পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি টপিক: ১. বিভিন্ন বিষয়ের জনক, ২. কম্পিউটারের ইতিহাস, ৩. কম্পিউটার প্রোগ্রাম, [যেমন - অনুবাদক প্রোগ্রাম, সিস্টেম প্রোগ্রাম ইত্যাদি] উৎস: অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)–এর জনক কে?
  1. ডেনিস রিচি
  2. জন ম্যাকার্থি
  3. ভিন্ট সার্ফ
  4. টিম বার্নার্সলি
ব্যাখ্যা

• জন ম্যাকার্থি: তিনি প্রথম Artificial Intelligence শব্দটি ব্যবহার করেন এবং AI গবেষণার ভিত্তি স্থাপন করেন।

• কম্পিউটার ও আইসিটিতে বিভিন্ন বিষয়ের জনক:

• আধুনিক কম্পিউটারের জনক:
- চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)–কে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়।
- তিনি Analytical Engine–এর ধারণা প্রদান করেন।
 
• কম্পিউটার বিজ্ঞানের জনক:
- অ্যালান টুরিং (Alan Turing)–কে কম্পিউটার বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- তিনি Turing Machine ধারণা প্রদান করেন।
 
• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক(AI):
- জন ম্যাকার্থি (John McCarthy)–কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক বলা হয়।
- তিনিই প্রথম Artificial Intelligence শব্দটি ব্যবহার করেন।
 
• ইন্টারনেটের জনক:
- ভিন্ট সার্ফ (Vint Cerf) ও রবার্ট কান (Robert Kahn)–কে ইন্টারনেটের জনক বলা হয়।
- তারা TCP/IP প্রোটোকল উন্নয়ন করেন।
 
• World Wide Web-এর জনক:
- টিম বার্নার্স-লি (Tim Berners-Lee)–কে WWW–এর জনক বলা হয়।
- তিনি HTTP, HTML ও URL উদ্ভাবন করেন।
 
• ই-মেইলের জনক:
- রে টমলিনসন (Ray Tomlinson)–কে ই-মেইলের জনক বলা হয়।
- তিনি প্রথম ই-মেইলে @ (at) চিহ্ন ব্যবহার করেন।
 
• প্রোগ্রামিং ভাষার জনক (C Language):
- ডেনিস রিচি (Dennis Ritchie)–কে C প্রোগ্রামিং ভাষার জনক বলা হয়।
 
• অপারেটিং সিস্টেমের জনক (UNIX):
- ডেনিস রিচি ও কেন থম্পসন (Ken Thompson)–কে UNIX অপারেটিং সিস্টেমের জনক বলা হয়।
 
• কম্পিউটার মাউসের জনক:
- ডগলাস এঙ্গেলবার্ট (Douglas Engelbart)–কে কম্পিউটার মাউসের জনক বলা হয়।
 
• কম্পিউটার গ্রাফিক্সের জনক:
- ইভান সাদারল্যান্ড (Ivan Sutherland)–কে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের জনক বলা হয়।
 
• ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের জনক:
- চার্লস সিমনি (Charles Simonyi)–কে আধুনিক ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের পথিকৃৎ বলা হয়।
  
উৎস: ব্রিটানিকা।

.
প্রাচীনতম গণনা যন্ত্র কোনটি?
  1. অ্যাবাকাস
  2. ক্যালকুলেটর
  3. কম্পিউটার
  4. স্লাইড রুল
ব্যাখ্যা

• অ্যাবাকাস—এটি ইতিহাসে ব্যবহৃত সবচেয়ে প্রাচীন গণনা যন্ত্র, যার মাধ্যমে যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ করা হতো।

• অ্যাবাকাস(Abacus):
- অ্যাবাকাস হলো প্রাচীনতম গণনা যন্ত্র, যা ফ্রেমে সাজানো গুটি বা বলের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গণনার কাজ সম্পন্ন করে।
- এটি মূলত যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ করার জন্য ব্যবহৃত হতো।
- অ্যাবাকাস শব্দের অর্থ হলো গণনাকারী বোর্ড (Counting Board)।
 
• অ্যাবাকাসের ইতিহাস:
- খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে চীনে প্রথম অ্যাবাকাসের ব্যবহার শুরু হয়।
- ১২শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপ ও এশিয়ায় অ্যাবাকাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- ১৫শ শতাব্দীতে অ্যাবাকাস জাপানে প্রবর্তিত হয়।
 
• বিভিন্ন দেশে অ্যাবাকাসের নাম:
- চীনে: সুয়ানপান(Suanpan)
- জাপানে: সরোবান(Soroban)
- রাশিয়ায়: স্কেটিয়া(Sketia)
 
• অ্যাবাকাসের গঠন:
- এটি সাধারণত কাঠের তৈরি আয়তাকার ফ্রেম।
- ফ্রেমের ভেতরে সুতা বা তারের ওপর বিভিন্ন রঙের গুটি বা বল লাগানো থাকে।
- সাধারণভাবে—
- প্রতিটি তারের উপরে ২টি গুটি,
- নিচে ৫টি গুটি থাকে।
- উলম্ব দণ্ডগুলো দ্বারা একক, দশক, শতক ইত্যাদি মান প্রকাশ করা হয়।
 
• অ্যাবাকাসের কার্যপদ্ধতি:
- গুটিগুলো সঞ্চালনের মাধ্যমে সংখ্যা গণনা করা হয়।
- প্রতিটি দণ্ড একটি নির্দিষ্ট স্থানমূল্য (একক, দশক, শতক) নির্দেশ করে।
- গুটির অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন হয়।
 
উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

.
প্যাসকেলেন যন্ত্রে গুণ ও ভাগ কীভাবে সম্পন্ন করা হতো?
  1. সরাসরি
  2. পুনঃপুনঃ যোগ ও বিয়োগের মাধ্যমে
  3. বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করে
  4. প্রোগ্রামিং নির্দেশনার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• প্যাসকেলেন সরাসরি গুণ ও ভাগ করতে পারত না, তাই ধারাবাহিক যোগ ও বিয়োগ ব্যবহার করা হতো।

 • যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর(Mechanical Calculator):
- যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর হলো যান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণনা সম্পাদনকারী একটি প্রাচীন গণনা যন্ত্র।
- এতে গিয়ার ও চাকতি ব্যবহার করে গাণিতিক হিসাব করা হতো।
 
• যান্ত্রিক ক্যালকুলেটরের আবিষ্কার:
- ১৬৪২ সালে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফরাসি গণিতবিদ ব্লেইজ প্যাসকেল (Blaise Pascal) সর্বপ্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন।
- এই যন্ত্রটির নাম ছিল প্যাসকেলেন (Pascaline)।
 
• প্যাসকেলেন(Pascaline)–এর কার্যক্ষমতা:
- প্যাসকেলেন যন্ত্রের সাহায্যে যোগ ও বিয়োগ করা যেত।
- পুনঃপুনঃ যোগ ও বিয়োগের মাধ্যমে যথাক্রমে গুণ ও ভাগ করার পদ্ধতিও উদ্ভাবিত হয়।
 
উৎস: Computer & ICT Cloud, Live Publications এবং মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

.
ডিফারেন্স ইঞ্জিনের ধারণা প্রদান করেন কে?
  1. জন ম্যাকার্থি
  2. অ্যালান টুরিং
  3. ব্লেইজ প্যাসকেল
  4. চার্লস ব্যাবেজ
ব্যাখ্যা

• চার্লস ব্যাবেজ—তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিনের ধারণা প্রদান করেন এবং আধুনিক কম্পিউটার উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেন।

• ডিফারেন্স ইঞ্জিন(Difference Engine):

- ডিফারেন্স ইঞ্জিন হলো একটি যান্ত্রিক গণনা যন্ত্র, যা গাণিতিক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদনের জন্য পরিকল্পিত।
- চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage) ডিফারেন্স ইঞ্জিনের ধারণা প্রদান করেন।
- এটি মূলত গাণিতিক সারণি (Mathematical Tables) প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়।
 
• ডিফারেন্স ইঞ্জিনের আবিষ্কার ও উন্নয়ন:
- ১৮২২ সালে চার্লস ব্যাবেজ ডিফারেন্স ইঞ্জিন নির্মাণের পরিকল্পনা করেন।
- যন্ত্রটি সম্পূর্ণভাবে নির্মিত হয়নি, কারণ—
- প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা,
- আর্থিক সংকট,
- যান্ত্রিক জটিলতা।
- তবে এটি আধুনিক কম্পিউটার উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
 
• ডিফারেন্স ইঞ্জিনের বৈশিষ্ট্য:
- এটি যোগ ও বিয়োগের নীতি (Method of Differences) ব্যবহার করে কাজ করত।
- গাণিতিক সারণিতে মানুষের ভুল কমানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।
- এটি একটি স্বয়ংক্রিয় গণনাযন্ত্রের প্রাথমিক ধারণা প্রদান করে।
 
• ডিফারেন্স ইঞ্জিনের গুরুত্ব:
- আধুনিক কম্পিউটার উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- গণনার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়তার ধারণা প্রতিষ্ঠা করে।
- পরবর্তীতে Analytical Engine উদ্ভাবনের পথ সুগম করে।
 
উৎস: Computer & ICT Cloud, Live Publications এবং মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

.
ড. হারমান হলেরিথ প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি পরবর্তীতে কোন নামে পরিচিত হয়?
  1. Microsoft
  2. IBM
  3. Intel
  4. Apple
ব্যাখ্যা

• ড. হারমান হলেরিথ প্রতিষ্ঠিত Tabulating Machine Company পরবর্তীতে একীভূত হয়ে IBM (International Business Machines) নামে পরিচিত হয়।

 • ট্যাবুলেটিং মেশিন(Tabulating Machine):
- ট্যাবুলেটিং মেশিন হলো একটি ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল গণনা যন্ত্র, যা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হতো।
- এটি বিশেষভাবে জনগণনা ও বৃহৎ পরিসরের ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
 
• ট্যাবুলেটিং মেশিনের আবিষ্কার:
- ১৮৮০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানবিদ ড. হারমান হলেরিথ (Dr. Herman Hollerith) ট্যাবুলেটিং মেশিন আবিষ্কার করেন।
- এই যন্ত্রে পাঞ্চ কার্ড (Punched Card) ব্যবহার করে ডেটা ইনপুট দেওয়া হতো।
- ১৮৮০ সালের আদমশুমারিতে ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে এই মেশিন সফলভাবে ব্যবহৃত হয়।
 
• ট্যাবুলেটিং মেশিনের বৈশিষ্ট্য:
- পাঞ্চ কার্ডের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হতো।
- স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব ছিল।
- মানুষের হাতে করা গণনার তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুল ফলাফল প্রদান করত।
 
• IBM-এর সাথে সম্পর্ক:
- ১৮৯৬ সালে ড. হারমান হলেরিথ Tabulating Machine Company প্রতিষ্ঠা করেন।
- পরবর্তীতে এই কোম্পানি একীভূত হয়ে IBM (International Business Machines) নামে পরিচিত হয়।
- ট্যাবুলেটিং মেশিন আধুনিক কম্পিউটার শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
 
• ট্যাবুলেটিং মেশিনের গুরুত্ব:
- ডেটা প্রক্রিয়াকরণে স্বয়ংক্রিয়তার সূচনা করে।
- আধুনিক কম্পিউটার ও ডেটা প্রসেসিং সিস্টেমের ভিত্তি স্থাপন করে।
- ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার যুগের সূচনা ঘটায়।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

.
Mark-I কম্পিউটার নির্মাণে নেতৃত্ব দেন কে?
  1. চার্লস ব্যাবেজ
  2. ড. হাওয়ার্ড আইকেন
  3. অ্যালান টিউরিং
  4. জন ভন নিউম্যান
ব্যাখ্যা

• ড. হাওয়ার্ড আইকেন—তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে Mark-I ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার নির্মাণে নেতৃত্ব দেন।

• ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার(Electro-Mechanical Computer):
- ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার হলো এমন কম্পিউটার, যা যান্ত্রিক অংশ ও বৈদ্যুতিক উপাদানের সমন্বয়ে কাজ করে।
- এটি যান্ত্রিক কম্পিউটার ও সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
 
• মার্ক–১(Mark-I) কম্পিউটার:
- বিশ্বের প্রথম বৃহৎ ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার হলো মার্ক–১(Mark-I)।
- ড. হাওয়ার্ড আইকেন(Dr. Howard Aiken)–এর নেতৃত্বে এটি নির্মিত হয়।
- মার্ক–১ কম্পিউটার ১৯৪৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়।
- এটি IBM–এর সহায়তায় নির্মিত হয়।
 
• মার্ক–১ কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য:
- এতে প্রায় ৩ হাজার ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল রিলে ব্যবহৃত হয়েছিল।
- দৈর্ঘ্য প্রায় ৫১ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ৮ ফুট ছিল।
- এটি অত্যন্ত ধীরগতির হলেও নির্ভুল গণনা করতে পারত।
- এতে যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ করা সম্ভব ছিল।
- বৈজ্ঞানিক ও সামরিক গবেষণায় এটি ব্যবহৃত হতো।
 
• ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটারের গুরুত্ব:
- আধুনিক কম্পিউটার উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
- স্বয়ংক্রিয় গণনার ধারণাকে আরও উন্নত করে।
- পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক কম্পিউটার উদ্ভাবনের পথ সুগম করে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

.
ABC কম্পিউটারকে সাধারণভাবে বিশ্বের প্রথম কোন ধরনের কম্পিউটার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
  1. প্রথম যান্ত্রিক কম্পিউটার
  2. প্রথম ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কম্পিউটার
  3. প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার
  4. প্রথম বাণিজ্যিক কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

• প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার—ABC সম্পূর্ণভাবে ইলেকট্রনিক উপাদান (ভ্যাকুয়াম টিউব) ব্যবহার করে গণনা করত।

• এবিসি কম্পিউটার(ABC–Atanasoff Berry Computer):

- যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জন ভিনসেন্ট অ্যাটানাসফ(Dr. John Vincent Atanasoff) এবং তাঁর ছাত্র ক্লিফ বেরি(Cliff Berry) ১৯৩৯ সালে যৌথভাবে একটি ইলেকট্রনিক গণনাযন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- তাঁদের নামানুসারেই যন্ত্রটির নামকরণ করা হয় ABC (Atanasoff Berry Computer)।
- ABC–কে বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এই কম্পিউটারে গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজের জন্য ৪৫টি ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহৃত হয়েছিল।
- তথ্য সংরক্ষণের জন্য এতে মেমরি হিসেবে ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়।
- ABC কম্পিউটারটি ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় গণনার পথ উন্মুক্ত করে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

.
প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারে কোন ভাষায় প্রোগ্রাম লেখা হতো?
  1. উচ্চস্তরের ভাষা
  2. অ্যাসেম্বলি ভাষা
  3. মেশিন ভাষা
  4. C ভাষা
ব্যাখ্যা

• মেশিন ভাষা—প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার সরাসরি বাইনারি (০ ও ১) নির্দেশনা বুঝত।

• প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার(First Generation Computer):
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সময়কালকে কম্পিউটারের প্রথম প্রজন্ম বলা হয়।
- এই প্রজন্মের কম্পিউটার তৈরিতে প্রধানত ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করা হতো।
- এগুলো আকারে অত্যন্ত বড়, ওজনে ভারী এবং স্থাপন ব্যয়বহুল ছিল।
 
• প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য:
- ভ্যাকুয়াম টিউবের উপর নির্ভরশীল।
- বিদ্যুৎ খরচ ছিল অত্যধিক।
- প্রচুর তাপ উৎপন্ন হতো, ফলে শীতলীকরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল।
- নির্ভরযোগ্যতা কম ছিল এবং ঘন ঘন নষ্ট হতো।
- প্রোগ্রাম লেখার জন্য মেশিন ভাষা (0 ও 1) ব্যবহার করা হতো।
- ডেটা ইনপুট ও আউটপুটের জন্য পাঞ্চ কার্ড ব্যবহৃত হতো।
 
• প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারের ব্যবহার:
- বৈজ্ঞানিক গবেষণা।
- সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কাজ।
- জটিল গাণিতিক হিসাব।
 
• প্রথম প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য কম্পিউটার:
- ENIAC
- EDVAC
- UNIVAC
- IBM 650
- IBM 704
- Mark-I, Mark-II, Mark-III, Mark-IV
 
• প্রথম প্রজন্মের সীমাবদ্ধতা:
- আকার বড় ও বহন অযোগ্য।
- রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি।
- প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা কঠিন।
- সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য উপযোগী ছিল না।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)। 

.
পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. ভ্যাকুয়াম টিউব
  2. ট্রানজিস্টর
  3. মাইক্রোপ্রসেসর
  4. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারের মূল ভিত্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।

• পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার(Fifth Generation Computer):
- সাধারণভাবে ২০০১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ব্যবহৃত কম্পিউটারকে পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার বলা হয়।
- এই প্রজন্মের কম্পিউটারগুলো মানুষের ভাষা বুঝতে ও অনুকরণ করতে সক্ষম।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) এই প্রজন্মের মূল ভিত্তি।
 
• পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তিগত ভিত্তি:
- পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার VLSI ও ULSI (Ultra Large Scale Integration) প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- একটি সিলিকন চিপে কয়েক কোটি থেকে কয়েকশ কোটি ট্রানজিস্টর সংযোজন করা সম্ভব হয়।
 
• পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক ব্যবহার।
- মানুষের ভাষা ও আচরণ অনুকরণ করার ক্ষমতা।
- ভয়েস কমান্ড ও স্বাভাবিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ(NLP) সুবিধা।
- প্রোগ্রামিং ভাষার ব্যাপক উন্নয়ন।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি ও ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।
- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ব্যাপক সমন্বয়।
- অনলাইন ও বুদ্ধিমান ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবহার।
- বিপুল ক্ষমতাসম্পন্ন সুপার কম্পিউটার উন্নয়ন।
 
• পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারের ব্যবহার:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিস্টেম।
- রোবোটিক্স ও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
- ভাষা শনাক্তকরণ ও অনুবাদ।
- বিশেষজ্ঞ সিস্টেম(Expert System)।
- আধুনিক গবেষণা ও ডেটা বিশ্লেষণ।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)। 

১০.
অ্যাসেম্বলি বা উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে কী বলা হয়?
  1. সোর্স প্রোগ্রাম
  2. অবজেক্ট প্রোগ্রাম
  3. এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম
  4. মেশিন প্রোগ্রাম
ব্যাখ্যা

• সোর্স প্রোগ্রাম—মানুষের বোধগম্য ভাষায় লেখা মূল প্রোগ্রামকে সোর্স প্রোগ্রাম বলা হয়।

• অনুবাদক প্রোগ্রাম(Translator Program):
- অ্যাসেম্বলি ভাষা বা উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে সোর্স প্রোগ্রাম(Source Program) বলা হয়।
- মেশিন ভাষায় অনূদিত প্রোগ্রামকে অবজেক্ট প্রোগ্রাম(Object Program) বলা হয়।
- কম্পিউটার সরাসরি অ্যাসেম্বলি বা উচ্চস্তরের ভাষা বুঝতে পারে না।
- কম্পিউটার কেবল মেশিন ভাষা বুঝতে সক্ষম।
 
• অনুবাদক প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তা:
- সোর্স প্রোগ্রাম চালানোর পূর্বে সেটিকে অবশ্যই মেশিন ভাষায় অনুবাদ করতে হয়।
- এই অনুবাদের কাজ সম্পাদনের জন্য যে প্রোগ্রাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনুবাদক প্রোগ্রাম বলা হয়।
- অনুবাদক প্রোগ্রাম সোর্স প্রোগ্রামকে অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করে।
 
• মেশিন ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- মেশিন ভাষা বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গঠিত।
- এতে কেবল ০ এবং ১ এই দুইটি বাইনারি ডিজিট ব্যবহৃত হয়।
- অনুবাদের পর কম্পিউটার প্রোগ্রামটি নির্বিঘ্নে চালাতে পারে।
 
• অনুবাদক প্রোগ্রামের ভূমিকা:
- মানুষের বোধগম্য ভাষা ও কম্পিউটারের বোধগম্য ভাষার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।
- প্রোগ্রাম নির্বাহযোগ্য করার জন্য এটি অপরিহার্য।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
কম্পাইলারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনটি?
  1. প্রোগ্রামে ত্রুটি শনাক্ত করা
  2. ডেটা সংরক্ষণ করা
  3. ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া
  4. প্রিন্টিং নিয়ন্ত্রণ করা
ব্যাখ্যা

• কম্পাইলার সোর্স প্রোগ্রাম বিশ্লেষণ করে সিনট্যাক্স ও অন্যান্য ত্রুটি শনাক্ত করে।

• কম্পাইলার(Compiler):
- কম্পাইলার হলো একটি অনুবাদক প্রোগ্রাম, যা সোর্স প্রোগ্রামকে একসাথে সম্পূর্ণরূপে মেশিন ভাষায় অনুবাদ করে।
- কম্পাইলার অনুবাদের মাধ্যমে একটি অবজেক্ট প্রোগ্রাম(Object Program) তৈরি করে।
- অনুবাদ শেষে এটি একটি এক্সিকিউশন ফাইল(.exe) তৈরি করে।
- এই এক্সিকিউশন ফাইল অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলতে সক্ষম।
 
• কম্পাইলারের বৈশিষ্ট্য:
- কম্পাইলার ব্যবহারের ফলে প্রোগ্রাম দ্রুত নির্বাহ করা যায়।
- প্রোগ্রামারকে নিজ হাতে অনুবাদ করার প্রয়োজন হয় না।
- ভিন্ন ভিন্ন উচ্চস্তরের ভাষার জন্য ভিন্ন ভিন্ন কম্পাইলার ব্যবহৃত হয়।
- একটি নির্দিষ্ট কম্পাইলার শুধু একটি উচ্চস্তরের ভাষার প্রোগ্রাম কম্পাইল করতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, COBOL কম্পাইলার দিয়ে BASIC প্রোগ্রাম কম্পাইল করা যায় না।
 
• কম্পাইলারের অতিরিক্ত ভূমিকা:
- সোর্স প্রোগ্রামের গুণাগুণ ও গঠন বিশ্লেষণ করতে পারে।
- প্রোগ্রামে থাকা ত্রুটি শনাক্ত ও প্রদর্শন করতে সক্ষম।
 
• কম্পাইলারের প্রধান কাজ:
- সোর্স প্রোগ্রাম অনুবাদ করে অবজেক্ট প্রোগ্রাম তৈরি করা।
- প্রোগ্রামের সাথে প্রয়োজনীয় রুটিন(Routine) সংযুক্ত করা।
- প্রোগ্রামে বিদ্যমান ভুল বা ত্রুটি শনাক্ত করা।
- প্রোগ্রামের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের তথ্য প্রদান করা।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
অ্যাসেম্বলি ভাষায় ব্যবহৃত নির্দেশনাকে কী বলা হয়?
  1. অপকোড
  2. নেমোনিক কোড
  3. বাইনারি কোড
  4. টোকেন
ব্যাখ্যা

• অ্যাসেম্বলি ভাষায় নির্দেশগুলো সহজবোধ্য শব্দ বা সংক্ষিপ্ত রূপে লেখা হয়, যেগুলোকে নেমোনিক কোড বলা হয়।

• অ্যাসেম্বলার(Assembler):
- অ্যাসেম্বলার হলো একটি অনুবাদক প্রোগ্রাম, যা অ্যাসেম্বলি ভাষায় লেখা সোর্স প্রোগ্রামকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে।
- অ্যাসেম্বলি ভাষায় ব্যবহৃত নেমোনিক কোড অ্যাসেম্বলার দ্বারা সমতুল্য মেশিন নির্দেশে পরিণত হয়।
- অনুবাদের পর প্রোগ্রামটি অবজেক্ট প্রোগ্রাম হিসেবে তৈরি হয়।
 
• অ্যাসেম্বলার কীভাবে কাজ করে:
- অ্যাসেম্বলার প্রথমে সোর্স প্রোগ্রামের প্রতিটি নির্দেশ যাচাই করে।
- প্রতিটি নেমোনিক নির্দেশকে সংশ্লিষ্ট মেশিন ভাষার নির্দেশে রূপান্তর করে।
- কোনো ভুল থাকলে তা শনাক্ত ও জানায়।
- ভুল সংশোধনের পর পুনরায় অনুবাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
 
• অ্যাসেম্বলার-এর প্রধান কাজ:
- নেমোনিক কোডকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করা।
- সব নির্দেশ ও ডেটা প্রধান মেমরিতে সংরক্ষণ করা।
- প্রোগ্রামে থাকা ভুল শনাক্ত ও প্রদর্শন করা।
- অনুবাদের সময় সব তথ্য ও নির্দেশ সঠিকভাবে সংগঠিত রাখা।
 
• অ্যাসেম্বলার-এর ভূমিকা:
- মানুষের বোধগম্য অ্যাসেম্বলি ভাষা ও কম্পিউটারের বোধগম্য মেশিন ভাষার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- প্রোগ্রামকে নির্বাহযোগ্য করতে সহায়তা করে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
কোন অনুবাদক প্রোগ্রাম প্রতিটি লাইনের ভুল দেখিয়ে সাথে সাথে অনুবাদ বন্ধ করে দেয়?
  1. ইন্টারপ্রেটার
  2. কম্পাইলার
  3. লিঙ্কার
  4. লোডার
ব্যাখ্যা

• ইন্টারপ্রেটার লাইন ধরে অনুবাদ করে এবং কোনো লাইনে ভুল পেলেই সঙ্গে সঙ্গে অনুবাদ বন্ধ করে দেয়।

• ইন্টারপ্রেটার(Interpreter):
- প্রোগ্রামকে এক লাইন এক লাইন করে অনুবাদ করে।
- আকারে ছোট ধরনের প্রোগ্রাম।
- প্রোগ্রাম নির্বাহের গতি তুলনামূলক ধীর।
- কাজ করার জন্য প্রধান মেমরিতে কম জায়গা প্রয়োজন।
- ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের ক্ষেত্রে সময় কম লাগে।
- প্রতিটি লাইনের ভুল দেখিয়ে সাথে সাথে অনুবাদ বন্ধ করে দেয়।

• অন্যান্য অপশন:
- কম্পাইলার সম্পূর্ণ প্রোগ্রাম একসাথে অনুবাদ করে এবং সব ভুল শেষে দেখায়।
- লিঙ্কার আলাদা অবজেক্ট প্রোগ্রাম যুক্ত করে, অনুবাদ করে না।
- লোডার প্রোগ্রাম মেমরিতে লোড করে, ত্রুটি শনাক্তের কাজ করে না।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
C প্রোগ্রামিং ভাষার জনক কে?
  1. কেন থম্পসন
  2. ডেনিস রিচি
  3. অ্যালান টুরিং
  4. চার্লস সিমনি
ব্যাখ্যা

• ডেনিস রিচি: তিনি C প্রোগ্রামিং ভাষা উদ্ভাবন করেন এবং UNIX অপারেটিং সিস্টেম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
 
• কম্পিউটার ও আইসিটিতে বিভিন্ন বিষয়ের জনক:

• আধুনিক কম্পিউটারের জনক:
- চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)–কে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়।
- তিনি Analytical Engine–এর ধারণা প্রদান করেন।
 
• কম্পিউটার বিজ্ঞানের জনক:
- অ্যালান টুরিং (Alan Turing)–কে কম্পিউটার বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- তিনি Turing Machine ধারণা প্রদান করেন।
 
• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক(AI):
- জন ম্যাকার্থি (John McCarthy)–কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক বলা হয়।
- তিনিই প্রথম Artificial Intelligence শব্দটি ব্যবহার করেন।
 
• ইন্টারনেটের জনক:
- ভিন্ট সার্ফ (Vint Cerf) ও রবার্ট কান (Robert Kahn)–কে ইন্টারনেটের জনক বলা হয়।
- তারা TCP/IP প্রোটোকল উন্নয়ন করেন।
 
• World Wide Web-এর জনক:
- টিম বার্নার্স-লি (Tim Berners-Lee)–কে WWW–এর জনক বলা হয়।
- তিনি HTTP, HTML ও URL উদ্ভাবন করেন।
 
• ই-মেইলের জনক:
- রে টমলিনসন (Ray Tomlinson)–কে ই-মেইলের জনক বলা হয়।
- তিনি প্রথম ই-মেইলে @ (at) চিহ্ন ব্যবহার করেন।
 
• প্রোগ্রামিং ভাষার জনক (C Language):
- ডেনিস রিচি (Dennis Ritchie)–কে C প্রোগ্রামিং ভাষার জনক বলা হয়।
 
• অপারেটিং সিস্টেমের জনক (UNIX):
- ডেনিস রিচি ও কেন থম্পসন (Ken Thompson)–কে UNIX অপারেটিং সিস্টেমের জনক বলা হয়।
 
• কম্পিউটার মাউসের জনক:
- ডগলাস এঙ্গেলবার্ট (Douglas Engelbart)–কে কম্পিউটার মাউসের জনক বলা হয়।
 
• কম্পিউটার গ্রাফিক্সের জনক:
- ইভান সাদারল্যান্ড (Ivan Sutherland)–কে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের জনক বলা হয়।
 
• ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের জনক:
- চার্লস সিমনি (Charles Simonyi)–কে আধুনিক ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের পথিকৃৎ বলা হয়।
  
উৎস: ব্রিটানিকা।

১৫.
রোবোটিক্সের জনক কে?
  1. Joseph Engelberger
  2. John McCarthy
  3. Alan Turing
  4. Charles Babbage
ব্যাখ্যা

• Joseph Engelberger: Father of Robotics.
- John McCarthy: Father of Artificial Intelligence.
- Alan Turing: Father of Computer Science.
- Charles Babbage: Father of Modern Computer.

• রোবোটিক্স(Robotics):
- রোবোটিক্স হলো এমন একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শাখা, যেখানে রোবটের নকশা, নির্মাণ, প্রোগ্রামিং ও ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- রোবট হলো একটি স্বয়ংক্রিয় বা আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, যা নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম।
- রোবোটিক্সের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কাজকে সহজ, দ্রুত, নির্ভুল ও ঝুঁকিমুক্ত করা।
 
• রোবোটিক্সের জনক(Father of Robotics):
- জোসেফ এঙ্গেলবার্গার(Joseph Engelberger)–কে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- তিনি শিল্পক্ষেত্রে প্রথম কার্যকর শিল্প রোবট “Unimate” উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- আধুনিক শিল্প রোবোটিক্সের বিকাশে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 
• রোবোটিক্সের প্রধান উপাদান:
- হার্ডওয়্যার: সেন্সর, মোটর, অ্যাকচুয়েটর, কন্ট্রোল ইউনিট।
- সফটওয়্যার: প্রোগ্রামিং নির্দেশনা ও কন্ট্রোল অ্যালগরিদম।
- সেন্সর: পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
- অ্যাকচুয়েটর: নির্দেশ অনুযায়ী যান্ত্রিক কাজ সম্পন্ন করে।
 
• রোবোটিক্সের ব্যবহার ক্ষেত্র:
- শিল্প কারখানা ও উৎপাদন ব্যবস্থা।
- চিকিৎসা ও সার্জারি।
- মহাকাশ গবেষণা।
- সামরিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
- কৃষি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি।
 
• রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা:

- আধুনিক রোবোটিক্সে Artificial Intelligence(AI) ব্যবহৃত হয়।
- AI ব্যবহারের ফলে রোবট শেখা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে।
 
উৎস: Britannica.

১৬.
IBM 1620 কোন প্রজন্মের কম্পিউটার ছিল?
  1. প্রথম প্রজন্ম
  2. দ্বিতীয় প্রজন্ম
  3. তৃতীয় প্রজন্ম
  4. চতুর্থ প্রজন্ম
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরুর ইতিহাস:
- ১৯৬৪ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের IBM 1620 কম্পিউটারের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হয়।
- এটি ছিল IBM কোম্পানির একটি মেইনফ্রেম কম্পিউটার।
- IBM 1620 কম্পিউটারটি তৎকালীন পাকিস্তান পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়, যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র।
- এই কম্পিউটারটির প্রধান ব্যবহার ছিল জটিল গবেষণামূলক গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করা।
- বর্তমানে IBM 1620 কম্পিউটারটি ঢাকার আগারগাঁও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
 
• বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবহারের সম্প্রসারণ:
- ষাটের দশকের শেষ দিকে হাবিব ব্যাংক ও ইউনাইটেড ব্যাংক কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করে।
- ১৯৬৯ সালের দিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করে।
- এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যাংকিং ও পরিসংখ্যান খাতে কম্পিউটারের ব্যবহার বিস্তৃত হয়।
 
উৎস:
১. মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি–১, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।

১৭.
নিচের কোনটি অ্যানালগ কম্পিউটারের উদাহরণ?
  1. ডিজিটাল ঘড়ি
  2. ক্যালকুলেটর
  3. ল্যাপটপ
  4. অপারেশনাল অ্যাম্প্লিফায়ার
ব্যাখ্যা

• অ্যানালগ কম্পিউটার(Analog Computer):
-যে সকল কম্পিউটার বৈদ্যুতিক সংকেতের উপর নির্ভর করে ইনপুট গ্রহণ করে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করে, সেগুলোকে অ্যানালগ কম্পিউটার বলা হয়।
- অ্যানালগ কম্পিউটারে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের জন্য বর্ণ বা অঙ্কের পরিবর্তে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবহৃত হয়।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পর প্রাপ্ত ফলাফল সাধারণত মিটার, ডায়াল বা ওসিলোস্কোপে প্রদর্শিত হয়।
 
• অ্যানালগ কম্পিউটারের ব্যবহার:
- সাধারণত চাপ, তাপমাত্রা, তরল পদার্থের প্রবাহ ইত্যাদির ওঠানামা বা হ্রাস-বৃদ্ধি পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।
- গাড়ি, উড়োজাহাজ ও মহাকাশযানের গতিবেগ, বায়ু ও তরলের চাপ পরিমাপে অ্যানালগ কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা কক্ষের তাপমাত্রা পরিমাপ করার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।
 
• অ্যানালগ কম্পিউটারের উদাহরণ:
- মোটরগাড়ির স্পিডোমিটার,
- স্লাইড রুল,
- অপারেশনাল অ্যাম্প্লিফায়ার।
 
• অ্যানালগ কম্পিউটারের সীমাবদ্ধতা:
- অ্যানালগ কম্পিউটারের ফলাফলের সূক্ষ্মতা ও নির্ভুলতা তুলনামূলকভাবে কম।
- জটিল ও নির্ভুল গণনার ক্ষেত্রে এটি কম কার্যকর।

মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কারের ফলে কোন ধরনের কম্পিউটার তৈরি শুরু হয়?
  1. সুপার কম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. পার্সোনাল কম্পিউটার
  4. অ্যানালগ কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

• পার্সোনাল কম্পিউটার—মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার ছোট, সাশ্রয়ী ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে।

• মাইক্রোপ্রসেসর ও কম্পিউটারের অগ্রগতি:
- ইলেকট্রনিকসের দ্রুত উন্নতির সাথে সাথে কম্পিউটারের অগ্রগতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
- ১৯৭১ সালে IC (Integrated Circuit) এবং LSI (Large Scale Integration) প্রযুক্তির ভিত্তিতে মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কারের মাধ্যমে কম্পিউটার তৈরিতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটে।
- মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কারের ফলে কম্পিউটারের বহুমুখী ব্যবহার শুরু হয় এবং পার্সোনাল কম্পিউটার (Personal Computer) নির্মাণের পথ উন্মুক্ত হয়।
 
• মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহারের প্রভাব:
- মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহারের ফলে—
- কম্পিউটারের আকার ছোট হয়,
- দাম কমে যায়,
- বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়।
- এর ফলে কম্পিউটারের—
- কাজ করার ক্ষমতা,
- কাজের গতি,
- নির্ভরযোগ্যতা,
- বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
 
• মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার:
- যুক্তরাষ্ট্রের Intel কোম্পানি সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কার করে।
- এই আবিষ্কার আধুনিক কম্পিউটার যুগের সূচনা করে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

১৯.
নিচের কোনটি মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ?
  1. Linux
  2. CP/M
  3. Windows 98
  4. Palm OS
ব্যাখ্যা

• Linux: Multi User Operating System.
- Windows 98: Single User Operating System.
- CP/M: Single User Operating System.
- Palm OS: Single User Operating System.

• সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম(Single User Operating System):
- যে অপারেটিং সিস্টেমে একই সময়ে মাত্র একজন ব্যবহারকারী কাজ করতে পারে, তাকে সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়।
- একে অনেক সময় সিঙ্গেল টাস্কিং অপারেটিং সিস্টেমও বলা হয়।
- এই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়।
- সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ:
- CP/M,
- MS-DOS,
- PC-DOS,
- Windows 95,
- Windows 98,
- Symbian OS,
- Palm OS.

• মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেম(Multi User Operating System):
- যে অপারেটিং সিস্টেমে একই সময়ে একাধিক ব্যবহারকারী একটি কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে, তাকে মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়।
- এই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত সার্ভার ও বড় কম্পিউটার সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়।
- মাল্টি ইউজার অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ:
- Windows NT Server,
- Windows Server 2003,
- Windows Server 2008,
- UNIX,
- Linux,
- Android.

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

২০.
বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের একটি প্রধান সুবিধা কোনটি?
  1. উন্নত গ্রাফিক্স
  2. দ্রুত কাজের গতি
  3. মাল্টিমিডিয়া সমর্থন
  4. বেশি মেমরি ব্যবহার
ব্যাখ্যা

• বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম (Text-based OS) গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস নেই, কম রিসোর্স (CPU, RAM) ব্যবহার করে।
- ফলে— প্রসেসিং ও রেসপন্স দ্রুত হয়।
- তাই এর প্রধান সুবিধা "দ্রুত কাজের গতি"।

• বর্ণ বা টেক্সটভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম(Text Based Operating System):
- বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম হলো কমান্ড লাইন ইউজার ইন্টারফেস(Command Line Interface–CLI) নির্ভর অপারেটিং সিস্টেম।
- এই ধরনের সিস্টেমে ডিস্ক ফরমেটিং, ফাইল ব্যবস্থাপনা ও অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম পরিচালনার সব কাজ কীবোর্ডের মাধ্যমে কমান্ড লিখে সম্পন্ন করতে হয়।
- এজন্য ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন কমান্ড মুখস্থ রাখতে হয়।
- বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ:
- MS-DOS,
- PC-DOS,
- CP/M,
- UNIX,
- Linux.
 
• বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য:
- সিস্টেম পরিচালনার জন্য Root Prompt বা Command Prompt(C:>) ব্যবহার করা হয়।
- ডিস্ক ফরমেটিং, ফাইল ব্যবস্থাপনা, অ্যাপ্লিকেশন চালানো ও নতুন ডিভাইস শনাক্তকরণ—সব কাজই কমান্ডের মাধ্যমে করতে হয়।
- ব্যবহারকারীকে প্রয়োজনীয় কমান্ডসমূহ মুখস্থ রাখতে হয়।
- নতুন হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার সংযুক্ত হলে ব্যবহারকারীকে কমান্ডের মাধ্যমে সংযোগের তথ্য জানাতে হয়।
- সাধারণত গ্রাফিক্যাল নেটওয়ার্ক সুবিধা সীমিত, তবে UNIX ও Linux–এ নেটওয়ার্কিং সুবিধা কার্যকর।
- অল্প সংখ্যক কমান্ড ব্যবহার করেই কম্পিউটার পরিচালনা করা সম্ভব।
- এই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম খুব দ্রুত কাজ করতে সক্ষম।
- মাল্টিমিডিয়া সুবিধা কার্যকর নয়।
- কম্পিউটার পরিচালনার জন্য কম মেমরির প্রয়োজন হয়।

 উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

২১.
চাপ, তাপমাত্রা ও তরল পদার্থের প্রবাহ পরিমাপে কোন কম্পিউটার বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. পার্সোনাল কম্পিউটার
  2. মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  3. ডিজিটাল কম্পিউটার
  4. অ্যানালগ কম্পিউটার
ব্যাখ্যা

• অ্যানালগ কম্পিউটার: চাপ, তাপ ও প্রবাহের মতো ক্রমাগত পরিবর্তনশীল মান পরিমাপে ব্যবহৃত হয়।

• কম্পিউটারের শ্রেণিভাগ(গঠন ও কাজের ধরন অনুযায়ী):
- কম্পিউটার হলো একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা নিজস্ব স্মৃতিভাণ্ডারে সুনির্দিষ্ট এক বা একাধিক কাজের নির্দেশ সংরক্ষণ করে।
- কম্পিউটার দ্বারা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও নির্ভুলভাবে জটিল হিসাব-নিকাশসহ বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করা যায়।
- গঠন, কাজের ধরন ও প্রকৃতির ভিত্তিতে কম্পিউটারকে প্রধানত তিন ভাগে শ্রেণিবিভাগ করা হয়—
- অ্যানালগ কম্পিউটার,
- ডিজিটাল কম্পিউটার,
- হাইব্রিড কম্পিউটার।
 
• অ্যানালগ কম্পিউটার(Analog Computer):
- যে সকল কম্পিউটার বৈদ্যুতিক সংকেতের উপর নির্ভর করে ইনপুট গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করে, সেগুলোকে অ্যানালগ কম্পিউটার বলা হয়।
- এই কম্পিউটারে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল মান ব্যবহার করে কাজ করা হয়।
- সাধারণত চাপ, তাপমাত্রা, তরল পদার্থের প্রবাহ ইত্যাদির ওঠানামা বা হ্রাস-বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য অ্যানালগ কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।
- অ্যানালগ কম্পিউটারের ফলাফলের সূক্ষ্মতা তুলনামূলকভাবে কম।
 
• ডিজিটাল কম্পিউটার(Digital Computer):
- যে সকল কম্পিউটার ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে, সেগুলোকে ডিজিটাল কম্পিউটার বলা হয়।
- ডিজিটাল কম্পিউটার অ্যানালগ কম্পিউটারের তুলনায় দ্রুতগতিসম্পন্ন ও অধিক কার্যকর।
- ডিজিটাল কম্পিউটারের ফলাফলের নির্ভুলতা ও সূক্ষ্মতা অনেক বেশি।
- বর্তমানে বাজারে প্রচলিত প্রায় সকল কম্পিউটারই ডিজিটাল কম্পিউটার।
 
• ডিজিটাল কম্পিউটারের উদাহরণ:
- মাইক্রোকম্পিউটার,
- মিনি কম্পিউটার,
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার,
- সুপার কম্পিউটার।
 
• হাইব্রিড কম্পিউটার(Hybrid Computer):
- অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে গঠিত কম্পিউটারকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলা হয়।
- এতে অ্যানালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য একসাথে বিদ্যমান থাকে।

 উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

২২.
সফটওয়্যার কী?
  1. কম্পিউটারের ভৌত অংশ
  2. কম্পিউটারের নির্দেশনা ও ডেটার সমষ্টি
  3. কম্পিউটারের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা
  4. কম্পিউটারের যান্ত্রিক অংশ
ব্যাখ্যা

• সফটওয়্যার (Software) হলো—
- কম্পিউটারকে কী করতে হবে তা নির্দেশনা দেয় এমন program, instruction ও data–এর সমষ্টি।
- সফটওয়্যার স্পর্শযোগ্য নয় (intangible)।
- হার্ডওয়্যারকে কাজ করানোর জন্য সফটওয়্যার অপরিহার্য।

• হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার(Hardware & Software):
- হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের দেহ, আর সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের প্রাণ।
- কম্পিউটারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা ও নির্দেশনার সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলা হয়।
- সফটওয়্যার একটি অদৃশ্য শক্তি, যা দেখা বা স্পর্শ করা যায় না।
- কম্পিউটার তৈরিতে ব্যবহৃত সকল ভৌত যন্ত্র, যন্ত্রাংশ ও ডিভাইসসমূহকে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বলা হয়।
- হার্ডওয়্যারকে দেখা ও স্পর্শ করা যায়।
- ব্যবহারকারীর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়ার জন্য হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উভয়েরই প্রয়োজন।
- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার একে অপরের পরিপূরক।
- সফটওয়্যার ছাড়া শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার দিয়ে কম্পিউটার কোনো কাজ করতে পারে না।
- একইভাবে হার্ডওয়্যার ছাড়া শুধুমাত্র সফটওয়্যার দিয়েও কোনো কাজ সম্পাদন করা সম্ভব নয়।

 উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

২৩.
নিচের কোনটি সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রামের উদাহরণ?
  1. Compiler
  2. Assembler
  3. MS Office
  4. Operating System
ব্যাখ্যা

• সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রাম (Application Software) হলো—
- যেসব সফটওয়্যার ব্যবহারকারী সরাসরি দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যবহার করে।
- MS Office একটি জনপ্রিয় Application Software suite.
- এতে Word, Excel, PowerPoint ইত্যাদি থাকে।
- ডকুমেন্ট তৈরি, হিসাব, প্রেজেন্টেশন কাজে ব্যবহৃত হয়।

• সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রাম বা প্যাকেজ প্রোগ্রাম(Application / Package Program):
- বাণিজ্যিকভাবে সুনির্দিষ্ট ব্যবহারিক কাজের জন্য তৈরি সফটওয়্যারকে সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রাম বা প্যাকেজ প্রোগ্রাম বলা হয়।
- ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসব প্রোগ্রাম তৈরি করে।
- এই ধরনের সফটওয়্যার সরাসরি ব্যবহারকারীর কাজ সহজ ও দ্রুত করে।
 
• সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রামের ব্যবহার:
- MS Word ব্যবহার করে ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের কাজ করা হয়।
- MS Excel ব্যবহার করে হিসাব-নিকাশ ও স্প্রেডশিটের কাজ করা হয়।
- MS Access ব্যবহার করে ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার কাজ করা হয়।
- সাধারণ ব্যবহারকারীরা দৈনন্দিন অফিস, শিক্ষা ও ব্যক্তিগত কাজে এসব প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন।
 
• উল্লেখযোগ্য সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রাম:
- MS Office,
- Internet Explorer,
- Netscape Navigator,
- Netscape Communicator,
- Electronic Mail(E-mail),
- PageMaker,
- Photoshop,
- Illustrator.
 
• সাধারণ ব্যবহারিক প্রোগ্রামের বৈশিষ্ট্য:
- ব্যবহারবান্ধব।
- নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি।
- বাণিজ্যিকভাবে বাজারে উপলব্ধ।
- প্রাত্যহিক সমস্যা সমাধানে সহায়ক।

• অন্যান্য অপশন:
- Compiler: প্রোগ্রাম অনুবাদের জন্য ব্যবহৃত সিস্টেম সফটওয়্যার।
- Assembler: অ্যাসেম্বলি ভাষা অনুবাদের জন্য ব্যবহৃত অনুবাদক প্রোগ্রাম।
- Operating System: কম্পিউটার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত সিস্টেম সফটওয়্যার।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

২৪.
মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট কী ধরনের সফটওয়্যার?
  1. ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার
  2. স্প্রেডশিট সফটওয়্যার
  3. ডেটাবেজ সফটওয়্যার
  4. প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট হলো একটি প্রেজেন্টেশন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।

• মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট(MS PowerPoint):
- মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট হলো একটি প্রেজেন্টেশন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
- এটি Microsoft Office প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম।
- পাওয়ার পয়েন্ট একটি গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টেশন টুল, যার মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপন সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে করা যায়।
- প্রেজেন্টেশনের প্রতিটি পৃষ্ঠাকে স্লাইড(Slide) বলা হয়।
- প্রেজেন্টেশন প্রদর্শনের সময় এক স্লাইড থেকে অন্য স্লাইডে স্থানান্তর করা যায়।
- লেখার পাশাপাশি ছবি, চার্ট, টেবিল, অডিও ও ভিডিও যুক্ত করা যায়।
 
• পাওয়ার পয়েন্টের ব্যবহার:
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ উপস্থাপন।
- অফিস মিটিং ও সেমিনার।
- ব্যবসায়িক রিপোর্ট ও পরিকল্পনা উপস্থাপন।
- গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
 
• পাওয়ার পয়েন্ট ব্যবহারের সুবিধা:
- বড় পর্দায় সহজে প্রেজেন্টেশন দেখানো যায়।
- তথ্যকে গ্রাফিক্যাল ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়।
- চার্ট ও ডায়াগ্রামের মাধ্যমে তথ্য সহজে বোঝানো যায়।
- Excel ও MS Word–এর তথ্য সরাসরি যুক্ত করা যায়।
- স্লাইডে অ্যানিমেশন ও ট্রানজিশন ব্যবহার করা যায়।
- প্রেজেন্টেশনে অডিও ও ভিডিও সংযোজন করা যায়।
- টাইমিং নির্ধারণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্লাইড প্রদর্শন করা যায়।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

২৫.
প্রোগ্রামের ভুল বা ত্রুটি খুঁজে বের করে সংশোধনের প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. Debugging
  2. Testing
  3. Compiling
  4. Coding
ব্যাখ্যা

• প্রোগ্রামের ভুল বা ত্রুটি খুঁজে বের করে সংশোধনের প্রক্রিয়াকে ডিবাগিং(Debugging) বলা হয়।

• প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন(Program Implementation):
- পরিকল্পনা অনুযায়ী সফটওয়্যার উন্নয়নের সকল কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন ধাপ শুরু হয়।
- এই ধাপে প্রোগ্রাম কোডিং করার পর প্রোগ্রাম রান করা হয়।
- প্রোগ্রাম রান করার মাধ্যমে ভুল বা ত্রুটি আছে কি না তা যাচাই করা হয়।
- এই পর্যায়ে মূলত প্রোগ্রাম টেস্টিং ও ডিবাগিং করা হয়।
 
• প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ:
- প্রোগ্রাম টেস্টিং(Program Testing)
- প্রোগ্রাম ডিবাগিং(Program Debugging)
 
• বাগ ও ডিবাগিং:
- প্রোগ্রামের ভুল বা ত্রুটিকে বাগ(Bug) বলা হয়।
- প্রোগ্রামের ভুল বা ত্রুটি খুঁজে বের করে সংশোধনের প্রক্রিয়াকে ডিবাগিং(Debugging) বলা হয়।
 
• লজিক্যাল ভুল(Logical Error):
- যুক্তিগত বা লজিক্যাল ভুল সংশোধন করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।
- কারণ লজিক্যাল ভুল হলে কম্পিউটার সাধারণত কোনো ত্রুটি বার্তা প্রদর্শন করে না।
- লজিক্যাল ভুল নির্ণয়ের জন্য প্রথমে কিছু নির্দিষ্ট ইনপুট ডেটা নিয়ে হাতে-কলমে ফলাফল বের করা হয়।
- এরপর একই ডেটা প্রোগ্রামে ইনপুট দিয়ে আউটপুট মিলিয়ে দেখা হয়।
- এ পদ্ধতিকে প্রোগ্রাম টেস্টিং বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- Coding: প্রোগ্রামের নির্দেশনা লেখার প্রক্রিয়া।
- Testing: প্রোগ্রামে ভুল আছে কি না তা যাচাই করার প্রক্রিয়া।
- Compiling: সোর্স প্রোগ্রামকে মেশিন ভাষায় অনুবাদ করার প্রক্রিয়া।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ প্রোগ্রাম)।

২৬.
কম্পাইলার কীভাবে প্রোগ্রাম অনুবাদ করে?
  1. এক লাইন এক লাইন করে
  2. ধাপে ধাপে
  3. একসাথে সম্পূর্ণ প্রোগ্রাম
  4. আংশিকভাবে
ব্যাখ্যা

• কম্পাইলার পুরো সোর্স প্রোগ্রাম একবারে মেশিন ভাষায় অনুবাদ করে।

• কম্পাইলার(Compiler):
- সম্পূর্ণ প্রোগ্রামকে একসাথে অনুবাদ করে।
- আকারে বড় ধরনের প্রোগ্রাম।
- প্রোগ্রাম নির্বাহের গতি তুলনামূলক দ্রুত।
- কাজ করার জন্য প্রধান মেমরিতে বেশি জায়গা প্রয়োজন।
- ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগে।
- প্রোগ্রামের সবগুলো ভুল একসাথে প্রদর্শন করে।

• ইন্টারপ্রেটার(Interpreter):
- প্রোগ্রামকে এক লাইন এক লাইন করে অনুবাদ করে।
- আকারে ছোট ধরনের প্রোগ্রাম।
- প্রোগ্রাম নির্বাহের গতি তুলনামূলক ধীর।
- কাজ করার জন্য প্রধান মেমরিতে কম জায়গা প্রয়োজন।
- ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের ক্ষেত্রে সময় কম লাগে।
- প্রতিটি লাইনের ভুল দেখিয়ে সাথে সাথে অনুবাদ বন্ধ করে দেয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।