পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১৫ টপিক: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ [লাইভ ক্লাস – ২৭, ২৮ ও ২৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  2. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. গাছটি মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
• শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ : দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

অশুদ্ধ : গাছটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
শুদ্ধ: গাছটি সমূল/মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশিষ্টতা
  2. ভারসমতা
  3. মাধুর্যতা
  4. বহুলতা
ব্যাখ্যা
• 'তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন- 'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে 'তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ 'ধীরতা' হয়। কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
এরকম-
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
বাহুল্যতা- বাহুল্য, বহুলতা। 
বৈচিত্র্যতা- বৈচিত্র্য, বিচিত্রতা। 
বৈশিষ্ট্যতা- বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা। 
বৈষম্যতা- বৈষম্য, বিষমতা। 
ভারসাম্যতা- ভারসাম্য, ভারসমতা। 
মাধুর্যতা- মাধুর্য, মধুরতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অদ্যবধি
  2. অত্যাধিক
  3. অতিথী
  4. অচিন্তনীয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অচিন্তনীয়,
- বিশেষণ পদ,
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- অভাবনীয়,
- চিন্তার অতীত। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অতিথী – অতিথি। 
• অত্যাধিক – অত্যধিক। 
• অদ্যবধি – অদ্যাবধি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ইতঃপূর্বে
  2. ইত্যাকার
  3. ইতিমধ্যে
  4. ঈষৎ
ব্যাখ্যা
• 'ইতিমধ্যে' শব্দটি অপপ্রয়োগ। 

• শুদ্ধ বানান: ইতোমধ্যে। 
- ক্রিয়া বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- অব্য এর মধ্যে;
- ইত্যবসরে;
- এই সময়ের মধ্যে।

অন্যদিকে, 
 ইতঃপূর্বে, ইত্যাকার ও ঈষৎ শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. আমি অপমান হয়েছি।
  2. অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
  3. অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
  4. খুব দুঃখ পেলাম। 
ব্যাখ্যা
• বাচ্যজনিত ভুল:
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
যেমন:
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো- 
- অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
- অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
- খুব দুঃখ পেলাম। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. সরলতা
  2. সরল
  3. সারল্যতা
  4. সারল্য
ব্যাখ্যা
• তা প্রত্যয়ের প্রয়োগের নিয়ম অনুসারে, অশুদ্ধ প্রয়োগ- সারল্যতা। 

অন্যদিকে, 
সরলতা, সরল  ও সারল্য শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

-----------------
• 'তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে। 

• সারল্যতা - সারল্য, সরলতা।
• সাদৃশ্যতা - সাদৃশ্য, সদৃশতা।
• সামর্থ্যতা - সামর্থ্য, সমর্থতা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
বচনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।
  2. শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না। 
  3. সভায় অনেক ছাত্রগণ এসেছিল।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল দেশ।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: সভায় অনেক ছাত্রগণ এসেছিল।
শুদ্ধ: সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল/উন্নয়নশীল দেশ।

অশুদ্ধ: শুধুমাত্র টাকার জোরে সব কিছু হয় না। 
শুদ্ধ: শুধু টাকার জরে সব কিছু হয় না। 

অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. কতৃত্ব
  2. উদ্দান
  3. কতৃপক্ষ
  4. উত্থান
ব্যাখ্যা
• উত্থান (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- ওটা; খাড়া হওয়া।
-  উন্নতি; অভ্যুদয়।
-  গাত্রোত্থান।
- বিদ্রোহ।
-  আবির্ভাব।

অপশনের অন্যান্য শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• উদ্দান – উদ্যান।  
• কতৃপক্ষ – কর্তৃপক্ষ। 
• কতৃত্ব – কর্তৃত্ব। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তার পরিস্থিতি যেন জলে কুমির ডাঙায় সিংহ। 
  2. দেখায় তো যাচ্ছে কারো ফাল্গুন মাস কারো সর্বনাশ।
  3. গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে হাজী। 
  4. ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
ব্যাখ্যা
• প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ- ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

-----------
অন্যদিকে, অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-

• অশুদ্ধ: তার পরিস্থিতি যেন জলে কুমির ডাঙায় সিংহ। 
• শুদ্ধরূপ: তার পরিস্থিতি যেন জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

• অশুদ্ধ: গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে হাজী। 
• শুদ্ধরূপ: গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি। 

• অশুদ্ধ: দেখায় তো যাচ্ছে কারো ফাল্গুন মাস কারো সর্বনাশ।
• শুদ্ধরূপ: দেখায় তো যাচ্ছে কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. মৌনতা
  2. স্বতন্ত্রতা
  3. সখ্যতা
  4. সারল্যতা
ব্যাখ্যা
• 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল শব্দসমূহ হলো- 

অশুদ্ধশব্দ 
- শুদ্ধশব্দ:
• মৈত্রতা - মৈত্র, মিত্রতা। 
• লাঘবতা - লাঘব, লঘুতা। 
• মৌনতা - মৌন। 
• সখ্যতা - সখ্য। 
• সারল্যতা - সারল্য, সরলতা। 
• সাদৃশ্যতা - সাদৃশ্য, সদৃশতা। 
• সামর্থ্যতা - সামর্থ্য, সমর্থতা। 
• সৌজন্যতা - সৌজন্য, সুজনতা। 
• সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য, সুন্দরতা। 
• সৌহার্দ্যতা - সৌহার্দ্য। 
• স্বাতন্ত্র্যতা - স্বাতন্ত্র্য, স্বতন্ত্রতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ন্যয্য
  2. নিক্বণ
  3. নৃসংশ
  4. নূন্যতম
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: নিক্বণ। 
- বিশেষ্য পদ,
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 

অর্থ:
- নিনাদ;
- ঝঙ্কার;
- ধ্বনি;
- মিষ্টি আওয়াজ।

অন্যান্য অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: ন্যায্য। 
- বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- যুক্তিযুক্ত;
- ন্যায়সঙ্গত;
- উচিত।

• শুদ্ধ বানান: নৃশংস।
- বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- নির্দয়;
- ক্রূর;
- নিষ্ঠুর।

• শুদ্ধ বানান: ন্যূনতম। 
- বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- সর্বনিম্ন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  2. অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
  3. তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন।
  4. কে এই ভাগ্যবান মহিলা? তাকে ডেকে আন।
ব্যাখ্যা
বাক্যে লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল-
• অশুদ্ধ: কে এই ভাগ্যবান মহিলা? তাকে ডেকে আন।
• শুদ্ধ: কে এই ভাগ্যবতী মহিলা? তাকে ডেকে আন।

• অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন বুদ্ধিমান বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি।
• শুদ্ধ: তোমার মতো এমন বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি।

অন্যদিকে, অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য বাক্যগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. উচ্ছাস
  2. উজ্জল
  3. উল্লিখিত
  4. উশৃঙ্খল
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- উপরে বা পূর্বে লিখিত।
- পূর্বে উক্ত।

----------
অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• উচ্ছাস - উচ্ছ্বাস। 
• উজ্জল - উজ্জ্বল। 
• উশৃঙ্খল - উচ্ছৃঙ্খল। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪.
বাহুল্যজনিত ভুল রয়ছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. কারো অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ অনুচিত।
  2. তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
  3. বঙ্কিমচন্দ্রের অসাধারণ প্রতিভা ছিল।
  4. সকল লোকই সেখানে উপস্থিত ছিল।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
• শুদ্ধরূপ:তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।

• বাংলা বাক্যে বাহুল্যদোষ হয় তখনই, যখন বাক্যে অনর্থক, অপ্রয়োজনীয়, পুনরুক্ত বা অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার ফলে বাক্যটি ভারাক্রান্ত, অপরিষ্কার বা অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ হয়ে পড়ে।

বাক্যটি:
• "তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।"
এখানে "হীন চরিত্রবান" শব্দযুগলটি বাহুল্যদোষযুক্ত, কারণ—
• "চরিত্রবান" মানেই সাধারণভাবে ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ যার চরিত্র ভালো।
কিন্তু এখানে "হীন চরিত্রবান" বলা হয়েছে—যা অর্থগতভাবে পরস্পরবিরোধী।
• "হীন" (অর্থাৎ নিচু, দুর্বল, নিকৃষ্ট) আর "চরিত্রবান" (অর্থাৎ সদাচারী, নৈতিকভাবে ভালো) — এই দুই শব্দ একসঙ্গে ব্যবহার করলে বিপরীতধর্মী শব্দের অযথা যোগ হয়।

শুদ্ধরূপ:
"তোমার মতো হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।"

অন্যদিকে, 
• শুদ্ধ: কারো অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ অনুচিত।
• শুদ্ধ: বঙ্কিমচন্দ্রের অসামান্য/অসাধারণ প্রতিভা ছিল।
• শুদ্ধ: সকল লোকই সেখানে উপস্থিত ছিল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অনটন
  2. অদ্যাবধি
  3. বিপদোদ্ধার
  4. বাগীশ্বরী
ব্যাখ্যা
সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধিগুলো হলো-
শুদ্ধ  - অশুদ্ধ:
• অনটন - অনাটন।
• অদ্যাবধি - অদ্যবধি। 
• পৃথগন্ন - পৃথকন্ন। 
• বাগীশ্বরী - বাগেশ্বরী।
• বিপদুদ্ধার - বিপদোদ্ধার।  
• বক্ষ-উপরি - বক্ষোপরি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. নিরূপণ
  2. ধুর্ত
  3. দারিদ্র্য
  4. ধূসর
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- ধুর্ত। 

• শুদ্ধ বানান: ধূর্ত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- চতুর (ধূর্ত শিয়াল)।
- মঠ; প্রবঞ্চক; প্রতারক।
- ধড়িবাজ।

অন্যদিকে, 
নিরূপণ, দারিদ্র্য ও ধূসর শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭.
বানানজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ দেখিয়াছি।
  2. ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।
  3. গাছে কাঠাল গোঁফে তেল।
  4. রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবি ছিলেন। 
ব্যাখ্যা
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।- প্রদত্ত বাক্যে 'লজ্জাস্কর' বানানটি অশুদ্ধ। 

• শুদ্ধবাক্য: ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।

অপশনের অন্যান্য শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো- 
• আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ দেখিয়াছি।
• গাছে কাঠাল গোঁফে তেল।
• রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবি ছিলেন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
মূর্ধন্য- ষ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. নাখোষ
  2. সুষুপ্ত
  3. অনুষ্ঠান
  4. কলুষ
ব্যাখ্যা
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে মূর্ধন্য- ষ ব্যবহৃত হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

• "নাখোষ" সবদ্যা মূর্ধন্য- ষ ব্যবহৃত এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে। 

• শুধ বানান: নাখোশ,  
- ফারসি শব্দ। 
অর্থ:
- অসন্তুষ্ট । 

----------------
• মূর্ধন্য- ষ ব্যবহারের নিয়ম:
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স য হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

• ঋ'এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ ইত্যাদি।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যেমন- পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।

৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি।
১৯.
'বিবাদমান' শব্দে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সমাস জনিত অপপ্রয়োগ
  2. সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ
  3. প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ
  4. বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

শুদ্ধ  - অশুদ্ধ:
বিবদমান - বিবাদমান। 
• বাহ্য - বাহ্যিক। 
• বৈচিত্র্য - বৈচিত্র। 
• ব্যাকুল - ব্যাকুলিত। 
• মাহাত্ম্য - মহাত্ম। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. মহত্ব
  2. সত্তা
  3. স্বাতন্ত্র
  4. সাধ্যায়ও
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

শুদ্ধ  - অশুদ্ধ:
• মহত্ত্ব - মহত্ব। 
• সত্তা - সত্বা। 
• সম্ভ্রান্তশালী - সম্ভ্রামশালী। 
• স্বাতন্ত্র্য- স্বাতন্ত্র। 
• সাধ্য - সাধ্যায়ও। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।