পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৭ টপিক: রিভিশন (পরীক্ষা – ৫ ও ৬) [Live Class 7 to 11]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশর দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের উপকূল বা তটরেখার রেখার দৈর্ঘ্য?
  1. ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. ৭১৬ কিলোমিটার
  3. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৫৪ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪′ উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশের স্থলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।
- এ দেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
- বাংলাদেশর দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের উপকূল বা তটরেখার রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ইংলিশ চ্যানেলকে উত্তর সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে কোন প্রণালী?
  1. বসফরাস প্রণালী
  2. দার্দানেলিস প্রণালী
  3. ডোভার প্রণালী
  4. মোজাম্বিক প্রণালী
ব্যাখ্যা

ডোভার প্রণালী: 
- এটি একটি সংকীর্ণ জলপ্রণালী যা ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মধ্যে অবস্থিত।
- এই প্রণালী ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে পৃথক করেছে।
- ইংলিশ চ্যানেলকে উত্তর সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই ডোভার প্রণালী।
- এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম সামুদ্রিক পথ, যেহেতু ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রধান নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এর নিচ দিয়ে চ্যানেল টানেল নির্মাণ করা হয়েছে।
- যা রেলপথের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে সংযুক্ত করে।

অন্যদিকে,
- মোজাম্বিক প্রণালী – ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক কে পৃথক করেছে। 
- বসফরাস প্রণালী- সংযুক্ত করেছে: কৃষ্ণ সাগর ও মরমর সাগর। আর এশিয়া ও ইউরোপ অংশকে পৃথক করেছে
- দার্দানেলিস প্রণালীপ্রণালী- মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

.
কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে বাংলাদেশের কোন উপজেলায়?
  1. বোয়ালমারী
  2. ভাঙ্গা
  3. আলফাডাঙ্গা
  4. ফরিদপুর সদর
ব্যাখ্যা

কর্কটক্রান্তি রেখা:
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ?
  1. ১৮.৭১%
  2. ২০.৭১%
  3. ২১%
  4. ২২.১০%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডল এর প্রধান দুটি উপাদান।
- বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যা ৭৮.০২%।
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৭১%।
- এ দুটি গ্যাস বায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যা ০.০১%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
মায়ানমারের কোন দুটি প্রদেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে?
  1. নেপিদ ও চিন
  2. রাখাইন ও চিন
  3. রাখাইন ও কাচিন
  4. চিন ও কাচিন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশের সীমান্ত রয়েছে বাংলাদেশের সাথে।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি। 
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান)।
- একমাত্র রাঙ্গামাটি জেলার সাথে বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে। যথা- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ২টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের রাখাইন ও চিন প্রদেশর সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে।

উৎস:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. উচ্চতা
  3. অক্ষাংশ
  4. বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া ও জলবায়ু : 
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নিদিষ্ট সময়ের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তুষারপাত, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদি উপাদানের গড় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
- আবহাওয়া সবসময়ই পরিবর্তনশীল।
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ -
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান,
- সমুদ্রস্রোত,
- ভূমির ঢাল,
- বায়ুপ্রবাহ,
- মৃত্তিকার গঠন,
- বনভূমির অবস্থান।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান -
- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত।

উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক নয় 'বৃষ্টিপাত'।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের একটি হলো 'বৃষ্টিপাত'।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি কোনটি?
  1. বরেন্দ্রভূমি
  2. লালমাই পাহাড়
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  4. বারেক টিলা
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ :
- আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• ক) বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

• খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

• গ) লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

উল্লেখ্য,
- 'বারেক টিলা' টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায় বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমন্ডল : 
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোপজ এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।

• ট্রপোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার।
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ বলে যার গভীরতা অনেক কম।
- এই স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
- ট্রপোমন্ডলে ধূলিকণা থাকে এবং বায়ুমন্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে কোন নদীর উৎপত্তি?
  1. পদ্মা নদী
  2. মেঘনা নদী
  3. ব্রহ্মপুত্র নদ
  4. কর্ণফুলী নদী
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলী নদী : 
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
- ভারতের মিজোরামের রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার।
- হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- পদ্মা নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- মেঘনা নদী ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
সেভেন সিস্টার্সের কতটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা

সেভেন সিস্টার্স:
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- এগুলো হলো- অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।
- সেভেন সিস্টার্সের (আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়) এই চারটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে।
- সর্বপ্রথম রাজ্যগুলোকে একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া।
- এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয় ১৯৭২ সালে।
- সেভেন সিস্টার্সের মোট আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।
- আসামের গুয়াহাটিকে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের প্রবেশদ্বার বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১১.
হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায় বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা

এক্সোমন্ডল : 
- তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে।
- এক্সোমন্ডল স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়।
- এক্সোমন্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
- এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে।
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- স্ট্রাটোমণ্ডলে ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কিসের তারতম্যের জন্য এ অঞ্চলের জলবায়ু ভিন্ন রকম?
  1. বায়ুর আর্দ্রতা
  2. উচ্চতা
  3. বায়ুর চাপ
  4. বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা

Altitude বা উচ্চতা :
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম
-  উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩.
পারস্য উপসাগরের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে কোন দেশের সাথে?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. বাহরাইন
  4. কুয়েত 
ব্যাখ্যা

পারস্য উপসাগর :
- ভূমধ্যসাগরীয় সমুদ্র পারস্য উপসাগর ভারত মহাসাগরের অংশ।
- পারস্য উপসাগর কয়েকটি দেশ দ্বারা বেষ্টিত, যার মধ্যে উত্তরে ইরান, এবং উত্তর-পশ্চিমে বাহরাইন, ইরাক এবং কুয়েত রয়েছে।
- দক্ষিণে, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, অবস্থিত।
- এর উপকুলরেখা প্রায় ৫,১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- পারস্য উপসাগরের দীর্ঘতম উপকূলরেখা (১,৫৩৬ কিলোমিটার) রয়েছে ইরানের সাথে।

উল্লেখ্য,
- এটি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত।
- এটি ওমান উপসাগরের একটি সম্প্রসারিত অংশ এবং পূর্বে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- পারস্য উপসাগরকে আরব উপসাগর বা ইরান উপসাগরও বলা হয়।
- এটির আয়তন প্রায় ২,৫১,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সর্বোচ্চ গভীরতা ৯০ মিটার
- এর গড় গভীরতা ৫০ মিটার।

 উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১৪.
ব্রহ্মপুত্র নদ মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে কোথায়?
  1. চাঁদপুর
  2. গোয়ালন্দ
  3. ভৈরব বাজার
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:
- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

উল্লেখ্য,
- ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা যমুনা নামে পরিচিত।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৫.
আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করেছে কোন প্রণালী?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. ফ্লোরিডা প্রণালী
  3. মোজাম্বিক প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা

পক প্রণালী : 
- এটি ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত।
- আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করেছে পক প্রণালী (Palk Strait)।
- এটি শ্রীলঙ্কার মান্নার জেলা এবং ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যকে পৃথক করেছে।
- পক প্রণালী শ্রীলঙ্কা ও ভারত পৃথক করেছে।

অন্যদিকে,
- বেরিং প্রণালী: আমেরিকা ও এশিয়া মহাদেশকে পৃথক করেছে। আর প্রশান্ত মহাসাগর এবং আর্কটিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করে।
- ফ্লোরিডা প্রণালী: কিউবা-ফ্লোরিডাকে পৃথক করেছে। আর সংযুক্ত করে মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।
- মোজাম্বিক প্রণালী- ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক কে পৃথক করেছে।
- হরমুজ প্রণালী: ইরান- আরব আমিরাত পৃথক করেছে। আর ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরকে সংযুক্ত করে।
- দার্দানিলিস প্রণালী- মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১৬.
বঙ্গোপসাগরের কোন দিকে আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ?
  1. উত্তর দিক
  2. দক্ষিণ-পশ্চিম দিক
  3. দক্ষিণ-পূর্ব দিক
  4. পূর্ব দিক
ব্যাখ্যা

বঙ্গোপসাগর : 
- এটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপসাগর।
- এর মোট আয়তন ২৬,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরের গড় গভীরতা ২,৬০০ মিটার।
- এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৪,৬৯৪ মিটার।
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করা হয়েছে।
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ সীমানা শুরু হয় শ্রীলঙ্কার সাঙ্গামান কান্দা থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত।

• বঙ্গোপসাগর ঘিরে রয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ- 
- উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমে ভারত,
- পূর্বে মিয়ানমার,
- উত্তরে বাংলাদেশ,
- দক্ষিণ-পশ্চিমে শ্রীলঙ্কা,
- এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইন্দোনেশিয়া।
- এই উপসাগর ঘিরে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বনভূমি সুন্দরবন এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত  কক্সবাজার।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১৭.
হাইগ্রোমিটার দ্বারা কি পরিমাপ করা হয়?
  1. বায়ুর চাপ
  2. গ্যাসের চাপ
  3. তরলের আপেক্ষিক ঘনত্ব
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা

Humidity বা বায়ুর আর্দ্রতা :
- বায়ুর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান জলীয়বাষ্প।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প যখন একদম থাকে না, তাকে শুষ্ক বায়ু বলে।
- যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে, তাকে আর্দ্র বায়ু বলে।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ থাকে প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ।
- বায়ুর আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) দ্বারা পরিমাপ করা হয়।
- বায়ুর আর্দ্রতা দু'ভাবে প্রকাশ করা যায়।
- যথা- পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা।

অন্যদিকে,
- হাইড্রোমিটার- তরলের আপেক্ষিক ঘনত্ব পরিমাপক যন্ত্র।
- ব্যারোমিটার- বায়ুর চাপ মাপক যন্ত্র।
- ম্যানোমিটার- গ্যাসের চাপ মাপক যন্ত্র।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮.
বাংলাদেশে মৌসুমি জলবায়ু গ্রীষ্মকালে কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে
  2. জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মৌসুমি বায়ু :
- আরবি ভাষায় 'মওসুম' শব্দের অর্থ ঋতু।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে।
- সেজন্য মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।

• মৌসুমী জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য :
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্যে হলো ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন।
- বাংলাদেশে মৌসুমী জলবায়ু গ্রীষ্মকালে এটি জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- আর শীতকালে এটি স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফলে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিবহুল এবং শীতকাল প্রায় বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকে।
- বায়ুর চাপ, তাপ, প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাত দ্বারা এ জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নিরূপন করাহয়।
- সাধারণত মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে তিনটি ঋতু সুষ্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
- এগুলো হলো-শীতল ও শুষ্ক শীতকাল, উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং আর্দ্র বর্ষাকাল।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির একটি প্রধান কারণ-
  1. লবণাক্ত পানি বৃদ্ধি
  2. বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চয়
  3. খরার কারণে মাটি জমাট বাঁধা
  4. ভূমিকম্পজনিত ভূমি সৃষ্টি
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি :
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- অসংখ্য ছোট-বড় নদী, বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে।
- সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়।
- বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
(ক) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
(খ) ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেটের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
(গ) ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
(ঘ) নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
(ঙ) খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০.
বাণিজ্য বায়ু বলা হয় কোন বায়ুকে?
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. অয়ন বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. অনিয়মিত বায়ু
ব্যাখ্যা

অয়ন বায়ু: 
- এই বায়ু ক্রমাগত শীতল হয়ে নিচে নামতে না পেরে উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে যায়।
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজগুলো এই বায়ুপ্রবাহ অনুসরণ করতো বলে একে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- প্রায় ৩০০ অক্ষাংশ বরাবর এই বায়ু নিচে নেমে তা আবার বিষুবীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- সাধারণত উচ্চচাপ সম্পন্ন এলাকায় অয়ন বায়ু প্রবাহিত হয় বলেই এইসব স্থানে আবহাওয়া উষ্ণ, শুষ্ক ও মেঘমুক্ত প্রকৃতির হয়।
- পৃথিবীর বড় বড় মরুভূমি যেমন-সাহারা, কালাহারি মরুভূমিতে এই বায়ুপ্রবাহের প্রভাব দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
উপসাগরের সাধারণত কত দিক স্থল দ্বারা বেষ্টিত? 
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা

উপসাগর:
- সাধারণত তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত এবং একদিকে সাগর বা মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত লবণাক্ত জলভাগ হলো উপসাগর।
- উপসাগরের পানি সাধারণত সাগর বা মহাসাগরের তুলনায় শান্ত হয়।
- উপসাগরগুলো আবার অন্য কোন উপসাগরের সঙ্গেও সংযুক্ত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, জেমস উপসাগর হাডসন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত এবং অধিকতর গভীর উপসাগরগুলোকে ইংরেজিতে গালফ (gulf) বলা হয়।
- যেমন- পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের একটি উপসাগর (Bay)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
ভূ-মধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেছে?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. পক প্রণালী
  3. পানামা খাল
  4. সুয়েজ খাল
ব্যাখ্যা

সুয়েজ খাল :
- মিশরের অর্থনীতিতে সুয়েজ খালের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ১৮৬৯ সালে একজন ফরাসি ব্যক্তিত্ব ফার্দিন্যান্ড ডি লেসসেপস এর নির্দেশনায় সুয়েজ খাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
- ১৯৫৬ সালে মিশর এটি জাতীয়করণ করে।
- ভূ-মধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেছে সুয়েজ খাল।
- এই জলপথের একপ্রান্তে রয়েছে পোর্ট সৈয়দ বন্দর এবং অপরপ্রান্তে সুয়েজ বন্দর।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জাহাজ চলাচলের পথগুলির মধ্যে একটি।

উল্লেখ্য,
- বেরিং প্রণালী সংযুক্ত করেছে বেরিং সাগর ও উত্তর সাগর আর পৃথক করেছে এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে।
- পক প্রণালী সংযুক্ত করেছে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর আর পৃথক করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে।
- পানামা খাল আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে।

 উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

২৩.
টারশিয়ারি যুগের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা কত?
  1. ৫৫০ মিটার
  2. ৫৭০ মিটার
  3. ৬১০ মিটার
  4. ৬৫০ মিটার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি :
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

• ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- এ অঞ্চলের পাহাড়সমূহ কৃষিকাজের জন্য উপযোগী নয়।
- তবে স্থানীয় অধিবাসীগণ সীমিত পরিসরে জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকেন।

• খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
- এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।