পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়11 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৪: সাধারণ জ্ঞান - বিজ্ঞান টপিক: খাদ্য ও পুষ্টি, আধুনিক বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট। উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), ব্রিটানিকা ও যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য -
  1. শর্করা, আমিষ ও চর্বির শর্করার অনুপাত হবে ৪ : ১ : ১
  2. খাদ্যে প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে
  3. সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১। একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে হবে।
২। খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বির শর্করার অনুপাত হবে ৪ : ১ : ১ ।
৩। সুষম খাদ্য তালিকায় ফল ও টাটকা শাকসব্জি থাকতে হবে।
৪। খাদ্যের প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে।
৫। সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে।

সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরির জন্য কতকগুলো বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার । যথা—
১। ব্যক্তি বিশেষের লিঙ্গ, পেশা ও শারীরিক অবস্থা ।
২। খাদ্যের মূল্যমান সম্পর্কে জ্ঞান ।
৩। দেহের ক্ষয় পূরণ ও গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করা
৪ । খাদ্যে পরিমাণ মতো ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির উপস্থিতি।
৫। ঋতু, আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জ্ঞান।
৬। পরিবারের আর্থিক বিষয় বিবেচনা করা ও সদস্য সংখ্যা।

- এছাড়া খাদ্য তৈরি, পরিবেশন ও গ্রহণের সময় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। দৈনিক ৭/৮ গ্লাস পানি পান করা।
- টাটকা সবুজ শাকসব্জি, মৌসুমী ফল-মূল প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় থাকা আবশ্যক। 

সূত্র: ৫৮ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) জুল
  2. খ) ক্যালরি
  3. গ) বিএমআই
  4. ঘ) বিএএমই
সঠিক উত্তর:
গ) বিএমআই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিএমআই
ব্যাখ্যা
খাদ্য শক্তি মূল্য নির্ণয়ের আন্তর্জাতিক একক হচ্ছে জুল। 

১০০০ জুল = ১ কিলোজুল,
১০০০ কিলোজুল = ১ মেগাজুল,
১ কিলোক্যালরি= ৪১৮০ জুল = ৪.১৮ কিলোজুল ।

বিএমআই (BMI) এবং বিএমআর (BMR) : পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায় বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR- Basal Metabolic Rate) মানব শরীরে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ নির্দেশ করে। আর বডি মাস ইনডেক্স (BMI - Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এ মানদন্ড দুটি খুবই উপযোগী ।

সূত্র: ৬৩ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক কত ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন?
  1. ক) ৪ ঘণ্টা
  2. খ) ৬ ঘণ্টা
  3. গ) ১০ ঘণ্টা
  4. ঘ) ১২ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
একজন মানুষের দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন। 

বিশ্রামের গুরুত্ব : শরীর চর্চার পাশাপাশি শারীরিক বিশ্রামও অত্যন্তপ্রয়োজন। এছাড়া মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের পরই বিশ্রাম প্রয়োজন। ঘুমানো, শুয়ে থাকা ইত্যাদি বিশ্রামের অংশ। বিশ্রামের ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পুনঃশক্তি সঞ্চয় হয় এবং স্নায়ুবিক শক্তি উজ্জীবিত হয়। কর্মে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে এনে কর্মক্ষম করে তোলে । একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার জন্য দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা বিশ্রাম বা ঘুমানো আবশ্যক।

সূত্র: ৬৬ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে কোন রাসায়নিক পদার্থটির ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) সালফার
  3. গ) সোডিয়াম ট্রাইঅক্সাইড
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম এপারনেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম এপারনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম এপারনেট
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম এপারনেট দ্রব্যটি খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে।

- খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া যাতে খাদ্য পচন রোধ করা ছাড়াও অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।
- এতে খাদ্যের গুণাগুণ, গ্রহণযোগ্যতা, সহজলভ্যতা ও খাদ্যমান অটুট থাকে।
- এ সকল খাদ্য সংরক্ষণে সাধারণতঃ পঁচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণ এবং খাদ্যের চর্বি জাতীয় অংশের জারণ রোধ হয়।
- খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে সাধারণতঃ সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবণ (NaCl), ক্যালসিয়াম এপারনেট, সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2), সোডিয়াম বাই সালফেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন- BHA ও BHT খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে অনুমোদিতভাবে ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ৬৭ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড কোনটি?
  1. ক) লাইসিন
  2. খ) লিউসিন
  3. গ) মিথিওনিন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এরা দেহে তৈরি হতে পারে না। বিশেষ বিশেষ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হতে এসমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো মানবদেহে সরবরাহ করতে হয়। এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে ।

এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো- 
১। লাইসিন
৫। ট্রিপটোফ্যান
২। লিউসিন
৬। ভ্যালিন
৩। আইসোলিউসিন
৭। ফিনাইল অ্যালানিন
৪। মিথিওনিন
৮। থ্রিওনিন

দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, ছানা ইত্যাদিতে প্রায় সবকটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।

সূত্র: ৫ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
আপেলে কোন ধরনের শর্করা বিদ্যমান?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) ফ্রুক্টোজ
  3. গ) সুক্রোজ
  4. ঘ) মলটোজ
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রুক্টোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রুক্টোজ
ব্যাখ্যা
আপেলে ফ্রুক্টোজ  ধরনের শর্করা বিদ্যমান।

- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস।
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। কার্বন (C) হাইড্রোজেন (Hz) ও অক্সিজেন (O2) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়।
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন।

শর্করার উৎস- 
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি । প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা।

শর্করার প্রকারভেদ- 
গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার যথা : এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)।
১। এক শর্করা : এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ
ক) গগ্লুকোজ-চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি
খ) ফ্রুক্টোজ-মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি গ) গ্যালাক্টোজ-দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়।

২। দ্বি-শর্করা : দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ
ক) সুক্রোজ-আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস
খ) মলটোজ-চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)
গ) ল্যাক্টোজ-দুধের শর্করা।

৩। বহু শর্করা : বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ
ক) শ্বেতসার-চাল, গম, আলু, কচু
খ) সেলুলোজ-ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা
গ) গ্লাইকোজেন-প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়।

সূত্র: ৮ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বুদ্ধাঙ্ক (IQ) এর পরিমাপ অনুযায়ী প্রতিভাবানদের বুদ্ধাঙ্ক মাত্রা-
  1. ক) IQ > 90
  2. খ) IQ < 130
  3. গ) IQ > 120
  4. ঘ) IQ > 100
সঠিক উত্তর:
গ) IQ > 120
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) IQ > 120
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিমত্তা মূল্যায়ন করার পদ্ধতি হলো বুদ্ধাঙ্ক।
- ইংরেজিতে একে বলা হয় - Intelligence quotient বা IQ.
- কারো IQ নির্ণয় করা বেশ কষ্টসাধ্য একটা বিষয়। স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল. এম. টারম্যান সর্বপ্রথম ১৯১৬ সালে বুদ্ধাংক পরিমাপের গাণিতিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। যাকে তিনি নাম দেন IQ বা Intelligence Quotient.

তার আবিস্কৃত গানিতিক সূত্রটি হলো
বুদ্ধাংক (IQ) = (মানসিক বয়স / প্রকৃত বয়স ) × ১০০

উৎস: শিক্ষা মনোবিজ্ঞান- ২, প্রোগ্রাম: Bachelor of Agriculture Education, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কড মাছের তেলে কোন ধরণের ভিটামিন অধিক পরিমাণে রয়েছে?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন ই
  4. ঘ) ভিটামিন কে
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন এ
ব্যাখ্যা
কড মাছের তেলে ভিটামিন এ এর পরিমাণ অধিক পরিমাণে রয়েছে।

উৎস : ভিটামিন এ এর ভালো প্রাণিজ উৎসগুলো হলে-ডিম, দুধ, ছানা, মাখন, ঘি, পনির, কলিজা, ও কড় মাছের তেল। গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকা আম, গাঢ় সবুজ শাক, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল এবং লাল শাক, কচু শাক, পুঁই শাক, পাট শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, পুদিনা পাতা ইত্যাদি ভিটামিন এ এর উদ্ভিজ্জ উৎস।

ভিটামিন এ এর কাজ- 
১। দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে ।
২। দাঁত ও অস্থি গঠনে সহায়তা করে
৩। দেহের বিভিন্ন আবরককলা যেমন- ত্বক, চোখের কর্ণিয়া, বৃক্ক ইত্যাদি স্বাভাবিক ও সজীব রাখে।
৪ । রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে ।

অভাবজনিত অবস্থা : এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। দীর্ঘদিনের অভাবে ব্যক্তি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: ১৫ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
রিবোফ্লাভিনের অভাবে -
  1. ক) রাতকানা রোগ দেখা দেয়।
  2. খ) ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
  3. গ) বমিভাব দেখা দেয়।
  4. ঘ) রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
সঠিক উত্তর:
খ) ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিনের অভাবে ত্বক খসখসে হয়ে যায়

রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি ২
উৎস : কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস।
অভাবজনিত অবস্থা : এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। ত্বক খসখসে হয়ে যায় ।

দৈনিক চাহিদা : প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন।

সূত্রঃ ১৬ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
রাফেজ বা আঁশের কাজ -
  1. ক) খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করা।
  2. খ) দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করা।
  3. গ) দেহ থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করা।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
- আঁশ বা রাফেজ খাদ্য উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি মূলত খাদ্যের মধ্যে থাকা দীর্ঘ তন্তুময় বা আঁশসদৃশ্য অংশ। উদ্ভিজ্জ খাদ্যের সেলুলোজ অংশই রাফেজ বা আঁশ। শাক-সবজি, খোসাসমেত টাটকা ফল, মটরশুঁটি, ধনিয়া, ডাল, শস্যবীজ ইত্যাদিতে রাজেফ বা আঁশ পাওয়া যায়।

- এটি আমাদের দেহে কোনো পুষ্টি যোগায় না। তবে, খাদ্যের মধ্যে অবস্থান করে অন্যান্য খাদ্যের সাথে গৃহীত হয় এবং সরাসরি খাদ্য নালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়ে অপরিপাককৃত অবস্থায় মলের সাথে নির্গত হয়।

- এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, স্থুলতা ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করে। রাফেজ বা আঁশ কোনো খাদ্য উপাদান না হলেও মানবদেহের জন্য অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান যা সুস্থ জীবনের জন্য অতি জরুরী ।

- আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্যান্য খাদ্য উপাদানের সাথে ২০-৩০ গ্রাম রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাদ্যের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। 

রাফেজ বা আঁশের গুরুত্ব- 
১. খাদ্য পরিপাকের সাহায্য করে
২. পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
৩. শরীর থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করে
৪. দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে
৫. মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, অ্যাপেন্ডিকস, পিত্তথলির রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি রোগ হ্রাসে সাহায্য করে।

সূত্র: ২১ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
কলা পাকানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
  2. খ) ইথিলিন
  3. গ) ফরমালিন
  4. ঘ) কালটার
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম কার্বাইট  কলা পাকানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বাইট : ফল বিশেষত কলা পাকানোর জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি একটি যৌগ যা জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাস উৎপন্ন হয়- যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। 

ফরমালিন : ফরমালিন খাদ্য সংরক্ষণের রাসায়নিক যৌগ নয়। ফরমালিন একটি বিষাক্ত এবং ক্যান্সার উৎপাদক রাসায়নিক পদার্থ। দুধ, ফল, মাছ, মাংসকে পচন থেকে রক্ষা করার জন্য অতি লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা না বুঝে ব্যবহার করে থাকেন। এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া, ক্যান্সার, বদহজম, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, পেটের পীড়াসহ নানরকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। মেয়েদের গর্ভপাত এমনকি সন্তান বিকলাঙ্গ পর্যন্তহতে পারে । যার পরিণতিতে যন্ত্রণাদায়ক অকাল মৃত্যু হতে পারে। ফরমালিন ব্যবহার খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অসততা ও অসচেতনতার কারণে ফরমালিনের ব্যবহার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইথিলিন (Ethylene) : ফল নিজেই ইথিলিন তৈরি করে এবং পাকতে সাহায্য করে। ফল সৃষ্ট ইথিলিনকে ফলের হরমোন বলা হয়। কিন্তু একসঙ্গে ফল পাকাতে সারা বিশ্বে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তখন ইথিলিনকে Ripeing agent বলা হয়। আমাদের দেশে অপরিপক্ক ফল পাকাতে ইথিলিন গ্যাস তৈরি করে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে। তাতে ফল সুমিষ্ট হয়। অতি অপরিপক্ক ফলে ইথিলিন ব্যবহার করা উচিত নয়। আম, কলা, পেঁপে, টমেটো ইত্যাদি পাকানোর জন্য ব্যবহার করলে অন্তত ৭-৮ দিন পর তা বাজারজাত করা উচিত। 

কালটার (Culter) : এটি একটি হরমোন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ। গাছে থাকা অবস্থায় এটি আমে প্রয়োগ করা হয়। এতে ফল দ্রুত পরিপক্ক হয় অথচ না পেকেই দীর্ঘদিন গাছে থাকে। ফলে, ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে বিক্রি করার সুযোগ পায়। কালটার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

সূত্র: ২৭ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
গ্রীণ হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীতে কী ঘটছে?
  1. ক) পৃথিবীতে বনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  2. খ) ওজন স্তর ধ্বংস হচ্ছে।
  3. গ) বিলুপ্ত প্রাণীর প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  4. ঘ) শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া।
সঠিক উত্তর:
খ) ওজন স্তর ধ্বংস হচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওজন স্তর ধ্বংস হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
গ্রীণ হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীতে ওজন স্তর ধ্বংস হচ্ছে

বাংলাদেশে সম্ভাব্য গ্রীণ হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলাফল-
১. ভূপৃষ্ঠের নিচু এলাকায় প্লাবন
২. প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি
৩. লবণাক্ততার বিস্তার
৪. বন্যা ঝড় জলােচ্ছাস
৫. আবহাওয়াগত বিপর্যয়
৬. এসিড বৃষ্টি

সূত্র: NASA Website [লিঙ্ক]
১৩.
সিমেন্ট শিল্পে চুনাপাথর বিয়োজনে কোনটি নির্গত হয়?
  1. ক) CO2
  2. খ) NO2
  3. গ) বিষাক্ত ধাতুর বাষ্প
  4. ঘ) জলীয় বাষ্প
সঠিক উত্তর:
ক) CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) CO2
ব্যাখ্যা
সিমেন্ট শিল্পে চুনাপাথর বিয়োজনে CO2 নির্গত হয়। 

সিমেন্ট শিল্পের দূষক সমূহ- 
১। সিমেন্ট তৈরীতে CaCO3 কে তাপ দিয়ে CaO এ পরিণত করা হয় এতে প্রচুর CO2 গ্যাস নির্গত হয় যা বায়ুকে দুষিত করে।
২। সিমেন্ট কারখানায় ঘুর্নায়মান চুল্লীতে উচ্চ তাপ প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন রকমের জ্বালানী যেমন- কোক, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ইত্যাদি দহন করা হয়। এ সব জ্বালানি দহনে প্রচুর পরিমাণে CO2, SO2,NOx ইত্যাদি বায়ু দূষক গ্যাস উৎপন্ন হয় ফলে বায়ু দূষিত হয়। অধিকন্তু নাইট্রোজেন ও সালফারের অম্লীয় অক্সাইডসমূহ অম্ল-বৃষ্টি সৃষ্টি করে যার প্রভাবে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় ও গাছ-পালা বিনষ্ট হয়।
৩। সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের থ্যালিয়াম (TI), ক্যাডমিয়াম (Cd), মারকারী (Hg) প্রভৃতি উদ্বায়ী ভারী ধাতু অপদ্রব্য হিসেবে থাকে । চুল্লীর উচ্চ তাপমাত্রায় এসব বিষাক্ত ধাতুর বাষ্প নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে।
৪ । ক্লিংকারের মধ্যে নিকেল, জিংক, লেড ইত্যাদি ধাতু বিদ্যমান। ক্লিংকারের চূর্ণিত পাউডার থেকে এ সব ধাতু নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে ।
৫। সিমেন্ট কারখানার বর্জ্য পানির সাথে মিশ্রিত হয়ে পানি দূষণ করে ।
৬। সিমেন্ট কারখানায় সিলিকাযুক্ত প্রচুর পরিমাণ ধুলিকণা সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও আশে পাশের লোকজনের ফুসফুস আক্রান্ত হয় ও স্বাস্থ্যহানী ঘটে।

সূত্র: ৩২৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১৪.
ইউরিয়া উৎপাদনের সময় কারখানা থেকে কোন গ্যাসটি নির্গত হয়?
  1. ক) NO2
  2. খ) NO3
  3. গ) NH3
  4. ঘ) SO2
সঠিক উত্তর:
গ) NH3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) NH3
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া শিল্পের দূষকসমূহ-
১। প্রাকৃতিক গ্যাস হতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সময় বায়ু দূষক হিসেবে CO2, N-এর অক্সাইড সমূহ NOX, SO2, CO গ্যাস উৎপন্ন হয়।
২। ইউরিয়া উৎপাদনের সময় বিভিন্ন ধাপে কারখানা থেকে NH3 গ্যাস  নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ করে ।
৩। অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদনকালে বর্জ্য পানিতে অ্যামোনিয়া ও বিভিন্ন নাইট্রোজেন জৈব যৌগ দূষক হিসেবে মিশে যায়। ফলে পানি দূষণ ঘটে ।
৪। প্রাকৃতিক গ্যাস হতে H, উৎপাদন ও NH3 সংশ্লেষণে ব্যবহৃত প্রভাবকসমূহ ক্রিয়া শেষে বর্জ্য পদার্থরূপে পরিত্যক্ত হয়। এসব কঠিন পদার্থ পরিবেশে দূষকরূপে কাজ করে ।
৫ । ইউরিয়া প্যাকেজিং এ ব্যবহৃত প্লাস্টিক ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় মাটিকে দূষিত করে।

সূত্র: ৩২৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১৫.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ -
  1. ক) কম হয়
  2. খ) বেশি হয়
  3. গ) একই হয়
  4. ঘ) খুব কম হয়
সঠিক উত্তর:
গ) একই হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একই হয়
ব্যাখ্যা
এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথমেই আমরা বৈদ্যুতিক পাখার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে কিছুটা জেনে নিবো।

প্রথমেই দেখা যাক বৈদ্যুতিক পাখা কীভাবে ঘোরে:

একটি পাখায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং কয়েকটি ধাতব ব্লেড (সাধারণত ৩টি), সংযুক্ত থাকে। যখন আমরা একটি পাখার সুইচ অন করি, তখন ভোল্টেজের পার্থক্যের জন্য মোটরটির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় এবং তার ফলাফল হিসাবেই পাখাটি ঘুরতে থাকে। নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর মোটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মোটরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেয়।

সুতরাং, একটি পাখার ভোল্টেজর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরের ওপর নির্ভরশীল। আর একটি পাখার ভোল্টেজের পরিমাণ তার ঘূর্ণন গতির সমানুপাতী, অর্থাৎ ভোল্টেজ যত বাড়বে, পাখার গতিও ততটাই বাড়বে।

এখন, বিভিন্ন রেগুলেটর ও তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা যাক:

এই মুহূর্তে, বাজারে মোটামুটি দুই ধরনের রেগুলেটর পাওয়া যায়—

১) ইলেক্ট্রিক রেগুলেটর (Electric Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য রোধ বসানো থাকে। যখন পাখার ভোল্টেজ কমানো হয় তখন রোধটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আর বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার কারণে পাখার গতিও কমে যায়। কিন্তু এর ফলে পাখার ভোল্টেজ তথা গতি কমিয়ে যে বিদ্যুৎ বাঁঁচানো হয়, সেই বিদ্যুৎ এই রোধ-মধ্যস্থ তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত, এই রেগুলেটরের মাধ্যমে পাখার গতি কমিয়ে বিদ্যুৎ খরচ বিশেষ কমে না বললেই চলে।ফলে ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফ্যানের গতি কম-বেশির সাথে রেগুলেটর লস যথাক্রমে বেশি ও কম হয় ফলে বৈদ্যুতিক পাখার গতি যাই হোক, বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই হয়।
২) ইলেকট্রনিক রেগুলেটর (Electronic Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য মূলতঃ ট্রায়াক থাকে যার গেটে ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যানের ভোল্টেজের সাইন ওয়েভকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং ভোল্টেজের আরএমএস ভ্যালুকে পরিবর্তণ করে ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এইগুলি কখনই গরম হয়ে ওঠে না, ফলে পাখা যখন কম গতিতে চলে তখন যথেষ্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। সাধারণত ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরগুলির থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশী বিদ্যুতসাশ্রয়ী।

তাই সবশেষে বলা যেতে পারে, বৈদ্যুতিক পাখা কম গতিতে চালালে বিদ্যুৎ খরচ তখনই কম হবে যখন ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহৃত হবে।
১৬.
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ধাপ নয় কোনটি?
  1. ক) Reduce
  2. খ) Reuse
  3. গ) Recycle
  4. ঘ) Rearrange
সঠিক উত্তর:
ঘ) Rearrange
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Rearrange
ব্যাখ্যা
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উল্লেখযোগ্য তিনটি ধাপ হলো Reduce (হ্রাস করা), Reuse (পুনঃব্যবহার) ও Recycle (পুনঃসঞ্চালন)।
- রিসাইকেল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যবহার অনুপযোগী বা পরিত্যক্ত দ্রব্যাদিকে পরিবর্তন করে নতুন ভাবে ব্যবহার উপযোগী পণ্য সামগ্রী তৈরী করা। - আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যাদি যেমন- ধাতব আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, কাঁচ, প্লাস্টিক, সামগ্রী ইত্যাদি পুরাতন বা পরিত্যক্ত হলে সেগুলোকে বর্জ্য হিসেবে যত্রতত্র ফেলে দিই, ফলে এতে পরিবেশ দূষণ ঘটে ।
- বর্তমানে বিজ্ঞানের আর্শিবাদে এসব বর্জ্যকে রিসাইকেল করে পুর্বের ব্যবহৃত সামগ্রী প্রস্তুত করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দুষণ হ্রাস পায় অপরদিকে নতুন কাঁচামালের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক উৎসসমূহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

সূত্র: ৩৩১ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।   
১৭.
নিম্নের কোনটি রিসাইকেলযোগ্য?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) পেট্রোল
  4. ঘ) ডিজেল
সঠিক উত্তর:
খ) কাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাঁচ
ব্যাখ্যা
- গৃহস্থালী এবং শিল্পজাত বর্জ্যে এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে কাঁচজাত কঠিন বর্জ্য। কাঁচ ভাঙ্গুর হওয়ায় অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্যের তুলনায় কাঁচ সামগ্রীর বর্জ্য তুলনামূলকভাবে বেশি।
- কাঁচ 100% রিসাইকেলযোগ্য একটি উপকরণ।

কাঁচ রিসাইক্লিং এর ধাপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো :
১। বর্জ্য কাঁচ সংগ্রহ (Collection of waste glass) : পরিত্যক্ত ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, কাঁচ কারখানার ত্রুটিপূর্ণ কাঁচ দ্রব্য ও বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত কাঁচ সামগ্রী রিসাইকেল কারখানায় নেয়া হয়।
২। পরিষ্কারকরণ (Cleaning) : সংগৃহীত কাঁচ বর্জ্যকে পানি দ্বারা উত্তমরূপে ধৌত করে কাঁচের গায়ে লেগে থাকা মাটি, কাদা, ধুলা-বালি, গাম, লেবেল ইত্যাদি অপসারিত করা হয়।
৩। পৃথকীকরণ (Separation) : পরিষ্কার বর্জ্য কাঁচ মিশ্রণ থেকে রঙ্গিন ও বর্ণহীন কাঁচ দ্রব্য পৃথক করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
৪। চূর্ণকরণ (Crushing) : পৃথকীকৃত কাঁচ বর্জ্যকে ক্রাশার মেশিনের সাহায্যে অতি ক্ষুদ্র আকৃতির টুকরায় পরিণত করা
হয় । চুর্ণীকৃত ক্ষুদ্রাকৃতির এ কাঁচ কিউলেট (cullet) নামে পরিচিত । ৫। অপদ্রব্য অপসারন (Removal of contaminant) : চূর্ণীকরণ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত কিউলেটকে একটি কনভেয়ার বেল্টের উপর পরিচালনা করলে ধাতব কণাসমূহ চুম্বক দ্বারা এবং হালকা ওজনের অপদ্রব্য বায়ু প্রবাহ দ্বারা অপসারিত হয় ।
৬। বিগলন (Smelting) : অপদ্রব্যমুক্ত চূর্ণীকৃত কাঁচের সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন- সোডাঅ্যাশ, বোরাক্স, নাইটার ইত্যাদি মিশানো হয়। অত:পর প্রাপ্ত মিশ্রণকে ট্যাংক ফার্নেসে 1300 1450°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে গলিত কাঁচ পাওয়া যায়।
৭। আকৃতি প্রদান (Shapping) : বিগলিত কাঁচকে যান্ত্রিক উপায়ে ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন ধরনের কাঙ্খিত আকৃতি প্রদান করা হয় ।
৮। কোমলায়ন (Annealing) : বিগলিত কাঁচ থেকে উৎপাদিত নির্দিষ্ট আকৃতি বিশিষ্ট উত্তপ্ত কাঁচ দ্রব্যকে ধীরে ধীরে কক্ষ তাপমাত্রায় এনে কোমলায়ন করা হয়।
৯। সমাপন (Fininishing) : কোমলায়নকৃত কাঁচ বস্তুকে পরিষ্কারকরণ, ঘর্ষণ ও মসৃণ করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়।

সূত্র: ৩৩৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।   
১৮.
কোন পদার্থের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পেছনে দায়ী?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) পেপার
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিক
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না বলে অপরিবর্তিত অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মাটিতে থেকে যায়।
- বর্জ্য প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীর নিচে তলানী হিসেবে জমা হয়ে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয়, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ও পানি দূষণ ঘটায়।
- ব্যবহার অনুপোযোগী প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
- প্লাস্টিক রিসাইকেল করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

সূত্র: Plastics NZ Website [লিঙ্ক]