংশগুলির অর্থদ্যোতকতা থাকে।
- অর্থাৎ, এগুলি অন্য শব্দের আগে বসলে মূল শব্দের অর্থকে সংকুচিত, প্রসারিত, পরিবর্ধিত বা পরিবর্তিত করতে পারে।
- এই অর্থবিহীন শব্দাংশগুলোকে উপসর্গ বলা হয়।
- মূলত বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর বা শব্দের আগে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবহ শব্দ তৈরি করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলা হয়।
- উপসর্গ হলো কতগুলো বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি।
- উপসর্গ নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই, কিন্তু নতুন নতুন শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- বাংলা ভাষায় প্রধানত তিন ধরনের উপসর্গ ব্যবহার হয়:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ – সংস্কৃত থেকে আগত;
- বাংলা উপসর্গ;
- বিদেশি উপসর্গ – অন্যান্য বিদেশি ভাষা থেকে নেওয়া।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াত মামুদ।

২৬.
কোন শব্দটির লিঙ্গান্তর হয় না?  
  1. কর্মচারী 
  2. ঢাকী 
  3. মহকুমা 
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• লিঙ্গান্তর:
- যেসব শব্দে পুরুষ বা স্ত্রীবাচক কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না, বরং পুরুষ ও নারী উভয়কে বোঝায়, অথবা যা জড় পদার্থ বা ধারণা নির্দেশ করে, তাদের লিঙ্গান্তর হয় না।
- এগুলো নিত্য উভয়লিঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
- এর মধ্যে রয়েছে এমন পেশা, পদবী, সাধারণ নাম বা জড় বস্তু যা পুরুষ ও নারী উভয়েই বোঝাতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, কর্মচারী, ঢাকী, মহকুমা- একটি পেশা বা পদ যা নারী ও পুরুষ উভয়ই পালন করতে পারে। 
- প্রথাগত ব্যাকরণে এর কোনো আলাদা স্ত্রীবাচক রূপ নেই, তাই এটি নিত্য উভয়লিঙ্গ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- লিঙ্গান্তরহীন কিছু নির্দিষ্ট পদবী ও সম্পর্ক নিম্মরুপ, যেমন:
• কবিরাজ, যোদ্ধা,  ডাক্তার, শিক্ষক, পুলিশ, মন্ত্রী, কবি, শিল্পী, বিচারপতি, মহকুমা, শাসক, কর্মচারী, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার, পুরোহিত, কেরানি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকার, পীর, দরবেশ, মওলানা, সেনাপতি, দলপতি, জ্বীন, জামাতা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
• কিছু অপ্রাণীবাচক বা জড় বস্তুবাচক বিশেষ্যও লিঙ্গান্তরহীন,যেমন- 
- দেশ, নদী, পর্বত, সূর্য, চাঁদ, বই, কলম, টেবিল, চেয়ার, আকাশ, বাতাস, জল, খাদ্য, ফল, ফুল, গাছ, বাড়ি, শহর, গ্রাম।
• একইভাবে, অব্যয় (যেমন: আর, ও, এবং, কিন্তু, যদি, তবে, সুতরাং, অতএব, নিচে, উপরে, কাছে, দূরে);
- এবং সর্বনাম (আমি, তুমি, সে, তিনি, যিনি, যে, যা, এরা, ওরা) ও লিঙ্গহীন।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ);
বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
নিচের কোন বাক্যটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?  
  1. এই বিষয় প্রমাণ হয়েছে। 
  2. সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
  3. তোমার সাথে আমার একটি গোপন পরামর্শ আছে।
  4. এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে।
ব্যাখ্যা

এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে- বাক্যটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে। 

শুদ্ধ প্রয়োগ:
- ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের অর্থ হলো বিশ্বাস বা প্রত্যয় সৃষ্টি করা।
- ‘প্রত্যয়ন’ শব্দের অর্থ হলো প্রত্যয়করণ বা প্রত্যয়িত করা।
- তাই, “এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে” বাক্যটি সঠিক।
- কারণ এর মানে হচ্ছে- কোনো বিষয় সম্পর্কে বিশ্বাস বা প্রত্যয় উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
- অপরদিকে, “এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে” বাক্যে ‘করা’ শব্দটি দ্বিগুণ ব্যবহার হয়েছে, যা ব্যাকরণগতভাবে অনুচিত।
- অতএব, সঠিক ও উপযুক্ত রূপ হলো “এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে”।

অন্যদিকে,
• “তোমার সাথে আমার একটি গোপন পরামর্শ আছে” বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
- কারণ ‘গোপন’ একটি বিশেষণ, যা সরাসরি ‘পরামর্শ’ বিশেষ্যটির সঙ্গে ব্যবহার করলে অপপ্রয়োগ ঘটে।
- সঠিক রূপ হলো- “তোমার সাথে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে”।
- এখানে বিশেষ্য 'পরামর্শ'-এর সঙ্গে বিশেষণীয় রূপ 'গোপনীয়' ব্যবহার করা হয়েছে । 

• “সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি” বাক্যটিও ভুল।
- কারণ ‘সবিনয়’ এবং ‘পূর্বক’ এক অর্থ বহন করে।
- দুটো একসাথে ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ হয়।
- সঠিক রূপ হবে- “বিনয়পূর্বক নিবেদন করি”। 

• “এই বিষয় প্রমাণ হয়েছে” বাক্যটি ভুল।
- কারণ ‘প্রমাণ’ একটি বিশেষ্য, কিন্তু এখানে ‘প্রমাণ হওয়া’ বলে ক্রিয়ার অর্থ বোঝানো হয়েছে।
- এটি বাক্যের গঠন ও পদবিন্যাসের ভুল।
- শুদ্ধ রূপ হলো- “এই বিষয় প্রমাণিত হয়েছে”।
- এখানে ‘প্রমাণিত’ একটি বিশেষণ বা কৃদন্ত পদ হিসেবে ‘এই বিষয়’-কে বিশেষায়িত করছে। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

২৮.
কোনটি তৎসম শব্দের উদাহরণ?
  1. মাণিক্য
  2. জোছনা
  3. দুধ
  4. জলপাই 
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দ:
- তৎসম শব্দ হলো সেই সব সংস্কৃত শব্দ যা কোনো পরিবর্তন বা রূপান্তর ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে।
- 'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম) [এখানে 'তার' অর্থ সংস্কৃতের]।

তৎসম শব্দের ব্যবহার
- সাধারণত ণ-যুক্ত শব্দ তৎসম হয়, যেমন—চাণক্য, মাণিক্য, গণ, লবণ, মণ।
- ষ-যুক্ত শব্দও সাধারণত তৎসম হয়, যেমন—আষাঢ়, কৃষ্ণ, বিষ্ণু, মানুষ, পাষাণ, ভাষা।
- স্ব-যুক্ত শব্দ যেমন—স্বণ, স্বর্গ ইত্যাদি তৎসম হিসেবে গণ্য হয়।
- এছাড়া, সংস্কৃত উপসর্গ বা প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দ যেমন—প্রতিবাদ, অভিযোগ, কর্তব্য, করণীয়- তৎসম শব্দ হয়।
- সনাতন ধর্ম সংক্রান্ত শব্দ যেমন—ব্রাহ্মণ, দেবতা, দেবী, মন্দির, পুজা, সরস্বতী- তৎসম শব্দের অন্তর্ভুক্ত।
- ভূ-মণ্ডল সংক্রান্ত শব্দ যেমন—চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র- তৎসম হিসেবে পরিগণিত হয়। 
- এছাড়া, দিক নির্দেশক শব্দ যেমন—উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ, পশ্চিম, ঈশান, নৈঋতও সাধারণত তৎসম শব্দ হিসেবে ধরা হয়।

অন্যদিকে, 
- জ্যোৎস্না> জোছনা = অর্ধতৎসম শব্দ।
- দুগ্ধ > দুদ্ধ> দুধ = তদ্ভব শব্দ। 
- জলপাই দেশি ভাষার শব্দ। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ;
আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

২৯.
নিচের কোন বাক্যে বিধেয় বিশেষণ ভুলভাবে ব্যবহার হয়েছে? 
  1. মেয়েটি সুন্দরী 
  2. বালিকাটি অস্থির
  3. মেয়েটি দুষ্টু 
  4. সুন্দর মেয়ে  
ব্যাখ্যা

- মেয়েটি সুন্দরী-বাক্যে বিধেয় বিশেষণ ভুলভাবে ব্যবহার হয়েছে। 

বিধেয় বিশেষণ:
- বিশেষণ হলো সেই পদ যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
- বাক্যে বিশেষণের অবস্থান অনুযায়ী বিশেষণ দুই প্রকার-
১. সাক্ষাৎ বিশেষণ:
- যে বিশেষণ বিশেষিত শব্দের আগে বসে, তাকে সাক্ষাৎ বিশেষণ বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ: লাল ফুল, বিশাল পাহাড়, গভীর নদী, সবুজ চারা।

২. বিধেয় বিশেষণ:
- যে বিশেষণ বাক্যে শেষ অংশে (বিধেয় অংশে) বসে, তাকে বিধেয় বিশেষণ বলা হয়।
- বিধেয় বিশেষণ বিশেষ্যের পরে বসে এবং এর পর আর কোনো বিশেষ্য থাকে না।
- উদাহরণস্বরূপ: ছেলেটি সাহসী, বালিকাটি ধৈর্যশীল, পুকুরের পানি স্বচ্ছ।
- বিধেয় বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না, পুরুষবাচক হয়।
- যেমন:
- মেয়েটি সুন্দর;
- নারীটি কৃতজ্ঞ;
- মেয়েটি বিদ্বান;
- বালিকাটি অস্থির।

- বিধেয় বিশেষণে মেয়েটি সুন্দরী বলা যাবেনা।
- বলতে হবে- মেয়েটি সুন্দর। 
- কারণ, বিধেয় বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না, পুরুষবাচক হয়।

- বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দের বিশেষণও সাধারণত পুরুষবাচক রূপে থাকে।
- যেমন:
- সুন্দর বলদ;
- সুন্দর গাই;
- সুন্দর ছেলে;
- সুন্দর মেয়ে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

৩০.
'পুনরুত্থান'-এর সন্ধিবিচ্ছেদ-   
  1. পুণ+ উত্থান
  2. পূণঃ + উত্থান
  3. পুণঃ + উত্থান
  4. পুনঃ + উত্থান  
ব্যাখ্যা

'পুনরুত্থান'-এর সন্ধিবিচ্ছেদ- পুনঃ + উত্থান।

• বিসর্গসন্ধি:
- 'পুনরুত্থান' ‘র্’-জাত বিসর্গসন্ধির উদাহরণ। 
- বিসর্গসন্ধি হলো এমন একটি সন্ধি যেখানে শব্দের শেষে থাকা বিসর্গ পরবর্তী স্বর বা ব্যঞ্জনের সঙ্গে মিলিত হয়ে উচ্চারণের সুবিধার্থে রূপ বদলায়।
- অনেক ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায়, কখনও ‘র্’ বা ‘স্’-জাত বিসর্গে রূপান্তরিত হয়, আবার কোথাও ‘ও’-কারে বা দীর্ঘ স্বরে পরিবর্তিত হয়।

• ‘র্’-জাত বিসর্গসন্ধি:
- শব্দের শেষে থাকা র্ → বিসর্গ হয়ে পরবর্তী স্বরের সঙ্গে মিললে আবার র ধ্বনিতে ফিরে আসে।
- উদাহরণ:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ।
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ।
- পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান।
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।