পরীক্ষা আর্কাইভ

ICT Expert

পরীক্ষাICT Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ টপিক: দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার, কার্যক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার, কম্পিউটার প্রোগ্রাম। [ক্লাস ১১, ১২ ও ১৩]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ICT Expert

ICT Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
ক্রায়োসার্জারি ব্যবহারের প্রধান কারণ কী?
  1. টিস্যু সরানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা
  2. ক্যান্সার কোষে রেডিয়েশন প্রয়োগ করা 
  3. অস্বাভাবিক টিস্যু ঠান্ডা করে ধ্বংস করা
  4. টিস্যু গরম করে পুড়ানো 
ব্যাখ্যা

• ক্রায়োসার্জারি হলো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে অত্যন্ত কম তাপমাত্রা ব্যবহার করে অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর টিস্যু ধ্বংস করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোকে নিরাপদভাবে অপসারণ বা ধ্বংস করা, বিশেষ করে ক্যান্সার বা অন্যান্য অসামান্য কোষের ক্ষেত্রে। এই প্রক্রিয়ায় তরল নাইট্রোজেন বা অন্যান্য ঠান্ডা পদার্থ ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক টিস্যুকে দ্রুত জমিয়ে ধ্বংস করা হয়। এটি একটি কম আক্রমণাত্মক পদ্ধতি যা সাধারণত রোগীর দ্রুত সুস্থতার সুযোগ দেয় এবং চারপাশের সুস্থ টিস্যুকে প্রায় ক্ষতিমুক্ত রাখে। সুতরাং, ক্রায়োসার্জারির মূল কারণ হলো অস্বাভাবিক টিস্যু ঠান্ডা করে ধ্বংস করা।
- সঠিক উত্তর হলো গ) অস্বাভাবিক টিস্যু ঠান্ডা করে ধ্বংস করা।

• ক্রায়োসার্জারি-
ক্রায়োসার্জারি হলো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে অত্যন্ত ঠান্ডা (সাধারণত তরল নাইট্রোজেন) ব্যবহার করে শরীরের অস্বাভাবিক বা ক্যান্সারগ্রস্ত কোষ বা টিস্যু ধ্বংস করা হয়।

• এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো নিন্মে দেওয়া হলো:
- তরল নাইট্রোজেন,
- তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড,
- আর্গন,
- ইথাইল ক্লোরাইড,
- ফ্লোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন, ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

.
কম্পিউটার কোন ভাষাকে সরাসরি প্রক্রিয়া করতে পারে?
  1. হাই-লেভেল ভাষা
  2. সি++
  3. সিউডোকোড
  4. মেশিন ভাষা 
ব্যাখ্যা

• কম্পিউটার সরাসরি মেশিন ভাষা প্রক্রিয়া করতে পারে। মেশিন ভাষা হলো বাইনারি কোডের একটি ধারা, যা ০ এবং ১ দিয়ে গঠিত। এটি কম্পিউটারের প্রসেসর বুঝতে পারে এবং সরাসরি হার্ডওয়্যারে কার্যকর হয়। অন্যদিকে, হাই-লেভেল ভাষা যেমন সি++, জাভা বা পাইথন মানুষের জন্য বোঝার উপযোগী হলেও কম্পিউটার সরাসরি এটি বুঝতে পারে না। এগুলোকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করতে কম্পাইলার বা ইন্টারপ্রেটার ব্যবহার করা হয়। সিউডোকোড শুধু প্রোগ্রামের লজিক বোঝানোর জন্য লেখা হয়, এটি কার্যকর কোড নয়।
- তাই, কম্পিউটার সরাসরি যে ভাষা প্রক্রিয়া করতে পারে, তা হলো মেশিন ভাষা।

 
• মেশিন ভাষা:
- কম্পিউটারে সবচেয়ে নিচের স্তরের ভাষা হলো মেশিন ভাষা।
- কম্পিউটারের নিজস্ব ভাষাকে মেশিন ভাষা বা নিম্নস্তরের ভাষা বলা হয়।
- কম্পিউটারের মৌলিক ভাষা হলো এই নিম্নস্তরের ভাষা।
- এ ভাষায় বাইনারি সংখ্যা (1) এবং (0) অথবা হেক্সাডেসিম্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করে সবকিছু লেখা হয়।
- কম্পিউটার শুধুমাত্র মেশিন ভাষাই বুঝতে পারে।
- কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ কার্যনির্বাহের জন্য বিদ্যুৎ তরঙ্গের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সাথে মেশিনের ভাষার সরাসরি মিল রয়েছে।

• মেশিন ভাষার সুবিধা:
- এই ভাষা দিয়ে সরাসরি মেমোরি অ্যাড্রেসের সাথে সংযোগ সাধন সম্ভব।
- সবচেয়ে কম পরিমাণ লজিক ও কম মেমোরিতে এই ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা যায়।
- এ ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম নির্বাহের জন্য অনুবাদক প্রোগ্রাম দরকার হয় না।
- মেশিন ভাষা অন্যান্য ভাষা থেকে দ্রুত কাজ করে।

• মেশিন ভাষার অসুবিধা:
- এই ভাষায় প্রোগ্রাম লেখা অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও সময়সাপেক্ষ।
- এক ধরনের মেশিনের জন্য লিখিত প্রোগ্রাম অন্য ধরনের মেশিনে ব্যবহার করা যায় না।
- মেশিন ভাষায় প্রোগ্রাম লিখতে দক্ষ প্রোগ্রামার প্রয়োজন।
- প্রোগ্রামের ভুল-ত্রুটি সনাক্ত ও সংশোধন কষ্টসাধ্য।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'সি++' প্রোগ্রামিং ভাষা ডেভেলপ করার কৃতিত্ব কার?
  1. গুইডো ভ্যান রাসম
  2. বিল গেটস
  3. ডেনিস রিচি
  4. বিয়ার্নে স্ট্রোট্রুপ
ব্যাখ্যা

• সি++ প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরি করেছিলেন ডেনিশ প্রোগ্রামার বিয়ার্নে স্ট্রস্ট্রুপ। মূলত সি++ হলো ‘সি’ ভাষার একটি উন্নত সংস্করণ, যা অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং সাপোর্ট করে। বিয়ার্নে স্ট্রস্ট্রুপের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ভাষা তৈরি করা যা শক্তিশালী, নমনীয় এবং বড় সফটওয়্যার সিস্টেম তৈরির জন্য উপযোগী। সি++ ব্যবহার করে ডেভেলপাররা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উভয় ক্ষেত্রে কার্যকরী প্রোগ্রাম লিখতে পারে। এই ভাষার জনপ্রিয়তা এখনো বহুল ব্যবহৃত কারণ এটি দ্রুত, শক্তিশালী এবং বিভিন্ন ধরণের অ্যাপ্লিকেশন যেমন গেম, সিস্টেম সফটওয়্যার এবং এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত হয়।

- উত্তর: ঘ) বিয়ার্নে স্ট্রোট্রুপ। 

• সি++:
- সি++ এক ধরনের অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা।
- ১৯৮০ সালে বিয়ার্নে স্ট্রোট্রুপ (Biarne Stroustrup) যুক্তরাষ্ট্রের এটিএন্ডটি বেল ল্যাবরোটরিতে (AT&T Bell Laboratary) এটি ডেভেলপ করেন।
- মূলত সিমলা ৬৭ এবং সি প্রোগ্রামিং ভাষার সুবিধাজনক বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয় সাধন করে সি++ তৈরি হয়।
- সি++ একটি মধ্যম শ্রেণীর প্রোগ্রামিং ভাষা যাতে উচ্চ স্তর এবং নিম্ন স্তর ভাষাগুলোর সুবিধা সংযুক্ত আছে।
- এটি সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা এবং সফ্টওয়্যার শিল্পে এটি বহুল ব্যবহৃত হয়। যেমন-সিস্টেম সফ্টওয়‍্যার, এপ্লিকেশন সফ্টওয়‍্যার, ডিভাইস ড্রাইভার, এম্বেডেড সফ্টওয়্যার, উচ্চ মানের সার্ভার ও ক্লায়েন্ট এপ্লিকেশন, বিনোদন সফ্টওয়্যার ইত্যাদি।
- সি++ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষাকে প্রভাবিত করেছে যার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাভা।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
একটি সমস্যা সমাধানে ধারাবাহিক পদক্ষেপ অনুসরণ করার পদ্ধতিকে কী বলা হয়?
  1. কুয়েরি
  2. কম্পাইলিং
  3. অ্যালগরিদম
  4. কোডিং
ব্যাখ্যা

• একটি সমস্যা সমাধানের জন্য ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ অনুসরণের পদ্ধতিকে অ্যালগরিদম বলা হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা ধারা, যা কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা সমস্যার সমাধান করার জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেয়। অ্যালগরিদম শুধু প্রোগ্রামিংয়ের ক্ষেত্রে নয়, দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার সমাধানেও ব্যবহার করা যায়। যেমন, রেসিপি অনুযায়ী খাবার বানানো বা কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য ধাপগুলো অনুসরণ করা—এগুলোও অ্যালগরিদমের উদাহরণ। অ্যালগরিদমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি সুনির্দিষ্ট, সীমিত এবং কার্যকর হওয়া। সুতরাং, সমস্যার সমাধানে ধাপে ধাপে পরিকল্পিত এবং সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি হলো অ্যালগরিদম।

- সঠিক উত্তর: গ) অ্যালগরিদম।

• অ্যালগরিদম:
- কোন একটি সমস্যা সমাধানের জন্য কতকগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
- অ্যালগরিদম অর্থ ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধান।
- যে পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করা হয় তাকে অ্যালগরিদম বলা হয়।
- অ্যালগরিদম হচ্ছে একটি প্রোগ্রামের পরিকল্পনা ও যৌক্তিক বিন্যাসের লিখিত বর্ণনা।

• অ্যালগরিদমের বৈশিষ্ট্য:
১. অ্যালগরিদমে শূন্য, এক বা একাধিক ইনপুট থাকে।
২. কমপক্ষে একটি আউটপুট থাকে।
৩. প্রত্যেকটি ধাপ স্পষ্ট থাকে।
৪. অ্যালগরিদম সহজবোধ্য।
৫. নির্দিষ্ট সংখ্যক ধাপে সমস্যার সমাধান হয়।
৬. একে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে কাকে গণ্য করা হয়?
  1. অ্যাডা অগাস্টা
  2. মারিয়া এগনেসি
  3. আলান টুরিং
  4. জন ভন নিউম্যান
ব্যাখ্যা

• প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে সাধারণভাবে অ্যাডা অগাস্টাকে (Ada Augusta) গণ্য করা হয়। তিনি লর্ড বাইরনের যান্ত্রিক গণনার জন্য ডিজাইন করা যন্ত্র, যাকে চ্যার্লস ব্যাবেজের অ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিন বলা হয়, তার জন্য প্রথম প্রোগ্রাম লিখেছিলেন। অ্যাডা অগাস্টা শুধু প্রোগ্রাম লিখেছেনই না, তিনি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর ধারণাকেও তাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার লেখা প্রোগ্রামে লজিক্যাল অপারেশন, লুপ এবং শর্ত অনুযায়ী হিসাব করার পদ্ধতির উল্লেখ আছে, যা আধুনিক প্রোগ্রামিং-এর প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেছে। তাই কম্পিউটার বিজ্ঞানে তার অবদান চিরস্মরণীয় এবং তাকে প্রথম প্রোগ্রামার হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- সঠিক উত্তর: ক) অ্যাডা অগাস্টা।

• প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার:
- ১৭৮৬ সালে জার্মানির মুলার 'ডিফারেন্স ইঞ্জিন' নামে পরিচিত একটি ক্যালকুলেটর বা গণনা যন্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেন।
- এর প্রায় দুই যুগ পর ১৮১২ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage) আরো উন্নত ডিফারেন্স ইঞ্জিন (Difference Engine) বা বিয়োগ ফলভিত্তিক গণনার যন্ত্র উদ্ভাবনের পরিকল্পনা করেন।
- চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়।
- ১৮৩৩ সালে ব্যাবেজ 'অ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিন' নামে অপর একটি যন্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা করেন এবং নকশা তৈরি করেন।
- ব্যাবেজ আধুনিক কম্পিউটারের মতোই তাঁর মেশিনে নিয়ন্ত্রণ অংশ, গাণিতিক অংশ, স্মৃতি অংশ, গ্রহণ মুখ, নির্গমন মুখ চিহ্নিত করেন।
- অ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিনের পরিকল্পনা ও উন্নয়নে ইংরেজ কবি লর্ড বায়রনের কন্যা অগাস্টা এডা বায়রনের (Augusta Ada Byron) অবদান অনস্বীকার্য।
- এ যন্ত্রে সাধারণ অ্যাসেম্বলি ভাষার মতোই প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হতো।
- এডা লাভল্যাচ অ্যানালাইটিক্যাল ইঞ্জিনের জন্য প্রোগ্রাম রচনা করেন।
- প্রকৃতপক্ষে এডা লাভল্যাস অগাস্টাই (Ada Lovelace) পৃথিবীর সর্বপ্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার।
- আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষা এডা তাঁর নামানুসারেই রাখা হয়।

উৎস:
১. মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

.
কোন তাত্ত্বিক ধারণার ওপর ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নির্ভর করে?
  1. সিমুলেশন তত্ত্ব
  2. শিক্ষণ তত্ত্ব
  3. অভিবাসন তত্ত্ব
  4. কানেকটিভিটি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) মূলত সিমুলেশন তত্ত্ব-এর ওপর নির্ভর করে। সিমুলেশন তত্ত্ব অনুযায়ী, বাস্তব বা কল্পিত পরিবেশকে কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুকরণ করা যায়, যাতে ব্যবহারকারী সেই পরিবেশের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারে এবং বাস্তবতার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারীকে একটি কৃত্রিম কিন্তু বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতার মধ্যে নিয়ে যায়, যেখানে দৃষ্টি, শ্রবণ এবং স্পর্শের মাধ্যমে পরিবেশকে অনুভব করা যায়। এটি শিক্ষার, প্রশিক্ষণ বা বিনোদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর, কারণ ব্যবহারকারী বাস্তব পরিবেশের ঝুঁকি বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুশীলন করতে পারে।
- সুতরাং, VR-এর মূল ভিত্তি হল পরিবেশের সিমুলেশন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার অনুকরণ।


• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি:
- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো বস্তু, ঘটনা বা পরিবেশের বাস্তবভিত্তিক বা ত্রিমাত্রিক চিত্রভিত্তিক রূপায়ণকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলা হয়।
- প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্যোগকারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা ব্যবহারকারীর কাছে সত্য ও বাস্তব মনে হয়।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রি-মাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও করা সম্ভব হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কোন ই-মেইল সার্ভিসটি মাইক্রোসফটের অধীনে পরিচালিত হয়?
  1. আউটলুক
  2. ইএম ক্লায়েন্ট
  3. মালবেরি
  4. ফক্সমেইল
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোসফটের অধীনে পরিচালিত ই-মেইল সার্ভিস হল আউটলুক (Outlook)। আউটলুক একটি জনপ্রিয় ই-মেইল ক্লায়েন্ট এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, যা মাইক্রোসফট কর্পোরেশন দ্বারা তৈরি ও পরিচালিত হয়। এটি কেবল ই-মেইল পাঠানো এবং গ্রহণ করার সুবিধা দেয় না, বরং এতে ক্যালেন্ডার, কন্টাক্ট, টাস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং নোট ফিচারও রয়েছে। আউটলুক ব্যবহারকারীদের পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবন সহজভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ইএম ক্লায়েন্ট, মালবেরি, এবং ফক্সমেইল মাইক্রোসফটের প্রোডাক্ট নয়; এগুলি অন্য কোম্পানি বা ডেভেলপারদের তৈরি বিভিন্ন ই-মেইল ক্লায়েন্ট। তাই মাইক্রোসফটের অধীনে পরিচালিত একমাত্র ই-মেইল সার্ভিস আউটলুক।
 
 • ই-মেইল (E-mail):
- ইলেকট্রনিক মেইল (Electronic mail)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে ই-মেইল (E-mail)।
- ই-মেইল বলতে কম্পিউটার, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন ইত্যাদি ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল তথ্য বিনিময় করাকে বোঝায়।
- ১৯৭১ সালে Ray Tomlinson সর্বপ্রথম ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য কম্পিউটারে ই-মেইল পাঠাতে সক্ষম হন। তাই তাকে ই-মেইলের জনক বলা হয়।

• ই-মেইল এর জন্য ব্যবহৃত সাধারণ সফটওয়্যারসমূহ:
- ওয়েব ভিত্তিক ই-মেইল এর বাইরে ই-মেইলের জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামও ব্যবহার করা যায়।
- এদের কিছু বিনামূল্যে পাওয়া যায় আবার কিছু কিনে ব্যবহার করতে হয়।
- মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন ইমেইল সেবা হলো - আউটলুক (Outlook)।

• ই-মেইল ক্লায়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- জি-মেইল (Gmail),
- ইয়াহু মেইল (Yahoo Mail),
- মোজিলা থান্ডারবার্ড (Mozilla Thunderbird),
- ইএম ক্লায়েন্ট (eM Clent),
- ক্লজ মেইল (Claws Mail),
- ফক্সমেইল (Foxmail),
- অপেরা এমটু মেইল ক্লায়েন্ট (Opera M2 Mail Client),
- পেগাসাস মেইল (Pegasus Mail),
- ইনক্রেডিমেইল (Incredimail),
- মালবেরি (Mulberry),
- ড্রিম মেইল (Dream Mail),
- সিলফিড (SyIpheed),
- আউটলুক (Outlook),
- জিমব্রা (Zimbra),
- পোস্টবক্স (Portbox), ইত্যাদি।

উৎস:
১. কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-২, এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল)।
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. স্পিচ প্রসেসিং
  2. মেশিন লার্নিং
  3. ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো ঘ) সবগুলোই।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) হলো একটি প্রযুক্তি যা কম্পিউটার বা মেশিনকে মানুষের মতো চিন্তা, শেখা, বোঝা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। এর মধ্যে স্পিচ প্রসেসিং ব্যবহার করে মেশিন মানুষের ভাষা বা শব্দ চিনতে পারে এবং সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। মেশিন লার্নিং হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি শাখা, যা ডেটা বিশ্লেষণ করে মেশিনকে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে সাহায্য করে। ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP) মানুষের ভাষা বোঝা এবং প্রক্রিয়াকরণের প্রযুক্তি, যা চ্যাটবট, ট্রান্সলেশন সিস্টেম এবং কণ্ঠ-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত হয়। তাই সবগুলোই AI-র সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।


• আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স:
- চিন্তাশক্তি, বুদ্ধি কিংবা বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের সহজাত, একটি যন্ত্রকে মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, সেটিকে চিন্তা করানো কিংবা বিশ্লেষণ করানোর ক্ষমতা দেওয়ার ধারণাটিকে সাধারণভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলা হয়।
- কিছুদিন আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ছিল দূর ভবিষ্যতের একটি কাল্পনিক বিষয়।
- পৃথিবীর মানুষ ডিজিটাল বিশ্বে এমনভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে যে, হঠাৎ করে অচিন্তনীয় পরিমাণ ডেটা সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই ডেটাকে প্রক্রিয়া করার মতো ক্ষমতাশালী কম্পিউটার আমাদের হাতে চলে এসেছে।
- এই ডেটা বা তথ্যকে প্রক্রিয়া করার জন্য অনেক সময় সাধারণ কম্পিউটার প্রোগ্রাম যথেষ্ট নয়, এমন অ্যালগরিদম বা পদ্ধতি প্রয়োজন যার মাধ্যমে কম্পিউটার চিন্তা করে কোনো সমাধান বের করতে পারে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে ঠিক যেমনটা মানুষ বা অন্যান্য বুদ্ধিমান প্রাণী করে থাকে।
- এ ধরণের পদ্ধতি এবং অ্যালগরিদম নিয়েই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কাজ করে থাকে।
- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের আওতায় বেশ কিছু ক্ষেত্র রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ মেশিন লার্নিং, রোবটিক্স, কম্পিউটার ভিশন, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP), স্পিচ প্রসেসিং ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ- দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি।

.
নিচের কোনটি ই-কমার্সের ধরন হিসেবে গণ্য হয় না?
  1. M2B
  2. B2C
  3. C2C
  4. B2B
ব্যাখ্যা

• ই-কমার্স বা ইলেকট্রনিক কমার্স হলো পণ্য ও সেবা অনলাইনে কেনাবেচার প্রক্রিয়া। এর প্রধান ধরনগুলো হলো B2C (Business to Consumer), যেখানে ব্যবসা সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য বিক্রি করে; C2C (Consumer to Consumer), যেখানে সাধারণ মানুষ একে অপরের সঙ্গে পণ্য বা সেবা লেনদেন করে; এবং B2B (Business to Business), যেখানে ব্যবসাগুলো একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করে। কিন্তু M2B (Manufacturer to Business) সাধারণত ই-কমার্সের পরিচিত কোনো ধরন হিসেবে স্বীকৃত নয়। এটি প্রথাগত বা বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে, তবে ই-কমার্সের মূল ধরনগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
- সুতরাং, প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে M2B ই-কমার্সের ধরন হিসেবে গণ্য হয় না।


• ই-কমার্স:
- ইলেকট্রনিক কমার্সকে সংক্ষেপে ই-কমার্স বলা হয়।
- ই-বাণিজ্য একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র যেখানে কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেম এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে।
- আধুনিক ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য কাজ পরিচালনা করে।
- ই-কমার্সের কল্যাণে ঘরে বসেই কম্পিউটারের সাহায্যে ক্রেতারা সারা বিশ্বের বাজারজাতকারীদের পণ্য ও সেবা সার্চ করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ডার দিতে পারে।
- অর্ডার প্রদান ও পণ্য ডেলিভারী গ্রহণে স্বল্পতম সময় ব্যয় হয়।
- ইলেকট্রনিক কমার্স হচ্ছে ডিজিটাল ডাটা প্রসেসিং।

- সেবা ও পণ্য লেনদেনের ভিত্তিতে ই-কমার্সকে সাধারণত চারটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১। ব্যবসা থেকে ব্যবসা (Business to Business B2B),
২। ব্যবসা থেকে ভোক্তা (Business to Consumer B2C),
৩। ভোক্তা থেকে ব্যবসা (Consumer to Business C2B) ও
৪। ভোক্তা থেকে ভোক্তা (Consumer to Consumer C2C)।

উৎস: ইলেকট্রনিক কমার্স, এমবিএ প্রোগ্রাম।

১০.
কোন প্রক্রিয়ায় মানবদেহের ইনসুলিন জিনকে ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবিষ্ট করে বাণিজ্যিক ইনসুলিন উৎপাদন করা হয়?
  1. বায়োমেট্রিক পদ্ধতি
  2. ক্রায়োসার্জারি
  3. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
  4. ন্যানো টেকনোলজি
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের ইনসুলিন জিনকে ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবিষ্ট করে বাণিজ্যিকভাবে ইনসুলিন উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বারা সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে মানুষের ইনসুলিন জিন আলাদা করা হয় এবং একটি উপযুক্ত ভেক্টরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এরপর এই ভেক্টরটি ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবিষ্ট করা হয়। ব্যাকটেরিয়ার কোষ নিজেই মানুষের ইনসুলিনের জিন অনুযায়ী প্রোটিন তৈরি করতে শুরু করে। পরে এই ইনসুলিন প্রোটিন সংগ্রহ, বিশুদ্ধকরণ এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্যে মানুষের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশুদ্ধ এবং নিরাপদ ইনসুলিন দ্রুত উৎপাদন করা সম্ভব হয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- উত্তর: গ) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। 

• জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং:
- কোনো জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী DNA পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশলকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ গবেষণার মাধ্যমে যখন একটি জিন পরিবর্তন করে সেখানে অন্য জিন লাগানো হয়, তখন তাদেরকে একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বা RDNA প্রযুক্তি বলে।
- এ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে DNA সূত্রের কাঙ্ক্ষিত খণ্ড বা অংশ ক্ষুদ্র এককোষী আবাদি জীব তথা ব্যাকটেরিয়া থেকে মানবদেহে, উদ্ভিদকোষ থেকে প্রাণীদেহে এবং প্রাণীকোষ থেকে উদ্ভিদদেহে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে।
- ১৯৭২ সালে Paul Berg বানরের ভাইরাস SV40 ও lambda virus-এর ডিএনএ-এর সংযোগ ঘটিয়ে বিশ্বের প্রথম রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ অণু তৈরি করেন।
- ১৯৭৩ সালে Ecoli ব্যাকটেরিয়ার প্লাসমিডের মধ্যে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্ট জিন প্রবেশ করানোর মাধ্যমে Herbert Boyer এবং Stanley Cohen সর্বপ্রথম ট্রান্সজেনিক জীব তৈরী করেন।
- RDNA সমৃদ্ধ জীবকোষকে বলা হয় Genetically Modified Organism (GMO)।
- উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই অসংখ্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ঔষধ কোম্পানি রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করে বাণিজ্যিক সুবিধাদি গ্রহণ করছে।
- উদাহরণস্বরূপ মানবদেহের ইনসুলিন তৈরির জিনকে ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবিষ্ট করে বাণিজ্যিকভাবে ইনসুলিন তৈরি করা হচ্ছে।
- তাছাড়া রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃষিজাত ফসল এবং উদ্ভিদের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

১১.
গুগল কোন AI প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে?
  1. জেমিনি
  2. ডিপসিক
  3. অ্যালেক্সা
  4. সিরি
ব্যাখ্যা

• গুগল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন করেছে যার নাম জেমিনি। জেমিনি হলো গুগলের উন্নত AI মডেল যা বিভিন্ন ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম। এটি মূলত ভাষা বোঝা, লেখা তৈরি করা, ছবি ও ডেটা বিশ্লেষণ করা ইত্যাদিতে ব্যবহার হয়। গুগল AI-কে আরও মানবসদৃশ এবং কার্যকর করার জন্য জেমিনির মাধ্যমে গবেষণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ডিপসিক হলো মাইক্রোসফট সম্পর্কিত প্রযুক্তি, অ্যালেক্সা অ্যামাজনের ভার্চুয়াল সহকারী, এবং সিরি হলো অ্যাপলের AI-ভিত্তিক ব্যক্তিগত সহকারী।
- তাই, গুগলের উদ্ভাবিত AI প্রযুক্তি হল জেমিনি।

 
 • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হচ্ছে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বয়।
- মানুষ যেভাবে চিন্তা করে তেমনি কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটারে সেভাবে চিন্তা ভাবনার রূপদান করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো কম্পিউটারকে উন্নত করা যাতে কম্পিউটার চিন্তা করার ক্ষমতা, পাশাপাশি দেখতে পারা, শুনতে পারা, হাঁটা এবং অনুভব করার ক্ষমতা পায়।

• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যেসব স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় তা নিম্নরূপ:
১। কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ।
২। সমস্যার কারণ নির্ণয়পূর্বক সমাধানের পথ নির্দেশ।
৩। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা।
৪। সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা।
৫।নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন।
৬। ভাষা বুঝার ক্ষমতা।
৭। অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাবার মত সক্ষমতা।
৮। মানুষের মত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো।
৯। পরস্পর সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় অনুধাবন এবং সাড়া দেয়ার ক্ষমতা।
১। ভুল, অপ্রাসঙ্গিক এবং অসম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পরিচালনা।
১১। জটিল অবস্থা অনুধাবন ও পরিচালনার ক্ষমতা।
১২। নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা; ইত্যাদি।

- গুগলের তৈরিকৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম জেমিনি।
- জেমিনি নামের এই এআই একই সঙ্গে ছবি, ভিডিও, অডিও ও টেক্সটের মতো বিভিন্ন ধরনের মাল্টিমিডিয়া বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী উত্তর দিতে পারে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
কোন সংস্থা জাভা প্রোগ্রামিং ভাষা উদ্ভাবন করেছে?
  1. Intel
  2. Google
  3. Oracle
  4. Microsoft
ব্যাখ্যা

• জাভা প্রোগ্রামিং ভাষা উদ্ভাবন করা হয়েছিল Sun Microsystems সংস্থার দ্বারা, যা পরে Oracle Corporation দ্বারা অধিগ্রহণ করা হয়। এটি মূলত ওবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিংয়ের সুবিধা দেয়। জাভা প্ল্যাটফর্ম-নিরপেক্ষ (platform-independent) হওয়ায় “Write Once, Run Anywhere” নীতি অনুসরণ করে, অর্থাৎ একবার কোড লেখা হলে তা যেকোনো কম্পিউটারে চালানো যায়। এটি ইন্টারনেট ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল অ্যাপ, এবং বড় সফটওয়্যার সিস্টেম তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। জাভার স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, এবং বড় কমিউনিটি সমর্থনের কারণে এটি আজও সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষাগুলোর মধ্যে একটি। 
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) Oracle.

• জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ:
- জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হলো একটি উচ্চস্তরের অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা।
- ১৯৯১ সালে সান মাইক্রো সিস্টেম জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের কাজের সূচনা করে।
- জেমস গসলিং সেই কাজের নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৯৫ সালে তারা ভাষাটিকে রিলিজ করেন।
- ২০১০ সালে Oracle Corporation সান মাইক্রো সিস্টেম কিনে নিলে জাভা ভাষার ম্যানেজমেন্টও তাদের মালিকানায় চলে আসে।
- জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে লেখা প্রোগ্রামগুলোর এক্সটেনশন হিসেবে সাধারণত .java ব্যবহার করা হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• Microsoft:
- কম্পিউটার সফটওয়্যার জগতে সবচেয়ে নামকরা প্রতিষ্টান হচ্ছে মাইক্রোসফট।
- মাইক্রোসফটের সদরদপ্তর অবস্তিত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে।
- মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা Bill Gates এবং Paul Allen.

• Intel:
- এটি পৃথিবীর প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর।

• Google:
- ল্যারি পেইজ এবং সার্জে ব্রেইন ১৯৯৮ সালে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন।
- গুগলের প্রকৃত নাম বা পুরাতন নাম ব্যাকরাব (BackRub)।
- Google + হলো একটি সামাজিক নেটওয়ার্কিং সেবা।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১৩.
@ চিহ্নের পূর্বে ই-মেইলে থাকা অংশটি কী নির্দেশ করে?
  1. ইউজার আইডি
  2. সার্ভার নেম
  3. ডোমেইন নেম
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ই-মেইলে @ চিহ্নের পূর্বে থাকা অংশটি সাধারণত ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পরিচয় বা ইউজার আইডি নির্দেশ করে। ই-মেইল ঠিকানাটি দুটি অংশে বিভক্ত থাকে – @ চিহ্নের পূর্বের অংশ এবং @ চিহ্নের পরের অংশ। পূর্বের অংশটি হলো ব্যবহারকারীর নাম বা তাদের নির্দিষ্ট আইডেন্টিফায়ার যা সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে এবং ই-মেইল প্রেরণের সময় প্রাপককে কোন ইউজারের কাছে মেইল পৌঁছাতে হবে তা নির্দেশ করে। অন্যদিকে @ চিহ্নের পরের অংশটি সার্ভারের ঠিকানা বা ডোমেইন নেম নির্দেশ করে। তাই, @ চিহ্নের আগে থাকা অংশ ইউজার আইডি হিসেবে চিহ্নিত হয়।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ক) ইউজার আইডি।


• ই-মেইল:
- ১৯৭১ সালে রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিসন ARPANET-এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পত্রালাপ চালু করেন, যা ছিল প্রথম ইমেইল সিস্টেম।
- ইলেকট্রনিক মেইল (ই-মেইল) হলো এক ধরনের ডিজিটাল বার্তা বিনিময়ের পদ্ধতি, যেখানে একজন প্রেরক এক বা একাধিক প্রাপকের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে বার্তা পাঠাতে পারেন।
- ইমেইল ঠিকানায় @ চিহ্ন থাকা আবশ্যক।
- একটি ইমেইল ঠিকানা মূলত ইউজার আইডি এবং ডোমেইন নেম দ্বারা গঠিত।
- উদাহরণ: abc@def.com। এখানে @ চিহ্নের পূর্বের অংশটি ইউজার আইডি ও @ চিহ্নের পরের অংশটি ডোমেইন নেম নির্দেশ করে।
- ইমেইল আদান-প্রদানে POP, IMAP এবং SMTP প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।

• ইমেইলে ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ:
- CC (Carbon Copy): একই ইমেইল একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে অন্য প্রাপকেরা দেখতে পান কে কে বার্তাটি পেয়েছেন।
- BCC (Blind Carbon Copy): একই ইমেইল একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠানো হলেও, এক প্রাপক অন্যদের ইমেইল ঠিকানা দেখতে পান না।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৪.
কোন ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম প্রতিটি লাইন অনুবাদ করার পর সঙ্গে সঙ্গেই ফলাফল দেখায়?
  1. ইন্টারপ্রেটার
  2. কম্পাইলার
  3. অ্যাসেম্বলার
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

• যে ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম প্রতিটি লাইন অনুবাদ করার পর সঙ্গে সঙ্গেই ফলাফল দেখায়, তাকে ইন্টারপ্রেটার বলা হয়। ইন্টারপ্রেটার সোর্স কোডকে লাইন বাই লাইন পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। ফলে, প্রোগ্রাম লেখকেরা প্রতিটি ধাপের ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পারে এবং ত্রুটি থাকলে তা তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করা যায়। অন্যদিকে, কম্পাইলার সম্পূর্ণ সোর্স কোডকে একবারে অনুবাদ করে এবং একটি এক্সিকিউটেবল ফাইল তৈরি করে, ফলে ফলাফল দেখার জন্য পুরো প্রোগ্রাম রান করতে হয়। অ্যাসেম্বলার মূলত অ্যাসেম্বলি ভাষাকে মেশিন কোডে রূপান্তর করে।
- তাই এখানে সঠিক উত্তর হলো ক) ইন্টারপ্রেটার।

• অনুবাদক প্রোগ্রাম:
- যে প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে উৎস বা সোর্স প্রোগ্রামকে বস্তু বা অবজেক্ট প্রোগ্রামে রুপান্তরিত করা হয়, তাকে অনুবাদক প্রোগ্রাম বলা হয়।
- হাই-লেভেল এর ভাষা কে মেশিন ভাষায় রুপান্তরিত করার জন্য অনুবাদক প্রোগ্রাম এর প্রয়োজন পরে।

• তিন ধরনের অনুবাদক প্রোগ্রাম রয়েছে:
১. কম্পাইলার:
- কম্পাইলার হল এমন একটি অনুবাদক যা সোর্স প্রোগ্রামকে একসাথে সম্পূর্ণরূপে মেশিনের ভাষায় অনুবাদ করে একটি অবজেক্ট প্রোগ্রাম তৈরি করে এবং একটি এক্সিকিউশন ফাইল (.exe) তৈরি করে।

২. ইন্টারপ্রেটার:
- ইন্টারপ্রেটার উচ্চতর ভাষাকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে, তবে কম্পাইলার যেমন, প্রথমে সোর্স প্রোগ্রামকে অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করে এবং শেষে ফলাফল প্রদান করে কিন্তু ইন্টারপ্রেটার সোর্স প্রোগ্রামকে অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করে না। প্রোগ্রামে রূপান্তর করে না।
- ইন্টারপ্রেটার এক লাইন করে সম্পাদন করে এবং তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদান করে।

৩. অ্যাসেম্বলার:
- অ্যাসেম্বলার হচ্ছে অ্যাসেম্বলি ভাষায় লিখিত উৎস প্রোগ্রাম অর্থাৎ নেমোনিক কোডকে মেশিনের ভাষায় লিখিত অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করা এক ধরনের অনুবাদক প্রোগ্রাম।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
অফিস অটোমেশন কাজের জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারের নাম কী?
  1. অ্যাক্রোবেট রিডার
  2. ম্যাটল্যাব
  3. অ্যাডোবি ফটোশপ
  4. ভিজ্যুয়াল স্টুডিও
ব্যাখ্যা

• অফিস অটোমেশন মূলত প্রশাসনিক এবং দৈনন্দিন অফিস কাজ সহজ ও দ্রুত করার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যার। এর মধ্যে যেমন ডকুমেন্ট তৈরি, হিসাবরক্ষণ, ইমেইল পরিচালনা, স্লাইড তৈরি এবং ডাটাবেস পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত। প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলোর মধ্যে, অ্যাক্রোবেট রিডার মূলত পিডিএফ ফাইল পড়া এবং তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়, ম্যাটল্যাব প্রধানত বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গণনা ও বিশ্লেষণের জন্য, এবং অ্যাডোবি ফটোশপ ছবি সম্পাদনার জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ভিজ্যুয়াল স্টুডিও একটি প্রোগ্রামিং এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের পরিবেশ, যা অফিস অটোমেশনের জন্য সরাসরি ব্যবহৃত হয় না।
- সুতরাং, অফিস অটোমেশন কাজের জন্য সাধারণত অ্যাক্রোবেট রিডার ব্যবহার করা যেতে পারে।

• অফিস অটোমেশন:
- অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির একটি প্রায়োগিক টুল হলো অফিস অটোমেশন সিস্টেম।
- অফিস অটোমেশন হলো এমন এক ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম, যার মাধ্যমে কম্পিউটার, নেটওয়ার্কিংসহ তথ্য প্রযুক্তির আরও অন্যান্য ডিভাইস ও সিস্টেম দ্বারা অফিসের সকল পেপার ওয়ার্ক ও যোগাযোগের কাজ পরিচালনা করা যায়।
- এছাড়াও অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সমস্ত তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ফ্যাক্স, স্ক্যানার, প্রিন্টার, প্রজেক্টর, সিসিটিভি, আইপি, পিএবিএক্স, কর্মীদের হাজিরার জন্য বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস ইত্যাদি।
- বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক উৎকর্ষতার কারণে ঘরে বসেও অফিসের সকল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং অফিস পরিচালনার সব ধরনের নির্দেশ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে প্রদান করা সম্ভব।
- চব্বিশ ঘণ্টা চালু থাকে এ ধরনের অফিসকে ভার্চুয়াল অফিস এবং প্রদত্ত সার্ভিসকে 24/7 সার্ভিস বলা হয়ে থাকে।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

১৬.
আর্থিক তথ্য ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ক্ষতি করার কাজ কোন ধরনের হ্যাকাররা করে?
  1. ব্লু হ্যাট হ্যাকাররা
  2. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা
  3. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা
  4. গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা
ব্যাখ্যা

• ব্যক্তিগত এবং আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ক্ষতি করার কাজ মূলত ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা করে। এই ধরনের হ্যাকাররা আইন লঙ্ঘন করে অননুমোদিতভাবে কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা ডিভাইসে প্রবেশ করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে অর্থনৈতিক লাভ, পরিচয় চুরি, ডেটা বিক্রি বা ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম ছড়ানো। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা প্রায়ই ফিশিং, ম্যালওয়্যার, র‍্যানসমওয়্যার বা পাসওয়ার্ড চুরি করার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে। তারা নৈতিক বা আইনি সীমার বাইরে কাজ করে এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। এর বিপরীতে, হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা নিরাপত্তা পরীক্ষা করে এবং সিস্টেম রক্ষা করে।

- সঠিক উত্তর: খ) ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা।

• গ্রে হ্যাট হ্যাকার:
- এ ধরনের হ্যাকাররা বৈধ (Legal) ও অবৈধ (Illegal) দুই ধরনের কাজ করতে পারে।
- একজন Grey hat hacker যখন একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটি গুলো খুঁজে বের করে তখন সে তার মন মত কাজ করে।
- এরা নেটওয়ার্কের দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং দুর্বল দিকগুলোকে ঠিক করার মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।

• ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার:
- একজন Black hat hacker যখন কোন একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটি খুঁজে বের করে, তখন দ্রুত ঐ ত্রুটি কে নিজের স্বার্থে কাজে লাগায়।
- বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আর্থিক তথ্যাদি হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।

• হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার:
- একজন white hat hacker একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটি গুলো বের করে এবং ঐ সিকিউরিটি সিস্টেমের মালিককে ত্রুটির বিষয়ে দ্রুত অবহতি করে।
- সিকিউরিটি সিস্টেমটি হতে পারে একটি কম্পিউটার, একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, একটি ওয়েবসাইট, একটি সফটওয়্যার ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

১৭.
রোবটের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে রোবোটিক্সে সাধারণত কী ব্যবহার করা হয়?
  1. আইসি
  2. অ্যাকচুয়েটর
  3. প্রসেসর
  4. সেন্সর
ব্যাখ্যা

• রোবটের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে রোবোটিক্সে সাধারণত অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করা হয়। অ্যাকচুয়েটর হল এমন একটি যন্ত্রাংশ যা সিগন্যাল বা কমান্ড অনুযায়ী যান্ত্রিক আন্দোলন তৈরি করে। এটি বৈদ্যুতিক, হাইড্রোলিক বা পনোম্যাটিক শক্তি ব্যবহার করে রোবটের হাত, চাকা বা অন্যান্য অংশকে চলাচল করায় সক্ষম করে। প্রসেসর বা আইসি সাধারণত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নির্দেশনা দেয়, আর সেন্সর পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, কিন্তু সরাসরি গতি তৈরি করে না।
- তাই, রোবটের সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত গতি অর্জনের জন্য অ্যাকচুয়েটরের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

• রোবট:
- কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যে মেশিন মানুষের মতো কাজ করে তাকে বলা হয় রোবট।
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গারকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- রোবটের মুভমেন্টের জন্য রোবোটিক্সে অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করা হয়।
- জাপানের মুরাতা কোম্পানির রোবট 'মুরাতা বয়'।
- স্যামসাং কোম্পানির রোবট 'রোবোরো'।
- হংকং ভিত্তিক হ্যানসন রোবটিক্স কোম্পানির রোবট 'সোফিয়া'।
- সনি কর্পোরেশন কোম্পানির রোবট 'আইবো'।
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল।
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট।

• বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন-
- শিল্পের বিপজ্জনক ও কঠিন কাজ করা।
- বৃহৎ মেশিনের কষ্টদায়ক যন্ত্রপাতির সংযোজন।
- খনি হতে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ উত্তোলন।
- মহাকাশ গবেষণায় রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
- মহাশূন্যের ছবি সংগ্রহ।
- ক্ষতিকর বিস্ফোরক সনাক্তকরণে।
- গৃহস্থালীর কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
- গভীর অরণ্য কিংবা বহুদূরত্বে শত্রুর উপস্থিতির প্রমাণে।
- শিল্প কারখানায় দ্রুত উৎপাদন কার্য হাসিলে রোবটের ব্যবহার হচ্ছে; ইত্যাদি।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
নিচের কোনটি OOP ল্যাঙ্গুয়েজ নয়?
  1. C++
  2. Java
  3. C#
  4. C
ব্যাখ্যা

• C++ , Java, এবং C# হলো OOP বা অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, কারণ এরা ক্লাস, অবজেক্ট, ইনহেরিট্যান্স, পলিমরফিজম এবং এনক্যাপসুলেশন এর মতো মূল OOP বৈশিষ্ট্যগুলো সমর্থন করে। অন্যদিকে C হলো একটি প্রোসিজারাল বা ফাংশন-ভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা, যা অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড বৈশিষ্ট্য সমর্থন করে না। C ভাষায় ক্লাস বা অবজেক্ট ধারণা নেই এবং এটি মূলত ফাংশন এবং স্ট্রাকচার ব্যবহার করে প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়।
- সুতরাং, উক্ত অপশনগুলির মধ্যে শুধুমাত্র C হলো OOP ল্যাঙ্গুয়েজ নয়। C++ , Java, এবং C# সবই অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং সাপোর্ট করে।

 
 • অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং:
- অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং পদ্ধতিতে ডাটা ও ইনস্ট্রকাশনের সমন্বয়ে চলক তৈরি করা হয়। একে বলা হয় অবজেক্ট।
- মেসেজে আদান-প্রদানের মাধ্যমে অবজেক্টগুলো পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে।
- এই প্রোগ্রামিং পদ্ধতিতে প্রোগ্রামের ইনস্ট্রাকশনগুলো ডাটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- C++, Java, C#, Python ইত্যাদি হলো অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এর উদাহরণ।

• মূলত ৬টি প্রাথমিক ধারণার দ্বারা অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিংকে উপস্থাপন করা হয়। যথা:
১. অবজেক্ট (Object),
২. ক্লাস (Class),
৩. মেসেজ (Message),
৪. পলিমারফিজম (Polymorphism),
৫. ইনহেরিটেন্স (Inheritance) এবং
৬. এনক্যাপসুলেশন (Encapsulation)।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।